এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • হেদুয়ার ধারে - ১০৪

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৮ মার্চ ২০২৪ | ১০৭ বার পঠিত
  • তিন সপ্তাহ কেটে গেল এরপর। পুজো এসে পড়েছে দোরগোড়ায়। বারোয়ারি পুজোর প্যান্ডেল বাঁধার কাজ চলছে জোর কদমে। বিভূতিবাবু টুকটুক করে কাছাকাছি পাড়ার প্যান্ডেল বাঁধার কাজ দেখে বেড়াচ্ছেন সকালে কিংবা বিকেলে। একদিন বিকেলে জন্মেজয়বাবুর সঙ্গে দেখা হল রামদুলালের মোড়ে। বিভূতিবাবু বললেন, ' বিবেকানন্দ স্পোর্টিং-এর প্যান্ডেল বাঁধা দেখতে যাচ্ছি ... হয়ে এল প্রায় .... চলুন যাবেন নাকি? '
    জন্মেজয়বাবু সানন্দে রাজি হয়ে গেলেন।
    ----- ' হ ... চলেন চলেন ... কুমিল্লায় আমাদের গ্রামে দুইটা পুজা হইত। নাটমন্দিরেই ঠাকুর গড়া হইত। কি আনন্দ যে করসি আহা সেই বাল্যকাল থিকা কি বলব ... সেই সব দিন এ জীবনে আর কুনোদিন ফিরব না ... '
    জন্মেজয়বাবুর চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠতে যাচ্ছিল। বিভূতিবাবু বললেন, ' দুঃখ করবেন না ... দুঃখ করবেন না ... দেখবেন এখানেও খুব আনন্দ হবে ... এখানকার পুজো তো দেখেননি ... '
    ----- ' না তা দেখি নাই... খুব আগ্রহ আছে .. '
    ----- ' আগেরবার পুজোর পরে আমরা একটা নাটক করেছিলাম। সবাই খুব সুখ্যাতি করেছিল। এবারেও ভাবছি তেমন একটা কিছু করার ... '
    ----- ' আরে বাঃ ... সেইটা তো খুব ভাল কথা ... করলে তো খুব ভালই হয় ... আমাদের দেশেও হইত ... বিসর্জনের দুই দিন পর ওই নাটমন্দিরেই... বুঝলেন কিনা ... মাতায়ে দিত অ্যাক্কারে ... '
    ----- ' আমার খুব ইচ্ছে আপনাকেও একটা রোল দেওয়া হোক। ধরুন ... ডায়লগ বেশি থাকবে না কিন্তু বেশ একটু গুরুত্ব থাকবে এইরকম ... কথা বলে দেখি আমাদের ডিরেক্টর অসিতের সঙ্গে ...'
    এ কথা শুনে জন্মেজয়বাবুর মুখে হাসি আর ধরে না। তিনি একগাল হেসে বললেন, ' সত্যি ... আমি নাটক করুম? '
    ----- ' আমার তো সেরকমই ইচ্ছে। এখন দেখি অসিত কি বলে ... '
    দুজনে মিলে চললেন বিবেকানন্দ রোডে প্যান্ডেল বাঁধা দেখতে দুই নবীন কিশোরের মতো।

    অসিত নাটকের স্ক্রিপ্ট জোগাড় করে ফেলেছে। রবীন্দ্রনাথের শেষরক্ষা করবে বলে ঠিক করেছে। হাসির নাটক। কিন্তু নামানো অত সহজ না। হাসির নাটক করা খুব কঠিন। তার চেয়ে গুরুগম্ভীর নাটক করা সোজা। এখন শেষ পর্যন্ত কি হয় দেখা যাক।
    অসিত বলে গেছে সামনের রবিবার আসবে। তারপর নাটক এবং নাটকের কুশীলবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।
    ----- ' তা ভাল, তা ভাল ... '

    সুমনার সঙ্গে প্রতিবিম্বর দেখা হল হেদুয়ায় ছ সাত দিন বাদে। কাবেরীও ছিল সুমনার সঙ্গে। প্রতিবিম্ব এখন পড়াশোনা নিয়ে খুব ব্যস্ত। রোজ মোটেই দেখা হচ্ছে না দুজনে। সুমনা কোন অভিযোগ করে না এই নিয়ে। সুমনা আর কাবেরী বেঞ্চে বসল।
    সুমনা প্রতিবিম্বকে বলল, ' মামা কেমন আছে এখন? '
    ----- ' এখন ঠিক আছে। কাল থেকে কাজে বেরোচ্ছে। '
    ----- ' যাক নিশ্চিন্ত হলাম। '
    কাবেরী বলল, ' আবার তা'লে কবে যাচ্ছ? '
    প্রতিবিম্ব বলল, ' কোথায়? '
    ------ ' সুমনাদের বাড়ি, জ্যোতিষী সেজে ... '
    ----- ' আরে দূর ছাড় তো ... ওসব ন্যাকামি আমার ভাল লাগে না ... অলোকেন্দু স্যারকে বলে দিয়েছি ... নিজেকে বাফুন লাগে। জীবনে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে ... এসব আর ভাল লাগে না ... '
    ----- ' স্যার কি বলল? '
    ----- ' বললেন, ঠিক আছে এখন নয় পোস্টপনড থাক ওসব ... পরে দেখা যাবে। আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। সুমনা জানে তো সব .... বলেনি? '
    সুমনা চুপ করে বসে ছিল। বলল, ' কি আর বলব ... সত্যিই তো ওরকম বাফুনারির কোন মানে হয় না ... আমি বাপিকে বলেছি ... বড়দির বিয়ের কথাবার্তা চলছে এক জায়গায়। এখানেই হবে মনে হচ্ছে ... '
    কাবেরী বলল, ' বাদ দে ওসব। এবারে পুজোয় কি করবি ভাবছিস? '
    ----- ' কি আর করব ... থোড় বড়ি খাড়া ... খাড়া বড়ি থোড় ... ' সুমনা বলে।
    ----- ' সেই ... বিবেকানন্দ, সিমলা, গিরিশ পার্ক ...
    বড়জোর বাগবাজারের মাঠ ... চল না একদিন সাউথে। কোনদিন যাইনি। ঘোরা তো হবে ... কি প্রতিবিম্ব? '
    ----- ' এটা মন্দ বলনি। গেলে হয় ... আমিও কোনদিন যাইনি। ডবল ডেকার টু বি বাসে বালীগঞ্জ পর্যন্ত যাব ... তারপর ওখান থেকে এদিক ওদিক.... ভালই হবে ... ' প্রতিবিম্বর আপত্তি নেই।
    সুমনা বলল, ' কালীঘাটে আমার ছোটমামারা থাকে ... '
    প্রতিবিম্ব তাকে থামিয়ে দেয়।
    ----- ' না না ... কারও বাড়িতে টাড়িতে যেতে পারব না ... ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে এর বাড়ি ওর বাড়ি যাওয়া পোষাবে না .... '
    ----- ' আমি কি এর বাড়ি ওর বাড়ি যেতে বলেছি ...কি আশ্চর্য ! কোন কথাই তো বলা যাবে না দেখছি .... এভাবে চলে না ... ', সুমনার মুখে বিরক্তির চিহ্ন স্পষ্ট।
    প্রতিবিম্ব ঝাঁঝিয়ে উঠল ---- ' চলে না তো চলে না ... দেখ কি করবে ... '
    কাবেরী হাল ধরতে বাধ্য হল এবার।
    ----- ' অ্যাই অ্যাই অ্যাই ... কি হচ্ছে কি এসব ! এই ক'দিনের মধ্যেই এই অবস্থা ... বিয়ের পর কি হবে তা'লে ! দুজনেরই বোধহয় মুড অফ আজকে ... '
    সুমনা বাঁদিকে রাস্তার দিকে তাকিয়ে রইল। প্রতিবিম্ব একটা বই বার করে পাতা উল্টোতে লাগল। সামনে দিয়ে স্কটিশের ছেলেমেয়েরা অলস পায়ে পাক মারছে। বেথুনেরও দু একজন টহল দিচ্ছে কথা বলতে বলতে।
    কাবেরীই নীরবতা ভাঙল।
    ----- ' অ্যাই ফুচা...নিখিল স্যারের কাছে পড়বি না?
    বাড়িতে বলেছিস? '
    সুমনার মেজাজ ঠিক নেই। সে দায়সারা ধরণে উত্তর দিল, ' হ্যাঁ বলেছি ... বাপি বলেছে পুজোর পর ... '
    ----- ' যাক তাও ভাল। নিখিল স্যার একজন অদ্ভুত মানুষ। কত কি যে বলেন ... সব বুঝতে পারি না, কিন্তু শুনতে খুব ভাল লাগে। এই সেদিন বলছিলেন, এই প্ল্যানেটে ইভলিউশান মেকানিজম-এ হোমোস্যাপিয়েন্সরা কেন সারভাইভ করে গেল আর নিয়ানডার্থালরা কেন সারভাইভ করল না শারীরিক দিক দিয়ে অনেক শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও। তুই হয়তো ভাল বুঝতে পারতিস। আমার মাথাটা তো মোটা ... আমি ঠিক ... '
    ----- ' থাম তো ... বাজে বকিসনি। তোর বুদ্ধি অনেকের চেয়ে বেশি, যে যাই বলুক ... যারা তোর সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে পারে না তারাই অপদার্থ... '
    কাবেরীকে এত বড় সার্টিফিকেট কেউ কোনদিন দেয়নি। সে নির্নিমেষে সুমনার দিকে তাকিয়ে
    রইল। হঠাৎ কলেজ স্কোয়্যারে পার্থপ্রতিমের ব্যবহারটা মনে পড়ে বুকের ভিতর দিয়ে জ্বলনের একটা স্রোত বয়ে গেল। অপমান অনুভবের জ্বলন। ভাবল, সে নিজেই হয়ত এই অপমানের শলাকা আহ্বান করে এনেছে।
    কাবেরী কোলের ওপর হাত রেখে মাথা নীচু করে কি সব ভাবতে লাগল।
    সুমনার কি খেয়াল হল, আবার বক বক শুরু করল, ' জীবনটা কি শুধু একটা এবড়ো খেবড়ো রাস্তা। শুধু মানিয়ে চলার অঙ্ক ... শুধু ব্যালান্স মেনটেন্সের খেলা? '
    ----- ' আরে ... এইটুকু মেয়ে, এসব কি বলছিস রে ... পাকা বুড়ির মতো ! মাথার ঠিক আছে তো? ' কাবেরী বলল কপালে চাপড় মেরে ... '
    প্রতিবিম্ব বলে উঠল, ' তা, মাথার আর দোষ কি ... পড়েছে আমার মতো পাগল ছাগলের পাল্লায় ... '
    ----- ' না না ... এটা কোন কথা হল না। দায়িত্ব দুজনেরই। একেবারে ছেলেমানুষ তো আমরা কেউ নই ... দায়িত্ব দুজনেরই। শুধু একজনই কেন অ্যাডজাস্ট করবে? '
    প্রতিবিম্ব কোন কথা বলল না। চুপ করে বসে রইল।
    সুমনা বলল, ' ওই দেখ ... তোর নাকি বুদ্ধি নেই ! তুই তো এবার পাকা বুড়ির মতো কথা বলতে আরম্ভ করলি ... হাঃ হাঃ হাঃ ... '
    সময় বয়ে যাচ্ছে অতি দ্রুত। শেষ হতে চলল একটা দশক।

    কালীকিঙ্করবাবুর ঘন ঘন হাই উঠছে আজকে।
    কাল রাতে ভাল ঘুম হয়নি। মশার উৎপাত অসম্ভব বেড়েছে। মশারি টানিয়ে শুলেও দু একটা ঠিক সেঁধিয়ে যাবে ভিতরে। সারা রাত জ্বালাবে।
    তিনি ঘুমের ধুমকি কাটাবার জন্য একটা কড়া করে চা আনালেন শঙ্করীর দোকান থেকে।
    বলে দিলেন, ' দুটো নোনতা বিস্কুটও আনিস ভোলা ... '
    পাশের ঘরে প্রকাশ ঘড়াইয়ের সামনে বসে একজন ডায়েরি লেখাচ্ছে।
    কালীবাবু খুব চিন্তার মধ্যে আছেন। সাগরবাবুর প্রবলেমটা সলভ না করা পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছেন না।
    তিনি নিজে এ সাবজেক্টটাতে একেবারে আনাড়ি। প্রকাশ ঘড়াইও দেখা গেল তাই। এ ব্যাপারে আর কোন পারদর্শীর কথা তো মনে পড়ছে না জানাশোনার মধ্যে।
    কালীবাবু পাশের ঘরে প্রকাশবাবুর গলা শুনতে পেলেন। বেশ জোর গলায় ডায়েরি করাতে আসা লোকটাকে বলছে ---- ' আপনার পার্টনারের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলুন না, খোলাখুলি কথা বলুন ... দেখুন না কি বলে। রাজি না থাকলে বলে দিক,ব্যাপারটা ওখানেই চুকিয়ে দিন ... ঝুলিয়ে রেখে লাভ কি? আপনিও ফ্রি হয়ে গেলেন ... সেও ফ্রি হয়ে গেল ... কি? '
    উত্তরে লোকটা কি বলল ঠিক শুনতে পাওয়া গেল না। তবে কালীবাবুর মাথায় একটা চিন্তার বিদ্যুৎরেখা চিড়িক দিল। ভাবলেন, সত্যিই তো ... কথাটা ঠিকই। খোলাখুলি জেনে নেওয়াই তো সবচেয়ে ভাল রাস্তা। অকারণে ঝুলিয়ে রেখে লাভ কি। হয় এস্পার, নয় ওস্পার। প্রকাশ তো খারাপ বলেনি।
    মোহিনী কুন্ডুকে শায়েস্তা করার ব্যাপারটা কালীবাবু খবর পেয়ে গেছেন প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই।
    সেও তো সপ্তাহ তিনেক হয়ে গেল। তার পর থেকে আর সাগরের দেখা পাননি কালীবাবু। অন্য কোন কাজে জড়িয়ে পড়েছে হয়তো। শরীরও বিগড়োতে পারে। পুরো সুস্থ তো হয়নি এখনও। একটা বুলেট পেনিট্রেট করেছে কাঁধের কাছে ... অন্য কেউ হলে শুয়ে থাকত এখনও। সাগর মন্ডল বলেই বেরিয়ে পড়েছে এত তাড়াতাড়ি।
    কালীবাবু ভাবলেন, বেচারার ডবল পেনিট্রেশান হল আসলে। একটা তো কাঁধে, আর একটা বিঁধে আছে বুকে। কাঁধেরটা ক্লিয়ার করেছে ডাক্তাররা। বুকেরটা ক্লিয়ার করবে কে?

    কালীবাবু চায়ের গ্লাস শেষ করে ফেললেন। ঘুমের ভারটা একটু হাল্কা হয়েছে মনে হচ্ছে এখন। তার মাথায় প্রকাশের কথাগুলো ঘুরছে। এটাই তিনি সাগরকে বলবেন বলে ঠিক করলেন। এখন সাগরের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। ওর কি হল কে জানে। কালীবাবু অস্থিরতা বোধ করতে লাগলেন। ভাবছেন, বেরিয়ে গিয়ে একটা পান খেয়ে আসবেন কিনা।
    কালীবাবুর ঐকান্তিক মানসিক টানেই হয়ত তার ঘরের দরজায় সাগরের আবির্ভাব ঘটল।
    ----- ' আরে অবাক কান্ড ... আপনার কথাই ভাবতেসিলাম ... কোথায় সিলেন এতদিন? '
    ----- ' এই ... মাকে নিয়ে পুরী ঘুরে এলাম ক'দিনের জন্য ... হঠাৎই ঠিক হল ... '
    ----- ' অ ... পুরী গেসিলেন? ভাল ভাল ... এই সময়ে চেঞ্জটা খুব দরকার ... এমনি আর সব ভাল তো? শরীল টরিল ... '
    ----- ' ব্যথা আছে ... আস্তে আস্তে কমবে হয়তো ... সময় লাগবে ... ' সাগর বলল।
    ----- ' হ্যাঁ ... তা ঠিক ... সময় লাগবে ... '
    ----- ' হমম্ ... ওই আর কি ... চিন্তা করে আর কি হবে ... দিন কেটে যাবে ঠিক ... '
    কালীবাবু লক্ষ করলেন সাগরের একটা ছোট শ্বাস পড়ল।
    কালীবাবু জানেন এটা ডাকাবুকো মসীহাপ্রতীম সাগরের ভিতরে আর এক সাগর। বুকের তলা থেকে বেরোন এই ছোট ঘন শ্বাস থেকে কালীবাবু কিছু আন্দাজ করলেন।
    তিনি খানিকক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর আর্দ্র কন্ঠে বললেন, ' আমি ... একটা কথা ভেবেসি... মানে, আপনার ওই ব্যাপারটায় ... যেটা বলেসিলাম... '
    কালীবাবু ভাবছিলেন বোধহয় বিশদে খুলে বলতে হবে সব কিছু। সে ব্যাপারে তিনি মনে মনে কথা সাজাচ্ছিলেন। কিন্তু সৌভাগ্যবশত তার দরকার হল না।
    সাগর বসন্তের গোধূলিমাখা কন্ঠে বলল, ' হ্যাঁ ... বলুন না .... কি একটা বলবেন বলেছিলেন সেদিন ... '
    ----- ' না ... মানে, বলসি যে ব্যাপারটা ডায়রেক্ট কথা বলে পরিষ্কার কইরা নিলে হয় না ... এভাবে কতদিন চলব ... ইয়েস অর নো ... কিছু একটা ফাইনাল হয়া যাক ... '
    দেখা গেল কালীবাবুর বক্তব্য বুঝতে সাগরের কোন অসুবিধে হল না।
    বলল, ' হমম্ ... তাই তো ... কিন্তু ... '
    বলে চুপ করে রইল।
    কালীবাবু বললেন, ' কিন্তু ... কি? '
    ----- ' ভয় করে ... '
    কালীবাবু কোন প্রশ্ন করলেন না। চুপ করে গেলেন। তিনি এ কিস্যায় আনাড়ি হওয়া সত্ত্বেও এই অন্য সাগরের কথাটা কিন্তু অনায়াসে ধরে নিলেন।
    দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে পুলিশকর্তাসুলভ সাহসী স্বরে কালীকিঙ্করবাবু বললেন, ' ঠিক আসে ... ব্যাপারটা আমার ওপর ছাইরা দ্যান। আপনি তো আমার হয়্যা অনেককে অনেকবার বুঝাইছেন। আমি নয় আপনার লগে একবার কারোরে আমার সাধ্যমতো বুঝাইলাম ... '
    সাগর চোখ তুলে দেখে কালীকিঙ্করবাবু স্নেহসিক্ত চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছেন।

    রাত দশটা বাজে। রামধন মিত্র লেনে সঞ্চারী চ্যাটার্জির জ্যাঠতুতো দাদা অমল গীটারে একটা গানের সুর বাজাচ্ছে তার মৃদু আলো জ্বলা দোতলার ঘরে বসে। খোলা জানলা দিয়ে হু হু করে ঢুকছে নীশিথের পুবে হাওয়া। ভেসে যাচ্ছে হাওয়ায়িন গীটারের টংকার... হেমন্তে কোন বসন্তেরই বাণী ... ওই যে পূর্ণশশী দিল আনি .... কোন মধুর স্মরণখানি... পূর্ণশশী দিল আনি ... '

    ( চলবে )

    *******************************************
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন