এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • গোন্ড রাজাদের সঙ্গে মোঘলদের সম্পর্ক

    upal mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ২৫৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • পনেরোশো চৌষট্টিতে আকবর সেপাইসালার আসফ খানকে পাঠিয়েছিলেন স্বাধীন গোন্ড রাজ্য গারহা-মান্ডলা দখল করতে। কত বড় ছিল এই রাজ্য? এখনকার জব্বলপুর, দামোহ, সৌগের, নরসিংপুর ছাড়াও ভূপাল এস্টেট, হোসাঙ্গাবাদ আর বেতুলের একাংশ, চিন্দবাড়া, সোনি, মান্দালা, বালাঘাট জেলার পুরোটা, সম্ভবত ভান্ডারা আর চান্দা জেলাও এই বিশাল রাজ্যের মধ্যে পড়ত। আসফ খান রাজধানী চৌরাগড় থেকে শেষ স্বাধীন গোন্ড রাজা বীর নারায়ণকে হটিয়েদেন। পরে উনি নিজেই রাজা বনতে চান। তাঁকে কব্জা করতে সেপাইসালার মেহেদি কাশিমকে পাঠানো হল। আসফ খান কেল্লা ছেড়ে কেটে পড়লেন, পরে আবার বাদশাহ আকবরের কাছেই শির নোয়ালেন। মেহেদি কাশিম গোন্ডদের প্রাচীন রাজ্যকে মালওয়া সুবার অধীন এক সরকারে পরিণত করেছিলেন। মোঘলরা গোন্ড রাজাদের অধীনস্ত সামন্ত রাজা হিসেবে টিঁকিয়ে রাখে। অনুন্নত, দুর্গম এই অঞ্চলে মুঘোল জাগিরদাররা থাকত বটে তবে সে কেবল রাজস্বের হিসেব কড়ায়গণ্ডায় বোঝার জন্যই। আকবরের রাজত্বের শেষ দিকে পনেরোশো নব্বইতে রাজা মধুকর শার ছেলে মোঘল দরবারের ঘনিষ্ঠ প্রেম নারায়ণ সিংহাসনে বসলে আবার চৌরাগড় কেন্দ্রিক গোন্ড রাজ্য পুরনো মহিমায় ফিরে আসে।উনি মহারাজা উপাধি পাচ্ছেন, পাচ্ছেন এক হাজারি মনসব আর পাঁচশো সওয়ার। পনেরশো চুরানব্বই থেকে গারহা রাজ্যে মোঘল জাগিরদার নিয়োগ স্থগিত থাকে।তখন থেকে আকবর ওই সরকারের শাসনভার গোন্ড মহারাজার হাতেই ছেড়ে দেন। জাহাঙ্গীরের গোটা শাসনকালেও স্থিতাবস্থা বজায় ছিল। 

    সেই রাজা প্রেম নারায়ণকেই সিংহাসনচ্যুত  করেছিলেন বিদ্রোহী বুন্দেলা রাজা ঝাঝর সিংহ। পরে মোঘলরা চৌরাগড় পুনর্দখল করে গোন্ড রাজপুত্র হিরদে শাকে সিংহাসনে বসিয়েছিল। কিন্তু পরে ওই রাজা কোন অজানা কারণে শাজাহানের কোপে পড়লেন। এজন্য ষোলোশো সাতচল্লিশে সর্দার খানকে গারহার জাগিরদার করা হল। তিনি হিরদে শাকে সরাতে না পারায় ওই কাজটা পাহাড় সিংহকে দেয়া হয়েছিল। মসির উল উমারার বর্ণনা অনুযায়ী ষোলোশো একান্নতে  পাহাড় সিংহ বুন্দেলাকে এক হাজারি মনসব দিয়ে গারহার জাগিরদার করা হল। তিনি ফৌজ নিয়ে চৌরাগড় দখল করে লুটপাট চালান। আর সেখানের জমিদার হিরদে শা পালিয়ে বান্ধুর বাঘেলা জমিদার অনুপ সিংহের কাছে যাচ্ছেন রেওয়ায়। পরে পাহাড় সিংহ রেওয়া আক্রমণ করে সেখানেও লুটপাট করছেন আর দুই জমিদার জঙ্গলে আশ্রয় নিচ্ছেন। পাহাড় সিংহকে দিয়ে রাজা হিরদে শাকে সরিয়ে তাঁকেই সেখানে বসানো হল না। পরের বছরই পাহাড় সিংহ কে মুঘল দরবার শাহাজাদা ঔরঙ্গজেবের সঙ্গে পাঠাচ্ছে দ্বিতীয় কান্দাহার অভিযানে। ষোলোশো পঞ্চান্নোয় ইফতিকার খানকে চৌরাগড়ের ফৌজদার নিয়োগ করে সরাসরি মোঘল শাসনে মালওয়া সুবার অধীনে আনা হল। 

    এই ভাবে মোঘল সম্প্রসারণবাদের নীতিতে বুন্দেলাদের হাতে হেরে কমজোরি হয়েও টিঁকে থাকে গোন্ড রাজ্য। হিরদে শা আর চৌরাগড় ফেরেননি, রামনগরে তাঁর রাজধানী স্থাপন করলেন । ষোলোশো সাতান্ন থেকে দূর্গম রাজধানী রামনগরকে কেন্দ্র করে, বেয়াল্লিশ বছর রাজত্ব করে, শেষ নামডাকওয়ালা গোন্ড রাজা হিরদে শা ষোলোশো আটাত্তরে মারা যান । এই সব ঘটনা থেকে মোঘলদের সঙ্গে গোন্ড রাজাদের জটিল সম্পর্কের একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে। স্বাধীন গোন্ড আদিবাসী রাজার  গৌরব কমাতে কমাতে স্থানীয় জমিদারের স্তরে নামিয়ে আনতে শাহাজানের আমলে মোঘল সালতানাত বুন্দেলাদের ব্যবহার করেছিল।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • guru | 103.211.134.183 | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৯:৪৩523368
  • অনেক অচেনা একটা ইতিহাসের কথা লিখেছেন | আরো লিখতে থাকুন এরকম |
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন