এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • একটি অম্বলজনিত ভাট

    প্যালারাম লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৮ মার্চ ২০২৩ | ৯১৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৩ জন)

  • হিসেব রাখা—বড় দায়।

    নিজের হিসেব? ধারণা, বক্তব্য, আর যাপনের গরমিলের হিসেব? আরও কঠিন। যদিও আমাদের, বাঙালিদের সুবিধে একটু বেশি। Hypocrisy-র বাংলা নেই যে! ওসব 'কপটতা'-ফপটতা বাদ দিন, কন্সেপ্টটাই ভিনদিশি। যা ভাবি, তা গুরুজনের বা সমাজের কথা ভেবে গিলে/বদলে ফেলবো না? সে আবার কেমন কথা! অতএব, 'যখন যেমন, তখন তেমন'!

    এর ওপর যদি আবার নিয়ে আসি সামঞ্জস্য বা ধারাবাহিকতার ব্যাপার, সে তো আরও কঠিন! পরশু মোহনবাগানকে নিয়ে যে জ্ঞানবাক্যি ঝেড়েছিলাম, আজ সেই একই কথা বেপাড়ার ছোকরা পাকিস্তানের ক্রিকেট টিম নিয়ে বললে, মেনে নিতে হবে? সমাজে সম্মান বলে একটা ব্যাপার নেই?

    তা, এমতাবস্থায়, সোশ্যাল নেটওয়র্কে জ্ঞান বিতরণের ঝক্কি অনেক। সাত বছর আগের নিজের পোস্ট/স্ক্রিনশট তুলে এনে যদি কেউ চেপে ধরে? না, কেভিন হার্ট ও অস্কার অনুষ্ঠানের পেঁয়াজির কথা হচ্ছে না। ইতোমধ্যে কারুর মতামত, ধারণা—বদলে যেতেই পারে। মুশকিল হল, যদি না বদলে থাকে? যদি চিন্তায় কন্টিন্যুইটির সমস্যা আসে? তবে?

    একটাই উদাহরণ নিয়ে কথা বলি। শিল্পী, শিল্প আর ব্যক্তি নিয়ে। ওরফে, "আমার হিরো হাগেন না" সিনড্রোম। পরে ব্যাপারটা আরেকটু টেনেটুনে দেখা যাবে না হয়। এ লেখা লেখার সময় অবধি আমার যা জানাশোনার দৌড়, তাতে এ তর্কের কোনো সাধারণ সমাধান পাওয়া গেছে বলে, অন্তত আমার, জানা নেই (জানলে প্লিজ বলবেন)।

    মাইকেল জ্যাকসন পিডোফাইল ছিলেন বলে তেনার নাচা-গানা শোনা বন্ধ করে দেবো কি? উত্তর 'হ্যাঁ' হলে, একই দাবিতে শ্রোয়েডিঙ্গারের ইক্যুয়েশন থেকে তেনার নাম সরিয়ে ফেলা দরকার, তাই না? দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সমীকরণটি 'ব্যবহার' না করার সৌভাগ্য আমাদের হবে না—ফান্ডামেন্টাল সমীকরণ হাজার হোক। মরে যাওয়া লোকের অসুবিধে নিয়ে ভেবে লাভ নেই না হয়, কিন্তু বেঁচে থাকা লোকজন তো হামেহাল 'ক্যান্সেল' হয়ে যাচ্ছে জনতার দরবারে, থুড়ি, খাপে। অভিযোগ সত্য-মিথ্যা—যা-ই হোক। কেভিন স্পেসি, সি এস ল্যুইস—নানা জন। ওদিকে, রোমান পোলান্সকি ফ্রান্সে গিয়ে খুব ফুর্তিতে কাটাচ্ছেন, অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও—ক্ষণজন্মা পরিচালক হওয়ার সুবাদে।

    একটু কেস ধরে ধরে ভাবলেই দেখা যাবে, 'ক্যান্সেল' হওয়ার সম্ভাবনা হল—প্রতিভার বিচ্ছুরণ, অপরাধের সাম্প্রতিকতা, আর খ্যাতি – এ সবের এক জটিল অপেক্ষক। কারুর রিসার্চের কাজে লাগতেই পারে, আমার-আপনার মাথা ঘামিয়ে কাজ নেই। যা হচ্ছে—মানব সমাজের দশচক্রে—হোক।

    সে নয় হল। আমরা নিজেরা কী করি? মানে, নিজের জীবনে কোন নিয়মটা মানবো? এইসব উদাহরণ তো খুব সাঙ্ঘাতিক সব অপরাধের কথা। আমাদের বিশ্বাস, মূল্যবোধ, নৈতিকতা (এবং এইরকম আরো ভারি ভারি কিছু কথা)– এইসবের সঙ্গে খাপ খায় না—এমন কিছু শিল্পীর মধ্যে দেখলেই কি তাকে নিয়ে চর্চা করা, তার সৃষ্টি থেকে আনন্দ নেওয়া বাদ দিয়ে দেবো? তাহলে কি আর কোনো প্রথাভাঙা শিল্পীই পড়ে থাকবে?

    তবে কি সবসময়েই শিল্পীর থেকে শিল্পকে আলাদা করে দেখবো? যদি সে সৃষ্টি তাঁর নিজের জীবন থেকে সরাসরি প্রভাবিত হয়, তা-ও?
    যদুবাবু-কে কোট করি,
    "একটা দারুণ কবিতা/লেখা পড়লেই প্রশ্ন আসে কে লিখেছে? তারপর তাকে খুঁজে বের করি, তার অন্য লেখা পড়ি, তার কথা মুগ্ধ হয়ে শুনি, সে প্রথমে লেখা নিয়ে বলে, তারপর সে বলে সমাজ নিয়ে, তারপর বোঝার আগেই সে আমার কথা আমার মুখ থেকে কেড়ে নিয়ে বলে... এই ইনহেরেন্ট ব্যক্তিপূজা ঝেড়ে ফেলা খুব শক্ত। আসলে শিল্পের মধ্যে একটু হলেও শিল্পীসত্তার ছাপ থেকে যায়, যাকে বলে 'individual trace', সেটা শিল্পকে transcend করতে সাহায্য করে কখনো কখনো ... ওই যে লেখার ইতিহাস সেটা ডিনাই করবো কী করে?"

    এই অবধি এসে, তবে সহজতম উত্তর—এই দুই চূড়ের কোনোটাই পালনীয় নয়, সমাধান আসলে এর মাঝে কোথাও আছে।

    কোথায়? কতটা পথ পেরোলে তবে (অনিন্দনীয়) 'শিল্পী' হওয়া যায়?

    যাহ্, সুমনের প্রসঙ্গ এসেই পড়লো। বেশ, একেই প্রথম উদাহরণ করা যাক। কখনো মমতাকে নিয়ে লাফালাফি করছেন, কখনো চট্টোপাধ্যায় থেকে কবীর হচ্ছেন, কখনো রিপাবলিককে গালি দিচ্ছেন, তো কখনো সত্তরোর্ধ্বে বিছানা, মুক্ত কাম—এসব প্রসঙ্গ নিয়ে ইন্টারভিউ দিয়ে মধ্যবিত্ত বাঙালিকে অস্বস্তিতে ফেলছেন। একই সময়ে তাঁর গান, কবিতার ধরন, বাংলা গানে তাঁর অবদান– নিয়ে আলাদা করে যা লেখা হচ্ছে, আবেগের ঘনঘটা বাদ দিলেও—প্রায় পুরোটাই সত্যি! সুমনের (কারুরই) বক্তিগত জীবনযাপন নিয়ে আমার কোনোকালেই কোনো অসুবিধে ছিল না (শুদ্ধাচারী হাবড়াদের—নেহাত হাতে কোনো কাজ বা সময়ের কোনো দাম নেই বলে—এত ঘৃণা বিতরণ করতে দেখেছি, যে, তার বদলে যৌন আনন্দ নিয়ে একটা লোক যদি নিজের মনে নিজের কাজ করে যায়—আমার মোটেই খারাপ লাগে না। আপনার লাগতেই পারে, সেইসব জাজমেন্ট নিয়েই তো কথা বলতে বসা...), কিন্তু সমস্যা তো ছিল—অন্য অনেক কিছু নিয়ে! সমন্বয়ের, প্রান্তিকের ভাষার গুরুত্ব যার গানে প্রথম শুনে অবাক হয়েছি, মুক্তমনের মনে হয়েছে— অযথা তেনাকে ধর্ম পরিবর্তন করে এক প্রাচীন ধর্মগুরুর প্রশস্তি করতে দেখে অবাক হয়েছি বইকি! (খেয়াল করুন—ধর্ম পরিবর্তনে অসুবিধে হয়নি, প্রশস্তিতে অসুবিধে। প্রথমটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত যাপন, পরেরটি পাবলিকে আচরণ) একজন রিপোর্টারকে নোংরা গালি দিতে দেখে সমর্থন করতে পারিনি, কিন্তু একই সঙ্গে রিপাবলিক নামের ওঁচা সার্কাসকে গালি দেওয়ায় হাল্কা পুলক বোধ করেছি। ভেতরের ঘটনা যা-ই হোক, অপেক্ষাকৃত কমবয়সী কবির সঙ্গে খোলাখুলি নিম্নরুচির তর্জায় নেমে পড়তে দেখে বেজায় বিরক্ত হয়েছি। কিছুদিন পরে আবার গান শুনেছি, আর ভুলে গেছি—বুড়োটা কী বলেছিল।

    এবারে, পুরোনো ক্যাসেটের গান তো যেমন আছে, থাকলো—যে লোকটার লাইভ শো একটা অভিজ্ঞতা, লাইভে তাঁর কথা শোনার সময়, গলায় গম্ভীর ইনফ্লেকশন এনে শ্রোতার মনে এক-একটি বিশেষ আবেগ আন্ডারলাইন করে দেওয়া দেখতে দেখতে মনে হবে না তো, যে লোকটা হিপোক্রিট? এই উচ্চরুচির সচেষ্ট প্রদর্শনের আড়ালে আসলে নেহাত ছেঁদো এক মানসিকতা লুকিয়ে আছে? মনে হলে, তা শ্রোতারই দায়, মানছি, কিন্তু শিল্প-শিল্পী সেপারেশনের সমস্যাটা তো থেকেই গেলো, তাই না?

    যদি ধরেও নিই, যে, এই সেপারেশন সম্পূর্ণত সম্ভব, তাহলেও সমস্যা কমে না। আচ্ছা, শুভাপ্রসন্ন যদি খুব এক্কেরে দুনিয়া-কাঁপানো, সমাজ-বদলানো শিল্পী হতেন, যদি তাঁর লক্ষ লক্ষ ডাই-হার্ড ফ্যান থাকতো, আর তাঁর কথাকে তারা বেদবাক্য মনে করতো (যেমন কিছু লোকে মোদি, মমতা বা ট্রাম্পের কথাকে মনে করে), তাহলে বাংলা ভাষা নিয়ে তেনার অগা মন্তব্যগুলো আরো জোর পেতো না? শুধু মমতার সরকারের থেকে সুবিধে পেয়েছেন বলেই, জয় গোস্বামীর লেখা 'দগ্ধ' বা 'নিজের বিরুদ্ধে' বেরোনোর পরে, তথাকথিত 'আলোকপ্রাপ্ত' এই সমাজের বামপন্থী চিন্তাশীলেরা সেই লেখাগুলিকে (যতই সেই আবেগ ও তজ্জনিত কবিতা সত্য হোক না কেন) শিল্পীর থেকে আলাদা করে দেখেছিল? আদৌ দেখা যায় কি?

    নাকি জয় গোস্বামীর মত বিদগ্ধ, প্রতিভাবান, খ্যাতনামা হলে দেখা যায়, নচেৎ নয়? চাড্ডি (সে প্রকাশ্য বা ছুপা—যাই হোক না কেন) কোনো লেখকের ভালো লেখা আলাদা করে সময় নিয়ে পড়ার, ভালো লাগলে তা স্পষ্ট বলার কষ্ট কি করবো আমরা, বিশেষ করে এ জীবনের অবশিষ্ট সীমিত সময়ে (চল্লিশের দোরগোড়ায়—খুব খানিক চিন্তা হয়েছে, বুঝলেন কিনা)? নাকি যার মতামত আমাদের নিজেদের মতো মনে করি, তেমন কেউ সেই চাড্ডির লেখার প্রশংসা করলে অস্বস্তি হবে খুব?

    গুরুচণ্ডা৯ বইপত্র নিয়ে ভালো কাজ করছে — এমন কেউ বললে, বঙ্গ-বামের কি প্রথম প্রতিক্রিয়া হবে বছর ষোলো আগের নন্দীগ্রামের সময়ে বেরনো একটি বহুচর্চিত লেখার লিঙ্ক তুলে এনে নিজের গুরু-বিরোধের কারণ দর্শানো, নাকি বলা—"সে নদীতে আজ এতদিনে অনেক জল বয়ে গেছে, যাক সে কথা"?

    গুরু-র বইপত্র, সম্পাদিত বিভাগ—এসবেও, কেবল খুব চাড্ডি বলেই, কোনো শিল্পীকে কি আমাদের আঁকতে, লিখতে বলতে বাধবে? কারণ হিসেবে, "প্রকাশনা আর এই উদার আঙিনা এক নয়"–এইমতো কোনো যুক্তি দিয়ে নিজেদের মনের কাছে ওকালতি করবো না তো? গুরুর পাতায় কোনো চাড্ডি ট্রোল (ট্রোলিং-এর সাধারণ্যে মান্য সংজ্ঞা ধরেই বলা) ঠিক কতগুলো পোস্টে স্প্যামিং করলে আমাদের উদার প্ল্যাটফর্মের ঔদার্যে টান পড়বে? ক্ষুধার্ত, বয়স্ক লেখক ঠিক কতগুলো "আমায় দেখো" পোস্ট করলে তা স্প্যাম বলে গ্রাহ্য হবে? যে গালাগাল একজন লগিন করা, পরিচয়ধারী ব্যক্তির থেকে এলে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়, বেনামে ঠিক তার কতগুণ গালাগাল কোনো এক ব্যক্তিকে করলে তা অ্যাবিউজ বলে ধরা হবে? 

    প্রশ্নগুলো সহজ, তবে উত্তর (আমার) অজানা।

    শিল্পের ধান ভানতে কেন রীতিনীতির গীত নিয়ে এলাম? কারণ এ সবই, অন্তত আমার মাথায়, সামাজিক আচরণবিধির মধ্যে পড়ে। আর কোনোকালেই সে বিষয়ে আমার কনসেপ্ট ক্লিয়ার ছিলো না। এই লেখাকে আবার কোনো ইঙ্গিত/আওয়াজ/খোঁচা ভেবে বসবেন না। ওসব আমার সত্যিই আসে না। এগুলো আমারই মনের কথা—বহুদিন ধরেই খোঁচাচ্ছে আর আগেও যেমন বললাম—এসবের উত্তর আমার জানা নেই। প্রশ্নগুলো পরিষ্কার করে একবার উচ্চারণ করা, নিজের তরফে, দরকার মনে হল—তাই করলাম।

    এখন, যদি জিজ্ঞেস করেন— এত অজ্ঞানতা আর অম্বল নিয়ে,  দ্বিধায় দোদুল্যমান হয়ে, রাতে ঘুমোই কী করে? ইডিথ স্যামসন রাস্তা দেখান। ওঁর Choose one of five বক্তৃতাটার লিঙ্ক দেওয়া থাকলো (যাদের ইঞ্জিরি পড়ার থেকে শুনতে বেশি ভালো লাগে, তাদের জন্যে অ্যান্ড্রু স্কটের গলায় বক্তৃতাটার একটা ভিডিওর লিঙ্কও আছে লেখাটার তলায়)।




    ★ এ লেখা লেখার পরে, বেজায় অস্বস্তিতে পড়ে, যদুবাবুকে পাঠিয়েছিলাম। সে পাঠালো বছর দুয়েক আগেকার ফেবু-পোস্ট আর তার তলার কমেন্ট-সম্ভারের লিঙ্ক। সুবিধে হল। এ ধরনের চিন্তা নানা সময়ে, নানা আলাপে আমরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে করেই থাকি, কিন্তু সে কথার সাজানো টই পেলে, ভাবনা গোছাতে সুবিধে হয়। গুছিয়ে কোট করলাম, অতএব। সেই পোস্টের লিঙ্কও থাকলো, ঘেঁটে দেখুন গিয়ে...


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • যদুবাবু | ১৮ মার্চ ২০২৩ ২২:২২517534
  • এতো সুন্দর লেখার ... এই শিরোনাম!! ভেঙে পড়লাম। তবে লেখাটা যে লিখেছো, এবং পাবলিশ-ও করলে সে জন্য অনেক থ্যাঙ্কু। এই বিষয়টা এখনো আমরা (অগৌরবে বহুবচন) কেউ ঠিক্করে বুঝি না, তাই যত আলোচনা হবে তত-ই ভালো। 

    একটা জিনিষ এখানে বলার ছিলো, আগে ভুলে গেছিলাম। সেটা হচ্ছে এই যে প্রতিষ্ঠানকে এক-ই ফ্রেমওয়ার্কে ফেলে বিচার করাটা আরও একটু গোলমেলে/কঠিন, না? মানে মানুষের জন্য যেমন একটা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেবিলিটি থাকে, সেটা তো প্রতিষ্ঠানের না-ও থাকতে পারে। এই যেমন ধরো, Vahlen, Teichmuller, অথবা Beiberbach এক-ই সাথে দুর্দান্ত গণিতজ্ঞ এবং ঘৃণ্য নাৎসি ছিলেন। কিন্তু এবার সেই তিনজনেই ইউনিভার্সিটি অফ বার্লিনে দাপাদাপি করতেন, কিন্তু সেই এক-ই জায়গায় ওঁদের আগে-পরেই ভালো লোক-ও তো ছিলেন, (যেমন ভন মিসেস ছিলেন ভ্যালেনের পূর্বসূরী), তাই আমরা ইউনিভার্সিটিকে 'ছিঃ তোমরা নাৎসি পুষেছিলে" বলে গাল দিইনা, তাই না? (মানে তেমন করলে হয়তো দেখা যাবে পৃথিবীর সমস্ত প্রতিষ্ঠানেই কোনো না কোনো সময় এক বা একাধিক বদের ধাড়ি ছড়ি ঘুরিয়েছেন।) 

    আর যারা প্যালারামের লেখাটা পড়বেন একটু কষ্ট করে ঐ এডিথ স্যামসনের লেখাটাও শেষ লাইন অব্দি পড়ে নিন। অবশ্যই শেষতক পড়বেন। অসাধারণ একটা স্পিচ ! (ভাবছি আমার কাষ্ঠবাংলায় অনুবাদ করবো যদি কেউ না করে থাকেন ইতোমধ্যে।)
     
  • &/ | 151.141.85.8 | ১৮ মার্চ ২০২৩ ২৩:৩৪517536
  • ক্ষার দিন, ক্ষার দিন। মানে অ্যালকালি। তাই তো? অম্বল মানে অ্যাসিডের মধ্যে যেই না ক্ষার মানে অ্যালকালি দেবেন, অমনি লবণ আর জল হয়ে যাবে। ঃ-)
  • &/ | 151.141.85.8 | ১৮ মার্চ ২০২৩ ২৩:৪২517537
  • আচ্ছা যদুবাবু, একটা প্রশ্ন আছে। এই নাৎসী গণিতজ্ঞেরা, নির্ঘাৎ ভালো পড়াতেন, গবেষণা করতেন, গণিত খুবই ভালো করতেন। কিন্তু ১৯৪৫ এর পর এঁদের কী হল? এঁরা কি নিজেদের ভুল বুঝতে পারলেন? প্রায়শ্চিত্ত করে কাজে থেকে গেলেন? নাকি পালালেন? ভ্যানিশ হয়ে গেলেন? নাকি ধরা পড়ে জেলে গেলেন বা অন্য কোনো দন্ড পেলেন? কী হল এঁদের? আর এঁদের করা পেপারগুলো? সেগুলো সম্ভবত ফেলে দেওয়া হয় নি। কারণ জ্ঞান তো তাঁদের 'নিজের জিনিস' না, তাঁরা সেই রাজ্যে কাজ করেছেন মাত্র। (অনেক নাৎসী পরবর্তীকালে বলেছেন তাঁরা চাপে পড়ে নাৎসী হয়েছিলেন, আসলে তাঁরা ভালো লোক। নাৎসীদের বিরোধিতা করলে চাকরি যাবে, খেতে পাবেন না, ছেলেপুলে নিয়ে পথে দাঁড়াতে হবে, তাই নেহাত দায়ে পড়ে...)
  • &/ | 151.141.85.8 | ১৮ মার্চ ২০২৩ ২৩:৪৭517538
  • যদুবাবু, সার্চ দিয়ে দেখলাম প্রথম দুজন ফৌত হয়ে গেছেন ১৯৪৫ এর আগেই, তৃতীয়জন বহাল তবিয়তে ১৯৮২ অবধি বেঁচে বৃদ্ধ বয়সে মারা যান।
  • &/ | 151.141.85.8 | ১৮ মার্চ ২০২৩ ২৩:৪৮517539
  • প্রথমজন ১৯৪৫ এর নভেম্বরে পরলোক গমন করেন দেখলাম।
  • &/ | 151.141.85.8 | ১৮ মার্চ ২০২৩ ২৩:৪৮517540
  • আগে না।
  • &/ | 151.141.85.8 | ১৮ মার্চ ২০২৩ ২৩:৫১517541
  • নাহ, এই প্রথম ভদ্রলোক পালাতে পারেন নি, জেলেই মারা যান। (ইনি যুদ্ধ টুদ্ধও বিস্তর করেছেন যৌবনকালে)
  • যদুবাবু | ১৯ মার্চ ২০২৩ ০০:৪৮517543
  • &/: বাঃ আপনি নিজেই সব উত্তর-ও দিয়ে দিয়েছেন। :) হ্যাঁ, প্রথম দুজন বেশ আনন্দে নেচে নেচে নরকে গ্যাছেন আর কি। বাই দ্য ওয়ে, নাৎসী বৈজ্ঞানিকদের মধ্যে কিছু নোবেল-লরিয়েট-ও আছেন, যেমন ফিজিক্সেই ফিলিপ লেনার্ড, যিনি আইনস্টাইনকে প্লেজিয়ারাইজ করেছে বলেছিলেন। কিন্তু সে এঁরা যাই করুন, এদের নাম পুরোপুরি মুছে ফেলা একে অসম্ভব, দুয়ে অপ্রয়োজন বা ক্ষতিকর বলেই মনে হয়।
     
    কিন্তু এইসব আগেও হয়েছে মনে হয়, ওয়াগনারের মিউজিক ইজরায়েলে পাবলিকলি বাজানো যেতো না, এই কয়েক বছর আগে একটা রেডিও স্টেশন বাজিয়ে ফেলে ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু এখেনেও দেখবেন, separate the man from the art - এর কথা তোলা হয়েছে। 

    হ্যাঁ, অনেক নাৎসিই পরবর্তীকালে বলেছেন যে তারা আদেশ পালন করেছেন মাত্র, সেই মিলগ্রামের পরীক্ষার মত, আমি খুব নিশ্চিত আমাদের দেশের চাড্ডিবাহিনীও এক-ই কথা বলে বা বলবে। এই নিয়ে হানা আরেণ্টের (Hannah Arendt) একটা দারুণ লেখা আছেঃ "Personal Responsibility under Dictatorship", ঐ আইখম্যান ট্রায়ালের পরেই। 
     
    (আবার এক সিচুয়েশনে যিনি ভিকটিম, অন্যে হয়তো তিনিই অত্যাচারী। সে সব উদাহরণ-ও ভূরি ভূরি।) 

    But I digress ... আর প্যালারামের লেখার পয়েন্ট বোধহয় এইসব ইতিহাসচর্চা নয়। 
  • যদুবাবু | ১৯ মার্চ ২০২৩ ০০:৫২517544
  • "প্রথম দুজন আনন্দে নেচে নেচে নরকে গেছেন" লেখাটা হয়তো ঠিক হোলো না - লেখার টানে লিখে ফেলেছি। যাই হোক। 
  • hihi | 109.70.100.72 | ১৯ মার্চ ২০২৩ ০১:০২517545
  • অনেক গুণ সত্ত্বেও কেন সুমনকে শ্রদ্ধা করতে পারেন না তা বুঝিয়ে দীর্ঘ পোস্ট করেন তসলিমা।
  • &/ | 151.141.85.8 | ১৯ মার্চ ২০২৩ ০১:০২517546
  • আরে তৃতীয়জনের তো চাকরি গেল ১৯৪৫ এর পরে, কিন্তু তিনি কিছু বছর পরে আবার ডাক পান বক্তৃতা ইত্যাদি দেবার। তারও অনেক পরে পুরস্কার ইত্যাদিও পান।
    (আমার মতে অপ্রাসঙ্গিক নয়। মূল লেখাটায় ব্যক্তি ও তাঁর কর্মকে নিয়ে নানা কথা রয়েছে। ব্যক্তির থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে তাঁর ভালো কর্মকে বিচার করা হবে নাকি তাঁকে জড়ানো হবে ভালো কর্মের সঙ্গে ? যদি জড়ানো হয়, সেক্ষেত্রে ভালোকর্মের ভালোত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হবে ব্যক্তিটি যদি দুর্বৃত্ত হন। )
  • kk | 2601:14a:500:e780:9086:a7ea:c295:34e0 | ১৯ মার্চ ২০২৩ ০১:০৯517548
  • হিপোক্রেট না হিপোক্রিট?
     
    মূল লেখাটা ভালো লাগলো খুবই। 
  • যদুবাবু | ১৯ মার্চ ২০২৩ ০১:১৩517549
  • @&/: দুটোকে পাশাপাশি রাখা যায় না? মানে এক-ই সাথে দুটোই বললে কেমন? উদাঃ "Teichmüller was a gifted, brilliant, and seminal mathematician; he was also a dedicated Nazi" (Sanford Segal).

     
  • &/ | 151.141.85.8 | ১৯ মার্চ ২০২৩ ০১:৩২517551
  • আরে যদুবাবু, স্টার্ক এফেক্ট খ্যাত সেই স্টার্ক (Johannes Stark)? তিনিও তো নাৎসী, রীতিমতন সক্রিয় ছিলেন। এঁর এফেক্টটাই তো সেভাবে পড়িনি আর শুনিওনি আমরা, এর ইকুইভ্যালেন্ট ম্যাগ্নেটিক এফেক্ট অর্থাৎ কিনা জীমান এফেক্ট বিস্তারিত পড়তে হত। ইনি যদি নাৎসী না হতেন, হয়তো সিলেবাসটাই আজ অন্যরকম হত।
  • &/ | 151.141.85.8 | ১৯ মার্চ ২০২৩ ০১:৪৪517553
  • ওইরকম একটা সাংঘাতিক নাৎসীরাজত্ব কায়েম হয়ে খুবই একটা ক্ষতি হয়ে গেল মানুষের জ্ঞানসাধনার জগতে। এক তো সরাসরি ক্ষতি হয়ে গেল ভালো ভালো ইহুদীদের মেরে ফেলল বা বিতাড়িত করল বলে, পরে আরও ক্ষতি হল যখন যুদ্ধ টুদ্ধ হয়ে যাবার পরে ওখানে যারা ছিল তাদেরও ভালো ভালোগুলোকে মেরে টেরে ফেলল বলে। সন্দেহবশেই হয়তো কতজন কোতল হয়ে গেছে।
    (অবশ্য আমাদের মাইকেল মধু অনেক আগেই বলে গেছেন, 'জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে?' )
  • &/ | 151.141.85.8 | ১৯ মার্চ ২০২৩ ০১:৪৬517554
  • ভালো ভালো কাজকর্মগুলো রক্ষা পেলেই অনেক। নইলে বিরিঞ্চিবাবা ছাড়া আর কেই বা থাকবেন ?
  • শক্তিপদ পাত্র। | 103.245.2.234 | ২৭ মার্চ ২০২৩ ১৫:৩২517929
  • হিসেব রাখার প্রয়োজন নেই, যদি মতামতের আন্তরিকতা ও genuineness থাকে। সময় সাপেক্ষে মত বদলায়। না বদলানো rigidity, অন্ধত্ব।
    তবে প্রয়োজন খোলা মন,অতৃপ্ত জিজ্ঞাসা ও যা কিছু গতানুগতিক তা থেকে মুক্তি পাওয়ার স্পৃহা। নিজস্ব চেতনার স্বাধীনতা হৃদয়ের মৌলিক স্পন্দনের অনুগামী।
    যায় বলুন, আপনি বেশ ভাবিয়ে তোলেন।
  • যোষিতা | ২৭ মার্চ ২০২৩ ১৫:৪৪517930
  • অধিকাংশ মানুষইতো ভালোয় মন্দয় মিশিয়ে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন