ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  সিনেমা

  • মলয়ের লেখাপত্তর

    মলয় রায়চৌধুরী
    সিনেমা | ০৭ এপ্রিল ২০২০ | ২১৩৪২ বার পঠিত
  • গোদার-এর মাওবাদী পর্ব : একটি সমালোচনা
    [ মাওইস্ট ইনটারন্যাশানালিস্ট মুভমেন্ট পত্রিকার ২৬ জানুয়ারি ২০০৪ সংখ্যায় প্রকাশিত ]

    ‘চীনা, বা বরং, চীনা পদ্ধতিতে: ফিল্ম নির্মাণ’, সাধারণত ‘ল্যা চিনোয়া’ নামে পরিচিত, যা ১৯৬৭ সালের ফরাসি রাজনৈতিক চলচ্চিত্র হিসেবে জাঁ-লুক গোদার পরিচালনা করেছিলেন।
    ১. লা চিনোয়া [ চীনা], পরিচালক জাঁ-লুক গোদার, ১৯৬৭
    ২. লে ভনদে [ পুর্ব দিকের বাতাস ], পরিচালক জাঁ-লুক গোদার, ১৯৬৯
    ৩. তু ভা বিয়ঁ [ সব ঠিক আছে ], পরিচালক জাঁ-লুক গোদার, ১৯৭২

    ২০০৪ সালে এই ফিল্মগুলো দেখে আমরা একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই এবং তা হল গোদার সিরিয়াস ছিলেন কি না । আজ আমরা যখন দেখি পশ্চিমে মাওয়ের ইমেজ অভিনব বিজ্ঞাপনের সাথে মিশে গেছে, তা আসলে মাওকে বিদ্রূপ করার কৌশল এবং তার মাধ্যমে সংস্কৃতিগুলোতে ভোক্তা আবেশের শক্তি প্রদর্শন করা হয়, এমনকি চীন থেকে দূরে থাকলেও। সর্বোপরি, আজ মাওয়ের ইমেজ মূল স্রোতোধারায় ব্যবহারটি বিপরীতমুখী, কারণ এটি চীনে দুর্দান্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের গুরুত্ব পায় আর সবাই জানেন যে মাও একজন কমিউনিস্ট ছিলেন। বিপরীতে, সংস্কৃতি বিপ্লবের (১৯৭৬ সালে) সময় গোদার একজন উন্নত চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসাবে মাওয়ের ইমেজগুলো পুরোপুরি গুরুত্ব সহকারে ব্যবহার করেছিলেন -- এবং এমনকি মাওয়ের জন্য একটা জিংগল তৈরি করেছিলেন। আমরা বলতে পারি যে এই ফিল্মগুলোতে যাথার্থ্য আছে, মাওবাদী রাজনীতি, তত্ত্ব এবং পদ্ধতির বোঝাপড়া আছে।

    ১৯৬৭ সালে "লা চিনোয়া" মুক্তি পেয়েছিল দেখে অবাক হতে হয় । গোদার যে কেবল মাও আর সোভিয়েত সংশোধনবাদী নেতাদের মাঝে ভাঙনকে ধরতে পেরেছেন তা-ই নয়, গোদার সেই ভাঙনকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।তিনি ছিলেন সময়োচিত । "লা চিনোয়া" এবং "উইন্ড ফ্রম দ্য ইস্ট" -এ গোদার সোভিয়েত সংশোধনবাদ, ফরাসী "কমিউনিস্ট পার্টি", সামাজিক-গণতন্ত্র এবং শ্রমিক আমলাতন্ত্রের নিন্দা করেছেন।

    "পূর্ব দিকের বাতাস" ফিল্মে প্রচুর আকর্ষণীয় বিষয় রয়েছে তবে ফিল্মের সবচেয়ে বড়ো অবদান এবং তর্কসাপেক্ষভাবে গোদারের সামগ্রিক অবদানগুলি চলচ্চিত্র নির্মাণ-তত্ত্বের অন্তর্গত কারণ "পূর্ব দিকের বাতাস" এবং "লা চিনোয়া" ফিল্মগুলো সম্পর্কে গোদার জানান যে তিনি ঠিক কোন কারণে মাওবাদীদের বিশ্বাস করেন এবং কেমন করে ফিল্ম তৈরি করা উচিত । গোদার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন তা হল প্রলেতারিয়েত কীভাবে সংগ্রাম করবে এবং ফিল্মের দ্বারা কীভাবে সর্বহারা শ্রেণীর পক্ষে উপকার পাওয়া যায়, যদিও বর্তমানে আমরা যে সমস্ত ফিল্ম দেখি তাতে বেশিরভাগ উপস্থাপনা এবং পদ্ধতিগুলি শাসকদের উপকার করে।

    মাও-যুগের গোদার বলেছিলেন যে, সর্বহারা শ্রেণীর অবস্হা নিয়ে সমাজতাত্ত্বিক চলচ্চিত্রগুলো যদি সংঘর্ষের চিত্রণ বাদ দেয় তবে তারা কার্যকর হয় না।শ্রমিকদের ভয়াবহ অবস্থা প্রকাশের ফলে হতাশা ঘটবে কিন্ত পাশাপাশি কর্মকাণ্ডও ঘটতে পারে, সুতরাং কীভাবে বিদ্রোহ করা যায় তা ফিল্মে দেখানো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    রাজনৈতিকভাবে এই ফিল্মগুলোতে এমন কিছু ব্যাপার আছে যা আমাদের পছন্দ নয়, বিশেষত "তু ভাঁ বিয়ঁ"[ সব ঠিক আছে] ফিল্মটি, যা মূলত একটি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রকে ফরাসী কর্মীদল কর্তৃক অধিগ্রহণ সম্পর্কে । ফ্রান্সে গোদারের সময়ের ঘটনাগুলো আজকের দিনে যেমন, তার তুলনায় সেই সময়ের সাম্রাজ্যবাদী দেশের শ্রমিকদের অবস্হা আরও ঘোলাটে ছিল ।
    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে, ফরাসিদের তাদের অর্থনীতৈক অবস্হা পুনর্গঠন করতে হয়েছিল এবং এমনকি বুদ্ধিজীবীরাও ভেবেছিলেন যে সাম্রাজ্যবাদী ঝোল টানা ভালো, কেননা তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি পৌঁছানোর পক্ষে সহায়ক হওয়া যাবে আর মার্কিন জীবনের মানদণ্ডে পৌঁছোনো যাবে।

    গোদার তাঁর সময়ের অন্যান্য অনেকের মতো ভেবেছিলেন যে তিনি সম্ভবত এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন যেখানে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলিতে ফরাসিদের দেখাদেখি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব আসবে। যদি এটা সত্য হতো যে ফরাসি শ্রমিকরা শোষিত হচ্ছিল, তবে তাদের সম্পর্কে গোদারের দৃষ্টিভঙ্গি মাওবাদী মানদণ্ড দ্বারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক হতো। অন্যান্য বেশিরভাগ ব্যাপারে গোদার সঠিক হলেও এই একটি ব্যাপারে তিনি ভুল ।

    ২০০৪ সালের সুবিধাজনক অবস্হান থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে ১৯৬৮ সালের মে মাসে সংঘর্ষময় ধর্মঘটে বিজয়ের দরুন বেতন অনেক বেড়ে গিয়েছিল এবং মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছিল যা কিনা ফ্রান্সে সাম্রাজ্যবাদী পরজীবিতার হাতকে শক্তিশালী করে তুলেছিল। "তু ভাঁ বিয়ঁ"[ সব ঠিক আছে]-এর মাংস-প্রক্রিয়াকরণ কারখানার মহিলা শ্রমিকের চরিত্র যা বলে তার চেয়ে বেশি কিছু প্রমাণ করার দরকার হয়নি, যে কিনা অলঙ্কৃত উক্তিতে জানায় যে, বস যদি এক ডলার দেয় তবে শ্রমিকরা প্রত্যেকে এক হাজার ডলার চায় -- যেন সেই পারিমাপের মান কোথাও থেকে উড়ে আসে। ফিল্মের শেষে একদল তরুণ একটি সুপার-মার্কেটে "ভাঙচুর" ধরণের গোলমালের আয়োজন করে যেখানে লোকেরা টাকাকড়ি না দিয়ে ঠেলা ভরে-ভরে জিনিসপত্র নিয়ে পালায়।

    অবশ্যই এটি একটি ভাল প্রসঙ্গ যে কেনই বা লোকেরা সুপার মার্কেটের দোকানগুলোকে টাকা দেবে, যখন সমাজ অর্থ যোগাতে পারে না, কিন্তু ফিল্মটির পুরো সুরটি সাম্রাজ্যবাদী দেশের শ্রমিকদের অর্থনৈতিক দাবির দিকে খুব বেশি ঝুঁকে ছিল - সাম্রাজ্যবাদীরা কীভাবে নিজের এবং তাদের দালালদের সুবিধার জন্য তৃতীয় বিশ্বকে শোষণ করে তা দেখানোর পরও গোদার সামাজিক-গণতন্ত্র এবং সংশোধনবাদ থেকে নিজেকে পৃথক রাখতে পেরেছিলেন ।

    ফরাসী শ্রমিকদের প্রতি গোদারের বিশ্বাসকে বাদ দিয়েও, যাদের শোষণ করা হচ্ছে এবং তাদের সমর্থন করার উপযুক্ত কারণ আছে, এই চলচ্চিত্রগুলোর সাথে আমাদের খুব কমই দ্বিমত রয়েছে। একথা বলা একটা কঠিন শর্তের মতো মনে হতে পারে, তবে বাস্তবে, গোদার তাঁর চলচ্চিত্রগুলোয় চিন্তা করার পদ্ধতিগুলো শেখান। "লা চিনোয়া" দর্শকদের বোঝাবার চেষ্টা করে যে তাঁর সময়ে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ কীভাবে বিজ্ঞান ছিল। অতএব অর্থনৈতিক জীবনের তথ্যগুলি পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু সত্যে পৌঁছানোর কয়েকটি প্রাথমিক পদ্ধতি বদলায় না । এই কারণেই আমরা এখনও গোদারের মাওবাদী পর্বকে, ফরাসি শ্রমিকদের প্রকৃতির সাথে তাঁর সঙ্গে আমাদের মতবিরোধ সত্ত্বেও তরতাজা হিসেবে দেখি । ফ্রান্স সম্পূর্ণরূপে একটি পরজীবী জাতিতে পরিণত হয়েছিল, তবে গোদার এই ফিল্মগুলোতে যা বলেছিলেন তার বেশিরভাগ আজও বর্তমান।

    “পূর্ব দিকের বাতাস” ফিল্মে যখন গোদার তত্বনির্মাণকে ফিল্ম প্রোডাকশনের মূল কাজ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, তখন তাঁর সময়ে ফরাসি কর্মীদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি কী তার গুরুত্ব ছিল না। চলচ্চিত্রের প্রধান দায়িত্বের প্রশ্নটি এখনও অবধি অনুত্তরিত রয়ে গেছে। আরও বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে ফরাসি কর্মীদের সম্পর্কে তাঁর ধারণা ভুল ছিল, তবে মূল কাজটি নিয়ে প্রশ্ন এখনও থেকে গেছে।

    প্রধান দায়িত্বের বিষয়ে গোদারের সঙ্গে আমরা একমত নই, কারণ আমরা একে বলি, "জনগণের মতামত সৃষ্টি এবং ক্ষমতা দখলের জন্য নিপীড়িতদের স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান নির্মাণ"। আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে, "লা চিনোয়া"-র চেয়ে "ম্যাট্রিক্স" এর অবদান বেশি । তবে, আমরা যদি গোদারের মাপকাঠিকে গ্রহণ করি তবে বলতে পারি যে "লা চিনোয়া" ফিল্মটা "ম্যাট্রিক্স" এর চেয়ে বড় অবদান রেখেছে, কারণ "লা চিনোয়া" সাংস্কৃতিক বিপ্লবে উৎপন্ন মাওবাদী পদ্ধতি এবং নির্দিষ্ট তত্ত্বগুলিকে সরাসরি সামলায়। বিপরীতে, "ম্যাট্রিক্স" সম্ভবত বাইরের ভারী হস্তক্ষেপ ছাড়া মাওবাদের গুরুত্বর বিবেচনা করতে পারে না। এর মধ্য দিয়ে আমাদের এই প্রশ্নটি উত্থাপনের অর্থ হল যে, এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সর্বহারা শ্রেণি এবং এর সাম্রাজ্যবাদী দেশ বিশেষত মিত্রদের, আসলে কী প্রয়োজন। তত্ব নির্মাণ বা আরও দ্রুত এবং বিস্তৃত আবেদন সহ এমন কোনও কিছুর মধ্যে আমাদের বেছে নিতে হবে। এটিও একটি বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন - মূল কাজটি সম্পর্কে আমরা অথবা গোদার সঠিক কিনা। হয় এক বা অন্য দৃষ্টিভঙ্গি বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করবে।

    কেউ কেউ বলতে পারেন যে এই ফিল্মগুলো উপদেশ দেবার মতো "ডাইডাকটিক", তবে বাস্তবে গোদার দর্শকদের বিভিন্ন শিবিরের পার্থক্য করার চেষ্টা করেছেন: ১) পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদী শিবির ; ২) ব্রেজনেভের সোভিয়েত সহ সামাজিক-গণতান্ত্রিক / সংশোধনবাদী ও শ্রম আমলা শিবির ইউনিয়ন ; ৩) সর্বহারা শিবির। প্রতিটি শিবির এই সিনেমাগুলিতে তার বক্তব্য রাখে এবং গোদার দেখান যে প্রথম দুটি একটি আরেকটির সঙ্গে যুক্ত । মানুষ এই সংঘর্ষগুলোর দিকগুলো আলাদা করতে পারার সময়, গোদার সম্ভবত "ডাইডাকটিক" চলচ্চিত্রটিকে বুর্জোয়া চলচ্চিত্র হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন, সংঘর্ষ ছাড়াই উপস্থাপনা করেছিলেন।

    গোদারের তত্ত্ব নির্মাণের প্রধান কাজটা, দর্শকদের আর অর্থ-বিনিয়োগকারীদের এড়াবার খাতিরে চলচ্চিত্র পরিচালকদের উপর একটি ভারী বোঝা চাপিয়ে দেয়। সম্ভবত তাঁর কাজের অনুরণনটির বেশিরভাগ অংশই "শৈল্পিক বিশ্বস্ততা"র প্রশ্নে মাথা গলানো থেকে উদ্ভূত, এটা এমন একটা প্রশ্ন যা যে-কোনও শৈল্পিক পাতি-বুর্জোয়াকে ক্ষুব্ধ করে । তত্ব নির্মাণের দায়টা গোদারের জনপ্রিয় "আর্টসি" বা "হাই ব্রাউ" ভাবমূর্তির সঙ্গে খাপ খায়।

    ওনার এই ফিল্মগুলোর সাথে আমাদের উপরোক্ত কয়েকটি মতবিরোধ সত্ত্বেও, আমাদের এও বিশ্লেষণ করা উচিত যে গোদারের মাওবাদী পর্বটি সঠিক ছিল কিনা। সোভিয়েত সংশোধনবাদকে বারবার মারাত্মকভাবে আক্রমণ করাটা সোভিয়েত ইউনিয়ন আর ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টির মতন উপগ্রহ দলগুলোর দেউলিয়াপনা প্রমাণ করেছে । কেবলমাত্র সবচেয়ে বিভ্রান্ত রুশপ্রেমীগুলোই বিশ্বাস করত যে খ্রুশ্চেভ / ব্রেজনেভ যুগটি ছিল "সমাজতন্ত্র"।

    "পূর্ব দিকের বাতাস"-এ দেখা যায় ফিল্মটি স্ট্যালিনকে নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করছে। তখনকার দিনে এবং আজকালও একটা জনপ্রিয় চর্চা হল - স্টালিনের কেন্দ্রীভূত অর্থনৈতিক পদ্ধতির বিপরীতে "স্বায়ত্তশাসন"। গোদার "স্বায়ত্তশাসন" আন্দোলনের ইতিহাসে আলোকপাত করে দেখিয়েছেন, কীভাবে তা সর্বহারা শ্রেণিকে অবহেলা করে পাশ কাটিয়েছে।গোদার স্টালিনের সময়কার শিল্পকে দোষারোপ করার সময় স্ট্যালিনের অধীনে সমস্ত শিল্পীদের তার জন্য দায়ি করেছিলেন -- এমনকি তখন থেকে ট্রটস্কির অত্যধিক শৈল্পিক প্রভাব লক্ষ করে ব্রেস্ট-লিটোভস্কের সন্ধি হওয়ার পরেও লেনিনকে খোঁচা দিয়েছেন - “স্বায়ত্বশাসনের” প্রশ্নে গোদার পুরোপুরি স্ট্যালিনের পক্ষ নিয়েছেন এবং টিটোর যুগোস্লাভিয়ায় "স্বায়ত্তশাসন" এর আদর্শগত অভিব্যক্তি প্রদর্শন করেছেন। মাও ১৯৬৩ সালে তাঁর প্রবন্ধে শ্রমিক আভিজাত্য, শ্রমিক আমলাতন্ত্র এবং সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রশ্নগুলিকে একসাথে যুক্ত বলে প্রতিপাদন করে কড়া জবাব দিয়েছিলেন । গোদার সম্ভবত " যুগোস্লাভিয়া কি সমাজতান্ত্রিক দেশ? " প্রবন্ধটা পড়েছিলেন।

    ১৯৬০ এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত প্রতিবিপ্লবীরা মার্কস ও লেনিনের অনুগামীদের মতামতকে সরিয়ে যুগোস্লাভিয়াকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন যাতে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ থেকে পুঁজিবাদে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে এমন লোকদের মাঝ-পথের ঘর হিসাবে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন । যুগোস্লাভিয়া ছিল “স্বায়ত্বশাসিত উদ্যোগের” সঙ্গে "বাজার সমাজতন্ত্র "। লক্ষণীয়ভাবে অনুপস্থিত ছিল মাও বা স্ট্যালিন ধাঁচের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক শক্তি।তবু যখন সোভিয়েত ইউনিয়নে স্ট্যালিনের প্রভাব শেষ হয়ে গিয়েছিল আর গর্বাচভ/ইয়েল্তসিন বুর্জোয়াজি খোলাখুলি আবির্ভুত হল, তখন সবচেয়ে হিংস্রভাবে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে টুকরো-টুকরো হয়ে গেল । সেই গণহত্যার সন্ত্রাস আমাদের মতন মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন, স্টালিন এবং মাওয়ের অনুসারীদের অবাক করেনি, কারণ যুগোস্লাভিয়ার জনগণের বৈষয়িক ভিত্তি এবং পথনির্দেশক ছিল স্হানীয় স্তরে। "বিশ্বব্যাপী চিন্তাভাবনা করুন, স্থানীয়ভাবে কাজ করুন" স্লোগানের এটা একটা গভীর ভুলের উদাহরণ হতে পারে । অর্থনৈতিক "স্বায়ত্তশাসন" যা করেছিল তা হ'ল প্রদেশগুলোকে একে অপরের ঘাড়ে চাপতে উৎসাহিত করেছিল। সেটাই সংকীর্ণ প্রাদেশিক যুদ্ধের বৈষয়িক ভিত্তি তৈরি করেছিল।

    "স্বায়ত্তশাসন" প্রিয় যুগোস্লাভিয়ার ভয়ংকর পতন প্রমাণ করে যে পুঁজিবাদের পর তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি হল কেন্দ্রিয় সমাজতন্ত্র এবং তা সম্পর্কে মার্কস এবং এঙ্গেলসের তত্ত্বগুলি একেবারে সঠিক। সর্বহারা শ্রেণীর সংহতি ভঙ্গ করার জন্য "স্বায়ত্তশাসন" আরেকটি শব্দ। "স্বায়ত্তশাসন" আসলে সর্বহারা ও পুঁজিবাদী শ্রেণীর উভয়ের ওপরে লাঠি ঘোরাতে চাইছে এমন পাতি-বুর্জোয়া শ্রেণীর শব্দ। নারীদের প্রশ্নের ক্ষেত্রেও একই কথা। অবশ্য, জেনডার ব্যাপারটা শ্রেণীর প্রশ্ন থেকে তুলনামূলকভাবে স্বায়ত্তশাসিত, কারণ সমস্ত নারীই শ্রমিক নন, তবে একথা সত্য যে স্বায়ত্তশাসন এবং জেন্ডার প্রশ্নে ব্যক্তিবাদ নিপীড়িত ও শোষিতদের একতা ভঙ্গ করে। নারীর এগিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক গোষ্ঠী-স্তরের উত্তর খুঁজে বের করার বিকল্প নেই। এটা ব্যক্তির স্বতন্ত্র অনুভূতি, বা স্বতন্ত্র ক্ষমতা বা এমনকি বিকেন্দ্রীকরণের প্রশ্ন নয় ।

    মার্কসের মূল্যের শ্রম তত্ত্ব জোর দিয়েছিল যে শ্রমিকরা কীভাবে একটি নিরপেক্ষ প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে - অর্থাৎ যা তাদের নিজস্ব শ্রম। কারা শোষিত এবং কারা নয় সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপায় না থাকলে সর্বহারা ঐক্যের ক্ষতি হবে। শোষণ এবং ক্ষতিপূরণের প্রশ্নগুলিকে খুব গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে তা না হলে এর পরিণতি হবে গণহত্যার যুদ্ধ যেমন যুগোস্লাভিয়ায় দেখা গিয়েছিল। কেবলমাত্র তাদের কারখানা বা প্রদেশে নয় পুরো দেশ এবং পুরো পৃথিবীর অন্যান্য শ্রমিকদের সাথে কীভাবে চলতে হবে তা শেখা শ্রমিকদের একটি মূল কাজ। "স্বায়ত্তশাসনের পরিবর্তে" শোষিতদের "মূল্যমানের শ্রম তত্ত্ব" প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই একে অপরের পরিস্থিতি দৃঢ়ভাবে জানতে সহায়তা করতে সফল হতে হবে। শ্রমিকরা যদি একে অপরের বস্তুগত অবস্থা দৃঢ়ভাবে অনুভব করতে অক্ষম হয়, তবে তারা পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ হতে সর্বোচ্চ সম্ভাব্য স্তরে ব্যর্থ হবে। একটি কেন্দ্রিয় অর্থনৈতিক শক্তির মাধ্যমে শ্রমিকরা একে অপরের মধ্যে তাদের সম্পর্কগুলোর সামঞ্জস্য করতে পারে। সেই ক্ষমতা না থাকলে যুগোস্লাভিয়া-ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হতে বাধ্য।

    এই ফিল্মগুলোর সংলাপসমূহের শব্দাবলী মাও-যুগের গোদারের চলচ্চিত্রগুলিতে অগ্রগতির প্রধান বোঝা বহন করে। দ্বিতীয়ত, গোদার সীমাবদ্ধ ক্রিয়া ব্যবহার করেন, রক্ত-লাল রঙ নিক্ষেপ করে এবং চরিত্রগুলোকে রক্তাক্ত করে তুলে ফিল্মে তুলে ধরা তাঁর পরিচিত ক্রিয়া। তৃতীয়ত, গোদার এছাড়াও দর্শকদের বোঝাবার জন্য ব্যবহার করেছেন এবং দেখিয়েছেন ফটোগ্রাফি বা ফিল্মের ছবিগুলো কীভাবে বুর্জোয়া শ্রেণির পক্ষে সহজেই কাজে লাগানো যেতে পারে ।”তু ভাঁ বিয়ঁ" ফিল্মের শেষে, গোদার ফ্রান্সের এমন ফুটেজ দেখিয়েছেন যার পটভূমিতে নির্বোধ ট্যুরিজম বা ফরাসী জাতীয়তাবাদী জিংগলগুলো বাজিয়ে শুনিয়েছেন । "পূর্ব দিকের বাতাস" ফিল্মে গোদার সাধারণ ফুটেজ ব্যবহার করে বুর্জোয়া চলচ্চিত্র নির্মাণকারী দুটি চরিত্রের অভিনয় উপস্হাপন করেছেন। আমরা দুর্দান্ত মেক-আপ, প্রপস এবং ম্লান আলো দিয়ে একটি কংকুইস্তাদর ফিল্মের ভাবনা কল্পনা করে নিই, তবে গোদার আমাদের দেখিয়েছেন একজন লোক একজন বন্দীকে, প্রকাশ্য দিনের আলোয়, বিশেষ ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই টেনে নিয়ে চলেছে --যা প্রকৃত অভিনেতারা দেখতে পায় কোনোরকম প্রপস ছাড়াই --- যা বেশ সাদামাটা। বুর্জোয়ারা যখন কিনা দর্শকদের দুর্দান্ত পটভূমির সৌন্দর্য দেখায়, তাঁর মাওবাদী পর্বে গোদার আমাদের দেখান যে সৌন্দর্য আসলে থাকে সংগ্রামে ।
    [ ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মলয় রায়চৌধুরী ]
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | 106.213.52.40 | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:২৮735252
  • । শুনলাম জীবনানন্দ দাশের জীবন অনুসারে একটা সিনেমা হচ্ছে, নাম- 'ঝরা পালক'। শুনলাম সেখানে জীবনানন্দের চরিত্রে অভিনয় করছেন ব্রাত্য বসু। ব্রাত্য বসু এই মুহূর্তে অন্যতম সেরা বাঙালি অভিনেতা, নট ও নাট্যকার। তাঁর প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু জীবনানন্দের চরিত্রে তাঁকে মানাবে না। জীবনানন্দ দাশ একজন গ্রাম্য চেহারার সম্পূর্ণ অনাগরিক মুখের মানুষ ছিলেন। তিনি চরম অন্তর্মুখী, ঈর্ষাকাতর, যৌনকাতর, অমিশুক, অবান্তর একটা ইমেজের অধিকারী ছিলেন। ব্রাত্য বসু একজন বহির্মুখী, দৃঢ় মুখায়ববের অধিকারী অভিনেতা। তাঁর চোখে কোনো মার খাওয়া লোকের ভাব নেই। যে জীবনানন্দ দাশ নিজের স্ত্রীর দ্বারা দলিত ছিলেন, যে জীবনানন্দ নিজের খুড়তুতো বোন শোভনাকে শারীরিকভাবে কামনা করতেন, ডায়রিতে লিখে রেখেছিলেন যৌনসংগমের পরে শোভনার হট ব্যাগ লেগেছিল, যে জীবনানন্দ জানতেন তিনি একজন কুৎসিত চেহারার লোক, এবং সেটাও ডায়রিতে লিখেরেখেছিলেন, যে জীবনানন্দ চাকরি পেয়েছিলেন বাবার সুপারিশে একের পর এক, কিন্তু সেই চাকরি টেঁকাতে পারেননি, যে জীবনানন্দ বারবার ক্ষমতাশালী লোকেদের চিঠি লিখে কখনও চাকরি চেয়েছেন কখনও নিজের কবিতার প্রশংসা, যে জীবনানন্দ অসামান্য কিছু উপন্যাস লিখেও ট্র্যাঙ্কে বন্ধ করে রেখেছিলেন, যে জীবনানন্দ 'বাংলার ত্রস্ত নীলিমা'-র মতো একটা কাব্যগ্রন্থ লিখেও প্রকাশ করেননি, তাঁর চরিত্রে উজ্জ্বল আত্মবিশ্বাসী ব্রাত্য বসুকে আমি কল্পনাও করতে পারি না।।
  • | 106.213.52.40 | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:২৯735253
  • জয় গোস্বামীর কবিত্বশক্তি নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। সেটা তাঁর প্রথম দিকের কবিতা পড়লেই বোঝা যায়। কিন্তু তাঁর কবিতা শেষ অবধি কোথাও গেল না। এটা কিছুটা শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। শক্তি আর জয়, এই দুজনকেই যখন পড়ি, বুঝতে পারি এঁদের মধ্যে বিপুল কবিত্ব আছে। কিন্তু কবিতা লেখার ক্ষেত্রে সেই কবিত্ব এঁরা চ্যানেলাইজড করতে পারেননি। এক্ষেত্রে জীবনানন্দ দাশকে মনে পড়ে। জীবনানন্দ দাশ শুরু করেছিলেন নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, মোহিতলাল মজুমদারকে নকল করে। তারপর তিনি এলান পো, ইয়েটস আর হুইটম্যানকে নকল করলেন। কিন্তু একটা লড়াই তাঁর চলল। জীবনানন্দের ক্ষেত্রে কবিত্ব ব্যাপারটা প্রতিভা ছিল না, ছিল তাঁর চয়েস। জীবনানন্দ দাশ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জীবনের বিনিময়ে হলেও কবি তাঁকে হতেই হবে। এই যে সাধ, তা তাঁর সাধ্যকে অতিক্রম করে তাঁকে একটা মহৎ জায়গায় নিয়ে গেল 'মহাপৃথিবী' 'সাতটি তারার তিমির' আর 'বেলা অবেলা কালবেলা' এই তিনটি কাব্যগ্রন্থে। এখানে তিনি একজন প্রভাবমুক্ত মহাকবি। কবিত্বশক্তি বা প্রতিভার জোরে নয়, নিজের সিদ্ধান্ত আর সংগ্রামের জোরে। এই সংগ্রাম শক্তির মধ্যে নেই, জয় গোস্বামীর মধ্যে একেবারেই নেই। আমি কবির কবিত্বকে গুরুত্ব দিই না, তার কবিতাকে দিই। কবিত্ব ব্যাপারটা কেমন বলুন তো? একজন বডি বিল্ডার বাড়িতে বাস করে, বাড়িতে যখন ডাকাত পড়ল, সে খাটের তলায় ঢুকে পড়ল, আর বাড়ির একজন রোগা লোক ডাকাতদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াল। তাল তাল পেশি নিয়েও একজন কাপুরুষ হতে পারে। প্রচুর কবিত্ব নিয়েও একজন মিডিওকার কবি হতে পারেন- উদাহরণ জয় গোস্বামী।।
  • | 106.213.52.40 | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৩০735254
  • সেই কলকাতায় বসে তিরিশের দশকের শিক্ষিত মেধাবী আন্তর্জাতিক সাহিত্য-সচেতন কবিদের মধ্যে তৎকালীন ব্রিটিশ রাজের ‘বিরুদ্ধে’ একটাও জ্বলন্ত কবিতা কেউ লিখেছেন কি, যেটার কারণে তাঁদের জেল হতে পারত বা চাকরি যেতে পারত? এটা তাঁদের প্রতি কোনো নালিশ নয়। কবি সেটাই লিখবেন যেটা তাঁর প্রাণ চায়। কবিতার দাবিই সবার আগে। কিন্তু একাধিক কবির সামাজিক অবস্থান অনেক সময় এক বা একাধিক কবির সামাজিক সুবিধা বা অসুবিধার কারণ হয়েই ওঠে। তিরিশের দশকের কবিদের কবিতায় দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী ও পরবর্তী মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত নাগরিক সমাজের তিক্ত হতাশ ক্ষুধার্ত ছবি ফুটে ওঠে, সেই ছবি ব্রিটিশের পক্ষে ততটা অস্বস্তিকর নয়, যতটা বাঙালির নিজের পক্ষে। সমর সেনের কবিতাও এমনকি এ-ব্যাপারে ব্যতিক্রম ছিল না। রবীন্দ্রনাথ বা নজরুলের কবিতার মতো কোনো প্রত্যক্ষ পলিটিকাল গুরুত্ব বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে, সুধীন্দ্রনাথ দত্তদের কবিতার ছিল না। ব্রিটিশ শাসন যে একটা অসহ্য ব্যাপার, সেটা এঁরা সরাসরি একটা লাইনেও বলেননি। বরং সযত্নে বাংলা কবিতা থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছেন কবিতার যতটুকু গ্রামীণ স্বভাব। এবং আমরা আমাদের ডিএনএন-তে তিরিশের কবিদের ধারণ করেছি, জেনে বা না জেনেই।।
  • | 106.213.52.40 | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৩১735255
  • ৩০শে এপ্রিল ১৮৯০ তারিখে মা আর বোনের উদ্দেশে একটা চিঠিতে ভিনসেণ্ট ভ্যান ঘগ লিখছেন, 'যে মুহূর্তে শুনেছি আমার কাজ কিছুটা হলেও সাফল্য পেয়েছে, আর ঐ লেখাটা পড়েছি, তখন থেকে আমার ভয় হয়েছে যে এর জন্য আমি নিশ্চয়ই শাস্তি পাবো। শিল্পীর জীবনে প্রায় সব সময়ই এ-ই ঘটে, সাফল্যের মতো নিকৃষ্ট জিনিস আর হয় না।'
  • | 106.213.52.40 | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৩২735256
  • এই মুহূর্তে কঠিনতম কাজ হল গল্প লেখা। পৃথিবী অসম্ভব ছোট হয়ে গেছে। প্রতি মুহূর্তে গল্প ঘটছে মানুষের চোখের সামনে। প্রতিটি মানুষ এখন কাহিনির মানুষ। প্রতিটি মানুষই তার নিজ নিজ চরিত্রে রচিত।
    এমতাবস্থায়, একজন লেখক যখন গল্প লিখতে বসেন, তাঁর সামনে কবিতা বা উপন্যাস লেখার চেয়ে অনেক বড় কঠিন চ্যালেঞ্জ উপস্থিত হয়। কী এমন গল্প তিনি আজ বলতে পারেন, যা পাঠক আগেই শোনেননি? এই চ্যালেঞ্জ মঁপাসার ছিল না, চেখভের ছিল না, রবীন্দ্রনাথের ছিল না। আজ আছে। আজ একজন গল্প লিখতে বসে হয়ত নতুন করে বরফ আবিষ্কারের কাহিনিও আর বলতে পারবেন না।
    মানুষের অভিজ্ঞতা আর স্মৃতিকে অবলম্বন করে, সঞ্চয় করে, খনন করে আজ একজন গল্পকার কী লিখতে পারেন, যা এর আগে লেখা হয়নি, যা লেখা কোথাও না কোথাও এই মুহূর্তেই হচ্ছে না, অথবা, লেখা হয়েছিল কিন্তু মানুষ ভুলে গেছে, বা খুব অবহেলার সঙ্গে কেউ সেই গল্প লিখতেই অস্বীকার করেছে?
  • | 106.213.52.40 | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৩৩735257
  • চলে গেলেন শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়। বাংলা কবিতা থেকে বিদায় নিলেন পঞ্চাশের দশকের শেষ সৈনিক, সুনীল-শক্তিদের শেষ বান্ধব। শরৎকুমার আমার প্রিয় কবি ছিলেন। তীব্র শীতের মধ্যে দুঃসংবাদ এল।
    কিন্তু বিদায় নিলেন বলছি কেন? বাংলা কবিতায় তিনি থেকে যাবেন। থেকে যাবে তাঁর বেপরোয়া মধ্যবিত্ত সুর।
    শরৎকুমার লিখেছিলেন— ‘রাত বারোটার পর কলকাতা শাসন করে চারজন যুবক/ চৌরঙ্গী ভবানীপুর থেকে শ্যামবাজার বদ্বীপ’— এই পংক্তিগুলো আজ কিংবদন্তি। কখনও ছন্দে কখনও ছন্দহীনতায় তাঁর কবিতা অপরূপ।
    পরবর্তী কবিদের মধ্যে ভাস্কর চক্রবর্তীর কবিতায় তাঁর প্রভাব লক্ষ্যনীয়। প্রথম জীবনে 'নমিতা মুখোপাধ্যায়' নামে কবিতা লিখতেন, তাঁর ধারণা হয়েছিল মেয়েদের নামে লিখলে কবিতা আরো অনায়াসে ছাপা হবে।
    এই যে নিরপরাধ ছেলেমানুষি, তা তাঁর লেখার মধ্যেও কোথাও অমলিন হয়ে আছে চিরকাল।।
  • | 106.213.52.40 | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৩৪735258
  • কেউ আপনাকে কবিতা লেখা শেখাতে এলে তাকে অবিশ্বাস করুন। যদি সে কবিতা কী করে লিখতে হয় জানে, সে আপনাকে সেটাই শেখাবে যেটা সে জানে। অর্থাৎ, আপনাকে নিজের মতো কবিতা লিখতে শেখাবে। আপনি তার এঁটো করা পথে হাঁটতে শুরু করবেন। ল্যাংবোট হবেন। আর, যদি সে এমন কোনো পথ জানে, যেটা তার নিজের কবিতা লেখার পথ নয়, কিন্তু তার নিজের চেয়েও উৎকৃষ্ট কবিতা সেই পথে লেখা যায়, তাহলে সে সেটা আপনাকে শেখাবে কেন? নিজেই তো লিখবে সেই পথে! কেউ কি চায় অন্য কেউ তার চেয়ে ভাল লিখুক? নিজের বাপও চায় না। কবির অমরত্বের ক্ষেত্রে কোনো আপনজন নেই, ওয়ারিশ নেই।।
  • | 106.213.52.40 | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৩৫735259
  • বাংলাদেশের কিছু ইন্টেলেকচুয়াল পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবকে এত খারাপ চোখে দ্যাখেন কেন? এখনো তো আশি বছরও হয়নি দুই বাংলা এক ছিল! পশ্চিমবঙ্গকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস কতটা বিস্তৃত হতে পারে? আশি বছর খুবই ক্ষুদ্র সময়কাল। এর মধ্যে অনেক কিছুই ঘটে গেছে। কিন্তু আজও পশ্চিমবঙ্গে অনেক মানুষ বেঁচে আছেন যাদের কাছে দেশভাগ বইয়ে পড়া ইতিহাস নয়, বরং তাঁদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। তাঁরা আজও বরিশাল চট্টগ্রাম শিলেট বা ঢাকাকে তাঁদের দেশ মনে করেন। সেটা তাঁদের অন্যায় নয়। দেশ মানুষের হৃদয়ে থাকে, রাষ্ট্র থাকে মানচিত্রে।।
  • | 106.213.52.40 | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৩৭735260
  • কবিতার কোনো গুরু হয় না। শিষ্য হয় না। সিনিয়র হয় না। জুনিয়র হয় না। কবিতা এক নিঃসঙ্গ হাওয়ার মতো। কবিরা গাছ। একলা একেক গাছ। হাওয়া এক গাছ থেকে আরেক গাছে সঞ্চারিত হয়। পাতার শব্দ হয়। শুকনো পাতা খসে পড়ে। পাখিদের ডানার ঝাপট। একই হাওয়া অনেকসময় একাধিক গাছকে স্পর্শ করে থাকে।।
  • | 106.213.52.40 | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৩৯735261
  • আমাকে দেখে কি আজকের নতুন লিখতে আসা বাঙালি কবি শিক্ষা নিতে পারেন? না। কিন্তু কেন পারেন না! সেটা নিয়ে বলি।
    ধরুন আজ থেকে দশ-বারো বছর আগে আমি বাংলা বাজারের প্রায় সব 'গুরুত্বপূর্ণো' পত্রিকায় কবিতা লিখতাম। আজ প্রায় কোথাও লিখি না। যা লিখছি ফেসবুকে দিয়ে দিচ্ছি। আসন্ন কলকাতা বইমেলায় আমি কোনো গুরুত্বপূর্ণো পত্রিকাতেই কবিতা লিখছি না। আপনার মনে হতে পারে, এর ফলে আমি একটা চরম অরক্ষিত অবস্থায় পড়েছি। তাহলে লেখা ছেড়ে দিন। আপনি ২০২১-২২-এ লেখার জন্য আসেননি। কেন সেটাও একটু বলি।
    একজন কবি কী? পশ্বাচার, বীরাচার পেরিয়ে একজন সাধক দেবতা হয়ে ওঠেন। একজন কবিও তাই। আপনি যখন সর্বত্র লিখতে চাইছেন, তখন আপনার পশুভাব চলছে, আপনি জিভ লকলক করে বিখ্যাত হতে চাইছেন। তারপর বীরাচারী হবেন, যখন আপনি বাছতে শুরু করবেন কোথায় লেখা যায়, এবং কাদের আপনার লেখা পাওয়ার যোগ্যতা নেই। দেখা যাবে আপনি লিখছেন বেশি, ছাপছেন খুব কম। এরপর দেবভাব, অর্থাৎ তখন আপনার লেখা পেলে একটা পত্রিকা ধন্য হবে। এই শিক্ষা আপনি আমার থেকে নিতে পারেন। লেখা চাইলে এক সেকেন্ডের মধ্যে 'না' বলা অভ্যাস করুন। যদি নবাগত হন, অন্তত না চাইতেই এক ঝুড়ি লেখা পাঠানোর অভ্যাসে রাশ টানুন। সেটা কি পারবেন? পারবেন না। কাজেই আমাকে দেখে শিক্ষা নেওয়া আপনার কম্ম নয়।
    ‘তবুও প্রয়াস’ থেকে প্রকাশিত আমার ‘স্বনির্বাচিত কবিতা’ বইয়ের অর্ধেকও বিক্রি হয়নি, এমন বই নিয়েও লোকজন যে পরিমাণে নাচানাচি করছে, ওই বই নিয়ে হয়নি। সেটা কি খুব খারাপ ঘটনা মনে করেন? ‘স্বনির্বাচিত কবিতা’ বইটি কোথাও কোনো পুরস্কার পাবে না। পুরস্কৃত করতে চাইলেও করতে দেব না। এর ফলে কি আমি পিছিয়ে গেছি মনে হয়? তাহলে আমাকে দেখে শিক্ষা নেওয়ার আশা ছেড়ে দিন। কারণ পুরস্কার আসে উপর থেকে। যাদের দেখে সত্যিই মনে করবেন আপনার উপরে বিরাজ করেন, তাঁদের হাত থেকে পুরস্কার নিন।
    তেমন কেউ এই পশ্চিমবঙ্গে নেই যে অনুপম মুখোপাধ্যায়কে পুরস্কার দ্যায়। আপনার উপরে আছে কি না আপনিই বিচার করুন। আর নাচানাচি দেখতে চাইলে ক্যাওড়া দলে নাম লেখান।
    আমাকে দেখে শিক্ষা নিতে চান? গত পাঁচ বছরে আমি যে কবিতাগুলো লিখেছি, কেবল কবিতা, অন্য লেখাগুলোর কথা ছেড়েই দিলাম, শুধু কবিতার বইগুলো যদি ধরেন, এটা যদি অশিক্ষিত দেশ না হত, আমাকে নিয়ে অনেক সেমিনার হত। এখানে কিছু হয় না। তাহলে কি আমি ব্যর্থ হলাম? সেটা ভাবলে আমার দিকে তাকানো ছেড়ে দিন। অশিক্ষিত দেশে যাদের নিয়ে সেমিনার হয় তারা মৃতদেহ, সব সেমিনার আর আলোচনাচক্র এখানে মূলত শব-ব্যবচ্ছেদ মাত্র। জীবিত লোককে নিয়ে হয় না। আলোচনার আশা করবেন না। এখানে আলোচনার পেছনে লম্বা লম্বা গল্প থাকে।
    আমাকে দেখে শিক্ষা নেবেন না, সেটা আপনার কম্ম নয়। আফটার অল, আপনি যে সময়টায় বাস করছেন, সেটা অনুপম মুখোপাধ্যায়ের সময় বলে চেনার চোখও তো আপনার থাকতে হবে।
    আরে, আপনি আজও রবীন্দ্রনাথকেই চিনেছেন কি?
     
     
     
     
     
     
     

     
     
     
  • | 106.213.52.40 | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৪০735262
  • ছাপোষা সাহিত্যিকে ছেয়ে গেছে। এরা খারাপ লেখে এমন নয়। এরা লেখার কায়দা জানে। রপ্ত করেছে। কিন্তু এদের মধ্যে উন্মাদনা নেই। উন্মাদনা ছাড়া নতুন কিছু হয় না। আর আছে এদের বিগ্রহ পূজা। এরা ভাবে জীবনানন্দ দাশ এদের নাগালের বাইরে। এরা ভাবে এরা অমিয়ভূষণ মজুমদারের মানের বা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ-র স্তরের উপন্যাস কোনোদিন লিখে উঠতে পারবে না। এমন কি এরা জয় গোস্বামীকেও একটা অন্য গ্রহের ব্যাপার মনে করে। এরা নিজেদের মধ্যে জোট বাঁধে আর একে অন্যকে দিয়ে নিজের নিজের সফলতা ব্যর্থতা মাপে। এরা মনের অনুভূতি প্রকাশ করাকে একরকম সফলতা মনে করে। ঘটনা হল খিদে পেলে বিড়াল যে ম্যাও করে, সেও নিজের মনের অনুভূতি প্রকাশ করে, কিন্তু তার কোনো শিল্পমূল্য নেই, কারণ সব বিড়াল ওই একই সুরে ম্যাও করে, খিদে পেলে।।
  • | 106.213.52.40 | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৪২735263
  • 'বব বিশ্বাস' দেখলাম। যাঁরা এতদিন অভিষেক বচ্চনকে মিম আর ট্রোলিং-এর খোরাক বানিয়ে রেখেছিলেন, তাঁরা হতাশ হবেন। হতাশ হবেন নাকউঁচু বাঙালি আঁতেলরাও। আমার ভাল লেগেছে। গল্পটা অতি মাঝারি মানের। কিন্তু গল্পের জন্য আমি সিনেমা দেখি না, গল্পের জন্য গল্পের বই-ই পড়ি। একটা সিনেমার গল্প খারাপ হলে আমি বেশ খুশিই হই, কারণ অন্য দিকগুলো সেক্ষেত্রে আরো ভাল করে এনজয় করা যায়। এই সিনেমা অভিষেক বচ্চনের প্রতিভা চিনিয়ে দ্যায়। তাঁর প্রজন্মের তিনিই সেরা অভিনেতা, মোটেই হৃতিক রোশন নন, এটা প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার। এই অভিষেককেই একটা সময় দেখা গিয়েছিল 'যুবা', 'গুরু', 'রাবণ', 'ব্লাফমাস্টার'-এর মতো ছবিতে। মাঝখানে কী হয়েছিল কে জানে, মানুষের জীবনে খারাপ সময় আসে। সেই সময়টা কেটে গেছে, বোঝা যাচ্ছে। আর হ্যাঁ, এই রোল শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে দিয়ে হত বলে আমার মনে হয় না, কারণ শাশ্বত একজন চরিত্রাভিনেতা, হিরো-মেটেরিয়াল তাঁর মধ্যে নেই, খুবই কুশলী অভিনেতা হলেও এই চরিত্রের মধ্যে অভিষেক যতগুলো রং খেলিয়েছেন শাশ্বতর দ্বারা হত না। আমার এই কথার জন্য যেন আবার 'বাংলা পক্ষ'-এর হাতে ধোলাই খাওয়াবেন না। পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্দান্ত।।
  • | 106.213.52.40 | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৪৪735264
  • হে তরুণ কবি, এই শীতের দিনে তোমাকে কিছু কথা বলি। পছন্দ না হলে 'বুল শিট' বলে চলে যেও। আজ যারা প্রশংসা করছে, তাদের নামগুলো মনে রাখো। ১০ বছর পরে তাদের কেউই প্রায় আর তোমার নাম মুখে আনবে না। ওরা জানে তুমি আজ নিজের কবিতা লিখতে পারছ না, ওদের হয়েই লিখছ, তাই ওরা তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ। আজ যারা অপ্রিয় কথা বলছে, কিন্তু সদয়ভাবে, তাদেরও মনে রাখো। ১০ বছর পরেও তাদের সুর বদলাবে না। এই লোকগুলোকে তুমি তখনও পাশে পাবে, যদি ১০ বছর টিকতে পারো বাংলা কবিতায়। ১০ বছর পরে যারা অকথ্য নিন্দা করবে তোমার, তাদের কেউ কেউ আজ তোমার প্রশংসা করছে, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যারা সেদিন অকথ্য নিন্দা করবে, ৫ বছরের মধ্যেই হয়ত তোমার কাছে অনুতপ্ত ফিরেও আসবে। যদি ১৫ বছর টিকতে পারো বাংলা কবিতায়। যদি ২০ বছর টিকতে পারো, হয়ত তোমার নাম ১০০ বছর স্থায়ী হবে, যদি সত্যিই সৎভাবে কবিতায় নিজেকে রাখো, যদি নামের বদলে স্থায়ী যশ আর টাকার বদলে গভীর অর্থের লোভ থাকে তোমার। যশের লোভ বজায় রেখো আজীবন। ওই লোভ জরুরি। আর অন্য কবিদের থেকে ঠিক ততটাই দূরত্ব রাখা জরুরি, যেমন ইউরেনাস গ্রহ রাখে অন্য গ্রহদের সঙ্গে। বিশেষ করে তোমার সমবয়সী কোনো কবিই তোমাকে কিছু দিতে পারবে না।।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন