এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • আমার না-মানুষী সহবাসীরা 

    Somnath mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৩ আগস্ট ২০২৩ | ৩০৬ বার পঠিত
  • (মাননীয় পাঠক, আপনি কি শহরতলির বাসিন্দা? আপনার বাড়িতে কি এক চিলতে জমি বা বাগান আছে? সেখানে আপনার যত্নে বা অযত্নে ডালপালা মেলে বেড়ে ওঠা ঝোপঝাড় আর গাছগাছালিও নিশ্চয়ই আছে? তাহলে আপনি অশেষ ভাগ্যবান। ভাবছেন, কেন বলছি এমন কথা, তাইতো? এমনটা যদি সত্যি হয়, জানবেন আপনি জীববিজ্ঞানের এক আশ্চর্য প্রয়োগশালার কর্মমুখর পর্যবেক্ষক তথা গবেষক। একখণ্ড জমি, গুটিকয়েক গাছ, একটু ভালোবাসা আর প্রবল অনুসন্ধিৎসা থাকলে আপনি খুব সহজেই এক অক্প্পল্পনীয় প্রাণময় জগতের খোঁজ পেয়ে যাবেন। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবর্ধনের এতো আলোচনা, এতো বিধিনিয়ম জারি করার হয়তো কোন প্রয়োজনই হয়না যদি আমরা সবাই আমাদের একান্ত প্রতিবেশ সম্পর্কে আরও একটু আন্তরিক হ‌ই। আমার বাড়ির লাগোয়া বাগানে প্রতিদিনের নানান কাজের ফাঁকে যে সব না-মানুষী সহবাসীদের আনন্দময় সঙ্গ, সাহচর্য লাভ করি নিয়মিতভাবে তাদের কথা তুলে ধরার জন্য‌ই এই ধারাবাহিক নিবন্ধ -- আমার না-মানুষী সহবাসীরা। আজ তার দ্বিতীয় কিস্তি।)

    (মিস্টার নকুলের সঙ্গে কিছুক্ষণ -- প্রথম কিস্তি )
     
    (১)
     
    বিকেলে খানিকটা সময় ধরে পাড়া বেড়িয়ে সন্ধের ঠিক মুখে বাড়িতে ঢুকবো ঢুকবো করছি, এমন সময় নামলো বৃষ্টি। বআধ্য হয়ে এক দোকানের ছাউনির নিচে দাঁড়াতে হলো। বাড়ি থেকে বেরনোর সময় আকাশের মন মর্জি বুঝে নেবার চেষ্টা করেছিলাম বটে, তবে হিসেবের অঙ্ক যে ঠিকঠাক মেলেনি বৃষ্টির জলে পড়া দেখে তা বিলকুল মালুম হলো। চারদিকের সবকিছুই যখন বেবাক বদলে গেছে বা যাচ্ছে তখন বৃষ্টির চরিত্র‌ও যে এমন ধারা বদলে যাবে তাতে আর আশ্চজ্যি কি ! 
    ছাউনির তলায় একটা ছোট্ট জটলা। আমার মতো সেখানে অপেক্ষমান প্রাজ্ঞ সহনাগরিকেরা নানা প্রসঙ্গে আলোচনা করছেন -- টমেটোর দাম থেকে রতন টাটার প্রেম, অগ্নিগর্ভ মণিপুর থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা -- সব‌ই আছে আলোচ্য বিষয়ের তালিকায়। এমন আলোচনায় মত বিনিময় করার চেষ্টা না করাই সঙ্গত। তাই চুপ করে থাকি। বৃষ্টি থেমে গেছে ‌।ভিজে রাস্তায় সন্তর্পণে পা টিপে টিপে দু কদম এগোতেই দেবুর সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। ও আমার কাছেই চলেছে শুনে তাড়াতাড়ি বাড়ির পথে পা বাড়াই। ততক্ষণে সন্ধে বেশ ঘোর হয়েছে।
     
    (২)

    শরীরের সামান্য ভিজে যাওয়া অংশগুলো মুছে নিয়ে বৈঠকখানায় বেশ জমিয়ে বসতেই বৃষ্টিভেজা বাইরের উঠোন থেকে একটা তীব্র গন্ধ ভেসে আসে। এই সুবাস আমার খুব পরিচিত। দেবুর অপরিচিত নাকে এই গন্ধ যেতেই সে রীতিমতো উল্লাসে মেতে উঠে বলে -- বৌদি, আজ মনে হয় ভালো দিনেই এসে পড়েছি ! নতুন গোবিন্দভোগ চালের গন্ধ পাচ্ছি, পোলাও রান্না হচ্ছে নাকি?
    দেবু একেবারে নাগরিক বাসিন্দা -- একটা খাসা ফ্ল্যাটগুহা বাড়িতে থাকে, পাড়ায় গাছগাছালির জঙ্গুলে আবহ নেই, একেবারে আকাশছোঁয়া হর্ম্যমালার গর্বিত আস্ফালন। এহেন দেবুকে পোলাও রহস্য নিয়ে দু-চার কথা বলতে শুরু করি। ততক্ষণে চা আর কুচো নিমকির প্লেট নামিয়ে রেখে গেছেন গৃহকর্ত্রী।
     
    (৩)

    আজ আমি আপনাদের আমার প্রয়োগশালার এক নিশাচর অতিথির কথা বলবো যার সঙ্গে আমার প্রায়শ‌ই দেখা হয় রাতের অন্ধকারে। খুব সতর্ক পদক্ষেপে তার পদচারণা, কখন প্রবেশ আর কখনোই বা তার প্রস্থান তা টের পাওয়া মোটেই সহজ ব্যাপার নয়। তবে তার উপস্থিতির বিষয়টি বিলক্ষণ মালুম হয় ছড়িয়ে পড়া মাতাল কস্তুরী সুবাসে। দেবু যাকে পোলাও রান্না হচ্ছে বলে ভেবেছিল সেটি আসলে গন্ধগোকুল বা ভামবিড়ালের এক বিশেষ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত সুবাসিত তরলের গন্ধ। একসময় আমাদের বাগানে ও আশেপাশের এলাকায় এই নিশাচর প্রাণিটির আনাগোনা অনেক অনেক নিয়মিত ছিল। ইদানিং এই স্বভাব লাজুক নিরীহ নিশাচর প্রাণিটিও ক্রমশ‌ই বিরলদর্শন হয়ে উঠেছে তাদের বাসভূমির যথেচ্ছ পরিবর্তনে। পাঠকদের মধ্যে যারা এই প্রাণীটিকে চাক্ষুষ করেছেন তাদের ছেড়ে তারা কখনোই গন্ধগোকুল বা ভামের দর্শন পাননি তাদের সঙ্গে প্রাণিটির পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক।

    (৪)

    পরিচিত গন্ধগোকুল বা ভামবিড়াল কিন্তু আদতে বিয়ার বা মার্জার বর্গের প্রাণি নয়, যদিও সহজ পরিচিতির জন্য আমরা তাকে সিভেট ক্যাট বলেই  চিনি। এর বিজ্ঞান সম্মত নাম সিভেটেটিস্ সিভেট্টা । নেউল বা বেজির নিকট সহচর এই প্রাণিটি অবশ্য ১০০ শতাংশ নিশাচর। আমাদের অতি পরিচিত গন্ধগোকুলেরা সাধারণত পাম সিভেট নামেই গবেষকমহলে পরিচিত। বেজির মতো এদের‌ও বেশ লম্বাটে গড়নের লোমশ লেজ আছে। লেজ ছাড়া এরা প্রায় দু ফুটের মতো লম্বা, বেশ হালকা পাতলা দোহারা চেহারা। সারা শরীর কালো রঙের লোমে ঢাকা, ফলে রাত আঁধারে এদের উপস্থিতি টের পাওয়া বেশ মুশকিল। আম পাকলে বাগানে এদের আনাগোনা অনেকটাই বেড়ে যায়। চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই লম্বা নখ দিয়ে গাছের গুঁড়ি আঁকড়ে ধরে তরতরিয়ে উঠে যায় মগডালে। সেখানে বসেই বেশ পরিপাটি করে আম্রফলের সোয়াদে তৃপ্ত হয়ে আবার নেমে আসে মাটিতে। তবে এরা মোটেই ফলভোজী নয়, রীতিমতো মাংসাশী। দৃষ্টি শক্তি অত্যন্ত প্রখর ফলে শিকারের খোঁজ পেতে খুব বেশি অসুবিধা হয়না। গৃহস্থের বাড়ি থেকে হাঁস, মুরগি, পায়রা বা অন্যান্য পাখি চুরি করে নিতে এঁরা মোটেই পিছপা হয়না। আমাদের বাগানে পাখপাখালির বাসা থেকে ডিম চুরি করতে দেখেছি একাধিকবার। তবে বেজিদের সমগোত্রীয় হলেও গন্ধগোকুলেরা স্বভাবগত ভাবেই একাচারী এবং নির্জনতা প্রিয়। এদের পেরিনিয়াল গ্ল্যাণ্ড থেকে নিঃসৃত হয় এক বিশেষ ধরনের সুগন্ধি রস। আর এর সুতীব্র সুবাস নাকে এলেই মনে হয় আজ বোধহয় হেঁসেলে খানদানি গোবিন্দভোগ বা বাসমতি চালের পোলাও রান্না হচ্ছে। বাগান থেকে যখন‌ই এমন গন্ধ ভেসে আসে তখনই টের পাই আজ তিনি এসেছেন আমাদের দুয়ারে। পাতে পোলাও না পেলেও বিনে পয়সার সুবাসে পোলাও খাবার ভরপুর আনন্দ মেলে তখন। ঘ্রাণেন অর্দ্ধ ভোজনম্ এর কথাতো সকলের জানা আছে।

    (৫)

    একদা গ্রাম বাংলার অত্যন্ত পরিচিত এই প্রাণিটি‌ও আজ প্রবলভাবে বাসভূমির সংকোচন সংকটে জর্জরিত। পৃথিবীতো শুধু মানুষের জন্য নয়, এমন‌ই সব ছোটখাটো প্রাণীদের নিয়েও এই পৃথিবী। নিজেদের প্রয়োজনকে খুব বড়ো করে দেখতে গিয়ে আমরা আমাদের সহবাসীদের অস্তিত্বকেই আজ বুঝি আজ অস্বীকার করে চলেছি নানান ছলছুতোয়। মানুষ‌ও যে এই আশ্চর্য প্রাণশৃঙ্খলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ সেকথা ভুলি কেমনে?
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • sarmistha lahiri | ১৩ আগস্ট ২০২৩ ২৩:৫৩522406
  • এখনো শহরতলীর যে সকল অংশে এইসব প্রাণীরা অস্তিত্ব টিকিয়ে   র য়েছে তাদের বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের যত্নবান   হওয়া  উচিত । তবেই জীব বৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। লেখকের হাত ধরে আমরা এদের চিনতে পারলাম।
  • Kuntala | ১৪ আগস্ট ২০২৩ ১৮:৪৩522466
  • আপনি এতো সুন্দর করে লিখেছেন যে এই গন্ধ গোকুলবাবুকে না-মানুষী নয়, সত্যিই মানুষের চেয়েও বেশি মনে হচ্ছে।
  • Sumanta kundu | 2401:4900:3be8:ad06:510c:ab08:b139:bc7 | ১৪ আগস্ট ২০২৩ ১৯:৫৩522468
  • আমাদের  নাগের বাজারের বাড়ি তে  এরা বেশ আছে  ছানা পোনা  নিয়ে . লেখা টা  দারুণ . তবে বিজ্ঞান সম্মত নাম টি ভুল লেখা হয়েছে  ওটা  Paradoxurus hermaphroditus হবে .
  • Rajib Mukherjee | 2405:201:8000:b1a1:2515:8c9b:1e25:67ed | ১৪ আগস্ট ২০২৩ ২১:৩৮522473
  • সময়চিত  লেখা তরুণ সমাজ এর হাতে রেখেগেলাম এদের কে তোমাদের ভাবার বিষয় ​​​​​​​.
     
     
     
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন