এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  স্মৃতিচারণ   স্মৃতিকথা

  • রোডেশিয়া

    যোষিতা লেখকের গ্রাহক হোন
    স্মৃতিচারণ | স্মৃতিকথা | ০৬ মার্চ ২০২৩ | ২৬৬৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • এখানে লিখব আফ্রিকার এই বিশেষ অঞ্চলের কথা। এ শুধু ভ্রমনকাহিনি হবে না বলেই মনে হচ্ছে।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • যোষিতা | ১১ মার্চ ২০২৩ ০৪:৩৭739642
  • ভিক্টোরিয়া ফলস থেকে ফেরার পথে উড়ান থামল বুলাওয়ায়োতে। এক ঘন্টার বিরতি। কিছু যাত্রী নামলেন, কিছু যাত্রী উঠলেন। তখন আমার পাশের দুজন যাত্রী একজন জার্মান যুবক অন্যজন অস্ট্রিয়ান প্রৌঢ়া নিজেদের মধ্যে জোরে জোরে কথা বলছেন জার্মানে। আমরা শুনছি। প্রৌঢ়া উঁকি মেরে কী একটা দেখে সেই যুবককে বললেন — ঐ দ্যাখো মহিলার কাঁধে চারটে স্ট্রাইপ!
    যুবক চমকে গিয়ে উঁকি মেরে দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়লেন।
    দুজনের চোখেই চরম শঙ্কার ছাপ। বুলাওয়ায়ো থেকে আডিসআবাবা কম পথ নয়! বেঁচে পৌঁছতে পারবেন কি না, সেই নিয়ে খুব চিন্তা।
    আমিও উঁকি মেরে চারটে স্ট্রাইপওয়ালা সেই ক্যাপটেনকে দেখলাম। ক্লাউডনাইন ক্লাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে একটু বিশ্রাম নিচ্ছেন। আর তর সইল না আমার দৌড়ে গিয়ে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের সেই ক্যাপটেনকে গিয়ে বললাম — আপনার সঙ্গে কি একটা সেল্ফি নিতে পারি?
     
  • যোষিতা | ১১ মার্চ ২০২৩ ০৫:৫৭739643
  • সময় বড় আনপ্রেডিক্টেবল। এক সময়ে ধর্মতলা থেকে বালিগঞ্জ অবধি নিয়মিত অফিস ফেরতা হেঁটেছি একটানা জাস্ট পয়সার অভাবে। এখন পৃথিবীর মানচিত্র খুলে বসে চিন্তা করি সামনের ছুটিতে কোন গন্তব্যে গেলে মন ভরবে। তখন শরীরে মনে জোর ছিল, এখন রক্তের জোর কমছে সেটা টের পাই।
    সেই চরম অর্থ সংকটের সময় অদ্ভূত সব সাহসী চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরঘুর করত। হেঁটে বিশ্বভ্রমন তার মধ্যে ছিল একটা। বিশ্বাস করে সেই আইডিয়া এক কোলিগকে বলবার পর থেকে সে আমাকে পাগল ঠাউরে মোটামুটি এড়িয়ে চলত। 
    এখন হাঁটুর সঙ্গে মনের জোর সমানুপাতে কমছে, তবুও সাধ আহ্লাদ বলতে এইটেই প্রধান, বেড়ানো এবং মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া।
    ছোটবেলা "জলে জঙ্গলে" বলে একটা বইয়ে আফ্রিকার ভ্রমনকাহিনি পড়ে খুব ভালো লেগেছিল। না বিভূতিভূষণের চাঁদের পাহাড় নয়। সে অনেক পরে পড়েছি। একেবারে বিদ্যা ছুঁয়ে বললে স্বীকার করতেই হবে যে চাঁদের পাহাড় আমায় টানে নি। কেন টানেনি, সে প্রসঙ্গে হয়ত পরে আসব।
    আরেকটা ব্যাপার বিশেষভাবে আমাকে আফ্রিকা সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলেছিল। সেটা সত্তরের দশক। আকাশবাণী কলকাতার স্থানীয় সংবাদ ছাড়াও দিল্লি থেকে রিলে করে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বাংলা সংবাদ ব্রডকাস্ট করা হতো। 
    যেমন একদিন শুনছি — আকাশবাণী। খবর পড়ছি ইভা নাগ। রোডেশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইয়ান স্মিথ জানিয়েছেন যে...
    রোডেশিয়া কোন দেশ? কতদূরে? কিছুই জানিনা, নামটা শুধু মনে রয়ে গেল। বড়ো হয়ে অনেক পরে পৃথিবীর মানচিত্রে এই নামের কোনও দেশ খুঁজেই পাই নি।
    তবে দেখা হয়েছিল একজনের সঙ্গে। টানা দশদিন তার 
    সঙ্গে আমায় একই ঘরে থাকতে হয়েছে। 
    সত্যের খাতিরে বলি সে সময়ে আমি রেসিস্ট ছিলাম। কতটা রেসিস্ট ছিলাম তার মাপকাঠি জানা নেই। তবে ছিলাম সেটা এখন বুঝি।
    ঐযে বললাম, সময়। সময় কখন কী করে বসবে কেউ আগে থেকে আঁচ করতে পারে না।
     
  • যোষিতা | ১১ মার্চ ২০২৩ ১৫:২৯739647
  • ঘরের মানুষটির আগে আফ্রিকা নিয়ে একটু দোনামনা ছিল। আগের দুটো সফরে, যথাক্রমে দক্ষিন আফ্রিকা ও মরক্কো ঘুরে আসার পরে তার খুঁতখুতোনি কেটে তো গেছেই, আমার মত সেও পড়েছে এই মহাদেশের প্রেমে।
    তবে সাধু সাবধান। প্রথম যখন সাউথ আফ্রিকা গেলাম তখন ইন্টারনেটে খোঁজ করে অধিকাংশই নেগেটিভ কমেন্টস পাচ্ছিলাম স্থানীয় লোকজনদের ব্যাপারে। ভয়ঙ্কর ক্রাইম, সব সময়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, চাদ্দিকে চোর ডাকাত ছিনতাইকারী, সূর্য ডুবে গেলে বাইরে বের হওয়া নিজের ঝুঁকিতে, এই সমস্ত। গিয়ে ক্রমে দেখা গেল এইসব শুধুই প্রচার। কিন্তু এই প্রচারের চাপে পড়ে প্রথম কয়েকটা দিন বড্ড ভয়ে ভয়ে কাটিয়ে অনেকটা সময় বৃথা হোটেলবন্দী হয়ে নিজেদেরই ক্ষতি হয়েছে।
    মরক্কোর ব্যাপারে তাই অনেকটাই রিল্যাক্সড ছিলাম। তবে সেখানেও যাবার আগে অনেকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল, ডেমোক্র্যাসী নেই, রাজার দেশ, তার ওপর মুসলমানদের দেশ, আরব কালচার, ওখানে আধুনিক মেয়েদের আদর সম্মান নেই, খুন টুনও করে দিতে পারে বেশি মডার্ন ভাবসাব দেখালে। আবার প্রমাণিত হয়েছিল এই সবই ফালতু অপপ্রচার ব্যতীত কিস্যু না।
    তাছাড়া ছাত্রজীবনে বেশ কয়েকজন মরোক্কান তরুণ তরুণী আমার বন্ধু এবং সহপাঠী ছিল, কই তাদের হাবভাব চালচলনে তো কখনও পর্দানশীনতার ছাপ দেখিনি! নিন্দুকের দল বলল, সেসব আগে ছিল, এখন দুনিয়া বদলে গেছে, সর্বত্র মৌলবাদী এবং টেররিস্টরা ওৎ পেতে থাকে। মোটকথা মরক্কোর সফরে প্রকৃতির রূপ ও মানুষের ভালো ব্যবহার এই দুটোর মধ্যে কোনটাকে বেশি নম্বর দেব এখনও সে নিয়ে দ্বিধায় রয়েছি।
    কাজেই রোডেশিয়া যাবার পরিকল্পনা করবার সময়ে লোকের মুখের ঝাল খাইনি। 
    মূল গন্তব্য ছিল ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত দেখা। ম্যাপে দেখলাম জান্বেজি নদীর এই প্রপাত দেখতে হলে হয় জাম্বিয়া যেতে হবে, নয় জিন্বাবুয়ে। একটা ছিল আগে উত্ত রোডেশিয়া, অন্যটা দক্ষিন।
    আফ্রিকার ম্যাপে বেশ কিছু জায়গায় থাকে সরলরেখা।
    আমার নিজের হিসেব বলে যে সরলরেখা লোভের প্রতীক, মিউচুয়াল ভাগ বাঁটোয়ারার চিহ্ন। দখলদারদের নিজস্ব বোঝাপড়ার লাইন। তুমি ওদিকটা নাও, আমি এদিকটা নিই। স্কেল দিয়ে দিয়ে স্ট্রেইট লাইন টেনে টেনে লুঠের জমিতে আধিপত্যস্থাপন।
    আমার গ্রামসম্পর্কে এক দাদা থাকে প্যারিসে, সে দীর্ঘকাল আফ্রিকায় থেকেছে, পেশায় ব্যাংকার ছিল, কিন্তু এক সময়ে নিজেই ছেড়ে দেয় এই ব্যাংকিং এর জগৎ। তাকে ফোন করলাম — ভিক্টোরিয়া ফলস যাচ্ছি।
    — দারুণ সুন্দর জায়গা। যাও ঘুরে এসো।
    — আর কী কী দেখব বলে দাও। মোট এগারো দিন, তবে দৌড়োদৌড়ি করে ঘোরা আমাদের পোষায় না সে তো জানোই।
    —  চোবে ন্যাশানাল পার্কটা ঘুরে এসো। ওটা বটসওয়ানাতে।
    — দাঁড়াও, টুকে নিই। আর কোথায় যাবো?
    — কাজুঙ্গুলা যেও। দুনিয়ার ঐ একটি জায়গাই আছে যেখানে চারটি দেশ মিলেছে। আর তার কাছেই পাবে লায়নস জ।
    — সিংহ দেখা যাবে ওখানে?
    —  সে তো এমনিতেই দেখা টেখা যায়। তবে লায়নস জ অন্য জিনিস। ওটা মিস কোরো না। চব্বিশ মিটার চওড়া যেখানে চোবে নদী। 
    — আমি ইন্টারনেটে দেখে নিচ্ছি।
     
    কী কাণ্ড! ইন্টারনেটে লায়নস জ পাওয়া গেল না। ইতিহাসের এটাই মজা। সময়ই পুরোন হতে হতে ইতিহাস হয়ে যায়। তার কিছু কিছু অংশ স্কেল টেনে সরলরেখা টানার মতো ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলাও সম্ভব।
    লায়নস জ টাইপ করলেই আসছে অশ্বডিম্বের মতো কেবল সিংহের ছবি। হায়রে ইন্টারনেট!
  • যোষিতা | ১৩ মার্চ ২০২৩ ০১:৫৫739650
  • খটকা লেগে রইল মনে। উঁহু হিসেব মিলছে না। কোথাও না কোথাও তো এর কিছু না কিছু পাওয়া যাবে।
    ক্যাপরিভি স্ট্রিপ নিয়ে খোঁজাখুঁজি করে এই লিংকটা অবশেষে পাওয়া গেল।
    এই রোডেশিয়ান বুশ ওয়ারের লিংকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঐ মানচিত্রটি। 
    আমি জিম্বাবুয়ে জাম্বিয়া বটসওয়ানা যাবার জন্য বেশি উৎসাহ পেয়ে গেছি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ওয়াইল্ড লাইফ মহতী জান্বেজি নদী ভিক্টোরিয়া ফলস এরা যেমন ডাকছে তার চেয়েও বেশি ডাকছে আমায় লায়নস জ। এ সিংহ ওয়াইল্ড লাইফের বনের রাজা নন, এ অন্য সিংহের চোয়াল, যা রক্তস্রোত বইয়েছে মহতী জাম্বেজিতে।
    সাউথ আফ্রিকা যাবার বেলা আমার প্রধান আকর্ষণ ছিল রবেন দ্বীপ, কেপ টাউনের ডিস্ট্রিক্ট টোয়েন্টি ফোর। বাকী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছিল ফাউ। টেবল মাউন্টেন, কেপ অফ গুড হোপ , ইত্যাদি প্রভৃতি অসংখ্য সাইট সিয়িং লোকে যেমন নিয়ম করে যায় টায়, সে সবও গিয়েছি।
    আমার মন টানছে রোডেশিয়া। জিন্বাবুয়ে। 
  • যোষিতা | ১৩ মার্চ ২০২৩ ০২:৩০739652
  • কোভিডের টাইমে ফ্লাইটের টিকিটের দাম বড্ড বেড়ে গেছল, এখন ফের নেমে গেছে।
    তারপরেও আফ্রিকার নানান দেশে যাবার টিকিট অসম্ভব ওভার প্রাইসড। জুরিখ থেকে নিউ ইয়র্ক দুবার ঘুরে আসা যায় যে দামে তার চেয়েও দামী শুধু জিন্বাবুয়ে যাবার টিকিট। এর পেছনে অনেক কারন আছে। সেই কারনের পেছনে অনেক রাজনৈতিক অসমীকরণ আছে যা এখানে এখন বলছি না।
    ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের টিকিট কাটা হলো। উড়ান আডিস-আবাবা হয়ে যাবে। এখন হারারে না হয়েই সরাসরি ভিক্টোরিয়া ফলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়া যায়। মাত্র কয়েক বছর হলো ওটিতে শুধু আর ডোমেস্টিক নয়, আন্তর্জাতিক বিমানও যাতায়াত করছে।
     
    যাবার দিন সকালে আমার এক প্রতিবেশি বন্ধুর ফোন। ভদ্রলোক মারাঠি। গোল্ডিজি। 
    —  আমরা আজ জিম্বাবুয়ে যাচ্ছি বেড়াতে!
    আমি আনন্দে ঘোষণা করি।
    — জিম্বাবুয়ে কেন? ওখানে দেখার কী আছে?
    — ভিক্টোরিয়া ফলস! দারুণ সুন্দর! আপনি জানেন না?
    — যান, ঘুরে আসুন, সস্তাই হবে। গরীব দেশ, মারকেট ডাউন। 
    — কী বলছেন? মোটেই সস্তা নয়, হোটেল থেকে টিকিট সবই তো অগ্নিমূল্য!
    — যাহ! এ কী করে হবে?
    গোল্ডিজি আমাকে বিশ্বাসই করলেন না।
    মেজাজ বিগড়ে গেল। মনে মনে বললাম, স্যাংশন কাকে বলে জানেন? জানেন না।
    চান টান করে সুন্দর করে সেজেগুজে আমরা চললাম এয়ারপোর্ট। 
    ইথিওপিয়ানের গ্রাউন্ডস্টাফেদের ব্যবহারই আমার মন ভালো করে দিল। আমার সেই গ্রামতুতো দাদা বলেছিল যে ইথিওপিয়ানের এয়ার হোস্টেসরা খুব সুন্দরী হয়। মিলানে প্রথম স্টপ। তারপর আডিসআবাবা। রাতের খাবারে গোটা তিনেক চয়েস। খাবার ভালোই, তবে বড্ড টমেটো সস দেয়। ডেভালাপড টেস্ট। আডিস আবাবা পৌঁছতে পৌঁছতে রাত কাবার। ঘুম চোখে বেরিয়ে এগোচ্ছি ফের সিকিওরিটি চেকের লাইনে।
    উরিত্তারা! কত্ত লোক রে! এতবড়ো এয়ারপোর্ট!
    আমার দুজন কাছের বন্ধু ছিল ইথিওপিয়ার। ফেরেসালাম এবং আশেন্নাফি। দুজনেই নিশ্চয় ডাক্তার হয়ে গেছে। ওদের বাড়িও ছিল আডিসআবাবাতে। তখন ক্ষরা দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত অখণ্ড ইথিওপিয়া। মধ্য আশির দশক। 
    ইশ, তোদের ঠিকানা যদি জানতাম। ওদের বড্ড মিস করলাম ঐ লম্বা লাইনে হাঁটতে হাঁটতে
  • যোষিতা | ১৩ মার্চ ২০২৩ ০২:৫০739653
  • https://en.m.wikipedia.org/wiki/South_West_Africa
     
     
    এই কচিকলাপাতা সবুজ ভূখণ্ডটি আমার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে সাহায্য করেছিল। দুটি মেয়ে, সম্ভবত তারা ছিল দুই বোন। সালটা ১৯৯০।
    তমসো মা জ্যোতির্গময়ঃ।
  • যোষিতা | ১৩ মার্চ ২০২৩ ০৩:৪৩739654
  • আডিসআবাবা থেকে ভিক্টোরিয়া সাড়ে চারঘন্টার বিমানযাত্রা। সকাল হয়ে গেছে। বোয়িং ৭৩৭ এর মাঝারি বিমান প্রায় অনেকটাই ফাঁকা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসেছি সকলে। রাতে ভালো ঘুম হয় নি ভাবছি পেছনের দিকে যে সব সারিগুরো পুরো ফাঁকা সেখানে টানটান শুয়ে ঘুমোলে কেমন হয়?
    যেমনি ভাবা, তেমনি কাজ। টানা দুঘন্টা ঘুমিয়ে নিলাম। তারপরে ব্রাঞ্চের ডাক পড়েছে। খেয়ে দেয়ে এক্কেবারে সামনে গিয়ে জানলার ধারে গিয়ে বসেছি। 
    মেঘ তেমন নেই, সব ঝকঝক করছে। নীচে দেখা যায় নদী, বন, ধূসরতা। মাঝে দেখলাম দীর্ঘ সরলরেখা।  সে এমন সরলরেখা যে পরিস্কার বলে দিচ্ছে দুটো দেশের মধ্যে স্কেল দিয়ে টানা। হুম। মোজাম্বিক এবং জাম্বিয়ার সীমারেখাই হবে ওটা। দুদেশের ভাষা আলাদা। একদিকে ফরাসী অন্যদিকে ইংরিজি। কলোনিয়াল প্রভুদের আপোষের লাইন। ফোটো তুলতে যাবো, তার আগেই বিমান এগিয়ে গেছে, ছবি রইল না সাক্ষী হয়ে।
    তার একটু পরেই ওপর থেকে দেখলাম ভিক্টোরিয়াকে।
    আর নাইরে দেরি, নাইরে দেরি।
    বিমান নীচে নামছে। আমার হঠাৎ হঠাৎ অদ্ভূত অদ্ভূত জিনিস মাথায় খেলে যায়। আমরা দক্ষিনগোলার্ধে এখন। বিষুবরেখার অনেক নীচে।
    এখানে কোরিওলিস ফোর্সের কারনে ঘূর্ণনের দিক উত্তরগোলার্ধের বিপরীতে না? তাই আফ্রিকার গাছগুলো এমন দেখতে হয়?
    বাওবাবগাছ তার মধ্যে একটি। হে লিটল প্রিন্স, তোমার গ্রহ কি তবে আফ্রিকা?
    উহ, মোবাইল কই? ভিক্টোরিয়াকে জানলা থেকে ধরে রাখি।
  • যোষিতা | ১৩ মার্চ ২০২৩ ০৩:৫৭739655
  • পথিমধ্যে কেনিয়ার ওলকালু হ্রদের ছবি তুলেছিলাম ঘুম ভাঙতেই।
  • যোষিতা | ১৩ মার্চ ২০২৩ ০৪:৪৭739656
  • আফ্রিকায় মশা মাছির উপদ্রব প্রচণ্ড। শুধু ম্যালেরিয়া নয়, ঘুম পাড়ানি মাছি বলে এক ধরণের মাছির কামড় খেলে ঘুম পেতে পেতে কালঘুমের কোলে ঢলে পড়া বিচিত্র নয়। এ খবর সেই "জলে জঙ্গলে" পড়ে ইস্তক জানা ছিল। এসব সমস্যা আজও বিদ্যমান। বিশেষ করে যে অঞ্চলে আমরা চলেছি সেখানে এই মশামাছির উৎপাত মৃত্যু ডেকে আনে হামেশাই। তাই তিন ধরণের প্রস্তুতি নিয়েই যাচ্ছি। প্রথমত অ্যান্টি ম্যালেরিয়া প্রোফিল্যাক্টিক ওষুধের সেবন যাত্রাশুরুর দুদিন আগে থেকেই চলছে নিয়ম করে। মশা তাড়ানোর বডি স্প্রে সবসময় মেখে রাখতে হবে। এবং তৃতীয়তঃ মশা তাড়ানোর ধূপ জাতীয় জিনিস, যা হোটেলের ঘরে সারারাত জ্বলবে। 
    এসব দেশে আসার আগে আর বিশেষ কোনও টিকা নেবার প্রয়োজন নেই। তবে হ্যাঁ, পেটের অসুখ থেকে সাবধান।
    যাই হোক, এয়ারপোর্টে দুধরণের ভিসা মেলে। এক শুধু জিম্বাবুয়ের ভিসা। তার দাম দেশ ভেদে বিভিন্ন। অন্যটা হচ্ছে কাজা (KAZA) ভিসা। মাল্টিপল এন্ট্রি জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের জন্য। তবে অন্য কোনও থার্ড কান্ট্রিতে রাত্রিবাস করে এলে ফের ঢুকবার জন্য নতুন করে কাজা ভিসা নিতে হবে। এর মূল্যও দেশ ভেদে বিভিন্ন। আমার সামনেই একজন জাপানি মেয়ের খরচ পড়ল তিরিশ ডলার, আর চাইনিজ মেয়ের লাগল ষাট ডলার। আমাদের জন্য মাথা পিছু পঞ্চাশ করে একুনে একশো ডলার।
    আর ইয়ে, জিম্বাবুয়েতে স্থানীয় কারেন্সী বলতে কিচ্ছু নেই। মার্কিন ডলারই চলে। এবং এক ডলারের চেয়ে কমে কোনও সেন্ট টেন্ট নেই। ডলারই মিনিমাম একক। আবার ইউরো পাউন্ড এসব যদি কারো কাছে থাকে, তার দরও ডলারের সমান। এমনকি ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট করলেও ডলারে।
  • যোষিতা | ১৩ মার্চ ২০২৩ ১৫:৫৭739663
  • এর নাম নাকি বর্ষাকাল। ঘোর বরষা, শ্যাম গম্ভীর সরসা ভেবে বাইরে বেরিয়ে দেখি চিড়বিড়ে রোদ। 
    ট্যাক্সি বুক করা ছিল। এখানে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নাই, থাকার প্রয়োজন এবং সঙ্গতি নাই তা পরে বুঝেছিলাম।
    ট্যাক্সির সারথির হাতে আমার পদবী লেখা বোর্ড। 
    আমাদের হোটেল এরোড্রোম ড্রাইভ নামক অঞ্চলে। কাছেই। ভাড়া তিরিশ ডলার। 
    এয়ারপোর্টের সীমানা জুড়ে কাঁটাতারের উঁচু বেড়া। সারথি জানালেন, এই সীমানা বরাবর উঁচু বেড়া মানুষজনকে আগলে রাখার জন্য। এইখানে বন্যপ্রাণীরা অবাধে সর্বত্র যেতে পারে, শুধু যেটুকু জায়গায় মানুষে থাকে সেখানটুকু আত্মরক্ষার জন্য বেড়া দেওয়া হয়ে থাকে। তবে তা অবশ্যই নিজ নিজ সঙ্গতি নির্ভর। 
    হোটেল বললে ভুল হবে। এটি রিসর্ট। প্রত্যেকের জন্য বাংলো প্যাটার্নের কটেজ টাইপ ব্যবস্থা। প্রকাণ্ড ঘর, বিশাল বারান্দা, বড়ো বাথরুম। ঘরের এবং বারান্দার সমস্ত আসবাব আমাকে বিস্মিত করে দিয়ে দামী দামী কাঠ দিয়ে তৈরি। এত ভারী সেই কাঠ যে চেয়ার নড়াতে বেশ শক্তি লাগে। বলাই বাহুল্য রিসর্টের চারিদিকে সেই বেড়া।  এই এলাকাটা ধনীদের। সমস্ত বাড়িই এইরকম।
    কেপটাউনের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলেও এমন বাড়ি দেখেছি, তবে তা ছিল দুর্বৃত্তদের থেকে আত্মরক্ষার জন্য। এখানে সিংহের জন্য ঐ বেড়া। সূর্যাস্তের পর কেও পায়ে হেঁটে বাইরে বের হয় না এই ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে। পাশেই জাম্বেজি ন্যাশানাল পার্ক। সেখানে বনের রাজারা থাকে। সেই পার্ক বিশাল, কিলোমিটারের পর কিলোমিটার রাস্তা তার মধ্যে দিয়ে চলে গেছে। কোনও বেড়া নেই। পশুদের কেউ আটকে রাখবে না। তারা বর্ণ ফ্রি।
  • যোষিতা | ১৩ মার্চ ২০২৩ ১৬:৫৩739667
  • আমাদের কটেজের পাশেই মস্ত সুইমিং পুল তবে অগভীর এবং জল টলটল করছে। চারিদিকে বাগান। নানান রকমের গাছ। চেনা গাছ বলতে তিনটে। মৌসাম্বি লেবু গাছ, জবা গাছ এবং পান্থপাদপ।
    দূর থেকে ভেবেছিলাম কলাগাছ বুঝি, একটু এগোতেই দেখি পাশাপাশি দুই পান্থপাদপ। 
    সুইমিং পুল দেখলেই আমার জলে দাপাতে ইচ্ছে করে। সুইমসুট সঙ্গে এনেছি। রোদের তাপে জল বেশ গরম। 
    এর মধ্যে ঘুরে যান মালী। 
    আমরা কুশল বিনিময় করি। সবই ইংরিজিতে। 
    ছোটবেলা জানতাম ইংরিজি শিখতে পারলে অনেক সুবিধে, ভাল চাকরি বাকরি পাওয়া যায়, মানুষ গরীব থাকে না।
    এখানে সবাই ইংরিজি বলে গড়গড়িয়ে, অথচ চরম অর্থকষ্টে রয়েছে।
    ইংরিজি জেনে বড়লোক হবার থিয়োরি তাহলে আরও অনেক প্যারামিটার নির্ভর। 
    এরই মধ্যে একদিন পান্থপাদপের ফোটো তুলেছিলাম।
  • যোষিতা | ১৩ মার্চ ২০২৩ ১৬:৫৬739668
  • পান্থপাদপ
  • | ১৩ মার্চ ২০২৩ ১৭:৩৮739669
  • একসাথে পুরোটা পড়ে ফেললাম।
    লিখুন লিখুন।
  • | ১৩ মার্চ ২০২৩ ১৮:০৭739670
  • হ্যাঁ ভারত থেকেও মারাত্মক প্লেনভাড়া।
     
    কিন্তু সেই উটবাহনে যাত্রাটা শেষ করবেন না? 
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ১৩ মার্চ ২০২৩ ১৮:০৯739671
  • পড়ছি। সেই সাথে অপেক্ষা করছি কখন তুমি রাজার দেখা পাবে সেই গল্প আর ছবির জন্য।
  • যোষিতা | ১৩ মার্চ ২০২৩ ১৯:৪৬739672
  • উটের টইয়ে পরে লিখব।
    সিংহ এবং সিংহের চোয়াল আসছে এখানেই।
  • যোষিতা | ১৩ মার্চ ২০২৩ ২০:০৪739673
  • ১৩ মার্চ ২০২৩ ০২:০৩ এর ম্যাপে ম্যাজেন্টা রঙের অংশতে দুটি দেশ দেখা যাচ্ছে। বাঁদিকে সাউথ ওয়েস্ট আফ্রিকা এবং ডানদিকে ও নীচে যে দেশটি সেটি সাউথ আফ্রিকা।ম্যাজেন্টা রং দেওয়া সাউথ ওয়েস্ট আফ্রিকা ভূখণ্ডটি ওপরে বল্লমের ফলার মতো ঢুকে গেছে অ্যাঙ্গোলা জাম্বিয়া বটসওয়ানার মধ্য দিয়ে।ঐ অংশটা কৃত্রিমভাবে ঢোকানো হয়েছিল বিশেষ কারণে।
    নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সাউথ ওয়েস্ট আফ্রিকা ( যা প্রথমে ছিল জারমান কলেনি, পরে জারমানরা হেরে যায়, কলোনি ধরে রাখতে পারে নি, ব্রিটিশদের কবলে চলে যায়, দেশটির নাম তখন নামিবিয়া হয়ে যায়) অর্থাৎ নামিবিয়া স্বাধীনতা লাভ করে।
    ঠিক সেই সময়ে আমি সোভিয়েত দেশে। নামিবিয়ার মুক্তির পরে প্রচুর স্পেশালিস্টের দরকার হয়েছিল নতুন কৃষ্ণপ্রজন্মকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য। সোভিয়েত দেশ তাদের বরাবর সাহায্য করেছে রাজনৈতিক কারণে। ফলতঃ সেই প্রথম নামিবিয়া থেকে দলে দলে ছাত্রছাত্রী আসতে শুরু করল অবিভক্ত সোভিয়েত ইউনিয়নে। 
    আমাদের হোস্টেলেও এমন কিছু ছাত্রছাত্রী এলো। তাদের মধ্যে দুজন মেয়ে। রোগা পাতলা লম্বা দুই বোন সম্ভবতঃ। অসম্ভব চুপচাপ কারও সঙ্গে মেশে টেশে না। লিফটের পাশের ঘরটায় ওরা থাকতে শুরু করল। 
    এর কদিন পরেই রান্নাঘর থেকে আমার প্রথম প্রেশারকুকারটা উধাও। এঁটো সমেত মাজব বলে টেবিলের ওপর রেখে এসেছিলাম। ঘরে এসে অন্য বাসনপত্র নিয়ে দ্বিতীয়বার রান্নাঘরে ঢুকে দেখলাম টেবিল ফাঁকা।
    ভুল করলাম নাকি? আবার ঘরে গেলাম সেখানেও নেই। কী আর করা পরেরদিন আরেকটা প্রেশারকুকার কিনে আনলাম।
  • যোষিতা | ১৩ মার্চ ২০২৩ ২০:৩২739675
  • দিন কয়েক পরে ঐ একইরকম স্টাইলে প্রেশারকুকার হাওয়া।
    প্রত্যেকবারই এঁটোকাঁটা সমেত জিনিসটা হারিয়ে যাচ্ছে। একটামাত্র ফ্লোরেই মেয়েরা থাকে। বিকেল কিংবা সন্ধের মুখটায় এমন হচ্ছে। 
    এটা পুরো চুরি কেস। কিন্তু আমি সাবধানী ছিলাম, প্রেশারকুকারে নেলপলিশ দিয়ে নামের আদ্যক্ষর লিখে রেখেছি। কিন্তু কাকে গিয়ে জিগ্যেস করব? ঘরে ঘরে খোঁজ করব যে, তোমরা কি ভুল করে আমার প্রেশার কুকার নিয়ে এসেছ? যে বা যারা নিয়েছে, তারা চুরিই করেছে। নইলে এঁটোশুদ্ধ নেবে কেন?
    আবার নতুন প্রেশারকুকার এলো। এবার তলায় এবং সাইডে আবার নেলপলিশ দিয়ে নাম লিখলাম। আমার জেদ চেপে গেছে এবার চোর ধরার। 
    প্রথম কদিন কিছু হয় নি। বেশ কদিন পরে ফের ঐ একই কাণ্ড! এবার আমি রাগে অন্ধ। সোজা গিয়ে নামিবিয়ার মেয়েদুটোর ঘরে টোকা দিলাম।
    নিরীহ মুখ করে একজন বেরিয়ে এলো। ভালো করে রাশিয়ান পারছে না। 
    — আমার প্রেশারকুকার দেখেছো?
    — কী? 
    মনে মনে ভাবছি, আহা কিছু যেন বোঝে না, ভাষা না বোঝার ভান করছে, এই চালাকি কি আর বুঝতে বাকি আছে আমার?
    একটু উঁকি ঝুঁকি মারলাম। শত হলেও অন্য মেয়ের ঘর। অন্য কেউ করিডোরে নেই। সব ঘরে মেয়েরা ফেরেও নি মনে হচ্ছে। একদম করিডোরের শেষে জানলার বিপরীতের ঘরে দরজা অল্প খোলা। ভেতরে তিনজন মেয়ে হাসি গল্প করছে। 
    আমি কী মনে করে সেদিকে গেলাম। এই মেয়েগুলো উত্তর আফ্রিকার, কাঁচা সোনার মত গায়ের রং। খুব স্মার্ট। ওদেরকে বললাম — জানো আমার প্রেশারকুকার খুঁজে পাচ্ছি না।
    — ওমা! সেকী?
    — তোমরা ভুল করে নিয়ে আসো নি তো?
    — না না। আমরা প্রেশার কুকার ব্যবহারই করি না।
    কথা শুনতে শুনতে আমি হঠাৎ দেখতে পাই রান্নার বাসনের কাবার্ডের নীচের তাকে আমার প্রেশারকুকার। তাতে তখনও  এঁটো পোলাও লেগে রয়েছে। আমি হুট করে টেনে আনি সেটা। আমার নাম লেখা। তার পেছনে আরেকটা, সেটা মেজে পরিস্কার করলেও তাতেও নামে লেখা। পরিশেষে আরও একটা॥ সেটায় নাম নেই, তাই দাবী করতে পারলাম না।
    আমার মাথা ঝিমঝিম করছিল।
    দুহাতে দুটো ভারি ভারি প্রেশারকুকার নিয়ে ঘরে ফিরতে  হাত খুলে যাবার জোগাড়। 
    ঠিক সেই সময় আমার বুক ফেটে যায় যেন, কান্না পায় হু হু করে। 
    এই হচ্ছি আমি? কালো মেয়ে দুটো শুধু গায়ের রঙের ভিত্তিতে চোর ভেবেছিলাম? সারাটা শৈশব বাংলার সমাজে গায়ের রঙের জন্য নিজে লাঞ্ছিত হয়েছি। সেই আমি নিজেই আসলে রেসিস্ট বনে গেছি নিজেরই অজান্তে। আমার মন এরকম হয়ে গেছে আশৈশব সামাজিক কন্ডিশনিং এ। ছিঃ! নিজেকে চিনতে এটাই কি বাকি ছিল হে ভগবান?
  • দীপাঞ্জন | 223.191.32.187 | ১৩ মার্চ ২০২৩ ২৩:৩০739681
  • yes​​
  • kk | 2601:14a:500:e780:a579:827b:6d40:da58 | ১৪ মার্চ ২০২৩ ০৭:০৭739692
  • পড়ছি। সাহারার গল্পটাও কিন্তু বলবেন এইটা হয়ে গেলে।
  • যোষিতা | 194.56.48.120 | ১৭ মার্চ ২০২৩ ১৩:১১739752
  • হোটেলের বিল ইত্যাদি অটোম্যাটিকালি ক্রেডিট কার্ড থেকে কাটা হয়ে গেছে, কাজেই হোটেলে আপাতত আর্থিক লেনদেনের কাজ নেই, কিন্তু আমাদের বিভিন্ন জায়গায় বেড়ানোর জন্য টুর অপারেটরদের শরণাপন্ন হতেই হবে। আগেভাগে অনলাইনে এরকম টুর বুক করে রাখলে এখন মনে হচ্ছে অনেক সস্তা হতো।
    একটা ভ্রান্ত ধারণা ছিল যে ভিক্টোরিয়া ফলস থেকে এক দেড় কিলোমিটার দূরত্বের কোনও হোটেলে ঠাঁই মিললে দুবেলা হোটেলের জানলা থেকে ফলস দেখব এবং যখন তখন পায়চারি করতে করতে ফলসের কাছে গিয়ে উপস্থিত হবো। সেই কারণেই এরোড্রোম ড্রাইভে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
    উঁহু। সমীকরণ এত সরল নয়।
    প্রথমতঃ ভিক্টোরিয়া ফলস শহরটিতে জনসংখ্যা কম হলেও জনবসতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে এবং পথঘাট বিপদসঙ্কুল বন্যপ্রাণীদের আচমকা উপস্থিতির সম্ভাবনায়।
    দ্বিতীয়তঃ ভিক্টোরিয়া ফলস থেকে শুরু করে যাবতীয় অরণ্য ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হয়ে যাবার দরুণ সেসবের রক্ষণাবেক্ষণ এবং টুরিজমনির্ভর স্থানীয় জনজাতির রোজগারের জন্য প্রতিটি টুর যথেষ্ট ব্যয়সাপেক্ষ।
    তৃতীয়তঃ শূন্যতঃ স্যাংশন। এ যে পশ্চিমের দুনিয়ার কত বড়ো শয়তানি তা না দেখলে বিশ্বাস করা অসম্ভব।
  • যোষিতা | 194.56.48.120 | ১৭ মার্চ ২০২৩ ১৩:৪২739753
  • আমার সেই গ্রামতুতো দাদা (মতান্তরে আমি তার কাকিমা) বলে দিয়েছিল পইপই করে যে চোবে ন্যাশানাল পার্কটা যেন মিস না করি।
    হোটেলে প্রবেশ করেই সেই গনগনে দুপুরে রিসেপশনের ভদ্রমহিলাকে চোবে ন্যাশালাল পার্টের ট্রিপ কবে নেওয়া যাবে, কতক্ষণ লাগবে মোট সময়, কত খরচ ইত্যাদি প্রশ্নবাণ দিয়ে অ্যাটাক করতে লাগলাম।
    মাথাপিছু দুশো ডলারের কিছু কম, দুপুরের খাওয়া দাওয়া ইনক্লুডেড, একটা গোটা দিন খরচ হবে এবং ফেরার পথে জাম্বেজি নদীতে নৌকাবিহার। অসভ্যের মতো বার্গেইন করা আরম্ভ করতেই আমার ঘরের লোকটি জোর প্রতিবাদ করে বসল।
    - বেড়াতে এসে পাঁচ দশ ডলারের জন্য এমন কোরো না প্লীজ!
    সঙ্গে নিলাম ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের লম্বা টুর প্যাকেজ, শুধু জিম্বাবুয়ের অংশট্কুই নয়, জাম্বিয়ার অংশটুকুও দেখব।
    মোট প্রায় ছশো ডলার পড়ল দুজনের জন্য।
    যেদিন পৌঁছেছি, সেদিন বিশ্রাম নেওয়াই আমাদের রেওয়াজ। পরের দিন যাব ভিক্টোরিয়া ফলস, তার পরের দিন চোবে এবং কাজুঙ্গুলা বর্ডার পয়েন্ট, তার পরের দিন বিশ্রাম নেবো, ফের তার পরের প্ল্যান।
    কিন্তু এখন তো রাতের খাওয়া দাওয়া করতে হবে। রিসর্টের মধ্যেই রেস্টুরেন্ট যার কোনও দেওয়াল টেওয়াল নেই। মস্ত মস্ত কাঠের টেবিল চেয়ার। হেড শেফ সন্ধে হলেই পাততাড়ি গুটোবেন, খাবারের অর্ডার দিতে হবে।
    রিসেপশন থেকে বেরিয়ে রাস্তা ক্রস করে আমাদের কটেজের দিকটাতেই রেস্টুরেন্ট, কল্য প্রভাতে সেখানেই মিলবে ইংলিশ ব্রেকফাস্ট। এখন ফাঁকা।
    শেফ আমাদের দিকে মেন্যু কার্ড এগিয়ে দিলেন।
    খাবারের দাম দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। দুপিস টোস্টব্রেডের মধ্যে টম্যাটো ও মাখন দেওয়া স্যান্ডুইচের দাম ছ ডলার? যে কোনও পানীয় দু ডলার। খাবার এলো, পানীয় এলো।
    নিজেকে মন্দার বোস মনে হচ্ছিল। রোদ পড়ে গিয়েছে অনেকক্ষণ। শেফের সঙ্গে বন্ধুত্ব জমালাম।
    - আপনার নাম কী?
    - আমার নাম?
    - হ্যাঁ আপনার নাম।
    - আমার নাম হচ্ছে, আপনারা আমাকে ডাকতে পারেন এইরকম নামে, ডেভিড...
    - মানে? ঐটা আপনার আসল নাম নয়?
    শেফ খুবই প্রাণবন্ত মিষ্টিমতন যুবক, সে হাসতে শুরু করল।
    - আমার আসল নাম উচ্চারণ করতে এবং মনে রাখতে আপনাদের অসুবিধে হবে।
    - এত আন্ডারএস্টিমেট করবেন না জনাব।
    - খোদা খোয়াইশে।
    - খোদা খোয়াইশে?
    - ইয়েস, উইল অফ গড।
    - চমৎকার নাম। ঈশ্বরের ইচ্ছায়। খোদা হচ্ছেন ঈশ্বর, এবং খোয়াইশে অর্থ ইচ্ছায়।
    - তাই?
    - অবশ্যই। আরবী ভাষা থেকে এই নামের উৎপত্তি। আপনি কি মুসলমান?
    - না। আমি অ্যাপোলিস্টিক।
    এইটুকু বলে খোদা খোয়াইশে আমাদের সঙ্গে এন্তার খোশগল্প জুড়ে দিলেন।
  • Aranya | 2600:4040:ac7d:5000:e0eb:4713:7e79:539f | ১৮ মার্চ ২০২৩ ০৭:৩২739756
  • বাঃ 
  • যোষিতা | ১৯ মার্চ ২০২৩ ০৪:২১739757
  • পরদিন ভোরে আকাশ ঝকঝকে পরিস্কার। আমরা সঙ্গে করে রেইনকোট ছাতা সমস্তই এনেছি। ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের কাছাকাছি গেলে ভিজে যাবার সম্ভাবনা থাকবেই। ক্যামেরা এবং মোবাইলফোন রাখার জন্য পিঠব্যাগ আছে। মাথায় পরেছি টুপি রোদের থেকে রক্ষা পেতে। গাড়ি আসবে সকাল দশটায়।
    আপাতত ব্রেকফাস্টের জন্য রেস্টুরেন্টে ঢুকে দেখি লোকজনে গমগম করছে। গায়ের রং দেখে মনে হল সবাই ইউরোপিয়ান পর্যটক। ইতালি, জারমানি, ব্রিটেন, এনারা নিজ নিজ ভাষায় কথাবার্তা চালাচ্ছে। 
    আমরা ধীরেসুস্থে খাই। খাবারে রয়েছে সসেজের একটা তরকারি, বীনস, আলুর কী একটা যেন, বেকন ভাজা, দই কর্নফ্লেক্স, কাটা ফল ( তরমুজ এবং আপেল), টোস্ট ব্রেড ( সাদা ও বাদামি) এবং ডিম অর্ডার করলে পছন্দ অনুসারে ভেজে দেয়। পানীয়ে রয়েছে দুরকমের জুস ( অরেঞ্জ এবং মাল্টিভিটামিন), চা ও কফি। এ কফি টাটকা নয়, গুঁড়ো নেসকাফে গরমজলে গুলে কফি বানাতে হবে।
    আমি লোভে পড়ে সসেজ ও রুটি খেলাম, সঙ্গে কফি। শেষপাতে কিঞ্চিৎ কাটা ফল। উনিও সামান্য সসেজ রুটি ও কফি নিলেন। সসেজের তরকারিতেও টম্যাটো সস ব্যবহার করা হয়েছে। মন্দার বোস আমাকে তাড়া করছে ক্রমাগত।
    কফি খেতে খেতে লক্ষ্য করলাম রেস্টুরেন্ট কখন ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। অচেনা পাখীরা কোথায় যেন ডাকছে। 
    আমি ফাঁকা দেখে সিগারেট ধরিয়ে মৌতাত করছি, রেস্টুরেন্টে হন্তদন্ত হয়ে প্রবেশ করলেন একজন মানুষ, দেখে এক নজরেই আন্দাজ করে নিলাম ইনি ভারতীয় না হয়ে যান না। ওঁর পেছন পেছন ইয়োরোপিয়ান একজন মহিলা, মনে হচ্ছে গিন্নি।
    লোকটি ঢুকেই হৈচৈ করে কী সব অর্ডার করছেন, খোদা খোয়াইশে থেকে মেরি ( ওয়েট্রেস) এবং রান্নাঘরের আরও দুজন ঘাবড়ে গিয়ে কী করবে বুঝতে না পেরে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। 
    শত হলেও একজন ইন্ডিয়ান এরকম চোটপাট করছে দেখে আমরা দুজন হাঁ করে দেখছি এবং মরমে মরে যাচ্ছি। দুপক্ষ ইংরিজিতেই কথা বললেও এক পক্ষ অন্য পক্ষের ভাষা বুঝছে না। একজনের ভাষায় অ্যামেরিকান অ্যাকসেন্ট ( গিন্নি চুপটি করে পাশে দাঁড়িয়ে), জিন্বাবুয়ের মানুষগুলোর অ্যাকসেন্ট খুবই স্পষ্ট। শেষে বোঝা গেল উনি জল কিনতে চাইছেন। কুড়িবোতল জল এক্ষুনি চাই। ছোটছোট বোতল। মেরি ও খোদা খোয়াইশে দৌড়ে রান্নাঘর থেকে বারো দুগুণে চব্বিশ, মানে বারোটা বারোটা করে দুটো ক্রেট টেবিলের ওপর রেখে রান্নাঘরে পালিয়ে গেল। সবাই রান্নাঘরে পালিয়েছে। আমার কফি প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। আমি ফিসফিসিয়ে বাবুকে বললাম, লোকটা কী অসভ্য দেখেছো?
    বাবু বলল, চুপ চুপ, শুনতে পাবে। 
    - আরে দুৎ আমি তো বাংলায় বলছি। 
    - তাহলেও...
    - তাহলে জারমানে বলি?
    হেই! হুংকার তুললেন সেই লোকটি।
    মেরি রান্নাঘরের পাশ থেকে উঁকি মারল।
    — কুড়ি বোতলের দাম দিয়েছি, চব্বিশটা বোতল কেন? চারটে বোতল ফ্রি?
    আবার হুংকার।
    এবার খোদা খোয়াইশের আবির্ভাব। এত ধমকের চাপে চার বোতল বেশি দিয়ে ফেলেছে। সে বুঝতেই পারছে না আবার কী দোষ করে ফেলল।
    শেষে বুঝতে পেরে চারটে বোতল খুলে নিয়ে গেল।
    বিশবোতল জল নিয়ে দম্পতি বিদেয় হলে আরও একটা সিগারেট ধরিয়ে আমি বাবুকে বললাম — টাকার গরম দেখেছো লোকটার? মেমসায়েব বৌ কেমন চুপটি করে দাঁড়িয়ে বরের দাপট এনজয় করছিল। পয়সায় কী না হয়। আমি বাজি ফেলে বলে দিচ্ছি লোকটা বিশাল পয়সাওয়ালা। 
  • যোষিতা | ১৯ মার্চ ২০২৩ ০৫:১২739758
  • আজ আমি লম্বা ঢোলা জামা পরেছি, পায়ে হাওয়াই চপ্পল। টুপি ও সালগ্লাস তো অ্যাক্সেসরি। বাবু কিছুতেই চপ্পল পরতে চায় না, সে বুটজুতো ছাড়া কিছুতেই রাস্তায় বেরোয় না। যতই বোঝাই যে ঝর্ণার জলের তোড়ে জুতো ভিজে ঢোল হবে, তা সে বুঝলে তবে তো?
    গাড়িতে আমি ড্রাইভারের পাশে বসি সুযোগ থাকলে। মোশন সিকনেসের দোহাই দিয়ে এই সুবিধে আমি সবসময় উপভোগ করি। গাড়িতে আরও জনা দু তিন যাত্রী ছিলেন, মিনিট পাঁচ সাতের মধ্যেই আমরা পৌঁছলাম ভিক্টোরিয়ার মেইন গেটের সামনে। আরও গাড়ি রয়েছে সামনে। গাইড এখানেই আসবে। গোটা দশবারোজনকে নিয়ে গাইড ঢুকবেন গেটের ভেতরে পেছন পেছন আমরা ঢুকছি। ভাবলাম গেটের পটভূমিকায় বাবুর একটা ফোটো নিই। বাবু শুনতেই পাচ্ছে না, দলের সঙ্গে চলেছে। যত বলছি একটু দাঁড়াও ফোটো নেব, সে ঐদিকে দলের সঙ্গে ঢুকে পড়ল গেট দিয়ে। 
    এবার চেঁচালাম — বাবু! দয়া করে দাঁড়াও! ফোটো তুলব।
    বাবু দাঁড়িয়ে আমার দিকে ফিরতেই দেখি সেই সকালের জলেরবোতলের ক্রেতা লোকটি হাঁ করে আমার দিকে তাকিয়ে। তারপর চমকাবার পালা, তিনি পূর্ববঙ্গীয় টানে স্পষ্ট বললেন — আপনারা বাংগালি নাকি?
     
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন