এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • শাহাজাদা ঔরঙ্গজেবের মহব্বত

    upal mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    ০২ এপ্রিল ২০২৪ | ১৩৯ বার পঠিত
  • বুরহানপুর কেল্লায় শাহাজাদা ঔরঙ্গজেব ছিলেন ন মাস, ষোলোশো তিপান্নর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর। শাহাজাদা, যিনি ক্ষমতাবৃত্ত থেকে বরাবরের জন্য দূরে যার কাজ হল ঘন যুদ্ধের মধ্যে অথবা শান্তির সময় শাহেনশাহের জন্য ডালিম বা খরমুজা পাঠানো, এখন বাদশাহের বিশেষ প্রিয় আম গাছ বাদশাহ পসন্দের বোল পাহারা দিতে ব্যস্ত। লোক লাগাচ্ছেন, রাতের ঘুম চলে গেছে সবার। বাদশাহের কাছে কি খবর গেছে এবার ভালো বোল ধরেছে? তিনি হুকুম করছেন সব ফল যেন তাঁর পাতে আসে। ফলের টুকরিতে বাদশা পসন্দ আমের টক রস বেশি হওয়ায় আবার গালাগাল খেতে হচ্ছে ঔরঙ্গজেবকে। শাহাজাদা জানালেন ফলন ভালো হ য়নি। এবার শাজাহান আম চুরির অপবাদ দিলেন। সেই মতো বাক্য এসে অনবরত সালতানাতের যোদ্ধা শাহাজাদাকে চাবকে দিতে থাকে। ঔরঙ্গজেব উত্তর দিলেন, "হুজুর সে কী করে সম্ভব, শাহেনশাহের আম কী করে এখানে কাউকে খেতে দেবে এই বান্দা।”

    শাজাহান খুব রেগে জাহানারাকে বলেন ঔরঙ্গজেবকে কড়কে দিতে। জাহানারা কী করলেন কেউ জানছে না তবে পরেশান হয়ে ঔরঙ্গজেব এই কমাস শাহাজাদার নিয়মের বাইরে যে সব নিয়মেরা আছে তাদের সঙ্গে চললেন। প্রতি ভোরে হিম যখন ঘন হয়ে পড়ে রয়েছে, কুয়াশা যখন সেই হিমের ওপর চাদর বিছিয়ে দিচ্ছে অনাদরে, ফজরের নামাজের মতো যত্নে এলো এক হুরি। যদিও পবিত্র কোরানে হুরি কখনো একা হয় না, কোরান কখনো এক হুরির কথা বলেনি তবু একা হুরি এসে বেনিয়মকে ফার্সি কবিতার মত করে, জোয়ানির মতো করে পেশ করতে থাকে। বুরহানপুরে শাহাজাদা ঔরঙ্গজেব ঘোড়ার পিঠে, ঘোড়ার সঙ্গে মশকরা করতে করতে হরিণের পেছনে ছুটছেন, কখনো হরিণের কাছাকাছি গিয়েও তাকে মারছেন না। হরিণ তাঁর দিকে এমন ভাবে তাকালো যেন সে মজনুর পাশে শুয়ে আছে নিঃশঙ্ক, যেন সে বলল, "শুকরিয়া"। আর জুহরের নামাজের পর জেনানার সবাইকে নিয়ে শাহাজাদা বুরহানপুরের বাগে চলেছেন, তাপ্তি নদীর ঠান্ডা বাতাস এসে ভরিয়ে দিল আবার সেই হুরি এসে পথ জুড়ে দাঁড়িয়েছিল। একাধিক বেগমের স্বামী, বেশ কিছু সন্তানের জনক পঁয়ত্রিশ বছরের শাহজাদার মনে তখন পারস্যের সব সেরা আয়াতেরা গুনগুনিয়ে উঠল, তিনি ভুলে যাচ্ছেন শাহেনশাহের সব তিখা গালাগালি, তাঁর অপমান, দূর দূর করে দরবার থেকে তাড়িয়ে দেওয়া – সব। তিনি দেখছেন অপরূপ এক নারী লাফিয়ে উঠে আম গাছের ডাল ধরার চেষ্টা করতে হাওয়ায় তার ওড়না উড়িয়ে নিয়ে আসমানে পাক খেতে খেতে চলে যাচ্ছে তাপ্তি নদীর অপর পারে। আর সে খিলখিল করে হাসতে যেমন পারে তেমনি সুরেলা তার গানের গলাটা।

    হীরা বাই জৈনাবাদীর সঙ্গে ঔরঙ্গজেবের ইসকিয়া, মহব্বত ভরা কাহানি ছড়িয়ে পড়েছিল সারা হিন্দুস্থানে। এমন সে কাহানির জোর যে শ দেড়শো বছর পর মাসির উল উমারাতেও তা ঠাঁই নিয়েছে। মেসোমশাইয়ের জেনানার এই গুণী হিন্দু বাঁদিকে নিজের জেনানায় নিয়ে আসছেন শাহাজাদা। তাঁকে বেড়াতে যেতে দেখা যাচ্ছে ইলোরার গুহার অপূর্ব সব কারুকার্য দেখতে সঙ্গে হয়ত হীরা বাই। চারদিক থেকে খবর আসে দরবারে। শাহাজাদা দারা শুকোহ শাহেনশাহকে বলেন, "ভণ্ড নামাজির সংযমের নমুনা দেখুন হুজুর। মাসির বাড়ির বাঁদির পেছনে ভাদ্দরের কুত্তার মত লেগেছে।'' মে মাসের এক চিঠিতে শাজাহান আচ্ছা করে ধমক লাগাচ্ছেন ঔরঙ্গজেবকে, মনে করিয়ে দিচ্ছেন এসব তাওয়াএফের সঙ্গে আসনাই শোভা পায় না কোন শাহাজাদার। উত্তরে নিশ্চয়ই গুল মারতে হয়েছিল শাজাদাকেও না হলে কেন লিখবেন, "হুজুরের সামনে যা পেশ করা হয়েছে না সর্বৈব মিথ্যে। আমি কী করে এত নিচে নামতে পারি !'' হীরা বাই বছর খানেকের মধ্যে মারা যেতে এই রোমান্সে দাঁড়ি পড়ে। তারপর থেকে নাকি ঔরঙ্গজেব গান টান শোনা বন্ধ করে একবগগা বাদশাহ বনতে ব্যস্ত ছিলেন আর সেভাবেই দীর্ঘ জীবন কাটিয়ে এন্তেকাল হয় তাঁর এমনটা মনে করার কারণ নেই। নইলে দারার জেনানার বাঁদি, গুণী শিল্পী, আরেক তাওয়াএফ উদিপুরি মহলের প্রেমে পড়বেন, বিয়েই বা করবেন কেন মাঝ বয়েসে ?
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • &/ | 151.141.85.8 | ০২ এপ্রিল ২০২৪ ২৩:৩৮530174
  • আওরঙ্গজেবকে আমচোর বলল? শাহজাহানের মত লোক????
  • upal mukhopadhyay | ০৩ এপ্রিল ২০২৪ ০০:৩২530176
  • কবিল খাঁনের আদাব-ই আলমগিরি হচ্ছে শাজাহান ঔরঙ্গজেব এঁনাদের চিঠিপত্রের সঙ্কলন। ওই ফার্সি সূত্রে প্রত্যক্ষ জানা যায় শাজাহানের অভিযোগের কথা। তবে আমি সুপ্রিয়া গান্ধির দারার জীবনীগ্রন্থের (এম্পেরর হু নেভার ওয়াজ) পাতা ১৭৩ তে পেয়েছি। দেখতে পারেন।
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৩ এপ্রিল ২০২৪ ০০:৪১530177
  • অনেক ধন্যবাদ, দেখবো। মোগলরা খুবই ইন্টারেস্টিং চরিত্র ছিল। বিশেষ করে ক্ষমতাবদলের সময়গুলোতে। ভাই ভাইপো ইত্যাদি প্রভৃতিগুলোকে সব ঘ্যাচাং করে করে ফিটেস্টজন ক্ষমতায় আসত।
  • upal mukhopadhyay | ০৩ এপ্রিল ২০২৪ ০০:৪৫530178
  • শাজাহান খুবই ত্যাঁদড় টাইপের লোক ছিলেন। ঔরঙ্গজেবের সঙ্গে তিনি অত্যন্ত খারাপ ব্যবহারই করতেন। জাহানারা কিছুটা সামলাতেন। ফলে ক্ষমতা দখলের লড়াইতে এইসব ঘটে। যে সব কাজে তিনি ঔরঙ্গজেবকে পাঠান যেমন বাল্খ বা কান্দাহারে যুদ্ধে তাতে প্রত্যেকটায় মারাত্বক প্রাণসংশয় ছিল। প্ৰত্যেকটায় মোঘলরা লেজে গোবরে হয়। মন্দির ভাঙার ব্যাপারে শাজাহানকে অনেক বেশি চুলকে ঘা করতে দেখা গেছে বরং ঔরঙ্গজেব অনেক পলিটিক্যালি মটিভেটেড। যদিও কোনোটাই সমর্থন যোগ্য নয়। মধ্যযুগীয় বর্বরতা।
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৩ এপ্রিল ২০২৪ ০০:৫০530179
  • যৌবনকালে শাহজাহান (তখন খুররম) নিজেও তো বাবা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অনেক ঝামেলা ঝঞ্ঝাট বিদ্রোহ ইত্যাদি করতেন, পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হতেন। তবে উনি কৌশলী, সারভাইভ করেছেন। ওঁর বড়দা খসরুকে তো জাহাঙ্গীর অন্ধই করে দিলেন বিদ্রোহের শাস্তি হিসেবে। তারপর কেল্লায় বন্দী করে রাখা। পরে ঘ্যাচাং ফু। নিন্দুকে বলে খুররম পথের কাঁটা সরিয়েছেন নিজেই, ভাগীদার কমিয়েছেন।
    ওদের এইসব বংশানুক্রমে চলেছে।
  • upal mukhopadhyay | ০৩ এপ্রিল ২০২৪ ০০:৫৪530180
  • ইয়া তখ্ত ইয়া তাবুত - হয় ক্ষমতায় নয় কবরে কিন্তু তিমুরিদ ট্রাডিশন নয়। আকবর আর মীর্জা হাকিম বহাল তাবিয়াতে ছিলেন। মির্জা হাকিম গণ্ডগোল পাকান। মারামারি জাহাঙ্গীরের পর থেকে। যেটাকে থিওরাইজ করা হয়। একটা ধর্ষকামী বিকৃতি বই নয়। অতিরিক্ত টাকার পাহাড়ের ওপর বসে এসব আসে। মোটেই তুমুরিদ নোম্যাডিক কালচারে এসব ছিল না।
  • upal mukhopadhyay | ০৩ এপ্রিল ২০২৪ ০০:৫৬530181
  • এসব নিয়ে আমি জনতার খাতায় সিরিয়ালি লিখে রেখেছি। দয়া করে দেখবেন।
  • upal mukhopadhyay | ০৩ এপ্রিল ২০২৪ ০১:০০530182
  • মজার ব্যাপার বাপের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে মোঘল সম্রাজ্য শাক্তিশালী হোয়ে এসেছে। ঔরঙ্গজেব এটা বন্ধ করে দিতে পারাটা ভালো হয়নি। মজার ব্যাপার। আরো জানতে চাইলে মুনিস ডি ফারুকির প্রিন্সেস অফ মোঘল এম্পায়ার পড়তে পারেন।
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৩ এপ্রিল ২০২৪ ০১:০৮530183
  • কতজন শাহজাদাকে তো কেল্লায় বন্দী করে রেখে আফিম খাইয়ে খাইয়ে ঝিম মারিয়ে রাখত।
  • upal mukhopadhyay | ০৩ এপ্রিল ২০২৪ ০১:৫১530184
  • এটা নিয়ে রামচন্দ্র প্রামাণিকের গল্পঃ পোস্তপানি, আবহ মান ভারতকথা বইটায়।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন