ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • লালবাগ কেল্লার রক্তাক্ত ইতিহাস

    AR Barki লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৩ অক্টোবর ২০২১ | ১৭২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • ঢাকার বুকে যেসব মুঘল স্থাপনা ইতস্তত বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার মধ্যে আজো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পুরনো ঢাকার ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা। প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর থাকে ঐতিহাসিক এ এলাকা।

    কিন্তু আমরা কজন জানি এর পেছনের রক্তাক্ত ইতিহাস৷ এই কেল্লার উদ্যানে, গোলপুকুরে স্বাধীনচেতা বাঙালি সৈন্যদের রক্তে আর্দ্র হয়েছে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে৷ আজ সেই ইতিহাসই জানাব৷ তবে তার আগে কেল্লার নির্মাণ ইতিহাসের বর্ণনা দেয়া যাক।

    আওরাঙ্গবাদ নামে পরিচিত এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৬৭৮ সালে মুঘল সুবাদার আজম শাহের হাত ধরে। উদ্দেশ্য ছিল ঢাকার সুবাদারের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করার।

    এক বছর পর দরবার হল ও মসজিদ নির্মাণের পর আজম শাহের ডাক আসে দিল্লি থেকে৷ সম্রাট আওরঙ্গজেব তাকে মারাঠা বিদ্রোহ দমনের জন্য জরুরি তলব করেন। ১৬৮০ সালে সুবাদার শায়েস্তা খান আবার এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৬৮৪ সালে শায়েস্তা খানের কন্যা পরীবিবির মৃত্যুর পর তিনি এ দুর্গকে অপয়া মনে করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।

    লালবাগ কেল্লার ভেতরে রয়েছে তিনটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। পরী বিবির মাজার, দরবার হল এবং তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ কেল্লাকে দিয়েছে আলাদা আবেদন। আদিকালে কেল্লায় প্রবেশের পথ ছিল চারটি ৷ দক্ষিণ ফটক ছিল এর প্রধান দ্বার৷ প্রধান দ্বারের সামান্য পশ্চিমে ছিল কথিত গুপ্তপথ। লোকশ্রুতি বলছে , এ পথ বুড়িগঙ্গার তল দিয়ে নারায়ণগঞ্জ এর সোনাকান্দা দুর্গের সাথে বা জিনজিরা প্রাসাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলত। বর্তমানে গুপ্তপথটি বন্ধ আছে।

    লালবাগ কেল্লার সবচেয়ে আদি ইতিহাস পাওয়া যায় ইংরেজদের ফ্যাক্টরির ঢাকা ডায়রী থেকে৷ ১৬৮৯ সালের ৯ জুলাই তারিখের ঢাকা ডায়রীর বর্ণনায় লেখা হয় যে, নবাবের বাসস্থান ছাড়াও লালবাগ দুর্গে বন্দী আটক রাখার ব্যবস্থা ছিল। যেখানে সেইসময় কয়েকজন ইংরেজ বন্দী অবস্থায় ছিল। ১৮৪৪ সালে স্থানীয় ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বার্ষিক ৬০ রূপির বিনিময়ে লালবাগ কেল্লার ইজারা কিনে নেয় এবং সেখানে সেনাঘাটি স্থাপন করে ৷

    ১৮৫৩ সালে পুরানা পল্টন থেকে সেনানিবাস লালবাগ কেল্লায় স্থাপন হলে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত কেল্লা সেনানিবাস হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। ৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর পুলিশ রিজার্ভ ফোর্সকে লালবাগে স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯৪৭ সালের আগে এখানে ছিল গাড়োয়ালী পুলিশ৷ ১৯৪৭ সালের পর কেল্লা ব্যবহৃত হয় আই.বি অফিস ও পুলিশ লাইনস হিসেবে৷ ইতিহাসের দায় মেটাতে লালবাগ কেল্লা বারংবার এদেশের স্বাধীনতাকামী সাহসী মানুষের রক্তে ভিজে উঠেছে।

    ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের প্রভাবে ২২ নভেম্বর লালবাগ কেল্লায় ৭৩ নং নেটিভ ইনফ্রেন্টির ২ নং কোম্পানির বাংগালি সিপাহীদের অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দিলে তারা সেই নির্দেশের বিপরীতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে । এ প্রতিরোধ যুদ্ধে ৪১ জন বাংগালি নির্মমভাবে এবং তারো পরে এ ঘটনায় আরো ১১ জন বাঙালি সিপাহিকে বাহাদুর শাহ পার্কের গাছে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয় ৷

    জনশ্রুতি আছে , লালবাগ কেল্লার যে পুকুর রয়েছে সেখানেও বাঙালি বিদ্রোহীদের লাশ ফেলা হয়েছিল লালবাগ কেল্লা পুনর্বার রক্তে ভিজে উঠে ১৯৪৮ সালের ১৪ জুলাই। পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে কেল্লায় অবস্থানরত পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পুলিশের বিদ্রোহের মধ্যে সেখানে রচিত হয় আরেক উপাখ্যান ৷

    ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে ইংরেজদের গ্রেপ্তার করা সিপাহি ও তাদের সমর্থকদের বাহাদুর শাহ পার্কের আমগাছে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেয়া হয়। তবে তাদের কোথায় কবর দেয়া হয়েছিল তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। লোকশ্রুতি বলছে, কেল্লার ভেতরের শহীদদের লাশ ফেলা হয়েছিল কেল্লার পুকুরে। আরো অল্প লাশ ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল ৷

    পুকুরের লাশ সম্পর্কে জানা যায় গোকূলচর এলাকার সোনা মিয়া পাঁচটি নৌকা নিয়ে পুকুরের লাশগুলো বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেয় এবং অন্য লাশগুলো সমাহিত করা হয় বিষ্ণুচরণ দাস স্ট্রিটের গোড়ে শহীদ এলাকায় ৷ লালবাগ ও আজিমপুরের মধ্যখানে অবস্থিত এ এলাকাটিতে; সিপাহি বিদ্রোহে শহীদদের দাফন করা হয়েছিল বলে এর নাম হয় গোড়ে শহীদ।

    এর কিছুদিন পরই এ এলাকার নাম বিকৃত করে ঘোড়া শহীদ হিসেবে প্রচার করা হয়৷ সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার দক্ষিণ -পূর্ব পাশে যে কয়টি কবর দেখা যায় সেগুলোই শহীদ সিপাহিদের সমাধি বলে স্বীকৃত৷

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন