এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ইদ আসে ইদ যায় 

    Diponkar Chanda লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৬ মে ২০২২ | ২২৪ বার পঠিত
  • (ইদের রিপোর্টিং যখন একঘেয়ে হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই রিপোর্টংয়ে বৈচিত্র আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে ওঠে কোনো কোনো রিপোর্টার, একনিষ্ঠ তিনি, শক্ত চোয়াল, হাতে উদ্যত মাইক্রোফোন, তাঁর পেছনে ক্যামকর্ডার, চোখ ঈগলের মতো, মগজে তাঁর ফুটন্ত লাভার মতো প্রতিভার টগবগে প্রবাহ, খবরের ফসিল থেকে কার্বন ডেটিং করে হলেও খবর খুঁড়ে আনতে বদ্ধপরিকর যিনি...ঠিক তেমনই একজন...)

    "ইদ আসে, ইদ যায়, আনন্দ আসে, আনন্দ যায়, এখনো নগরী ভরে ওঠেনি মানুষে, এখনো আমরা ফিরে পাইনি সেই উষ্ণতা, সেই প্রাণচাঞ্চল্য, এই যে, রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি আমরা, এই যে, রাস্তার পাশের একটা বাড়ির চার তলার ছাদে একজন ভদ্রলোককে দেখতে পাচ্ছি কি নিবিড় ভাবে কদলীবৃক্ষ পরিচর্যা করছেন, মনে হচ্ছে যেন চেতনায় সমৃদ্ধ একজন মানুষ যিনি সম্ভবত নগরের সাম্প্রতিক কর্তিত বৃক্ষের শোকে ছাদে কদলীবৃক্ষের পরিচর্যা করছেন, মনে হচ্ছে প্রতীকী প্রতিবাদ যেন, যেন ধিক্কার আমাদের তথাকথিত চক্ষুমুদ্রিত সমাজের প্রতি, আমরা এখন উনার সাথে কথা বলবো, আমি 'ভিটিবী লাইভ' থেকে 'পলাশ শিমুল' চলে এসেছি চার তলার ছাদে 'জীবন্ত চেতনা'র মুখোমুখি হতে..."

    পলাশ শিমুল: স্যার, এই যে আপনি কদলীবৃক্ষ রোপন করে অনন্য প্রতিবাদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, এর জন্য আমরা গর্ববোধ করছি...

    জীবন্ত চেতনা: আরে না! এটা আমি রোপন করিনি, আমার স্ত্রীর নিজের হাতে লাগানো এটা...

    পলাশ শিমুল: দর্শক, আপনারা শুনলেন, এই চিনি চম্পা কদলীবৃক্ষ উনার স্ত্রী রোপন করেছেন, আর উনি নিজ হাতে এটার পরিচর্যা করে প্রমাণ করছেন উনারা দুজনেই বৃক্ষপ্রেমী, এবং চাইলে যে কোনো আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে নিজের ঘর থেকেই...

    জীবন্ত চেতনা: আরে না, আপনি ভুল বলছেন, এটা চিনি চম্পা কলাগাছ না, এটা একটা আইঠ্যা কলাগাছ, আর এটা কোনো আন্দোলনের অংশ না, আমার স্ত্রী রোপন করেছেন এটি, আমি এটার পরিচর্যা করছি কেবল, এটা আমার কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে...

    পলাশ শিমুল: দুঃখিত দর্শক, এটা সক্রিয় আন্দোলন ঠিক নয়, কিন্তু নীরব প্রতিবাদের অংশ এটা, এটা আসলে কর্তব্য, মানে, পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হলে কর্তব্যটাই অজান্তে আন্দোলনের অংশ হয়ে ওঠে... তা স্যার, আপনার স্ত্রীর সাথে কথা বলতে পারি একবার...

    জীবন্ত চেতনা: দুঃখিত, তিনি এখন ইহলোকে নেই! আমার বিগত স্ত্রীর নিজ হাতে লাগানো এটা...(কান্না, ফুঁপিয়ে কান্না)

    পলাশ শিমুল: দুঃখিত দর্শক, আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, উনার সংসার জীবনে একটা বিপর্যয় এসেছে, উনার স্ত্রী গত হয়েছেন, কিন্তু উনি উনার স্ত্রীর রোপিত বৃক্ষকে গত হতে দেননি, উনি কদলীবৃক্ষের পরিচর্যা করে যাচ্ছেন নিয়মিত, এখানে আসলে প্রেমের উপস্থিতি প্রবল, দর্শক, আমাদের ব্যক্তি জীবনে প্রেম প্রবল নয় বলেই আন্দোলনগুলোও নিষ্প্রাণ, উনি কিন্তু এই কদলীবৃক্ষ নিয়ে বসে না থেকে আরেকটি বিয়েও করতে পারতেন, কিন্তু দেখুন, তা না করে উনি কেমন ঈর্ষণীয়ভাবে প্রেমের চিহ্নস্বরূপ কদলীবৃক্ষের পরিচর্যা করে যাচ্ছেন...

    জীবন্ত চেতনা: দুঃখিত, আমি আসলে আরেকটি বিয়ে করেছি ইতিমধ্যে, কিন্তু নতুন স্ত্রী ঘরে অশান্তি করে তাই...

    পলাশ শিমুল: দুঃখিত দর্শক, উনি আসলে বিয়ে করেছেন পুনরায়, কিন্তু নতুন স্ত্রী মানেই অশান্তি, আর অশান্তি যদি না থাকে মনে, বনের বৃক্ষের প্রতি মানুষের মায়া আসবে কোত্থেকে! আসলে আমাদের উচিত বেশি বেশি বিয়ে করা, বেশি বেশি বিয়ে মানেই ঘরে বেশি বেশি অশান্তি, বেশি বেশি অশান্তি মানেই বেশি বেশি বৃক্ষপ্রেম...

    জীবন্ত চেতনা: এই ব্যাটা, তুমি হৈছ আমার কলার রিপোর্টার, ঘরে অশান্তি বইল্যা ছাদে আইছি একটু শান্তির আউশে, আর তুমি লাশা আও ফাও প্যাচাল পাইরা শান্তির বারোটা বাজাইতেছো...

    পলাশ শিমুল: দুঃখিত স্যার (হঠাত্ ডুকরে কান্না) আসলে আমার বউ এর নামও শান্তি, হৈছে কি, শান্তির জন্যি আমিও ঘরে শান্তি পাই না, তাই এই ছুটির দিনগুলোতে বাধ্য হয়ে অ্যাসাইনমেন্ট নিছি বৃক্ষ চেতনার ওপর...(কান্না, বুক ভাসানো কান্না)

    জীবন্ত চেতনা: (রিপোর্টারকে বুকে জড়িয়ে ধরে) ওরে! তুমি তো আমার সত্যিকারের লাশা...(দুজনেই জড়াজড়ি করে কান্না)...আসো লাশা কাইন্দা কাইন্দা নিজেদের বুকটারে চলো হালকা করি...
     
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন