এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • তিব্বতের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব : চীন কেন তিব্বত দখল করল ?

    AR Barki লেখকের গ্রাহক হোন
    ৩১ মে ২০২২ | ৩৯৪ বার পঠিত | রেটিং ১ (২ জন)
  • তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পৃথিবীর মনুষ্য বাসযোগ্য সর্বোচ্চ স্থান তিব্বতীয় মালভূমিতে অবস্থিত। উত্তর তিব্বতীয় ঢাল সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার মিটার (১৫০০০ ফুট) উচ্চে অবস্থিত। নেপালের সাথে তিব্বত সীমান্তে মাউন্ট এভারেস্ট অবস্থিত।
    .
    তিব্বত মালভূমিকে বলা হয় পৃথিবীর তৃতীয় মেরু। এশিয়ার দশটিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নদ নদীর উৎপত্তি হয়েছে এই তিব্বত মালভূমিতে। পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় 44 শতাংশ মানুষ ব্যবহার্য পানির জন্য তিব্বতে উৎপন্ন নদ-নদী গুলির উপর নির্ভরশীল। এই নদী গুলির তীরেই গড়ে উঠেছিল অনেকগুলো প্রাচীন সভ্যতা।
    .
    ১ . Yarlung Tsangpo , 2900 km - তিব্বতের সবচেয়ে উচ্চতম ও দীর্ঘতম নদী। পশ্চিম তিব্বতের এনসি হিমবাহতে এই নদী জন্ম নিয়েছে। তিব্বতে চারটি প্রধান শাখা সহ অসংখ্য প্রশাখা রয়েছে। ভারতে ঢোকার সময় নাম হয়েছে ব্রহ্মপুত্র , বাংলাদেশের ঢুকে যমুনা নাম নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে।
    .
    ২ . Yellow River , 5464 km - তিব্বতীয় মালভূমির কিংঘাই প্রদেশ উৎপন্ন হয়ে চীনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে । এই নদীকে "ক্রেডল অফ চাইনিজ সিভিলাইজেশন" বলা হয়। বিশেষ ধরনের লোয়েস পলিমাটি থাকার কারণে একে হলুদ নদীও বলা হয়।
    .
    ৩ . Lancang River , 4350 km - মেকং নদী নামেও পরিচিত। তিব্বতের কিংঘাই প্রদেশে উৎপত্তি হয়ে চীনের উনান প্রদেশ , মিয়ানমার , লাওস , থাইল্যান্ডে , কম্বোডিয়া , ভিয়েতনাম হয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে পতিত হয়েছে। আমাজানের পরে এখানেই সবচেয়ে বেশি মৎস্য বৈচিত্র্য রয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষের প্রোটিনের অন্যতম যোগানদার , অধিকাংশ বাণিজ্য এই নদীপথেই হয়ে থাকে।
    .
    ৪ . Nu River 2815 km - তিব্বতের তাঙ্গুলা পর্বতের নাজকু নদী থেকে উৎপত্তি হয়েছে। সালউইন নদী নামেও পরিচিত। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আন্দামান সাগরে পতিত হয়েছে। এই নদীর অববাহিকায় রয়েছে বেশকিছু বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর বাসস্থান যেমন গোল্ডেন আই মাঙ্কি। , ছোট পান্ডা, বুনো গাধা , বুনো ষাঁড়।
    .
    ৫ . Indus River , 3180 km - এশিয়াতে গঙ্গার পরেই সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী নদী। তিব্বতের কৈলাস পর্বতমালা ও মানস সরোবরে উৎপত্তি হয়ে ভারত ও পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আরব সাগরে শেষ হয়েছে। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো নামে দুইটি প্রাচীন সভ্যতা এই নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল। ভারত ও পাকিস্তানের এক বড় অংশের মানুষ খাদ্য ও কৃষির জন্য এই নদীর উপর নির্ভরশীল।
    .
    সুতরাং দেখা যাচ্ছে তিব্বতের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকলে পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষ এবং তাদের খাদ্য ও বাণিজ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া সম্ভব। জেরুজালেমের মত না হলেও তিব্বতের ধর্মীয় গুরুত্ব কম নয়। বৌদ্ধ ধর্মের মূল আধ্যাত্বিক কেন্দ্র ও তাদের ধর্মীয় গুরু দালাইলামার ধর্মীয় অফিস রয়েছে এখানে।
    .
    এই আলোচনা থেকে বোঝা যায় কেন মুসলিমরা এশিয়াতে রাজ্য বিস্তারের সময় তিব্বতে একটা অভিযান পরিচালনা করেছিল। বঙ্গ বিজয়ী বীর মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি নিজেও তিব্বতে অভিযান করেছিলেন। আধুনিক যুগে তিব্বতের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে চীন। কেন নিয়েছে তা এখন অত্যন্ত পরিষ্কার।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • avi | 2409:4061:2bbb:eee9:ba23:c957:9fcb:d9dd | ৩১ মে ২০২২ ২১:২২508327
  • তিব্বত থেকে বেরোনো নদীর বিবরণ, তার কন্ট্রোল নিয়ে চীনের দাদাগিরির ইঙ্গিত, নদীর নামের তালিকা রাখা, মেকং নদীর উৎস অনেক উত্তরে কিংহাই অব্দি পাঠিয়ে দেওয়া, এশিয়ার ঐতিহ্য হিসেবে গঙ্গা সিন্ধুর মতো মাঝারি দৈর্ঘ্যের নদীকে প্রচুর মূল্য দেওয়া, নদীর উৎস অধিকারে থাকা মানেই তার পূর্ণ অববাহিকার দখল বোঝানো -
    অথচ,
     
    ইয়াংসি নদীর নামনিশান নেই!
     
    গজব বেইজ্জতি!
  • শুদ্ধসত্ত্ব দাস | ১২ জুন ২০২২ ০৩:৩৮508867
  • @avi হ্যা আমারও যুক্তগুলো দুর্বল লাগলো। বিশেষ করে আপনি যেমন বললেন, নদীর উৎস অধিকারে থাকা মানেই তার পূর্ণ অববাহিকার দখল বোঝানো
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন