এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • অভিভাবকদের সংবেদনশীলতা কি কমে যাচ্ছে?

    Srijani Chakraborty লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২০৫ বার পঠিত
  • আমি খবরের কাগজ পড়া ছেড়ে দিয়েছি বারো বছর হতে চলল। তবু টুকটাক কিছু খবর হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক আর ইউটিউব মারফত পেয়েই যাই। আজ যেমন হোয়াটসঅ্যাপ বাহিত একটি খবর পড়ে ভয়ানক মুষড়ে পড়েছি। খবরটি একটি কিশোরীর। শহরের এক নামী স্কুলের পড়ুয়া চোদ্দ বছরের ছাত্রীটিকে মা সরস্বতী পুজোয় জিন্সের বদলে শাড়ি পরতে বলেছিলেন। আর পুজোর বিসর্জনে যাওয়ার অনুমতি মেলেনি। তাই সে আত্মহননের পথ বেছে নিল। চোদ্দ বছরের বাচ্চা মেয়েটির মনে কেমন করে এত ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হল। 

    চারিদিকে অসহিষ্ণুতার মধ্যে পড়ে একটা বাচ্চা মেয়ের প্রাণ চলে গেল। বাবা মা কি করবেন? বাবা মা কি করে বোঝাবেন যে তাঁরা তাঁদের সন্তানের শুধুমাত্র ভাল চান।

    চাহিদার পাহাড় কি বাচ্চাদের মাথায় চেপে বসছে? আজ মেয়েকে নিয়ে স্কুল থেকে ফেরার পথে দেখি অন্য একটি স্কুলের দুটি বাচ্চার হাত ধরে মা টানতে টানতে যাচ্ছেন। হাতে প্রশ্নপত্র।  মেয়েদেরকে মা প্রশ্ন করছেন বাচ্চারা উত্তর দিচ্ছে। এতটা ধৈর্য্যহীন হয়ে উঠেছি কেন আমরা? বাচ্চা সবে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়েছে তাকে একটু পরীক্ষা শেষের আনন্দ উপলব্ধি করতে দিতে কি ক্ষতি? আর পরীক্ষা তো হয়েই গেছে। প্রশ্নপত্রে কটা ভুল আর কটা ঠিক করে এসেছে সেই হিসাবনিকাশ করে অভিভাবকই বা কি প্রশান্তি পাবেন, আর বাচ্চাই বা কি জ্ঞান অর্জন করবে? ওরা একটু খেলতে চায়, ওরা মুক্ত আকাশ চায়। আমরা যদি সারাক্ষণ ফোনে ডুবে থাকি তবে ওরাও তাই শিখবে। আমরা যদি পণ্যমুখী এবং ভোগবাদী জীবনকেই নিয়ম ভাবি তবে ওরাও সেই নিয়মে চলতে শিখবে।

    যার গেল তার গেল। তাই বাচ্চার সাথে বাচ্চা হয়ে মিশি আসুন সবাই। ফোন ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তার সাথে খোশগল্পতে মাতি। সারাক্ষণ পড় পড় না করে, তাদেরকে একটু জায়গা দিই। ওদের মুখের হাসিই তো আমাদের প্রাণে সুমধুর বাতাস বয়ে আনে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Arindam Basu | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:৫৯528649
  • এটাও আপনার আগের পোস্টটার মত, মানুষ কে একা থাকার, বা নিজের মত করে বাঁচার অধিকার স্বীকার করে নেওয়া। এইসব অল্প বয়স থেকে শুরু হলে ভাল হয়। 
    অতিরিক্ত অভিভাবকত্ব ক্ষতিকর। 
  • Srijani Chakraborty | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০:৩৮528662
  • ধন্যবাদ অরিন্দমদা। ঠিকই বলেছেন। ছোট ছোট বাচ্চাদেরও যে নিজের মত করে বাঁচার অধিকার আছে এ আমরা অনেকেই ভুলতে বসেছি।
  • Arindam Basu | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:৪৫528668
  • শিশুদের সমস্যা হচ্ছে তাদের জন্য তাদের মত হয়ে কোন লবি নেই। যেহেতু তারা ভোটার নয়, তাদের পলিটিকাল প্রেশারের ব্যাপারটাও নেই। সেটা একটা দিক। দ্বিতীয়ত, অভিভাবকদের একটা ছবি চোখের সামনে থাকে, এখন সেটা কতটা বাস্তব কে জানে। একমাত্র শিক্ষক, বিশেষ করে প্রাথমিক ইস্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের হাত ধরে শিশুদের জোর জবরদস্তি ইঁদুর দৌড়ে সামিল করানোর মারাত্মক প্রবণতা থেকে উদ্ধার করা যেতে পারে। কিন্তু তাঁরাও যদি গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসান, তাহলে ভারি মুশকিল। 
     
    একেকটা দেশে একেকরকম। 
     
    আমাদের দেশ, আওতেয়ারোয়া নিউজিল্যাণ্ডে শিশুরা তাদের পাঁচ বছর বয়েসেরজন্মদিনটিতে প্রথম ইশকূলে যায়, ইশকুল শুরু করে। প্রাইমারী ইশকুল প্রধানত খেলার জায়গা। পরীক্ষা ইত্যাদি নিয়ে কোন চাপ নেই, কিন্তু প্রবল দৌড়ঝাঁপ আর ক্যাম্পে গিয়ে উদ্দাম হৈহুল্লোড় না করলে হবে না। সেখানে অবশ্য ছোট দেশ বলে শিক্ষকদের সঙ্গে অভিভাবকদেরও যেতে হয় (যারা পারেন)। এই করে ১২ বছর বয়স অবধি চলে, তার পর হাইস্কুল, তখন আবার অন্য জীবন। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন