এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • অনন্যা  নারী

    Sayanti Mandal লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৩ মার্চ ২০২২ | ৩৭৩ বার পঠিত
  • পর্ব ৫ 
    সকালে জয়িতার দম ফেলার সময় থাকে না। অর্ণব আটটার মধ্যে বেড়িয়ে যায়। ইউণিভার্সিটির ক্লাসের এরকম রুটিন পড়েছে এই সেমিস্টারে। সকালে ব্রেকফাস্ট খেয়েই অর্ণব বেড়িয়ে যায়। লাঞ্চ নিয়ে যায়। জয়িতাকে তাই দুটোই করতে হয়। দ্রুত হাত চালায় সে।কাজের ফাঁকে চোখ যায় জানালায়। বাইরে গুড়ি গুড়ি বরফ পড়ছে।চারপাশ সাদা হয়ে আছে। জয়িতা প্রথম বরফ দেখেছিলো সিমলা তে। সেকী আনন্দ, বরফের গোলা বানিয়ে খেলা করেছিলো। ছোটবেলার সব কিছুই আনন্দের। এই যে এখানে বাইরে সারাদিন প্রায়ই বরফ পড়ে ,কৈ এখন আর তো সেসব খেলার ইচ্ছে হয় না।জয়িতা কী বুড়ি হয়ে গেলো।
    দু বছর হোলো জয়িতারা সংসার পেতেছে প্রবাসের এই শহরে। কলকাতায় অর্ণবের পার্টটাইম জব আর জয়িতার ছাত্র পড়ানো নিয়ে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু অর্ণব মেধাবি ছাত্র । পার্টটাইম জব করে সে জীবন কাটাবে এটা আশা করা যায়না। বেশ কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে সে পি এইচ ডি করার দরখাস্ত করে। বোস্টনেরটা হয়ে যাওয়াতে অর্ণব আর সিধান্ত নিতে দেরি করেনি। কিন্তু ছাত্র অবস্থায় বউকে নিয়ে প্রবাসে সংসার পাতা অতও সহজ নয়। জয়িতাই ভরসা দিয়েছিল” সে একরকম হয়ে যাবে দেখ “। আসলে    অর্ণবকে ছেড়ে সেও থাকতে চায়নি। মা বাবা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। অর্ণবের মা কোনোদিনই ছেলের মতের বাইরে কিছু মতামত দেননা। দুরু দুরু বক্ষে তারা প্লেনে চেপেছিল। জয় এসেছিল এয়ারপোর্টে তুলে দিতে
    -তুই পড়তে যাচ্ছিস না মধুচন্দ্রিমাটে যাচ্ছিস?
    -যেটা বলবি। অর্ণবের নির্বিকার উক্তি।
    -যাক তুই বাঙালির ট্র্যাডিশন বজায় রাখলি।
    -কি রকম?
    -এই ভালো ছেলেরা কেউ এদেশে পড়ে থাকে না।এদেশের ব্রিলিয়ানট ছেলেমেয়েরা সব বিদেশের অলিতে গলিতে বাসা বাঁধে।
    জয়িতার মনটা ভার হিয়ে ছিল। সে জয়কে জিজ্ঞেস করলো
    -তনিমার খবর জানিস? আজকাল আর ফোনও করে না।
    -তিনিও তোমার মতো একটি সুপাত্রের সন্ধানে আছেন। শুভদিনে ঝুলে পড়বেন বলে।
    -ঠাট্টা রাখ। জয়িতা বলে। আমার ঠিকানা তোকে দেওয়া রইল। অবশ্যই সব জানাবি।
    - যথা আদেশ ম্যাদাম। তবে আপনার কি আর এই পোড়া দেশের লোকজনকে মনে থাকবে?
    জয়ের ঠাট্টার রেশ কাটতে না কাটতেই জয়িতাদের প্লেনের ঘোষণা হয়েছিল।
            
    বোস্টন আমেরিকার একজনবহুল শহর। শহরটার সাথে জড়িয়ে আছে আমেরিকার ইতিহাসও। উপনিবেশিক সময় এই শহরের সাথে ব্যাবসা চলত পশ্চিম আফিরকার।সেখান থেকে কালো মানুষদের এখানে এনে কৃতদাস ে পরিণত করা হত।আমেরিচান বিপ্লবের সাথে এই শহরের সম্পর্ক গভীর। শহরের আনাচে কানাচে তার স্মৃতি রয়েছে।  আবার বেশ কয়েকটা ভালো ইউনিভার্সিটি থাকায় এখানে বিশ্বের বহুদেশের লোক থাকে। শহরটা দিন দিন আধুনিক হয়ে উঠছে।
    প্রথম কদিন তো আসার ধকল সামলাতেই গেলো। তারপর এসেই অর্ণবের কলেজের ক্লাস শুরু । উইকডেস গুলো যে কিভাবে যাচ্ছিল জয়িতা বুঝতেই পারছিল না। নতুন শহরে সংসার পাতা কম হ্যাপা নয়। যদিও এদেশে ঘর ভাড়ার সাথে অনেক কিছুই পাওয়া যায়। তাই আলাদা করে বিশেষ কিছু কেনা কাটা তাদের করতে হয়নি। টুকটাক কিছু ছাড়া। জয়িতার তবু কয়েকদিন সব গোছগাছ করতেই গেলো। উইএন্ড এ অর্ণব একটু ফাঁকা থাকে। জয়িতারা তখন শহর দেখতে বেড়য়। কোনোদিন চার্লস নদীর ধারে। কোনোদিন বোটানিক্যাল গার্ডেন। কোনদিন মিউজিয়াম। কোনদিন বা শুধুই রাস্তা ধরে হাঁটা। সারাসপ্তাহের প্রয়োজনীয় জিনিস তারা সপ্তাহান্তে জোগার করে রাখে। নতুন শহরে জয়িতাও একা বিশেষ সাহস পায়না। অর্ণব থাকলে বাইরের কাজগুলো সেরে নিতে সহজ হয়।
    বেশ চলছিল। কিন্তু কিছুদিনের পর জয়িতা বেশ অসুবিধাতেই পড়ল। অর্ণবের পড়াশোনার ব্যস্ততা। সংসারের সব বিষয় সে দেখে না।পড়াশোনাতে তার আঘ্রহ বেশি।জয়িতা অর্ণবকে তায় বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সংসারের বিষয়ে বিরক্ত করেনা।তবুও জয়িতার মাঝে মাঝে মনে হয় বিয়েটা তারা তাড়াতাড়ি করে ফেলেছে।অর্ণবের স্কলারশিপের টাকা পেতে মাস শেষ। হাতে বেশি টাকা তাদের কোনোদিনই ছিলও না। বাবা আসার সমায় কিছু টাকা গুঁজে দিয়েছিল। আর জয়িতা মার দেওয়া কিছু গয়না বিক্রি করে ছিল কলকাতাতে। অর্ণব অনেক বড় হবে এই স্বপ্ন যে তারও। কিন্তু জয়িতার ধারনার থেকে বাস্তব অনেকটাই আলাদা। মাসখানেক যেতেই প্রায় সব টাকা শেষ।জয়িতা বেশ অসুবিধায় পড়ল। এদেশে কাজের অভাব নেই ,কিন্তু  কম্পারেটিভ লিটারেচার পড়ে  জব পাওয়ার মতো কাজ দুর্লভ। শেষে অনেক ভেবে একটা ডিপার্টমেন্টাল স্তরেই কাজ নেবার সিধান্ত নিল জয়িতা। অর্ণবকে বলতে সে গম্ভীর হয়ে গেল
    -          আমার আগেই ভাবা উচিৎ ছিলো। তোমাকে না আনলেই ভালো হতো। আমি হোস্টেলে থেকে পড়াটা চালিয়ে নিতাম।
    -          কেন এই যে আমরা একসাথে আছি এটা  কি খুব খারাপ। আমি একা বুঝি ওখানে থাকতে পারতাম।
    -          তোমারও তো এটা পড়াশোনা করারই সময় জয়ি।
    -          আগে তুমি শেষ কর,তারপর তুমি চাকরি করবে আর আমি পড়ব,কেমন। এখন আমাকে এই কাজটা করতে দাও।
    অর্ণব নিমরাজি হয়েছিল।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন