এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দুটি ঝুরোগল্প

    Jayeeta Bhattacharya লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৩ নভেম্বর ২০২২ | ১১০ বার পঠিত
  • দুটি ঝুরোগল্প
    সান্ধ্য ভাষা

    তীব্র ধূপের গন্ধে শ্বাস আটকে আসছে। ইন্দুবালা জ্বেলেছে।সন্ধ্যা। ধোঁয়া। ল্যামিনেটেড সারদা মা, লাল পাড়। পাশে পরমহংস। অস্বস্তি। বারান্দায় বেরিয়ে আসে ইন্দুবালা। মাঘের শেষেও বেশ ঠাণ্ডা। চাদর ছাড়া এলো দাঁড়িয়ে আরাম হচ্ছে এখন। সন্ধ্যার নিয়ন ঘিরে বদনাম করছে মথগুলো। ট্রেন চলে গেল। ভোরবেলা ঘুমটা আচমকাই ভেঙে নাছোড়বান্দা স্বপ্নট।
    নির্জন গলিতে গড়িয়াহাটের ফুটপাতের প্লাস্টিক ফুলের মতো ফুটে আছে সাদা ফুল।
    ইন্দুবালা তাকিয়ে আছেন শুনশান  গলিপথে। সৌমেন্দ্র  আসেনি কতদিন। একটা ট্রেন আর আরেকটা ট্রেন আসার মাঝে অন্ধকার একটুকরো  প্রেম সমান্তরাল হারিয়ে গেছে।
    পেতে ইচ্ছে করছে সৌমেন্দ্রকে। কিম্বা সৌমেন্দ্র নামের শরীর। অনেকদিন আসেনি সে। 
    চালসের চুলকানি বলে একে।
    মাগো! এখনো কেন এত জাগরণ!
    স্বপ্নটা ফিরে ফিরে আসছে। অস্বস্তি হচ্ছে। একটা বিছানা চাঁপা রঙের মেয়ে। নরম।
     ছোঁয়াছুঁয়ি। কী ভালো লাগছে ডুবতে। পরক্ষণেই মিলিয়ে যাচ্ছে অন্য দৃশ্যে। সেখানে পাশে দাঁড়িয়ে আছে ফাঁকা প্ল্যাটফর্মের মতো একটা অস্পষ্ট বিবাহ যোগ। ইন্দুবালা ষাট। ইন্দুবালা বুঝতে পারে না বয়সের ব্যাপারটা। বিছানায় শুয়ে এখনো নিটোল বৃন্তে হাত সে বোলায় যত্নে। কিছুটা ঝুঁকে আছে।
    নারীর স্তন অনেক ইতিহাস বহন করে।
    বড়ো হয়ে ওঠার মুখে বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠ।
    ইন্দুবালার পুরুষ জেগেছিল কাল স্বপ্নের ভেতর। নারীর ভেতর লুকিয়ে থাকা পুরুষ। মেয়েটা আদর করছে। নিজেকে দেখা যাচ্ছে না। দৃশ্য পাল্টে ফের ঠোঁট পেতে দিচ্ছে সৌমেন্দ্র। ছোট্ট পাখি হয়ে বসছে ঠোঁটে, যেন ফ্রেঞ্চ কিস।
    এই মফস্বলের জীবন ঘড়ির কাঁটা নয় ট্রেনের টাইমে চলে। ঝমঝম শব্দের দিন শুরু। শেষ ট্রেন বিষাদ ভরে নিয়ে যাবে। বাজারে দোকানে ভিড়। বেচাকেনা।
    এত জীবন্ত স্বপ্ন! সারাদিন এঁটোর মত লেগে আছে।উষ্ণতা অস্থির করছে শরীর।
    ওপর থেকে নিচ। হাত নামছে। ইন্দুবালাদের বয়স বাড়ে না।
     স্বপ্ন খুঁজতে ট্রেনে। স্টেশন থেকে স্টেশনে।
    একটা বারান্দা। পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রী। অচেনা বাড়ি। ইন্দুবালা ঘরে এসে শরীর এলিয়ে দেয় বিছানায়। 
    ঘরে এল-ই-ডি বাল্ব জ্বলছে। ধূপ নেই। শুধু গন্ধটুকু পড়ে আছে।
    পরবর্তী ট্রেন এগিয়ে আসছে ঝমঝম করে।
    …………………………………………………………………………….

    সেইসব খিদেরা
     
    দুটো কালো সরু সরু হাত অবিরাম নড়ছে। আশপাশে আরো অনেক কালো হাতের নড়াচড়া যেন
    নিঃশব্দ সন্ত্রাস। নিস্তব্ধ আর অস্পষ্ট ঘন বৃষ্টির মধ্যে অজস্র ঝাপসা হাত ভয় দেখাচ্ছে। সিগন্যালে আটকে আছে জীবন অনেক্ষণ। সবুজের সংকেতে রেখা অতিক্রম করে পৌঁছে যাবে অভিষ্টে সকলে। আশপাশে সমস্ত কঙ্কালসার হাতের ওঠানামা দেখতে দেখতে শিউরে ওঠে সে। 
    মণিমালা আজকাল দিনদুপুরে ভুলভাল দ্যাখে। যেন এক ধূসর মরুভূমি ভরে গেছে কালো হাতের সমুদ্রে। ক্ষুধার্ত আর শীতার্ত আর্তি। তার এবং লক্ষ কোটি এই গ্রহের খিদের আগুন চারিদিকে ঝলসে উঠছে বিদ্যুৎ চমকে।
    গাড়িগুলো থমকে আছে। মানুষগুলো পাথর। শব্দময়তা থেকে পালাতে চাইছে মণিমালা। পাশে বসে আছে ছেড়ে যাওয়া প্রেমিক।
    ভেতরে মন ডানা মেলে পক্ষীরাজের মতো। অঝোর বৃষ্টি একসময় থেমেও যায়। যেমন করে একপেট খিদে নিয়ে এসে দাঁড়াতো মানুষটা। বাসনের আওয়াজ হতো তারপর।প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে পড়ত। জুড়িয়ে যেত পৃথিবী।
    সবই সময়ের ফের।সবজে আলোয় জীবন গতি পায়। মেঘ সরে যায়। বৃষ্টি ক্লান্ত হয়ে থমকে থাকে।
    মণিমালার গাড়ির কাচে বৃহন্নলার হাসিমুখ। একরাশ রজনীগন্ধার মতো শুভকামনা জানিয়ে যায়। বোধহয় ওরাই একমাত্র যারা কিছু দিলে এবং না দিলেও আশীর্বাদ করে যায়।
    দিনের পর দিন তাৎপর্যহীন দরকারি কাজ তাড়া করে। মণিমালা লেখক। লেখিকা শব্দটি ব্যবহার করে না। ভালো করে কথা বলতে শেখেনি মণিমালা। এখন তাই অক্ষর দিয়ে জানান দেয় তার দেখা আর শোনাগুলো। যদিও কন্ঠ ও জিহ্বা তার সুস্থ কিন্তু মন মজানো শব্দের ব্যবহারে প্রতিবন্ধী মণিমালা। ক্রোধ আর ভুল বোঝার কর্কট রোগের মধ্যেই বেঁচে থাকার এই সিদ্ধান্ত তার ভাষা জীবনে। গাড়িটা চলছে। জলের ধারায় নানা ছবি ফুটে উঠছে এখন কাচে।
    ওইপার জোড়া শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন