এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • আমাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা

    বকলম -এ অরিত্র লেখকের গ্রাহক হোন
    ১২ এপ্রিল ২০২৪ | ৪২১ বার পঠিত
  • আমাদের জীবন যাপনে দুই ধরণের জিনিস দরকার হয় – পণ্য ও পরিষেবা। প্রতিটি পণ্যের জন্য আমরা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর (জল, স্থল, বাতাস) নির্ভরশীল। যেমন কাঠ, জ্বালানি বা ফসলের মতন সরাসরি ব্যবহার করার জিনিস আর নাহলে নানান খনিজ দ্রব্য যার থেকে তৈরী হয় আমাদের প্রয়োজনের জিনিস যেমন সিমেন্ট থেকে সেমিকন্ডাক্টর। প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার না করে কোনো পণ্য উৎপাদন সম্ভব নয়। পরিষেবার জন্যে আমরা নির্ভর করে থাকি অন্যান্য মানুষের (বা প্রাণীর) ওপর, যাদের জীবনধারণ নির্ভর করে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপরে, ফলে পরিষেবার ক্ষেত্রেও একটা পরোক্ষ নির্ভরশীলতা থাকে।

    অর্থাৎ আমরা বেঁচে থাকার জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করে ব্যবহার বা ভোগ করি, আর প্রকৃতি ক্রমাগত এইসব প্রাকৃতিক সম্পদের উৎপাদন বা সৃষ্টি করে চলে। কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদ কি অঢেল? না নয়, তবে প্রকৃতির সম্পদ সৃষ্টির একটা নির্দিষ্ট হার (বা গতি) আছে, কোনো একটি বছরে পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে একটি নির্দিষ্ট পরিমান সম্পদ সৃষ্টি করে।  সেই সম্পদ সৃষ্টির হারের কথা মাথায় রেখে যদি আমরা তার সমান বা তার থেকে থেকে কম সম্পদ ব্যবহার করি তাহলে সেই মানব জীবন হবে 'বহনীয়' (sustainable)। এর একটা পরিমাপ হলো Earth Overshoot Day (EOD) বাংলায় হয়তো "বিশ্ব লক্ষ্য-অতিক্রম দিবস", (তবে  অনেকে আবার EOD এর পরিসংখ্যানগুলো মানেন না)। যাই হোক, EOD হলো বছরে সেই দিনটি, যেই দিনে কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষ ওই ভূখণ্ডে সারা বছরে সৃষ্ট সম্পদের সমপরিমান সম্পদ ব্যবহার বা ভোগ করে শেষ করে। এই EOD প্রতিটা দেশ ও সমগ্র বিশ্বের জন্য গণনা করা হয়। আরো জানতে দেখুন – www.overshootday.org। 

    এখন এটা পরিষ্কার যে পৃথিবী যে গতিতে সম্পদ সৃষ্টি করে আমরা যদি তার থেকে বেশি গতিতে সম্পদ নিঃশেষ করতে থাকি তাহলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই আদর্শ অবস্থায় এই EOD দিনটি হওয়া উচিত ৩১শে ডিসেম্বর বা তারও পরে। কিন্তু আমরা যদি সারা বিশ্বের নিরিখে EOD দেখি তাহলে দেখতে পাচ্ছি এই ২০২৩ সালে সেটা ২রা আগস্ট পড়েছে। বোঝাই যাচ্ছে যে আমরা প্রাকৃতিক সম্পদ উৎপাদনের হারের প্রায় দ্বিগুন হারে  সম্পদ নিঃশেষ করে চলেছি। যদিও এই গতি বা হারটা সারা বিশ্বে একই রকম নয়। উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলো যেমন আরো অনেক আগেই তাদের নিজের নিজের EOD অতিক্রম করে, তেমনি আফ্রিকা মহাদেশ ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের (বিস্তৃত অরণ্য ভূমির আশীর্বাদে) কোনো কোনো দেশ তাদের দেশের EOD অতিক্রম করেই না, অর্থাৎ প্রকৃতির উৎপাদনশীলতার হারের থেকে তাদের আহরণের হার কম।

    ফলে কিছু চিন্তাভাবনা উঠে আসছে বিশ্বজুড়ে যাতে করে আমাদের জীবনযাত্রার ধরণ পাল্টে পরিবেশগতভাবে বহনীয় সভ্যতা তৈরী করা যায়।

    ১) অযথা অপচয় বন্ধ করা। এর একটি ভালো উদাহরণ ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো, গণপরিবহন ও কম দূরত্বের জন্য পায়ে হাঁটা বা সাইকেলের মতন ন্যূনতম শক্তি ও সম্পদ অপচয়কারী পরিবহন বিকল্প গ্রহণ করা যেখানে যতটা সম্ভব। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্যে পরিকাঠামো বাবদ অনেক সম্পদ নষ্ট হয়, গাড়ি নির্মাণের পেছনের প্রভূত সম্পদ ও শক্তি ব্যয় হয় আর গাড়ি চালানোর জন্য জ্বালানির খরচ তো আছেই, সেটি আবার পরিবেশ দূষণও করে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও এইভাবে ভাবা যেতে পারে, যেখানে জীবনযাত্রার মানে বিরাট কোনো আপস না করেও অপচয় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানো যায় এমন বিকল্প গ্রহণ করা যায় সেখানে ভাবা হচ্ছে।

    ২) পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র তৈরী করা এবং অভ্যাস করা। একটি পণ্য তৈরীতে যে সম্পদ ব্যবহৃত হয়, যদি তার একটা অংশ খারাপ হয়ে পরে তাহলে পুরোটা পণ্যটিকে বাতিল করার (use and throw) পরিবর্তে সেটার খারাপ হয়ে পড়া অংশ পাল্টে বা মেরামত করে যদি চালানো যায় তাহলে অনেক সম্পদ ও শক্তির সাশ্রয় হয়। ইউরোপের অনেক অংশে পুরোনো বাড়ি, অব্যবহৃত বাড়িকেই নতুন কাজে ব্যবহার করে নেওয়ার চল ছিল এবং সেই প্রবণতা অন্যত্রও বাড়ছে। জামা কাপড় ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও তাই। অবশ্য এই বাতিল করে ভেঙে ফেলে আবার নতুন তৈরী করার ব্যবস্থা স্বাভাবিক ভাবে আসেনি হয়তো, এই ভিডিও রিপোর্টটি[১] দাবি করেছে আমাদের এই "অতি উৎপাদন নির্ভর" আর্থিক বৃদ্ধির মডেলের কারণেই এই use & throiw অভ্যেস তৈরী করা হয়েছিল।

    ৩) স্থানীয় জিনিসের প্রতি জোর। পণ্য বা পরিষেবার জন্য স্থানীয় জিনিস/উপাদান ব্যবহার করার দিকে ঝোঁক দেওয়ার অন্যতম কারণ হলো 'পণ্য পরিবহন' বাবদ যে সম্পদ ও শক্তির খরচ হয় তা কমানো। স্থানীয়, সহজলভ্য, উপাদান দিয়ে কিভাবে উৎকৃষ্ট বাড়ি, জামাকাপড় বা অন্যান্য পণ্য তৈরী করা যায় সেই নিয়ে গবেষণার প্রতি ঝোঁক দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে।

    অর্থাৎ উন্নয়ন বৃদ্ধি বা অর্থনীতিকে উৎপাদননির্ভর না করে অন্যভাবে চিন্তা করার চেষ্টা। পোশাকি নাম বোধহয় post-growth economics (বৃদ্ধি-উত্তর অর্থনীতি) বা degrowth (বাংলায় কি অববৃদ্ধি?)। আরও হয়তো কিছু চিন্তাভাবনা আছে, এখন আমার এইটুকুই মাথায় এলো। 

    যাই হোক এখানে আমার একটি ব্যক্তিগত প্রশ্ন আছে। আজকে যে কৃবু (AI) নির্ভর ভবিষ্যৎ আমরা কল্পনা করছি, তাতে যে পরিমান গণন-শক্তির প্রয়োজন হবে, সেইটা কি প্রচুর পরিমানে প্রাকৃতিক শক্তির ব্যয় ছাড়া সম্ভব? যদি ধরা যাক পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার করে তার প্রয়োজন মেটানো গেলো, কিন্তু এই প্রভূত পরিমানে শক্তির উৎপাদনে পৃথিবীর ওপর পরিবেশের ওপর প্রভাব কী হবে?

    [১] – ভিডিও 

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:55b5:33d9:dbf2:1326 | ১২ এপ্রিল ২০২৪ ১৪:৪৯530507
  • এই রে, আমি আবার কনসিউমারিসমের একনিষ্ঠ সাপোর্টার। যতো পারো সব কিছু চেখে দেখো, পরে দেখো, ঘুরে দেখো, কনসিউম করো, এই হলো আমার নীতি। আমি তো বাঁচবো আর বড়োজোর তিরিশ থেকে চল্লিশ বছর, তার মধ্যে আমি সব কিছু এক্সপি করে দেখতে চাই। আমি পটল তোলার পর পৃথিবীর যা ইচ্ছে হোক, তাতে আমার কি। 
     
    অরিত্রবাবুর পয়েন্টগুলো পড়ে যা মনে হলোঃ আমি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে একেবারে রাজি নই। কম দূরত্ব হলে স্কুটার, তার বেশী হলে গাড়ি। আর মাঝে মাঝে একেকবার লং ড্রাইভে বেরিয়ে পড়া চাই, কোন কারন ছাড়াই, তা না হলে জীবনটাই বৃথা। তাতে অবশ্য বিনা কারনে তেল পোড়ে। 
     
    আমি বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ইউস অ্যান্ড থ্রোতে বিশ্বাসী, তার কারনও আমি কনসিউমারিসমে বিশ্বাস করি। আর স্থানীয় জিনিষ ব্যবহার করতে আপত্তি নেই, কিন্তু আমার নানান দেশের জিনিষ ব্যবহার করতেও ভালো লাগে।  তার কারন আমি ফ্রি ট্রেড সাপোর্ট করি, সারা পৃথিবীর জিনিষপত্র সারা পৃথিবীতে অবাধে যাতায়াত করুক চাই, সব দেশে ফ্রি মার্কেট তৈরি হোক চাই। কাজেই বাড়ি বানানোর জন্য ইটালিয়ান মার্বেলও চাই, পরার জন্য আইরিশ লিনেনও চাই, আর বিকালে খাবার জন্য ব্রজিল আর ভিয়েতনামের কফি বিনও চাই। এই জীবনটা একবার পেয়েছি, সব কিছু ভোগ করতে চাই। কবি বলেছেন রাজু চল রাজু আপনি মস্তি মে তু, কোই জিয়ে য়া মরে কেয়া তুমকো বাবু। 
  • Arindam Basu | ১২ এপ্রিল ২০২৪ ১৬:০৩530511
  • অরিত্র, যে তিনটি ব্যাপারের উল্লেখ করেছেন (অপচয় রোধ, পুনর্ব্যবহার, স্থানীয় জিনিস), তিনটেই অসম্ভব রকমের গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে এই সময়ে। অবশ্য আজকাল বহু উন্নত দেশেই বহু মানুষ এই তিনটে ব্যাপারকে মেনে চলেন, এর মধ্যে বিশেষ করে স্থানীয় জিনিস নিজেরা হয় ছোট বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনে নেওয়া (https://empiread.com/blog/what-is-the-shop-local-trend/), নিজেরা নিজেদের প্রয়োজনীয় খাবার যতটা সম্ভব নিজেরা করে নেওয়া, এবং বহু ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদিত পণ্য বিশ্বায়িত পণ্যের তুলনায় আরো বেশী উৎকৃষ্ট | একটা উদাহরণ দিই, সপ্তাহের শেষে অনেকেই Farmers Market থেকে বাজার করে নেন, নিজেদের পাঁউরুটি, সপ্তাহের খাবার দাবার নিজেরা বাড়িতে বানিয়ে নেন, পুরনো জিনিস নষ্ট করে ফেলে দেবার বদলে সারিয়ে নেন (https://www.consumer.org.nz/articles/right-to-repair-why-you-should-care) , আমার নিজেদের বেশ বন্ধুবান্ধবকে দেখছি পুরনো গাড়ি কিনে তার পেট্রলের ICE ইঞ্জিন ফেলে দিয়ে ইলেকট্রিক মোটর আর ব্যাটারী লাগিয়ে নিচ্ছেন এবং তাকে দিব্য ব্যবহার করছেন | গাড়ীর বদলে সাইকেল (ইলেকট্রিক বাইক আজকাল খুব কাজের জিনিস, ট্রেন, বাস, পাবলিক ট্রানসপোর্ট) খুবই পপুলার, অন্তত আমরা নিজেরাই ছোট ট্রিপ গুলো সাইকেলে সেরে নিই, বাকীটা সম্ভব হলে ট্রেনে বাসে, দরকার পড়লে গাড়ি | অনেকেই, আমি নিজে যেমন, ছোট ট্রিপের জন্য প্লেনে আর চড়ি না (এটাও দেখুন, https://noflyclimatesci.org ) |
     
    "যাই হোক এখানে আমার একটি ব্যক্তিগত প্রশ্ন আছে। আজকে যে কৃবু (AI) নির্ভর ভবিষ্যৎ আমরা কল্পনা করছি, তাতে যে পরিমান গণন-শক্তির প্রয়োজন হবে, সেইটা কি প্রচুর পরিমানে প্রাকৃতিক শক্তির ব্যয় ছাড়া সম্ভব? যদি ধরা যাক পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার করে তার প্রয়োজন মেটানো গেলো, কিন্তু এই প্রভূত পরিমানে শক্তির উৎপাদনে পৃথিবীর ওপর পরিবেশের ওপর প্রভাব কী হবে?"
     
    ইকোসিস্টমের  প্রাথমিক শর্ত, যে মানুষ প্রকৃতি থেকে শক্তি সঞ্চয় করে আর প্রকৃতিতে পুষ্টি (nutrient) ফিরিয়ে দেয় | এখন শক্তি আর নিউট্রিেয়েন্ট, দুটোর ক্ষেত্রেই প্রশ্ন হচ্ছে কোন ধরণের শক্তি আর কি সে নিউট্রিেয়েন্ট?  যদি এমন হয় non-renewable শক্তির উৎসে শক্তি সঞ্চয় করে জমিতে ক্রমশ নাইট্রোজেন জাতীয় nutrient, বা আকাশে গ্রীনহাউস গ্যাস, তাহলে কৃবু'র এই ভয়ঙ্কর শক্তি চাহিদা  মেটাতে গিয়ে প্রকৃতির সর্বনাশ হবার সম্ভাবনা । আবার যদি দেখা যায় যে পরিমাণ শক্তির কথা বলা হচ্ছে তার চাহিদা মেটানো প্রাকৃতিক renewable source থেকে আমরা মানবসমাজ যুগিয়ে নিতে পারলাম আর তার সূত্রে প্রাকৃতিক উপকারী nutrient ফেরৎ গেল (যেমন মাটিতে জলের পরিমাণ বাড়ল, aquifer recharge করা গেল), তাহলে সে আবার অন্যরকম ব্যাপার।  প্রকৃতির ওপর প্রভার কি হবে অনেকাংশে এসবের ওপর নির্ভর করবে। 
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:3170:7f86:c94:f6d9 | ১২ এপ্রিল ২০২৪ ২০:১৪530514
  • ফ্লাইটের সংখ্যা কিন্তু আবার বাড়ছেঃ 
     
     
    কোভিডের সময়ে কমেছিল বটে, তবে এই বছরেই প্রি কোভিড লেভেলে ফিরে যাবে বা তার থেকে বেড়ে যাবে। 
     
     
    The IATA predicts that the number of passengers traveling by air will reach 4.7 billion in 2024, a jump from the 4.5 billion passengers who traveled in 2019. This increase is driven by changing travel habits. IATA survey data shows that one-third of the respondents say they are traveling more than they did before the pandemic, while about half say their travel is the same. Just 18% say they are traveling less.
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:3170:7f86:c94:f6d9 | ১২ এপ্রিল ২০২৪ ২০:২৯530515
  • আর এই হলো গ্লোবাল কনসিউমার স্পেন্ডিং ট্রেন্ড। এখানে দেখাচ্ছে ২০২১ অবধি, যদিও ছবির ওপরে বাঁদিকে লেখা ২০২৩ অবধি। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো, কোভিড এর ফলে কনসিউমার স্পেন্ডিং কমে গেলেও, ২০২১ থেকেই পুরোপুরি রিকভার করে গেছিল। রেট অফ স্পেন্ডিং খেয়াল করুন। 
     
     
  • বকলম -এ অরিত্র | ১২ এপ্রিল ২০২৪ ২০:৫৮530517
  • ডিসির প্রথম কমেন্ট পড়ে আমার তো দামোদর শেঠ মনে পরে গেলো। কটকের জুতো থেকে ঝড়িয়ার জিলিপি, বিরাট আয়োজন, ইনফ্যাক্ট যদি শেঠ বানান ইংরেজিতে C দিয়ে (Chevrolet এর মতো) লেখা যায় তাহলে abbreviation টাও d.c. ই দাঁড়াচ্ছে! laugh
     
    ফ্লাইট বাড়া কমার একটা ডেটা দিয়ে কিছু বোঝা যায় না, ওটা আবার নেমে যেতে পারে, বাড়ার রেট কমতে পারে, অন্য ফ্যাক্টর থাকতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হল, এখনো তো degrowth একটা গৃহীত নীতি নয়, কেউ কেউ এর হয়ে ওকালতি করছেন, আমিও । এটা একটা ভাবনা যেটার চর্চা বিশ্বজুড়ে চলছে। এটাও কেউ বলছে না যে সমস্ত কিছুতেই এই চিন্তাভাবনা কার্যকরী করতে হবে। তবে আপনার গাড়ি চড়ে ঘোরার আনন্দে খুব সম্ভবত বাগড়া আসতে চলেছে, ভারতেও। দেশ জুড়ে মেট্রো সম্প্রসারণ, সাইকেলের দিকেও একটা হাওয়া তৈরী হচ্ছে, পুণে শহরে শুনেছি "সাইকেল পাথ" তৈরী হয়েছে অনেক জায়গায়। ব্যক্তিগত ভাবে আমি গণপরিবহনে (যদি না মারাত্মক ভীড় হয়) যাতায়াত করতে ভীষণ ভালোবাসি এবং তর্ক করবো যে সেটা অনেক আরাম দায়ক। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি যেকোনোদিন আমি গাড়িতে (বা এরোপ্লেনে) যাওয়ার থেকে ট্রেনে যাবো, গাড়িতে দু তিন ঘন্টা বড়জোর সহ্য করা যায় তারপর গা হাত পা খুব ব্যাথা করে, বীভৎস যন্ত্রণাদায়ক। আর ফ্লাইটও বাপু তেমন আরামদায়ক নয়। ট্রেনে খুব সুন্দর যাওয়া যায় চারপাশ দেখতে দেখতে।
     
    এবি, "মানুষ প্রকৃতি থেকে শক্তি সঞ্চয় করে আর প্রকৃতিতে পুষ্টি ফিরিয়ে দেয়" – এই দেখাটা বেশ ভালো লাগলো, শিখলাম। হ্যাঁ এভাবে পারলে সমস্যা নিশ্চয়ই কম। তাও একটা প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে (বা হয়তো বুঝিনি), শক্তি উৎপন্ন করার পরে যখন তা ব্যবহার করে কাজকর্ম সম্পন্ন করা হবে তখন প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, কৃবু ভবিষ্যৎ মানে প্রচুর প্রসেসিং ইউনিট – ডেটা সেন্টার সার্ভার ক্লায়েন্ট ডিভাইস (IoT), এই বিপুল উৎপাদিত তাপ কী প্রশমিত করা যাবে কোনো উপায়? নাহলে তো তাপমাত্রা বাড়বেই। আসলে প্রচুর ভোগ মানেই প্রচুর উৎপাদন মানেই প্রচুর কাজ (মানুষ করুক বা যন্ত্র) মানেই প্রচুর তাপ। সেটার মোকাবিলা করা যাবে কি? 
  • বকলম -এ অরিত্র | ১২ এপ্রিল ২০২৪ ২১:১১530518
  • 'কনসিউমার স্পেন্ডিং ট্রেন্ড' নিয়েও একই কথা বলবো, এগুলো কোথাও সরকারী নীতি হিসেবে গৃহীত হয়নি (হয়েছে কি? হলে কি মানুষ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আরও ভোগবাদী হয়ে পড়েছেন? সেরকম কিছু জানি না) কাজেই এখনকার ডেটায় কোনো প্রভাব পড়ার কথাই নয়। এটা চর্চার জায়গায় রয়েছে, আমরা সমর্থন বা বিরোধিতা করতে পারি মতামত পরামর্শ দিতে পারি। 
     
    তবে in particular এই 'degrowth' (আমি টার্মটা ব্যবহার করলেও এর সব যুক্তির সঙ্গে একমত নাও হতে পারি) নিয়ে কিছু সংশয় ইতিমধ্যেই আছে, এটা সম্পূর্ণ বাস্তববাদী প্রক্রিয়া কিনা সেইসব আর কি। আলোচনা করতে থাকুন।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:3170:7f86:c94:f6d9 | ১২ এপ্রিল ২০২৪ ২১:৩১530519
  • গাড়ি চালানোও কিন্তু খুব আরমদায়ক। আমি হেসেখেলে বারো ঘন্টা চালাতে পারি, কয়েকবার পনেরো ষোল ঘন্টাও চালিয়েছি। রাস্তায় মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে চা খেতেও খুব ভালো লাগে, তাছাড়া ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, বিকালের খাওয়া তো থাকেই। আগের বছর আমি আর দুই বন্ধু মিলে তামিল নাড়ুর বেশ কয়েকটা জায়গার ট্রিপ করেছিলাম, ভোর ছটায় তিনজন মিলে বেরিয়ে রাত্তির নটায় গন্তব্যে পৌঁছেছিলাম। অবশ্য তিনজন পালা করে চালিয়েছি, তবে আমাদের মধ্যে যে কেউ একাই পুরোটা চালাতে পারতো। আর রাস্তায় যেতে যেতে কোথাও ডাব বিক্রি হচ্ছে তো দাঁড়িয়ে গেলাম, কোথাও কাঁচা আম আর কাকড়ি বিক্রি হচ্ছে তো দাঁড়িয়ে গেলাম, এসব তো থাকেই। আর থাকে অনন্ত আড্ডা, গান ইত্যাদি। লং ড্রাইভের মজাই আলাদা। 
     
     "তবে আপনার গাড়ি চড়ে ঘোরার আনন্দে খুব সম্ভবত বাগড়া আসতে চলেছে, ভারতেও"
     
    না মনে হয়। দেশ জুড়ে বিরাট বিরাট চওড়া এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি হচ্ছে, তাতে গাড়ি চালানোর ইচ্ছে আরও বাড়বে। আমি ইন ফ্যাক্ট এই বছরের শেষের দিকে চেন্নাই টু অম্রিতসর ট্রিপ প্ল্যান করছি, চেন্নাই থেকে ব্যাঙ্গালোর হয়ে। দিল্লি টু মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি হচ্ছে, মুম্বাই টু ব্যাঙ্গালোর, চেন্নাই টু ব্যাঙ্গালোর, চেন্নাই টু সুরাট, নাগপুর টু মুম্বাই, এগুলো ছয়, আট বা বারো লেনের এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি হচ্ছে। দরকার শুধু একটা এসইউভি, জিপ কম্পাস হলে খুব ভালো, আর য়ুটুবে এক হাজারটা গানের একটা প্লে লিস্ট :-) 
  • যোষিতা | ১২ এপ্রিল ২০২৪ ২১:৩৭530520
  • সিন্থেটিক কাপড়/পোশাক আমরা পরি না। সুতি বা রেশম বা পশমের ব্যবহারও একটা ভাল অভ্যাস।
    পুরনো যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে রান্নাঘরের যে ফুড প্রোসেসর ব্যবহার করছি সেটা তিরিশ বছর ধরে চলছে, ভাঙে না, এখনও নষ্ট হয় নি। ফ্রিজারের বয়স চল্লিশ টল্লিশ হবে, নতুনের মত এখনও। যত্ন করলে জিনিস টেঁকে। একটা পুরনো ম্যাকবুক এখনও চলে ২০০৯ এ কেনা, যদিও পরে আরও কয়েকটা ম্যাক কেনা হয়েছে, একটাও খারাপ হয় নি, দিব্য চলছে। 
    সুতির কাপড়জামা ব্যবহার করি বলে কোনওরকম ত্বকের অ্যালার্জি হয় নি। দাম বেশি পড়লেও স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। 
    অব্যবহৃত জিনিস আমরা দিয়ে দিই তাদের যাদের প্রয়োজন আছে।
    তবে শখের জিনিস আমার অনেক। সানগ্লাস, ব্রোচ, লিপস্টিক। লিপস্টিক বেশিদিন রাখতে নেই, ফেলে দিতে হয়।
    আমরা খাবার নষ্ট করি না। বাড়িতে রান্না করতে মেপে করি, যাতে ফেলে দিতে না হয়। টাটকা শাক সবজি ফল বেরী খাই। প্রোসেসড ফুড সস্তা পড়তে পারে, কিন্তু অস্বাস্থ্যকর।
    পাবলিক ট্রান্সপোর্টের খরচ এদেশে নিজস্ব গাড়ি ব্যবহারের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়সাপেক্ষ, বিশেষ করে ট্রেনে করে কোথাও যাবার চেয়ে এরোপ্লেনে সস্তা।
    দুরকমই ব্যবহার করি। যখন যেটা সুবিধে। আমাদের এখানে স্থানীয় উৎপাদনের খাবারের দাম, আমদানী করা খাবারের চেয়ে দামী। তবে কোয়ালিটি আমাদেরগুলো ভাল। বুঝে সুঝে খরচ করতে হয়। সপ্তাহান্তে জারমানি যাই, বাজার করতে।
  • বকলম -এ অরিত্র | ১২ এপ্রিল ২০২৪ ২২:৩৭530522
  • "আপনার গাড়ি চড়ে ঘোরার আনন্দে" – হ্যাঁ এটা আমার বলার ভুল, যেটা হচ্ছে বিদেশে এবং খুব সম্ভবত ভারতেও কার্যকর হতে চলেছে সেটা শহরের (উপনগরী ধরে) অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো, সেইজন্যেই মেট্রোরেল প্রকল্পের ওপর জোর। হাইওয়েতে আপনি ভরসা ফুর্তি ভ্রমণ করতে চাইলে কেউ এক্ষুনি আটকাচ্ছে না (জ্বালানির দাম যদি নাগালের বাইরে না চলে যায়)। তবে এটা নিশ্চিত বলতে পারি হাইওয়ে গুলো ফ্রেইট করিডোর, বাণিজ্যিক প্রয়োজনে নির্মিত হচ্ছে ট্রাক লরি ইত্যাদি ট্রান্সপোর্ট ভেহিকলগুলোর জন্যে (কিছু সুবিধে নিশ্চয়ই আছে, হয়তো ট্রেনের তুলনায় সস্তা ফ্লেক্সিবল আর বারবার লোডিং আনলোডিং করতে হয় না), ব্যক্তিগত গাড়ির কথা মাথায় রেখে ততটা নয়। এবার গাড়িতে লং ডিস্টেন্স ট্রাভেলের আনন্দ বা কস্ট ব্যক্তিগত, সেটার তো আর ঠিক বেঠিক হয়না।
     
    আমাদের মূল আলোচনা সাসটেইনেবিলিটির ব্যাপারে, সেখানে ডিসি আপনি বললেন "আমি তো বাঁচবো আর বড়োজোর তিরিশ থেকে চল্লিশ বছর, তার মধ্যে আমি সব কিছু এক্সপি করে দেখতে চাই। আমি পটল তোলার পর পৃথিবীর যা ইচ্ছে হোক, তাতে আমার কি।"
     
    এবারে EOD ধরণের ভাবনা দাবি করছে যে আমাদের এখনকার জীবনযাত্রা (উচ্চ ভোগবাদী) সাসটেইনেবল নয়। ধরা যাক সেটা সত্যি, অন্তত এখানে এখনো কেউ সেটাকে কাউন্টার করেননি। তাহলে আজ নাহোক ত্রিশ চল্লিশ বছর পরে হলেও জিনিসটা বাস্তব, আর তখন দায় পরেই আমাদের মিতব্যয়ীতা অবলম্বন করতে হবে, কারণ পৃথিবীর সম্পদে যদি ঘাটতি দেখা যায় বা পরিবেশের যদি বারোটা পাঁচ বেজে বসে থাকে তাহলে আর ভোগ তো হাওয়ায় হতে পারে না। এখন এই মুহূর্তে আমরা কেউ ব্যক্তিগত ভাবে সেটা পছন্দ করছি বা করছি না সেটা পয়েন্ট অফ ডিসকাশন নয়। যদি করতেই হয় সে যখনই করতে হোক as a precaution or as a reaction, তাহলে কী কী করতে হবে সেটাই আলোচনার বিষয়বস্তু। 
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:3170:7f86:c94:f6d9 | ১২ এপ্রিল ২০২৪ ২৩:১২530524
  • " তবে এটা নিশ্চিত বলতে পারি হাইওয়ে গুলো ফ্রেইট করিডোর, বাণিজ্যিক প্রয়োজনে নির্মিত হচ্ছে ট্রাক লরি ইত্যাদি ট্রান্সপোর্ট ভেহিকলগুলোর জন্যে"
     
    এটা পুরোটা ঠিক না। এক্সপ্রেসওয়েগুলো মূলত বানানো হচ্ছে ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের জন্য, কানেকটিভিটি বাড়ানোর জন্য। এগুলো দিয়ে গাড়ি আর ট্রাক, দুইই যাবে, এভাবেই প্ল্যান করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে যে এই এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে গাড়ির যাতায়াত বাড়লে লোকজন আরও দূরে যাতায়াত করতে পারবে, ফলে এক্সপ্রেসওয়েগুলো মাঝখানে যেসব জায়গার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সেসব জায়গাতেও ইকোনমিক ডেভেলেপমেন্ট হবে। সেইজন্য প্রতিটা এক্সপ্রেসওয়েতে মাঝে মাঝে পাবলিক সার্ভিস সেন্টার রাখা হচ্ছে, যেখানে গাড়ি থেকে নেমে লোকজন রেস্টরুমে যেতে পারবে, রেস্টুরেন্টে খেতে পারবে ইত্যাদি। আর শুধু ফ্রেট এর জন্য ভারতীয় রেলওয়ে ওয়েস্ট আর সাউথ ইন্ডিয়ায় ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরও বানাচ্ছে। কাজেই এক্সপ্রেসওয়েগুলো শুধু ট্রাক না, প্রাইভেট কারের জন্যও একইরকম গুরুত্ব দিয়ে বানানো হচ্ছে। 
     
    " ভারতেও কার্যকর হতে চলেছে সেটা শহরের (উপনগরী ধরে) অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো, সেইজন্যেই মেট্রোরেল প্রকল্পের ওপর জোর"
     
    ঠিক এরকম না। ভারতের প্রায় সবকটা রাজ্য সরকার পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ওপর ব্যায় কমাচ্ছে। প্রায় প্রতিটা শহরে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের হাল আগের থেকে খারাপ হচ্ছে। সরকারের ব্যায় সংকোচনের একমাত্র ব্যাতিক্রম মেট্রো রেল বা এয়ারপোর্ট বা ওভারব্রিজ এর মতো বিগ টিকেট কিছু আইটেম। এগুলো বাদে পাবলিক ট্রান্সপোর্টএর অ্যাভেইলেবিলিটি  ক্রমশ কমছে আর ব্যাক্তিগত গাড়ির ব্যাবহার বাড়ছে।কোভিডের সময়ে কমেছিল, তারপর আবার বাড়তে শুরু করেছে।  ভারতে ব্যাক্তিগত গাড়ির অ্যানুয়াল সেল ভল্যুম দেখুন :-)
  • বকলম -এ অরিত্র | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০০:১৭530526
  • না, বাণিজ্যিক কারণেই বানানো হচ্ছে, গুডস ট্রান্সপোর্টই মূল লক্ষ্য। তা বলে গাড়ি কেউ চালালে তো আর আটকাবে না। আহমেদাবাদ-বোম্বে-পুণের মতো কাছাকাছি অবস্থিত শিল্পাঞ্চল শহরের মধ্যে কিছু রেগুলার বিজনেস কমিউট থাকতে পারে কিন্তু তার সংখ্যা অসম্ভব বিরাট কিছু হওয়ার নয়। এখন ফিজিক্যালি ট্রাভেল করার দরকারও অনেক কমে যাচ্ছে। যেটুকু থাকবে সেগুলো বাস মেট্রো বুলেট ট্রেন বা অন্য কোনো গণপরিবহনের আওতায় আনাই যায় সহজে। সাউথে তো ইন্টার-সিটি বাসগুলো বেশ ভালো আর জনপ্রিয় ইতিমধ্যেই।
     
    "গাড়ির অ্যানুয়াল সেল ভল্যুম" – আপনি আবার ডেটা পাড়ছেন যেখানে এখনো সরকারি কোনো নীতি তৈরী হয়নি, পরিকাঠামোও না, তাহলে ডেটায় কী খোঁজার চেষ্টা করছেন? সবে মেট্রো পরিকাঠামো তৈরী হচ্ছে, এরপর লাস্ট মাইল যোগাযোগটা ঠিকঠাক করতে হবে, সব সম্পূর্ণ হলে তারপরেই হবে, যদি সরকার চায়। নাহলে নব্বইয়ের পর থেকে সব শহরই গাড়ি-কেন্দ্রিক ভাবে বানানো, আর এখনো তাই আছে, তো রাস্তায় গাড়ি দেখবেন না তো আর কী দেখবেন! যদি হয় তাহলে মোটামুটি ২০৩০ এর দিকে। তবে নীতি ঘোষণা এক দু বছরেই হতে পারে। যদি হয় তাহলে পার্কিং স্পেস কমিয়ে আর পার্কিং ফি বাড়িয়ে হাড় জ্বালিয়ে দেবে। তারপর নানান ট্যাক্স, পলিউশন এটাওটা, আর ফাইনালি স্পিড কন্ট্রোল করবে লেন স্পেস কমিয়ে। ইউরোপে করেছে।
     
    যাই হোক, আলোচনাটা তো কনসাম্পশন আর সাসটেইনেবলিটির আন্তঃসম্পর্কের ওপর, সেখানে ব্যক্তিগত গাড়ির অতি ব্যবহারেরও একটা প্রভাব আছে, কতটা কী সেটা আলোচ্য। বাকি সরকারের বর্তমান ও ভবিষ্যতের পরিবহন নীতি সরকারই জানে, তবে আমার মনে হয়েছে সরকারের একটা নজর আছে সেইদিকে, বা হয়তো নেই, সেটা অন্য আলোচনা।
  • অরিন | 119.224.61.73 | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০১:৪৮530530
  • অরিত্র, " ... প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, কৃবু ভবিষ্যৎ মানে প্রচুর প্রসেসিং ইউনিট – ডেটা সেন্টার সার্ভার ক্লায়েন্ট ডিভাইস (IoT), এই বিপুল উৎপাদিত তাপ কী প্রশমিত করা যাবে কোনো উপায়? নাহলে তো তাপমাত্রা বাড়বেই। আসলে প্রচুর ভোগ মানেই প্রচুর উৎপাদন মানেই প্রচুর কাজ (মানুষ করুক বা যন্ত্র) মানেই প্রচুর তাপ। সেটার মোকাবিলা করা যাবে কি? "
    এও সেই আবার একটা সাইকেলের মধ্যে আবার একটা সাইকেল।
    তাপ == শক্তি, তাকে আবার একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে "পুষ্টি"তে রূপান্তরিত করে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেয়া।
    এখন সেটা কি হবে?
    এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হবে তো।
    যে কারণে নন রিনিউয়েবল এনার্জি, বা সলিড স্টেট ড্রাইভের বা কোয়াণ্টাম কমপিউটিং এর প্রয়োজন এবং উদ্ভব। হয়ত dna gene দিয়ে কম্পিউটিং হবে (https://interestingengineering.com/innovation/what-is-dna-computing-how-does-it-work-and-why-its-such-a-big-deal)
     
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:4173:6a9d:cf70:4c4c | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৭:৩৭530535
  • "না, বাণিজ্যিক কারণেই বানানো হচ্ছে, গুডস ট্রান্সপোর্টই মূল লক্ষ্য। তা বলে গাড়ি কেউ চালালে তো আর আটকাবে না।"
     
    এরকম বোধায় না। এক্সপ্রেসওয়ে গুলোতে ট্রাকের জন্য আলাদা লেন আছে, আর কমার্শিয়াল বা হেভি ভেহিকল এর স্পিড লিমিট করা আছে ৮০ কিমি ঘন্টায়, সেখানে প্রাইভেট ভেহিকল এর স্পিড লিমিট ১২০। আর এক্সপ্রেসওয়েগুলো অ্যাক্সেস কন্ট্রোলড। অর্থাত গাড়ি চালালে আটকানোর তো প্রশ্নই নেই, বরং এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে যারা গাড়ি চালাবেন তাদের সুবিধার জন্য আলাদা প্ল্যানিং করা হয়েছে। তার কারন সরকারের একটা লক্ষ্য হলো এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাইভেট ভেহিকল এর সংখ্যা বাড়ানো, যাতে যাতায়াতের অপশান বাড়ে। 
     
    "আহমেদাবাদ-বোম্বে-পুণের মতো কাছাকাছি অবস্থিত শিল্পাঞ্চল শহরের মধ্যে কিছু রেগুলার বিজনেস কমিউট থাকতে পারে কিন্তু তার সংখ্যা অসম্ভব বিরাট কিছু হওয়ার নয়।" 
     
    এর উল্টোটাই। অমেদাবাদ-বম্বে-পুনে বা চেন্নাই-ব্যাঙ্গালোর-হায়দ্রাবাদ-মুম্বাই বা দিল্লি-এনসিআর এর মতো হাইলি ডেভেলপড জায়গাগুলোতে সব রকম ভেহিকল এর সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে, লোকজন প্রচুর সংখ্যায় গাড়িতে যাতায়াত করছেন, আর বাসে, ট্রেনে, আর প্লেনেও ট্রাভেল করছেন। এই সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। 
     
    "এখন ফিজিক্যালি ট্রাভেল করার দরকারও অনেক কমে যাচ্ছে।" 
     
    উল্টোটাই হচ্ছে। টেলিকমিউট খুব মুষ্টিমেয় কিছু চাকরিতে করা যায়, বাকি সবরকম ব্যাবসা বা পারিবারিক কারনে ফিজিক্যাল কমিউট এর সংখ্যা দিনদিন আরও বাড়ছে। আগের পোস্টে লিখেছি, ইন্ডিয়াতে গাড়ি বিক্রির সংখ্যা বাড়ছে। এই রিপোর্টটাও পড়ে দেখতে পারেন, এটা শুধু মহারাষ্ট্রেরঃ 
     
     
    More than 25 lakh new vehicles hit the roads of Maharashtra in 2023, taking the number of digitally registered vehicles to 3.58 crore, an official said on Monday. As per the data shared by the state transport department, 25,63,491 new vehicles were registered in Maharashtra in 2023, compared to 23,74,591 registered the previous year, registering a growth of 7.91 per cent. At least 23.74 lakh vehicles were registered in Maharashtra in 2022 compared to 19.23 lakh in 2019, seeing a 23.46 per cent rise in registration, it said.
     
    "যেটুকু থাকবে সেগুলো বাস মেট্রো বুলেট ট্রেন বা অন্য কোনো গণপরিবহনের আওতায় আনাই যায় সহজে। সাউথে তো ইন্টার-সিটি বাসগুলো বেশ ভালো আর জনপ্রিয় ইতিমধ্যেই।"
     
    না বোধায়। প্রাইভেট কারের আর মোটরসাইকেলের সংখ্যা তো কমছেই না, বরং খুব তাড়াতাড়ি বাড়ছে, বিশেষত ওয়েস্ট, সাউথ, আর এনসিআর রিজিয়নে। এই সংখ্যক লোককে শুধুমাত্র গণপরিবহনের আওতায় আনা সম্ভব নয়, বিশেষ করে যেখানে সরকার শুধু দুয়েকটা গণপরিবহনের ওপর খরচ করছে। এটাও একটা কারন যার জন্য সরকার এতো এতো এক্সপ্রেসওয়ে আর হাইওয়ে বানাচ্ছে। 
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:d82a:be1c:c570:69eb | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৮:০৩530536
  • নীচের চার্টটা দেখতে পারেন, এক্সেলে বানালাম। তথ্যসূত্রঃ 
    (দ্বিতীয় টেবিল)  
     
    গত পাঁচ বছরে ইন্ডিয়ার প্রথম তিনটে স্টেটে - মাহারাষ্ট্র, তামিল নাড়ু, আর ইউপি - প্রতি বছর প্রায় ১০% হারে ভেহিকল বেড়েছে। কিন্তু আরও অনেক বাড়ার স্কোপ আছে, কারন ইন্ডিয়াতে পার ক্যাপিটা ভেহিকল ভয়ানক রকম কম। ইন্ডিয়া সব কটা দেশের মধ্যে ১৫৩ নম্বরে। যেখানে ২০২২ এ নিউ জিল্যান্ডে মোটর ভেহিকল এর সংখ্যা ছিল ১০৮৬ প্রতি হাজার জনে, আরে আমেরিকার ছিল ২০২৩ এ ৯০৮, সেখানে ইন্ডিয়ার ছিল ২০২০ তে মাত্র ৫৯। তবে এই সংখ্যা বাড়বে, এই রিপোর্টটা পড়ে দেখতে পারেনঃ 
     
     
    India is the world’s fastest-growing large economy, with its middle class expanding rapidly, driving economic and political change. The number of registered car users has increased dramatically in India, reaching an estimated 40 million, suggesting a middle class of around 400–500 million people. This demographic is the fastest-growing segment of the population, and it has outpaced the growth rate of the global middle. 
     
    India’s middle class has many unique features. It is the youngest globally, which typically translates to greater dynamism economically and politically compared to counterparts in China and the United States. It is also a driving force behind the rising domestic market, with growth in the purchase of homes, cars, refrigerators, motorcycles, and digital goods and services.
     
    অর্থাত কিনা ইন্ডিয়ায় কনসিউমার স্পেন্ড, বা কনসিউমারিসম, বাড়ছে :-)
  • Arindam Basu | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৮:২১530538
  • অর্থাত কিনা ইন্ডিয়ায় কনসিউমার স্পেন্ড, বা কনসিউমারিসম, বাড়ছে :-)
     
    একটি অশিক্ষিত অনুন্নত দেশে লোকের হাতে পয়সা এলে কনসিউমারিসম বাড়ব বৈকি | 
    কনসিউমারিসমের বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে কি? 
  • lcm | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৮:২৫530539
  • ভারতে এক্সপ্রেসওয়ে বানানোর মূল উদ্দেশ্য কার্গো মুভমেন্ট, কন্টেইনার, লরি, ট্রাক, মালবাহী ভ্যান এইসব - যেগুলোকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনফ্রার মধ্যে ধরে। এবং, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট - দূরপাল্লার বাস ইত্যাদি।

    একজন ইন্ডিভিজুয়াল নাগরিক গাড়ি চালিয়ে বা মোটর বাইক চালিয়ে ব্যাঙ্গালোর থেকে চেন্নই যাবে বলে তো ঠিক এক্সপ্রেসওয়ে বানায় না। কিছু মানুষ গেলেও, মাস ট্রান্সপোর্টেশন ইউজ করে তার বহুগুণ মানুষ যাতায়াত করে।

    তবে হ্যাঁ, লোকাল লেভেলে ইনভেস্টমেন্ট ইন্ডিভিজুয়াল নাগরিকদের জন্য। যেমন, দিল্লি মেট্রো, প্রচুর লাইন বানিয়েছে, আরও বানিয়েই চলেছে। মুম্বইতে শহরতলীর জনপদগুলো লম্বা লম্বা ব্রিজ দিয়ে জুড়ছে, সেগুলো সব লোকাল ট্রাফিকের জন্য - তাতে চার চাকার, দুচাকার গাড়ি আছে, আবার বাস/ট্রেন আছে। শহর জুড়ে ফ্রিওয়ে, ফ্লাইওভার বানিয়েও চলেছে। সব শহরেই তাই।

    ইন্ডিয়াতে দূরপাল্লার জনপরিবহণ তো প্রচুর বেড়েছে। দূরপাল্লার প্লেন, ট্রেন, বাস - সব বেড়েছে। অফ কোর্স, জনসংখ্যার তুলনায় কম। আর, প্রাইভেট ট্রান্সপোর্টেশন বেড়েছে, পাবলিক/সরকারি কমেছে। দেখলাম, কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির বাস - শুয়ে শুয়ে যাবার জন্য, কোনো বসার সিট নেই, পুরো বাসে গোটা কুড়ি শোবার বার্থ, প্রাইভেট কোম্পানির ভলভো বাস।
  • lcm | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৮:২৯530540
  • Road infrastructure is a vital part of the economy, allowing for the efficient movement of goods. The World Bank calls roads the "arteries through which the economy pulses". Roads connect manufacturers with markets which drives economic development and GDP growth. In the United States, roads and highways move 72% of the nation's goods, or nearly $17 trillion. 
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:d82a:be1c:c570:69eb | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৮:৩৫530541
  • "কনসিউমারিসমের বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে কি?" 
     
    না বোধায়। তবে এই বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা কি কোন দেশেই সেভাবে হয়েছে বা বেড়েছে? স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কান্ট্রিগুলোতে হয়তো পপুলার অ্যাওয়্যারনেস বেড়েছে, কিন্তু বাকি য়ুরোপে, বা আমেরিকায়, বা এশিয়া বা আফ্রিকার জেনারাল পপুলেশানের মধ্যে কি সেভাবে বেড়েছে?
     
    "একজন ইন্ডিভিজুয়াল নাগরিক গাড়ি চালিয়ে বা মোটর বাইক চালিয়ে ব্যাঙ্গালোর থেকে চেন্নই যাবে বলে তো ঠিক এক্সপ্রেসওয়ে বানায় না। কিছু মানুষ গেলেও, মাস ট্রান্সপোর্টেশন ইউজ করে তার বহুগুণ মানুষ যাতায়াত করে।"
     
    ঠিক কথা। এক্সপ্রেসওয়েতে মাস ট্রান্সপোর্ট, কমার্শিয়াল ভেহিকল, প্রাইভেট গাড়ি, এই তিনরকম ভেহিকলই যাতায়াত করতে পারবে (মোটর বাইক নয়)। সেটাই অরিত্র বাবুকেও বললাম, যে এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাইভেট কার চালানো ডিসকারেক করার কোন উদ্দেশ্যই সরকারের নেই। এই তিন ধরনের ভেহিকল এর সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এক্সপ্রেসওয়েগুলো বানানো হচ্ছে।  
     
    "ইন্ডিয়াতে দূরপাল্লার জনপরিবহণ তো প্রচুর বেড়েছে। দূরপাল্লার প্লেন, ট্রেন, বাস - সব বেড়েছে। অফ কোর্স, জনসংখ্যার তুলনায় কম। আর, প্রাইভেট ট্রান্সপোর্টেশন বেড়েছে, পাবলিক/সরকারি কমেছে।"
     
    একদম ঠিক :-)
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:d82a:be1c:c570:69eb | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৮:৩৮530542
  • The World Bank calls roads the "arteries through which the economy pulses".
     
    আহা, এই তো আমার মনের মতো কথা! এই জন্যই আমি ওয়ার্ল্ড ব্যাংককে এতো ভালোবাসি :-) আর এর সাথে ট্রেন লাইনও লিখে দিলে তো দৌড়ে গিয়ে একটা চুমুও খেয়ে আসতাম :-)
  • অরিন | 119.224.61.73 | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৮:৪৩530543
  • "থেকে শিলিগুড়ির বাস - শুয়ে শুয়ে যাবার জন্য, কোনো বসার সিট নেই, পুরো বাসে গোটা কুড়ি শোবার বার্থ, প্রাইভেট কোম্পানির ভলভো বাস।"
     
    lcm, সে আজ বলে নয়, ভলভো বাস বহুযুগ ধরে চলছে, তার মধ্যে আবার ভূটান সরকারের বাস টাসও আছে, কাজেই রাস্তার গণপরিবহনের উন্নয়ন তো করতেই হবে। এখন প্রশ্ন হল, মানুষ তার মূল্য বোঝে কি না!
    বছর কয়েক আগে আমাকে কলকাতা থেকে জোরথাং যেতে হয়েছিল (আমরা একটি স্কুলকে এডপ্ট করেছি যাই হোক)। আমি কলকাতা থেকে ট্রেনে গেলাম, ভালই ছিল, ফাস্ট, স্মুথ ট্রেন, খাবরের কোয়ালিটি আগে যা পেতাম তার তুলনায় বাজে এবং এনভায়রনমেন্ট আনফ্রেণ্ডলি, বাদ দিলে ট্রেনে কলকাতা জলপাইগুড়ি তারপর সেখান থেকে জোরথাং যথেষ্ট ভাল।
    আমাদের আরেক ভদ্রলোক কলকাতা থেকে বাগডোগরা হয়ে অনেক দেরীতে পৌঁছলেন, ভদ্রলোক আফশোস করছিলেন কেন তিনি ট্রেনে বা বাসে এলেন না। 
    আমার নিজের মনে হয়, ভারতের উদগ্র কনসিউমারিসম না হলে কোন ক্ষতি হবে না। 
  • lcm | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৮:৪৬530544
  • "... একটি অশিক্ষিত অনুন্নত দেশে লোকের ..."

    অরিন,
    এটা বোধহয় ঠিক অশিক্ষিত বা অনুন্নত দিয়ে ব্যাখা করার নয়। যে সব উন্নত এবং তথাকথিত শিক্ষিত দেশ, তাদের নাগরিকরা কি গরম পড়লে এসি চালাচ্ছেন না, নাকি দ্রুত গাড়ি চালাচ্ছেন না। একথা ঠিক যে এসব দেশের কিছু মানুষ খুবই আন্তরিক এবং সচেতনভাবে নিজেদের জীবনযাত্রা কম্প্রোমাইজ করতে হলে তা করেও এগজাম্পল সেট করার চেষ্টা করছেন ঠিকই, কিন্তু কার্বন এমিশনে কন্ট্রিবিউশন তো দেশ জুড়ে হয়েই চলেছে।
     
  • lcm | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৮:৫৩530545
  • "উদগ্র কনসিউমারিসম"
    - এটা ভাল টার্ম, হ্যাঁ, এটা মারাত্মক।

    গুড লিভিং অর্থাৎ, ভালোভাবে বেঁচে থাকার ডেফিনেশন পাল্টে যাচ্ছে। এটা হল - সেই ইউটিলিটি আর কনজিউমারিজমের চিকেন-এগ ট্র‌্যাপ। আমি যে কাউকে প্রিচ করব - যে উন্নততর জীবনযাত্রার জন্য উন্নততর ফোনের মালিক হবার দরকার নেই, সেটা কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ আমি নিজে সেটা প্র‌্যাকটিশ করতে পারছি না। ফোনকে আর ভোগপণ্য হিসেবে ভাবা যাচ্ছে না, যেমন ইলেকট্রিসিটিকে অতিরিক্ত বিলাস হিসাবে ভাবলে বেঁচে থাকা মুশকিল হয়ে উঠছে।

    যাই হোক, উদগ্র কনজিউমারিজম - এটা কাঁপাকাঁপি ।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:d82a:be1c:c570:69eb | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৮:৫৭530546
  • আরে, কার্বন এমিশনের ডেটা আমিও দেবো ভাবছিলাম, তার আগেই এলসিএমদা দিয়ে দিয়েছেন। 
     
    "আমি যে কাউকে প্রিচ করব - যে উন্নততর জীবনযাত্রার জন্য উন্নততর ফোনের মালিক হবার দরকার নেই, সেটা কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ আমি নিজে সেটা প্র‌্যাকটিশ করতে পারছি না। ফোনকে আর ভোগপণ্য হিসেবে ভাবা যাচ্ছে না, যেমন ইলেকট্রিসিটিকে অতিরিক্ত বিলাস হিসাবে ভাবলে বেঁচে থাকা মুশকিল হয়ে উঠছে।"
     
    এটা এতো বেশী আমার মনের মতো কথা, যে এটা লেখার জন্য এলসিএমদাকে জড়িয়ে ধরে পাঁচ মিনিট ধরে চুমু খাবো :-)
  • Arindam Basu | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৮:৫৯530547
  • "একথা ঠিক যে এসব দেশের কিছু মানুষ খুবই আন্তরিক এবং সচেতনভাবে নিজেদের জীবনযাত্রা কম্প্রোমাইজ করতে হলে তা করেও এগজাম্পল সেট করার চেষ্টা করছেন ঠিকই"
    একদম!
     
    ঠিক, কিন্তু মুশকিলটা কোথায় জানেন?
     
    যখনই বলা হয় আমেরিকা ইউরোপ অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যাণ্ডে লোক তো নিজেদের জীবনযাত্রা সচেতনভাবে পরিবর্তিত করে আরো কার্বন সচেতন হচ্ছেন, তখনই ভারত চীন থেকে প্রতিবাদ ওঠে, তোরা (<সুবিধামতন গালাগাল দিযে>) এতদিন পরে সাধ সাজছিস? এবার আমাদের ধ্বংস করার পালা | 
     
    কনসিউমারিসমের বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা অবশ্যই পাশ্চাত্যে  বেড়েছে, এবং সঙ্গত কারণেই বেড়েছে। এবং বাড়বেও |
    ভারতে, ভেবে দেখলে, আমরা কিন্তু আমাদের সমাজজীবনে কখনোই খুব কনসিউমারিস্ট প্রকৃতি অসচেতন ছিলাম না, কিন্তু এই উগ্রতা দেখবেন হালে বেড়েছে। এবং বাড়ছে। যার জন্য অনুন্নত এবং অশিক্ষার (অসচেতন অর্থে) কথা লিখলাম।
    তাই বলে কি পাশ্চাত্যে সবাই একেবারে পরিবেশ সচেতনতার পরাকাষ্ঠা? একেবারেই নয়। 
    তবুও এই যে 350.org
    বা ফ্রাইডেস ফর ফিউচার
    এগুলো তো ফেলনা নয়, এর প্রভাব পাশ্চাত্যের সমাজজীবনে পড়ছে বৈকি |
     
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:d82a:be1c:c570:69eb | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৯:০২530548
  • অরিন্দমবাবু, পার ক্যাপিটা কার্বন এমিশান আর পার ক্যাপিটা স্পেন্ডিং এর মধ্যে কিন্তু সুন্দর কোরিলেশান আছে। নীচের চার্টটা দেখতে পারেন। সেইজন্যই মনে হলো, ইন জেনারাল, কনসাম্পশান ড্রিভেন ইকোনমি সম্বন্ধে সচেতনতা কি কোন দেশেই সেভাবে হয়েছে বা বেড়েছে? কিছু কিছু লোকের ক্ষেত্রে হয়তো সচেতনতা এসেছে, কিন্তু জেনারাল পপুলেশানের মধ্যে এসেছে কি? 
     
  • Arindam Basu | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৯:১৫530549
  • কোরিলেশন তো থাকবেই, স্বাভাবিক, দেখুন চার্টে কেমন চীন আর ভারত কেমন গোল গোল হয়ে ফুটে উঠেছে |
    আসলে আলোচনাটার কেন্দ্রে একটা existential crisis, এই বিপদ সম্বন্ধে সচেতনতা যদি ভারতে চীনে সবচেয়ে বেশী না হয়, তাহলে সমূহ সর্বনাশ। 
    পার ক্যাপিটা এমিশন এক্ষেত্রে মিসলিডিং |  দিলে ভারতীয়দের ভাল লাগে, কিন্তু জনসংখ্যাটা বিচার করে দেখুন একবার, তার সামগ্রিক অঙ্কটি কি দাঁড়ায়!
  • dc | 2a02:26f7:d6c1:680d:0:cfde:a276:87b7 | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৯:৩১530550
  • পার ক্যাপিটা আর টোটাল, দুটো ক্ষেত্তেই ওয়েস্টার্ন দেশগুলো খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। ওপরে এলসিএমদার দেওয়া টোটাল এমিশান অ্যাজ পার্সেন্টেজ চার্টটা দেখুন। আর আমি ভারতীয়দের ভালো লাগার জন্য বলছি না, ফ্যাক্ট হিসেবে বলছি। আমি যে নিজেকে খুব একটা ভারতীয় ভাবি, তাও না :-)
  • অরিন | 115.189.98.163 | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৯:৩৮530551
  • জানি।
    ঠিক বলেছেন।
    তাই জন্যই তো ভারত আর চীনের কথাটা আসছে।
    এখন ব্যাপারটা মুই বড় না তুই বড়র লড়াইয়ের নয়, বিপদ সকলের, এটা বোঝার সময় হয়েছে বলে আমার মনে হয়। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন