• খেরোর খাতা

  • কিছু ইতস্তত পদ্য

    সায়ন্তন চৌধুরী লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৩১৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)


  • একটি কাঁচের গ্লাস, যার তলদেশে
    ধরা আছে পৃথিবীর সবক'টা সূর্যাস্তের আলোকবিন্দু,
    মাটিতে পড়ে টুকরো-টুকরো হয়ে গেল।
    ঘন্টার পর ঘন্টা মাইক্রোস্কোপে চোখ রেখে
    যেসব বায়োলজিস্টদের ঘাড় টনটন করছে,
    তারা মুখ তুলে দেখল মরচেপড়া করোগেটেড টিনে
    নেমে আসছে হাজার বছরের জমানো বৃষ্টি।
    শহরের ব্যাকগ্রাউন্ডে মাশরুম ক্লাউড,
    লেট ক্যাপিটালিজমের পরিত্যক্ত মেগামেশিনগুলি,
    অ্যাসিড, শূন্যতা — অর্ধবৃত্তাকার!
     

     
    শেষরাতের ট্রানজিট; আমি বসেছিলাম আমার জ্যাকেটটা 
    হাতে ভাঁজ করে, হলুদ হ্যান্ডরেলে ঠেস দিয়ে 
    একটি কৃষ্ণাঙ্গ ছেলে ফোনে ক্যান্ডি ক্রাশ খেলছিল —
    যখন একটা স্ক্রিইইইইইচ শব্দ ছুটে গেল সাবওয়ের দেয়াল ঘেঁষে
    আর আমার মনে হলো শহরের সারফেসে সবকিছু 
    পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, শুরু হয়ে গ্যাছে নিউক্লীয় উইন্টার; 
    বাবা-মায়ের কঙ্কাল ডাইনিং টেবিলে মুখোমুখি স্থির, 
    হাতে চামচ-ধরা: কোনাকুনি ফাটা টেলিভিশন স্ক্রিন। 
    পপলার গাছের ছায়া আমাদের বাড়ীটার ওপর — 
    একটা সামান্তরিক ক্রমশ রম্বস হচ্ছে, তারপর বর্গক্ষেত্র 
    হয়ে ফের সামান্তরিক।
    আমার পড়ার টেবিলে বইগুলো পুড়ে যাচ্ছে, বোর্হেসের 
    কালেক্টেড ফিকশনস, নীলচে কভারটা কুঁকড়ে গেল উত্তাপে।
    আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলের বাইরে ভোরবেলা বৃষ্টি পড়ছে।
     

     
    তিনটে ইনস্ট্যান্ট কফির পাউচ দিয়েছে 
    হোটেলের ঘরে, যার প্রথমটা আমি গরম জলে 
    মিশিয়ে খেয়েছি;
    আরেকটা খরচ করব কিনা ভাবতে ভাবতে 
    দেখলাম রাত দেড়টার সময় পর্চে এসে দাঁড়ালো 
    একটা কালো মার্সেডিজ, কোনো ভিআইপি, 
    যাকে খুন করবার জন্যে হয়তো
    আমার পাশের ঘরে ভাড়াটে কিলার ওঁত পেতে আছে।
    কাজটা আমিই করতে পারি, পাশের ঘরের লোকটা 
    সেইমুহূর্তে ভাবল; তাকালাম আয়নার দিকে।
    মাথার ভেতর নীনার স্মৃতি যেন টাইমল্যাপস ফুটেজ,
    প্ল্যানেট আর্থ-এ যেমন দেখায়: আস্তে আস্তে 
    পাপড়ি মেলছে আগুনরঙা র‍্যাফ্লেসিয়া, 
    শান্তভাবে চাকালাগানো চেয়ারে বসলাম,
    কিউবিস্ট পেন্টিংয়ের মতো 
    নীনার ল্যাংটো শরীর — ঠোঁট আর স্তন,
    এখন অবিভাজ্য এই দৃশ্যগুলি। ড্রয়ার খুলে দেখি 
    একটা শক্তপোক্ত বাইবেল, ব্যাককভারের ভেতরদিকে 
    আত্মহত্যাকামী চিঠি; গভীর রাতে যখন 
    শ্লথ হয়ে আসছে ঘড়ির কাঁটা আর 
    কালো লিম্যুজিনে চড়ে প্রেতাত্মারা হাওয়া খেতে বেরিয়েছে,
    বেডল্যাম্পটা নিভিয়ে দিতে দিতে শুনতে পেলাম 
    ক্লান্ত একঘেয়ে গান ভেসে আসছে পাশের ঘর থেকে —
    বিলি হলিডে, সানডে ঈজ গ্লুমি।
    ঘুম পাচ্ছে আমার।
     

     
    বুলেভার্ডের ওপর ভাসমান ল্যাম্পগুলো জ্বলে উঠেছে, 
    আমি লক্ষ্য করলাম, শহরে ঢোকার সীমান্তবর্তী ব্রীজটা 
    পেরিয়ে এসেছি কিছুক্ষণ আগে; 
    এখন আর কোনো অজুহাত নেই ডাউনটাউনে না পৌঁছনোর। 
    এখন বিষণ্ণ সূর্যাস্ত আমার চারপাশে, 
    কংক্রিটের ছায়া আর আলোদের ল্যাটিসওয়ার্ক, 
    যা এক অতিকায় দাবার বোর্ডে স্কাইস্ক্র্যাপার সাজিয়ে রেখেছে
    (অন্ততঃ সেরকমই মনে হয়েছিল এয়ারক্র্যাফটের জানলা থেকে);
    যে শহরে কখনো আসিনি আমি, সেখানে জলের রঙ গাঢ় খয়েরি।
    প্ল্যাটিনাম ডানা মেলে কয়েকটি মেশিনখোর টেরোড্যাকটিল
    উড়ে গেল পাহাড়ের দিকে — সমুদ্রের দিকে;
    দৃশ্যত এখন আমরা রাস্তার জ্যামে আটকে পড়েছি।
    রেডিও ঘোষণা করছে গভীররাতে নিম্নচাপের পূর্বাভাস,
    কুয়াশাময় আগামী সকাল আর কফির দম-আটকানো ঘ্রাণ —
    কিছু কিছু ফটোগ্রাফ আমাকে বিব্রত করবে: স্মৃতি শুধু যেন
    অর্থহীন শোকপ্রস্তাব, এবং একধরনের ব্রোকেন টেলিফোন খেলা।
    (নৈঃশব্দের দিকে এক-পা)
    (নৈঃশব্দের দিকে দু-পা)
     

     
    এইসব আলমারি আর ওয়ার্ড্রোব, যেখানে তুমি 
    পোশাক খুলে রেখেছ, ইম্প্রেশানিষ্ট শিল্পীর মতো আয়নায়
    পর্যবেক্ষণ করেছ নিজের নগ্ন শরীর: কানের তীর্যক দুল,
    কন্ঠার উপকূলরেখা আর জ্যামিতিক স্তন,
    এইসব দেখেছ তুমি, সিগারেট ধরানোর পরে দেয়ালে 
    কয়েকটি সমকামী পুরুষের ছায়া, দুঃস্বপ্নে কালো কাঁচঢাকা গাড়ী 
    ট্রাফিক সিগন্যালে থেমে; পাশে মোটরসাইকেল 
    আরোহীর হেলমেট-পরা একঝলক মুখ — রুক্ষ ও রূঢ়,
    বাঁ গালে গভীর কাটা দাগ।
    আমি শুধু এ শহরে তোমার জিনিসগুলো নিতে এসেছি।
     

     
    ঘুমের ভেতর যে দৃশ্যগুলো ফিরে ফিরে আসে: অনিয়ন্ত্রিত 
    এরোপ্লেন ভেঙে পড়ছে অজানা দ্রাঘিমায়, দুঃখিত মেশিন-দানব
    ফ্ল্যাটবাড়ির জানলায় চোখ রেখে হার্ডকোর অ্যানাল সেক্স দেখছে,
    কপ্টার থেকে প্রেমিক-প্রেমিকারা ঝাঁপ দিচ্ছে ক্যানিয়নের পাথুরে 
    ল্যান্ডস্কেপে এবং পতনশীল অবস্থায় তাদের প্যারাসুট খুলছে না।
    জেগে উঠি — বেড়ালের আওয়াজ, সারা ঘরে, জ্বোরো গলায়
    ডাকতে ডাকতে অজস্র বেড়াল আমাদের অতীতের ভেতর দিয়ে
    হেঁটে যাচ্ছে, তাদের নরম নুলো, উলের বলের মতো শরীর
    তেকোনা পার্কের কেন্দ্রে ও কোণে ঝরা পাতা নিয়ে খেলা করে;
    বাথটবে খুঁজে পেলাম, ক্রিস্ট্যাল-চোখে সে তাকিয়ে রয়েছে
    আমার দিকে, মাঝরাতে কোথা দিয়ে বেড়াল ঢুকল?
    তুমি কি দেখেছ তাকে কোনোদিন, শহরের ফুটপাতে
    হাতেপায়ে পলিথিন প্ল্যাস্টিক জড়িয়ে একমনে খেলতে?
    ব্যালকনির ওদিকে সে লাফিয়ে মিলিয়ে যায় রাতের ভেতর,
    ভেঙে-যাওয়া ঘুমটার জন্যে অপেক্ষা করতে করতে 
    আমার মনে পড়ে কিছু কিছু সিনেমার ফ্রেম,
    সস্তা থ্রিলার আর পাল্প ফিকশন, তৃতীয় শ্রেণীর এরোটিকা,
    জাপানী কল্পবিজ্ঞান, পপকর্ন ও অস্বাচ্ছন্দ্যকর কাঠের সীট,
    হাতলে ময়লার দাগ, অন্ধকার হলে ম্যারিজুয়ানার গন্ধ: চুমু খাই,
    ঠোঁটের ভেতরে জিভ, স্পর্শ করে টের পাই তোমার বুকের বোঁটা 
    জেগে উঠেছে, আমার প্যান্টের ভেতর শক্ত লিঙ্গ —
    সেদিন রাতে ৬৯ পজিশনে সেক্সের পর সিগারেট ধরিয়ে
    তুমি বলেছিলে অর্গাজমের সময় একটা ভিনগ্রহী স্ট্রাকচারের
    ছবি দেখতে পাও।
     

     
    টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে, এলিভেটরের ময়লা বোতাম ছুঁয়ে 
    আমি নীচে নেমে এলাম; ঠান্ডা, ডিস্টোপিয়ার শহর, 
    যেরকম তেজস্ক্রিয় শীতের ভেতর এই শতাব্দী নষ্ট হয়ে যাবে।
    অ্যাভিনিউ ধরে কঙ্কালগুলো নীচুমুখে হেঁটে যাচ্ছে, 
    ফাঁকা কনস্ট্রাকশন এরিয়ায় মাটির স্তূপের মাঝখানে 
    একটি ক্রেন-ডাইনোসর ঝুঁকে মাপছে জলের তারল্য, 
    চুপচাপ বৃষ্টিতে কমলা-সাদা ট্রাফিক শঙ্কুগুলি এলোমেলো
    আর সারি সারি ভেজা মেরুন মেলবক্স: মরা বাচ্চার লাশ।
    মস্ত আকারের ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডে জীবন পাল্টে দেওয়ার 
    প্রতিশ্রুতি, নির্মাণরত মেট্রোপলিসের শোরুমে 
    গাড়ীর মডেলগুলো স্থির, যেন কোনো সায়েন্স ফিকশন 
    উপন্যাসের মতো তারা এখন অনুভূতিপ্রবণ।
    দূরে নিয়নের সংকেতগুলি ঝলমল করে, ভূতুড়ে 
    কর্পোরেট অফিসের রিভলভিং দরজা — ফিল্মের বিজ্ঞাপন;
    কনভেনিয়েন্স স্টোরে ঢুকতেই সিসিটিভি ক্যামেরা চোখে পড়ল,
    ফিলিপ কে ডিকের চরিত্রের মতো কর্মচারীটি 
    কাউন্টারের ওদিকে নিশ্চল।
    খুনের ব্যাপারে আমি অনেককিছু জানি, বারকোড স্ক্যান 
    করতে করতে সে ফিসফিসিয়ে বলে,
    কিন্তু আমি কিছুই বলব না কারণ আমার প্রাণের মায়া আছে।
     

     
    তোমার ল্যাম্পশেডে বিষাক্ত ফুলের কারুকার্য,
    ড্রেসিং টেবিলে রাখা সাদা প্যাডে দু-একটা সমান্তরাল রেখা,
    অসমাপ্ত ত্রিভুজ আর চতুর্ভুজগুলি,
    বৃত্ত, বৃত্ত এবং শুধুই বৃত্ত — লক্ষ্য করি তুমি এঁকেছ অক্লান্তভাবে,
    পাইয়ের মান এবং পাই সম্পর্কে কতকগুলো গাণিতিক উপপাদ্য।
    অবাক হয়ে ভাবি এসব অমূলদ সংখ্যার কথা 
    তাহলে তুমিও চিন্তা করেছ, অথচ আমাকে জানাওনি।
     

     
    এসো, বেশ্যার মতো আদর করো —
    আমার দিকে কিছু ডলার বিল ছুঁড়ে দিয়ে
    সস্তা মোটেলের বিছানায় শুয়ে তুমি মিটিমিটি হাসছ, 
    জানলায় দাঁড়িয়ে দেখেছিলাম দীর্ঘ উইকেন্ডের শেষে 
    আরভিগুলি পিছনে চাকালাগানো বোট টানতে টানতে
    শহরে ফিরে যাচ্ছে। পামগাছের সারি, পরিত্যক্ত স্টিলপ্ল্যান্ট, 
    চিমনির ধোঁয়া, ফার্নেস: ডাইনো সূর্যাস্তের পরে 
    আকাশের রঙ ক্রমে খয়েরি, গোলাপি অথবা লাল, যেন
    কল্পিত মরুভূমির এবড়োখেবড়ো রাস্তায় একজন 
    অফরোড বাইকার অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে গতি বাড়াচ্ছে।
     
    ১০
     
    কারা এখানে বাস করে? অসংখ্য নেমপ্লেট, দেখি 
    কোনো লোক নেই — লালচে পাতায় ঢেকে গেছে
    ছাইরঙা মসৃণ পিচ; বাড়ীগুলি পরপর —
    সন্ধ্যেয় ক্রোমিয়াম আলো জ্বলে ওঠে, দু-একটা রেন্টাল কার 
    ফ্রন্টলাইট জ্বেলে গার্বেজ ক্যানগুলো খুঁজতে খুঁজতে 
    বড়ো রাস্তার ক্রসিংয়ের দিকে চলে যায়।
     
    ১১
     
    আমি খেয়াল করলাম ব্যাকগ্রাউন্ডে কুকুরের ডাক থেমে গ্যাছে,
    কোনো শব্দ নেই বিকেলের দৃশ্যমান মন্তাজের ভেতর, যেভাবে
    একজন স্নাইপার তীক্ষ্ণ নজর রাখে তার লক্ষ্যবস্তুর ওপর —
    শ্লথ হৃৎস্পন্দন, টান-টান স্নায়ু।
    ধূসর সমুদ্র থেকে বেলাভূমি অভিমুখে ফিরে আসছে জেটস্কিগুলি;
    বুনো ফুলের গন্ধ, সমুদ্রতীরে পড়ে থাকা ডেকচেয়ার,
    যতদূর চোখ যায়, রেললাইন-ভর্তি গ্রানাইট;
    ভেবে দ্যাখো, আমাদের কোথায় যাবার কথা ছিল
    আর কোথায় এসেছি।
     
    ১২
     
    ডিসেম্বর, আমাদের শরীরে এসে হাত রাখে, কোনো 
    দক্ষ সার্জেনের মতো লম্বা ও ছড়ানো আঙুলগুলি
    ফরসেপ ধরার জন্যে প্রস্তুত —
    চায়নাটাউনের অদ্ভুত আলোগুলো, লন্ঠনের অপর্যাপ্ত ছায়া, 
    হিমাঙ্কের কাছাকাছি উষ্ণতায় দুখানা মোটরসাইকেল 
    গাধার মতো অসাড়ে ঘুমোচ্ছে।
    কাঁকড়া-সদৃশ চীনা অক্ষর, লাল পর্দা, শোকেসে
    বুদ্ধের সোনালী মূর্তি, আমি হাঁটছিলাম রেস্তোরাঁগুলোর 
    পাশ দিয়ে, যেখানে উজ্জ্বল মানুষেরা চপস্টিকের সাহায্যে 
    প্লেট থেকে সুখাদ্য মুখে তুলছে। 
    একটা চকচকে এসইউভি 
    আমার কিছুটা আগে আড়াআড়ি ব্রেক কষে দাঁড়ালো 
    এবং তিনজন কালো মুখোশপরা লোক 
    একটি ছোটখাটো চেহারার মহিলাকে টেনেহিঁচড়ে 
    গাড়ীতে তুলল। 
    ডিসেম্বর, ড্রাগস্টোরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা 
    এক ক্রাচ-সমেত বৃদ্ধ — 
    দেখি, সাইবারপাঙ্ক শহরে একজন দুঃখিত সুপারহিরো 
    মাথা ঝুঁকিয়ে একা একা বাড়ি ফিরছে।

    ১৩

    এইসব ছোট ছোট শীতের বিকেল আমিও তো খুঁজেছি,
    মেরুহীন মভরঙা আলো, কংক্রিট পরিকল্পনা,
    এইসব —
    এইসব মায়াবী আপেল, একটু পরে মিউজিয়াম ভেঙে
    বিশাল ডাইনোসর উঁকি দেবে ব্যক্তিগত জানলায়।
    কাঁচের জানলা দেখলেই আজকাল জলের স্বচ্ছতা 
    মনে পড়ে; অথবা তুমি ঘুমিয়ে আছো, এরকম
    কোনো ভোর, কাউন্ট ড্রাকুলার মতো ঠান্ডা ও একা, 
    আমাদের শরীরের কাছে এসে স্মৃতিতে অদৃশ্য হয়।
    জেগে উঠে দেখি বিপজ্জনক চারপাশে  
    চাপ-চাপ কালো রক্ত লেপ্টে রয়েছে, 
    বাইরে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো অবিচ্ছিন্নভাবে ঝরে পড়ে
    গারগোয়েলের ওপর।
    গথাম শহর আমাকে পরিশ্রান্ত করে।
     
    ১৪
     
    যখন সূর্য নেমে আসে গথাম শহরে, অতিকায় স্কাইস্ক্র্যাপার 
    ও আন্ডারগ্রাউন্ডে জটিল সুড়ঙ্গজাল-সমেত স্থাপত্য গঠন
    আমার চেতনার ভেতর ঢুকে যায়, যেখানে হলদে অন্ধকারে 
    লাশগুলো শুকোয় পরিত্যক্ত ম্যানহোলের তলায় —
    ধোঁয়া আর কুয়াশায় ভরা সরু সরু গলি, 
    যার কোণ থেকে অতর্কিতে আততায়ীর হাত
    তোমাকে টেনে নেবে ছায়ার ভেতর;
    নাগরদোলাগুলি সারারাত ঘোরে, সারারাত নিয়নের আলো 
    জ্বলে গথাম শহরে।
    ভ্রাম্যমাণ সেলসম্যান অনিদ্রায় কাতর হয়ে জানলা থেকে 
    লক্ষ্য করে গথামের প্রকাণ্ড ঘড়ি;
    রেনপাইপ বেয়ে নিঃশব্দে উঠে আসে বিড়ালমানুষী,
    মেঘচেরা জ্যোৎস্নার নীচে তার ধারালো নখ 
    ফেঁড়ে দেয় আমাদের জিরাফের পোলকা-ডট গলা।
     
    ১৫
     
    যেকোনো শহরে বৃষ্টি-কামড়ানো সকালগুলো আসলে
    বর্ষাকালীন কলকাতার হলোগ্রাফিক প্রোজেকশন,
    যাদের পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে পোর্তুগিজ ক্যাফে 
    আর দুষ্প্রাপ্য বইয়ের দোকানগুলির সামনে। 
    অধিবাস্তব রাস্তা ধরে একটি স্ট্রীটকার 
    দৃশ্যের প্রান্তের দিকে ক্রমশ বেঁকে যেতে থাকে,
    এবং জন অ্যাটকিনসন গ্রীমশ'র ছবির মতো 
    আলো উপচে আসে স্পর্শক বরাবর।
    এখন এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যেভাবে 
    তোমার স্মৃতি সিনেমাহলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা 
    একটি ঘিয়েরঙা টিশার্ট-পরা মেয়ের র‍্যান্ডম অবয়বে 
    মিশে গেল। উপগ্রহচিত্রে এসব ধরা পড়বে না।  
     
    ১৬
     
    ব্যতিক্রমী স্বপ্ন: ভি শেপে লোম-পোড়ানো আর্মেচারসহ 
    একটা রোবট-কুকুর সূর্যাস্তকালীন সমুদ্রসৈকত 
    বরাবর লেংচে বালি ও ঢেউয়ের গাঢ় বাদামী 
    বর্ডারে এসে থেমে গেল।
    তারপর পিছু ফিরল। ফ্রিজশট।
    ইলেকট্রিক আকাশ — অতিকায় পিস্টনচালিত 
    পাখিগুলি গোলাপী রোদ সাঁতরে ফিরে আসছে 
    সাইবারপাঙ্ক শহরে। প্যানারোমিক দৃশ্য। কাট টু:
    একজন কন্ট্রাক্ট-মজুর ভাঙাচোরা মেট্রো স্টেশনে
    বসে খবরের কাগজে রিয়েল এস্টেটের
    বিজ্ঞাপন দাগাচ্ছে। ক্লোজআপে ধরা হলো।
     
    ১৭
     
    একটা স্ট্যাম্পহীন খামে পাওয়া নির্দেশ অনুযায়ী,  
    দূরের দেশের গোয়েন্দা, তুমি এসে পৌঁছেছ 
    এই তেলচিটচিটে শহরে: ঠান্ডা এবং নোংরা আবহাওয়া,  
    দুঃখিত ও ক্রূর লোকে গিজগিজ করছে রাস্তাগুলো,  
    শ্রীহীন ক্যাফে আর সিনেমাহল, মেয়েরা তোমাকে পাত্তা 
    দেয়না — এর চাইতে খারাপ আর কী-ই বা হতে পারে? 
    পুরু কুয়াশা ঝুলে রয়েছে এরকম কোনো সকালে  
    তুমি টিম হর্টনে বসে কফি আর মাফিন গিলতে থাকো, 
    মাঝে মাঝে ন্যাপকিনের পরিবর্তে বুড়ো আঙুল দিয়ে মুছে নাও  
    ঠোঁটের কোণ, তোমার আলতো নজর পড়ে থাকে  
    আশপাশের টেবিলে, টুকরো কথোপকথন, যেসমস্ত লোক  
    দরজা ঠেলে ঢুকছে এবং বেরোচ্ছে, যারা কাউন্টারের সামনে  
    লাইনে দাঁড়িয়ে আছে, এদের প্রত্যেকের অঙ্গভঙ্গির দিকে 
    তুমি সতর্ক খেয়াল রাখো। নিস্পৃহমুখে তুমি হাঁটতে থাকো 
    শহরের সবচেয়ে জনমানবশূন্য রাস্তাগুলো ধরে,  
    তোমার চারদিকে ঝরে পড়ে মেরুন রঙের হাড়মাসহীন পাতা;  
    জামার পকেট থেকে একটুকরো কাগজ বের করে তুমি 
    মাঝেমাঝে দেখে নাও খুন হওয়া লোকটির বিবরণ: 
    পিটার হেনিগ্যান, ২৮, ধূমপায়ী এবং নিঃসঙ্গ এক যুবক, 
    হত্যার পদ্ধতি — ছুরিকাঘাতে মৃত্যু।
     
    ১৮
     
    অপরিকল্পিত ভ্যান্টেজ পয়েন্ট থেকে দুপুরবেলার
    অ্যালুমিনিয়াম শহর; একটু আগে একপশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে,
    জন্ডিস রুগীর পেচ্ছাপ-আলো গড়িয়ে পড়েছে পামের গুঁড়িতে, 
    জ্যামিতিক গোলকধাঁধার মতো অস্পষ্ট মহল্লাগুলোর কোণে
    স্তূপীকৃত টায়ার, করোটি ও রৌদ্রের ধুলো-ধূসরতা — 
    অধিবাস্তব রাস্তার প্রান্তের দিকে বেঁকে যেতে থাকে 
    একটি জংধরা ট্রেলার: লেকের পাশে একটা ভাঙাচোরা বাড়ী,
    সামনে বিগত কোনো হ্যালোইনের পরিত্যক্ত ভূতুড়ে 
    পুতুলসমূহ, চিরুনিতল্লাশি চালাতে চালাতে তুমি লক্ষ্য করো
    অস্বাভাবিক বড়ো পায়ের ছাপ, সিগারেটের টুকরো, শুকনো 
    রক্তের দাগ — কার স্মৃতি এইসব? এসব গ্রামাফোন, 
    ডেকচেয়ার, ঘন মাকড়সার জালে ঢেকে যাওয়া ওয়ার্ড্রোব?
    কালচে হাতটা তোমার চোখে পড়ে, একটা মুন্ডহীন ধড়,
    তীব্র পচা গন্ধে তুমি, দূরের দেশের গোয়েন্দা, সরে যাও 
    জানলার দিকে, ওধারে লেকের জলে দু-একটা সাদা বোট,
    মেঘহীন আকাশ: এখন তোমার মনে পড়ে প্রেম ও বিষণ্ণতা,
    অর্থহীন স্মৃতিগুলি তোমাকে আচ্ছন্ন করে দেয়, তোমার
    মস্তিষ্কজুড়ে একটা অতিকায় এরোপ্লেন ক্রমশ নেমে 
    আসতে আসতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলে যায়
    দীর্ঘ ও জমাট ছায়ার ভেতর।
     
    ১৯
     
    জানুয়ারীর রাতে যেসব দুঃখিত গোয়েন্দারা 
    সস্তা বারে বসে একা একা মদ খায় এবং তারপর
    অদ্ভুত গলিগুলো ধরে অদ্ভুত এলাকাগুলোয় চলে যায়,
    তাদের লাশ খুঁজে পাওয়া যায়না বহুদিন, যতক্ষণ না কেউ তা
    আবিষ্কার করছে নম্বরহীন গার্বেজ ট্রাকের ভেতর 
    অথবা সমুদ্র থেকে দূরে কোনো জীর্ণ পরিত্যক্ত 
    বাড়ির ব্যাকইয়ার্ডে, যেখানে উইস্টারিয়া লতা 
    ঢেকে দিয়েছে তাদের সন্দেহপ্রবণ মগজ।
    অন্ধকার রক্ত তাদের শরীরের গায়ে একটা চ্যাটচ্যাটে 
    সসের মতো লেপ্টে গ্যাছে: সাহসী গোয়েন্দা, জানুয়ারীর বরফ 
    তোমার কাদামাখা বুটজুতোর ওপর গলে আসছে।
    করুণ এবং বিভক্ত স্বপ্নগুলো, একটি বাচ্চা মেয়ের স্মৃতি (যে 
    হয়তো তোমার নিজেরই মেয়ে), একটি গান (মিনিয়াপোলিসের 
    এক বেশ্যার ক্রিসমাস কার্ড) — এসব দূরবর্তী ড্রয়ারে রেখে 
    কোনো টানেলের কেন্দ্রের দিকে তুমি রওনা হয়েছ।
    একটা পায়রা-টানেল, যার আলোময় ওপ্রান্তে তোমার জন্যে
    অপেক্ষা করে আছে আরেকটি নৃশংস মৃত্যু।
     
    ২০
     
    পলমল স্ট্রীটে কখনও সঙ্গীত থামেনা;
    এবং সঙ্গীত বলতে আমি সনাতন ঘরানার কথাই বলছি,
    জ্যাজ বা রক 'এন রোল নয়।
    ওখানে একটা সেলুন আছে, যার মালিক একজন অপদার্থ
    শয়তান: এটা আমার কথা নয়, লোকটার বউয়ের সঙ্গে
    আধঘন্টা আড্ডা মারলেই ব্যাপারটা জানা যাবে।
    তো জানতে পারি, পলমল স্ট্রীটের সেই অপদার্থ শয়তান 
    একজন সঙ্গীতের সমঝদার।
    পলমল স্ট্রীটের গাড়িগুলো, ট্রাফিক পুলিশ এবং অনামা
    পথচারীগণ, যারা ক্রমাগত পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খায় 
    ক্যানভর্তি গ্যাসের অণুগুলোর মতো এবং পরক্ষণেই 
    ক্যাপ্টেন হ্যাডকের মতন তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে, 
    এরা সকলেই সঙ্গীতের গভীর সমঝদার।
    স্বপ্নের টেলিভিশনে পলমল স্ট্রীট আমন্ত্রণ জানাচ্ছে 
    সৌরজগতের সমস্ত সুরে-বিভোর এবং বোতামের ঘর 
    গুলিয়ে ফেলা লোকেদের।
     
    ২১
     
    আওয়াজহীন ডিজনি ফিল্মের মতো
    অন্টারিও লেকের ওপর বৃষ্টি পড়ছে, বৃষ্টি আর 
    আগুনের শব্দ এই ছোটো জায়গাটায়;
    একটি আত্মা নীরবে ফায়ারপ্লেসে কাঠগুলো ঠেলে দিচ্ছে 
    একটা বাঁকানো শিকের সাহায্যে।
    কেউ কেউ বলে, মৃত্যুর আগে এখানে আসা 
    একটা মূর্খামি, এটা এমন একটা জায়গা, যেখানে 
    আধুনিক শিল্পকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
    রেমব্রান্টের কপিগুলো, জমানো কাঠ আর পুরু কার্পেট 
    এই জায়গাটাকে স্থান এবং কাল-নির্দেশক সমীকরণগুলি 
    থেকে আলাদা করে রেখেছে।
    কেবলমাত্র জানলাগুলো স্ক্রিনের মতো ধরে রেখেছে
    অন্টারিও লেকে বৃষ্টিপাতের দৃশ্য, আর কয়েকটি রাজহাঁস।     
    আজকের তারিখ ২৩শে অক্টোবর: নাথিং টু রিপোর্ট। 
    ওভার অ্যান্ড আউট।
     
    ২২
     
    অবিশ্বাস্য শহরগুলি, তাদের কৃত্রিম উদ্যান ও ফোয়ারা
    সমেত আমাদের ভেতর ছায়া ফ্যালে; প্রকাণ্ড বড়ো ও
    ছোটো সদৃশকোণী ত্রিভূজের ছায়া, চৌখুপি-কাটা
    বাস্তবতা আমাদের দেয়ালে ও মেঝেয়: দূরের শহরগুলিকে
    যেন জানলার বাইরে তাকালেই দেখতে পাবো,
    এভাবে লক্ষ্য করি টেবিলে রাখা কৃত্রিম আপেলসমূহ।
    তবে কি এভাবেই বিষণ্ণতা একটা ব্যাসার্ধ কমতে থাকা
    বৃত্তের মতো আষ্টেপিষ্টে আমাদের স্মৃতিকে বেঁধে ফেলবে?
    ভোরের অতিকায় টেসারেক্ট হয়তো দখল করে নেবে
    আমাদের ঘরবাড়ি, শুধু দরজার বাইরে একটি বেড়াল 
    কাঁচের বোতল ভেঙে গড়ানো দুধ চেটে চেটে খাবে।
     
    ২৩
     
    প্রতি ঘন্টায় ষাট মাইল বেগে চলন্ত কোনো গাড়ীর
    জানলা থেকে দেখা অস্পষ্ট অপসৃয়মান একটি মুখ,
    যা প্রায় ক্যামেরার কারসাজিতে তোলা ভূতের ছবির মতো
    আবছা, অথচ স্মৃতির চেন রিয়্যাকশন শুরু করার জন্যে 
    এটুকুই যথেষ্ট ছিল; জীবনের কেন এবং কীভাবে সংক্রান্ত
    প্রশ্নগুলি লোহায় মরচে পড়ার মতো 
    একটি ধীর বিক্রিয়ার ফলে গুরুতর হয়ে উঠতে থাকে।
    এমন তো নয়, যে, এসব কিছুই আগে ঘটেনি: যা
    ঘটেছে এবং ঘটতে পারত তা খতিয়ে দেখবার পরেও
    বোঝা গেল শূন্য থেকেই শুরু করে সময়ের দাগহীন 
    স্মৃতিগুলি ছুটে যাচ্ছে ফোকাসের বাইরে, যেন দ্রুতগামী 
    গাড়ীর জানলা থেকে দ্যাখা, লম্বা রডের মতো সর্পিল,
    শহরের রঙবেরঙের আলো।
     
    ২৪
     
    জলপ্রপাতের নূন্যতম দূরত্বে দাঁড়ালে মৃত্যুর যে টান
    অনুভব করা যায়, সেটা খুব জটিল নয়, বরং উপভোগ্য,
    অনেক উচ্চতা থেকে নীচে তাকানোর মতো।
    উঁচু টাওয়ারে ক্রিসমাসের রাতে আমি দেখেছি 
    স্যুটপরা উচ্ছ্বল লোকেদের, অন্যসময় যারা 
    অচেনা শহরতলিতে বিজনেস ডিল সেরে শস্তা 
    হোটেলে রাত কাটায় এবং সিগারেট টানতে টানতে 
    মৃত্যুর কথা ভাবে। একজন হোমলেসকে আমি চিনতাম 
    যে ভাবত ক্রিসমাসের রাতে সরকারের পক্ষ থেকে 
    ভিনগ্রহীদের গোপনে এক জেল থেকে অন্য জেলে 
    স্থানান্তরিত করা হয়; মৃত্যু, তার কাছে, সবসময়ই 
    জেল-পালানো ভিনগ্রহীদের আক্রমণে ঘটা একটি দুর্ঘটনা। 
    ক্লাউনের মুখোশপরা ভিনগ্রহীরা, স্বপ্নে দেখি, 
    ক্রিসমাসের শহরে আলোগুলো খেয়ে ফেলছে
    আর নীল অন্ধকার: আয়নায় কিছু বীভৎস খুনের দৃশ্য। 
     
    [অধিকাংশই অপরজন ও বাক্‌ পত্রিকায় পূর্বে প্রকাশিত]
  • বিভাগ : অন্যান্য | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৩১৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ্লব রহমান | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:০৭497902
  • মেশিন দানবের স্বপ্ন যৌনতা রাত ও শহরের দৃশ্যপট কর্পোরেট ধাঁচের। পড়তে পড়তে কেমন যেন ঘোর লেগে যায়। অনবদ্য সৃষ্টি। 
    ব্রাভো সায়ন্তন 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে প্রতিক্রিয়া দিন