ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • হোটেল ম্যানেজার - ৬

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ৩১ জানুয়ারি ২০২২ | ৩৩০ বার পঠিত
  • বাপি যতই হতভাগা হোক তার একটা পোশাকি নাম আছে কিন্তু।তার নিতান্ত শৈশবেই পরলোকগতা মায়ের দেওয়া নাম— অর্জুন। পুরো নাম অর্জুন লস্কর। কোনদিন যদি স্কুলে যেত তাহলে হয়ত তাহলে নামটা নিশ্চয়ই কাজে লাগত। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেরকম পরিস্থিতির আগমন না ঘটায় ওই নামটা জীবনের ঘাস মাটির তলায় চাপা পড়ে পাঁশুটে হয়ে গেছে। কে আর সে আচ্ছাদন সরাবে ! 
    তার বাবা রামকৃষ্ণ লস্কর যে লোক খারাপ তা না। কিন্তু দ্বিতীয়বার ঘরে বৌ এনে সর্বনাশ পাকিয়েছে।এমন কুটিলমনা আত্মসর্বস্ব মহিলা কমই দেখা যায়। বাপি তখন পাঁচ বছরের বালক।বাবার বিয়ের পরদিন থেকেই সে তার নতুন মায়ের চক্ষুশূল হয়ে উঠল।কারণে অকারণে তাকে মারধোর করত। খাওয়া বন্ধ করে দিত।পাঁচ বছরের অবোধ শিশু তার অপরাধটা কি সেটাই বুঝতে পারত না। রামকৃষ্ণের এই বৌ এত উগ্র প্রকৃতির ছিল যে সাংঘাতিক অশান্তির ভয়ে শান্তিপ্রিয় রামকৃষ্ণ  চুপচাপ থাকত। সব কিছু নীরবে মেনে নিত। ছেলের ওপর অত্যাচার দেখেও দেখত না। চোখ বুজে থাকত। 
    কিন্তু চোখটা বুজে থাকলে কি হবে মনটা ক্ষতবিক্ষত হত অহরহ। সে নরম মনের মানুষ। তার এ ভুলের জন্য অনুশোচনায় দগ্ধ হত দিবারাত্র। রাত্রে মূত্রের বেগ এলে  ওই ঘুটঘুটে অন্ধকারে বাইরে যেতে ভীষণ ভয় করত বাপির । সে চুপিচুপি বাবার গায়ে হাত দিত। রামকৃষ্ণ নিমেষের মধ্যে উঠে পড়ত। ছেলেকে প্রায় কোলে করে নিয়ে যেত দাওয়ার ধারে। কচি ছেলেটা ঘুমের ঘোরে বিছানা ভিজিয়ে ফেললে তার নির্দয় বৌ অনিমা যে কি কান্ড বাঁধাবে ভাবতে শিউরে ওঠে রামকৃষ্ণ। তাই সারারাত সে ভাল করে ঘুমোতে পারত না। সজাগ থাকতে হত কখন ছেলে তার বুকে আলতো করে হাত রেখে মৃদুস্বরে বা..বা বলে ডাকে।
    কিন্তু দিন চিরকাল একভাবে কাটে না। সময় প্রকৃতির রাজ্যে মাপাজোপা অন্তরে ঋতুর মতো রূপ বদলায়।বদলে যায় চলমান জীবনের আকৃতি প্রকৃতি।
    রামকৃষ্ণ বড়ই গরীব। নিজস্ব চাষের জমি বলতে মোটে পাঁচ কাঠা। তাছাড়া কোন বড় চাষীর জমিতেও খাটে দু চার পয়সা রোজগারের জন্য। নিজের জমির সব্জী ওই বড় চাষী হরিপদ পাত্রই কেনে। ফড়েদের বিক্রি করলে দরে পোষানো মুশ্কিল । 
     হরিপদ তারই বয়সী। বাপ ঠাকুর্দা বিস্তর জমিজমা করে গেছে। সেই জমি নিংড়ে রস বের করে চলেছে বছরের পর বছর। ওই হরিপদকেই একদিন বলে ফেলল তার মনের দু:খের কথা। 
     হরিপদ সব কথা শুনে বলল, ‘বুঝতে পেরেছি, তোমার ছেলেটাই হল তোমার নতুন বৌয়ের গলার কাঁটা। তুমি এক কাজ কর রামকৃষ্ণ .... তোমার ছেলেকে তুমি আমার কাছে রাখ।’
    — ‘ তোমার কাছে ..... মানে ?’ রামকৃষ্ণ বেশ অবাক হয়।
    —- ‘ মানে, আমার বাড়িতে নয়, ওই ফুলির মার কাছে ... আমি বলে রাখব’খন । ‘
     রামকৃষ্ণ হরিপদর মুখের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
    ‘ না .... বলছিলাম যে, দুটো মেয়ে চলে যাবার পর থেকে তো মুষড়ে আছে। তাই বাপি যদি ওখানে থাকে ফুলির মার মনের  ফাঁকা জায়গা একটু ভরাট হয় আর কি।’ হরিপদ চাষাভুষো লোক হলেও কথার বেশ বাঁধুনি আছে। ফুলির মা হরিপদর কাছে অনেক টাকা ধারে। তাই, সে হরিপদর কথার অন্যথা করবে না, সেটা আশা করা যায়।
    রামকৃষ্ণ কি বলবে ভেবে না পেয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। একটু পরে বলল, ‘ হ্যাঁ ... তা হলে হয় অবিশ্যি .... একটু ভেবে দেখি।ছেলেটার জন্যি বড্ড চিন্তা ....’ ।
    — ‘ হ্যাঁ হ্যাঁ ভেবে দেখ .... ভেবে দেখ ।’

       অর্জুন লস্কর, মানে তিলোত্তমা লজের বাপির যখন পাঁচ বছর বয়েস তখন তার বাবা তাকে ফুলির মার কাছে দিয়ে গেল। শিশু বাপি সেখানে ভালবাসা পেয়েছিল আবার দেখেছিল প্রচুর যন্ত্রনার ছড়াছড়ি। সেই বাপি যে এই বাপি হল তা চারদিকের ফনীমনসার কাঁটায় বিষাক্ত আঁচড়  খেতে খেতে। তবে ফুলির মার ঘরে পেট ভরে খেতে পাক না পাক কেউ কখনও যন্ত্রনার ছ্যাঁকা দেয়নি। ওর বাবা রামকৃষ্ণ বৌকে লুকিয়ে সাধ্যমতো পয়সাকড়ি দিয়ে আসত ফুলির মাকে। ফুলির মা বিধবা মহিলা। ফুলি ছাড়াও তার আরও দুই মেয়ে ছিল । তারা একটু পেট ভরে খেতে পাওয়ার আশায় কাদের সঙ্গে যেন কোথায় চলে গেছে। ফুলি তার ছোট মেয়ে। তার ওপর বড় মায়া তার মায়ের।ফুলির তখন বারো বছর বয়েস। বাপি ওদের বাড়িতে আসার মাস খানেক পরে বাপি একদিন শুভঙ্কর পালকে দেখেছিল। ওই সজনে গাছটার নীচে দাঁড়িয়ে সীতুবাবু মানে সীতেশ দাসের সঙ্গে কথা বলছিল। তারপর বিকেলবেলার দিকে কুঁড়ের  সামনে দাঁড়িয়ে সীতুবাবু ফুলির মার সঙ্গে কি সব কথা বলতে লাগল নীচু গলায়।
    বাপি তখন উঠোনে একা একা আপনমনে খেলা করছে।
    সীতু সময় নষ্ট করে না। সে কাজের কথা বলে। কথা অবশ্য সহজ সরল। অনটনে জরজর ক্ষুধায় কাতর গরীব লোকের মুখের সামনে সুস্বাদু টাকার পিন্ড ঝুলিয়ে দেওয়া। কি না .... মোটা টাকা রোজগারের সুযোগ আছে। মুম্বাই, দিল্লি,চেন্নাই এইসব জায়গায় ভাল জায়গায় সহজ কাজ।

    দুদিন পরে বাপির ফুলিদি একটা পরিষ্কার জামা পরে সীতুবাবুর সঙ্গে কোথায় একটা কাজ করতে চলে গেল মোটা টাকা রোজগারের জন্য। বাপি একা একাই ঘুরে বেড়াতে লাগল গাঁয়ের এখানে ওখানে। সে ঘুরতে ঘুরতে খেজুরপোতার মুসলমান পাড়াতে চলে যেত। ওখানে শাকিলা আছে,  আমিনা আছে, ফারুকভাই আছে, আলতাফ চাচা আছে, আরশাদ চাচা আছে, আরো কতজন আছে। 
    ফুলির মা এখন একা হয়ে গেছে। বাপি শুধু রাত্রে শুতে আসে।এইভাবে দিন কাটতে লাগল এবং শিক্ষাদীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কহীন অর্জুনের, মানে বাপির বয়স ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল প্রকৃতির নিয়মে। রামকৃষ্ণের দ্বিতীয় বউ অনিমার ওপর তীব্র ঘৃণার ফলস্বরূপ তার অবচেতনে এক জটিল মনোজাল সৃষ্ট হয়। অনিমার বয়সী মহিলাদের সে কটু দৃষ্টিতে দেখত এবং কটুভাবে ব্যবহার করতে চাইত পরবর্তীকালে। 
    এসব সাত আট বছর আগের কথা। এখনও খুব মনে পড়ে বাপির। মাঝে মাঝেই মনে পড়ে যায় .....কিছু কিছু দেখা .... কিছু কিছু শোনা ।
       ..........       .........        ...........
       

         শাকিলার ভাই ফারুক মিলিটারিতে চাকরি পেয়েছে। সেই সিয়াচেন না কোথায় যেন কাজ দিয়েছে ওকে। সেখানে নাকি বড় শীত। তাদের এই খেজুরপোতার মতো নয়। দিনরাত নাকি বরফ পড়ে সেখানে। তা পড়ুক । টাকা রোজগার করতে গেলে কষ্ট তো করতেই হবে। ভাইয়ের সঙ্গে রোজ কথা হয় একবার করে পাশের কুঁড়ের আলতাফের মোবাইলে। আলতাফের একটা মোবাইল আছে। তার শ্বশুর কিনে দিয়েছিল। ডেকে কথা বলিয়ে দেয় ।বিরক্ত হয় না কখনও। এই আলতাফের বাবা আরশাদ চাচা বলে, পরদেশী দুশমনদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে ফারুক বর্ডারে পাহারা দিতে গেছে। ফারুক আমাদের মুখ রোশন করেছে। দেখিস তোদের আর অভাব থাকবে না। শাকিলার মুখ খুশির আলোয় ভরে যায়। 
       
       সীতুর মুখে সারাদিন পান। যখনই দেখ পান চিবোচ্ছে। আগে জগন্নাথ চৌধুরীর পানের বরজের কর্মচারি ছিল। পান বেচা কেনার হিসেব রাখত। মাসে তিন হাজার টাকা পেত।এখন গলায়  সোনার মোটা চেন। গত দু বছরে গাঁয়ের জনা সাতেক  শাকিলাদের মতোই ফুটিফাটা গরীব ঘরের মেয়ে কোথায় যেন কোন কাজে গেল সীতেশের যোগাযোগে ।আর ফিরে এল না। সবই সীতেশ দাসের কামাল। মেয়েরা কোথায় যায় কেউ জানে না।আর কোনদিন ফেরে না। গরীব বাপ মা তেমন খোঁজখবর করে না। বরং হাঁফ ছেড়ে বাঁচে।টাকা পায় যে।  বাঁচার জন্য টাকা চাই। আর টাকার জন্য আছে সীতু । মুম্বাইয়ের গ্রান্ট রোড থেকে গোয়ালিয়র, আগ্রা থেকে দুবাই সর্বত্র ছড়ানো জালের দড়ি ধরা আছে সীতেশ দাসের হাতে। ক্ষমতা হয়েছে অনেক। গাঁ প্রধান থেকে ফাঁড়ির বড়বাবু সবাই চোখবুজে থাকে। রামকৃষ্ণ বা হরিপদরা তো নস্যি। কেউই সীতুকে ঘাঁটাতে সাহস করে না। টাকার যাদু অমান্য করা যায় না। তাছাড়া ওর মাথায় অনেক ওপরের কাদের যেন হাত আছে, লোকে বলে।
        শাকিলার ওপরও নজর আছে সীতুর। ওর ফাঁদে কক্ষনো পড়ব না— শাকিলা ভাবে। সেদিন পুকুর ধারে পান চিবোতে চিবোতে শাকিলাকে শুনিয়ে শুনিয়ে কাকে যেন বলছিল  সীতেশ, ‘ফারুক আর্মিতে ঢুকেছে এ তো খুব ভাল কথা..... পরিবারটার একটা হিল্লে হল। ভালই হল... ফারুক এখন থেকে গাঁয়ের রক্ষেকর্তা হতে পারবে.... ‘।
        শাকিলার গা জ্বলে যায় । গাঁ প্রধান আছে, ফাঁড়ির বড়বাবু আছে, বিডিও আছে, এস ডি ও বাবু আছে— তা ফারুক রক্ষেকর্তা হতে যাবে কেন ?  সাত সাতটা মেয়েকে সীতু কোথায় নিয়ে গেল তা নিয়ে গাঁয়ের কারো মাথা ব্যথা নেই। তার মধ্যে ফুলির বয়েস তো মোটে বারো বছর। সারাদিন আদাড়ে বাদাড়ে ঘুরে বেড়ালেও রাত্তিরে মায়ের কাছ ছাড়া শুতে পারত না।ভূতের ভয় ছিল খুব। শাকিলার খুব কষ্ট হয় ওর কথা ভাবলে।এখন কোথায় কি করছে কে জানে।
       এই পরশুদিন সন্ধেবেলা ফুলির মাকে দেখল শাকিলা, কলমি শাকের বেড়ার ধারে দাঁড়িয়ে কাঁদছে । কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতে কাঁদতে কাঁদতে বলল, কাল রাতে নাকি ফুলি এসেছিল ।ওই আনন্দবাবুদের গোয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে। ‘আমার দিকে তাকিয়েছিল অনেকক্ষণ ধরে। ওর দিকে এগোতেই ব্যস আর কিছু দেখা গেল না। সব ফাঁকা। আমার বুকের কাছে কষ্ট বারবার দলা পাকিয়ে উঠছে তারপর থেকে। কি করি বল তো শাকিলা .... ‘ 
       শাকিলার গা ছমছম করে । ফুলি কি ভূত হয়ে গেল নাকি ! আড়াল থেকে এসব দেখে শুনে পুঁচকে বাপিরও গা ছমছম করতে থাকে। না, ভূতের ভয়ে নয়। ফুলিদিদির সম্বন্ধে নানারকম ভয়ানক চিন্তা ওলোটপালোট খেতে থাকে মাথায়।

       পরদেশী দুশমন থেকে ফারুক তাদের সবাইকে রক্ষা করে। শাকিলা ঠিক জানে না তাদের দুশমন কারা। ওদিকে ওপাশে নাকি একটা দেশ আছে। তারা ওধার থেকে গুলি গোলা মারে । এপারে লোক মরে।তাই ফারুকরা পাহারা দেয় যাতে শাকিলাদের কাছে, আর সবাইয়ের কাছে দুশমনদের গুলিগোলা না পৌঁছয়। আরশাদ চাচা এসব ভাল বোঝে। মাঝে মাঝে বলে এসব । শাকিলা হাঁ করে শোনে। দুশমনদের দেশেরও সকলে নাকি তাদের মতো মুসলমান। তারাও কি তাহলে তাদের মতো মাইনরিটি ? মাইনরিটি কথাটা খুব শুনতে পায় আরশাদ চাচার মতো তাদের মহল্লার আরো অনেকের মুখে। তারা নাকি মাইনরিটি। কথাটার মানে ঠি ক বুঝতে পারে না শাকিলা। সে ভাবে দুনিয়ার সব জায়গায় মুসলমানদের বোধহয় মাইনরিটি বলে ডাকা হয়। 
       সে যাই হোক ফারুক নিশ্চয়ই তাদের তকদির বদলে দেবে। সে যখন বাড়ি আসবে তার জন্য খড়গপুর থেকে মোবাইল কিনে আনবে বলেছে। কি মজা হবে তখন। আব্বার বিড়ি বাঁধতে খুব কষ্ট হয় এখন। একটানা কাশি হয় মাঝে মাঝে। দেবেশ শিট বড় ভাল লোক। পাশের মল্লায় থাকে। তার বাক্সে হোমোপ্যাথির নানা ওষুধ। ওনার কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে আসে আব্বার জন্য। কোন পয়সা নেয় না। দেবেশ চাচা মাইনরিটি নয়। কিন্তু বড় দয়ার শরীর ওনার। 
       
        ফারুক ভাল হিন্দি জানে না। তবু সুখবীরের সঙ্গে দোস্তি খুব ভাল জমেছে। ফারুকের চেয়ে দুবছরের সিনিয়ার। তাদের গাঁয়েও নাকি জব্বর ঠান্ডা পড়ে। কিন্তু সে শুধু জাডা কি মৌসম মে, মানে শীতকালে। এমনধারা ঠান্ডা সেও কখনও দেখেনি। তাদেরও অভাবের সংসার, তবে তাদের একটা ছোট ক্ষেতি আছে। পুরো পরিবার তাতেই লেগে থাকে। কষ্টেসৃষ্টে চলে যায় আর কি। বৃদ্ধ বাবা এখন আর কাজ করতে পারে না। বাড়ির উঠোনে একটা খাটিয়ায় বসে থাকে সারাক্ষণ। সুখবীরের পরিবারেরও খুব আশা সুখবীর যখন ফৌজে ‘ভর্তি’ হয়েছে তাদের পরিবারের একটা হিল্লে হবে। তিনটে বহিনের মধ্যে অন্তত একটার বিয়ে দিতে হবে এক্ষুণি। সুখবীর বলে ‘এনকাউন্টার’-এ সে ‘গুজরে’ গেলেও তার ‘ফ্যামিলি’ ‘লাম্প সাম কমপেনসেশান ‘ পাবে। অম্লানবদনে নির্বিকার ভঙ্গীতে বলে এসব। ফারুক এখনও এতটা অভ্যস্ত হয়নি এসবে। সবে তো মাস দুই ফৌজি বনেছে সে। সে শিউরে ওঠে এসব শুনে। শাকিলার সঙ্গে কালকেও কথা হয়েছে তার। কত আশা করে বসে আছে তারা। 

       শাকিলাদের গাঁয়ে বিদ্যুৎ এসেছে অনেকদিন। কিন্তু  ওদের কুঁড়ে বিদ্যুৎহীন। পয়সা কোথায় ? একটা হারিকেন আর একটা লম্প আছে। ঘরে লম্পটা রেখে হারিকেন নিয়ে পুকুরঘাটে গিয়েছিল শাকিলা। বাসনপত্র ( এনামেলের দুটো শানকি, একটা টিনে র হাঁড়ি আর একটা গ্লাস ) ধুয়ে ঘরে ফিরছিল সে। আকাশে আধখানা চাঁদ ছিল। গাছপালায় আলো পড়ছিল আকাশ থেকে চুঁইয়ে। কাঁঠাল গাছটার কাছাকাছি  আসতে দেখল কে যেন দাঁড়িয়ে আছে গাছের তলায়। জংলা জলপাই রঙা জামা প্যান্ট পরা।মাথায় টুপি। হাতে ধরে আছে মাটিতে বাঁট ঠেকান একটা বন্দুক। 
       শাকিলার হাত থেকে হাঁড়ি থালা  , হারিকেন সব পড়ে গেল। বিষ্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইল শাকিলা। কাঁঠাল গাছের তলায় যে দাঁড়িয়ে ছিল সে বলল, ‘ কিচ্ছু চিন্তা করিস না শাকিলা। অন ডিউটি না থাকলেও অনেক টাকা কমপেনসেশান পাবি । আব্বাকে বলিস ভাল ঘরে যেন তোর শাদি দেয়..... বুঝলি তো শাকিলা.....’
       প্রায় ঘন্টা খানেক বাদে আব্দুল আর আলতাফ ওই কাঁঠাল গাছের নীচ থেকে শাকিলার অচেতন দেহ উদ্ধার করল। 

       আরও কত কি মনে পড়ে বাপির।
    ( ক্রমশ : )
    ়়়়়়়়়়়়়়়়়়়
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন