• খেরোর খাতা

  • মৈত্রেয়ী দেবী স্মরণে 

    Lipikaa Ghosh লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৮ অক্টোবর ২০২০ | ৪৫৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • উচ্চ মাধ্যমিকের পর, স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হয়েই হস্টেলে বসে বইটি (ন হন্যতে) হাতে পেয়েছিলাম। মৈত্রেয়ী দেবীর সঙ্গে সেই প্রথম পরিচয়। পরে উত্তর চব্বিশ পরগনার বাদুর কাছে শিক্ষকতা করতে গিয়ে তাঁর নিজে হাতে গড়া “খেলাঘর” দেখলাম। মৈত্রেয়ী দেবীর সঙ্গে সাক্ষাত না হলেও তাঁর নামে এখনও মনে শিহরণ জাগে। এই শিহরণ সেই “ন হন্যতে” থেকে। গল্পটি হাতে পেয়েই নামের অর্থ জানতে ইচ্ছা হয়েছিল। জানলাম “ন হন্যতে” এর সঙ্গে আরও অনেক গুলি শব্দ জড়িয়ে আছে। “গীতা” য় সংস্কৃততে আত্মা সম্পর্কে এক জায়গায় বলা আছে - “অজো নিত্যঃ শাশ্বত হয়ং পুরাণো ন হন্যতে হন্য মানে শরীরে।” অর্থাৎ, আত্মার জন্ম নেই, নিত্য শাশ্বত পুরাতন, শরীরকে হত্যা করা গেলেও আত্মাকে হত্যা করা যায় না, আত্মা অবিনশ্বর। আর শুধু “ন হন্যতে” শব্দের অর্থ হল - যাকে হত্যা করা যায় না।

    তবে আধ্যাত্মিকতা তাঁর গল্পের বিষয় বস্তু নয়। বিষয় বস্তু হল তাঁর কিশোর বয়সের প্রেম-কাহিনী যা তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিকোন থেকে বর্ণনা করা। এই প্রেম জাতি ধর্ম বর্ণ ও মৃত্যুকেও ছাপিয়ে গেছে। মির্চা নামের এক রোমানিয়ান তরুণের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা বলেছেন। মির্চা তাঁদের ভবানীপুরের বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হয়ে এসেছিল। মৈত্রেয়ী দেবী তখন চোদ্দ বছরের কিশোরী।তরুণ মির্চাকে বাংলা শেখানোর দায়িত্ব ছিল তাঁর। আর মির্চার কাছে ফরাসি শিখতেন তিনি। এভাবেই দুজন দুজনের কাছে আসেন, ভালোবাসেন। মির্চা মৈত্রেয়ী দেবীকে বিয়েও করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রক্ষণশীল হিন্দু পিতা খ্রিস্টান ধর্মের মির্চার সঙ্গে বিয়ে দিতে অসম্মত হয়েছিলেন। মির্চা চিরদিনের জন্য তাঁদের বাড়ি থেকে বিতাড়িত হন। এরপর কিশোরী মৈত্রেয়ী দেবী ভেঙে পড়েন। তবে রবীন্দ্রনাথের অসীম স্নেহে মৈত্রেয়ী দেবী আবার মন শক্ত করে সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেন। মির্চা রোমানিয়ান ভাষায় একটি উপন্যাস লেখেন “মৈত্রেয়ী” নামে। পরে ফরাসী ভাষায় অনুবাদ করা হয় “লা নুইয়ে বেঙ্গলী” নামে। “লা নুইয়ে বেঙ্গলী” শব্দের অর্থ “বাংলার রাত্রিটি”। এই উপন্যাসটি বিদেশে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। এই উপন্যাসটি মির্চা তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লিখেছিলেন। কিন্তু মৈত্রেয়ী দেবী মনে করেছিলেন ঐ উপন্যাসটিতে কিছু ভুল তথ্য আছে। সেই কারনে মৈত্রেয়ী দেবী তার জবাব হিসাবে তাঁর উপন্যাসটি লেখেন। উপন্যাসটি ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। “ন হন্যতে” উপন্যাসটিকে ইংরেজিতে “ইট ডাস নট ডাই” নামে অনুবাদ করা হয়। এই গ্রন্থে শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম কাহিনীই বর্ণিত হয়নি, প্রেমের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নিজস্ব জীবন বোধ ইংরেজ শাসিত বাংলার সামজচিত্র, রবিঠাকুর ও শান্তিনিকেতনের অনেক অজানা কথা ও স্হান পেয়েছে।

    মৈত্রেয়ী দেবী ১৯১৪ খ্রিঃ-এ পয়লা সেপ্টেম্বর তত্কালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত একাধারে দার্শনিক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক ছিলেন। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম, রাজশাহী সহ বেশ কিছু কলেজে অধ্যাপনা করেন। সুরেন্দ্রনাথ ও হিমানী মাধুরী দেবীর প্রথম সন্তান ছিলেন মৈত্রেয়ী দেবী। তাঁর শৈশব কেটেছিল বরিশাল জেলার আগৈলাঝরার গৈলা গ্রামে। পরে তাঁরা কলকাতায় ভবানীপুরের বাড়িতে চলে আসেন। তাঁর পিতা সংস্কৃত ও প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনাও করেন। মৈত্রেয়ী দেবী কলকাতায় যোগমায়া দেবী কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতক হন (১৯৩৬)। এর আগেই অবশ্য তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মনোমোহন সেনের সঙ্গে, যিনি সে যুগের একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ছিলেন। তাঁর স্বামী ম্যালেরিয়া-প্রতিরোধক ভেষজ সিনকোনা নিয়ে গবেষণা করতেন। মংপু তে সিনকোনা ফ্যাকটরির ম্যানেজার ছিলেন। মংপুতেও রবীন্দ্রনাথ বেশ কয়েকবার এসেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে মৈত্রেয়ী দেবীর সম্পর্ক ছিল আন্তরিকতায় ভরা। পিতার বিশেষ পরিচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ক্রমে মৈত্রেয়ী দেবীরও গুরুদেব হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর জীবনের সকল অবসাদ কাটিয়ে উঠতে তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বিশেষ করে মির্চা দেশ ছেড়ে চলে যাবার পর মৈত্রেয়ী দেবী মানসিক ভাবে ভেঙে পড়লে রবীন্দ্রনাথই তাঁকে জীবনের সঠিক পথ দেখান। সাহিত্য চর্চা করতে বলেন।

    কবিগুরুর নির্দেশে তাঁর সাহিত্য জীবনে যাত্রা শুরু হল মাত্র ষোল বছর বয়সে। প্রথম কাব্যগ্রন্থ উদিত (১৯৩০)। এই গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং। বিবাহের পর মংপু থাকাকালীন মৈত্রেয়ী দেবীর আমন্ত্রণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেখানে গেলে তাঁর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের আলাপচারিতা নিয়ে একটি গ্রন্থ লেখেন “মংপু তে রবীন্দ্রনাথ” নামে। এই গ্রন্থটি ইংরাজিতে অনুবাদ করা হয় “টেগর বাই ফায়ার সাইড” নামে। এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আরও কতগুলো গ্রন্থ রচনা করেন। সেগুলি হল - স্বর্গের কাছাকাছি, কবি সার্বভৌম, রবীন্দ্রনাথ গৃহে ও বিশ্বে, রবীন্দ্রনাথ: দি ম্যান বিহাইন্ড হিজ পোয়েট্রি, বিশ্ব সভায় রবীন্দ্রনাথ। ১৯৬১ খ্রিঃ রবীন্দ্র শতবার্ষিকীতে আমন্ত্রিত হয়ে মৈত্রেয়ী দেবী হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন,
    ইউরোপ ও আমেরিকাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপর ভাষন দেন। তিনি সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি সমাজ সেবামূলক কাজে যোগ দেন। ১৯৬৪ খ্রিঃ-এ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধলে “কাউন্সিল ফর প্রমোশন কমিউনাল হারমনি স্থাপন করেন”।

    ১৯৭১ খ্রি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের শরণার্থীদের অনাথ শিশুদের জন্য উত্তর চব্বিশ পরগনার বাদুতে একটি অনাথ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। নাম দেন “খেলাঘর”। এখানে প্রায় নয় বিঘা জমির ওপর কৃষিকাজ, মৎস্য চাষ, মৌ চাষ, পশু পালনের ব্যবস্থা করেন। এত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি অনেক গুলি গল্প ও ভ্রমণ কাহিনী লিখেছিলেন। গল্পগুলি হল - বিধি ও বিধাতা, এত রক্ত কেন, ঋক বেদের দেবতা ও মানুষ, হিরণ্ময় পাখি, আদিত্য মারিচ। তাঁর ভ্রমণকাহিনীগুলি হল - অচেনা চিন, চিনে ও জাপানে, মহাসোভিয়েত। তবে যে সাহিত্য সৃষ্টি তাঁকে অমর করে রেখেছে, তা হল তাঁর আত্মজীবনী মূলক উপন্যাস “ন হন্যতে”। তিনি ১৯৭৬ খ্রিঃএ এই উপন্যাসের জন্য আকাডেমি পুরস্কার পান। বাংলা সাহিত্যে সারা জীবনের অবদানের জন্য পরের বছর পদ্মশ্রী পুরস্কার পান। তিনি ১৯৯০ খ্রিঃ ৪ ফেব্রুয়ারী কলকাতায় মৃত্যু বরণ করেন। আমৃত্যু আঁকড়ে থাকা সেই “খেলাঘরে” আজও তাঁর স্মৃতি সঞ্চিত আছে। আর পাঠকের বুকে স্মৃতি হয়ে আছে তাঁর “ন হন্যতে”। যেখানে তিনি ভালোবাসা এবং সত্যের অমরত্বের কথা বলেছেন। বলেছেন, প্রকৃত ভালোবাসা শরীরে নয় আত্মার সঙ্গে মিশে অমরত্ব লাভ করে।

    ********************

     

  • আরও পড়ুন
    বার্ড - Sambaran Sarkar
    আরও পড়ুন
    জিগীষা - Tanima Hazra
  • বিভাগ : অন্যান্য | ২৮ অক্টোবর ২০২০ | ৪৫৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন