এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • গোদার যাত্রা : নুভেল ভাগ থেকে মেটাভার্স - ১

    Tirtho Dasgupta লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১৫১ বার পঠিত
  • || ১ ||

    গোদারিয়ান কলকাতা 

    - আচ্ছা আপনি তো মাঝে মাঝে ফিল্ম নিয়ে সমালোচনা করেন না ? এখনো তো সেই মান্ধাতা আমলের নিও রিয়ালিজম, নুভেল ভাগ এই সব নিয়ে মাতামাতি করছেন !
    বলুন তো হুইচ ইস দ্য লেটেস্ট ক্রেজ ?

    সিড়িঙ্গে, চোয়াল ভাঙা, ঝকঝকে দুচোখ - বিজ্ঞাপন সংস্থার বস,   রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত  প্রশ্ন-টা  ছুঁড়ে দেন।

    - নুভেল ভাগের পরেও নতুন ? আমার তো মনে হয় নুভেল ভাগ ইস দ্য লাস্ট ওয়ার্ড ?

    যারপরনাই বিস্মিত হয়ে বলে ওঠেন বিজ্ঞাপনের ছবি আঁকিয়ে 'খোকা' রুপী অজয় গাঙ্গুলি। তপন সিনহার কাল্ট ক্লাসিক 'গল্প হলেও সত্যি' ছবি।

    গত শতাব্দীর উত্তাল ষাটের দশকের প্রারম্ভে আরো অনেক কিছুর মতো সিনেমা জগতেও বিপ্লব নিয়ে আসে ফরাসি নবতরঙ্গ সিনেমা যাকে সিনেমা প্রেমী মাত্রই Novel Vogue বলে জানেন, তা বাকি পৃথিবীর মতোই কলকাতার সিনেফিলদের ও নাড়িয়ে দিয়েছিলো। কফিহাউস  থেকে ফিল্ম সোসাইটি, ইউনিভার্সিটি থেকে ফিল্ম ক্লাব, লোকে উত্তাল হয়ে উঠেছিল এই নতুন ছবিগুলি নিয়ে। এই উন্মাদনার পোস্টার বয় ছিলেন জঁ লুক গোদার।

    গোদার নামটি কলকাতার কাছে শুধু এক ফিল্ম পরিচালকের নাম নয়। কলকাতার সিনেপ্রেমীদের কাছে এক আরবান মিথ। চে-গেভারার মতোই বৈপ্লবিক উপস্থিতি তার বাঙালির মানসে। এক লহমায় তার নামের সাথে জুড়ে গেছে কলকাতার অগুনতি ফিল্ম ক্লাব, ফিল্ম সোসাইটি, কফিহাউসের আড্ডা, ট্রাম পোড়ানো কলেজস্ট্রিটের রাস্তা, রাগী নকশাল যুবকের চোখ, সুপার ৮ (মিমি) ফিল্ম আন্দোলন, আমার নাম, তোমার নাম - ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম, হাংরি - বিট কবিতা আর মৃনাল সেনের জাম্প কাট।

    ১৯৬৭ সালে মাজেস্টিক সিনেমা হলে ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটি দেখায় এক গুচ্ছ ফরাসি নবতরঙ্গ ছবি যার মধ্যে ছিল গোদারের পিয়েরো লে ফ্যু। ফরাসি দূতাবাস অবাক হয়ে যায় কলকাতায় ফরাসি নবতরঙ্গের এই জনপ্রিয়তায়। সেই জনপ্রিয়তায় কোনো ছেদ পড়েনি যখন ১৯৮২ তে সাত বছর বন্ধ থাকার পর কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে গোদারের রেট্রোস্পেক্টিভ দেখানো হয়। দুঘন্টার মধ্যে সমস্ত টিকিট বিক্রি হয়ে যায় বলে দর্শকের ক্ষোভের মুখে পড়ে উৎসব কতৃপক্ষ।

    কলকাতায় আর্ট হাউস সিনেমা, ইন্টেলেকচুয়াল সিনেমা, পলিটিকাল সিনেমার সাথে একার্থবোধক হয়ে পড়েন গোদার। সাতের দশকে বালিগঞ্জ ট্রাম গুমটির পাশে চায়ের দোকানে আড্ডা মারতেন সত্যজিৎ-মৃনাল-ঋত্বিকের পরবর্তী প্রজন্ম - বুদ্ধদেব, গৌতম, উত্পলেন্দু, রাজা মিত্র রা। সেখানে বিশ্ব সিনেমা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অনর্গল বকে যাওয়ার জন্যে আড্ডায় গৌতম ঘোষের নাম দেয়া হয়েছিল গোদার ঘোষ।

    গোদারের ছবি না দেখলেও অনেক ছোট থেকে তার নাম শুনেছি। ব্রেথলেস দেখার অনেক আগে কিন্তু  বাইসাইকেল থিভস দেখা হয়ে গেছিলো। বেহালা সিদ্ধেশরী কালীমন্দিরের কাছে ফুটপাতের উপর এক সিডির দোকান ছিল। এইট এন্ড হাফ, ফোর হান্ড্রেড ব্লোজ, লা ভেঞ্চুরা, লা দোলচে ভিতা, নস্টালজিয়া, রোমে ওপেন সিটি এমন অনেক ক্লাসিক সিনেমার সিডি কিনেছি। সেখান থেকেই প্রথম নিয়ে আসি ব্রেথলেসএর পাইরেটেড সিডি। ছবির বাণিজ্যকরণ নিয়ে গোদারের তীব্র আপত্তি ছিল জানি, কিন্তু পাইরেসি নিয়ে আদৌ কিছু বক্তব্য ছিল কি ?

    কেন কলকাতা গোদার কে নিয়ে এমন পাগল তার বিশ্লেষণ না থাকলেও এই উন্মাদনা আমাদের প্রজন্মেও বাহিত হয়েছে। আমি কোনো সিনে সমালোচক নই, না আমি গোদারকে নিয়ে লেখার যোগত্যা রাখি। গোদারকে নিয়ে কলকাতায় তৈরী এই মিথ এবং পরবর্তীকালে চলচ্চিত্র নিয়ে চর্চা করতে গিয়ে যে আবেগ তৈরী হয় তারই বহিঃপ্রকাশ এই লেখা। তার সাথে কোথাও যেন জুড়ে গেছে আজকের সময়ের অনিশ্চয়তা ও বিপন্নতা।

    (চলবে)

    উল্লেখ্যঃ তথ্যসূত্র সিরিজের শেষে দেব।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন