এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • শিন্তো ধর্ম - ইহলোকের স্বদেশাসক্তি

    Surajit Dasgupta লেখকের গ্রাহক হোন
    ২২ আগস্ট ২০২৩ | ২৬০ বার পঠিত
  • সেই বাল্যকাল থেকে নেতাজী আমার কাছে একজন আদর্শ পুরুষ। শুধু আমার বলি কেনো, সমগ্র পৃথিবীবাসীর কাছেই। কেউ তাঁর পায়ে মাথা নত করেন তো কেউ তাঁর ভয়ে কাঁপে। কেউ এখনও পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেননি যিনি নেতাজীকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতে পারেন। সেই নেতাজী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের সাহায্য নিয়েছিলেন। জাপানের সেনার সাথে একজোট হয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনানীরা যুদ্ধ করেছিল। ফলে সেই জাপান সম্পর্কেও ছোটবেলা থেকেই আগ্রহের শেষ নেই। স্কুলের পাঠ্য বইতে যখন পেয়েছিলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "জাপান যাত্রী", তখন আগ্রহের অবসান হবে ধরে নিয়ে প্রথমেই এক নিশ্বাসে শেষ করেছিলাম সেই গল্প, বলা ভালো চিঠির সমগ্র। সেই গল্প, সেই কথাগুলো আজও মনের মণিকোঠায় বিরাজ করে। যদিও গুরুদেবের "জাপান যাত্রী" দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অনেক আগে লেখা তবুও সেই লেখাতেই যেনো আগামী জাপানের ভবিষ্যতবাণী অঙ্কুরিত ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে দেশ পুরোপুরিভাবে নিঃস্ব, রিক্ত হয়ে গিয়েছিল, সেই দেশ যে আবার জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন নিতে পারবে তার হদিশ কবিগুরুর লেখা পড়লেই হৃদয়ঙ্গম করা যায়। বিশ্বকবির লেখার বিশ্লেষণ করার মতো ধৃষ্টতা এই অধমের নেই, তাই তাঁর লেখারই কিছু কিছু অংশ তুলে দিচ্ছি নীচে -
     
    জাপানিরা যে রাগ করে না তা নয়, কিন্তু সকলের কাছেই একবাক্যে শুনেছি, এরা ঝগড়া করে না। এদের গালাগালির অভিধানে একটিমাত্র কথা আছে--বোকা--তার ঊর্ধ্বে এদের ভাষা পৌঁছয় না! ঘোরতর রাগারাগি মনান্তর হয়ে গেল, পাশের ঘরে তার টুঁ শব্দ পৌঁছল না, এইটি হচ্ছে জাপানি রীতি। শোকদুঃখ সম্বন্ধেও এইরকম স্তব্ধতা।
     
     এদের জীবনযাত্রায় এই রিক্ততা, বিরলতা, মিতাচার কেবলমাত্র যদি অভাবাত্মক হত তা হলে সেটাকে প্রশংসা করবার কোনো হেতু থাকত না। কিন্তু, এই তো দেখছি--এরা ঝগড়া করে না বটে অথচ প্রয়োজনের সময় প্রাণ দিতে, প্রাণ নিতে এরা পিছপাও হয় না। জিনিসপত্রের ব্যবহারে এদের সংযম, কিন্তু জিনিসপত্রের প্রতি প্রভুত্ব এদের তো কম নয়। সকল বিষয়েই এদের যেমন শক্তি তেমনি নৈপুণ্য, তেমনি সৌন্দর্যবোধ।
     
    এ সম্বন্ধে যখন আমি এদের প্রশংসা করেছি, তখন এদের অনেকের কাছেই শুনেছি যে, "এটা আমরা বৌদ্ধধর্মের প্রসাদে পেয়েছি। অর্থাৎ, বৌদ্ধধর্মের এক দিকে সংযম আর-এক দিকে মৈত্রী, এই যে সামঞ্জস্যের সাধনা আছে এতেই আমরা মিতাচারের দ্বারাই অমিত শক্তির অধিকার পাই। বৌদ্ধধর্ম যে মধ্যপথের ধর্ম।"
     
    শুনে আমার লজ্জা বোধ হয়। বৌদ্ধধর্ম তো আমাদের দেশেও ছিল, কিন্তু আমাদের জীবনযাত্রাকে তো এমন আশ্চর্য ও সুন্দর সামঞ্জস্যে বেঁধে তুলতে পারে নি। আমাদের কল্পনায় ও কাজে এমনতরো প্রভূত আতিশয্য, ঔদাসীন্য, উচ্ছৃঙ্খলতা কোথা থেকে এল।
     
    জাপানিকেও দেখলে মনে হয়, তারা এক ধাতুতে গড়া নয়। পৃথিবীর অধিকাংশ জাতিই মিথ্যা করেও আপনার রক্তের অবিমিশ্রতা নিয়ে গর্ব করে; জাপানের মনে এই অভিমান কিছুমাত্র নেই। জাপানিদের সঙ্গে ভারতীয় জাতির মিশ্রণ হয়েছে, এ কথার আলোচনা তাদের কাগজে দেখেছি এবং তা নিয়ে কোনো পাঠক কিছুমাত্র বিচলিত হয় নি। শুধু তাই নয়, চিত্রকলা প্রভৃতি সম্বন্ধে ভারতবর্ষের কাছে তারা যে ঋণী সে-কথা আমরা একেবারেই ভুলে গেছি, কিন্তু জাপানিরা এই ঋণ স্বীকার করতে কিছুমাত্র কুণ্ঠিত হয় না।
     
    জাপান য়ুরোপের কাছ থেকে কর্মের দীক্ষা আর অস্ত্রের দীক্ষা গ্রহণ করেছে। তার কাছ থেকে বিজ্ঞানের শিক্ষাও সে লাভ করতে বসেছে। কিন্তু, আমি যতটা দেখেছি তাতে আমার মনে হয়, য়ুরোপের সঙ্গে জাপানের একটা অন্তরতর জায়গায় অনৈক্য আছে। যে গূঢ় ভিত্তির উপরে য়ুরোপের মহত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত সেটা আধ্যাত্মিক। সেটা কেবলমাত্র কর্মনৈপুণ্য নয়, সেটা তার নৈতিক আদর্শ। এইখানে জাপানের সঙ্গে য়ুরোপের মূলগত প্রভেদ। মনুষ্যত্বের যে-সাধনা অমৃতলোককে মানে এবং সেই অভিমুখে চলতে থাকে, যে-সাধনা কেবলমাত্র সামাজিক ব্যবস্থার অঙ্গ নয়, যে-সাধনা সাংসারিক প্রয়োজন বা স্বজাতিগত স্বার্থকেও অতিক্রম ক'রে আপনার লক্ষ্য স্থাপন করেছে, সেই সাধনার ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে য়ুরোপের মিল যত সহজ জাপানের সঙ্গে তার মিল তত সহজ নয়। জাপানি সভ্যতার সৌধ এক-মহলা--সেই হচ্ছে তার সমস্ত শক্তি এবং দক্ষতার নিকেতন। সেখানকার ভাণ্ডারে সবচেয়ে বড়ো জিনিস যা সঞ্চিত হয় সে হচ্ছে কৃতকর্মতা; সেখানকার মন্দিরে সবচেয়ে বড়ো দেবতা স্বাদেশিক স্বার্থ। জাপান তাই সমস্ত য়ুরোপের মধ্যে সহজেই আধুনিক জার্মানির শক্তি-উপাসক নবীন দার্শনিকদের কাছ থেকে মন্ত্র গ্রহণ করতে পেরেছে; নীট্‌ঝের গ্রন্থ তাদের কাছে সবচেয়ে সমাদৃত। তাই আজ পর্যন্ত জাপান ভালো করে স্থির করতেই পারলে না--কোনো ধর্মে তার প্রয়োজন আছে কিনা, এবং ধর্মটা কী। কিছুদিন এমনও তার সংকল্প ছিল যে, সে খৃস্টানধর্ম গ্রহণ করবে। তখন তার বিশ্বাস ছিল যে, য়ুরোপ যে ধর্মকে আশ্রয় করেছে সেই ধর্ম হয়তো তাকে শক্তি দিয়েছে, অতএব খৃস্টানিকে কামান-বন্দুকের সঙ্গে সঙ্গেই সংগ্রহ করা দরকার হবে। কিন্তু, আধুনিক য়ুরোপে শক্তিউপাসনার সঙ্গে সঙ্গে কিছুকাল থেকে এই কথাটা ছড়িয়ে পড়েছে যে, খৃস্টানধর্ম স্বভাব-দুর্বলের ধর্ম, তা বীরের ধর্ম নয়। য়ুরোপ বলতে শুরু করেছিল, যে-মানুষ ক্ষীণ তারই স্বার্থ নম্রতা ক্ষমা ও ত্যাগধর্ম প্রচার করা। সংসারে যারা পরাজিত সে-ধর্মে তাদেরই সুবিধা; সংসারে যারা জয়শীল সে-ধর্মে তাদের বাধা। এই কথাটা জাপানের মনে সহজেই লেগেছে। এইজন্যে জাপানের রাজশক্তি আজ মানুষের ধর্মবুদ্ধিকে অবজ্ঞা করছে। এই অবজ্ঞা আর-কোনো দেশে চলতে পারত না; কিন্তু জাপানে চলতে পারছে তার কারণ জাপানে এই বোধের বিকাশ ছিল না এবং সেই বোধের অভাব নিয়েই জাপান আজ গর্ব বোধ করছে--সে জানছে, পরকালের দাবি থেকে সে মুক্ত, এইজন্যই ইহকালে সে জয়ী হবে।
     
    জাপানের কর্তৃপক্ষেরা যে-ধর্মকে বিশেষরূপে প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন সে হচ্ছে শিন্তো ধর্ম। তার কারণ, এই ধর্ম কেবলমাত্র সংস্কারমূলক, আধ্যাত্মিকতামূলক নয়। এই ধর্ম রাজাকে এবং পূর্বপুরুষদের দেবতা ব'লে মানে। সুতরাং স্বদেশাসক্তিকে সুতীব্র করে তোলবার উপায়-রূপে এই সংস্কারকে ব্যবহার করা যেতে পারে।
     
    কিন্তু, য়ুরোপীয় সভ্যতা মঙ্গোলীয় সভ্যতার মতো এক-মহলা নয়। তার একটি অন্তরমহল আছে। সে অনেক দিন থেকেই কিংডম্‌ অব্‌ হেভ্‌ন্‌কে স্বীকার করে আসছে। সেখানে নম্র যে সে জয়ী হয়; পর যে সে আপনার চেয়ে বেশি হয়ে ওঠে। কৃতকর্মতা নয়, পরমার্থই সেখানে চরম সম্পদ। অনন্তের ক্ষেত্রে সংসার সেখানে আপনার সত্য মূল্য লাভ করে।
     
    য়ুরোপীয় সভ্যতার এই অন্তরমহলের দ্বার কখনো কখনো বন্ধ হয়ে যায়, কখনো কখনো সেখানকার দীপ জ্বলে না। তা হোক, কিন্তু এ মহলের পাকা ভিত; বাইরের কামান গোলা এর দেয়াল ভাঙতে পারবে না; শেষ পর্যন্তই এ টিঁকে থাকবে এবং এইখানেই সভ্যতার সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে।
     
    আমাদের সঙ্গে য়ুরোপের আর-কোথাও যদি মিল না থাকে, এই বড়ো জায়গায় মিল আছে। আমরা অন্তরতম মানুষকে মানি--তাকে বাইরের মানুষের চেয়ে বেশি মানি। যে জন্ম মানুষের দ্বিতীয় জন্ম, তার মুক্তির জন্ম, তার জন্যে আমরা বেদনা অনুভব করি। এই জায়গায়, মানুষের এই অন্তরমহলে য়ুরোপের সঙ্গে আমাদের যাতায়াতের একটা পথচিহ্ন দেখতে পাই। এই অন্তরমহলে মানুষের যে-মিলন সেই মিলনই সত্য মিলন। এই মিলনের দ্বার উদ্‌ঘাটন করবার কাজে বাঙালির আহ্বান আছে, তার অনেক চিহ্ন অনেকদিন থেকেই দেখা যাচ্ছে।
     
    জাপানের যে ধার্মিক চালচিত্র কবিগুরুর লেখা থেকে আমরা পাই, তা কিন্তু আমাদের কাছে একেবারেই নতুন এক দিশা। ধর্মের সাথে দেশকে, স্বদেশিকতাকে, ইহকালকে মিশ্রিত করার প্রয়াস বোধকরি কোনো দেশই করেনি। জাপান এক্ষেত্রে অগ্রগণ্য এবং একমাত্র দেশ। ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্পকলা, সংস্কৃতি- প্রতিটি ক্ষেত্রেই জাপান ধরে রেখেছে স্বকীয়তা, জায়গা করে নিয়েছে কৌতূহলী মানুষের মনে। দেশটির পপ সংস্কৃতির কথা না বললেই নয়। মাঙ্গা, অ্যানিমে ও উত্তেজনাময় ভিডিও গেমসের সমাহার শুধু জাপানেই পাওয়া সম্ভব। কিন্তু জাপানিদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য কিন্তু সবার চোখেই ধরা পড়েছে, তা হলো তাদের নিয়মতান্ত্রিক জীবন, সুনিপুণ কলাকৌশলে সমৃদ্ধ প্রতিটি কাজ ও কলুষমুক্ত চিন্তাচেতনা। কীভাবে তারা এরকম জীবনযাত্রায় পারদর্শী হলো? এর পেছনের কারণটাই বা কী? এসকল প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আগে জানতে ও বুঝতে হবে শিন্তো ধর্ম সম্পর্কে।
     
    শিন্তো হলো জাপানের প্রাচীনতম ধর্ম, যার উৎপত্তি ইয়াওই যুগে। ২০০ খ্রিস্টপূর্ব – ২৫০ খ্রিস্টাব্দ (অনেকে বলেন ৩০০ খ্রিস্টপূর্ব – ২৫০ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত সময়কে বলে ইয়াওই যুগ। এ যুগ জাপানি সংস্কৃতিতে বিভিন্ন নতুন ও প্রয়োজনীয় জিনিসের যোগানদাতা। আধুনিক জাপানের ভিত তৈরি হয় এই যুগে। এছাড়া ধানের চাষ ও বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের জন্য ধাতব যন্ত্রের প্রচলন শুরু হয় এই সময়। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সামরিক কার্যক্রমের জন্য অস্ত্রশস্ত্রের উৎপাদন জরুরি হয়ে পড়ে।
     
    শিন্তো ধর্মে তাদের ঈশ্বরের আদলে তৈরি কোনো মূর্তি বা ভাস্কর্য নেই। ধর্মটির উৎপত্তি কে করেছিল বা কীভাবে হয়েছিল সেই সম্পর্কেও বিশেষ কিছু জানা যায় না। এটি এমন এক ধর্ম যা প্রতিষ্ঠাতা ছাড়া বহু যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে। প্রকৃতি ও বিশুদ্ধতার প্রতি শ্রদ্ধা ও নমনীয়তা শিন্তো ধর্মের মূল কথা। জাপানি শিন্তোতে নেই কোনো কঠোর নিয়ম এবং আচার-অনুষ্ঠান, বরং এটি একটি জীবনপদ্ধতি। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সাথে সততা ও বিশ্বস্ততার মতো গুণাবলীর উপর জোর দিতে শেখায় শিন্তো। শিন্তোর অনুসারীদের উদ্দেশ্য হলো “মাকোতো নো কোকোরা” অর্থাৎ কলুষতা ও অরাজকতা থেকে মুক্তি লাভ করে স্বাধীন ও সুন্দর মনের অধিকারী হয়ে ওঠা। 
     
    পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে শিন্তো ধর্মে কোনো প্রতিষ্ঠাতা ও ঈশ্বরের মূর্তি নেই, তবে অনুসারীগণ কামিদের প্রচণ্ড ভক্তি করেন। এই কামি (Kami) হলো শিন্তো ধর্মের মূল আকর্ষণ। ধর্মটির অনুসারীদের বিশ্বাস ইজানাগি ও ইজানামি (Heaven & Earth) থেকে জাপানের অসংখ্য দ্বীপ ও কামির জন্ম।  
     
    এখন কামির কথায় আসি। কামি হলো একপ্রকার দেবতা যারা বিভিন্ন জীব ও জড় পদার্থে বসবাস করে। এদের সংখ্যা আনুমানিক ৮ মিলিয়ন, যা জাপানে ইনফিনিটি সংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। শিন্তোকে বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘কামির পথ’। কামিরা বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে, যেমন- পাহাড়-পর্বত, গাছপালা, নদী-নালা, আসবাবপত্র, এমনকি মানুষ ও পশুপাখিও। তাই প্রকৃতির সকল কিছুর প্রতি জাপানিরা শ্রদ্ধা ও যত্ন প্রকাশ করে, কারণ তারা কামিদের প্রতি রুদ্ধ মনোভাব দেখাতে চায় না বা তাদের কষ্ট দিতে চায় না। তবে মজার ব্যাপার হলো, যদিও কামিদের দেবতা বা ঈশ্বরতুল্য গণ্য করা হয়, তারা সবসময় ভালো বা শুভ শক্তির পক্ষে থাকেন না। কিছু কিছু কামি অশুভ শক্তির প্রতীক। এরা মানুষের ক্ষতি করতে চায়। তাই এদের বিশুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন রকম ভোগ ও আচার-অনুষ্ঠান পালনের রীতি রয়েছে শিন্তো ধর্মে। কামিরা অলৌকিক শক্তির অধিকারী। তাই তারা মানুষের কামনা-বাসনা পূরণে সক্ষম। এমনকি, প্রাকৃতিক ঘটনা, যেমন- বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ইত্যাদি কামিদের শক্তির প্রতিফলন বলে মনে করে জাপানিরা। কামিরা যদিও ভালো ও খারাপ দুই রকম হতে পারে, তবে ভালো কামির সংখ্যাই তুলনামূলক বেশি। 
     
    বিশ্ববিখ্যাত অ্যানিমেটর হায়াও মিয়াজাকি তার অ্যানিমেগুলোতে চরিত্রের প্রয়োজনে বিভিন্ন কামির উদাহরণ আমাদের সামনে ফুটিয়ে তুলেছেন। জাপানি সংস্কৃতিতে কামির প্রভাব যে অনেক তা আমরা এ থেকেই বুঝতে পারি। তার ১৯৯৭ সালের অ্যানিমেশন প্রিন্সেস মনোনোকে-তে আমরা Forest God বা অরণ্যের কামির ঝলক দেখতে পাই। তার আরেকটি ছবি স্পিরিটেড অ্যাওয়ে-র শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখা মেলে হাজারো স্পিরিট বা কামির। হায়াও মিয়াজাকি ছাড়া অন্য অ্যানিমেটররাও যুগ যুগ ধরে অ্যানিমেশন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কামিদের কেন্দ্র করে অনেক অ্যানিমেশন বানিয়েছেন। আবার যারা ঈশ্বরে বিশ্বাসী নয় বা শিন্তো ধর্ম অনুসরণ করে না, তারাও কামিদের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। 
     
    কামিদের খুশি করার জন্য শিন্তো ধর্মে হরেক রকম উৎসব পালিত হয়। তা নিয়ে একটু পরেই আলোচনা করা হবে। তবে তার আগে চলুন জেনে নেয়া যাক শিন্তোর চারটি মৌলিক ভিত নিয়ে।
     
    ১) পরিবার: ঐতিহ্য ও আচার-অনুষ্ঠানের মূল হচ্ছে পরিবার। তাই পরিবার গঠন ও এর নিয়মকানুন অবশ্যই গুরুত্বের সহিত দেখতে হবে। 
     
    ২) প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা: শিন্তো ধর্মাবলম্বীদের কাছে প্রকৃতি বেশ স্বর্গীয়। কামিরা বসবাস করে প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানে। তাই প্রকৃতিকে যত্নের সহিত লালন করা বাঞ্ছনীয়।
     
    ৩) আচারের জন্য নিজেকে পরিশুদ্ধ করা: কামির পূজা করার স্থান হচ্ছে মন্দির। আর মন্দিরে প্রবেশের আগে সবাইকে আধ্যাত্মিক ও শারীরিকভাবে শুচি করতে হবে। শিন্তো ধর্মাবলম্বীদের সকলেই নিজেদের মানসিক ও আত্মিক শান্তি ও শুচির জন্য বছরে দুবার উৎসবের আয়োজন করে থাকে। এ থেকেই বোঝা যায় শিন্তো ধর্মে বিশুদ্ধতার গুরুত্ব কতখানি। 
     
    ৪) মাতসুরি: দেবতা ও পৈতৃক আত্মাদের যথাযথ মর্যাদা দেয়া।
     
    শিন্তো জাপানের সবচেয়ে পুরনো ধর্ম, কারণ বৌদ্ধধর্ম ও কনফুসিয়ানিজমের আগে শিন্তোই ছিল জাপানের একমাত্র ধর্ম। তাই জাপানে যখন নতুন নতুন ধর্মের আগমন ঘটে, তা শিন্তোর উপর বিরাট প্রভাব ফেলেছিলো। বলা যায়, জাপানিজদের জীবনযাপনে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল। সেই সময়ই আসলে শিন্তোর নামকরণ করা হয়, যাতে একে অন্যান্য ধর্ম থেকে আলাদা করা যায়। তখন থেকে জাপানের অনেকেই শিন্তো ও বৌদ্ধধর্মের সংমিশ্রণে জীবনচর্চা শুরু করে। তবে দুটো ধর্ম কিন্তু মোটেই একরকম নয়, বরং এদের নিয়মকানুনে ব্যাপক ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। যেমন- অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কোনো প্রচলনই ছিল না শিন্তো ধর্মে। বৌদ্ধধর্ম আসার পর জাপানিরা মৃতদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করতে শেখে। 
     
    মেইজি যুগে (১৮৬৮-১৯১২) শিন্তো জাপানের রাষ্ট্রধর্ম হয়ে ওঠে। শিন্তোকে বৌদ্ধ ধর্ম থেকে আলাদা করার লক্ষ্যে সে সময়ের শাসকগণ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সেসবের মধ্যে অন্যতম জাপানি সম্রাটদের দেবত্ব প্রদান। শিন্তোর পুরাণে বলা হয়েছে, জাপানের প্রথম সম্রাট জিম্মু ছিলেন সূর্যদেবী অমতেরাসুর বংশধর। রাজতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী সকল সম্রাটরাও তাই দেবীর বংশধর বলে বিবেচিত হতেন। তাই জাপানের সকল সম্রাটকে কামির প্রতিনিধি বলে গণ্য করা হয়।
     
    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নানা কারণে যখন শিন্তো জাপানি মূল রাজ্য থেকে খানিকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন বৌদ্ধধর্মের গ্রহণযোগ্যতা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সাথে সম্রাটের ক্ষমতার একাংশ কেড়ে নেয়া হয়, যার ফলে তিনি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতার আসন হারান। জনগণের নিকট তখন তিনি শুধুমাত্র রাষ্ট্রের প্রতীক হয়ে দাঁড়ান। সেই থেকে জাপানি সম্রাটদের পূর্বের মতো ঐশ্বরিক ক্ষমতাসম্পন্ন কামির প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হয় না। সম্রাট আকিহিতো কোনোরূপ দেবত্বের দাবি করেননি, বর্তমান সম্রাট নারুহিতোও করেন না। এর পেছনে অবশ্য রাজনৈতিক কারণ যথেষ্ট পরিমাণে ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে যে টোকিও ট্রায়াল হয়েছিল জাপানের বিচারের জন্য এবং আর এক বাঙ্গালী নায়ক শ্রীযুক্ত রাধাবিনোদ পাল মহাশয়ের কল্যাণে শেষ অব্দি জাপানকে নিঃশেষিত করতে পারেনি আমেরিকা, কিন্তু অনেককিছুই ত্যাগ করতে হয়েছিল তদানীন্তন জাপানকে। যার প্রধান ছিল জাপান সম্রাটের দেবত্ব গরিমার অবসান এবং শুধুমাত্র আলংকারিক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে অবনমন হওয়া। সমস্ত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে সম্রাটকে নামিয়ে প্রায় সাধারণ নাগরিকে পরিণত করা হয়।
     
    শিন্তো ধর্মে বিশ্বাসী মানুষদের প্রধানতঃ তিনটি সম্প্রদায়ে ভাগ করা হয় - ১) জিনজা ২) কিওহা এবং ৩) মিনজোকু। জিনজা শিন্তো সবচেয়ে প্রাচীন সম্প্রদায়, এবং বিস্তৃত অর্থে শিন্তো বলতে আমরা যা বুঝি তার ঐতিহ্যবাহী রূপ। কিওহা শিন্তো প্রতিষ্ঠিত হয় মেইজি যুগের কিছুকাল আগে, এবং এটি সরকার স্বীকৃত ১৩টি সম্প্রদায় নিয়ে গঠিত। মিনজোকু শিন্তো বা লোকসম্প্রদায় সাধারণত স্থানীয় জনগোষ্ঠী যারা মন্দিরে পূজা করে থাকে, এবং এই সম্প্রদায়ের বিভিন্ন রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্ম, তাওবাদ এবং কনফুসিয়ানিজমের প্রভাব রয়েছে। 
     
    উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান শিন্তোর সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্য। প্রতি বছরই অনেক উৎসব হয় কামিদের ধন্যবাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে। শিন্তোর প্রধান উৎসবকে বলা হয় মাতসুরি, যা সাধারণত ৩টি অংশে বিভক্ত। প্রথমটির নাম কামি মুকা, যার অর্থ কামিকে স্বাগত জানানো। এই অংশে মন্দিরগুলো বিশেষ স্বাগত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কামিকে পৃথিবীতে স্বাগত জানায়। দ্বিতীয় অংশটি শিংকো নামে পরিচিত, যার বাংলা কামির মিছিল। এই অংশে একটি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয় যেখানে ‘মিকোশি’ বা পালকিতে করে মন্দিরের কামিকে বহন করা হয়। উৎসবের শেষ অংশ কামি ওকুরি, যেখানে কামিকে তাদের স্বর্গীয় বাসস্থানে ফেরত পাঠানো হয়। বিনোদনের উদ্দেশ্যে রাজকীয় ভোগ ও জমকালো অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
     
    জাপানের বেশিরভাগ জনগোষ্ঠী বিয়ের ক্ষেত্রে শিন্তোর নিয়ম অনুসরণ করে থাকে। একজন শিন্তো পুরোহিত পুরো অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। প্রথমে হবু স্বামী ও স্ত্রী কামির কাছে মানত করেন। এরপর ‘সান-সান-কুডো’-তে অংশ নেন। এটি মূলত অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত অংশ যেখানে বর ও কনে ৩টি আলাদা আলাদা কাপ থেকে একধরনের বিশেষ পানীয় তিনবার পান করেন। পান পর্ব শেষ হলে পুরোহিত তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন। 
     
    অন্য আচার-অনুষ্ঠানগুলোয় মন্দিরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রায় ১৫,০০০ শিন্তো মন্দিরের অস্তিত্ব আছে জাপানে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আইসির গ্র্যান্ড শ্রাইন, যেখানে সূর্যদেবী অমতেরাসুর পূজো করা হয়। আরও একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান মিয়ামাইরি। এই অনুষ্ঠান করা হয় শিশুর মঙ্গল কামনায়। বাবা-মা তাদের ১ মাসের শিশুকে নিয়ে মন্দিরে আসেন। সেসময় তারা কামিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তাদের ফুটফুটে শিশু উপহার দেয়ার জন্য। একইসাথে পুরোহিত ওই শিশুকে সকল অনাচার থেকে রক্ষায় বিভিন্ন প্রার্থনার আয়োজন করেন। বর্তমানে শিন্তো হয়ে উঠেছে জাপানের সর্ববৃহৎ ধর্ম। প্রচুর সংখ্যক মানুষ শিন্তোর অনুসারী, আবার অনেকে শিন্তো ও বৌদ্ধ দু’ধর্মই চর্চা করে থাকেন। সমৃদ্ধিশালী জীবন ও আত্মিক শান্তির জন্য শিন্তোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করে জাপানিরা। তাই তারা শিন্তোকে স্রেফ ধর্ম নয়, বরঞ্চ জীবনের পথ প্রদর্শক হিসেবে দেখে।
     
    কবিগুরুর চোখে "জাপান যাত্রী"র মধ্যে দিয়ে আমরা যখন জাপানকে দেখি, তখনই বুঝতে পারি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এত দ্রুত কিভাবে বা কেনো একটা দেশ আবার মাথা তুলে জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ হয়েছিল। প্রেক্ষাপট তাদের তৈরীই ছিল, তাচ্ছিল্য করলেও জয় ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষায়। যারা ধর্মের সাথে জীবনধারাকে, দেশকে, স্বদেশাসক্তিকে, ইহকালকে মিশ্রিত করতে পেরেছে তাদের উন্নতি তো অবশ্যম্ভাবী। আধ্যাত্মিকতার স্থান, পরলোকের ভাবনা জাপানিদের ক্ষেত্রে খুব কমই আছে, ইহলোকের ভাবনাটাই বেশী। এখানেই তাদের নিজস্বতা, বাকী পৃথিবী থেকে আলাদা করেছে তাদের।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে প্রতিক্রিয়া দিন