• টইপত্তর
  • নিমো গ্রামের গল্প

    সুকান্ত ঘোষ
    বিভাগ : অন্যান্য | শুরু: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | শেষ মন্তব্য: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ২২৫৫ বার পঠিত

  • পাতা : 1 | 2 | 3 | 4
  • commentb | 236712.158.676712.140 | ২৪ নভেম্বর ২০১৯ ১৪:৫০381911
  • longyi বার্মার জাতীয় পোষাক বোধয়।
    https://en.wikipedia.org/wiki/Longyi
  • commentসুকি | 237812.69.563412.135 | ২৪ নভেম্বর ২০১৯ ১৫:০৭381912
  • আজ কা তুঘলক
    --------------------

    মহম্মদ বিন তুঘলকের সাথে দেখা করে হয়ে ওঠে নি আমার, যদিও মেমারী বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দিরের ক্লাসমেট হালিম জগবন্ধু স্যারের কাছে জানতে চেয়েছিল দেখা করা যাবে কিনা। আমরা তখন ক্লাস সেভেন কি এইটে পড়ি, জগবন্ধু বাবু আমাদের ইতিহাস পড়াতেন – সেদিন পড়াচ্ছেন তুঘলকের খামখেয়ালীপনার কথা। কিছুটা শুনে হালিম পিছনের দিক থেকে জিজ্ঞেস করল,

    “স্যার, একটা কথা বলছিলাম, এই বিন তুঘলকের সাথে দেখা করা যায় না ইস্কুল থেকে মিছিল করে গিয়ে?”

    আসলে ভেবে দেখলে হালিমের দোষ ছিল না, তখন প্রবল পরাক্রান্ত সি পি এমের আর এ বি টি এ-এর আমল। আজ মিছিল করে উৎপল দত্তের ‘ঝড়’ সিনেমা দেখতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তো কাল গ্যাট চুক্তির প্রতিবাদে মেমারী শহর পরিক্রমা। এছাড়া ডি ওয়াই এফ আই, নাট্য মেলা, বইমেলা ইত্যাদি ইত্যাদি তো আছেই – কিছু হলেই আমরা মিছিল করে ঘুরতাম মেমারী বাজার আর বদলে পেতাম একটা করে বাপুজীর কেক ইস্কুলে ফিরে আসার পর। তবে সেদিন জগবন্ধু বাবুর রেগে গেলেন হালিমের প্রস্তাব শুনে, বললেন, “এটাকে ক্লাস থেকে বের করে দে তো”। তারপরে অনেকের কাছে একদম ক্লিয়ার হল যে বিন তুঘলক বহুদিন টেঁসে গ্যাছে।

    আজকাল অবশ্য অনেকে মমতা দিদি-কে বিন তুঘলকের মহিলা ভার্সন বলেন। তবে দিদি তুঘলকিয় হয়ে ওঠার বহু আগে আমরা ইস্কুল ছেড়েছি, তা না হলে কে জানে বিন তুঘলকের সাথে মিট করার হালিমের প্রবল ইচ্ছাটা পূর্ণ হয়ে যেত, তা যতই হোক না সে এক আধুনিক ভার্সন।

    আমার দিক থেকে বলতে পারি মহম্মদ বিন তুঘলক-কে দেখা একদম মিস করি নি, কারণ আমার হাতের কাছে ছিল মহেন্দ্রনাথ ঘোষ, মায়ের মামা – মানে আমার দাদু। মহেন্দ্র ঘোষ বহু অংশে স্বয়ং তুখলক-কেও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারত। আমার মা ছোট বেলায় মামার বাড়িতে মানুষ হয়েছিল, তাই মায়ের মামা নিজের দাদুর মতই ছিল ঘেঁষাঘেঁষি তে।

    মায়ের মামারা বেশ ভালো বড়লোক ছিল সেই আমলে। প্রায় ৬০-৭০ বিঘে মত জমি, তার পর যা হয় আর কি বর্গা ইত্যাদি হয়ে গিয়ে সেটা বিঘে চল্লিশে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়া ছিল ধানকল, সারের দোকান, ট্রাকটর, পুকুর, বাগান ইত্যাদি ইত্যাদি। গ্রাম্য লাইফ নিয়ে যাদের ধারণা আছে তারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, ব্যাপার খুব একটা মন্দ ছিল না। বেশী জমি জায়গা থাকলে ঘটিরা যা করে দাদুও সেটা করল – বাপ-ঠাকুরদা তো কষ্ট করে খেটে খুটে সম্পত্তি বানিয়ে গ্যাছে, তাহলে আমি আর খামোখা খাটবো কেন! খামখেয়ালীপনার চূড়ান্ত এবং বসে বসে সম্পত্তি উড়িয়ে যেতে লাগল, একে একে সারের দোকান, ধানকল সব বিক্রী হয়ে গেল। তার পর শুরু হল জমি বিক্রী করা। এখন মামারা বড় হয়ে মনে হয় আর জমি বিক্রী করা একটু রুখেছে।

    দাদুর বাড়ির সামনে ছিল বেশ বড় ফাঁকা জায়গা, বড় জামরুল গাছটার সামনে। বাড়ির একপাশে গোয়াল বাড়ি, মাল রাখার গুদাম – অন্যদিকে বাগান। বৈঠক খানার ঘরে বসে ফুরফুরে হাওয়ায় বিকেলে চা খেতে অবশ্য ভালোই লাগত। অবশ্য তখনো আমাদের চা খাবার বয়স হয় নি – আমরা দেখতাম বাইরের ঘরে বাজী তৈরী হওয়া। বৈশাখ মাসে শেষ মঙ্গলবারে সেই গ্রামের বিখ্যাত কালিপুজো উপলক্ষ্যে। সেখানে দেখেই আমার বাজি তৈরীর প্রথম প্রাথমিক জ্ঞান।

    একবার দাদুর শখ হল গোলাপ বাগান করবে – যা মনে করা তো সেই কাজ। বাড়ির সামনে জায়গাটা ঘিরে মাটি তৈরী করে গোলাপের বাগান শুরু হল – জল তোলার পাম্প ইত্যাদি বসিয়ে। কোথা থেকে প্রায় পঞ্চাশ-ষাট রকমের গোলাপ লাগানো হল। বলতে নেই সময় মেনে, পরম যত্ন পেয়ে – নির্ভেজাল গোবর সার পেয়ে সেই বাগান গোলাপ ফুলে ভরে উঠল। বহু দূর-দূর থেকে লোকজন গোলাপ বাগান দেখতে আসতে শুরু করল – লোকে বাগান দেখে বাঃ বাঃ করছে, আর দাদু পরম তৃপ্তি ভরে বৈঠকখানায় বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছে! আমার দুই মামাকে ভার দেওয়া হয়েছিল গোলাপ বাগানের ওভারঅল দেখভাল করার জন্য। সেই করতে গিয়ে মামাদের উচ্চমাধ্যমিকের নম্বর কমে গেল।

    এর পর দাদুর ঝোঁক হল ব্যবসার দিকে – নিজে প্রচুর পেটুক মানুষ হবার জন্য, সারের ব্যবসা থেকে সিফট করে খুলল মিষ্টির দোকান খানপুর মার্কেটে প্রাইম জায়গায়। সে মিষ্টির দোকান বিশাল হিট – বিশেষ করে বিকেলে সিঙ্গারা কিনতে আসার জন্য পাবলিকের লম্বা লাইন পরে যেত। ব্যবসা দুরদার চলছে, আর এদিকে মামারা বলছে, বাবা তুমি সিঙ্গারা নয়ত মিষ্টির দোকান কোন একটা বন্ধ কর। এই ভাবে বেশী দিন টানা যাবে না! এক একটা সিঙ্গারা বেচে প্রায় ৭০ পয়সা লস! কাজু, কিসমিস ইত্যাদি পুরে মিশিয়ে দাদু সিঙ্গারা বানিয়ে বিক্রী শুরু করে প্রতি পিস এক টাকা করে! এদিকে বানাতে খরচা প্রায় এক টাকা সত্তর পয়সা! মামারা কিছু বলতে গেলেই উত্তর আসত, এই তমুকের ব্যাটা আমি, লোককে বাজে জিনিস খাওয়াবো! মিষ্টি বেচেও অনুরূপ ক্ষতি, পাঁচ টাকা সাইজের রসগোল্লা বানিয়ে বিক্রী হচ্ছে দুই-টাকা পিস করে! অনেক ঝামেলা ইত্যাদি করে সেই মিষ্টির দোকান বন্ধ করা গেল।

    দাদু আমাকে মাঝে মাঝে বলত, ওসব ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার কিছু নয় বুঝলি, আসল চাকরী হল স্কুল মাষ্টারি। চাকরি করতে হলে মাষ্টারী করাই বেষ্ট, দুই মামার তাই ছোট বেলা থেকেই ট্রেনিং হত ইস্কুল মাষ্টার হবার জন্য। খাদ্যরসিক এবং পেটুক মানুষ, গাওয়া ঘিয়ের লুচি, মিষ্টি, পাঁঠার মাংস ইত্যাদি ছাড়া দাদুর মুখে রুচত না অন্য কিছু। এদিকে বয়স হচ্ছে – একসময় মামিমারা বলল, “বাবা, বয়স হচ্ছে তো, তাই আপনাকে আর ওই সব রীচ খাবার দেওয়া যাবে না”। এসব শুনে দাদু ফায়ার, “নিজের সর্বনাশ আমি নিজেই করেছি তোমাদের ঘরে এনে, তখন কি আর জানতাম আমার সাজানো সংসার ছাড়খাড় করে দেবে তোমরা!” ছোট মামি আবার একটু মর্ডান টাইপের, ফুট কেটে ফেলল, “কোথায় সাজানো নষ্ট হচ্ছে বাবা? শুধু একটু খাওয়া কনট্রোল করার কথা হচ্ছে”। দাদু নাকি উত্তর দিয়েছিল, “সাজিয়ে যদি খাবারই সামনে না এল তাহলে আর সাজানো সংসারের মানে কি?”

    তবুও দাদুকে গাওয়া ঘিয়ের লুচি খেতে দেওয়া হল না আগের মত বেশী বেশী – এত অত্যাচার মহেন্দ্র ঘোষের সইল না। বলল, “আমি আলাদা হয়ে যাব। তোরা দুই ভাই একসাথে থাক। আমি আর তোদের মা এবার থেকে আলাদা খাব, নিজের লুচি নিজে রেঁধে নেব”। এইভাবে একই বাড়িতে দুই হেঁসেল চালু হত – যে মানুষ জীবনে এক গ্লাস গড়িয়ে খায় নি, সে লুচি ভাজবে সেটা ভাবাই মূর্খামি। দিদার ভাঙা শরীরে চাপ পড়ে গেল – বেগতিক দেখে মামিমারা পিছিয়ে গেল। আবার একসাথে রাঁধা শুরু হয়ে গেল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দাদু গাওয়া ঘিয়ের লুচি এখনো চালিয়ে যাচ্ছে, সাথে পাঠাঁর মাংস।

    আর আমার মামারা দাদুর মত পুরো তুখলকিয় না হলেও, হালকা ছাপ পেয়েছে। দুপুরে ভাত খাবার পর তেনারা নাকি বাইকে দশ কিলোমিটার গিয়ে পান খেয়ে আসেন, কোন একটা দোকানে স্পেশাল পান সাজে!
  • commentরঞ্জন | 236712.158.9005612.43 | ২৪ নভেম্বর ২০১৯ ২৩:১৫381913
  • নিমো গ্রামের সুকি,
    "আজ কা তুঘলক" বোধহয় দু'বার পোস্ট হল--২১শে এবং আজকে।
  • commentসুকি | 237812.69.563412.81 | ২৫ নভেম্বর ২০১৯ ০৬:৫২381914
  • সরি রঞ্জনদা, কি পোষ্ট করতে কি করেছি
  • commentসুকি | 237812.69.563412.21 | ২৫ নভেম্বর ২০১৯ ০৬:৫৩381915
  • ইলেকট্রিক অফিস ও মেজোজ্যাঠা
    --------------------------------------------

    - হ্যালো বোস, আমি নিমো থেকে সুশীলদা বলছি

    মেমারী ইলেকট্রিক অফিসের বোস এই ভাবে আমার মেজো জ্যাঠার কাছ থেকে কত কল পেয়েছিল সেই সময় তার হিসাব করা মুশকিল। মোবাইলের যুগ হলে বোস কবেই জ্যাঠাকে কল-ব্লক লিষ্টে রেখে দিত আর ফেসবুক থাকলে আনফ্রেন্ড। ভারতের সরকারি বা অধিকৃত সংস্থাগুলি, যেমন স্টেট ব্যাঙ্ক, টেলিফোন, ইলেকট্রিক অফিস ইত্যাদির ব্যবহার বা কাষ্টমার সার্ভিস বা কলের উত্তর দেওয়া ইত্যাদি নিয়ে আমরা হামেশাই ক্ষোভ প্রকাশ করি। বেশীর ভাগ সময়েই সঙ্গত কারণে, তবে জ্যাঠার মত কাষ্টমার থাকলে হাসিমুখে উত্তেজিত না হয়ে উত্তর দেওয়াও চাপ হয়ে যায়। সত্যই যায় কিনা নিচের ঘটনা পড়ে আপনারাই বিচার করবেন।

    সে তখন মোবাইল আসার অনেক আগের কথা, নিমোতে খুব বেশী কারো বাড়িতে ল্যান্ড লাইনের টেলিফোন ছিল না। আর থাকেলেও সবার ইলেকট্রিক অফিসের প্রতি মোহ ছিল না। তখনকার দিনে হত কি ঝড় জল উঠলে পাওয়ার লাইন অফ করে দিত ইলেকট্রিক অফিস। আবার নিমোতে ইলেকট্রিক ঢুকেছে বেশ কয়েক কিলোমিটার মাঠের উপর দিয়ে ওভারহেড তারের মাধ্যমে। তাই বিপদের ভয়ে ঝড় জল উঠলে ইলেকট্রিক অফিস কারেন্ট অফ করে দিত। আবার অনেক সময় গাছ পালা উলটে লাইনে ফল্ট হয়ে যেত। তখন অফিসে ফোন করে জানাত হত ব্যাপারটা এবং সময় সুযোগ মত তারা এসে লাইন ঠিক করত।

    তো এইভাবেই মেজো জ্যাঠা মেমারী ইলেকট্রিক অফিসের ফোন নাম্বারটা পেয়ে যায় কোন ভাবে, চেনা শোনা তো ছিলই, মঙলা-কাকা। ফোন করার উপযুক্ত কারণ হলে সবাই জ্যাঠাকে রিকোয়েষ্ট করত যে এবার তাহলে মেমারী ইলেক্ট্রিক অফিসে ডায়াল করা হোক। প্রথম প্রথম তাই হত – কিন্তু পরে নিমোর লোক বুঝতে পারল যে জ্যাঠাকে রিমাইন্ডার দেবার কোনই দরকার নেই। কারণে অকারণে জ্যাঠা ইলেক্ট্রিক অফিসে ফোন করে ব্যতিব্যস্ত করে রাখল –

    - হ্যালো, সুশীলদা বলছি নিমো থেকে
    - হ্যাঁ দাদা বলুন
    - বলছি পশ্চিম দিকে মেঘ করেছে মনে হচ্ছে তো। ঝড় জল আসবে – কি করবেন কিছু ঠিক করেছেন?
    - কিসের কি করব?
    - না মানে ওই কয়টা নাগাদ লাইন অফ করবেন?
    - সে ঝড় জল এলে দেখা যাবে, এত আগে থেকে কিছু বলা যায় নাকি?
    - আসলে জানা থাকলে ব্যাটারীতে চার্জ দিয়ে রাখতাম আর কি
    - তা সে আপনি এখন থেকেই দিয়ে রাখুন না!
    - ও, তাও তো বটে – ঠিক আছে তাহলে

    আবার দু চার দিন পরে

    - হ্যালো, সুশীলদা বলছি। বলছিলাম কি, আজ তো মনে হচ্ছে আপনাদের অনেক কাজ বেঁচে গেল
    - কেন কাজ বাঁচার কি হল?
    - আরে খেয়ে দেয়ে দুপুরে একটু শুতে যাবার আগে দেখলাম কেমন গুমট মেরে গ্যাছে ওয়েদারটা। ঝড় আসবেই একদম শিওর ছিলাম
    - ঝড় হয় নি আপনাদের দিকে?
    - হলে কি আর বলতাম আপনাদের কাজ বেঁচে গ্যাছে? ঝড় এল না বলেই ভাবলাম জানিয়ে দিই, খুব বেঁচে গেলেন আজকে যাই হোক। না হলে আজ রাত বিরেতে আবার ছোটাছুটি করতে হত।

    এবার সত্যি সত্যি একদিন ঝড় এল – তারটার ছিঁড়ে একসা। কারেন্ট নেই গ্রামে – কিন্তু নিমোর লোকের টেনশন নেই, তারা জানে মেজো জ্যাঠা গ্রামে ওই দিন আছে মানে মেমারী ইলেকট্রিক অফিসকে ব্যতিব্যস্ত করে দেবে

    - এ্যাই বোস, সুশীলদা বলছি নিমো থেকে। সর্বনাশ হয়ে গ্যাছে তো! তার ছিঁড়ে গ্যাছে মনে হচ্ছে কাল রাতের ঝড়ে – সকাল থেকে কারেন্ট নেই।
    - দাদা, কাল রাতে অনেক জায়গাতেই এক অবস্থা। আমরা আস্তে আস্তে লোক পাঠিয়ে ঠিক করার চেষ্টা করছি।
    - আচ্ছা, দেখুন তা হলে তাড়াতাড়ি।

    সে তখন সকালের দিকের সময় – মেজমা ডাকছে জ্যাঠাকে মুড়ি খাবার জন্য বাইরের দুয়ারে। জ্যাঠা গ্যাছে খচে বিশাল, সেই মুহুর্তে ফোনের কাছ ছেড়ে ওঠার কোন প্ল্যান নেই জ্যাঠার। মেজমাকে দিয়েছে ধ্যাতানি

    - তোমার এত বয়স হল, কিন্তু আক্কেল হল না এখনো। কি ভেবে তুমি আমাকে এখন মুড়ি খেতে যাবার কথা বল?
    - তুমি মুড়ি খাবে কি খাবে না? না খেলে বল, আমার অন্য কাজ আছে
    - ঘরে পাঠিয়ে দাও মুড়ি, এখন ফোনের কাছ থেকে ওঠা যাবে না।

    পাঁচ মিনিট বাদে আবার অফিসে ফোন

    - হ্যালো সুশীলদা বলছি
    - কে বলছেন?
    - আরে নিমো থেকে সুশীল, এই তো একটু আগেই ফোন করলাম। তুমি কে, গলা তো চেনা ঠেকছে না।
    - স্যার এখন চা খেতে গ্যাছেন। আপনি পরে ফোন করুন।
    - আচ্ছা সে না হয় করছি, তবে একটা প্রশ্ন ছিল তোমাদের কাছে
    - কি প্রশ্ন তাড়াতাড়ি বলুন
    - মানে বলছিলাম কি লাইনের ভোলটেজ কি কোনদিন-ই বাড়বে না! এতো হ্যারিক্যানের আলোর থেকেও কম জোরে জ্বলছে দুশো পাওয়ারের বাল্ব গুলো।
    - হয়ে যাবে ঠিক তাড়াতাড়ি
    - আর কবে হবে? আজকাল ভিজে হাতে খোলা তারে হাত দিলেও কারেন্ট মারছে না!
    - দাদা বলি কি বেশী ভিজে হাত দেবেন না। আপনি পরে স্যারকে কল করবেন।

    জ্যাঠা এবার ঘর থেকে বেরিয়ে এল – হুকুম হল –

    - এই তোরা কেউ একজন গিয়ে মঙলা-কে ডেকে নিয়ে আয়। ইলেক্ট্রিক অফিস বলছে পরে ফোন করতে।

    কেউ একজন গেল মঙলা-কা কে ডাকতে। মেজো জ্যাঠা ততক্ষণে মুড়ি খেতে শুরু করল দুয়ারে বসেই। খানিক পরে সেই বার্তাবাহক ফিরে এসে জানালো যে মঙলা-কাকা বাড়িতে নেই। রেল ফটকের কাছে নারাণের দোকানে চা খেতে গ্যাছে। খবর শুনে জ্যাঠা মনক্ষুন্ন

    - চা খেতে গ্যাছে না হাতি! চা খেতে কতক্ষণ লাগে? বসে বসে এখন গুলতানি চলবে বেলা পর্যন্ত। কোন একটা রেসপনসেবেলিটি নেই। ঝড়ে তার ছিঁড়ে গ্যাছে আর উনি নারাণের দোকানে বসে বসে চা খাচ্ছেন।

    মুড়ি খাওয়া হলে আবার ডায়াল ইলেকট্রিক অফিসে

    - কিছু কাজ এগুলো? মঙলা তো বসে বসে চা খাচ্ছে নারাণের দোকানে নিমোতে। তা আপনারা কি সবাই এখনো চা-খেতেই ব্যস্ত
    - দাদা, স্যার এখনো চা খেয়ে ফেরেন-নি। আপনি পরে ফোন করে যা বলার স্যারকেই বলুন।

    মেজোমা আবার হাঁক দিল –

    - বলছি উত্তমের দোকান থেকে পাঁচশো চিনি এনে দাও না। ফুরিয়ে গ্যাছে
    - এটা চিনি আনতে যাবার সময় হল? কোন সময়ে কি কথা বলতে হয় আর কবে শিখবে?
    - তোমার ফোন আর ওরা ধরবে না, এটা বোঝারও ক্ষমতা নেই? মানুষকে তিতিবিরক্ত করে দিলে কে আর শুনবে তোমার কথা। সেদিন বিশু পর্যন্ত মাঠ থেকে ফিরে বলল, কাকিমা জ্যাঠাকে দিয়ে মাঠে জলখাবার পাঠাবে না। এমনিতেই প্রচুর গরম, জ্যাঠার কথা শুনলে আরো গরম হয়ে যায় মাথা।
    - চিনি আনার সময় নেই এখন। অন্য কাউকে পাঠাও। দেখি, এখনি ফলো আপ করতে হবে বোসের সাথে।

    আবার ডায়াল

    - হ্যালো বোস রয়েছ?
    - কে বলছেন?
    - আমি নিমো থেকে সুশীল …।

    কট্ করে ফোন লাইন কেটে গেল – মেজমা যেটা আগেই প্রডিক্ট করেছিল বলাই বাহুল্য। জ্যাঠা গজগজ করতে করতে বাইরে বেরিয়ে এল,

    “সি পি এম আমলে সাপের পাঁচ পা দেখেছে এরা – কংগ্রেস পিরিওড হলে বোসের বাপ এসে হাজির হত এখন এই ঘোষ বাড়ির দরজায়”। – ইত্যাদি ইত্যাদি

    রান্নাঘর থেকে আওয়াজ এল, “মাথাটা একদম গ্যাছে”।
  • commentAmit | 236712.158.23.211 | ২৫ নভেম্বর ২০১৯ ১১:১৭381916
  • লাস্টের টা পড়ে মনে পড়লো আমাদের কলকাতার পাড়ায় এক খান সিএসসি র মেইনটেনেন্স অফিস ছিল ৯০ র দশকে। লোড শেড্ডিং হলেই সেখানে গিয়ে লোকজন উত্যক্ত করে করে মারতো, দু একবার ঢিল ফিল ও ছুড়েছে। আরো বিপদ বাড়তো ক্রিকেট ম্যাচ থাকলে। শেষে ওরা বিরিক্ত হয়ে অফিস টাই তুলে দিলো, যে এখন সব মেইনটেনেন্স মেন্ অফিস থেকে সামলানো হবে।
  • commentসুকি | 162.158.165.173 | ২৫ জানুয়ারি ২০২০ ১০:৪৫729496
  • কার্ত্তিক পুজো
    ---------------------

    সেদিন নিমো গ্রামের একমাত্র শিল্পপতি সুমন কুমার ওরফে রাজু দেখলাম আমাকে মেসেজ করেছে, “সুকান্তদা, চারটে ফেললাম, তার মধ্যে একটা বাবুর জন্য”।

    এর আগের রবিবার কার্ত্তিক পুজো গেল। শহরের দিকের সংস্কৃতি বলতে পারব না, কিন্তু আমাদের গ্রামের দিকে কার্ত্তিক ঠাকুর ফেলা এক রীতিমত মত ব্যাপার এবং কর্তব্য ছিল। ঠাকুর ফেলা হল মূলত নববিবাহিত ছেলে ছোকরার বাড়িতে। আবার একসেপশন যে থাকত না তা নয় – অনেক দিন বিয়ে হব হব চলছে কিংবা বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে ঠাকুর ফেলা হত তাদের বাড়িতে। ঠাকুর সাধারণত রাতের দিকে বাড়ির দরজার সামনে কিংবা বাড়ির উঠোনে দিয়ে আসা হত চুপিচুপি। ঠাকুর ফেললেই যে সেই ঠাকুর ঘরে তুলতে হবে এমন কোন কথা নেই, কিন্তু ধর্মভীরু বাঙলী – নিজের বাড়ির উঠোন থেকে ঠাকুর তুলে নিয়ে গিয়ে জলে ফেলে দেবে সেই সাহস পাবলিক করে উঠতে পারত না সাধারণত। তবে নিমোতে একদম খেঁচুড়ে পাবলিক ছিল না তা নয় – কয়েক জন তো বারবার কার্ত্তিক ঠাকুর নিয়ে গিয়ে জলে ফেলে দিয়ে আসত ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে নিজের উঠোন থেকে। আর যেতে যেতে গালাগাল করত আমাদের সোনার বাংলার ছেলেদের। বাই ডিফল্ট এই ঠাকুর ফেলার দোষ গিয়ে চাপত ওদের ঘাড়ে।

    কার্ত্তিক পুজোর আবার হ্যাপা কম নয় – একবার পুজো করেই ছেড়ে দেবেন তা হবে না, পুজো শুরু করলে চারবছর নাকি করতে হয়। তবে তা পরপর চার বছর না হলেও হবে। এই তো শিল্পপতি রাজুই এই বার চতুর্থ বছরের জন্য কার্ত্তিক ঠাকুর পুজো করল। রাজুর ক্ষেত্রে তার বাড়িতে ঠাকুর দেওয়া হয়েছিল বিয়ের আগেই। তখন ব্যবসা বাড়িয়ে বাড়িয়ে এত ব্যস্ত রাজু যে বিয়ের দিকে মন দেবার সময় পাচ্ছে না – এদিকে রাজুর বাবা আমাদের ন্যাড়াকাকা চিন্তায় পড়ে গ্যাছে বিয়ে কখন করবে রাজু সেই নিয়ে। তখনই ঠাকুর দেওয়া হল রাজুর বাড়ি এবং রাজু ঠাকুর ভক্ত পাবলিক বলে তার পরের বছরই বিয়েটা সেরে ফেলে।

    তা যা বলছিলাম, এই বার নিমোতে আট জন ছেলে ছোকরার বিয়ে হয়েছে – তান্ত্রিক তপুর ছেলে সহ। কিন্তু ওদের বাড়ি কি কারণে অশৌচ চলার জন্য ঠাকুর দেওয়া হয় নি, বাকি সোনার বাংলার ছেলেদের ভার ছিল আর চারটে ঠাকুর দেবার। এর মধ্যে একটা এল আমার ভাই বাবুর জন্য, যার বিয়ে হল এই বছর এবং সেই বিয়ের গল্প তো আগেই লিখেছি। কার্ত্তিক ঠাকুর আবার এমন জিনিস যে নিজে নিজে কেউ আনে না আমাদের গ্রামে – তাই একটা হালকা টেনশন কেউ ঠাকুর দেবে কিনা, যদি পুজো করার মন থাকে তা হলে। বাবু আমাদের সংসারী লোক, ঠাকুর যে দেওয়া হবে সেটা সে জানত – তাই আগে থাকতে ব্যবস্থা সব কমপ্লিট। লোক জন নিমন্ত্রণ করা, রাঁধার লোক, নিজের শ্বশুরবাড়ি এবং শালিদের আসতে বলা – ময়দা, তেল, গ্যাস, ওভান, মিষ্টি, ছোলা, ফুলকপি সব কিনে রেডি। ব্যাক আপ প্ল্যানও ছিল – একটু বেশী রাত পর্যন্ত দেখা হবে, যদি দেখা যায় ঠাকুর পড়ল না, তাহলে আমাদের বাড়িতে কাজ করা, বাবুর ডানহাত এস্টেট ম্যানেজার কমল-দা বলা আছে একটা কার্ত্তিক ঠাকুর কিনে যে ফেলে দিয়ে যায়। মোট কথা ঠাকুর ফেলতেই হবে।

    শনিবার সন্ধে বেলা হালকা টেনশন – কখন ঠাকুর ফেলে। রাত বাড়ছে, কিন্তু ঠাকুর আসছে না – এদিকে কাকিমার শরীর খারাপ, বেশী রাত পর্যন্ত জেগে থাকার ইচ্ছা নেই। থেকে থেকে বাবু-কে জিজ্ঞেস করে যাচ্ছে, “আর কখন ঠাকুর ফেলবে রে? ঠাকুর বরণ করে ঘরে তুলে ঘুমাতে যাব”। বাবু তিতিবিরক্ত, কাকিমা-কে বলছে, “এই একদিনও খালি ঘুম ঘুম। তুমি ঘুমাতে যাও, আমি নিজেই ঠাকুর বরণ করে ঘরে তুলে নেব, নয়ত বড়-মাকে ডেকে নেব”। ওদিকে কমলদা বাবুকে পাগল করে দিচ্ছে জানতে চেয়ে যে কাট অব টাইম ঠিক কটায় হবে – মানে রাত কটা পর্যন্ত দেখে কমল-দা ঠাকুর কিনতে যাবে! বাবু পায়চারী করতে করতে বলছে, “বাঁড়া জ্বলে গেলুম”।

    এই বাগ বিতন্ডা চলছে, এমন সময় বাইরের দরজায় বিশাল শব্দ করে বোমা ফাটার শব্দ এবং সাথে সাথে দরজার কলিংবেলের আর্তনাদ। মা গিয়ে তড়িঘড়ি দরজা খুলল – আশে পাশে কেউ নেই – সামনে কার্ত্তিক ঠাকুর বসানো।

    সেই ঠাকুর বাইরের দরজা থেকে উঠিয়ে এনে বাড়ির উঠোনে বরন হল – লাইটের আলোয় দেখা গেল কার্ত্তিকের গলায় এক চিঠি ঝুলছে, তাতে লেখা “বাবা তুমি কিন্তু কৃপণতা করো না, আমার বিরিয়ানী খাবার ইচ্ছে হয়েছে এবার”।







    রবিবার রাতে পুজো, পুরোহিত নিমো গ্রামের একমোদ্বিতয়ম। কার্ত্তিক পুজোর আসল সময় রাতের বেলা – কিন্তু নিমোতে ঠাকুর এসেছে মোট তেরোটা – এক একটা পুজোয় গড়ে এক ঘন্টা। গদা বামুন শুরু করল বিকেল তিনটেয় – আমাদের বাড়ি এল ঠিক মূল সময়ে সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায়। গদা বামুন কাকুর বন্ধু বলে প্রপার টাইমে স্লট পাওয়া গিয়েছিল। পনেরো মিনিট বেশী সময় নিয়ে গদা বামুন এক ঘন্টা – পনেরো মিনিটে পুজো সমাপ্ত করল। এর পর লুচি খাওয়া – আমাদের ইমিডিয়েট ঘোষ ফ্যামিলি এখন অনেক ছোট হয়ে এসেছে, পঞ্চাশ জনের মত পাত পড়ল। বাড়ির মেয়েরা সব হই হই করে গল্প গুজব করতে করতে লুচি, ডাল, তরকারি, মিষ্টি ইত্যাদি খাওয়া হল।

    পরের দিন দুপুরে খিচুড়ি এবং ততসহ নানা মুখরোচক জিনিসপত্র। প্রবলেম হল, সোনার বাংলা ক্লাবের ছেলেরা তাহলে খাবে কোথায়? কারণ ওদিকে রাজুর বাড়িতেও ঠাকুর এসেছে – রাজুই বাবুকে বলল, “দ্যাখ এই বছর তো আমার চার বছর, তার মানে শেষ। তোর তো এখনো বাকি রইল তিন বছর। এই বার সোনার বাংলার ছেলেরা আমার বাড়িতেই খাক, পরের বার থেকে তোর বাড়িতে”। তো তেমনি ব্যবস্থা হল – রাজুর বাড়িতে ফ্রায়েড রাইস ইত্যাদি দিয়ে কার্ত্তিক খাওয়া সারলেন। আর বাবুর বাড়িতে প্রায় ৭০ জন মত নিরামিষ – বুধো কলুকে নাকি পাওয়া যায়নি রাঁধার জন্য, স্টেপনি দিয়ে চালাতে হয়েছে।

    পরের বার নাকি বিরায়ানী খাবেই কার্ত্তিক বাবুর কাছে –
  • commentসুকি | 162.158.165.173 | ২৫ জানুয়ারি ২০২০ ১০:৪৭729497
  • ডাইনী নিধন যজ্ঞ
    -----------------------

    সেদিন নিমো স্টেশনে সন্ধ্যেবেলা গিয়ে যখন নামলাম তখন বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যে হয়ে এসেছে – আবাহাওয়া দপ্তর ১১ ডিগ্রী বলতে থাকলেও ফিল লাইক ৫ ডিগ্রী মতন। তার উপর আছে আবার উত্তুরে হাওয়া। ফলতঃ সেদিন স্টেশনে তেমন কাউকে পেলাম না ছেলে ছোকরা বসে থাকতে, শুধু দেখলাম মিলন ফোনে তার সাউন্ড বিজনেস নিয়ে কার সাথে কথা চালাচ্ছে।

    মিলন হল গিয়ে আমাদের ঘোষ পাড়ার বাসুদার ছেলে, মানে হিসেব মত আমার ভাইপো, আমাকে তার কাকা বলে ডাকার কথা। কিন্তু ওই সব তালেগোলে দাদা-ভাই বলেই চলে যায়। ফালতু বয়স ভিত্তিক বিভাজনে আমরা বিশ্বাসী ছিলাম না। মিলনের আছে মাইকের ব্যবসা, দোকানের নাম ‘মিলন সাউন্ড’ – আজকাল আমাদের পিকনিকে বা পাড়ার পুজোয় ছয়-ছয় বা নয়-নয় মিলনেরই সাউন্ড বক্স বাজে। ফোনে কথা শেষ হলে আমাকে দেখতে পেয়ে বলল, “বুঝলে সুকানদা, অফসিজনে একটা ভাড়ার ব্যবস্থা হয়ে গেল, চার বছর তো চলবেই”। বলে খেয়াল পড়ল, “আরে, তুমি আসবে বলে তো শুনি নি”। জিজ্ঞেস করলাম,

    - অফ সিজনে কিসের ভাড়া পেলি?
    - কেন তুমি শোনো নি? সে তো বিশাল কেস
    - কি শুনব?
    - আরে মাশডাঙাতে তো ডাইনী তাড়াতে যজ্ঞ হচ্ছিল কদিন থেকে

    পাশের বেঞ্চে অচেনা কেউ একটা চাদর মুড়ি দিয়ে ট্রেনের জন্য ওয়েট করছিল, সে ফুট কাটল, “ডাইনী নয়, কালা-জাদু”।

    যা বোঝা গেল মিলনের কথা থেকে মাশডাঙা গ্রামে ডাইনী বা কালা-জাদু কাটাতে যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে, এবং সেখানে মিলনের সাউন্ড সিষ্টেম দুরদার কাজ করছে। নিমো এবং রসুলপুর স্টেশনে মাঝে একটা ডি ভি সি-এর ক্যানেল আছে, যাকে আমরা ‘নদী’ বলি, আর সেই নদীর ধারের গ্রাম হচ্ছে মহেশডাঙা ওরফে মাশডাঙা।

    মাশডাঙা গ্রামে এমনি কালী এবং রক্ষকালী দুই ঠাকুরেরই পুজো হয়, রক্ষকালী পুজো উপলক্ষ্যে ঝাপান হয় বড় করে। কদিন আগে নাকি কালী ঠাকুর স্বপ্নে সেই নিত্য পুজারী ব্রাহ্মণকে বলে,

    - দ্যাখ, তুই তো রোজ ফল মূল দিয়ে পুজো করছিস আমাদের দুজনকে, কিন্তু আমাদের দুজনেরই যে হাত পা বাঁধা, কিছুই খাওয়া তো দূরের কথা, নড়তে চড়তে পর্যন্ত পারছি না! কিছু একটা কর।

    নিত্য পুজারী কিছুই বুঝতে পারল না যে দুই কালীর হাত বা বাঁধা মানে কি! সে তখন গিয়ে পড়ল গ্রামের প্রধান পুরোহিত গগা-র কাছে। তোতলা গগা ভাবার জন্য একবেলা সময় চেয়ে নিয়ে বিকেলে এসে জানালো, সেও ঠিক কি হয়েছে বুঝতে পারছে না, তবে মনে হচ্ছে কালী-কে কেউ বাণ মেরেছে। সেই বাণ মেরেই হাত-পা বন্ধন করেছে। গগা অকপটে জানালো যে এই ধরণের বাণ মারা কাটাবার স্পেশালিটি তার নেই এবং তার চেয়েও বড় কথা কালী ঠাকুর-কে বাণ মারছে, না জানি সে কত বড় ডাইনী বা কালা জাদু। গগাই বলল এই ধরণের কাজ একমাত্র করতে পারে রায়না গ্রামের পুরোহিত। তারা এই সব ব্যাপারে ডক্টরেট, ডি-ফিল করেছে।

    তা রায়না থেকে বামুন ডাকা হল – তারা এসে কি সব ঘুরে ফিরে দেখল চারপাশ ক্রাইম সীনের। পুরো ফরেনসিক এক্সপার্টদের মত। নিজেদের মধ্যে ডিসকাস করে রায় দিল, ঠিক সময়ে ডাকা হয়েছে তাদের। আর একটু হলে কেস আরো গড়বড় হতে পারত। মনে হচ্ছে মাশডাঙা গ্রামের কেউ রিসেন্টলি কালা জাদু শিখছে বা সবে মাত্র শিখে এসেছে। এই জিনিস তারই কাজ, মনে হচ্ছে নেট প্র্যাক্টিস করতে গিয়েছিল মাঠে পুরোপুরি খেলতে নামার আগে। গ্রামের পাবলিক অধৈর্য্য হয়ে জিজ্ঞেস করল, তা নেট প্র্যাক্টিস করতে গিয়ে সে করেছে কি? পুরোহিত জবার দিল যে, এমনি কালী এবং রক্ষকালী দুই ঠাকুরেরই হাত-পা বেঁধে রেখেছে জাদু করে। এর থেকে উদ্ধার পেতে গেলে যাগ-যজ্ঞ করতে হবে।

    হল তাই চার দিন ধরে যাগ-যজ্ঞ, মিলন সাউন্ড ব্যবহার করে উচ্চকিত মন্ত্রপাঠ ইত্যাদি – নিজেদের গ্রাম এবং পাশের গ্রাম সবাই শুদ্ধ হল সেই মন্ত্র পাঠে। চার দিনের শেষে যজ্ঞ নিভিয়ে রায়নার পুরোহিত জানালো, “বাঁধন খুলে দিয়েছি ঠাকুরের – আর কোন আসুবিধা হবে না, যা করার করে দিয়েছি”। গ্রামের লোক উত্তেজিত, “ঠাকুর মশাই, আপনি তা হলে এবার বলুন কোন বোকাচোদা আমাদের গ্রামে এই কালা-জাদু শিখতে লেগেছে, ক্যেলিয়ে তার গাঁড় না ভাঙা পর্যন্ত আমাদের শান্তি নেই”। ঠাকুর মশাই বিচক্ষণ লোক, জানালো, “সেটা তো তোদের বলব না – নিজেদের মধ্যে মারপিট লেগে যাবি। বলছি তো, আর কোন সমস্যা হবে না। তবে আগামী চার বছর করতে হবে এই যজ্ঞ”।

    এদিকে মিলনের ঝোঁক ছিল যজ্ঞে।পুজোয় দেওয়া প্রচুর ফল-মিষ্টির দিকে। ভেবেছিল যজ্ঞ শেষ হলেই সাঁটাবে সব পুরোহিতের কাছ থেকে নিয়ে। সেই মত এগিয়েছে – কিন্তু বিধি বাম। আমাকে মিলন হতাশ মুখে জানালো, “জানো সুকানদা, বাঁড়া বামুন সব কিছু গুটিয়ে নিয়ে গিয়ে নদীর জলে ফেলে দিল। আবার বলে কিছু মনে করো না বাবা, এই বার রিক্স নিতে পারছি না, কি ফলে-মিষ্টিতে কি দোষ ঢুকে আছে। পরের বার থেকে সব ভাগ করে দেবো!”

    মিলনে হাসিমুখে আরো জানালো, “বামুন ফল না দিক, পরের চার বছরে মাইক ভাড়ার ব্যবস্থা তো করে দিয়েছে!”
  • commentসুকি | 162.158.118.219 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৭:৫৯729663
  • অশোক আশ্রম
    -------------------------

    এবার নিমোতে গিয়ে শুনলাম কামারদের অশোক নাকি আবার ফিরে এসে আশ্রম খুলেছে!

    নিমো গ্রাম বেশ কতকগুলি ভালো ফুটবলার এবং অন্তত দুজন আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট প্লেয়ার উপহার দিলেও, আমাদের গ্রামের প্রকৃত অর্থে অ্যাথলিট বলতে ওই একজনই ছিল, অশোক কর্মকার। পরবর্তী কালে সৈকত ক্রীড়াবিদ হবার চেষ্টায় প্রায় নেংটি সদৃশ শর্টস পরে মাঠে ছোটাছুটি শুরু করলেও, অল্প বয়সে মাথায় চুল উঠতে শুরু করলে সেই স্বপ্নের পরিসমাপ্তি হয়। খুব অল্প বয়সে সৈকতের অস্বাভাবিক চুল পড়তে শুরু করে। সব চুল পড় গেলে বিয়ে হবে কি করে - এই চিন্তা ব্রেনের বেশীর ভাগ জায়গা দখল করে নিলে সৈকতের পারফরমেন্স খারাপ হতে শুরু হয়। সারাদিন চুল নিয়েই ব্যস্ত - যাবতীয় রকম অ্যালোপ্যাথী, হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ, জল-পোড়া, চাল-পোড়া, মাদুলি ইত্যাদি ইত্যাদি জিনিস এক্সপ্লোর করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছোটাছুটি করতে গিয়ে ক্রীড়াবিদ হবার সময়টাই পার করে ফেলেল। ফলতঃ নিমো গ্রামের এক মাত্র সফল অ্যাথলীট হিসাবে অশোক-এরই নাম লেখা রইল ভারত সেবক সমাজের খাতায়।

    অশোক আবার সম্পর্কে আমার মামা ছিল – মায়ের কোন এক দীন-করা সম্পর্ক থেকে। এবং তার জন্য আমাকে ভাগনা বলেই চালাত অনেক সময়। সেই ছোটবেলায় গ্রামের বার্ষীক স্পোর্টস-ডে তে হাইজাম্প, লং-জাম্প এবং রসুলপুর-নিমো জি টি রোড রেসে সোনার পদক অশোকেরই বাঁধা থাকত। এক সময় বাঁশ বাগানের পাশের ফাঁকা মাঠে সাদা পোষাক পরে ক্যারাটের ক্লাস শুরু করল অশোক। কোমরে দেখলাম কালো-বেল্ট বাঁধা, জানালো ব্ল্যাক-বেল্ট হয়ে গ্যাছে কোন ফাঁকে। তো যাই হোক, বেশ কতকগুলো ছেলে পুলে, চ্যালা-চামুন্ডা জুটে গেল ‘অশোক ক্যারাটে ক্লাবের’। মুখে বিকট আওয়াজ করে সব হাত-পা ছোঁড়া শুরু করল একসাথে। ‘খিয়া – খিয়া – খিয়া’ আওয়াজে বিকেলে শুভ-ঠাকুরের তলায় বসে পান-গিন্নীর গুলতানি মাথায় উঠল। সন্ধ্যে হয়ে এলে শাঁখের শব্দের সাথে মিশে যেতে লাগল অশোকের ক্যারাটে ক্লাবের প্র্যাক্টিসের শব্দ।

    যখন নিমো ক্রিকেট টিমের হয়ে উইকেট কিপিং শুরু করি তখন আমি ক্লাস সেভেন। অশোক তখনো বোলিং করে মাঝে মাঝে। বল করেই, “ভাগনা, অফ-কাটার টা বুঝতে পারলি তো”। বলতাম, “মামা, বল ব্যাটসম্যানকে বীট করলে তবেই তো আমি কাজে আসব। বল তো ব্যাটসম্যান মাঠের বাইরে মেরে রশিদের বাগানে ঢুকিয়ে দিয়েছে! অফ-কাটার নিয়ে আমি কি মারাবো!” উত্তর হল “আহা – বীট না করলেই বা, অফ কাটারটা দেখবি না?” কি আর বলি – একদম ফালতু বোলার, আমি বাঁ-হাতে ওর থেকে ভালো বল করতাম।

    এই ভাবেই ক্যারাটে ক্লাবে অশোকের প্রধান শিষ্য হয়ে উঠেছিল তার নিজের ভাইপো, সাধনের ব্যাটা বাপন। হলুদ বেল্ট পর্যন্ত পোঁছে বাপন বাড়ি থেকে পালিয়ে গেল কোন এক যাত্রা দলের হয়ে রাঁধতে। কিছু বছর পরে ফিরে এসে বলল, “এবার থেকে নিমোর যাবতীয় পিকনিকে রান্নার দায়িত্ব আমার”। রাঁধলোও বেশ কয়েকটা পিকনিকে। কয়েকমাস পর কাকা-ভাইপো দুই জনেই হাওয়া নিমো থেকে। কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না দুই জনকে। সাধনের বউ নিমো মসজিদের মৌলবী-র কাছে জলপোড়া, পচা মোড়লের কাছে বাটি চালা করেও জানতে পারল না ছেলে কোথায় গ্যাছে।

    কয়েক বছর পরে কাকা-ভাইপো ফিরে এল – এবার অশোক নাকি ডাক্তার হয়ে এসেছে। উত্তর প্রদেশে কোথায় এক গ্রামে নাকি অশোক ডাক্তারি জাঁকিয়ে বসেছিল, বাপন তার কমপাউন্ডার। সেই ডাক্তারির ব্যবসাও চলল কয়েক বছর।

    তার পর থেকে অশোক-কে ঠিক মত ট্র্যাক করা চাপ হয়ে গিয়েছিল। কেউ বলে স্কুল মাষ্টারি করছে, কেউ বলে এল আই সি-র এজেন্ট, কেউ বলে আলুর ব্যাবসা করছে, কেউ বলে পতঞ্জলী স্টোর খুলেছে।

    তাই যখন এবার গিয়ে শুনলাম যে অশোক আশ্রম খুলেছে তাই দেখতে না গিয়ে থাকতে পারলাম। নিমোর গ্রামের ঠিক বাইরে পুব দিকে একটা খুব বড় দীঘি টাইপের আছে, যার নাম ‘গরাঙ্গে’। সেই গরাঙ্গের পূব পাড়ে নাকি অশোক আশ্রম খুলেছে এবং সেখানে যোগ ব্যায়াম শেখানো হচ্ছে। এই গরাঙ্গে নিয়ে একটু চাপ আছে। এই দীঘির একপাড়ে আছে আমাদের গ্রামের শ্মশান এবং অপর একপাড়ে আছে পাশের গ্রামের শ্মশান। অর্থাৎ মড়া পোড়া, পোড়া কয়লা, ভূত ইত্যাদি নিয়ে কারবার এই দীঘির। যেদিন গরাঙ্গের পাড়ে অশোকের আশ্রম দেখতে যাব ভাবলাম, তার আগের দিন বাউরিপাড়ার বড়-র (‘বড়’ এক ছেলের নাম) মা মারা গেছে এবং তাকে ওই শ্মশানে পোড়ানো হয়েছে।

    বেলা এগারোটার দিকে একা একাই হেঁটে হেঁটে গরাঙ্গের পাড়ে হাজির হলাম। আশেপাশে কেউ নেই – একপাশে এক অশ্বত্থ গাছের তলায় পীর বাবার মাজার টাইপের রয়েছে। এদিকে ওদিক হেঁটে পুরানো শ্মশানের কাছে গেলাম – পুরানো ঘরটা প্রায় ভেঙে এসেছে, আগাছায় ভর্তি, মনে হয় সাপের আড্ডা। ভিতরে ঢোকার সাহস হল না – অশ্বত্থ গাছের আড়ালে কেমন এক ভৌতিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। চিতা ওঠাবার রেলিং গুলোয় জং পড়ে গেছে। তার একটু পাশে নতুন শ্মশান চালাটা – নিমো পঞ্চায়েত থেকে ঢালাই দেওয়া হয়েছে এবং নতুন রেলিং। দেখলাম রেলিং-এর পাশে কালকের বড়-র মায়ের বডির সাথে আনা গাঁদা ফুলের মালা তখনো টাটকা রয়েছে।

    গরাঙ্গের অপর পাড়ে অশোকের আশ্রম – পাড় বরাবর চলতে শুরু করলাম, পাশেই অন্য গ্রামের শ্মশান। এদের শ্মশানে আবার কালীর মূর্তি। একটা ঘট উলটে রয়েছে – মনে হয় ইদানিং-য়েই মড়া পোড়ানো হয়েছে। এই এলাকাটা একদম ছায়ায় ছায়ায়। উঠপাখির মত বড় টার্কি দেখলাম ঘুরে বেড়াচ্ছে কয়েকটা – কারা পুশেছে কে জানে! গা ছমছম পরিবেশ – একটু একটু করে এগুচ্ছি। হঠ করে পিছন থেকে আওয়াজ, “এই সুকান”। আচমকা পিছনে থেকে ডাক শুনে আত্মারাম খাঁচাছাড়া হবার জোগাড়। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম খড়ের গাদার ওপাশ থেকে মাঠে কাজ করা বাউরি পাড়ার বিশুদা ডাকছে। বলল, “কি করছিস এখানে, কবে এলি, ছবি তুলে বেড়াচ্ছিস নাকি”? কিছু কথা বলে বিশুদা চলে গেল –

    এদিকে আর এগুতে সাহস হল না তেমন – আচমকা যদি আবার কেউ ডেকে দেয়, হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেতে পারে। ফলে অশোকের আশ্রমে ঢোকা হল না সেদিন – আশ্রমে কেউ ছিল না তখন, রোজ বিকেলে খোলে।

























    সাথের ছবিতে সেই যাত্রা পথ। দীঘির ওই পাশে যে ছোট্ট কুঁড়েটা দেখা যাচ্ছে, সেটাই অশোকের আশ্রম। পরের কোন একবার আশ্রমের ডিটেলস হবে না হয়।

  • comment সুকি | 172.68.146.169 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৭:১৫729689
  • বাই দি ওয়ে, কিছুদিন আগে "আজকের তুঘলক" বলে দাদু মহেন্দ্র ঘোষের কথা লিখেছিলাম - দাদু গত বুধবার মারা গেলেন, এক যুগের পরিসমাপ্তি
  • commentসুকি | 162.158.118.73 | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৯:৫৬729732
  • দাদু মহেন্দ্র ঘোষের আজকে শ্রাদ্ধ সম্পন্ন হল। শেষ বয়েসেও তুঘলকি চাল দিয়ে জীবনে ইতি টানলেন। মৃত্যু এগিয়ে আসছে কয়েক বছর আগে হঠ করে বোধগম্ম হয়। ইচ্ছে হল নিজের হাতের লাগানো গাছের কাঠে পুড়ে মরার। ফলে আগে যেখানে গোলাপ বাগান ছিল সেখানে লাগানো হল ল্ম্বু গাছ। লম্বু গাছ খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে - কিন্তু প্রেডিক্টেড টাইমের আগেই মরে যাওয়ার ফলে লম্বু গাছ পুষ্ট হবার চান্স পেল না।

    বলতে গেলে নাবালক ল্ম্বু গাছের কাঁচা কাঠের চিতায় উঠল দাদু। সবার টেনশন, মাল পুড়বে তো! চারিদিকে ধোঁয়ায় ভর্তি কাঁচা কাঠের। মরা পুড়তে সময় লাগবে। কিছু পাবলিক বেজায় খুশ। একপেটি মদ ছিল, আরো একপেটি মদ আনা হল বেশী টাইমটা কভার করার জন্য।

    মোদ্দা কথা, ভালোই গেলেন আজ কা তুঘলক

  • পাতা : 1 | 2 | 3 | 4
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • হরিদাসের বুলবুলভাজা : সর্বশেষ লেখাগুলি
  • মহাভারতের কৃষ্ণায়ণ এবং রামের বৈষ্ণবায়ন
    (লিখছেন... কল্লোল, কল্লোল, মাহবুব লীলেন)
    বিনায়করুকুর ডায়েরি
    (লিখছেন... একলহমা , pi, বিপ্লব রহমান)
    জাগ্রত শাহিন বাগ
    (লিখছেন... বিপ্লব রহমান, আজ সুপ্রিম কোর্টে, Anjan Banerjee)
    জনসন্ত্রাসের রাজধানী
    (লিখছেন... র, pi, রঞ্জন)
    কোকিল
    (লিখছেন... দেবাশিস ঘোষ)
  • টইপত্তর : সর্বশেষ লেখাগুলি
  • জ্বলন্ত দিল্লিঃ এক মৌলবাদী হিন্দুত্ব ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রের নরমেধ যজ্ঞ।
    (লিখছেন... Timesnow, এলেবেলে, Update)
    ফরিশতা ও মেয়েরা
    (লিখছেন... একলহমা)
    ভালোবাসার দিন
    (লিখছেন... একলহমা)
    প্রেমে পড়ার হিসেব নিকেশ
    (লিখছেন... একলহমা, প্রেমে পড়বাসে , দ্যুতি)
    গুরুর নতুন লেআউট
    (লিখছেন... বুঝভুম্বুল, বিপ্লব রহমান, বিপ্লব রহমান)
  • হরিদাস পালেরা : যাঁরা সম্প্রতি লিখেছেন
  • দিল্লি জ্বলছে : Saikat Bandyopadhyay
    (লিখছেন... দিল্লি গণহত্যা, Update, video)
    বাবাকুকুর : অভিষেক ভট্টাচার্য্য
    (লিখছেন... bah! bah!, i, দ্যুতি)
    মৃত্যুহীন প্রাণ : বিপ্লব রহমান
    (লিখছেন... প্রতিভা, একলহমা)
    কাটমানি ও সজলকান্তির গপ্প : Anjan Banerjee
    (লিখছেন... দ, একলহমা)
    ডিরাকের ফাঁকতালে নোবেল-প্রাপ্তি : ঋক্ ধর্মপাল বন্দ্যোপাধ্যায়
    (লিখছেন... b, de, রৌহিন)
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
  • যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
    মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত