এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • শাজাহানের স্বপ্ন  ও জাহানারার বার্ন কেস

    upal mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৯৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কদিন ধরে একটা ভাবনা শাহেনশাহ শাজাহানের মনে খচখচ করছে, রাতের বেলা স্বপ্নে দেখা দিয়েছেন বেগম মুমতাজ মহল। তিনি যমুনার জল থেকে সরাসরি উঠে এসেছেন, তাঁর সারা গায়ে জলের ফোঁটারা টপটপ করে ঝরছে কিন্তু বিশাল যমুনার দিগন্ত বিস্তারি খাতে কোথাও এক ফোঁটা জল নেই। শুধু বালি, ধু ধু করছে বালির চড়া তার ওপর দুটো চখাচখি বসে। তারা কি ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে পাতলা জলের যে অবশেষ আছে তার ওপর ওপর? কিন্তু শাহেনশাহ তো কই জল দেখতে পাচ্ছেন না! শুধুই বালি। জলের খোঁজে খোঁজে চখাচখির সঙ্গে সঙ্গে কি ঘুরে বেড়াবেন হিন্দুস্থানের বাদশাহ? লোক লস্কর নিলে যদি পাখিরা পালায়, তাই ঘুমের গভীরে সন্তর্পনে এগোতে থাকেন শাহেনশাহ। সেই সময় পাখিরা ডেকে উঠেছে, ঠিক উড়বার আগের মুহূর্তে ডেকে ওঠে চখাচখি আর তারা বেগমকে দেখিয়ে দেখিয়ে ঠোঁট তুলে তুলে বলছে, “ মালিকা এ হিন্দ, মালিকা এ হিন্দ ”। শাহেনশাহ ঠিক করতে পারেন না কোনটা দেখবেন – সদ্য স্নাতা মুমতাজকে নাকি যমুনার চরে বসে থাকা কথা বলা পাখিদের। এই করতে করতে পাখিরা উড়ে যায়। যেমন জোড়ায় আসে তেমনই জোড়ায় উড়ে যেতে দেখা গেল তাদের আর এর পর আর বেগমকেও দেখতে পেলেননা শাজাহান। তাঁকে বিছানায় অসহায় ফেলে সবাই চলে যাচ্ছে বেগম ও পাখির জোড়। এই অবস্থায় বাদশাহের কাছে থাকার মতো, তাঁর অশান্ত মনকে সান্ত্বনা দিয়ে আসবেন কে? মায়ের অবর্তমানে তা করতে পারতেন একমাত্র শাহাজাদী জাহানারা, শুধু শাজাহান কেন? ঔরঙ্গজেবকেও প্রায়ই দেখা যায় তাঁর কাছে যত অভিমান আর অভিযোগ নিয়ে যাচ্ছেন। এমনই খাহার এ বুজুর্গ - বড় বোন, শেষ আশ্রয়স্থল হলেন শাহাজাদী জাহানারা।

    এরপরই ষোলোশো চুয়াল্লিশের ছাব্বিশে মার্চ আগ্রায় এত্তেলা পাঠাচ্ছেন বাদশাহ শাজাহান। এত্তেলা যাচ্ছে শাহাজাদী জাহানারার কাছে। তখন সন্ধে হয়ে এসেছে, জাহানারার নিজের মহলের আঁকাবাঁকা ঘুরপথে, আগ্রার কেল্লায় বেলে পাথরের দেওয়ালে মশালচিরা প্রতিটা কোন আলোকিত করে তুলেছে, কোথাও যাতে অন্ধকার না থাকে সেটা দেখা তাদের কর্তব্য। কিন্তু মশাল জ্বালাতে আগুন লাগে আর তার থেকে প্রবল তাপ উৎপন্ন হয়, হতেই থাকে। সে তাপ মানুষকে বাঁচাল আবার মারলোও বটে। তড়িঘড়ি করে আব্বুজানের কাছে পৌঁছতে চাইছিলেন শাহাজাদী জাহানারা। দেখে আরেক শাহাজাদী রোশেনারা বলে উঠেছিলেন, " জলদবাজি? " জাহানারা উত্তর করেন নি। শুধু তাড়াহুড়োয় পানের বাটাটা আনার কথা ভুলে গেলেন, দীর্ঘ অলিন্দে দ্রুত পায়ে যেতে যেতে মনে পড়ে গেল – পান ছাড়া তাঁর চলবে না যে! ঘাড় ঘুরিয়ে নির্দেশ দিচ্ছেন সহচরীকে, সে ছুটলো পানের বাটা আনতে। সেটা ছিল মাঝ রাস্তায় একটা বাঁক আর তাতে জ্বলছে মশাল, গনগনে হয়ে উঠেছে তার তাপ। সেই তাপ শাহজাদীর মসলিনের ওড়না টেনে নিল আগুনের মধ্যে, সারা শরীর আগুন ছড়িয়ে যেতে চাইছে আর সময় নেই এখুনি ছড়িয়ে যাবে। আতর মাখানো থাকে শাহজাদীর শরীরে, আতর থাকে তার আওতায় থাকা সব সহচরীর, একটা আতরের অঞ্চল তৈরি হয়ে যায়। সেই আতরও আগুন পছন্দ করে ফেলল। সারা গা আগুন হয়ে যাবে জাহানারার? প্রাণপণে দু হাত দিয়ে ওড়না খোলার চেষ্টা করছেন তিনি। সে দেখে চার চারজন সহচরী ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচাতে চাইছে শাহজাদীকে, তাদের কারুর গায়েও আগুন ছুঁয়ে ছুঁয়ে দিচ্ছে, তাপ বর্ষাচ্ছে কিন্তু মেঘের দেখা নেই। পানের বাটা আনতে গিয়েছিল যে তার চিৎকারে খোজা প্রহরীরা ছুটে এসেছে, সবাই জানে তাদের অসাধ্য কিছু নেই তাই জাহানারা রক্ষে পেলেন। কিন্তু ভালো রকম পুড়ে গেছে তাঁর শরীরের নানা জায়গা পিছন থেকে আগুন লাগায় পিঠ আর আগুন থামানোর চেষ্টায় হাতের অনেকটা।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন