• খেরোর খাতা

  •  ব্যর্থ প্রেমের করুণ কড়চা 

    Prodosh Bhattacharya লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৯ জুন ২০২১ | ১০৫ বার পঠিত | ১ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • পুরুষ

    “ওঃ, সে কি হিউমিলিয়েশান, প্রদোষ! এতদিন ধ’রে মেয়েটিকে লাইন মারলাম – সুগন্ধী কার্ড, ভ্যালেন্টাইন ডেতে লাল গোলাপ, চকোলেট, তারপর দামী জুয়েলারি অবধি!”

    বক্তা দীর্ঘদেহী ডেনমার্ক-নিবাসী পিটার সাইডারম্যান – পদবীর কল্যাণে সারা কলেজে যার পরিচয় ‘স্পাইডারম্যান’!

    “তো কি হ’লো শেষ অবধি?”

    “ওফ্! অবশেষে একদিন তার ঘরে ডাক পেলাম! বুকটা ফুলে উঠলো, ভাবলাম এতদিনে কিউপিড মুখ তুলে চাইলেন বুঝি!”

    “তারপর?”

    “ঘরে ঢুকে দেখি, সে আর অপর একটি মেয়ে পাশাপাশি ব’সে!”

    “সে কি? একজনকে ধাওয়া ক’রে দু’জনকে পেলে নাকি হে!? বাপ! এরে কয় ভাগ্য!

    “আরে, দুত্তোর! সে অপরজনকে দেখিয়ে বলল, ‘শোনো বাপু, আমরা একে অপরকে ভালোবাসি! তোমার দেওয়া ফুলগুলো এতদিনে শুকিয়ে গেছে, তবে এই নাও কার্ড, গয়না, আর চকোলেটগুলো। নিজেই খেও, বা অন্য কোন মেয়ে যদি তোমায় ভালোবাসে, তাকে দিও!”

    “বাপ রে! এ তো দারুণ ব্যাপার হে! হা হা! আর কি দারুণ সৎ মেয়ে – গয়নাগুলো ফেরৎ দিয়েছে। আর সংযম তো অবিশ্বাস্য! চকোলেটগুলো অবধি খায় নি!”

    “হাসছো? একটা পুরুষ হয়ে আমার অপমানটা বুঝছো না?”

    “মানে?”

    “একটা ছেলের কাছে যদি হারতাম, মেনে নিতাম। এমন হ’তেই পারে। কিন্তু শেষে কিনা একটা মেয়ের কাছে ...। ইসসস! পুরুষজন্মই ব্যর্থ হ’য়ে গেলো!”

    নারী

    কলকাতার কোন এক নার্সিং হোমের একটি কেবিন। বিছানায় শায়িত এক তরুণীচোখে জল, মাঝে-মাঝেই ফুঁপিয়ে উঠছে। শয্যার পাশে উদভ্রান্ত বাবা, অনর্গল বকে চলেছেনঃ “ এ কী করতে গিয়েছিলি মা! নিজেকে ঘুমের বড়ি গিলে শেষ করতে চাইলি! আমাদের কথা একটুও ভাবলিনা!”

    “বেঁচে কি হ’বে বাবা? মেয়ে হিসেবে সমাজে মুখ দেখাবো কি ক’রে?”

    “তুই একবার ছেলেটার নাম বল, তারপর দেখ আমি কি করি!”

    “একটা নয় বাবা দু-দুটো!”

    “অ্যাঁ! দুটো জানোয়ার মিলে তোকে ...”

    “উফফফ! বাবা! তুমি বুঝছো না! প্রথমে আমার ভালো লেগেছিলো চণ্ডু, মানে চণ্ডরবকে! সে তো পাত্তাই দিলো না! তখন টার্গেট করলাম স্যামি, মানে শ্যামাকান্তকে! তারপর ... তারপর একদিন ...”

    “বল্, বল্ মা! তারপর ওই দুটোতে মিলে একদিন তোকে – ”

    “ধ্যাত্তেরি! আমাকে নয়, একে অপরকে!”

    “ম্ মানে? ঠিক কি -?”

    “আরে, সেদিন দেখি থামের আড়ালে দুটোতে জড়াজড়ি ক’রে চুমু খাচ্ছে! বাবা! দু-দুটো ছেলেকে পছন্দ করলাম, আর সে দুটো নাকি আমার চেয়ে একে অপরকে বেশী চায়!!!!”

    এই ব্রাহ্মমুহূর্তে ডাক্তারের প্রবেশ। মুখ লাল! বাবার কাঁধে হাত রেখে প্রশ্ন, “মেয়ে কি খেয়েছে বলছিলেন?”

    “ঘু-ঘুমের ওষুধ।” বাবা তোতলাতে আরম্ভ করেছেন।

    ডাক্তারবাবু হঠাৎ পেট চেপে ধ’রে হাসতে শুরু করেন। লাল মুখের কারণ এবার পরিস্কার।

    “আজ্ঞে না! পেট পাম্প করে যা বেরিয়েছে তা হ’লো গোটা দশেক গর্ভ-নিরোধক বড়ি। বোধহয় আপনার গিন্নীর!”

    বাবা কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ। তারপর ডাক্তারকে জাপটে ধ’রে প্রশ্নঃ “আচ্ছা, ওগুলো তো হরমোনের ওষুধ! আমার মেয়ের কি তাহ’লে দাড়ি গজা’বে?”

    শেষ প্রশ্ন

    অপর পক্ষের ভিন্ন যৌনতার জন্যে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হ’লে সেখানে লিঙ্গ-অহমিকায় আঘাত পাবার কোন যুক্তিগ্রাহ্য কারণ আছে কি? সেখানে তো প্রেমিকের কোনই খামতি নেই!

     

    পুনশ্চ

    দুটি ঘটনাই সত্য। শুধু দ্বিতীয়টিতে একটি ইংরেজি হাসির ছবি থেকে মেয়েটির ঘুমের বড়ি মনে ক’রে গর্ভ-নিরোধক ‘পিল’ খাওয়া এবং ডাক্তারকে তার বাবার মারাত্মক প্রশ্নটা যোগ করেছি।

  • ১৯ জুন ২০২১ | ১০৫ বার পঠিত | ১ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল প্রতিক্রিয়া দিন