এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ধারাবাহিক গল্প

    লতিফুর রহমান প্রামানিক লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৮ এপ্রিল ২০২৪ | ১১৮ বার পঠিত
  • আরতি

    প্রথম পর্ব

    আরতি পনের বছরে পা দিতেই বাবা মারা গেলে, অনাথ হয়ে পড়ে পুরো পরিবার। বড় ভাই এক মুসলিম মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, এক পর্যায়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে দুজনে, নিখিল ধর্ম ত্যাগ করে বউয়ের জন্য। এখন রীতিমতো পাক্কা ধার্মিক বনে গেছে।

    লম্বা দাড়ি, মাথায় টুপি আর হাতে তসবিহ আছেই। থাকে রাজধানীতে। বউ সহ একটা কাপড় কারখানায় চাকুরী করে।

    বেশ ভালই চলছে তার সংসার। একটা ফুটফুটে মেয়ে বাচ্চা বছর খানেক বয়স। তার নাম  রেখেছে নিখিলের নতুন নাম নাজমুল এর সাথে মিল রেখে নারগিস।  সে নিজ জাত ত্যাগ করার পর আর কখনো গ্রামে যায়নি। গ্রামে গেলে সে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হবে। তার মা বলে দিয়েছে তার মতো ছেলে যেন, তার মরার পর পিন্ড দান না করে। যিনি সারাজীবন ভর শিবের , রামের বন্দনা-বাক্য মুখে গেথে রেখেছেন তারই ছেলে কিনা এমন করল। জাত থাকে কিসে। এ ত লজ্জা তার জন্য। তার জন্য আর সে ভাবতে চায়না। মেয়ে আরতি কে বলে দিয়েছে, নিখিল যেন তার মরার পরে ও না আসে। আরতি জানে তার মা কতটা জেদি।

    কিছু, সামান্য জমি দিয়ে চারটি চোখের সংসার চলে না। নুন আনতে পানতা ফুরানোর দশা। আরতি র জন্য বড় চিন্তা, মেয়েটা ডাঙ্গর হয়ে উঠেছে। পাড়ায় খারাপ ছেলের অভাব নেই। দোধারী চেহারা। বয়স পনের হলেও কুড়ি বলে পার করা যায়। গ্রামের সবচেয়ে সুন্দরী সে। তামাটে চেহারা, উন্নত বক্ষদেশ, নিটোল পশ্চাৎদেশ। হাসিতে মুক্তো-ঝরানো, হৃদয় কাড়া চোখ যুগল। যুগলবন্দী এই চোখে সব পুরুষ নিজেকে হারায়। 

    এভাবেই একদিন আরতির চোখে পরশ হারিয়ে গেল। পাশাপাশি গ্রামের ছেলে পরশ। আরতি র চেয়ে দশ বছরের বড়। মানুষের দোকানের কর্মচারী হলেও কিন্তু দোকানের কর্মচারী বলার জো নেই। 
    খুব সুন্দর চেহারা।  আরতির  মা প্রথমে রাজি ছিল না। কিন্তু ব্রাহ্মণের ছেলে তার বাবা মন্দিরের পুরোহিত এমন একজন সাধু মানুষের সন্তানের সঙ্গে নিজের অনাথ মেয়েটির বিয়ে দেওয়া খারাপ কিছু নয়।
    পাশের বাড়ির কাশি নাথের বউ, সারাদিন যেভাবে আরতির মার পিছু নিয়েছে তাতে বিয়ে না হয়ে আর নয়।
    সাত সকালে এসেই, আরতির মার শরীর ঘেঁষে বসবে।
    তারপর বলবে,
    ছেলেটা কিন্তু মন্দ নয় ঠাকুমা, আমার দূরের ঠাকুরদার ছেলে হলেও খুব ফেলে দেওয়া নয়। বনেদি পরিবারের মানুষ। এখন হয়তো ভাগ বাটোয়ারা করে আর আগের মতো নেই। আর আমি ত প্রতি সপ্তাহ যাই। সবসময় খোঁজ নিতে পারব আরতির। তুমি ভাবিও না। আরতি কি আমার পর?
    তার কি ভালো আমি চাইব না?
    মাথা নাড়ায় আরতি র মা।
    আচ্ছা ঠিক আছে মা, তুই তাহলে ওদের একদিন আসতে বল।
    তারা এসে দেখে যাক। পছন্দ হলে তারপর।
    কি যে বলেন ঠাকুমা, আরতি ত সেই দোকানে কত কাপড় কিনেছে। ওরা আর নতুন করে দেখবে না। এখন বিয়ের দিন তারিখ হলে একবারে আসবে।
    আচ্ছা, ঠিক আছে।
    পঞ্জিকা নিয়ে বসে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হলো আষাঢ়ের 4 তারিখ।
    খুব ধুমধামে বিয়ে হলো। বিদায় বেলা আরতি মার বুকে জড়িয়ে খুব কেঁদেছে। সে চলে গেলে তার মার কি হবে, অনন্ত এই ভাবনা চিরকাল পুড়িয়েছে আরতিকে।
    কাঁদিস না মা, তুই আমাকে নিয়ে ভাবিস না। তুই গেলে আমার ভগবান ত আছেই।  সারাদিন মন্দিরে বসে বসে ভগবানকে ভক্তি শ্রদ্ধা করে জীবন পার করব।
    আজ বাসর।
    বিরিস্টির রাত। থেকে থেকে বজ্রপাত এর শব্দে ঘরটা কেঁপে কেঁপে উঠছে। আরতির বুক কাঁপছে এক অজানা ভয়ে, একটা অপরিচিত মানুষের বুকে পিষ্ট হওয়ার ভয়। কখনো পুরুষের ছোয়া সে পায়নি।
    কি হবে আজ। হাজারো প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে আরতির মনে।
    পরশ বিছানার পাশে একটা চেয়ারে বসে কি যেন ভাবছে।
    আরতি বিছানায়। ঘোমটায় জড়িয়ে রেখেছে পুরো শরীর। ভিতরটা তার ধুকধুক কাঁপছে।
    পরশ বিছানায় এসে বসে।
    কি ব্যাপার, এভাবেই বসে থাকবে? আজও কি এমন অনাবৃত রাখবে? বসে ভাবছিলাম তুমি ডাকবে কি না? 
    ডাকলে না তাই চলে এলাম।
    দুহাত দিয়ে আরতির ঘোমটা সরায় পরশ।
    অনিন্দ্য সুন্দর তুমি।  আমার ঘরে তুমি সত্যিই বেমানান। রাজার ঘরে তুমি মানানসই।
    মুখ খুলে আরতি, ছি এভাবে বলছেন কেন?
    আজ থেকে তুমি করে বলা যাবে, সাত পাক দেয়ার সাথে সাথে আপনি শব্দটা কমে গিয়ে তুমি এ এসে গেছে। পরশের কথা শুনে আরতি হেসে উঠে।
    পরশ বলে, আমার খুব ঘুম পাচ্ছে, আমি ঘুমালাম। বলেই সে পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ে।
    আরতি একা জেগে। সে কি করতে পারে?  কি করতে হয় মেয়েদের?
    সে ভাবতে পারে না। তবে কি এটাকেই বাসর বলে? ধুর তার জন্য তার এত ভয় ছিল এতদিন।
    একসময় আরতি ঘুমিয়ে পড়ে।

    চলবে
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন