• টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। যে কোনো নতুন আলোচনা শুরু করার আগে পুরোনো লিস্টি ধরে একবার একই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে কিনা দেখে নিলে ভালো হয়। পড়ুন, আর নতুন আলোচনা শুরু করার জন্য "নতুন আলোচনা" বোতামে ক্লিক করুন। দেখবেন বাংলা লেখার মতো নিজের মতামতকে জগৎসভায় ছড়িয়ে দেওয়াও জলের মতো সোজা।
  • নিমো গ্রামের গল্প

    সুকান্ত ঘোষ
    বিভাগ : অন্যান্য | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৫১৯৮ বার পঠিত
আরও পড়ুন
বলি! - Tridibesh Das
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1 | 2 | 3 | 4
  • সুকি | 90045.205.012323.46 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২০:২৫381853
  • পাই আদেশ দিল যে একটা টই করে নিমো গ্রামের গল্পগুলো লিখে রাখতে। পাই-য়ের আদেশ তো আর ফেলা যায় না!
  • সুকি | 90045.205.012323.46 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২০:২৬381921
  • ল্যান্ডমার্ক
    --------------------------------------------------

    সেদিন HDFC ব্যাঙ্ক যা দাগা দিল আমায়, এমন যাতনা, বেদনা, দুঃখ আমায় বহু দিন কেউ দেয়নি! ঠিকানা পরিবর্তন করার জন্য আমি কাগজ পত্র সব ব্যাঙ্কে জমা দিয়ে এলাম – ওদের সিষ্টেমে এবার আমার নিমো গ্রামের ঠিকানা থাকবে। বাড়ি ফিরে আসার পর বিশাল এক কাজ করে এসেছি ভেবে খেয়ে দেয়ে একটু ন্যাপ নিতে গেছি, ওমা দেখি ব্যাঙ্কের ম্যানেজার ফোন করেছে। জিজ্ঞেস করে কি, “আচ্ছা, আপনার নিমো-র বাড়ির ঠিকানাটায় ‘ল্যান্ডমার্ক’ কি লিখব ?”

    আমি বাকরুদ্ধ! নিমো গ্রামে ঢুকে সুকান্ত ঘোষের বাড়ি যাব, এটা সাফিসিয়েন্ট না? আমার বাড়ি বোঝাতে ‘ল্যান্ডমার্ক’ লাগবে? আমার কাছ থেকে এটুকুও তুমি কেড়ে নিলে! এই গরীবের আর বিশেষ কিছু ছিল না, গ্রামে এক ডাকে সবাই চেনে এই প্রাইড ছাড়া। অবশ্য এই একডাকে সবাই চেনে ব্যাপারটা নিমোতে শুধু আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এমন নয় – ভেলু বাপন, তবলা, পালেদের গণশা জ্যাঠা, মোটা শৈলেন, সুমন কুমার সহ আমরা প্রায় সবাই নিজেরা নিজেদের ল্যান্ডমার্ক! আমি এই কথোপকথন ভাবছিঃ

    - দিদি, সুকান্ত ঘোষের বাড়ি যাব – কোনদিকে বলতে পারেন?

    জেলেদের জয়ন্তী ঘুঁটে দিতে গিয়ে থেমে গিয়ে প্রশ্নকর্তাকে জিঞ্জেস করছে

    - কোন সুকান্ত ঘোষ? ‘ল্যান্ডমার্ক’ জানা আছে বাড়ির?

    এটা ভেবে আমার ঘুম এল না দুপুরে – খুব মন খারাপ করে শুয়ে রইলাম। চিরকাল চিঠি এসেছে, “সুকান্ত ঘোষ, নিমো, বর্ধমান, ওয়েষ্ট বেংগল” এই ঠিকানায়। সেই বিশে হালদার পোষ্টমাষ্টার – মিতা ময়রার চিঠি বিলি – আর গোষ্ট হালদারের ডাক নিয়ে আসা কম্বিনেশন থেকে ইদানিং সৃষ্টির পোষ্টমাষ্টার বউ আর সৃষ্টির নিজের চিঠি বিলি করা – এর কোন কিছুর মাঝেই তো ‘ল্যান্ডমার্ক’ আসে নি!

    সুকান্ত ঘোষের চিঠি আসবে নিমো গ্রামে আর তাতে ‘ল্যান্ডমার্ক’ লেখা! এমন দিনও দেখতে হল প্রভু!
  • সুকি | 90045.205.012323.46 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২০:২৮381932
  • বিট্টুর ভ্যালেনটাইন
    ----------------------------------------------------------------

    নিমো গ্রামের পাবলিক আলাদা করে ভ্যালেনটাইন দিবসে বিশ্বাস রাখে না – আমরা বিশ্বাস রাখি যখন তখন জীবনে প্রেমের প্রবেশে এবং ঝুট ঝামেলা এমব্রেস করে প্রেমাকাঙ্খী দুরন্ত যৌবনকে পথ দেখাতে

    এই মাত্র গত সপ্তাহের কথা বলছি, সরস্বতী পূজোর একদিন আগের ব্যাপার। আমাদের গ্রামের কলঘরের বিট্টু-এর বাড়িতে সকাল সকাল চলে এ্সেছে পাশের মেমারী থেকে তার প্রেমিকা। সেই মেয়ের মতে এ চলে আসা যাকে বলে পার্মানেন্ট চলে আসা! কারণ তার নাকি বিয়ের ঠিক করেছে তার বাবা।

    বিট্টু-এর বাবার জিনিস চরমে উঠে গ্যাছে। একে তো ছেলে প্রেম করছে জানা ছিল না – তার পর সকালে বিড়ি ধরিয়ে ঠিক ঠাক পায়খানা নামাবার আগেই জলজ্যান্ত বৌমা বাড়িতে হাজির – সে এক জটিল অবস্থা। মেয়ে বসে আছে বাড়ির দুয়ারে – ইনিশিয়াল ডিল করছে ছেলের বাবা।

    - ও মেয়ে, তুমি কি দেখে এই ত্যাঁদড় ছেলেকে পছন্দ করলে মা?

    মেয়ে উত্তর দেয় না। এদিকে খবর চলে গ্যাছে ততক্ষণে মেয়ের বাবার কাছে – মেয়ের বাবা পাকা লোক, নিজে ঝটপট করে না এসে একটু খুঁজে পেতে সাথে করে মেমারীর এক পার্টির নেতাকে সাথে করে নিয়ে এসেছে।

    মেয়েকে বোঝানো হচ্ছে –

    - তুই বাড়ি চল এখন। ঠিক আছে রে তোর বিয়ে এখন দেব না। তুই আগে পাড়াশুনা শেষ কর, তারপর যদি এই ছেলেকেই বিয়ে করতে চাস, তাই না হয় হবে।

    মেয়ে তো আর হিন্দী/বাঙলা সিনেমা কম দ্যাখে নি! রঞ্জিত মল্লিক টাইপ আচরণও তার জানা – পাখি একবার খাঁচায় ঢুকে গেলে, কন্ট্রোল চলে যাবে খাঁচাওয়ালার হাতে। মেয়ে বলে একবার যখন বেরিয়ে এসেছি, বিয়ে করে এই ছেলের বাড়িতেই থাকব। না হলে বাড়ি ফিরে সুইসাইড!

    পাশ থেকে সুইসাইড শব্দটা শুনেই বিট্টু-র বাবার হয়ে গ্যাছে – সাথে দেখেছে মেয়ের বাপের সাথে পার্টির নেতা। এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে পারে একজনই – সুমন কুমার ওরফে রাজু। রাজু হল গিয়ে আমাদের গ্রামের প্রথম এবং একমাত্র শিল্পপতি – অগুনতি ছেলের অন্নদাতা, নিমো গ্রামের পার্টির স্তম্ভ এবং ইয়ং ছেলেদের এনজয়মেন্টের পথ প্রদর্শক। খবর পেতেই রাজু চলে এল তার বুলেটে করে। এখন বিট্টুর কেসে রাজুরও একটু ভেষ্টেট ইন্টারেষ্ট আছে – কারণ রাজুর কারখানাতেই বিট্টু কাজ করে। কিন্তু আত্মিক সম্পর্কর অজুহাতে কর্তব্যে অবহেলা করা রাজুর রুল বুকস্‌-এ নেই। ফলতঃ স্থানে পৌঁছে প্রথমে ব্যাপারটা বুঝে নি রাজু – এর পর প্রশ্ন শুরু হল মেয়েকে

    - এই তোর বয়স কত হয়েছে এখন?
    - কুড়ি
    - কিসে পড়ছিস?
    - ম্যাথ অনার্স সেকেন্ড ইয়ার
    - বলিস কি! তা তুই জানিস বিট্টু কি পাস?
    - জানি
    - কি বলেছে তোকে? কোন ক্লাস পাশ বলেছে?
    - মাধ্যমিক ফেল।
    - অ – তা হলে অন্তত একটা সত্যি কথা বলেছে তোকে!

    রাজু সেই একই রিকোয়েষ্ট করল মেয়েকে যা এর আগে বিট্টুর বাবা এবং মেয়ের বাবা দুজনাই করেছে। মেয়ের সেই এক গোঁ – একবার যখন বেরিয়ে এসেছি, বিয়ে করেই থামব! আর বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গেলে সুইসাইড

    রাজু এবার বিট্টুকে জিজ্ঞেস করল – “কি রে বিট্টু, তুই কি বিয়ে করতে চাস”? যেভাবে মাথা নাড়ল বিট্টু তাতে ঠিক ক্লিয়ার হল না যে বিয়ে করলে সে বেশী খুশি নাকি মেয়ে বাড়ি ফিরে গেলে! রাজু সব কিছু মেপে নিয়ে মেয়ের বাবাকে ভারডিক্ট দিল –

    - দেখুন আপনি যদি মেয়ে বাড়ি নিয়ে যেতে চান তাহলে বলুন, আমি পুরো রাস্তা ক্লিয়ার করে দিচ্ছি। কেউ আপনাকে আটকাবে না। কিন্তু ওই যে বাড়ি ফিরে গেলে মেয়ের একটা সুইসাইডের চান্স থেকেই যাচ্ছে!

    মেয়ের বাবা আর কি বলে! বিজবিজ করতে করতে – “আপনারা যা ভালো বোঝেন করুন” বলে বিদায় নিল।

    তার মানে কেস এবার পুরো নিমোর পাবলিকের হাতে। বিট্টু বলল বিয়ে করতে হলে সে শিমলাগড় কালীবাড়ি নয়ত বর্ধমান সর্বমঙ্গলা তলা – যেকোন এক জায়গাতে যাবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, উক্ত দুই ঠাকুর বাড়ি হল আমাদের ওদিকে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করার সেফেষ্ট বেট – ওতে নাকি বিয়ে বেশী দিন টিকে থাকে, ঠাকুর জাগ্রত।
    রাজু জিজ্ঞেস করল বিট্টু-কে

    - তোর পকেটে ক টাকা আছে?
    - সাড়ে ছয়শো
    - এই টাকা দিয়ে তুই শিমলাগড় – বর্ধমান যাবি? গাড়ি ভাড়া দেবে কে? সাড়ে তিন হাজার আছে আমার পকেটে, এর বেশী তোর বিয়েতে আমি এক পয়সাও খরচা করব না।

    পাশ থেকে বিট্টুর বাবা জানিয়ে দিল, এই বিয়েতে তিনি এক পয়সাও কনট্রিবিউট করবেন না – ফিলসফিক্যালি তিনি এই বিয়ে মেনে নিতে পারছেন না।

    তাহলে ঠিক হল বিয়ে হবে নিমো শিবতলায়। বিয়ে করে বাড়ি ঢোকার আগে সবাই একবার নিমো শিবতলায় প্রণাম করে গেলেও, শিবতলাতেই বিয়ে হয়েছে এমন উদাহরণ বেশী নেই। তাই সে এক প্রবল হই হই ব্যাপার। প্রথম প্রাকটিক্যাল প্রবলেম হল, ছেলে-মেয়ে কি করে শিবতলায় যাবে? মানে যেখানে আলোচনা হচ্ছিল সেখান থেকে শিবতলা প্রায় ১ কিলোমিটার – নতুন হোনেবালা বউ হেঁটে যাবে সেটা তো আর হতে পারে না! এমন ত্রাতা হয়ে দেখা গেল আমাদের গ্রামেরই ড্রাইভার মুকুলকে! সে সবে কার যেন ভাড়া খেটে গ্রামে ফিরছিল! ব্যাস মুকুলকে অর্ডার দেওয়া হল যে বিট্টু এবং তার ভাবী বৌকে নিয়ে শিবতলা যাও।

    গাড়িতে উঠে বিট্টু জিজ্ঞেস করল রাজুকে, “বিয়ে তাহলে কোন বামুন দেওয়াবে?” আমাদের নিমো সোনার বাংলা ক্লাবের স্ট্যান্ডবাই বামুন হচ্ছে সম্রাট – কলেজে পড়া ভদ্র সভ্য নোয়াপাতি ভুঁড়ি নামানো বাচ্চা ছেলে। বিট্টুকে বলা হল, কে আবার সম্রাট-ই বিয়ে দেওয়াবে! বিট্টু বলল, “পায়ে পড়ছি তোমাদের, ভালো বামুন এনে দাও। কি উল্টোপাল্টা মন্ত্র বলে দেবে – যদি বিয়ের পরে প্রবলেম দেখা দেয়!” ঠিক হল তাহলে লাল্টুর বাবা গদা বামুন-ই বিয়ে দেবে – গদা বামুন অথেন্টিক। চৈত্রে গাজনে ওই গদা বামুন-ই শিবের মাথা থেকে ফুল পড়ায়! মানে শিবতলায় ওর থেকে অথেন্টিক আর কিছু হতেই পারে না। গদা বামুন কাদের বাড়ি ব্রাহ্মণ ভোজন করতে গিয়েছিল – তাকে জরুরী তলব দিয়ে আধ-খাওয়া অবস্থায় তুলে নিয়ে বিয়ে দিতে আনা হল।

    ছেলে-মেয়ে যতক্ষণে নিমো শিবতলায় পৌঁছল, ততক্ষণে সে জায়গা লোকে লোকারন্য – পাবলিকের ডোনেশনে বিয়ের জিনিস পত্র পুরো প্রস্তুত। রাজুর দেওয়া সাড়ে-তিন হাজার দিয়ে বেনারসী এসেছে (জানি না সে কেমন বেণারসী – চায়না মেড মনে হয়), কেউ মিষ্টীর ভার নিয়েছে, কেউ ফুলের। হই হই করে বিয়ে হয়ে গেল – বাড়িতে অনুষ্ঠান করে বিয়েতে অত শাঁখ বাজাবার আর উলু দেবার লোক পাওয়া যায় না, বিট্টুর বিয়েতে এত শাঁখ আর উলু পড়েছিল!

    বিয়ের পরে আমাদের দিকে করতে হয় গিয়ে দীন – মানে দীন করা বাবা-মা পাতাতে হয়। এবার কেস হল, এমন জটিল কেসে কে আর বাবা-মা হতে চায়! পঞ্চায়েত সদস্য মজনুদা বলল, “নিতাই, তুমি এদের দীন করা বাবা হবে। যাও বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে এসে আশীর্বাদ কর”। নিতাই আর কি করে, সদস্যর কথা তো আর অমাণ্য করা যায় না। বাড়ি গিয়ে দুটো- একশো টাকার নোট নিয়ে এসে একশো বিট্টুর বুক পকেটে গুঁজে আর একশো বউ-এর হাতে দিয়ে আশীর্বাদ সারল।

    সেই টাকা দেখে মুকুল ড্রাইভারের মাথায় টাকার কথা চেগে উঠল। সে গিয়ে রাজুকে কানের কাছে ফিসফাস করে বলে, “রাজু, দেখিস আমি যেন গাড়ী ভাড়া বাবদ কিছু পাই”।

    বিয়ে শেষ হয়ে বিট্টু বৌ নিয়ে শিবতলা থেকে গাড়ী চাপল বাড়ি ফিরবে বলে। রাজুর গাড়ির জানলার কাঁচের কাছে গিয়ে বিট্টু-কে ফিসফাস করে বলল যে, “তোর বুক পকেটে নিতাই-য়ের দেওয়া যে একশো টাকাটা আছে, ওটা নামার সময় মুকুলকে দিয়ে দিস”!

    মাধ্যমিক ফেল ম্যাথ অনার্সের হাত ধরে গাড়িতে চেপে আস্তে আস্তে এগিয়ে গেল।
  • dd | 670112.51.8912.149 | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৯:০৩381943
  • বিউটিফুল হচ্ছে।

    মানুষজন ছাড়াও, নিমোর বিখ্যাতো কুকুর, ষাঁড়, ব্যারাল,কাগ ও ভুতেদের গল্পোও শুনতে চাই।
  • ন্যাড়া | 1278.202.5634.85 | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৯:৫৯381954
  • বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে নিমোর জায়গা পাকা। এর আগে যেগুলোতে নিমো ব্যাকাগ্রাউন্ডে ছিল, সেগুলোও তোলা হউক।
  • San | 015612.242.5667.236 | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১০:০৩381965
  • এই নিমো গ্রামের গল্প পড়ে পড়ে কেমন বেশ চেনা জায়গা হয়ে গ্যাছে :) :)
  • সুকি | 90045.205.012323.46 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৪:৫৯381976
  • আইনষ্টাইন যে সব কিছুই ঠিক ঠাক প্রেডিক্ট করে গিয়েছিলেন এমনটা মোটেও পুরোপুরি সত্যি খবর নয়। ইনফ্যাক্ট ওই শক্তির নিত্যতা সূত্র নিয়ে যা বলে গিয়েছিলেন তাতে তো আমার সলিড ডাউট আছে – কি করে জানলাম? কেন এই নিজেকে দেখে!

    হয়ত আপনারা আজকাল আর বিশ্বাস করবেন না – কিন্তু এককালে আমারও পোটেনশিয়াল ছিল। অন্য কেউ না বুঝতে পারলেও, আমি নিজে টের পেতাম। নিজের গা, হাত পায়ের দিকে তাকালেই শিউড়ে উঠে পোটেনশিয়াল নিয়ে কি করব ঘুলিয়ে ফেলতাম। কিন্তু কালে কালে সেই পোটেনশিয়াল তাহলে কিসে কনভার্ট হল? ত্যাঁদরামো, ছ্যাঁচরামো এবং হারামিগিরি ছাড়া অন্য কিছুতে কনভার্ট হবার কোন প্রমানই আমি পাই নি এখনো।

    দিন ভালোই চলছিল – নিমো গ্রামের কোন পাবলিক আশেপাশের হাইস্কুলে ভর্তি হয়ে ফার্ষ্ট হয় নি! মানে ফার্ষ্ট হবার দরকারই ছিল না। আমি গেলাম ফেঁসে সেই ক্লাস ফাইভ থেকে সিক্সে উঠার সময় ফার্ষ্ট হয়ে! মেমারী থেকে ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছি প্রচন্ড টেনশন নিয়ে – শালা, এই ফার্ষ্ট হবার চক্করে বন্ধুমহলে আমি একঘরে হয়ে যাব না তো! কি করে কি ট্যাকেল করব ভাবছি – আর ভাবছি আমি ফার্ষ্ট হলামটা ঠিক কি করে! আর এতো মেমারীর ছেলে রয়েছে, সবাইকে বাদ দিয়ে আমাকেই ফার্ষ্ট করার কি দরকার ছিল স্যারদের!

    যাই হোক গ্রামে পৌঁছে দেখলাম, টেনশনের কিছু নেই। ট্রেন থেকে নেমে গ্রামে ঢুকে প্রশ্ন এল, “পাশ করেছিস”? আমি বললাম, ‘হ্যাঁ’। ব্যাস – কেস খতম! এর পর তো আর বেশী কিছু কথা হতে পারে না। কত ভাগ মার্কস পেয়েছিস, ক্লাসে ফার্ষ্ট হল কার ছেলে – এই সব প্রশ্ন আমাদের বাল্য জীবনে অজানা ছিল। বাড়ি ফিরে বাবা-মাকে মার্কসিট দ্যাখানো, সে প্রস্তাবনা তো এক অবাস্তব ব্যাপার! অবশ্য একবার নাকি এই সাম্য অবস্থার বিচ্যুতি হয়েছিল পালপাড়ায় – কেলো দালাল নাকি তার ছেলে মানু পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে বাড়ি ফিরলে মার্কশিট দেখতে চায়। বলাই বাহুল্য কেলো দালাল ইংরাজী জানে না – আর মার্কশিট চাইবার আগে তার জানাও ছিল না যে মার্কস গুলো ইংরাজী হরফে লেখা থাকতে পারে! কিন্তু কেলো দালাল দমবার পাত্র নয় – মার্কশিট হাতে নিয়ে তার ডায়লগ এখনো আমাদের পাড়ায় ফেমাস হয়ে আছে –

    - “হুম, তাহলে মানু এতে এতো ”

    এমন ভাবে ভালোই চলছিল – মেমারী বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দির উচ্চবিদ্যালয়ে বছর বছর ফার্ষ্ট হচ্ছি, কিন্তু গ্রামে কেউ জানে না বা কেয়ার ও করে না – সে এক আনন্দময় জীবন। কিন্তু সব আনন্দেরই পরিসমাপ্তি হয় এক সময়। আমার জীবনে সেই আনন্দের পরিসমাপ্তি ঘটালো, স্কুলের শতবর্ষ উদযাপন। কথিত আছে বিদ্যাসাগর মারা যাবার আগের বছর নাকি আমাদের স্কুলের ভিত্তিস্থাপন করে যান। তো সেই হিসাবে ১৯৯১ সালে আমাদের স্কুলের শতবর্ষ হবার কথা। কিন্তু যা হয় আর কি – পাবলিক ১৯৯১ সাল থেকে চাঁদা তুলতে শুরু করল বিশাল অনুষ্ঠান হবে বলে। বার্ষীক পুরষ্কার বিতরণ বন্ধ হয়ে গেল তিন বছর, বলল যবে শতবর্ষ হবে, সেই ফাংশানে নাকি বড় কারো হাত দিয়ে আমাদের পুরষ্কার দেওয়া হবে! এই করতে করতে শেষ পর্যন্ত ১৯৯৩ সালে সেই অনুষ্ঠান হল এবং আমার লাইফে শান্তির পরিসমাপ্তি।

    তখন যতদূর মনে পড়ছে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ছিলেন সত্যসাধন চক্রবর্তী – তো তাঁর হাত থেকে পুরষ্কার-টুরষ্কার নিয়ে ট্রেনে করে ফুরফুরে মনে ফিরছি। ফুরফুরে ভাবটা সত্যসাধনের জন্য বা পুরষ্কার পাবার জন্য নয় – সত্যসাধনের দৌলতে টিফিনটা জবরদস্ত দিয়েছিল! আমাদের লাইফে টিফিনের গুরুত্ব পরের কোন একবার লিখব। তো, বড় বড় দুটো ব্যাগ হয়ে গ্যাছে – এই এক গাদা বই পেয়েছি। নিমো ষ্টেশনে রাত আট-টার ট্রেনটায় নেমে ব্যাগ নিয়ে স্ট্রাগল করতে করতে বাড়ি ফিরছি – আমাদের বাড়ি যেতে হয় নিমো শিবতলা পেরিয়ে। আর সেই শিবতলায় তখন তাস খেলা বা বয়ষ্কদের গুলতানি চলে। আমার হাতে দুটো বড় বড় ব্যাগ দেখে, শিবে জ্যাঠা বলল –

    - বাঃ, ভালো করেছিস। এই ফালতু ইস্কুলে গিয়ে সময় নষ্ট না করে ব্যবসায় ঢুকে পড়েছিস। তোর কাকা আর কতদিন টানবে দোকানটা একা একা। তা কি মাল আনলি কলকাতা থেকে ব্যাগে করে?

    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মেমারী ষ্টেশন বাজাদের আমাদের স্টেশনারী, ঔষূধ এবং কাপড়ের দোকান ছিল। আমি শিবে জ্যাঠাকে বললাম,

    - না গো জ্যাঠা, ব্যাগে বই আছে
    - বই? আবার ফালতু বই ব্যবসায় নামলি কেন?
    - আরে ব্যবসায় নামি নি জ্যাঠা – এগুলো প্রাইজের বই।
    - তা লোকের প্রাইজের বই তুই রাতের বেলায় বইছিস কেন?
    - লোকের নয় গো, আমি প্রাইজ পেয়েছি।

    শিবে জ্যাঠা নড়ে চড়ে উঠল – ক্রিকেট খেলায় জিতলে আবার কবে থেকে বই দিতে শুরু করল!

    - কিসে প্রাইজ পেয়েছিস বই?
    - ওই তো ইস্কুলে ফার্ষ্ট হয়েছি বলে প্রাইজ দিল!

    শিবে জ্যাঠা পুরো স্তব্ধ – মুখ দেখে মনে হল হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেতে পারে। আমার দিকে আর তাকাল না, আকাশের দিকে মুখটা তুলে একট দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। দিয়ে কাঁধের গামছাটা দিয়ে বুড়োশিবের দুয়ারটা ঝেড়ে শোবার তোড়জোড় করতে করত বলল –

    - তুইও ক্লাসে ফার্ষ্ট হচ্ছিস! দেশটার কালে কালে কি অবস্থা হল!

    শিবে জ্যাঠার উপরের ডায়লগ আমার জীবনে বোধিজ্ঞান লাভের মত। ওই পরবর্তী কালে জেনেছি, একে লাইফের টিপিং পয়েন্ট বলে। আমি ভাবতে শুরু করলাম – সত্যিই তো, শিবে জ্যাঠা ঠিকই বলেছে – আমি ফার্ষ্ট হওয়া মানে দেশের অবস্থা প্রকৃতই খারাপ!

    আমি সেদিন, সেই মুহুর্ত থেকেই আর মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।

    বইয়ের ব্যাগ নিয়ে বাড়ি ঢুকে বুঝলাম, আমার পড়াশুনা আর না করার সিদ্ধান্ত একেবারে সঠিক। অত বই দেখে বাবা বলল, “এতো বই পাবার কি দরকার ছিল! এখন বেচা কামারকে ডেকে আবার আলমারী করাও!”

    শিবে জ্যাঠাকে আমি আর বেশী ঘাঁটাই নি – আমার পরবর্তী ইস্কুল কলেজের গতিবিধির ব্যাখ্যা জ্যাঠা নিজের মত করে নিয়েছিল। আমি বি ই কলেজ থেকে মাজে মাজে শনিবার হাওড়া থেকে যে মেন লাইন লোকালটা ২.২০ তে ছাড়ে, সেটায় ফিরতাম। আর সেই ট্রেনেই আমার সাথে কলকাতায় চামড়া কারখানায় কাজ করা ঘোষ পাড়ার পাপাই ফিরত। তা দেখে শিবে জ্যাঠার সিদ্ধান্ত ছিল যে আমি পাপাইয়ের সাথে চামড়ার কারখানায় কাজ করতে ঢুকে গেছি! তারপর যখন জ্যাঠা জানতে পারল যে আমি কানপুর গেছি, তখন বুঝে নিল যে আমি আরো বড় চামড়ার কারখানাতে কাজ পেয়েছি!

    একটাই শান্তি যে শিবে জ্যাঠাকে আমার তরফ ইংল্যান্ডে যাবার খবরটা দিতে হয় নি – কারন সেটা ব্যাখা করা হয়ত একটু চাপের হত। বৃটিশ আমলের লোক হবার জন্য ইংরাজদের প্রতি শিবে জ্যাঠার এক সম্ভ্রম, ভয়, শ্রদ্ধা – এই সব ছিল। আমাকে বিলেতের ইস্কুল থেকে স্কলারশিপ দিয়ে পড়ার জন্য ডেকেছে এবং তার পর এটা সেটা পুরষ্কারও দিয়েছে – এটা দেখে ইংরেজদের অবক্ষয় নিয়ে আক্ষেপ এবং মানসিক যন্ত্রনা ভোগ করার আগেই শিবে জ্যাঠার জীবনবাসনা হয়। আমার কাছ থেকে জ্যাঠা ওই একবার ছাড়া আর কোনদিন কষ্ট পায় নি।
  • | 230123.142.560112.254 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২০:৩৮381987
  • টোটাল টোটাল
  • সিকি | 127812.61.018912.13 | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০০:৩০381998
  • এটা চ্রম! শিবেজ্যাঠার শান্তিকামনা করি আর সুকিকে আশীর্ব্বাদ করি।
  • সুকি | 90045.205.012323.46 | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১২:২২381854
  • রব উইন্সলি-কে নিমো গ্রামের গল্প শোনানোই আমার মস্ত ভুল হয়ে গিয়েছিল! সে ব্যাটা জাত ইংরেজ, ওই হ্যারী পটার সিনেমায় যে স্কুল বিল্ডিং-গুলো দেখায় সেগুলোরই কোন একটা থেকে পড়াশুনা করে তার পর আবার কেমব্রীজ! নীরদ সি এই জাতীয় ছেলে দেখলে খুব খুশী হত মনে মনে। সে ব্যাটা বাঁধাকপি যে জমির উপরে একফুট উচ্চতার মধ্যে হয় সেটাই জানত না! একদিন কি যেন এক সিরিয়াস আলোচনা হচ্ছিল – ও হ্যাঁ, জন পল ল্যাবে আলোচনা শুরু করেছিলাম কেন ইংরেজ সার্জেন্ট-দের বন্দুক ক্যারী করতে দেওয়া হবে না! ইংল্যান্ডে স্ট্রীট ক্রাইম খুব বেড়ে যাচ্ছে – আর তার পরে জন পলের বোন পুলিশে চাকুরী করতে ঢুকেছে! তার প্রবল চিন্তা যে রাতের বেলায় ব্রড স্ট্রীটে মাতাল-জাত ক্রাইম সামলাতে ওই লঙ্কা গুঁড়ো স্প্রে কতটা কার্যকারী হবে!

    আমাকে রব জিজ্ঞেস করল যে, আমাদের দিকে এমন ক্রাইম আছে কিনা। আমি বললাম, “দ্যাখ, আমি তো নিমো গ্রামের ছেলে। তারপর আমাদের দাদুরা গান্ধী-র সময়ে অসহযোগ আন্দোলন করে স্বাধীনতার পরে কি সব পদক টদক পয়েছিল সরকারের কাছ থেকে। তাই আমাদের গ্রাম মূলত অহিংসার পূজারী”। মূল কথাটা আর বললাম না – আমাদের দাদু গুলো বেশীর ভাগই প্রবল ভীতু ছিল – তাই সহিংস জিনিসটা ওরা ভাবতেই পারত না! রব জিঞ্জেস করল, “তাহলে তোদের গ্রামে কারো উপর রেগে গেলে কি করিস তোরা?” আমি বলললাম, “কেন, আমরা অহিংস ভাবে প্রতিশোধ নিতাম”!

    অহিংস ভাবে প্রতিশোধ নেওয়া কি জিনিস সেই কনসেপ্টে রব ঘাবড়ে গেল – এ যেন অনেকটা চীনে কমিউনিজমের মত! ফলত উদাহরণ দিয়ে হল – যেমনটা বায়োলজির আনোয়ার স্যার বলে গিয়েছিলেন, ‘সর্বদা উদাহরণ দিয়ে কথা বলবে”। আমি রব-কে বোঝালাম, “দ্যাখ – আমাদের গ্রামে প্রায় সবাই তো চাষা। ধর এমন একজনের সাথে ঝামেলা হল যে তখন জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছে। তো আমরা মাঠে গিয়ে, হালকা করে বাঁধাকপির পাতার ভাঁজগুলো সরিয়ে হেগে দিয়ে এলাম এমন ভাবে যে চট করে হাগাটা পাতার ফাঁকে দেখা যায় না! এবার সে জমিতে বাঁধাকপি তুলতে গিয়ে যেই টান মারবে – হেঁ, হেঁ বুঝতেই পারছিস গু-টা কেমন ছড়িয়ে পড়বে তার গায়ে”।

    এটা একটা নিরীহ গল্প – মানে এতে হাসির কিছুই থাকতেই পারে না! কিন্তু ওই যে বলে গোরা-দের মনের কথা বোঝা ভার! কি থেকে যে কে আনন্দ পায়! এই রিভেঞ্জের গল্প শুনে রব হেসে কুটোকুটি! আমাকে জিঞ্জেস করল – “এটা কি ট্রু স্টোরী”? ট্রু-স্টোরী কি জিনিস আমি স্বভাবতই জানতাম না – আমাদের কাছে বক্তব্য দুই প্রকার – গুলতাপ্পি নয়ত ঘটনা। তখন আবার রব আমাকে ঘটনা – প্রকৃত ঘটনা – স্টোরী – ট্রু-স্টোরী – এই সবের ইংরাজী সংজ্ঞা নিয়ে কিছু ফান্ডা দিল।

    এর পর থেকে রব আমাকে মাঝে মাঝেই নিমো গ্রামের গল্প বলতে অনুরোধ করত। আমিও বলতাম, কি করব – যতই হোক তিনশো বছর আমাদের প্রভুত্ব করেছে। গল্প গুলোর মধ্যে যেটা হিট করেছিল সেটা হল আমার বড় জ্যাঠার বাঘ মারার গল্প! ভাবা যায় এক প্রবল অভিজাত ইংরাজের বাড়িতে নিমন্ত্রিত হয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে নিমো উন্নত অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইংরাজী শিক্ষা প্রাপ্ত এই আমি রব-এর গোটা পরিবার-কে আমার জ্যাঠার বাঘ মারার গল্প শোনাচ্ছি!

    নিমো গ্রামে একবার বাঘ এসে নাকি আশ্রয় নিল গ্রামের পশ্চিম দিকের তালপুকুরের জঙ্গলে। তালপুকুর এবং তার চারপাশের জঙ্গল ছিল আমাদের ঘোষ বাড়ির পাশে ষষ্ঠি ডাঙা মাঠ, বনধারা-র পাড় এবং তার ঠিক পরেই তালপুকুর। আমাদের বাড়িতে দুটো আগ্নেয়াস্ত্র – একটা রাইফেল এবং একটা দো-নলা বন্দুক। গ্রামের লোক যখন শব্দ করে, পটাকা ফাটিয়ে – টিন বাজিয়ে বাঘ তাড়াবার ব্যবস্থা করছে, তখন বড় জ্যাঠা বলল সে বন্দুক নিয়ে বাঘ মারতে যাবে! জ্যাঠার হাতের টিপ নিয়ে কেউ আর কিছু বলতে চায় না – আর গ্রামের বা বাড়ির কেউই জ্যাঠার সাথী হতে রাজী হল না। জ্যাঠা বলছে, “কেউ আমার সাথে গিয়ে শুধু বাঘটা স্পটিং-এ হেল্প করে দাও, বাকিটা আমি দেখে নিচ্ছি”!

    জ্যাঠার ‘দেখে নেওয়া-তে’ কারো বিশ্বাস ছিল না – কারণ কিছু দিন আগেই জ্যাঠা পানকৌড়ি মারতে গিয়ে রামাশীষের পাছায় ছড়রা ঢুকিয়েছে। আমাদের বাড়ির কংগ্রেস আমলের গোল্ডেন সময়ের গল্প অন্য একসময় করব – সেই আমলে জ্যাঠারা ছিল প্রায় বিনতুকলঘের সমতূল্য। আমার মেজ পিসেমশাই আবার জ্যাঠার বয়সী বলে সেই সময় দুজনে নিমোতে ফালতু তাহেলকা মাচাত প্রচুর। একদিন মেজ পিসে কলকাতা থেকে ছড়রা বন্দুক কিনে এনে বলল – “বড়দা চল বালি হাঁস আর পানকৌড়ি মেরে আনি”। বড় জ্যাঠা তো একপায়ে খাড়া – দুজনে পাখি মারতে বেরোল গ্রামের পাশে যে এক বিশাল পুকুর বা দীঘি টাইপের আছে সেখানে। চুপিচুপি দুজনে গিয়ে পুকুর পাড়ে ঘাসের উপর শুয়ে পাখির জন্য ওয়েট করছে – পাখি এসে বসবে পুকুরের মাঝেখানের রাখা কোন এক ‘পালা-এ’। পুকুরে যাতে যে কেউ জাল টেনে না নেয় বা মাছেরা খেলা করে – এই সব কি আলবাল কারণে মরা গাছের ডাল পুকুরে ছড়ানো থাকত সেই সময়ে আমাদের দিকে – তাকেই বলত ‘পালা’। সেই গাছের ডাল কিছুটা জলের থেকে উপরে উঠে থাকত। জ্যাঠাদের ওয়েটের শেষ করিয়ে পানকৌড়ি এসে বসল সেই পালাতে। বড় জ্যাঠা তাক লাগাল বন্দুক দিয়ে।

    দূর্ভাগ্য বশত পুকুরের ওপারে খেজুর গাছে তখন রস পাড়তে উঠেছিল রামাশীষ। বড় জ্যাঠার ফায়ার করা ছড়রা পানকৌড়ির গায়ে না লেগে গিয়ে ঢুকলো রামাশীষের পাছায়। যাঁরা জ্যামিতি বোঝেন তারা খুব সহজেই খেজুর গাছের উচ্চতা ‘ধরে’ নিয়ে, জ্যাঠা মাটিতে শুয়ে ফায়ার করেছে এটা কনসিডার করে পুকুরের প্রস্থ বের করে ফেলবেন! পাছায় ছড়রা ঢুকিয়ে রামাশীষ বর্ধমান হাসপাতালে। প্রশ্ন করতে পারেন পুলিশ কেস হয় নি? কংগ্রেস পিরিওডে ঘোষ বাড়ির পাবলিকের বিরুদ্ধে পুলিস কেস হবে এ প্রস্তবনা এতোই অবাস্তব যে আমি এমন প্রশ্ন কেবল ফেসবুকেই সম্মুখীন হতে পারি!
    তো রামাশীষের টাটকা ঘটনা মনে রেখে গ্রামের কেউ তো আর জ্যাঠার সাথে বাঘ মারতে যেতে রাজী হল না। জ্যাঠা তখন সাঁওতাল পরগণা থেকে আমাদের জমিতে ধানের সিজনে কাজ করতে আসা রাম-কে নিয়ে রওনা দিল। জ্যাঠার হাতে বন্দুক আর রামের হাতে লাঠি। দুজনে গেল তালপুকুরে। তারপরে প্রকৃত কি হয়েছিল সেটা জানা যায় তিন মাস পর পি জি হাসপাতাল থেকে রাম ছাড়া পাবার পর। রাম জানায় যে, দুজনে তো তালপুকুরের পাড়ে বাঘ খুঁজতে উঠল – বাঘ খুঁজছে, বাঘ খুঁজছে। বেশ কিছু পরে এক বিকট হালুম শব্দ কাছে পিঠে। সেই শব্দ শুনেই বড় জ্যাঠা বন্দুক ইত্যাদি ফেলে দিয়ে তালপুকুরের জলে ঝাঁপ! রাম খেল ঘাড়ের পিছনে কাঁধের কাছে এক থাবা। ভাগ্য ভালো যে সে থাবা ঠিক যুতসই হয় নি! বর্ধমান হাসপাতাল রেফার করল কলকাতায় পিজি তে। সেখান থেকে তিনমাস পরে রাম নিমো ফিরল এবং সেখান থেকে নিজের বাড়ি। চাতাগ্নি গিয়ে গেল যে ‘বড়দা’ জমির আশেপাশে গেলে পরের বছর থেকে আর কেউ কাজ করতে আসবে না ওরা জমিতে।

    তো জ্যাঠার বাঘ মারার গল্প হল এই – এতে হাসার কি আছে আমি জানি না। কিন্তু রব এবং এবং তার পরিবার এই গল্প শুনে হেসে কুটোপুটি! এবং তার পরের তিন বছর রবের রিকোয়েষ্টে এই গল্প আমি অনেক পরিবারকে শুনিয়েছি, এমন কি কনফারেন্স ডিনারেও। সব সাহেব হেসে অস্থির - সাহেব জাতের মতি গতি বোঝা যায়!

    তবে বড় জ্যাঠার ইন্ডিয়ান স্ট্যানডার্ডের ঘটনা প্রচুর – সে গল্প অন্য কোন এক সময়!
  • Ruchira | 900900.67.3423.127 | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১২:৩৮381865
  • এই গল্প ইঙ্গরিজিতে বলা খুব চাপ - এইসব চাতাগ্নি ফাতাগ্নি ... নাহ মশায়, আপনি ফার্স্ট বয়-ই বটে
  • ন্যাড়া | 1278.202.5634.85 | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৪:১৩381876
  • নিমোর গল্প একেবারে মর্দওয়ালি হিট।
  • sm | 2345.110.785612.195 | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৫:৪৮381887
  • নিমোর গপ্পো গুলো এক একটা আবার খাবো সন্দেশ!তা, ন্যাড়া র গপ্পো গুলো ও তো বেশ তারিয়ে উপভোগ করছিলাম।
    আর আসছেনা কেন?
  • | 230123.142.560112.254 | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২১:২০381898
  • এ মানে ছদ্মবেশী জেরোম।☺☺☺☺☺☺☺, লব লব লব লব
  • গবু | 2345.110.015612.152 | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২১:৩১381909
  • দুর্দান্ত, দুষ্টুমীভরা, ইত্যাদি সব দুঃ যা হতে পারে! চলুক, চলুক!
  • I | 7845.15.126712.250 | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২১:৪০381917
  • আমি রুচিরা র সাথে একমত।এই গল্প ইংরেজিতে বলতে হলে তো শেক্ষপীড় হয়ে জন্মাতে হবে!
  • I | 7845.15.9004523.48 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০০:৩৭381918
  • সুকি আমাদের অলরাউন্ডার।জিতা রহো বেটা।
  • সুকি | 90045.205.012323.46 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৬:৫৩381919
  • যারা লেখা পড়ছেন সবাইকে ধন্যবাদ।

    ডিডিদা, আস্তে আস্তে সব হবে।

    ন্যাড়াদা, তোমার গল্প কই। হেবি হচ্ছিল তো?

    হনুদা, ভালো থেকো। লেখা ভালো লেগেছে জেনে আমি আপ্লুত।

    রুচিরা, আমি এই গল্পই বলে ছিলাম ইংরাজী তে, আর আমার ইংরাজী তো বুঝতেই পারছেন! এখন আপনাদের কথা শুনে মনে হল সাহেব গুলো গল্প নয়, আমার ইংরাজী বিদ্যার বহর দেখেই হাসত মনে হ্য!

    বড় I কি ইন্দোদা? প্রণাম নেবেন।

    গবু, sm কেও সুক্রিয়া
  • Atoz | 125612.141.5689.8 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৬:৫৫381920
  • না না, আইনস্টাইন ভুল করেন নি। ওই পোটেনশিয়াল এখন কাইনেটিক হয়েছে। ঃ-)
  • dd | 670112.51.90012.46 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৮:১১381922
  • না, না, তাড়া কিসের। এই ত্তো বাঘ,হাঁস পানকৌড়ি এসে গ্যাছে। এবারে দু একটা জলোহস্তী আর খ্যাঁকশ্যাল এলেও খুব জমবে।

    তবে যেটা মিস করছি, নিমো গ্রামে কোনো নদী টদী নেই? একটাও না? নদী ছাড়া গ্রামের গপ্পো ক্যামন একটু ফ্যাকাশে লাগে। আমি বলি কি, বাঁকা নদীটাকে টেনে টুনে নিমো গাঁএর পাশে নিয়ে এলেই সবার মংগল হয়।
  • সিকি | 562312.19.4534.88 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৮:৪৭381923
  • এমনকি সী বীচও নেই। সেটাকেও একটু টেনে আনা যায় না?
  • amit | 340123.0.34.2 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৮:৫৭381924
  • বর্ধমানে সী- বিচ ? বলি হচ্ছেটা কি ?
  • সিকি | 562312.19.4534.88 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৯:০১381925
  • কোন্নগড়ে থাগলে বদ্ধোমান কী দোষ করল শুনি?
  • কুমু | 127812.79.3434.27 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১০:০১381926
  • সুকি,গল্পগুলো খুবি এনজয় করছি।অনেক লিখুন।
    রামাশীষের প্রতি ক্রিয়া কী ছিল?
  • কুমু | 127812.79.3434.27 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১০:০১381927
  • সুকি,গল্পগুলো খুবি এনজয় করছি।অনেক লিখুন।
    রামাশীষের প্রতি ক্রিয়া কী ছিল?
  • সুকি | 566712.225.450112.90 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১০:২৩381928
  • আপনারা এই ভাবে নদী, সী-বিচ এই সব গল্পে ঢুকিয়ে আমাকে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হতে বলবেন না প্লিজ! কারণ একবার যদি ইমাজিনেশন ব্যবহার করতে শুরু করি তা হলে কোথায় থামব নিজেই জানি না! হিমালয় থেকে সমুদ্র সব গল্প চলে আসবে।

    তবে ডিডি-দার কথার সূত্র হতে বলি - একটা 'নদীর ধার' ছিল বা আছে তো এখনো আমাদের গ্রামের পশ্চিম দিকে। সেই নদীর ধারে তো আবার আমাদের কয় বিঘে জমি আছে এখনো!

    কুমু-দি, রামাশীষের কোন বক্তব্য ছিল না। মানে সেই সময়ে বড় দাদুর কাছে গিয়ে বক্তব্য পেশ করার মত ক্ষমতা রামাশীষ বা তার বাপ-মায়ের কারোই ছিল না!
  • | 453412.159.896712.72 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১০:৪২381929
  • অ্যাই অ্যাই! কোন্নোগড়ের সিবিচ নিয়ে টানাটানি করবে না বলে দিচ্ছি। নিজেদের সিবিচ নিজেরা বানিয়ে নাও।

    হ্যাঁ নিমোর ভুতেদের কথা জানতে চাই।
  • kumu | 127812.79.3434.27 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১১:০৬381930
  • সুকি আমাকে চেনে দেখে যারপরনাই প্রীত হলাম।
    হ্যাঁ,কোন্নগরের সীবীচ নিয়ে টানাটানি করবার আগে দমু,কুমু ইত্যাদিদের শ্রীমুখ মনে রাখা ভাল।
  • Suhasini | 90045.206.4512.103 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১১:১৮381931
  • পাইয়ের এই আইডিয়া খুবই ভালো। এই সিরিজটা দারুণ প্রিয় - যে কোনও সময়ে মন ভালো করে দ্যায় শুধু নয়, রীতিমতো চাঙ্গা করে দ্যায়।
  • সুকি | 90045.205.012323.46 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২০:৩৪381933
  • অপারেশন থিয়েটার, মানে বারান্দার শেষের ওরই মধ্যে একটু বড় রুমে ঢুকে যাবার আগে মুকুল এক ফিলসফিক্যাল প্রশ্ন নিক্ষেপ করল ডাক্তারের দিকে –

    - ডাক্তার বাবু, আমি অপারেশনের পর আর বাবা হতে পারব তো?

    আধ ঘন্টা দরাদরি করে যে আপারেশনের রেট ঠিক হয়েছে সেই রুগীর প্রতি ডাক্তারবাবুর দরদ কতটা থাকতে পারে সেটা তাঁর উত্তর শুনে আপনার ডিসাইড করে ফেলুন

    - একটা থাপ্পড় লাগাবো চড়াম করে, বাবা হওয়া বেরিয়ে যাবে!

    আমি কিন্তু হলফ করে বলতে পারি মুকুলের সেই কনসার্ণ প্রচন্ড জেনুইন ছিল। আমি ‘মেঘে ঢাকা তারা’ দেখেছি, আবার মুকুলকেও দেখছি সেই মুহুর্তে। ‘দাদা আমি বাঁচতে চাই’ বলে সুপ্রিয়ার সেই আকুতি জাষ্ট মুকুলের ধারেকাছে আসে না! মেজ-বড়-ছোট বৌ সিরিজ সিনেমার কালী ব্যানার্জী? বা যে কোন সিনেমার সুখেন দাস? নাঃ, তারাও আসবে না তুলনায়।

    ঘটনা ঘটছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের পাশের একটা ‘নার্সিংহোমে’। কলকাতা থেকে বর্ধমানের দিকে যাবার সময় এক জাংশান আসবে যার বাঁদিকে যাওয়া যায় মশাগ্রাম এবং ডানদিকে গেলে মেমারী। আর সেই সংযোগ স্থলেই এই বিখ্যাত নার্সিং হোম।
    রোগের নাম ‘একশিরা’ – যার ইংরাজী নাম নাকি ‘হাইড্রোসিল’ – গোদা বাংলায় বলতে গেলে অন্ডকোষে জল জাতীয় কিছু জমে যাওয়া। এমন নয় যে নিমোর ছেলেদের কারো একশিরা হয় নি আগে বা নিমোর ছেলেদের অন্ডকোষে আগে ডাক্তারের হাত পড়ে নি। মূলত ক্রিকেট বা ফুটবল খেলতে গিয়ে বল লেগে আমাদের অন্ডকোষ মাঝে মাঝে আউট অব্‌ সেপ হয়ে যেত – তবে বেশীর ভাগ সময়েই কিছুদিন নিজেরাই টেপাটিপি করলে অন্ডকোষেরা নিজেরাই আবার তাদের আকার ফিরে পেত!

    কিন্তু মুকুলের কি করে একশিরা হল কে জানে! খেলাধূলা থেকে তার স্থান বহুদূরে – মনে হয় বেশী সাইকেল বা ভ্যান চালিয়ে সেই রোগ বাধিয়েছিল – স্ট্যাটিসটিক্যালি স্পিকিং কলকাতার বুকেও বেশীর ভাগ রিকাশা চালকের অন্ডকোষেও একশিরা জাতীয় রোগ হয়। তা যাক হোক ডাক্তার দেখানোর পর নিদেন এল যে মুকুলের অন্ডকোষে অপারেট করতে হবে। মুকুলের বাপ সীতা হালদারের কাছে খবর গেলে সীতা জানিয়ে দিল এই জাতীয় ফালতু রোগের অপারেশনের পিছনে সে পয়সা খরচ করতে রাজী নয়! তা যতই মুকুল নিজের ছেলে হোক না কেন! তেনার মতামত হল অন্ডকোষের তেজ দেখালেই তো হবে না সব সময় – তার সাইড এফেক্টও সহ্য করতে হবে!

    কিন্তু বন্ধুর অন্ডকোষ আউট অব শেপ দেখে নিমো সোনার বাংলার ছেলেরা কতদিন আর চুপ থাকে। খোঁজ নিতে বের হল পাবলিক যে কোথায় সস্তায় অপারেশন করা যায়। খবর এল ওই উপরিউক্ত নার্সিংহোমটি সস্তায় নাকি দেদার একশিরা অপারেশন করিয়ে দিচ্ছে। দুনিয়ার রিক্সা, ভ্যান চালক ইত্যাদিরা ওখানে ভিড় জমাচ্ছে। চাঁদা তোলা শুরু হল মুকুলের একশিরা অপারেশনের জন্য। শুধু বন্ধু মহলে নাকি নিমো গ্রাম জুড়ে চাঁদা তোলা হবে সেই নিয়ে এক প্রস্থ আলোচনা হয়ে গেল – কেউ একজন বলল যে দ্যাখ যেখানে মুকুলের নিজের বাপই ছেলের অন্ডকোষকে তেজ্য করেছে যেখানে গ্রামের লোক ওই অন্ডকোষের জন্য মায়া দেখাতে নাও পারে – সে যতই ফুলে থাকুক! ফলতঃ ঠিক হল শুধুমাত্র বন্ধুমহলে চাঁদা তুলেই মুকুলের অপারেশন হবে। সেই চাঁদা তুলে গুচ্ছ ছেলে পুলে নিয়ে যাওয়া গেল নার্সিংহোমে। ডাক্তার – নার্স ভাবল আমরা তাদের ক্যালাতে এবং ভাংচুড় করতে গেছি – কিন্তু চাঁদা তুলে একশিরা অপারেশনের প্রস্তাব শুনে তার থেকেও বেশী অবাক হল। তার থেকেও বেশী অবাক বাকি ছিল যখন নিমোর ছেলেরা অপারেশনের জন্য দরদাম করা শুরু করল!

    তো আপনাদের আর টেনশনে রাখব না – একবারে শেষে গিয়ে ক্লাইমেক্স দিয়ে শেষ করা – এসব আমাদের ধাতে নেই। তাই বলেই দিই যে মুকুলের অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছিল – এখন সে এক ছেলের বাপও বটে!

    অন্য কেউ হলে হয়ত অন্ডকোষ শেপে চলে আসার আনন্দে প্রেম বিতরণের ধান্দায় বেরিয়ে পড়ত – কিন্তু মুকুলই একমাত্র অন্ডকোষের প্রকৃত কারণ বুঝেছিল, তা সে ডারউইন বিবর্তন না পড়ে থাকলেও! পুত্র উৎপাদন করা যাবে কিনা এবং প্রেম হলে তা বিয়েতে কনভার্ট হবে কিনা সেই নিয়েই তার ফোকাস ছিল। তাই নিমো গ্রামে মোবাইলের আগমণ এবং ফ্রী টক টাইম যখন আমাদের জীবনের ইকুইলিব্রাম নষ্ট করে দিচ্ছিল প্রায় – তখন একমাত্র মুকুলই ছিল অবিচলিত! নিমো বারোয়ারী তলায় বসে বসে গেঁজানো পাবলিক যারা সন্ধেবেলা সামনের মোড়লদের ড্রেন-এ ছড়ছড় করে প্রসাব করত তারা এই মোবাইল জামানায় দূর দূর প্রসাব করতে যেতে লাগল। রাত আটটার পর সব পাবলিকের একসাথে প্রসাব পাচ্ছে! সে এক জটিল কেস – আসলে সবাই নাকি তখন নাকি মোবাইলে প্রেম করতে ব্যস্ত – ওদিকে মেয়ে প্রাইভেট পড়া শেষ করে বাড়ি ঢুকবে সেইটুকু উইন্ডোতেই ফোন করতে হবে – মানে রাত আটটা থেকে সাড়ে-আটটার মধ্যে।

    সবাই প্রেম করছে, কিন্তু মুকুল অবিচলিত – শেষ পর্যন্ত আমাদেরই একজন কেউ তার তখনকার বান্ধবীকে ধরে তার বান্ধবীর সাথে মুকুলের লাইন লাগানোর ব্যবস্থা করল। আমাদেরই কারো মোবাইল ধার দেওয়া হল মুকুল-কে কথা বলতে। তাকে বলা হল তুই পাশে গিয়ে কথা বল। কিছুদিন পর দেখা গেল, মুকুলের বেশ ইন্টারেষ্ট এসেছে – নিজেই বলছে, ওই দে না একবার ফোনটা লাগিয়ে! স্বাভাবিক ভাবেই ছেলেদের ঔৎসুক্য জাগল যে পাশে মোবাইল নিয়ে গিয়ে মুকুল কি প্রেমের কথা বলছে! আড়ি পেতে নিন্মলিখি বার্তালাপ শোনা গেল –

    - তুমি ছাগলের দুধ দুইতে পারবে?
    - -------------------------
    - আরে না না, আমার তো পনেরোটা মত ছাগল – চারটে দুধ দিচ্ছে এখন
    - --------------------------
    - আচ্ছা, তুমি গরুকে জাব দিতেও পারবে?
    - -------------------------
    - ও গোবর নেদ দিতেও পার?

    এই ফালতু টাইপের প্রেমালাপ শোনার ধৈর্য কারো ছিল না বলাই বাহুল্য!

    এক সময় মুলুকের বিয়েও হয়ে গেল। একত্রিশে ডিসেম্বর নিমো গেছি – সন্ধ্যেবেলা পিকনিক হবে তার তোড়জোড় হচ্ছে। মুকুলকে দেখলাম বৌ-বাচ্চা নিয়ে কোথা থেকে ফিরছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কি রে মুকুল, থাকবি তো সন্ধ্যেবেলা?” পাশ থেকে রাজু হাঁসফাঁস করে উঠল, “আরে সুকান্তদা কর কি, কর কি – মুকুলের সাথে এখন কথা বল না!” আমি গেলাম ঘাবড়ে! মুকুল না থাকলে মদের চাট বানাবে কে আর মাল খাবার ঝাল ঝাল ‘চিলি পিস’ চিকেনটাই বা কে রান্না করবে! যা বোঝা গেল, এখন মুকুলের বাড়িতে বউ ফতোয়া জারি করেছে যে, সোনার বাংলার ছেলেদের সাথে নাকি মুকুলের মেশা যাবে না! এ এক অবাস্তব দাবী! আমাদের গ্রামের ছেলেরা বিয়ে করার আগেই (প্রেম বা সমন্ধ যা করেই হোক না কেন বিয়ে) মেয়ের সাথে ক্লীয়ার করে নেয় যে, সোনার বাংলার সাথে বরের ইন্টারেকশন নিয়ে কোন প্রকার নাক যেন গলানো না হয়।

    মুকুলের বউ নাকি ওকে বলেছে, “আমি একা একা রাস্তা দিয়ে গেলে সোনার বাংলার ছেলেরা কেমন ভাবে তাকায়”! সোনার বাংলার ছেলেদের নানা প্রবলেম থাকলেও দুশ্চরিত্র এমন অববাদ কেউ দিতে পারবে না তেমন! মুকুল সেটা গর্ব করে বৌকে জানালে ব্যাপার টুইষ্ট হয়ে গেল – বৌ বলল “তাহলে তুমি আমাদের নিজেদের মধ্যে যা কথা হয় সেই সব কিছুই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো! আর সেই জন্যি তোমার বন্ধুরা আমার দিকে তাকিয়ে হাসে-টাসে মনে হয়”! মুকুল সাধাসিধে মানুষ, বলে ফেলল, “যা বাবা, সুখ দুঃখের কথা বন্ধুদের ছাড়া আর কাকে বলব”! ব্যাস, এই কনফেশনের পর মুকুলের হয়ে গেল – বৌ পুরো থ্রেট দিয়ে রেখেছে, সোনার বাংলার ছেলেদের সাথে দেখলেই সেদিন বাইররের বাদান্দায় শুতে হবে!

    মুকুলের কথা ভেবে কষ্ট হল – বেচারা ছেলেটা পুরো শুকিয়ে গেছে। এই সব ভাবতে ভাবতে ৩১ ডিসেম্বরের ফিষ্টির মাংসটা কষতে চাপিয়েছি, এমন সময় অন্ধকারে বৌকে লুকিয়ে মুকুল এসে হাজির পিকনিক স্পটে। আমাকে বললঃ

    - কিছু মনে কর না সুকান্তদা, আজকে আর ফিষ্টি করতে পারব না।

    সবাই পাশ থেকে বলে উঠল, “মুকুল – মরদ হ, মরদ – তুই দিন দিন ম্যাদা মেরে যাচ্ছিস। আর আজকে পিকনিক করলে কি করবে তোর বৌ? বড় জোর ঘরে ঢুকতে দেবে না – তাই তো? তুই আমাদের কারো ঘরে শুয়ে পড়বি”। মুকুল বললঃ

    - মাগী কি কম চালাক নাকি! আমি বেরোবার আগে ছেলেটার মাথায় হাত দিয়ে দিব্বি দিয়ে নিল যেনো আমি ফিষ্টি না করি
    এ ‘মাগী’ উচ্চারণ কোন ফেমিনিষ্ট টাইপের ব্যঙ্গ নয় – এ হল বঙ্কিম চন্দ্রীয় ‘মাগী’ – ভালোবেসে উচ্চারিত। আমি বললামঃ
    - তা তোর বউয়ের প্রবলেমটা কোথায় তুই আমাদের সাথে মিশলে?
    - *ড়া সেটা আর কে বলে! আমাকে বলবে তুমি সোনার বাংলায় গিয়ে ফুর্তি করবে, আর আমি বাড়িতে বসে থাকব সেটা হবে না!
    - তা তুই বউকে নিয়ে ঘুরে আয় এদিক সেদিক
    - সে কি আর বাকি রেখেছি? নিমো গ্রামের কোন ছেলে বউকে নিয়ে পাঁচ দিন ঠাকুর দেখতে গেছে? আমি সেই শালা ষষ্ঠির দিন থেকে বউকে নিয়ে ঘুরছি। তাতেও ভবি ভোলবার নয়। এই রাজু, তুই পার্টি থেকে কিছু একটা কর – আমি না হলে মরে যাব এবার।

    রাজু বলল – “তোর বউ তো এমন ছিল না আগে! অন্য কেউ মাথায় বুদ্ধি দিচ্ছে নাকি?”

    - সেটা *ড়া বলতে – ওই *লের সয়ম্ভর গোষ্টি নাকি কি হয়েছে নিমো পঞ্চায়েতে মেয়েদের, সেখানে গিয়ে গুজুর গুজুর, ওরাই সব প্ল্যান দিচ্ছে। রাজু তুই কিছু কর। ওরে বাবা, দশটা বেজে গ্যাছে – এর পর গেলে বাইরে শুতে হবে – আমি চললাম সুকান্তদা।
    আমি রাজুকে বললাম, “তুই পঞ্চায়েত থেকে বিচার করতে গেলে কি করবি এই কেসটায়”?

    রাজু বলল, “দ্যাখো সুকান্তদা – মুকুল আফটার অল আমাদের গ্রামের ছেলে – ওর দিকটা তো দেখতে হবে। ওদের বাড়ি গিয়ে হালকা ভয় দেখাতে হবে এই বলে বৌমাকে যে বেশী বাড়াবাড়ি করলে বাপের বাড়িতে বসিয়ে দিয়ে আসা হবে। আর মুকুলকে বলব যে – তুই বৌমার খেয়াল রাখবি – কোথায় বেড়াতে যেতে চায় নিয়ে যাবি”।

    কিছুদিন পরে নিমো যাব আবার – মুকুলের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে নাকি আপডেট দেব ফিরে এসে!
  • ন্যাড়া | 1278.202.5634.85 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২১:২১381934
  • ছুটি-টুটি ম্যানেজ করে এখনই একবার নিমো ঘুরে এস। খুব চিন্তায় আছি।
  • র২হ | 342323.176.011212.241 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২২:৩২381935
  • আমার ধারনা ছিল চড়াম অনুব্রত’র কয়েনেজ, আসলে দেখছি প্রচলিত বাগধারা।

    আর অন্ডকোষের সেন্টি দিয়ে মুকুলবাবুকে ফিরে পাওয়া যায়না? খুবই ভ্যালিড পয়েন্ট তো। যাই হোক উদ্বেগে রইলাম।
  • amit | 340123.0.34.2 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৫:৪৭381936
  • এই মুকুলের বাপটা কি পাষণ্ড মাইরি, নিজের বংশধরকে এরকম বাঁশ দিতে দুবার ভাবলো না ?

    তবে প্রেমালাপটা সলিড। কাজের ছেলে একদম, বেকার না হেজিয়ে একদম পয়েন্ট বাই পয়েন্ট।
  • b | 4512.139.6790012.6 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৬:৪৬381937
  • অহে সুকি, তোমরা অন্ডকোষ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করতে? বিশ্বাস করতে বলো?
  • সুকি | 90045.205.012323.46 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৭:০৬381938
  • অন্ডকোষ অবশ্যই ব্যবহার করতাম না। হাতুরে ডাক্তার কেজা গ্রামের মানু-কে দেখাতে গেলে সে তো অন্ডকোষ কি জিনিস বুঝতেই পারল না! বীচি-ই বলা হত। লেখাটা ফেসবুকে দিয়েছিলাম বলে এই পরিবর্তন
  • সুকি | 90045.205.012323.46 | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২০:৩৬381939
  • নষ্টালজিয়া এক অসুখের নাম – আর আমি সেই ফাঁদে বার বার পা দিই, যেমন আগের দিন কবি অরুণ ষোষের লেখা ‘শুয়োর’- সিরিজের কবিতাগুলি পড়তে গিয়ে দিলাম। সে দিন সকাল বেলা বিশেষ কোন কাজ না থাকায় কি মনে করে পুরানো ফাইল পত্র ঘাঁটে গিয়ে অরুণ-দার কবিতার খাতাটা পেয়ে গেলাম। পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে ১৭ নম্বর কবিতাটি দিয়েই শুরু করলামঃ

    শুয়োর – ১৭
    --------------------
    এখনও শুয়োরের বাচ্চারা জন্মায়
    বহুত পয়সা কামায়
    টাকা থাকলেই শুয়োর হয় না
    আবার শুয়োর পুষলেই টাকা হয় না
    শুয়োরের বাচ্ছা
    দিল কি তোদের সাচ্চা?
    লোকের পিছনে কাঠি করে
    সারে জাঁহা সে আচ্ছা ।।

    কবি অরুণ ঘোষ মানে আমাদের নিমোর অরুণ – ভারত সেবক সমাজের প্রিয় অরু-দা! অরুন-দা হল গিয়ে আমাদের নিমো গ্রামের বাল্মীকি – আদিকবি। অনেকে ফেসবুকে আমার লেখা পড়ে ভাবতে পারেন যে, আমি হয়ত নিমো গ্রামের লেখা লিখির জগতে কেউকাটা ছিলাম – ফার ফ্রম ইট! পড়াশুনার সাথে যে আমার কোন সম্পর্ক থাকতে পারে, মায় সাহিত্য ইত্যাদি নিয়ে, তাই আমাদের গ্রামের অনেকের কাছে কল্পনাতীত ছিল। বুদ্ধিমান পাঠক প্রশ্ন করতে পারে – ভাই, অরুণের কবিতার খাতা তোমার কাছে এল কি করে? এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হল – আরো বাকি অনেক কিছুর মত আমি নিজের বাঁশ নিজেই টেনে এনেছিলাম। ঘটনা খুলে বলতে গেলে বেশ জটিল।
    মেমারী স্টেশনের ডাউন প্লাটফর্মের ছাউনির তলায় বহুদিন যাবত এক হাতে লেখা দেওয়াল পত্রিকা বেরোত – যার নাম ছিল “কলমের মুখ”। আমাদের বন্ধু বাচ্চুর দাদা চালাত মূলত সেই পত্রিকা – রফিকদাই সম্পাদক, অবসর সময়ের ‘পাদুকালয়’ জুতোর দোকানের মালিক। জুতোর ব্যবসা বলতে গেলে সিজিন ব্যবসা গ্রামের দিকে। তাই পুজোর এবং বর্ষার সময় সেই হাতে লেখা দেওয়াল পত্রিকা অনিয়মিত হয়ে যেত, কারণ সম্পাদক স্যানডাক ও অজন্তা বিক্রি করে হাঁপাত। বছরের বাকি সময় রফিকদা কলমের মুখ নিয়ে ব্যস্ত, আগুন ঝরে পড়ত লেখাতে। এই আগুন ঝরা বক্তব্য আমার নয় – বাচ্চুই একদিন বলল যে দাদার লেখা নাকি ফুলকি ছোটাচ্ছে। মনে রাখবেন মেমারী সেই সময় সি পি এম পার্টির প্রাণকেন্দ্র – বুদ্ধদের কাছে বোধিগয়া যেমন।

    লাইফে যেমন চিরকাল নিজের পায়েই নিজে কুড়ুল মেরে এসেছি – সেই দিনও আবার একবার মারলাম। বাচ্চুর মুখে তার দাদার কথা শুনে কি মনে করে বলে ফেললাম, “বাচ্চু, তোর দাদাকে বলে দ্যাখ না, যদি আমার একটা কবিতা ছাপতে রাজী হয়! আমি পুরো তুবড়ী ছুটিয়ে লিখেছি”। বাচ্চুর সাথে কবিতার সম্পর্ক ততটাই যতটা হল ওয়াটার পোলোর সাথে এমনি পোলো খেলার। বাচ্চু বলল, “দে তাহলে তোর লেখা যেটা কড়া আগুন ঝড়ানো কবিতা আছে”। আমি খাতা খুলে ভাবতে বসলাম যে কোন কবিতা দেওয়া যায় যাতে সম্পাদক ঝট করে ঘায়েল হইয়ে যায়। বেছে দিলাম সেই কবিতা যার শুরু হচ্ছে এইভাবে,

    “ছুঁড়ে দেব তোর কলমের মুখে একদলা থুতু
    মাঠ থেকে ধান ওঠার পরই না হয়
    কবিতা করিস আবার
    এখন গিয়ে গরুর গাড়ির চাকাটা ঠ্যাল!”

    জমি থেকে ধান তুলতে গিয়ে গরুর গাড়ির চাকা বসে গ্যাছে নরম মাটিতে কিন্তু আসে পাশে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না ঠেলার জন্য – সেই ফ্রাশটেশন থেকেই এই আগুন কবিতার জন্ম। মনে হয় রফিক-দা রিলেট করতে পেরেছিল – এই কবিতা ছাপা হয়ে গেল পরের মাসের দেওয়াল পত্রিকায়! ব্যাস আমার শান্তির শেষ। নিমো গ্রামের দু-একজন জানতে পেরে গেল আমি নাকি কবিতা লিখি! হ্যাটা করা শুরু করে দিল – কিন্তু তার মাঝেই আরো বেশী প্রবলেমে পরে গেলাম অরুণ-দা আমার লেখা কবিতা দেখে ফেলায়! কারণ অরুণ-দা তখন নিমো গ্রামের ভিতর মধ্যে তার কবিতার খাতার উত্তরাধিকারী খুঁজে বেড়াচ্ছে পাগলের মত। সেই খাতা যার মধ্যে পুরো ‘শুয়োর’ সিরিজের কবিতাগুলি লেখা আছে!

    অরুণ এবং তার ভাই বরুণ বার্ণপুর ইস্পাত কারখানা থেকে একদিন ফিরে এল গ্রামে – কেন ঠিক জানি না। লোকে শহর থেকে গ্রামে ফিরে পয়সা এবং শরীরে চর্বি নিয়ে। এই দুই ভাই ফিরে এল – গাঁজার নেশা এবং ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে। অরুণ-দার সাথে বাড়তি ছিল কবিতার খাতা। আবার পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে চলে গেলাম সেই ২২ নম্বর কবিতায়ঃ

    শুয়োর – ২২
    ------------------
    সভায় আগত সব শুয়োরের দল
    করে কলবল
    আর ভেউ ভেউ
    যেন বাঘের পিছনে ফেউ
    কে করেছে রে তোদের পয়দা?
    আটা ছেড়ে খাস ময়দা
    ময়দার লুচি হয় আটার রুটি
    কোরো না ভ্রুকুটি
    সামনের সারি
    শুয়োরের দলও মারে ঝারি
    কি যুগ এল মাইরি!

    আমার মনে পড়ে গেল এই কবিতা অরুণদা পাঠ করেছিল নিমো সাহিত্য সভায়। আমাদের নিমো বারোয়ারী তলায় প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সপ্তমীর দিনে বিকেলে হত এক ‘সাহিত্য সভা’। সে সভাতে আশে পাশের গ্রামের সাহিত্য মোদী পাবলিক, উঠতি কবি, এবং স্কুল মাষ্টারেরা আসত। নিমোতে এটা শুরু করেছিল সামাদ সাহেব। সামাদ সাহেবের গল্প অন্য একদিন করব, তবে সেই সাহিত্য সভা ঠিক ৬০ বছর চলার পর গত কয়েক বছর হল থেকে যায়। সামাদ সাহেব এবং তার পরে শচীন মাষ্টার এই দুই প্রধান উদ্যোক্তার মৃত্যুই এর প্রধান কারণ।

    নিমোর পার্টিসিপেশনের মধ্যে ছিল সঞ্চালক অরুণ-দা, সামনের সারিতে জেলেদের তপি, মহাদেব পাইন, খ্যাপা গোপলা, পান গিন্নি, ডাক্তারদের কেনো এবং তদসহ আরো অনেক বড়, মেজ, ছোট পাবলিক। আমার কোন সাহিত্য সংযোগ ছিল না এই সভার সাথে – আমি কেবল চা বিলি করেই আমার কর্তব্য সীমাবদ্ধ রাখতাম। একবার দেখলাম বর্ধমান থেকে কোন এক পত্রিকার সম্পাদক-কে ডেকে আনা হয়েছে। তিনি ঠিক কি বললেন আমি বুঝতে পারলাম না – বারোয়ারী তলার সামনের কেয়া-ভাইঝি দের বাড়ি চা-টা গরম করে আনতে গেলাম, ভিতরে ঢুকে শুনি সাহিত্য সভা থেকে আওয়াজ আসছে “ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও – চলবে না, চলবে না” ইত্যাদি। এই সব আওয়াজ সি পি এম আমলে আমাদের গ্রামে নিত্য ঘটনা হলেও, আগে কোন দিন সাহিত্য সভায় এমন আওয়াজ শুনি নি! চা গরম না করেই ছুটে গিয়ে দেখি, সেই বর্ধমানের পত্রিকা সম্পাদক জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিচ্ছেন কিভাবে কলকাতার সাহিত্যিকেরা জেলার সাহিত্যিকদের বঞ্চিত করে রেখেছেন। কলকাতার কালো হাত নিয়ে কিছু করার দাবী জানিয়েছেন – এবং ততখনাত নিমো পাবলিকের কমন সাবজেক্ট পেয়ে ‘কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও বলে চিৎকার করতে শুরু করে দিয়েছে!

    আরো নষ্টালজিক হয়ে পড়ালাম এটা মনে পড়ায় যে, এই সাহিত্য সভায় চাঁদা তুলতে গিয়েই ‘ঘোড়ার বাঁড়া’-র সাথে পরিচয়। নিমো প্রাইমারী ইস্কুলের পাশের খোকা-কার বাড়িতে যখন চাঁদা তুলতে পৌছালাম তখন বাইরের দুয়ারে বসে খোকার ভাই বুড়ো দাড়ি কামাচ্ছিল। আমার সাথে ছিল ময়রাদের চাঁদু। গিয়ে বললাম, “ও কাকা, চাঁদাটা দাও”। বুড়ো অবাক হয়ে জানতে চাইল, কিসের চাঁদা! সাহিত্য সভার চাঁদা চাইতে এসেছি জানতে পারার পর বুড়োকা বলল, “কি হবে সাহিত্য করে”? বলাই বাহুল্য এ উত্তর আমাদের জানা ছিল না – যেমন জানা ছিল না ‘লোকহিত’ নামক রবি ঠাকুরের প্রবন্ধও আমাদের পড়ে কি হয়। আমরা বললাম, “কাকা ওত জানি না, তুমি চাঁদাটা ছাড়ো না, আমরা অন্য বাড়ি যাই”। আমাদের তাড়া শুনে সাহিত্য করে কি হবে তার জবাবটা বুড়োকা নিজেই দিয়ে দিল, “সাহিত্য করে ঘোড়ার বাঁড়া হবে”। চাঁদা পাব না বুঝে গিয়ে ফেরার সময় চাঁদু-দা কে জিজ্ঞেস করলাম, “তুমি দেখেছ ঘোড়ার বাঁড়া”? তার মেজার খিঁচড়ে ছিল – “নিমোতে ঘোড়া আছে যে দেখব”?

    অরুণদা কংগ্রেস করত – তাই তার কবিতাতে সি পি এমের কথাও এসেছেঃ

    শুয়োর – ২৫
    ----------------------------
    এসো শুয়োরের দল হাত ধরাধরি করে বলি
    ভালোবাসি ভালোবাসি
    তুমি তো খেতে ভালোবাস খাসি
    খিল খিল হাসি
    আবার নির্জনে বলি
    আনারকলি আনারকলি
    এমন দিন আয়েগা
    দলে দলে শুয়োরভি গায়েগা
    সা রে গা মা নি
    তদপরে সিপিএম-র উদুম ক্যালানি।

    সেই সি পি এমের সময়ে গ্রামের রাস্তা অত্যন্ত জঘন্য ছিল – সেই নিয়েও আক্ষেপ রয়ে গ্যাছে অরুণদার কবিতায় –

    শুয়োর – ৩৩
    --------------------------
    শুয়োরের দল রাস্তাটা দিল না করে
    রাস্তারই পাশে, নিদারুণ সুবাসে
    ছড়নো গু তোরা খা প্রাণ ভরে
    আমি চিৎকার করে বলি
    আনমনে চলি
    লেকিন কিঁউ লেকিন কিঁউ
    কি বাজে ভিউ, কি বাজে ভিউ
    ওরে শুয়োর, এই ভাবে কি পাওয়া যায় ভোট
    যে যা পারিস লোট
    তোদের যতই শেখাই, চামড়ায় তেল মাখাই
    আদপে শুয়োরই তো
    তেমনি হাগো মোতো।

    এই ভাবেই কুমুদরঞ্জন, জসিমুদ্দীন নয় – আমাদের গ্রামের সময়ের দলিল হয়ে আছে এই ‘শুয়োর’ সিরিজের কবিতা।
  • dd | 90045.207.5656.182 | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৮:৫১381940
  • অরুণবাবুর কিছু কবিতা তো আমার সংগ্রহেও আছে,

    ঘোঁত ঘোঁত ঘোঁত ঘতাস
    ধামসা শুয়োর নাক ঝাড়ে না
    আমি বড়োই হতাশ।

    এম্নি গরম, চরম গরম
    মারছে ছ্যাঁকা কাঠের খড়ম
    শুয়োরদের তো ভ্রুক্ষেপও নেই
    গিলছে লুএর বাতাস

    কিংবা যখন শীতের রাতে
    মাদুর পেতে শুইছি ছাতে
    শিশির মাখা হিমেল বাতাস
    হচ্ছে হাড়গুলো সব হিমও

    তখনো সেই শুয়োর গুলো
    মাখছে কাদা মাখছে ধুলো
    এমনি গেরাম নিমো।।

    আপনেরা তো সবাই বুঝতেই পারলেন ইটি আদতে শুয়োর বিষয়ক পদ্য নয়। ইটি সাক্ষাত গ্লোবাল ওয়ার্মিং বিষয়ে এক প্রকৃতি সচতেন কবির নির্নিমেষ আকুতি ও হেঁচকি।
  • সুকি | 7845.15.788912.51 | ১১ মার্চ ২০১৯ ১৪:০৫381941
  • ১২ই ফেব্রুয়ারী নাগাদ HDFC ব্যাঙ্ক যা দাগা দিল আমায়, এমন যাতনা, বেদনা, দুঃখ আমায় বহু দিন কেউ দেয়নি! ঠিকানা পরিবর্তন করার জন্য আমি কাগজ পত্র সব ব্যাঙ্কে জমা দিয়ে এলাম – ওদের সিষ্টেমে এবার আমার নিমো গ্রামের ঠিকানা থাকবে। বাড়ি ফিরে আসার পর বিশাল এক কাজ করে এসেছি ভেবে খেয়ে দেয়ে একটু ন্যাপ নিতে গেছি, ওমা দেখি ব্যাঙ্কের ম্যানেজার ফোন করেছে। জিজ্ঞেস করে কি, “আচ্ছা, আপনার নিমো-র বাড়ির ঠিকানাটায় ‘ল্যান্ডমার্ক’ কি লিখব ?”

    আমি বাকরুদ্ধ! নিমো গ্রামে ঢুকে সুকান্ত ঘোষের বাড়ি যাব, এটা সাফিসিয়েন্ট না? আমার বাড়ি বোঝাতে ‘ল্যান্ডমার্ক’ লাগবে? আমার কাছ থেকে এটুকুও তুমি কেড়ে নিলে! এই গরীবের আর বিশেষ কিছু ছিল না, গ্রামে এক ডাকে সবাই চেনে এই প্রাইড ছাড়া। অবশ্য এই একডাকে সবাই চেনে ব্যাপারটা নিমোতে শুধু আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এমন নয় – ভেলু বাপন, তবলা, পালেদের গণশা জ্যাঠা, মোটা শৈলেন, সুমন কুমার সহ আমরা প্রায় সবাই নিজেরা নিজেদের ল্যান্ডমার্ক! আমি এই কথোপকথন ভাবছিঃ

    - দিদি, সুকান্ত ঘোষের বাড়ি যাব – কোনদিকে বলতে পারেন?

    জেলেদের জয়ন্তী ঘুঁটে দিতে গিয়ে থেমে গিয়ে প্রশ্নকর্তাকে জিঞ্জেস করছে

    - কোন সুকান্ত ঘোষ? ‘ল্যান্ডমার্ক’ জানা আছে বাড়ির?

    এটা ভেবে আমার ঘুম এল না দুপুরে – খুব মন খারাপ করে শুয়ে রইলাম। চিরকাল চিঠি এসেছে, “সুকান্ত ঘোষ, নিমো, বর্ধমান, ওয়েষ্ট বেংগল” এই ঠিকানায়। সেই বিশে হালদার পোষ্টমাষ্টার – মিতা ময়রার চিঠি বিলি – আর গোষ্ট হালদারের ডাক নিয়ে আসা কম্বিনেশন থেকে ইদানিং সৃষ্টির পোষ্টমাষ্টার বউ আর সৃষ্টির নিজের চিঠি বিলি করা – এর কোন কিছুর মাঝেই তো ‘ল্যান্ডমার্ক’ আসে নি!

    সুকান্ত ঘোষের চিঠি আসবে নিমো গ্রামে আর তাতে ‘ল্যান্ডমার্ক’ লেখা! এমন দিনও দেখতে হল প্রভু!
  • সুকি | 7845.15.788912.51 | ১১ মার্চ ২০১৯ ১৪:০৮381942
  • ১২ই ফেব্রুয়ারী পর থেকে আমি আশঙ্কা করে যাচ্ছিলাম যে একটা ডিজাষ্টার হতে যাচ্ছে – মানে যখন ওই HDFC ব্যাঙ্কের ম্যানেজার বাই ফোর্স আমার নিমোর ঠিকানায় ‘ল্যান্ডমার্ক’ উল্লেখ করতে বলে।

    বলাই বাহুল্য আমার আশঙ্কা সত্য প্রমাণিত হল এই ৬ই মার্চ। চাপাচাপিতে পরে আমাকে ল্যান্ডমার্ক হিসাবে উল্লেখ করতে হয়েছিল ‘বারোয়ারী’ তলা।

    সেই মুহুর্তে আমি লণ্ডনে – ইম্পিরিয়াল কলেজে একটা মিটিং করছি হঠাৎ করে ফোন বেজে উঠল। একটা বিশেষ কারণে ফোন সচল রাখতে হয়েছিল – আমি ভাবলাম সেই কারণেই হয়ত ফোনটি এসেছে। মিটিং ছেড়ে বেরিয়ে এলাম কল রিসিভ করব বলে – হাই হ্যালো কিছু নেই, ডাইরেক্ট প্রশ্ন –

    - নিমো বারোয়ারী তলা কি ডান দিকে নাকি বাঁ-দিকে পড়বে?

    আমি ভাবলাম স্প্যাম কল – কেটে দিতে যাচ্ছি, তারপর ভাবলাম, ওয়েট! স্প্যাম কলে তো কার লোন বা ক্রেডিট কার্ড নেবার কথা জিজ্ঞেস করে। নিমো বারোয়ারী তলা নিয়ে তো স্ক্যাম কোনদিন শুনি নি!

    - হ্যালো, আপনি কে বলছেন?

    - বলছি দাদা HDFC ব্যাঙ্ক থেকে চিঠি তো চলে এসেছে

    এমন ভাবে বলল যে মনে হচ্ছে ব্যাঙ্ক থেকে আমার চাকুরীর খবর এনেছে! আমার মাথায় ফ্ল্যাশ ব্যাক খেলে গেল – কারণ আমার মাথাতেই ছিল যে ‘ল্যান্ডমার্ক’ নিয়ে কেউ না কেউ একটা কেলো করবে। এই ব্লু-ডার্টের ছেলে নিমো এসে এবার ল্যান্ডমার্ক খুঁজছে।

    - আরে সামনের কাউকে জিজ্ঞেস করো না সুকান্তর বাড়ি যাব – দেখিয়ে দেবে।

    ফোন কেটে দিলাম – মিটিং-য়ের মধ্যে আর বেশী কথা বলে কি হবে। মিটিং এ গিয়ে এদিকে মন বসছে না! যদি ডেলিভারী না দিয়ে চলে যায়! ওদের তো লিখে দিতে পারলেই হল ‘আন-ডেলিভারড’ – তার পরের হ্যাপা তো আমাকে পোয়াতে হবে!

    আবার ফোন – ব্লু-ডার্টের আমার কথা বিশ্বাস হয় নি! এদিকে আমার বেশী কথা বলতেও মন চাইছে না – ইনকামিং কল তো আর পুরোপুরী ফ্রী নয়! কিন্তু দায়ে পরে বলতে হল

    - বাঁদিকে যাব নাকি ডান দিকে?
    - বাঁ দিকে
    - ডান দিকে নয়?
    - ভাই, তুমি কোন দিকে মুখ করে আছে – মেমারী নাকি রসুলপুর?
    - মেমারীর দিকে
    - তাহলে ডান দিকে যাও

    ফোন রেখে দিলাম – এবং বুঝে নিলাম যে এ ছেলে ‘ল্যান্ডমার্ক’ ট্র্যাক করেই ছাড়বে। খানিক পরে যথারীতি –

    - নিমো বারোয়ারী তলা এসে গেছি – আপনি এসে নিয়ে যান চিঠিটা, এখানে দাঁড়িয়ে আছি
    - ভাই ইম্পিরিয়ালে আছি মিটিং-এ তো
    - আরে তাতে কি হয়েছে! টুক করে মিটিং থেকে বেরিয়ে চিঠি নিয়ে আবার ঢুকে পড়বেন! আর হ্যাঁ আই ডি কার্ড আনবেন কিন্তু।

    আমি বুঝলুম যে আমার মাথা খারাপ হয়ে গ্যাছে – ভুল জায়গায় মুখ খুলে ফেলেছি। বললাম

    - বাড়িতে মা আছে একটু গিয়ে দিয়ে এসো না ভাই আমার। আশেপাশে কাউকে সুকান্তর বাড়ি বললেই দেখিয়ে দেবে
    - ঠিক আছে আমি বাড়িতে দিয়ে আসছি – আপনি বলুন ল্যান্ডমার্ক থেকে কি করে আপনার বাড়ি যাব

    বারবার ‘ল্যান্ডমার্ক’ শুনে আমার মাথা গেল খারাপ হয়ে। ইম্পিরিয়াল কলেজের ‘রয়েল স্কুল অব মাইনস’-এর করিডোরে হেনরী বিসিমার এর আবক্ষ মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আমি প্রায় চিৎকার করে ব্লু-ডার্টকে ডাইরেকশন দিতে লাগলাম আমার বাড়ি যাবার

    - বারোয়ারী তলা থেকে দক্ষিণ দিকে তাকালে দেখবে মোড়লদের রঞ্জুর একটা কালো রঙের বাইক দাঁড় করানো আছে ওর বাড়ির সামনে – নতুন কিনেছে এল আই সি তে ভালো মাল কামিয়ে। সেই বাইক ছেড়ে প্রায় পনেরো মিটার এগিয়ে গেলে তুমি পাবে গিয়ে ডান হাতে ডাক্তারদের গাব গাছ। তোমার লাক ভালো হলে বাঁদিকে দেখবে নিতাই-য়ের গরু বাঁধা আছে পচা-গেড়ে পুকুরের পাড়ে। আরো দশ মিটার এগিয়ে গেলেই বাঁদিকে দেখবে সৈকতদের বাড়ি – সেই বাড়ির সামনে সৈকতের বাবাকে খড় কাটতে দেখার প্রবল সম্ভাবনা। সেটা ছাড়িয়ে ডানদিকে গণশা পালের গোয়াল। সেই গোয়ালের পাশে দিয়ে রাস্তাটা হালকা পুব দিকে বেঁকে গ্যাছে। রাস্তা হালকা ঘুরেই দেখবে সেটা প্রায় খানিক গিয়ে ধাক্কা খাচ্ছে কার্তিক হাজরার দুয়ারে। ওখান থেকে রাস্তা আবার আমাদের খামারের দিকে বেঁকে গ্যাছে। তবে অতটা যেতে হবে না – তার আগেই বিশ্বেসদের খেঁদির বাড়ি – আগে ওর বাড়ি মাটির ছিল, ইদানিং পাকা বাড়ি হয়েছে, তবে মাঝে মাঝে মনে হয় পাকা বাড়ির দেওয়ালেও মনে হয় খেঁদি ঘুঁটে দেয়। ওই খেঁদি আর পালেদের ভাদুর বাড়ির মাঝ দিয়ে যে সরু রাস্তাটা পাবে সেখান দিয়ে গেলেই

    আমাকে আর কথা বলতে দিল না – ব্লু-ডার্টের ছেলে নিজেই এবার ফোন কেটে দিল। টেনশনে আছি – কি জানি আমার বাড়ি শেষ পর্যন্ত সে খুঁজে পেয়েছিল কিনা!
  • | 3490012.113.8945.7 | ১১ মার্চ ২০১৯ ১৫:১৩381944
  • ওরে বাবারে মারে সেজপিসীমা রে ফুলকাকা রে :-)))) আমি মিটিঙে মিউট করে হা হা করে হাসছি। পাশের ডেস্কের সহকর্মীও বধ্য হয়ে মিউট করে জিগ্যেস করছে "আররে কেয়া হুয়া? পগল হো গৈ কেয়া?"
    :-))))
  • pi | 2345.110.894512.212 | ১২ মার্চ ২০১৯ ২০:২৫381945
  • কী ভাগ্যে অফিসে পড়িনি!! :D :D
  • পারমিতা দাস | 892312.221.452323.207 | ১৪ মার্চ ২০১৯ ০৮:২৭381946
  • ফাইন্ডিং নিমো এন্ড লাভিং ইট।
  • শঙ্খ | 2345.110.015612.42 | ১৪ মার্চ ২০১৯ ১২:৩৮381947
  • সুকি | 348912.82.1223.58 | ২০ মার্চ ২০১৯ ২০:২৯381948
  • পচা মোড়লের নাতি আলম হল গিয়ে আমার সেই ছোট বেলার জিগড়ি দোস্ত। আমার বাবার ধারণা ছিল এই যে আলমের সাথে নিমো শিবতলায় গুলি বা ভ্যাঁটা খেলে খেলেই আমার পড়াশুনা সংক্রান্ত অধ:পতনের শুরু এবং ফলতঃ একটা সময়ের পর বাবার হাল ছেড়ে দেওয়া। মাধ্যমিক পরীক্ষার পর বাপ একটা চক্রান্ত টাইপের করেছিল আমাকে রামকৃষ্ণ মিশন নাকি ওই জাতীয় ইস্কুলে হোষ্টেলে পাঠাবে! সে এক অসহযোগ আন্দোলন – নিমো গ্রামের পীড়িতি, ক্রিকেট, ভ্যাঁটা খেলা, স্টেশনের আড্ডা, নিমো ভারত সেবক সমাজ, মোড়লদের খামার এই সব ছেড়ে রামকৃষ্ণ মিশনে পড়তে যাবার মূর্খতা কি করে আমি করতে পারি বাপ কি করে ভেবেছিল কে জানে!

    যাই হোক – আলম ছিল আমাদের নানা বিষয়ের গাইড। ক্রিকেট নিয়ে গল্পে আলমের কেস কিছু লিখেছি। খেলা ছাড়াও লটারী এবং জুয়াতেও সেই ছিল আমাদের কান্ডারী। কিছু দিন গ্যাপের পর দেখা হয়ে গেলেই আজকাল দেখছি আলম ‘তুমি’ করে বলতে শুরু করে এবং তার সাথে ‘তুই’ মিশিয়ে ফেলছে। এই সপ্তাহ কয়েক আগে, নিমো গেছি খুব কম সময়ের জন্য – রাস্তায় আলমের সাথে দেখা – রশিদের জমিতে চারটে ছাগল বাঁধতে যাচ্ছে। আমি বললাম,

    - কি রে কি খবর?

    - আরে তুমি কবে এলে? খবর আর কি, জানিস আমি তো মরে যাচ্ছিলুম আর একটু হলে পরে। শালার ডাক্তার আমাকে প্রায় মেরে ফেলেছিল!

    কি কেস জানতে চেয়ে বুঝতে পারলাম, আলমের পেটে বেশ কিছুদিন ধরে ব্যাথা হচ্ছে। ব্যাথা আগেও হত – সেই জন্য কিছু দিন হল মদ খাওয়া একটু কমিয়েছে, যদিও দাবী করে একদম খায় না। মেমারীতে এক ডাক্তার নাকি দেখে বলেছে আলমের পেটে জল জমেছে। সেই জল বের না করলে নাকি যন্ত্রণা কমবে না। তো সেই ডাক্তার শিয়ালদহের কাছে ডঃ মাসুদ না কি নাম, তার কাছে রেফার করে। আলমে যেটা বলল, সেই ডাক্তারের কাছে দেখাতে গিয়েছিল ‘প্লেট’ করে নিয়ে! এবার প্লেট মানে আল্ট্রাসাউন্ড নাকি এক্স-রে তা সে বলতে পারল না। মাসুদ দেখে বলে, বেশী কিছু চিন্তা নেই – পেটে জল জমেছে দেখা যাচ্ছে। হালকা আপারেশন করেই জল বের করে দেবে – পুরো অজ্ঞান করারো দরকার নেই। খানিকটা অবশ করেই কাজ হাসিল।

    এই পর্যন্ত শুনে আমি বললাম,

    - ভালোই তো – তাহলে প্রবলেম হল কোথা থেকে?

    - আরে বাঁড়া শোন না। আপারেশন করাতে তো গেছি – পেটে ফুটো করে আঙুল ঢুকিয়ে বোকাচোদা মাসুদ জল খুঁজছে। আমি বলছি, ডাক্তার বাবু লাগছে কিন্তু। শালা বলেই যাচ্ছে, “আরে এই খানেই তো জল দেখলুম জমে রয়েছে। আর একটু খুঁজলেই পেয়ে যাব!” এই করে করে আমি ককিয়ে উঠছি – শেষে না পেরে আমি ঝেড়ে মেরে উঠে পড়ে পালিয়ে এলুম পেটে হাত চাপা দিয়ে। তুই বললে বিশ্বাস করবি না সুকান – বালের ডাক্তার প্লেট উলটো করে দেখেছে। আমার জল জমেছে ডান দিকে, সে খুঁজছিল বামদিকে।

    - তা তুই কি করে জানলি জল কোনদিকে জমেছে?

    - সেই তো মাসুদের নার্সিং হোম থেকে, আমি ছেলেকে বলনু, ব্যাঙ্গালোরে আমাকে নিয়ে না গেলে বাঁচব না। তৎকালে টিকিট পেলাম না। শেষে পেটে বালিশ চাপা দিয়ে প্লেনে করে ব্যাঙ্গালোরে গেনু বুঝলি। ওখানের ডাক্তার দেখেই তো বলল, তোমারে পেটে উলটো সাইডে ফুটো করে দিয়েছে কলাকাতায়। কলকাতায় বাঁড়া মানুষ যায় ডাক্তার দেখাতে! এর থেকে আমাদের কেজার মানু ডাক্তার অনেক ভালো।

    আলমের দাদু পচা মোড়ল ছিল গিয়ে আমাদের গ্রামে চাল পোড়া, হাঁড়ি চালা, জল পোড়া, বাণ মারা – এই সব ব্যাপারে সাবজেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট। আমরা জোর জবরদস্তি করে আলমকে ওর দাদুর কাছ থেকে ক্রিকেট ম্যাচে টসে জেতার ডার্ক আর্টটা শিখে নিতে চাপ দিয়েছিলাম। আলম আমাদের নন-প্লেয়িং ক্যাপ্টেন ছিল না ঠিকই – কিন্তু আমাদের হয়ে টস করতে ওই যেত। কেন না পচা মোড়লের নাতি আলম যে টসে জিতবে প্রতিবার এমনি আমাদের বিশ্বাস ছিল

    শীতকালে আলমের ফুলটাইম জব ছিল ক্রিকেট কর্মকর্তা, গ্রীষ্মের সময় তখনও ফুটবল খেলা হত, ফলতঃ ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত, বর্ষা আর শরতের মাঝের সময়টায় সে ব্যস্ত থাকত মাছ ধরা নিয়ে – আর বছরের বাকি সময়টায় সে বড় ভাইয়ের আন্ডারে জামা কাপড়ের টেলারিং কাজ করত। এবং সমস্ত সময়েই আলমের কনস্ট্যান্ট সাথী ছিল লটারী এবং জুয়া। তবে সেই লটারী এবং জুয়া খেলার গল্প অন্য সময়। ওই বিষয় গুলি জটিল, অনেক গবেষণা এবং অনেক উত্থান-পতন তার মধ্যে জড়িয়ে আছে।

    পচা মোড়ল জীন, পরী, আধিভৌতিক ব্যাপার নিয়ে কারবার করত বলে ওদের বাড়িতে একটা ছমছমে ব্যাপার ছিল। এবং সেই জন্যই মনে হয় বাকি অনেক বিষয়ে ডাকাবুকো হলেও আলমের ভূতের ভয় ছিল প্রচুর। তেমনি এক ঘটনা দিয়ে এখনকার মত আলম কাহিনী শেষ করব। আলমের কাকা নাকি কোন সময় বাড়িতে ইলেক্ট্রিকে হুকিং করত। তখনকার দিনে গ্রামে গঞ্জে বেআইনী হুকিং বেশ চলত এবং তাই মেমারী ইলেকট্রিক অফিস থেকে মাঝে মাঝে গাড়ি নিয়ে লোক আসত ধরপাকড় করতে। একদিন ভোররাতে আলমদের বাড়ির সামনে দুটো হেডলাইট জ্বালিয়ে একটা গাড়ি দাঁড়াতে দ্যাখে আলমের মা। সেই সময় আলমের কাকা নাকি নাইট ডিউটিতে গিয়েছিল – চোরের মন বোঁচকার দিকে থাকার জন্য আলমের মা মনে করে ইলেক্ট্রিক অফিস থেকে গাড়ি নিয়ে ধড়তে এসেছে হুকিং পার্টিকে। আলমের মা গেল আলমকে ঘুম থেকে উঠাতে দরজায় কড়া নেড়ে – দরজায় কাছে গিয়ে ফিস ফিস করে বলল –

    - এ্যাই আলম, আলম

    বেশ কিছু ক্ষণ ডাকাডাকির পর আলমের ঘুম ভাঙে। কিন্তু সেই ফিস ফাস ডাক শুনে আলমের হয়ে গ্যাছে

    - কে, কে ডাকছে
    - কে কি রে? আমি তোর মা – দরজা খোল, জরুরী দরকার আছে

    আলমের হয়ে গ্যাছে ভয়ে – এই ভাবেই নাকি ভোর রাতে নিশি ডাকে গলা নকল করে। কিন্তু যাচাই না করে তো আর দরজা খোলা যায় না। তাই আলম জানতে চাইল

    - তুমি যদি আমার মা হও, তাহলে বলত মা আমি কি দিয়ে সন্ধ্যেবেলা ভাত খেয়েছিলাম?

    - রাতের বেলায় ফাজলামো হচ্ছে? ওই তো পুঁটি মাছ যেগুলো ধরে আনলি সেটা বাটি ভাজা করে দিলাম।

    আলমের ডাউট ক্লিয়ার হল – দরজা খোলার পর মা ওকে বলে চুপিচুপি বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এগিয়ে গিয়ে যেন ওর কাকা বাড়ি আসতে বারণ করে। কারণ বাড়ি এলেই পাকড়াবে।
    এর পরের কথা আলমের মুখে

    - জানিস বাঁড়া, বাড়ির সামনে দিয়ে তো বেরোতে পারছি না – গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে হেডলাইট জ্বেলে। তাই পাঁচিল ডিঙিয়ে ওই রাতে পুকুরের জল পেরিয়ে রাস্তার ওপারে কাকাকে খবর দিতে গেলাম। লুঙ্গিটা খুলে হাতে নিয়ে পুকুরটা হেঁটেই পেরিয়ে গেলাম – জল তো খুব বেশী ছিল না। ফেরার সময় ভাবলাম, সামনে দিয়েই ঢুকব বাড়িতে – যা হয় হবে। শালা বাড়ির সামনে এসে দেখি, কোথায় ইলেক্ট্রিক অফিসের গাড়ি! সন্তুদের পুকুরে মাছে ধরতে এসেছে ছোট হাতি নিয়ে – মাছ ধরে দূর্গাপুর নিয়ে যাবে! হেডলাইট দেখেই মা ভয় খেয়ে যায়।

    আলমের ভূতের ভয় এখনো আছে – পরের বারে লটারী আর জুয়ার গল্প।
  • গবু | 2345.110.674512.18 | ২০ মার্চ ২০১৯ ২১:৫০381949
  • উফফ, সব ভারী লেখার মাঝে একদম প্রানের আরাম! ন্যারাপোড়াতে যেমন হলো, দোলেও হবে কি?
  • সুকি | 2312.204.0123.253 | ০৭ এপ্রিল ২০১৯ ২১:৪২381950
  • পিওর চাষার ছেলে হিসাবে বিশাল কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই – আর বলতে কি, তেমন এলেমও নেই। ‘স্ট্যাটিসস্টিক্যালি স্পিকিং’ বলা ছাড়া স্ট্যাটিস্টিকস নিয়েও যেমন আমার কোন জ্ঞান নেই। আমার অবস্থা ভারতীয় ক্রীড়াবিদ-দের অলিম্পিকে অংশ গ্রহণের মত। এক্সপেটেশন এতই কম যে, যা করি তাতেই ওভার-অ্যাচিভ হয়ে যায়!

    সরকারী চাকুরী পাওয়া ছিল বেঞ্চ মার্ক – ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়ে সেই মার্ক আমি ক্রশ করে ফেলেছি, ধাতুবিদ্যা কি জিনিস তা দিয়ে বাপকে চিরকাল ধোঁয়াশায় রেখে। বাপকে একবার উদাহরণ দিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করেছিলাম, বললাম, “ধাতুবিদ্যা এক প্রাচীন ইঞ্জিনিয়ারিং – ওই যে দিল্লীর লৌহস্তম্ভ দ্যাখো, সেটা সেযুগের ধাতুবিদ ইঞ্জিনিয়াররা বানিয়েছিল”। বাপের পালটা প্রশ্ন এল, “তাহলে তোর আর কামারদের নেউল-এর মধ্যে পার্থক্য কি”। নেউল বাপের বাল্যবন্ধু – আমি চেপে গেলাম।

    বাপের অ্যাডভাইস ছিল, সৎপথে থাকার চেষ্টা করতে। সেই চেষ্টা মোটামুটি বজায় রাখতে পেরেছি জ্ঞানত। তবে বাপের ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইস থেকে একটু বিচ্যুত হয়েছি – তাই নিয়ে মাঝে মাঝে মরমে মরে থাকি। বাপ আমাকে বার বার বলেছিল, টাকা থাকবে চার জায়গায় ভাগ হয়ে, স্টেট ব্যাঙ্ক যার মধ্যে অন্যতম। প্রথম চাকুরী করতে গিয়ে এইচ ডি এফ সি ব্যাঙ্কে স্যালারী অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়েছিল – সেই নিয়ে বাপের যা চিন্তা ছিল, আলুর দাম নিয়েও বাপকে কোনদিন অত ভাবতে দেখি নি। ইদানিং আবার আই সি আই সি আই ব্যাঙ্কে একটা অ্যাকাউন্ট খুলেছি, আমার সেই অধঃপতন দেখা যাবার জন্য বাবা আজ আর বেঁচে নেই।

    তো এই ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে যখন মাঝে মাঝে যখন শুনি কোম্পানিতে ম্যানেজার বলে, “তোমার মধ্যে পোটেনশিয়াল আছে” – আমার খুব চাপ আসে। অনেক বাড়তি কথা ও পরিশ্রম করতে হয় এটা প্রমাণের জন্য যে আমার কিস্যু পোটেনশিয়াল নেই – ওটা তেনার ইল্যুউশন। কিন্তু ভবিতব্য কে খন্ডায়! আজকাল আমি ম্যানেজার টাইপের কিছু একটা হয়েছি।

    আমি ম্যানেজার হিসাবে প্রথম যেটা করলাম তা হল, একটা হোয়াটস -গ্রুপ খুললাম আমার আন্ডারে থাকার লোকজন নিয়ে। তার মধ্যে আবার এক অসমিয়া আছে, যে বাংলায় লেখা বই পড়ে! আমাকে বলে কি সে নাকি ফেলুদা সব বাংলায় পড়ে ফেলেছে! একদিন জানা গেল সে তরুণ ভাদুড়ীর লেখা ‘চম্বলের দস্যু’ও পড়ে ফেলেছে! সেটা জানার পর আমার কাছে টিম-মিটিং এবং ওই হোয়াটস্যাপ গ্রুপটার এক অর্থ এল। আগে গ্রুপে কি লিখব সেটাই বুঝতে পারতাম না! ‘ওয়েল ডান’ দু-একবার লিখলাম, পাবলিক ঘাবড়ে গিয়ে জানতে চাইল কিসের জন্য ‘ওয়েল ডান’ বলা হচ্ছে! আমি আবার চাপে পড়ে গেলাম, এমন প্রশ্ন আমি প্রত্যাশা করি নি। এখন মোটামুটি সামলে এনেছি – গ্রুপে দেদার নিজের লেখার লিঙ্কগুলি ফরোয়ার্ড করি এবং টিম মিটিং-য়ে এক নির্ধারিত সময় আমি ব্যোমকেশ নিয়ে ব্যায় করি। সেই আসামী-কে ফেলুদা থেকে উত্তীর্ণ করে ব্যোমেকেশে এনে ফেলাটা আমি ২০১৯ এর নিজের কর্পোরেট টার্গেটের এক্তিয়ারে ফেলেছি।

    মিটিং ছাড়া অনেকটা সময় আমি গুগুল সার্চ করে মেশিন আর ইন্সট্রুমেন্ট কিনি। এই সব বাদ দিয়ে যেটুকু সময় থাকে, তখন আমি ট্রেনিং করি, মানে যেগুলিতে আমাকে ট্রেনিং-য়ে ঠেলেঠুলে পাঠানো হয় আর কি। তো বাকি সব কিছু মোটামুটি চাষারে ব্যাখ্যায় এনে ফেলেও, কর্পোরেট ট্রেনিং নিয়ে আমি এখনো ধ্বন্ধে আছি। টেকনিক্যাল পার্ট তবুও ঠিক আছে, কিন্তু সো কলড ‘সফট স্কিল’ টেনিং গুলো আমাকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। আট-ভাঁট বকে বকে মাথা খারাপ করে দেয়। তিনটে ম্যানেজমেন্ট বই পড়া পাবলিকের কাছে ফিলোসফিক্যাল কথা বার্তা শোনা যে কি চাপের সে যারা শুনেছেন তারাই জানেন!

    এমন একটি ট্রেনিং-এ প্রথম শুনলাম ছবি এঁকে নাকি নিজের নাম-পরিচয় বোঝাতে হবে! ছবি আঁকতে হবে আমাকে! সেই আমাকে, যার ক্লাস এইটে বায়োলজি অ্যানুয়াল পরীক্ষায় ব্যাঙ আঁকা হলে, আনোয়ার স্যার ছুটে গিয়ে হেড স্যার-কে ডেকে আনলো। আমার আঁকা জিনিস্টা ব্যাঙ নাকি ঝোপের উপর থেকে চিতা বাঘ ঝাঁপ দেবার জন্য তৈরী হচ্ছে, সেই নিয়ে দুই স্যারের মধ্যে প্রবল আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল।

    ট্রেনিং-এর শুরু গুলি ক্রমশঃ ফালতু থেকে ফালতু তর হতে থাকল। এমনি একবার আমাদের জিজ্ঞেস করা হল – বিশাল চমকে দিয়েছে বা অবিশাস্য হয়েছে তোমার নিজের অভিজ্ঞতায় এমন এক ঘটনার উল্লেখ করতে। ট্রেনিং হচ্ছে ‘দি হ্যেগ’ শহরের থেকে কিছু দূরে ‘ডেলফট’ নামক যে আর এক শহর আছে তার পাশে আমাদের কোম্পানির ট্রেনিং সেন্টারে। পাবলিক কি সব একজাম্পেল দিচ্ছে – কেউ বলছে

    ১) সে নাকি পোলার বিয়ারকে সামনা সামনি পেচ্ছাপ করতে দেখেছে,

    ২) কেউ বলছে নরওয়ে নাকি ওদিকে ছেলে মেয়েদের চেঞ্জ রুম এক,

    ইত্যাদি ইত্যাদি।

    নানা দেশের পাবলিক, ভারত থেকে এসেছে এক সিনিয়ার এমপ্লয়ী – সারা জীবন ভারতীয় কোম্পানীতে কাজ করে এই শেষ বেলায় ঢুকেছেন মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানীতে। এই দুই-য়ের মিশ্রণ কি যে জটিল জিনিস, তা কেবল যাঁরা অনুভব করেছেন তারাই বলতে পারবেন। তবে সেই ভদ্রলোকের চমকে যাবার ঘটনা একমাত্র আমার রিয়্যালিটির কাছাকাছি এল – তিনি সরল মনে বললেন যে,

    “১৯৮৩ সালের ফাইন্যালটা যে আমরা জিতব এটাই আমার কাছে অবিশাস্য ছিল”!

    ট্রেনিং রুকে গেল – ১৯৮৩ সালে কি ফাইন্যাল সেটা বোঝাতে হল।
    আসতে আসতে আমার দিকে এগিয়ে আসছে বলার পালা – আমি কি বলব বুঝতে পারছি না। আমার জীবনে বিষ্মিত হবার মত ঘটনা খুব একটা ঘটে নি তখনও পর্যন্ত। মানে ওই যে এক লেখক বলেছিলেন না যে সবার মধ্যে বিষ্মিত হবার ক্ষমতা থাকে না। সেটা খুব সত্যি কথা এবং আমি যে কেন কিছুতেই বিষ্মিত হতে পারছি না, তাই নিয়ে দোলচালে ছিলাম। অনেক ভেবে আমি বললাম যে,

    “মেমারী থেকে যে কোনদিন সিপিএম চলে যাবে, এটা আমার কাছে অবিশাস্য ছিল”।

    আবার ট্রেনিং রুকে গেল – আপনারা এবার ভেবে নিন, ট্রেনিং এর ভিতর মেমারী, মমতা এই সব ঢুকে পড়লে কি হতে পারে!
  • সুকি | 2312.204.0123.253 | ০৭ এপ্রিল ২০১৯ ২১:৪২381951
  • নিমোর নাপিতদের বুড়ো তোয়ালে পরে কাজলের মত নাচটাই দিয়েছিল – মানে সেই ডি ডি এল জে সিনেমায় “মেরি খোয়াবো মে যো আয়ে” গানটার কথা বলছিলাম আর কি, যেখানে কাজল উথালি-পাথালি নাচ আমাকে অবাক করে দিয়েছিল। অবশ্য নাচ নয়, আমাকে অবাক করে দিয়েছিল অন্য একটা ব্যাপার। ঘর থেকে তোয়ালে পরে বাথরুমে যেতে গিয়ে আমার মিনিমাম তিনবার তোয়ালে খুলে যাবার অবস্থা হয়। সেখানে ওমন উষ্টুম-ধুষ্টুম নাচ নেচেও কাজলের তোয়ালে নিজে থেকে খুলে গেল না কেন – সেই চিন্তাটাই আমাকে এত কুড়ে কুড়ে খেয়েছিল যে বাকি সিনেমাটায় আমি মনোযোগ দিতে পারি নি। আর বুড়োর নাচটা আমি কাজলের ‘মত’ বললাম তার মূল কারণ হলঃ

    ১। কাজল তোয়ালে পরে নেচেছিল, যেখানে নাপিতদের বুড়ো একটা প্রায় ট্রান্সপারেন্ট গামছা।

    ২। কাজল সেই বুকের কাছে বাঁধা গিঁট খুলেছিল ঘরের দেয়ালের দিকে মুখ করে - একাকী। আর বুড়ো গিঁট খোলে ঘরের দরজার সামনা সামনি – দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে যাতে দরজা খুলেই ঘরের অতিথিরা তার নগ্ন নৃত্য পরিদর্শন করতে পারে।

    এই সব ঘটনা বুড়ো ঘটাচ্ছে তারাপীঠের একটা হোটেলে। সেবার গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটে বিপুল ভাবে জয়লাভের পর সুমন কুমারের নেতৃত্বে নিমো সোনার বাংলা ক্লাবের অ্যাক্টিভ ১৬ জন সদস্য তারাপীঠ যায়। তারাপীঠ জায়গা বেছে নেবার কারণ হল নিমো থেকে খুব সহজেই ট্রেনে করে তারাপীঠ যাওয়া যায় আর তার থেকেও বড় কথা সেখানে গিয়ে মদ, গাঁজা, মাংস ইত্যাদি খাওয়া-দাওয়া নিয়ে আশে পাশের পাবলিক খুব একটা মাথা ঘামায় না। বেশী চিৎকার চেঁচামেচী না করলেই হল।

    মদ খাওয়া হবে সেটা কোন বড় কথা নয় – মদ খেয়ে বাওয়ালী কি ভাবে করবে সোনার বাংলার পাবলিক সেটা প্রডিক্ট করে আমি যে অ্যালগরিদম বানিয়েছি, সেটা প্রায়ই জনতা ফেল করিয়ে দিত। মদ খাবার – এমনকি মত ছোঁবার কিচ্ছুক্ষণের মধ্যেই তাদের ব্যবহার র‍্যান্ডাম হয়ে যেত। একমাত্র দেখলাম আমার ভাই বাবু-ই স্থিরতার মাপকাঠি ঠিক রাখতে পেরেছে – আমাদের বাড়িতে জমিতে কাজ করা রাম-দা আজ বেঁচে থাকলে খুব খুশী হত। রয়্যাল স্ট্যাগ একটা সাড়ে সাতশোর বোতল খেয়েও বাবুর কিছু হচ্ছে না! এই তো সরস্বতী পূজার পার্টিতে দেখলাম একটা সাড়ে সাতশো একা সাবার করে ঠাকুর নামালো নেতৃত্ব দিয়ে – ঠাকুর বরণ করালো – ঠাকুর বিসর্জন করে দু-থালা খিচুড়ী খেয়ে এল তাসা-ব্যাঞ্জনওলাদের সাথে। আবার বাড়ি এসে যদি মা চেঁচামেচী করে বাড়ির রুটি নষ্ট হবে বলে, তাই রাত সাড়ে বারোটায় বাড়ি ফিরে ছটা আটার রুটিও খেলো!

    কিন্তু বুড়ো বাবুর লেভেলে এখনো উঠতে পারে নি – মানে মাতলামো কেসে মোক্ষ লাভ করতে পারে নি। মদ খাবার বেশী ক্ষমতা নেই, কিন্তু মদের নাম শুনলেই তার চোখ কেমন আবেশী হয়ে যায়। বারোয়ারী মদ ভাগ থেকে সে কবে এক পেগ পাবে, তার জন্য অপেক্ষা করা তার সইত না। নিজে ওই ছোট কোল্ড ড্রিংসের বোতলে মদ ঢুকিয়ে করে চুক-চুক করে খেতে খেত যেত সব জায়গাতেই – মানে যেখানে আমরা যেতাম ফুর্তি করেতে আর কি। এর ফলে যখন নিমোর সোনার বাংলার পাবলিক তারাপীঠ পোঁছালো তখন নাপিতদের বুড়ো অলরেডি মাতাল।

    তারাপীঠ পোঁছে হোটেল চেক ইন করে কাজের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হল। চেক ইন মানে দুটো ঘরে ১৬ জন ছেলে ঘুঁসে যাওয়া আর কি। কেউ গেল পুজো দিতে, কেউ গেল মদ কিনতে, বাবু গেল খাসির মাংসের সন্ধানে। এই সব জায়গায় এমন ব্যবস্থা থেকে যে মাংস এনে দিলে রেঁধে দেয় – নিমোর পাবলিক সেই অ্যারেঞ্জমেন্ট বেশ পছন্দ করত – কারণ নিজের মত করে ঝাল ঝোল দিয়ে রান্না আর কি। তো সবাই বেরিয়ে গেলেও বুড়োর যাবার ক্ষমতা ছিল না – ফলতঃ সে ঘরেই থেকে গেল।

    দৃশ্য কাট – অনেকক্ষণ পরে সুমন কুমার ওরফে রাজু পুজো দিয়ে ফিরছে, হোটেলে ঢুকেই রিসেপশনের ছেলে বলে –

    - দাদা, তোমাদের এখুনি হোটেল ছেড়ে দিতে হবে। তুমি তোমার ছেলে পুলে নিয়ে বেরিয়ে যাও এখান থেকে

    - (অবাক হয়ে) কেন হোটেল ছাড়ব কেন? এই তো এলাম ফুর্তি করতে

    - আর ফুর্তি করতে হবে না – তোমার দলের এক ছেলে অলরেডি বেশী ফুর্তি করে ফেলেছে। আমাদের অন্য গেষ্ট কমপ্লেন করেছে।
    রিসেপস্যানের ছেলে তো আর রাজুকে চেনে না – তদন্ত না করে দুম করে সে কি করে সিদ্ধান্ত নেয়! তাই বলল

    - তুমি দুম করে বললেই তো আর ছেড়ে চলে যাব না। কি হয়েছে বল বিস্তারে – আমি দেখি কোন ছেলে আমার বেশী ফুর্তি করেছে।

    তো হোটেলের ছেলে যে বলল তার সারমর্ম হচ্ছে – নিমোর বাকি সব পাবলিক বেরিয়ে যাবার পর বুড়ো নাকি ২৬ নম্বর রুমে গিয়ে দরজায় নক করতে থাকে। সেই ২৬ নম্বর রুমে এক ভদ্রলোক আছেন তার বউ আর এক মেয়ে নিয়ে। বুড়ো নাকি ডি ডি এল জে সিনেমায় কাজলের মত গামছা পরে ২৬ নাম্বার দরজায় গিয়ে বেল বাজায়। সেই মেয়ে দরজা খুলে দিলে, তার সামনে দাঁড়িয়ে বুড়ো গামছা সরিয়ে নিয়ে নাচ দেখায়। বুড়োর সেই থলথলে চর্বি এবং বিভৎস খালি গা দেখে মেয়ে ভয় খেয়ে যায়। বুড়ো ফিরে আসে। প্রথমবার মেয়ের বাবা কিছু কমপ্লেন করে নি – মেয়ে শেলশকড্‌ হয়ে গেলেও ঝামেলা এড়ানোর জন্য রিপোর্ট করতে চান নি। খানিক পরে নাচের দ্বিতীয় পার্ট দেখানোর জন্য বুড়ো আবার গিয়ে দরজায় বেল বাজায় – এবার দরজা খোলে মেয়ের বাবা। এবং বুড়ো কোন এক কারণে তেনাকেও নাচ দেখায় – নগ্ন নৃত্য। ভদ্রলোক এবার অবস্থার গুরুত্ব বুঝতে পারেন – মেয়ে কেন শেলশকড্‌ সেটাও হালকা টের পান এবং গিয়ে রিপোর্ট করেন।

    সব ঘটনা শুনে রাজু বুঝে গেল – এমনটা হতেই পারে। এবং মনে হয় না হোটেল ওয়ালারা মিথ্যে কথা বলছে না। তবুও বলল, “আমি একটু ছেলেদের সাথে ডিসকাস করে ডিসিশন নিচ্ছি”। ঘরে দিয়ে রাজু ব্যাপার খুলে বলে – ঘরে তখন জোর কদমে মদ খাওয়া চলছে – রাজুর নিজের ভাই বুলবুল মুডে চলে এসেছে। রাজু তখনো মাতাল হয় নি বলে প্রস্তাব দিল যে এখনি হোটেল ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে, কারণ তারাপীঠে বাওয়ালি করলে ক্যালানি খেয়ে যাবার সম্ভাবনা। কিন্তু বুড়ো বেঁকে বসল – প্রবল ভাবে বালিশে ঘুঁসি মারতে মারতে বলল –

    - রাজুদা, তুমি এই ভাবে আমায় অপমান করতে পারো না

    - যা বাঁড়া, এতে অপমানের কি হল!

    - আমি এই সব করতেই পারি না। ওরা মিথ্যে কথা বলছে। আমি গামছা পরে বাইরে বেরোই নি। এই মা কালীর নামে দিব্যি করে বলছি

    রাজু কালী ভক্ত পাবলিক – মা কালীর দিব্যি শুনে একটু থমকে গেল। এবার বাজার ধরে নিল বুলবুল – “হোটেল ছেড়ে দিতে বললেই হবে! সি সি টিভি ফুটেজ দ্যাখাতে হবে”। ঘর ময় মাতাল সকল উলু দিয়ে উঠল – “সি সি টি ভি ফুটেজ চাই, ফুটেজ চাই”। দলবেঁধে নিমো সোনার বাংলা গিয়ে ম্যানেজারকে ঘিরে ধরল। “আপনি ফুটেজ দেখান যে আমাদের ছেলে এই করেছে, আমরা মেনে নেব – দিয়ে হোটেল ছেড়ে দেব”। ম্যানেজার বলে, “দ্যাখো, তোমাদের ছেলে কিন্তু ন্যাঙটো হয়ে নেচেছে, আমার কর্মচারী ব্রেকফাষ্ট দিতে অন্যরুমে যাচ্ছিল, সেও দেখেছে। তাই বলছি কি, বেশী বাড়াবাড়ি করো না। ওই ভদ্রলোক যদি পুলিশে কমপ্লেন করে দ্যান – তোমাদের ক্যালানির শেষ থাকবে না”। পুলিশের নাম শুনেই বুলবুলের আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠল –

    - আপনি পুলিশের ভয় দেখাচ্ছেন? জানেন আমরা কারা? দূর্গাপুরে ভোট করাই আমরা – আর আমাদের আপনি তারাপীঠের পুলিশের ভয় দেখাচ্ছেন? অ্যাই, আমার ফোনটা নিয়ায় তো রুম থেকে – বর্ধমান সদরে কল করে দেখি এখানে ও সি কে আছে। আমাদের বাঁড়া পুলিশের ভয়! পুলিশ আমাদের এক গ্লাসের ইয়ার!

    পুলিশ আমাদের এক গ্লাসের ইয়ার কথাটা মিথ্যে নয় – কারণ তপন, পল্টু, রাকেশ – সবাই তো পুলিশেই চাকুরী করে! নিমোর ছেলে জোর ধরে বসে থাকে, সি সি টি ভি ফুটেজ চাই এই চাই। ম্যানেজার সি সি টি ভি দেখাতে চাইছে না বলে সন্দেহ আরো বাড়ছে।

    ম্যানেজার বলে – “দ্যাখো, আমাদের মেকানিকটা ছুটিতে গ্যাছে বাড়ি। এখন রিওয়াইণ্ড করে দেখাবার লোক নেই”। নিমোর ছেলে শুনবে না। অনেক চাপাচাপির পর ম্যানেজার মেকানিককে ফোন লাগায় – সে মিনিট ২০ এর মধ্যে এসে সি সি টি ভি রিওয়াইন্ড করে।
    সি সি টি ভি তে দেখা যাচ্ছে বুড়ো গামছা পরে ২৬ নম্বর রুমের দিকে যাচ্ছে – নিমো ছেলেদের মুখ আসতে আস্তে শুকিয়ে যাচ্ছে। পুরো ফুটেজ শেষ করার আগেই ফুটেজ দেখার রুম ফাঁকা –

    ছেলেরা বিপদ টের পাচ্ছে। ফুটেজ শেষ হলেই ম্যানেজার তার কর্মচারীদের হাঁক দিল –

    - তোরা গেটটা বন্ধ কর তো – একটাও যেন পালাতে না পরে। সব কটাকে ক্যালানি দিতে হবে আপাদমস্তক। আর ওই পিংলেটাকে বেশী করে দিবি – হুঁ বলে কিনা থানার ওসি কে ফোন করবে! ওর হাতে ফোন দিয়ে নাম্বার ডায়াল করতে বলবি আর ডায়াল টোনের তালে তালে ক্যালাবি।

    নিমো ছেলেরা তখন দুরদার করে পাঁচিল টপকে কাটছে – হাতের কাছে যা ছিল গুটিয়ে নিয়ে ব্যাগ ট্যাগ দৌড়। বুড়োকে টানতে টানতে নিতে যাচ্ছে বামুনদের লাল্টু। বুড়ো বলে যাচ্ছে – “মা কালীর দিব্যি, আমি কিছু করি নি”। লালটু বলছে, “এখন দৌড়ো – পরে বেঁচে থাকলে দিব্যি গালবি আবার।

    সবাই মোটামুটি দৌড়ে, টোটো নিয়ে স্টেশনে। কার মনে পড়ল, “হ্যাঁরে, বাবু তো খাসির মাংস কিনতে গ্যাছে। ওকে বারণ করে দে যেন হোটেলে না ফেরে, ডাইরেক্ট স্টেশনে চলে আসে যেন”। ফোন করা হলে বাবু জানায় সে চার কিলো খাসির মাংস অলরেডি কিনে ফেলেছে। তাকে বলা হয়, তুই মাংস কাউকে দিয়ে না হয় ফেলে দিয়ে স্টেশনে চলে আয়। আর যেন হোটেলের দিকে পরাতপক্ষেও যাস না।

    বর্ধমানের কাছে এসে বুড়োর ঘোর কাটে – বলে, “অ্যাই কি হয়েছিল, আমরা তারাপীঠ থেকে চলে এলাম কেন”? বুড়োকে বলে আসার কারণ বলা হয় – প্রথমে মানতে চায় না। পরে বলে, “জানো তো তোমরা, আমি মাতাল মানুষ, কি করতে কি করতে ফেলেছি অজান্তে। এঃ আমার জন্য তোমাদের প্ল্যান বাতিল হয়ে গেল!”। রাজু বলে,

    “মাতাল তো বুঝলাম, কিন্তু জ্ঞান না থাকলে তুই দুই-বারই কি করে ঠিক গিয়ে ২৬ নম্বর রুমের বেল টিপলি? পাশের রুমের বেল টিপিস নি তো! তুই চল নিমোতে, তোমার মাতলামোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে পঞ্চায়েত থেকে”।

    বুড়োকে নাকি ব্যান করা হয়েছে কয়েক মাসের জন্য। তাই সরস্বতী পূজোতে তাকে দেখলাম না – আশা করি এই সামনের চৈত্রের গাজনের আগে সেই ব্যান উঠে যাবে।
  • সুকি | 2312.204.0123.253 | ০৭ এপ্রিল ২০১৯ ২১:৪৩381952
  • সে অনেক কাল আগের কথা – নিমোর সুমন কুমার (ওরফে রাজু) তখনো শিল্পপতি হয় নি। ধীরুভাই আম্বানী রিলায়েন্স গড়ে তোলবার আগে যেমন আলু বেচত ফুটপাথে, ঠিক তেমনি নিমো গ্রামের প্রথম এবং একমাত্র শিল্পপতি হয়ে ওঠার আগে রাজু সলতে পাকাচ্ছিল। ‘ইষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে নিমো গ্রামের ভিতর রাজুর প্রথম কারখানা তখনো স্থাপিত হয় নি। রাজু পলিটেকনিক ইত্যাদি পাশ করে, ইটাচুনা কলেজে মারামারি, পার্টি, তার ফাঁকে কিছু পড়াশুনা করে একটু আগোছালো এবং হাঁফিয়ে পড়েছিল। রাজুর বাবা সুনীল কুমার মানে আমাদের প্রিয় ন্যাড়াকাকা তখন বলল, “বাড়িতে ফালতু বসে থেকে কি হবে। চাকুরী যবে হবে হবে – এই ফাঁকে তুই বরং একটা দোকান দে”।

    তো সেই মত দোকান কোথায় হবে বিচার বিবেচনা করে ঠিক করা হল এবং কিসের দোকান হবে তাও নাকি ভাবা হল। দোকানের জায়গা তো ঠিক হল নিমো স্টেশনের কাছে ঘুমটি প্রথম দিকে – কিন্তু ব্যবসার বিষয় যে কেনো ‘ইমিটেশনের দোকান’ তা এখনো আমার জানা নেই! তবে সেই সময় গয়না পত্রের খুব চল ছিল আর গ্রামের ভিতরেও ফ্লিপকার্ট, আমাজন আসে নি সে কথা হলফ করে বলতে পারি। গল্প রাজুর ইমিটেশনের দোকানের নয় – সেই দোকান গড়ে ওঠার সাথে যুক্ত ঘটনা নিয়ে।

    সেই ইমিটেশনের ঘুমটি গড়ে তুলতে গিয়ে রাজুর প্রতিবেশী হয়ে গেল বাউরি পাড়ার হারা। হারা তখন সবে মাঠে খাটা ছেড়ে হাওড়া-বর্ধমান মেন লাইনে মশলা মুড়ি বেচতে শুরু করেছে। কেন যে হারা মশলা মুড়ি বেচা শুরু করল সেটাও একটা রহস্য। এবং নিমোর ছেলেরা যে প্রথম দিকে হারার মুড়িমশলা বেচাকে ত্যাড়াচে চোখে দেখত, সেটাও কিছু আশ্চর্য ছিল না। যারা রেল যাত্রী তারা হয়ত লক্ষ্য করেছেন, জংশন স্টেশন-গুলোতে একটা আলাদা “সেট অব হকার” থাকে। মানে ধরুণ বর্ধমান, ব্যান্ডেল বা হাওড়া স্টেশনে ট্রেন দাঁডিয়ে থাকা কালীন যারা মালপত্র বিক্রী করে তারা ট্রেন ছাড়লে করে না। এবং ভাইস ভার্সা। কোন চলন্ত হকার বর্ধমান পোঁছে গেলেও, সে বিক্রী করবে না যতক্ষণ না ট্রেন প্লাটফর্ম ছাড়ছে। এ সব আন্ডার স্ট্যান্ডিং এর ব্যাপার।

    একদিন আমরা নিমোর পাবলিক কয়জন বর্ধমান থেকে ফিরছি, দেখি পিছন দিক থেকে থার্ড কমপারমেন্টে হারা দাঁড়িয়ে আছে – চশমা পড়ে! মানে সানগ্লাস নয়, একটু ফ্যাশানেবল চশমা। ব্যাস পাবলিক খোঁচাতে শুরু করল –

    - ওই বাঁড়া হারা, তুই আবার চশমা পরতে শুরু করেছিস কেন?
    দুই একবার বলার পর হারা সারাশব্দ দিল না – আমরাও যে যার বিজি হয়ে পড়লাম। আসল চমক তখনো বাকি ছিল – ট্রেন বর্ধমান ছেড়ে গাংপুরে ঢোকার পরে দেখি, হারা মুড়ি মশলার ওই টিনের ডাব্বা নিয়ে মশলা মুড়ি বিক্রী করতে শুরু করেছে। আমরা তো অবাক – হই চই শুরু হয়ে গেল –

    - তোর মুড়ি খাবে কে রে বোকাচোদা। নিজে কোন দিন এক গ্লাস জল গড়িয়ে খেয়েছিস যে মুড়ি মশলা বানাচ্ছিস?

    কেউ বলল

    - এটা মানুষের খাবার হারা, ধানের খাবার ভেবে ইউরিয়া ছড়িয়ে দিস না যেন!

    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ধানের বীজ জমিতে সার ছড়ানো মাঠে কাজ করার সময় হারাকে হামেশাই করতে হত।

    ইত্যাদি ইত্যাদি – হারা খুবই অপ্রস্তুত এবং কুপিত হয়ে নেমে গেল সেই কামরা থেকে। আমার অ্যানালেসিস বলে, সেই থেকেই হারার মধ্যে নিমোর যুবক সম্প্রদায়ের উপর প্রতিশোধ স্পৃহা জমে ওঠে। তবে সেই রিভেঞ্জ কেমন হবে তার অনুমান ছিল না আমাদের কাছে।

    রাজুর ইমিটেশনের ঘুমটি দোকান চালু হয়ে গেলে রাতে একটা পাহারার ব্যবস্থাও করতে হয়। মানে কাউকে সেই দোকানে শুতে হবে মাল পত্র পাহারা দেবার জন্য – অনেক টাকার মাল আছে। রাজুর আবার একা একা শোবার অভ্যাস নেই। সেমত অবস্থায় পরিত্রাতা হয়ে দেখা দিল হারা। হারার গুমটি ছিল পাশেই – রাতে সেখানেই সে থাকত এবং তার ঘরে অনেক বাকি হকাররা তাদের ঝাঁকা রেখে যেত। হারা বলল –

    - ভাই, তুই আমার ঘরে থেকে যা। দুজনে একসাথে থাকলে সমস্যা নেই কিছু, তুইও আর ভয় খাবি না।

    রাজুর প্রস্তাব ভালো লেগে গেল। প্রথম দিন রাজু সেই মত শুতে গ্যাছে হারার ঘরে। হারা নাকি ইতিমধ্যে কালি ভক্ত হয়েছে প্রবল। রাজুর কথামত রাত বাড়তে লাগলে হারা শুরু করল কালী পুজো করা। অং বং মন্ত্র কি সব বলে চলল। রাজু বলছে, না পাড়ছি জাগতে, না পাড়ছি ঘুমাতে। এই ভাবে অনেক ক্ষণ পুজো চলার পর, হারা খাটের তলা থেকে বার করল একটা মড়ার খুলি এবং দুই পিস হাড় – টিবিয়া – ফিবুলা। ধীরে ধীরে সেই খুলি এবং টিবিয়া-ফিবুলা তে হারা সিঁদুর মাখালো। রাজুর ঘুম চটে গ্যাছে তখন – সে খাটে বসে দেখছে এবং ক্রমশঃ হারার কাজকর্ম দেখে তার বীচি টাকে উঠছে। সিঁদুর ইত্যাদি মাখানোর পর আবার খানিক পুজো চলল এবং পুজোর শেষে মাথার খুলিতে ঢেলে মদ্যপান। মদ-টাদ খাওয়া শেষে নেশা চড়ার পর হারার খেয়াল হয় কালী পুজোর অন্তিম স্টেপটাই বা বাকি থাকে কেন!

    হারা রাজুকে বলে খাটের তোষকের একপাশে সরে যা – রাজুর সরে গেলে তোষকের তলা থেকে একটা চকচকে খাঁড়া বার করে হারা। বলে

    - বুঝলি রাজু, তুই এসেছিস আজকে ভালোই হয়েছে। মা আমাকে অনেক দিন ধরেই কাজটা করার তাগাদা দিয়ে যাচ্ছে স্বপ্নে। ঠিক মত সময় সুযোগ হচ্ছে না। আর তা ছাড়া আজকাল জানিস তো বাঁড়া নরবলি দেওয়াও ঝামেলা। বাচ্ছা ধরে আনবি সে চিল চিৎকার করবে। আর তা ছাড়া এই নিমো ষ্টেশনের ধারে নিরিবিলিই বা তেমন কোথায়। ওই তো খানি দূরেই হাবাদের কেবিনের ঘর, আর তার পাশে সুধীরের চায়ের দোকান। তার উপর বাঁড়া সকাল আড়াইটে থেকে বাঙাল-দের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়।

    রাজু তখনো হালকা ঘুমচোখে ঠিক অনুধাবন করতে পারছে না ঘটনার গতিবিধি। তবে এটুকু বোঝার মত বুদ্ধি তার আছে যে কিছু একটা হতে যাচ্ছে –

    - হারা কি আলবাল বকছিস মাল খেয়ে?

    - রাজু তোর ভাগ্য ভালো রে – তোদের নিজের বাড়িতেও তো কালিপুজো হয়।

    - তাতে কি হয়েছে

    - তুমি ভেবে দ্যাখ মা আমাকে কতদিন বলি দেবার জন্য তাগাদা দিচ্ছে। আর আজকে অমাবস্যার দিনই তুই আমার ঘরে শুতে এলি! মা-ই পাঠালো তোকে

    - তা বলির সাথে আমার ঘরে শুতে আসার কি সম্পর্ক? একটা ছাগল বলি দিয়ে দে মানসিক করে!

    - বলেছিলাম রে আগের দিন মা-কে। আসলে মায়ের আমার মানুষের রক্ত খেয়ে স্বাদ বদলের ইচ্ছা হয়েছে। যাক গে, বেশী কথা বাড়াস না। পুজোর মুহুর্ত চলে যাচ্ছে – তাড়াতাড়ি আয়

    - মানে?? তুই কি আমায় বলি দিবি নাকি?

    - রাজু, বাঁড়া ভ্যানতাড়া মারাস না – এক কথা কতবার বলব।

    রাজু বুদ্ধিমান ছেলে – বুঝতে পেরে গ্যাছে যে হারা মাল খেয়ে আউট। মা-য়ের নির্দেশে সে আজ নরবলি দিয়েই ছাড়বে!

    পরের দৃশ্যে – রাজু বারমুডা টাইপের কিছু পরে বাঁচাও, বাঁচাও বলতে বলতে নিমোর ষ্টেশনের পাশের রাস্তা দিয়ে ছুটে গ্রামের ভিতরে যাবার চেষ্টা করছে। তার পিছনে পিছনে উলঙ্গ হারা এক সিঁদুর মাখানো খাঁড়া হাতে রাজুকে তাড়া করেছে – “কাছে আয়, কাছে আয়, পালাস কেনো” বলতে বলতে। রাজু নাকি এর ওর ঘরে দরজায় ধাক্কা মেরে হারার হাত থেকে তাকে বাঁচাতে আকুতি জানাচ্ছিল। ঠিক মনে পারছি না যে রাজুকে সেদিন কে বাঁচিয়েছিল আখেরে। রাজু আমার ফেসবুক লিষ্টে আছে, এই লেখা পড়লে সে হয়ত মনে করে বলতে পারবে।

    ভ্যাগিস সেদিন হারা রাজুকে নরবলি দিতে পারে নি! তাহলে নিমো গ্রাম তার একমাত্র শিল্পপতিকে হারাতো পয়দা হবার আগেই।
  • সিকি | 670112.215.45900.92 | ১০ এপ্রিল ২০১৯ ০৭:০২381953
  • সুকি, পড়ছি কিন্তু।
  • গবু | 2345.110.674512.181 | ১০ এপ্রিল ২০১৯ ২০:৫৫381955
  • একদমে পড়ছি, যখনই আসছে!
    অপেক্ষায়!
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1 | 2 | 3 | 4
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত