এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কপালের নাম গোপাল

    manidipa senguptagoswami লেখকের গ্রাহক হোন
    ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১১০৪ বার পঠিত
  • এমনিই দোকান বন্ধ থাকবে। যদিও ওইদিন মালিকের বাড়ি নিমন্ত্রণ থাকে, কিন্তু এবার আর যাবেন না বলেই ভেবে রেখেছেন। ফলে এই হাতে পড়ে পাওয়া চারদিনের ছুটির খবরে তার মনে বিজ্ঞাপনের মতো লাড্ডু ফুটতে শুরু করলো। বাকি দুইজনও তথৈবচ। তিনজনে ছুটির পর ছিলেছেঁড়া ধনুকের মতো যার যার বাড়ির দিকে দৌড় লাগালেন। বীরেনবাবু ট্রেন, বাসের ভীড় ঠেলে, গড়িয়ায় নেমে আনন্দের চোটে বাজার থেকে সাহস করে মোটামুটি ভালো দাম দিয়ে একখান ইলিশ মাছ বগলদাবা করলেন। কাল গিন্নিকে বেশ জম্পেশ করে ইলিশ ভাপে রাঁধতে বলবেন। বড় ভালো রাঁধেন তার গিন্নি। মনে মনে ধোঁয়া ওঠা গরমভাতে সোনালী ইলিশভাপের গন্ধ নিতে নিতে ভাদুরে গরমেও দখিনা বাতাসের আমেজ পেতে লাগলেন বীরেনবাবু। গুনগুন করতে করতে বাড়ির দিকে এগোলেন তিনি। রিকশাস্ট্যান্ডে এসে দেখলেন বাঁশ ফেলে বিশ্বকর্মা পুজোর প্যান্ডেল বাঁধা হয়েছে। ভাবলেন নাহ আজ আর হেঁটে বাড়ি যাবেন না, বেশ মৌজসে রিকশা করেই যাবেন। মোটামুটি সব রিকশাচালক ই তাকে চেনে, কারণ এই মোড়েই তিনি বাস থেকে নামেন, কিন্তু কস্মিনকালেও রিকশা চাপেন না,তাই তারাও তাকে পাত্তা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না। সব ঠ্যাং এর উপর ঠ্যাং তুলে বসে থাকে। তিনি গুটিগুটি স্ট্যান্ডের ভাড়ার বোর্ডটিতে চোখ বুলিয়ে নিজের গন্তব্যস্থলের ভাড়াটি দেখে আশ্বস্ত হয়ে লাইনের প্রথম রিক্সাটির কাছে গিয়ে চড়ার বাসনা প্ৰকাশ করেন। চালকটি বিন্দুমাত্র বা নড়ে আড়চোখে তার দিকে তাকিয়ে বলে 'কোতায় যাবেন'....তিনি গন্তব্যস্থল জানালে সে আকাশপানে মুখ করে বলে 'পচিস'.....বীরেনবাবুর সরস মেজাজ ঘুড়ির সুতোর মতো গোত্তা খেলো, 'কত'? 'পচিস কাকু'....উনি অবাক হয়ে বলেন 'কিন্তু বোর্ডে....,' কথা শেষ করতে পারেন না, রিকশাওয়ালা মাছি তাড়ানোর মতো তার নাকের সামনে দিয়ে হাত ঘুরিয়ে বলে 'আঃ কাকু কোনোদিন তো রিকসা চড়লেন না, তাই নিয়ম কানুনও কিস্যু জানেন না, বুধবার বিসসকম্মা পুজো... তো এ সময় দস টাকা করে বেসি ভাড়া দিতে হয়'...বীরেনবাবু রসগোল্লার রসের মতো মেজাজে ততক্ষণে চিরতার রস মিশতে শুরু করেছে, উনি ইলিশে অনেক খসিয়েছেন, এখন ফালতু দশ টাকা খসাতে আর মন চাইলো না, 'ধুত্তোর' বলে হাঁটা লাগালেন, পিছন থেকে রিকশাওয়ালার তির্যক মন্তব্য কানে এলো 'হাড়কিপটে বুড়ো', ওনার দাঁতে দাঁত ঘষার শব্দে প্রতিক্রিয়া টের পাওয়া গেল।

    বাড়ির কিছুটা দূর থেকে টের পেলেন মোড়ের মাথার রিকশাস্ট্যান্ডেও পুজোর আয়োজন চলছে, এরা আবার এককদম এগিয়ে, প্যান্ডেলের কাজ তো শেষই, মাইকও বাজা শুরু হয়ে গেছে। প্রতিবার চাঁদা নিয়ে ওনার সঙ্গে এদের টালবাহানা চলে। উনি আজ নয় কাল করে রবিবারগুলো কাটিয়ে দেন, নয়তো একশ টাকা চাইলে উনি পাঁচ টাকা থেকে দরাদরি করেন ,এরা ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দেয়। উনি ওদের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে বাড়ির সামনের দরজা ছেড়ে পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকবেন মনস্থ করে যেই ঘুরেছেন পড়বি তো পর একেবারে দুই চ্যাংড়া রিক্সাওয়ালার সামনে। 'আরে দাদু এসে গেছেন, আজ আপনাকে ছাড়ছি না, চাঁদা দিয়েই যেতে হবে, আর দাদু এবার আর অল্প টাকায় হবে নে, পুজোর 15 বচ্ছর হল এবার, সব বাড়ি থেকে বেসি নিচ্ছি,একটু আনন্দ করবো দাদু'.....'ইঃ আনন্দ করবেন,' বীরেনবাবু মনে মনে ভাবেন,'আনন্দ মানে তো বোতল বোতল মদ গেলা আর সারারাত নেত্য করে সকালে ড্রেনে পড়ে থাকা'....এক ঝলকে গতবারের একটা দৃশ্য মনে পড়ে গেলো, কি কারণে সেবার দোকানের মালিকের বাড়ি থেকে ফিরতে বেশ রাত হয়েছিল, বাড়ির সামনে এসে দেখেন এক রিকশাওয়ালা একা একাই মাইকের গানের সঙ্গে নেচে যাচ্ছে, অবশ্য তাকে নাচ বলা যায় কিনা উনি জানেন না, শরীরের ভাঙাচোরা বলা যেতে পারে, গভীর রাতে একবার উঠে দেখেন, তাজ্জব সে ব্যাটা তখনও নেচে চলেছে ....অসীম ক্ষমতা....তো যাই হোক, এদের হাত থেকে তো এখন বাঁচা দরকার,তারপরে দেখা যাবে..উনি বললেন 'বাবারা দেখো সবে ফিরেছি, বড় ক্লান্ত, এখন বাড়ি ঢুকি, কাল আমি নিজে এসে তোমাদের চাঁদা দিয়ে যাবো, ঠিকঠাকই দেবো' 'দ্যাখেন দাদু, কতার দাম যেন থাকে,নইলে সদরে হত্যে দেব কিন্তু'। 'না বাবারা তার কোনো দরকার হবে না' মনে মনে ভাবলেন,বাপরে কাল ভোর ভোর সকলে বেরিয়ে পড়বো, বেয়াই মশাই অনেকদিন যেতে বলেন, কাল সেখানেই সপরিবারে চলে যাবো, ইলিশভাপে ওখানেই গিন্নি রাঁধবেখন....ইলিশ আছে, মিষ্টিও নিতে হবে না,বিনা পয়সায় চারদিন চলে যাবে ,আমসি মেজাজটা আবার ফুরফুরে হতে লাগলো, বুক ফুলিয়ে সামনের দরজা দিয়েই বাড়িতে ঢুকলেন, সিঁড়ির টিমটিমে আলোয় মনে হলো দোতলার আলোটা বেশ জোর হয়েছে, নাঃ কালই বাল্বটা বদলে দেবো,অনেক বিল উঠছে। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে হাঁক পাড়লেন,'কই গো গিন্নি কোথায় গেলে,শোনো শোনো কথা আছে,' গিন্নির বাজখাঁই গলার বদলে একটা মিহিগলা র উত্তর পেলেন, 'ওমা, ও দিদি, ওইতো বেয়াই ঢুকে পড়েছেন, দেখুন তো বেয়াইমশাই , কেমন চমকে দিলুম, চলে এলুম দুদিনের জন্যে, কবে থেকে বলছেন,' বীরেনবাবুর কানে যেন পুজো প্যান্ডেলের মাইকের আওয়াজটা বড় জোরে এসে বাজলো, তিনি টাল খেতে খেতে সিঁড়ির হাতলটা ধরে ফেললেন।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Guruchandali | 136.228.209.53 | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২০:২৮97511
  • যাঁরা খেরোর খাতায় নতুন লেখালিখি করছেন, গুরুচণ্ডা৯-র টেকনিকাল ফীচারগুলো তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা করার জন্য আগামী শনিবার ভারতীয় সময় রাত ৮-১০টা আমরা একটা ওয়েবিনার করছি গুগল মীট-এ। ইচ্ছে আছে আগামী কয়েক সপ্তাহ জুড়ে প্রতি শনিবার ঐ নির্দিষ্ট সময়ে ওয়েবিনার করার। আপনাদের কী কী অসুবিধে হচ্ছে লিখতে বা একটা সামাজিক মাধ্যম হিসেবে গুরুচণ্ডালির পূর্ণ স্দ্ব্যবহার করতে, সেটাও আমরা নোট করব, যাতে এটাকে আরও উন্নত করা যায়, প্রযুক্তিগতভাবে। সম্ভব হলে থাকবেন। শনিবার রাত আটটায় নিচের লিংকে ক্লিক করেই মীটিং এ জয়েন করা যাবে। 


     https://meet.google.com/ydz-ekww-see

  • manidipa senguptagoswami | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২০:৪১97529
  • ধন্যবাদ, নিশ্চয়ই থাকবো

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন