• খেরোর খাতা

  •  মাস্ক ব্যবহারের নিয়মাবলী

    Somnath Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৪ এপ্রিল ২০২১ | ৩৭৮ বার পঠিত
  • করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরম। গেলবারের মতন এইবছর বাড়িতে আটকে থাকার পরিস্থিতি নয়। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন তা পুনর্মূল্যায়ণের দরকার মনে করছেন নিশ্চয়ই। বিশেষতঃ চারদিক থেকে মাস্ক পরা নিয়ে এত সতর্কবার্তা আসছে, তাই আসুন, আমরা আরেকবার দেখে নিই- কী পরবেন, কেন পরবেন, কীভাবে পরবেন?

    N95 নামক মাস্কটি দামে ভারী, নাকের ওপর আরও ভারী হয়ে চেপে বসে। হাঁপ ধরে, চশমা ঝাপসা হয়ে যায়। তাই, আমরা সস্তা ও হালকা মাস্ক, যেমন সার্জিকাল কিম্বা কাপড়ের এক দুই পরতের মাস্ক নিয়ে আলোচনা করব।

    মনে রাখবেন, সামান্য শারীরিক আরামের ব্যাঘাত ঘটলেও মাস্ক কিন্তু পরতে হবে। আমাদের সরকার বাহাদুর আর কোনও পদক্ষেপ নেন না ছাই, মাস্ক না দেখলে এখানে ওখানে দুচারজনকে জেল জরিমানা করছেন। সেই বিপদে খবরদার পড়বেন না। এই পরিস্থিতিতে পুলিস টুলিসের সঙ্গে বেশি মাখামাখি করলে সংক্রমণের ভয় বেশি। তাছাড়া কিছুকিছু জায়গায় মাস্ক না পরলে ঢুকতে দিচ্ছে না। বাড়ির থেকে বেরনোর সময় হুড়ো খাবেন মাস্ক না পরলে, রাস্তাঘাটে দুচারজন টেরা চোখে তাকাবেন। তাই দায়িত্বশীলে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে আপনাকে মাস্ক পরতেই হবে।

    করোনা তিনভাবে ছড়ায় আমরা জানিঃ বায়ুবাহিত, জলকণা-শ্লেষ্মাবিন্দু বাহিত আর উপরিতল থেকে। মাস্ক ব্যবহারের সময় এই তিনটেই মাথায় রাখতে হবে। এর সঙ্গে আরও কটি জিনিস কিন্তু খেয়ালে না রাখলে চলবে না। আপনাকে জল-বিড়ি-চা-বিস্কুট ইত্যাদি খেতে মাঝেমাঝে মাস্ক থেকে মুখ সরাতে হবে। তেমনি যা গরম পড়ছে, মাঝে মাঝেই মাস্ক নামিয়ে হাওয়া নেওয়ার দরকার হবে। বিশেষতঃ লোকজন কাছে নেই যখন, তখন এইগুলো করে নেওয়া উচিৎ। যাতে জনসমাগমের সময় হাঁপিয়ে উঠে মাস্ক খুলে ফেলছেন এই অবস্থা না হয়। এইবার করোনা যেহেতু উপরিতল থেকে ছড়ায়, হাতে করোনা লেগে গেল আর আপনি সেই হাত মুখের কাছে নিয়ে গেলেন, এই পরিস্থিতি চূড়ান্ত বিপজ্জনক, তাই মাস্ক খুলবার সময় যথেষ্ট সতর্কতা নেওয়া উচিৎ। সুতরাং মাস্ক পরবার সময় এমনভাবে পরতে হবে, যে বারম্বার খোলার সময় গালে মুখে হাত লাগবে না।

    এত কিছুর পরও আমরা জানতে পারি, N95, যাকে আমরা দাম ও অস্বস্তির জন্য আগেই বাতিল করে দিয়েছি, ব্যতীত কোনও মাস্কই নাকি আমাদের যথাযথ সুরক্ষা দেয় না। বরং আমরা যদি অসুস্থ হই, আমাদের থেকে অন্যের যাতে না ছড়ায়, সেইটাতে বেশি নজর দেয়। তাই মাস্ক পরে থাকার সময়ও আপনার খুব কাছে যদি কেউ এসে পড়ে, সেইটা বিপদের হতে পারি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। কিন্তু, রাস্তাঘাটে বেরলে লোকের সঙ্গে কথা বলতেই হয়। চারপাশের বিভিন্ন আওয়াজে সব কথা সহজে স্পষ্ট শোনা যায় না। খেয়াল করে দেখবেন, আমরা অন্যের কথা যতটা শুনে বুঝি, প্রায় ততটাই বুঝি ঠোঁটের নড়াচড়া দেখে। এইজন্য, দেখেছেন, মাস্ক পরে কথা বলছেন, সামনের লোক অ্যাঁ অ্যাঁ করে যাচ্ছে প্রায়ই হয়। এর বিপদ হচ্ছে, সে আপনার কথা শুনতে আপনার গায়ের ওপর এসে পড়তে পারে। সামাজিক দূরত্ব বিঘ্নিত হতে পারে। তার মাস্ক না থাকলে, বা সস্তার মাস্ক থাকলে আপনার বিপদ বাড়তে পারে। তাই, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হল, কথা বলার সময় খেয়াল রাখা যে মাস্ক খুলে কথা বলছেন। যার ফলে শ্রোতা, সামাজিক দূরত্বে থেকে আপনার কথা শুনতে পারেন।

    এই সব পয়েন্ট মিলিয়ে, আমরা দেখছি মাস্ক পরা যত গুরুত্বপূর্ণ,মাস্ক খোলা তার ত্থেকে কম নয়। সুতরাং এমনভাবে মাস্ক পরুন যাতে তা খুলতে সুবিধে হয়। অথবা এমনভাবে মাস্ক খুলুন যাতে তা পরতে সুবিধে হয়। আর, মাথায় রাখুন যে হাত থেকে গালে মুখে করোনা লেগে যেতে পারে, তাই খোলা ও বন্ধের সময় ন্যূনতম হাতের স্পর্শে কাজ চালাতে হবে। হাতসাফাইয়ের মতন কঠিন এই খেলায়, বিভিন্ন মাস্ক ও বিভিন্ন মানুষের উপর সার্ভে চালিয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, মাস্ক মুখ থেকে একেবারে খুলে ফেলা একদম কাজের কথা নয়। ভিড়, পুলিশ, পরিচিত লোকের সামনে যখন তা পরার দরকার হবে, তখন অনেকখানি স্পর্শ ও সময় চলে যাবে, যা একদমই অকার্যকরী। বরং যেটা দরকারি, তা হল মাস্ক খোলা ও পরার সময় মুখের অন্যত্র হাত না দিয়ে শুধুমাত্র মাস্কের দড়ি ধরে সেটা করতে পারা। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে খেয়াল রাখতে হবে যে দড়িটি, যা আপনি আঙুল দিয়ে বারবার ধরছেন, যেন গালে এঁটে না বসে।

    সেই জন্য মাস্ক এমনভাবে বেশির ভাগ সময়ে পরতে হবে, যাতে তার দড়ি ধরে আপনি তাকে মুখের সামনে আনতে পারেন, কিন্তু দড়ি গালে এঁটে না থাকে। সেটি কেবলমাত্র তখনই সম্ভব, যখন দুইকানে বাঁধা দড়িটি আরেকটি দৃঢ়বিন্দুতে টান হয়ে আটকে থাকে। সেটা নাক হলে হবে না, কারণ নাকের কাছে দড়ি বা আঙুলের স্পর্শ হলে তা থেকেও সংক্রমণের সম্ভাবনা। বিবর্তনের প্রক্রিয়া আপনার মুখমন্ডলে আরেকটি দৃঢ়, হাল্কা ছুঁচলো বিন্দু দিয়েছে, যা আপনার থুতনি, তাকে ব্যবহার করুন। থুতনিতে মাস্ক পরুন। এতে বেশিরভাগ সময়, যখন সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের মতন, আপনি খোলা হাওয়ায় বাঁচতে পারবেন, আবার প্রয়োজনের সময় অতিরিক্ত স্পর্শ বাদ দিয়েই নাক মুখ ঢেকে নিতে পারবেন।

    করোনার দিনগুলিতে সুরক্ষিত থাকুন। থুতনিতে মাস্ক পরুন।
  • বিভাগ : অন্যান্য | ২৪ এপ্রিল ২০২১ | ৩৭৮ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • . | 203.110.242.23 | ২৪ এপ্রিল ২০২১ ১০:১৬105094
  • জনস্বার্থে 

  • dc | 122.174.186.214 | ২৪ এপ্রিল ২০২১ ১০:৫৩105098
  • হ্যাঁ থুতনিতে মাস্ক পরাটাই সবচেয়ে সেফ। 

  • santoshbanerjee | 103.76.82.216 | ২৫ এপ্রিল ২০২১ ২০:৫৩105176
  • এক রাজনৈতিক অতি বিচক্ষণ বন্ধু আমার কথা বলতে বলতে এমন উত্তেজিত হলেন যে মাস্ক খুলে বললেন """এবার বিজেপি আসবেই খুব ভালো হবে বুঝলেন ।...ওই মু ।....গুলোকে তাড়াতে হবে ইত্যাদি """"!!তখন কি কর্তব্য বলুন তো ??

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় প্রতিক্রিয়া দিন