এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • পর্বে পর্বে কবিতা - তৃতীয় পর্ব

    pi
    অন্যান্য | ১৭ ডিসেম্বর ২০১১ | ৫৫৩৫১ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৩ জন)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • pi | 7845.29.898912.157 | ০৮ জুলাই ২০১৮ ১০:৩৫507930
  • বাহ বাহ।

    আর এটাও পড়লাম বারকয়েক।

    'হয়ত মানি না সব, তবু সব শুনি -
    দাঁড়ি কমা উষ্মা সমেত সবটুকু দেখি যতক্ষণ
    তুমি বলো
    দরজায় নয়, বারবার কবিতার ভিতরে এসে
    বারবার কথা বলি'
  • ভীতু | 340112.31.898912.70 | ১০ জুলাই ২০১৮ ২৩:২৪507931
  • আজ কিংবা গত পরশু।
    যে কোনোদিনই আমি একা ছাতে,
    একা হেঁটে তারাদের সাথে,
    সেরে ফেলতে পারতাম।
    বাকি থাকা প্রেমালাপ।
    অথবা নিশ্চিত অভিমান।
    কিন্তু, বাকি থাকা উপেক্ষা,
    বালিশ বিছানা নিয়ে,
    ঘাঁটি গাড়ে রোজরাতে।
    বিরক্ত লাগলেও ,
    সরে শুই।
    নে বাবা, একটু নাহয় কম্বলটুকুই নিবি।
    তাও তো একা থাকা ঘোচে।
  • ফরিদা | ১২ আগস্ট ২০১৮ ১০:১৬507932
  • এত কাছ থেকে কখনও দেখিনি তোমায়।
    এরা এত কাছাকাছি আছে বটে, চাঁদ জানে,
    জানে সমস্ত নক্ষত্ররাও - এক ঘরে দেখে গেছে
    তোমায় আমায়। আমরা তো জানি বলো-
    কীভাবে তোমার ফেলে দেওয়া ফুল পাতা কাঠি
    নিয়ে সেজে থাকি। তোমার ছায়ায় ডাকি যত
    উদ্ভাস্তু পতঙ্গদলকে, দুপুরের ক্লান্ত ফেরিওলাজন
    উৎসব মুখরিত আজান অথবা ঝিঁ ঝিঁ সংকীর্তণ।

    তুমি সেই কানাকানি উদাসীন, আকাশ দেখতে থাক
    পাখি ওড়ে, মেঘেরা মালগাড়ি টেনে টেনে যেতে যেতে
    ঝড়বৃষ্টি এনে দিলে দেখেছি কীভাবে উদ্বেল হও-
    কত রাশি রাশি চিঠি লেখ - ঝরে পড়ে বুকের ওপর
    সেই ভালোবাসা জানি। ঝড়ে নেচে নেচে বৃষ্টিজল মাখো
    সে রাত্রে সচেতন থাকি, যদি একবার বুকে হাত রাখো।
  • কুশান | 342323.191.3456.218 | ২০ আগস্ট ২০১৮ ১৫:২৫507933
  •      খামোকা
     

    এ নাছোড় খারবান্দা বিরহবর্জিত ধান্দা
    ব'য়ে চলে কুলুকুলু মানালির চরে
    সাতখুন মাফ হ'লে বিন্দাস কৌশলে
    পিরিতি ঝটকা খাবে মাঘহেনঝড়ে

    তোতাহীন আতাগাছ ডালিমে কি মৌমাছ
    রাশি রাশি ভারা ভারা মরা চারাপোনা
    বাজারে ও মা কী ভিড় স্বখাতসলিলনীড়
    আখাম্বা ঘাই মারে ছিয়াশির সেই মারাদোনা

    মেরো না বাতেলা-তেল কাকে নেবে কদবেল
    হাবু তুমি ডুবু খাও বিশ বাঁও কচুরীর পানা
    কাজ নেই তারা গোনো, কুমার শানুই শোনো
    কোন কাননের হনু ঘোষ বোস মিত্র কি জানা
  • Ramiz Ahamed | 670112.203.233412.217 | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ২৩:৩৯507934
  • প্রত্যাবর্তন মানে যতিচিহ্নদের জন্য পুরনো মনখারাপ, ছাতিমস্পর্শী বিকেলগুলোয় যা সূর্যাস্তরঙা ঘরবাড়ি ছুঁয়ে ফিরে আসে, বারান্দায় ছড়ানো আলস্যের গেরস্হালি পার হয়ে।

    একান্নবর্তী দুয়ার গুলো খুলে দাও। বিষণ্ণ হয়ে ওঠা বন্দরের ঢেউ শুনতে পাবে, যা গুনতে গুনতে একটা সময় আঙুলের কড় শেষ  হয়ে আসে, তখন তুমি নতুন আঙুল খোঁজো।

    সদ্য ভোরের ছায়া নামানো যে মুখের সরলতা অদ্ভুত ঋজু, রৈখিক আবদারে ঘন।
    দেখো,তার হাতের দ্রাবিড়ীয় ভঙ্গি, ও আঙুলে জন্মদাগ লেগে আছে।
    ছুঁয়ে দেখো, তোমার রক্ত ভেদ করে নির্বীজ প্রতিলিপি উঠে আসবে।

    দিগভ্রষ্ট ছাই হয়ে উড়ে বেড়ায় ইচ্ছাদের অস্হিভস্ম........
    তারপরেও কোনো এলোকেশীর রান্নার গন্ধ নুলিয়াবসতির চালা ছাপিয়ে বাতাসে পাগলপারা।

    এখনো নির্লিপ্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছো?
    তোমার দৃশ্যপট উচ্ছন্ন করে কেউ হেঁটে যাচ্ছে বিপরীত রেখায়.....

    হাওয়াইশার্ট, ঝিনুকেরমালা, লবণাক্ত অসুখ সব জমিয়ে রেখো।
    আর, কারো ফেলে যাওয়া পায়ের ছাপের গল্প........
    যা কাউকে শোনাতে নেই।
  • পারমিতা | 7845.15.2356.194 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০০:২৮507935
  • অসাধারণ,
  • ফরিদা | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ২১:১৯507936
  • কতদিন পরে দুঃসম্পর্কের বৃষ্টিরা এসেছিল কাল
    সেইসব ঝুলকালি মুখোশ পড়ে - সে কী নাচ
    দ্রিদিম দ্রিদিম বাজনা মাদলের মতো বাজছিল
    অফিসের স্কাইলাইটের কাচে -
    এক সময়ে ভালোই লাগত, তার হয়ত মনে আছে -
    ঘর অন্ধকার হয়ে গেলে জানলা খুলে
    বৃষ্টির ছাট মাখতাম গায়ে।
    রাস্তায় থাকলে চেটেপুটে খেতাম যতটুকু বড় করা হাঁয়ে।

    ভারী গেঁয়ো, যাই বল, সহবতহীন বৃষ্টি নেহাৎই আনাড়ি
    পুরো হাইওয়ে জুড়ে ট্রাফিক জ্যাম, পুরো সন্ধে মাটি
    ভেবেছে এখনও বুঝি গাড়ির কাচ নামিয়ে
    কিছু খুচরো হয়ত ওর হাতে তুলে দিতে পারি।
  • Du | 237812.58.890112.29 | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ২২:১৯507937
  • ঝাপট মেরে গেলো !!
  • Tim | 013412.126.235612.57 | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১২:৩৯507938
  • বৃষ্টি নিয়ে দুয়েকটা যা বলার ছিলো
    বাড়ির পাশে ঝাঁকড়া গাছে বাজ পড়েনি

    তার ওপারে। দূরের পথে-
    জট পাকানো থ্যাঁতলানো তার, পাখীর শবে
    জল নেমেছে প্রাত্যহিকের, নৈমিত্তিক।

    যে সংযোগে বৃষ্টি পড়ে, আকাশ ভাঙে
    সেদিক আজো জংলা হয়ে ছিটিয়ে আছে।
    পোড়ো উঠোন, ভাঙা দালান, সাপের মত সঙ্গতিহীন
    সে সূক্ষ্ম্যতায় মাকড়শাজাল, সে বিদ্রোহ-
    ভেজা ধানের মত রোদে ছিটিয়ে আছে।

    বৃষ্টির পর শুকনো ডাঙা
    দেওয়াল জোড়া ছবির মত তাকিয়ে আছে
    বাড়ির পাশে কাল যদিও বাজ পড়েনি।
  • একক | 3445.224.9002312.61 | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১৯:১১507940
  • ওহ লর্ড
    ~~~~~

    আমার বাড়িওয়ালা ভাবেন এই জন্যেই এইরকম পাবলিক কে
    থাকতে দেওয়া ঠিক নয় , পয়সা তো সময়মত দেয় কিন্তু
    আমাকে একদম পাত্তাই দেয়না কীরকম একটা ন্যাংটো বকের মত
    চেহারা নিয়ে গম্ভীর হয়ে আমারই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকে ,
    পাড়ার সমস্ত কুকুরের সঙ্গে আত্মীয়তা এদিকে আমার ছায়া
    কেও একবারটি সুপ্রভাত বলেনা ;

    এসব যে খুব ভুল ভাবেন তা নয় , একচুয়ালি ;
    তবু কী হয় ; আমার ভাড়ায় ওনার চলে , তো সমস্ত পাওনাদারকে
    দেখা হলেই হাই বলা আমার ডিউটি হতে পারে , কম্পাল্ষণ কখনই নয় ।।
  • ফরিদা | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৬:৪৫507941
  • চৌবাচ্চাটি

    চৌবাচ্চাটি অন্ধকারে থাকে যতক্ষণ না কেউ
    এসে আলো জ্বালে কলঘরে ব্যবহার করে তাকে-
    তৎক্ষণাৎ সে জল বেড়ে দেয়, যতটুকু পারে।
    কলঘরে মানুষেরা বন্ধ দরজার পিছনে এসে
    একা একা চৌবাচ্চার জলে শান্তি পেতে চায় —
    গণগণে রাগে জল ঢালে, দু’কলি গানের লাইন
    কেউ রেখে আসে চৌবাচ্চার ধারে, যখন সে জানে
    এখানেই প্রকৃত নিভৃতি, যেই অন্য কাউকে মনে পড়ে।

    রহস্যময় চৌবাচ্চাটি, খবরের কাগজ পড়তে জানে না
    তবু বাইরে জল ঝড় হলে সে ক্রমশ সুশীতল হয়
    অভাবের গ্রীষ্মে পাঁজর দেখায়, বালতির আঁচড় অক্ষর।
    প্রসিদ্ধ অমর অংককার জানতেন সে অত্যন্ত গোপনে
    সীমিত আয়ের সংসারের সঞ্চয় থেকে প্রতিদিনই কিছুটা
    মাটির গভীর অজগাঁয়ে অভাবী বাপের বাড়িতে পাঠায়।
  • শিবাংশু | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ২৩:৫৭507942
  • বিভূতি মাস্টার
    -----------------------

    নিমীলিত অন্ধকারে চুপচাপ
    অক্ষয়বটের দিকে হেঁটে যাই
    জ্যোৎস্নার প্রহরা হয়ে তুমি

    লেভেলক্রসিং থেকে ডাহিগোড়া
    অক্ষরের নিভৃতি মোছা দরজায়
    ছাতাহাতে বিভূতিমাস্টার

    টর্চ নিয়ে ভাঙা আলপথে
    কাশফুল খুঁজেছো কি
    সেগুন আড়াল দেওয়া কোঠা

    বিনিদ্র তামাকের নেশা মানে
    মাদুর পাতা ঝুঁঝকো আঁধারে
    সুনসান আহ্লাদ ভরা ছাই

    রুয়ামের ভেজা জ্যোছনায়
    লবটুলিয়াও হতে পারে
    পরিদের চুপনাচ যাবে নাকি

    রাত হলো
  • ফরিদা | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ২২:২৮507943
  • দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে

    দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে অনেকে —
    নদীর মতো ছেৎরিয়ে যায়
    বুকে ঘাস বাড়ে, যতটুকু জল থাকে
    তা লোকে হেঁটেই পেরোয়, অকেজো অক্ষম।
    সামান্য বর্ষায় দু-কূল ভাসায়। জীবন্মৃত নিরুদ্যম।

    দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে
    কেউ কেউ কিছুটা শক্তও হয়, সয়ে নেয় —
    আর পিছোতে পারে না বলে
    ঘা সহ্য করতে করতে দেওয়ালের মতো হয়ে ওঠে।
    একসঙ্গে থাকতে থাকতে বটচারা শিকড়
    ছড়িয়ে দেয় দেওয়ালের শরীরে।
    ঘিরে ফেলে প্রতিপক্ষকে -
    যতক্ষণ না সে দেওয়ালেই মাথা খুঁড়ে মরে।
  • ফরিদা | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ২০:০০507944
  • হাসপাতালে

    হাসপাতালে এসে দেখি অজস্র উৎকণ্ঠারা, কথারা
    চাপাস্বরে ইশারায় চলাফেরা করে —
    জনৈক দাঁতে চিবোনো রুমাল মাথা নাড়ছে বারংবার।
    পাশেই কানে চেপে ধরা মোবাইলটি
    আকাশের দিকে তাকিয়ে যা বলে চলেছে —
    তা কিছুতেই তার সঙ্গী শুনতে চাইছে না।

    একটি ঝলমলে বিকেল কুশল ভ্রমণে এসে
    আষাঢ সন্ধ্যাকে বোঝাচ্ছে ঠিক কোনখানে
    ভুল হয়েছিল মেঘেদের কথায় নেচে আহাম্মকের মতো।

    অনেক স্থানীয় কফির কাপ কাঁধ পেতে সামলে দিচ্ছিল
    তবু ভেসে যাচ্ছে কেউ, ভেসে যেতে চাইছে
    এই সময়টুকু থেকে আলগোছে।
    বড় বড় পা ফেলে কারো প্রিয় বৃক্ষছায়া
    বাসস্টপে চলে গেল চুপিচুপি অজান্তে
    যখন একটি কীটব্যাগ সাতদিন ছুটোছুটি করে
    চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে এই সামান্য আগে
    হাসপাতালটি সে খবরটি দেওয়ার জন্য
    আলো জ্বেলে ঠায় তাকিয়ে - কখন সে জাগে।
  • ফরিদা | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ২৩:২৭507945
  • শেষতম লেখা

    প্রতিবার শেষ লেখাটির জন্য অপেক্ষায় কাটে সারাদিন
    লিখতে বসলে প্রতি অক্ষর, পাশাপাশি শব্দ,
    মুখোমুখি ঘর পরস্পর দেখাসাক্ষাৎ পরিচিতি হয়
    রাস্তার ধারে সারিবদ্ধ পাতাবাহার, শিশুরা স্কুলবাস ধরে।

    এইভাবে চলে চলে নদীটির মতো লেখাটিও
    অনেকটা অববাহিকা বয়ে বয়ে সমুদ্রে পৌঁছল
    হয়ত ঢেউতে ভাসবে কিছুটা, সামান্য পাতা হয়ে
    ডুবে গিয়ে মাছের খাবার হবে একা এক মাঝে —
    যদি বা সে ফুর্তিতে টলোমলো হতে চায়, দুলতে দুলতে
    হয়ত নিজে নিজে উঠে যাবে রাতের জাহাজে।

    শেষ লেখাটির পর ঘরে ফেরে জল তেষ্টাটি
    মশারাও ঝাঁকে ঝাঁকে, উফ এ গুমোট মেঘ থেকে
    ঘরময় ছড়ান জঞ্জালে নেমে এসেছি যখন —
    শেষ লেখাটি নিয়ে ট্রেন ছেড়ে দিল, ভাসানের ঢাক
    শব্দের রেশ যদি থাকে, থাক। চোখ কড়কড় কিছুক্ষণ।
  • শ্ব | 3445.224.9002312.53 | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৮:০১507946
  • যখ #৭
    _____________________

    সারাদিন আমি একটা ট্রান্সলেটর এর
    মধ্যে বসে একবারের ইনপুট কে
    আউটপুট থেকে কুড়িয়ে
    আরেকবারের ইনপুট এর মধ্যে ঢেলে দিই ,
    এমন কিছু জটিল কাজ না শুনতে -

    যেমন , এইযে আপনি বাংলা
    সেন্টেন্সটা ইনপুট
    দিয়ে ইংলিশটা পেলেন ওটাকেই
    ইনপুট হিসেবে দিয়ে আরেকবার
    ইংলিশ টু বাংলা করুন ,
    আর এইভাবে চলতে থাকলে আফটার
    সার্টেইন আইটারেশনস ...

    আপনি দুটো বাক্য পাবেন ,
    যারা
    অবিকল আলাদা স্তবক ,তবু
    ট্রান্সলেটরের মতে এক , যেন
    এরচাইতে নন সেন্স ?

    ...কেও নেই কিছু নেই

    আর কোনো সেন্স নেই,
    বেবি, বেবি মোরে গ্যাছে ।।
  • dd | 670112.51.0123.77 | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৮:২৩507947
  • ওঃ, পুরো ডন ডনা ডন, ডন।
  • ফরিদা | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৯:১৭507948
  • কথা থাকলেই বলে দিতে হবে
    এমন কথা তো নেই
    বরং জলসিঞ্চনে বাঁচে কথার চারাটি—
    ফুলবান রসস্থ হয়।
    শক্ত কথার ভিতে, মনোযোগ দিয়ে পাথুরে কথা সাজালে
    প্রাসাদ না হোক, গড়া যায় কথার সরাইখানা।

    যাতে কিনা বলে ফেলা একলা কথারা
    শূন্য হয়ে দেওয়ালে খুঁড়তে পারে মাথা
    চিৎকার করে ক্লান্ত হলে যেন জিরোতেও পারে সেইখানে
    সকালের দিকে জানলা খুলেই যেন দেখে
    ঘাসময় পড়ে আছে শিউলির আলপনা।
  • কুশান | 238912.66.9002312.226 | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৪:০৬507949
  • দা ভিঞ্চি কোড

    তোমার ঠোঁটে ভর করেছে পাঁচ-দশকের মধুবালা।
    বেখেয়ালি, হাসছো হি হি।
    'নাহয় দুজন হারিয়ে যাবো, রাভাংলা কি ধরমশালা?'
    এই না শুনে চোখের ঠারে হানলে হঠাৎ বহুব্রীহি!

    তোমার প্রেমিক ঠুনকোহৃদয়, আখুটে এক অভিমানী,
    কথায় কথায় ওষ্ঠ ফোলায়;
    দয়ালই তার বিচার করুক, তুমিও দেখো একটুখানি-
    তোমার হাসি দা ভিঞ্চি কোড, প্রেমিক এবং ভুবন ভোলায়....
  • ঠোঁটকাটা | 122312.242.016712.210 | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১২:৪৬507951
  • নেকুপুষু কবতে।
  • ফরিদা | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৭:৪১507952
  • কাছাকাছি হ’লে কানাকানি হয়, দেখ
    গাছগুলি মধুমাসে ঈর্ষায় এতটাই লাল
    পাতাটাতা ঝরিয়ে ফেলেছে। তুমি লেখ
    আকাশকে সে কথা, আজ নয় কাল।

    কৌতুক মনে হয়, দেখি অভিযোগপত্র
    তুলে নেয় নিরক্ষর পথিকেরা একে একে
    নিজ ভালোবাসায় নিয়ে ছড়াবে যত্রতত্র
    শিশুদের হাতে তুলে দেবে, রঙ যাতে শেখে।

    হাওয়া এলে না হয় তফাতে থাকি দু’জনায়
    প্রতিবেশী দেখে নয় কুশল জিজ্ঞাসা, হাসি
    যাতে সন্দেহ কমে, ঋতুপরিবর্তন নতুন জামায়
    গুঞ্জনের মধ্যে কিছু কথা আরও পাশাপাশি।

    তুমি মনে রেখ যেন গন্ধ,স্পর্শ চিহ্ন অন্তরে
    অন্ধকারে শব্দহীন ফের শিকড়ে শিকড়ে।
  • b | 4512.139.6790012.8 | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১১:৫২507953
  • কাল রাত্রে বাবার সাথে দেখা হল।
    অদ্ভুত বৃদ্ধ। বাইরে বৃষ্টির শব্দ, জলের আওয়াজ
    ঘরের ভিতরে টেবিল চেয়ার তেলচিটা খাট ওষুধ খাদ্যের অবশেষ
    সবকিছু উপচিয়ে অবিন্যস্ত অ্যালবামের পর অ্যালবাম ।
    এই দ্যাখ
    তুই হাঁটছিস ইস্কুলের পথে, ক্লাস সিক্স, রাস্তায় ভীষণ রোদ, কুকুরটা গাছের ছায়ায়।

    আমি, ক্রমশ বিরক্ত হই। প্রতিবারের মত।
    দাড়ি কামাও না নাকি? ঘর দোর এত্ত অপরিষ্কার? থাকো কি করে?
    মাথা নেড়ে বুঝে যাই এই কেস সারবার নয়
    কালকে সন্ধ্যার ঝোঁকে ডাক্তারকে ফোন করে
    একবার কথা বলে নেবো
    এসব ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফিরি ছেলেটা
    টলমল করতে করতে কোলে ওঠার জন্যে হাত বাড়ায়।

    আমি, ছবি তুলতে থাকি,
    বাইরে বৃষ্টির শব্দ, জলের আওয়াজ
  • ফরিদা | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১২:৪৫507954
  • b-মুগ্ধতা..!
  • ফরিদা | ০৩ অক্টোবর ২০১৮ ২৩:০৭507955
  • রীতিমতো পরীক্ষা করে দেখা গেছে
    এ পৃথিবীতে রচিত স্থাপিত আবির্ভূত শ্রুত দ্রষ্টব্য সমূহের
    প্রতিটিরই প্রাণ আছে।

    বলা কথাগুলি, উচ্চারণের পরে
    অন্তত কিছুক্ষণ দপদপ করে —
    শ্রুত হ’লে অনুভূতির উদ্দীপনা ঘটায়।
    প্রতি দৃশ্য, দৃশ্যান্তর মায় দর্শনের ব্যাঘত সৃষ্টিকারী
    ধুলো বালিকণা অবধি অতি প্রাণশক্তি সম্পন্ন।

    প্রত্যেকের শিরায় বয়ে যায় ভালবাসা উৎকণ্ঠা আবেগ
    প্রত্যেকে নিজ সমাজে চেনাপরিচিত, আলাপচারিতায়
    এইভাবে চন্দ্র সূর্য অভিকর্ষবল তথা সংখ্যারা অঙ্কখাতায়
    অসীম জীবজগতের পরিধি বাড়াতেই থাকে —
    প্রাণরক্ষার্থে একে অপরকে খেয়ে বেঁচে থাকে
    যে যতটা ভালোবাসে যাকে।
  • ফরিদা | ০৩ অক্টোবর ২০১৮ ২৩:৫৮507956
  • প্রতিটি রচনাই কিছুক্ষণ কিছু না কিছু দেয়
    কেউ সামান্য ছায়া, কেউ এক গ্লাস জল
    তো কেউ হাতের সামনে গামছা বাড়িয়ে দেয়।

    ফুল ফোটায় কেউ সুগন্ধি, কারও উজ্জ্বল পাপড়ি সম্ভার
    ফললাভও হয় দেখা গেছে, কেউ সঙ্গ দিল একাকীত্বে
    কিচ্ছুই বলে না।
    সে কিছুটা জিরোলে তার পাশ থেকে পালাতেও হয়,
    এক জায়গায় আটকালে চলে না।
  • ফরিদা | ২২ অক্টোবর ২০১৮ ১৯:৫১507957
  • সেদিন এক ফোনের সঙ্গে কথা হচ্ছিল,
    বলল অনেকটাই মেরে এনেছে ওরা মানুষকে,
    এত বেশি সহায় সম্বলহীন নাকি কেউ করতে পারে নি।

    সারাক্ষণ ঘাড় নিচু রেখেও সে আর দেখতে পারছে না
    তার পা ঠিক কোথায় পড়ছে, হোঁচট খাচ্ছে হজম করছে
    কাকে কান নিয়ে উড়ে গেলে দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে
    পুলিশের ফেসবুক পাতায় লিখে আসছে সে কথা।
    গান শুনছে, প্রেম করছে, ভিড়ে বা একান্ত নির্জনে
    চুরি চামারিও সে আজকাল করে যাচ্ছে ফোনে ফোনে।

    নিজেদের প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা হয় না তার,
    কথা হয় না বহুদিন সামনা সামনি
    তাক বুঝে একে অপরের ফোন নিজেরাই
    দিন ক্ষণ ঝোপ বুঝে কোপ মেরে যায়।
    অনেকটা পেড়ে ফেলেছে ওরা — ফোনটি বলল
    কয়েক মুহূর্ত বাকি মানুষের, সব এখন ফোনের কব্জায়।
  • b | 562312.20.2389.164 | ২৫ অক্টোবর ২০১৮ ১৪:০০507958
  • লাইনে দু নম্বর
    *************
    কাঁধের নিচে ঠান্ডা আঁচিল, ছোটবেলায় খুঁটলে বিরক্ত হত খুব
    নদী ভাঁটার টানে অনেকটা দূরে
    জল আনতে কাদা মাড়িয়ে
    যেতে হবে
    ফ্রেঞ্চকাট দাড়িতে মুখটা জব্বর মানাতো কালই বোধ হয় শেভ করেছিলো

    শুক্লা চতুর্দশী সাতাশে ফাল্গুন দোষ নাই
    বলে অধৈর্য্য একজন
    টাগরায় শব্দ করে ইস
    আরেকটু আগে এলে
    কয়েকটা অবোধ্য সংস্কৃত কথা হারিয়ে যায়
    শেষতম এমোনিয়ার শরীরী গন্ধ
    ঐ তো ওপাশে একটা কল কাদা
    ধুয়ে নেওয়া যাবেখন
    হাওয়ায় গায়ের ভীষণ ঠান্ডা চাদর সরে যাচ্ছে
    আহাঃ পাটকাঠিগুলো কিছুতেই জ্বলতে চায় না দেওয়ালের পাশে গিয়ে কেন
    একলা মুখটা এতো শান্ত
    এক্ষুনি দরজা বন্ধ হবার দমাস শব্দ হবে

    রবিবাবুর গানগুলো স্রেফ ফোঁপরা বাচালতা
  • de | 90056.185.673423.51 | ২৫ অক্টোবর ২০১৮ ১৭:৩৯507959
  • আহা!
  • জারিফা | 671212.193.563412.58 | ২৬ অক্টোবর ২০১৮ ১১:১৬507960
  • মিটু

    তিন অক্ষর আনাজের আয়োজন শেষ। এবারে সাজানো উনুন। ঘি মাখানো প্রিয় দেহ। কাঁচা শেকড়ের গন্ধ মিলেমিশে একাকার, নুনে-ঝালে। অপরিমিত যত ভয় ও বেদনা, সহানুভূতি ও সন্ত্রাস - ছিটিয়ে পরিবেশন কর বুভুক্ষু খাদকসারির পাতে ।

    এসব ব্যস্ততায়, খুঁটে খেতে খেতে, গল্পে মশগুল অন্ধ শকুনেরা চমকায় কখনও সখনও, ভুলেও'বা: ছায়ার প্রবৃত্তি যত অনামী, আনাজ বেচা মেয়েদের অগণন জগৎ।
  • ফরিদা | ২৬ অক্টোবর ২০১৮ ২২:৫১507962
  • সাবাশ জারিফা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন