এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • ধর্ষণের শাস্তি কি মৃত্যুদন্ড?

    s
    অন্যান্য | ১৮ ডিসেম্বর ২০১২ | ৬৯৬৪৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • aka | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১৮:১৪579959
  • জোর করে ভ্যালু সিস্টেম চাপালে রেপড হয়ে যেতে হবে? এইসব যাতে না হয় তার জন্যই আইন কানুন ইত্যাদি থাকে।
  • cm | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১৮:২৪579960
  • আর জোর করে ভ্যালুসিস্টেম কে চাপাচ্ছে? এই গরমে বস্তায় নিজেকে আপাদমস্তক না ঢাকলে কি তারে জোর করে ভ্যালুসিস্টেম চাপানো বলে? না তারজন্য টিটকিরি পাওনা হয়?
  • ভ্যালুসিস্টেম | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১৯:২৭579962
  • আর জোর করে ভ্যালুসিস্টেম কে চাপাচ্ছে? এই গরমে বস্তায় নিজেকে আপাদমস্তক না ঢাকলে কি তারে জোর করে ভ্যালুসিস্টেম চাপানো বলে? না তারজন্য টিটকিরি পাওনা হয়?

    কিছুটা এই ধরনের ডিবেট বোধহয় ফ্রান্সেও বোরখা ব্যান করার সময়ে হয়েছিল। এক্দ্ল বলেছিল বোরখা একটি রিপ্রেসিভ পোষাক, নারীস্বাধীনতার পরিপন্থী। আরেক্দল বলেছিল এটা পশ্চিমা দেশগুলির বক্তব্য, বোরখা যারা পরে তারা নিজেরা অস্বাচ্ছ্ন্দ্য বোধ করেনা, আর কোন একটি পোষাক যদি ব্যানই করতে হয় তো তালিবানদের সাথে ফারাক কি রইল? এটাও বোধহয় দুটো ভিন্ন ভ্যালুসিস্টেমের সংঘাত। কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল?
  • মরালিটি | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১৯:৩৫579963
  • ফ্লাডগেটটি একবার খুলুন, প্রেসেডেন্টটি একবার সেট করুন রুরাল ইন্ডিয়ার 'মরালিটির' সাথে কমপ্রোমাইজে আসার, এই থান ইটটি গলায় একবার চাপলে সোজা তলিয়ে যাবেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টি অলরেডি ঢোঁক গিলছে, সংখ্যাগুরুটিও যাবে। বিপদটা এইখানেই।

    দেব, মজার কথা হলো, আপনার রুরাল ইন্ডিয়াও কিন্তু শাইনিং ইন্ডিয়ার সম্বন্ধে একই মনোভাব পোষণ করে। তারা ভাবে শাইনিং ইন্ডিয়া নানারকম ইম্মরালিটির মধ্যে দিয়ে তলিয়ে যাচ্ছে। তাই ভাবছি, এর সমাধান কি?
  • sch | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১৯:৩৬579964
  • সোসেন দিদি আপনার প্রশ্নটা অনেক সময় মাথায় আসে। কোনো এক কলেজবেলায় বন্ধুদের বলেছিলাম কৌশিকীর গান বা ব্রততীর কবিতা শুনলে ছুঁতে ইচ্ছে করবে না - শুধু শুনতেই ইচ্ছে করবে। উত্তরে তারা বলল - ঢ্যামনা শালা ডাক্তার দেখা। আবার আমার হয়তো ম্যাডোনার গান শুনলে ওই সঙ্গীতে দগ্ধ কোকিলাহারী হাল হবে (জানিনা অবশ্য এখন অনেক দিন ম্যাডোনাকে দেখি নি) এখন কৌশিকী বা শ্রেয়া বা কবিতা কৃষ্ণমূর্তি ক্রিসচিনা অগ্লিয়েরার মতো ড্রেস করলে কি হবে জানি না।

    এখন ব্যাপার হচ্ছে এই যে টার্মটা ইউজ করলেন "লালসা" সেটা খুব কমপ্লিকেটেড। এটা একটা মেন্টাল স্টেট, অনেক সাইড এফেক্ট থেকে জাগে। যে দেখছে তার লেভেল অফ স্টারভেশান, তার ব্যক্তিগত সেক্সুয়াল ট্রিগার, যৌনতা সম্বন্ধে তার অপরাধ বোধ (অনেকেই মনে মনে কাউকে চিন্তা করে মাস্টারবেট করাটাকে সাংঘাতিক অপরাধ মনে করে আবার অনেকের কাছে এটা জলভাত) কাজেই.........

    কাল আমি সেই চেষ্টাটাতেই যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম - কি ট্রিগার করে মানুষের অনুভূতিগুলো - তারপর তো দেখলাম মিসোজিনির তত্বে সব ভেসে গেল :)

    মিসোজিনি প্রমোট করছে হেট্রেড ফিলিংসকে - কিন্তু আমার কাছে একটা বেসিক কনফিউশান হচ্ছে। যদি ৮৫% রেপ চেনা লোকের দ্বারা হয় - তাহলে কি সেখানে মিসোজিনি বেশী আসে না ওই লালসা টালসা বেশী আসে? ইদানীং কালের টপ রেপগুলো কিন্তু অচেনা লোকেদেরই করা। আর একটা ১৪ বছরের মেয়েকে যখন তার কেহ্লার সাথীরা রেপ করে তখনো কি মিসোজিনির তত্ব চলে?

    কি জানি কিছুই বুঝতে পারি না - এত্ত কঠিন সব থিয়োরী -- আমি সত্যিই একটা গান্ডু
  • riddhi | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১৯:৪২579965
  • @ স্যান, "যৌনতা বেচতে বেচতে এমন একটা সর্বগ্রাসী নর্ম তৈরি করে ফেলে যেখানে নারীশরীর পণ্য না হওয়ার জায়গাটাকে ক্রমশ গিলে নিতে থাকে। কোনো মেয়ের যৌনতা বেচার অধিকার থাকা, আর যৌনতা মাত্রেই বিক্রির জন্য নিবেদিত এরকম একটা কালচারাল নর্ম তৈরি .."
    কোথায়? কিকরে? উদাহরন? বা থিওরী হলে, তার প্রমাণ?

    পণ্যায়ন খারাপ লাগার হাজারটা কারণ থাকতেই পারে। কিন্তু প্রথম অবস্থান স্পেসিফিকালি এইরকম কিছু বলে * বিজ্ঞাপনে নারীদেহেরের ব্যবহার ওব্জেক্টিফিকেশনের পথ খুলে দেয়*। এখানে নগ্নতা কে ওব্জেক্টিফিকেশনের একটা মেকানিস্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে। ঠিক এইখানে অপত্তিটা। আর, এই ওব্জেক্টিফিকেশনের ভূত সব জায়গায় পাবেন। যেমন আইটেম সং, সেখানেও ঐ এক গোদা লেভেলের স্ববিরোধিতা অছে।

    অনেকে বলবেন আরে বাব্বা এখানে তো নগ্নতা "উপস্থাপিত" হচ্ছে, কিন্তু সেক্ষেত্রেও এটা ইম্প্লিসিটলি এক্সেপ্ট করা হয়ে যায় যে মেল সাইকিতে এই নগ্নতা দেখে অব্জেক্টিফায় করার জমি সর্বদা প্রস্তুত।
  • riddhi | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১৯:৪৯579966
  • দুটো এড পরিবেশন করছি।

    প্রথম এড-- কড়াইয়ে মাগুর মাছের ঝোল চলছে। এক বেহেন্জি-সমা বৃদ্ধা বলছেন "মাগুর হোক বা পাবদা, আপনাদের দাদার পছন্দ- সেই কুকমি। তবে হ্যাঁ, কিছু মাছ উনি এমনি এমনি খেতেই ভালবাসতেন " কাট সিন। পাঁচ সেকেন্ডের জন্য "দেখুক পাড়া পড়শীতে", বৃদ্ধার গাঁড় কেলিয়ে হাসি ও যবনিকা পতন।

    দ্বিতীয় এড--একটা পটাকা-সমা অভিনেত্রী প্রায় নগ্ন অবস্থায় ক্যানডেল-লিট ঘরে ঢুকেই দেখলেন ওনার ডেট বিছনায় বসে মুর্গ মসল্লম খাচ্ছে। কপট রাগ প্রকাশ করে তিনি গট্গট করে এসে প্লেটটি তুললেন। সামান্য চেখে পরম তৃপ্ত হয়ে বল্লেনঃ বেডরুমে হোক বা কিচেনে, চিকেন থাকুক বা মাশরুম, আমার মনের মানুষটিকে হতে হবে কিন্চিৎ মসালাদার। তারপার উদ্ধত ভঙ্গিতে ক্যমেরার দিকে তাকিয়ে বল্লেন "cook me"। সেক্সি পোশাকটি খুলে পড়ে গেল।

    ঐ অবস্থান অনুযায়ী দুটোতেই "ওব্জেক্টিফিকেশান"এর সম্ভবনা থাকা উচিত, প্রথমটাই আরো অনেক সোজাসুজি। কিন্তু দ্বিতীয়টাই নগ্নতা আছে। দ্বিতীয় গোত্রের এড নিয়েও বা ওগুলো নিয়েই অনেক আপত্তি হয়ে থাকে।
  • riddhi | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১৯:৫৮579967
  • সি-এম "অন্য রা বলছে সাজপোষাকের জন্য হেনস্থা করা কাম্য নয়"
    "কাম্য" র থেকেও এখানে হেনস্থা করা হয় না এটাই বলা হচ্ছে। যেমন অনেকে বিদেশের উদাহরণ দিলেন ঐ জন্য।
    অনেক প্যারালেল ডায়ালগ চলছে, ট্র্যাক রাখা মুশকিল।
  • pi | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ২০:০০579970
  • যৌনকর্মীদের শরীর কেনা বেচায় পণ্যায়ন খুঁজে না পাওয়া আর বিজ্ঞাপনে নারী শরীর প্রদর্শন মাত্রেই আপত্তিযোগ্য পণ্যায়ন, এ আরো বেশি স্ববিরোধ। আগে যেটা বলেছিলুম, সেটার থেকেও বেশি।
  • cm | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ২০:১২579971
  • কিন্তু কদিন আগে পাই ফেসবুক থেকে একটি খবর দিয়েছিলেন যেখানে একটি ছবি আছে আর ওপরে লেখা আছে একটি মেয়ে একটি ছেলেকে চড় মেরেছে কিন্তু ছেলেটি টিটকিরি দিয়ে কি কিছু অন্যায় করেছে? অনেকেই লাইক করেছেন যা থেকে মনে হয়েছিল তারা ছেলেটির কাজ সমর্থন করেছেন। (পাই আবার ছবিটির লিঙ্ক দিলে ভাল হয়।)

    এর থেকে সিদ্ধান্ত করা যায় যে ঋদ্ধি যে বললেন ""কাম্য" র থেকেও এখানে হেনস্থা করা হয় না এটাই বলা হচ্ছে। " সেটি ঠিক নয়। অনেকেই হেনস্থাকে সমর্থন করেন।
  • দেব | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ২১:৪১579972
  • @মরালিটি
    সে তো করেই। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক 'গেল গেল গেল' তো বেজেই চলেছে।

    এখন আপনাকে কেস বাই কেস নিতে হবে। কোথাও সফট কোথাও হার্ড। ডিপেন্ডিং অন ডিফারেন্ট প্যারামিটারস এন্ড এবিলিটি অফ দা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে অ্যালিয়েন ভ্যালুসিস্টেম চাপাতেই হবে আপনাকে। ছাড় দিতে জাস্ট পারবেন না।

    রুরাল ইন্ডিয়ার ভ্যালুসিস্টেম থেকে কি আমাদের কিছু শেখার থাকতে পারে? পারে। এগেন, কেস বাই কেস।
  • Ishan | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ২৩:২০579973
  • ওমনাথকে আর কতবার বলব, "অমুককে রিপ্রেসেন্ট করছি" না বলে একটু নিজের অবস্থান লিখতে। "ওমুক কী ভাবে" বা মিসোজিনির কী দৃষ্টিভঙ্গী -- সেগুলো আমরা মোটামুটি জানি। এবার একটু নিজের বক্তব্য হোক। নচেৎ আমার প্রবল বিশ্বাস হচ্ছে, প্লেসহোল্ডারের জবানীতে নিজের অবস্থানই জানানো হচ্ছে। সেই বিশ্বাসের পিছনে কিঞ্চিৎ অবজার্ভেশনও আছে। যেমন " নইলে ঐ পুরুষের মুগ্ধ দৃষ্টি, লালসার দৃষ্টি, সিডিউসড আর সেক্সুয়ালি অ্যারাউসড স্টেট এনজয় করার আনন্দ, প্লেজার, গর্ব, নিজের ইম্পর্টেন্স এইসব দিকে ভাবলে, দেখা বা দেখানোর সময়ের নিজের পণ্যমুল্য সম্বন্ধে একটু ধারণা হতে পারত। " -- এই বাক্যটা কিছুতেই কোনো প্লেসহোল্ডারের বক্তব্য নয়। প্লেসহোল্ডারের সঙ্গে নিজের নৈতিক অবস্থান মিশিয়ে দেওয়া। নিজের নৈতিক অবস্থানকে কথার মাঝখানে গুঁজে দেব, আর প্রশ্ন করলেই বলব "ওটা আমি না, প্লেসহোল্ডার" -- এই চাতুরির প্রয়োজন কি?

    দুটো অবস্থান নেওয়া যেতে পারে।১। খুব সতর্ক হয়ে "ওমুক ভাবে" টা একেবারে "ওমুক ভাবে" হিসেবেই রিপ্রেজেন্ট করা। কোনো ভাবেই সেখানে নিজের মরালিটির ছায়া না পড়ত দেওয়া।যেটাকে গুরুর ভাষায় আমরা বলি নির্মোহ ব।
    ২। সোজাসুজি নিজের বক্তব্য ক্লিয়ার করে বলে দেওয়া। "আমি এই ভাবি, এই আমার অবস্থান"।

    এখন যেটা হচ্ছে, এ, দুইয়ের কোনোটাই না। আগেই বললাম, মনে হচ্ছে, কায়দা করে নিজের অবস্থানকে গুঁজে দেওয়া হচ্ছে প্লেসহোল্ডারের জবানীতে। দরকার কি? বিতর্কিত বক্তব্য বলতে হলে নিজের জবানীতেই বলা ভালো না? অসুবিধে টা কি?
  • Ishan | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ২৩:৩২579974
  • এবার স্যানকে।

    তাহলে বা বোঝা গেল, একজন "ইন্ডিভিজুয়াল মেয়ে" ব্যক্তিগত জীবনে কিছু বেচলে কোনো অসুবিধে নেই। মেয়ে নয়, কেউ কিছু বেচলেই কোনো অসুবিধে নেই। দোষ হল ইন্ডাস্ট্রির। বা মার্কেটের। যে চয়েসকে ছোটো করে আনে।

    এটা কিন্তু একটা ক্লাসিক স্ববিরোধের কেস। একটা কাল্পনিক কেস স্টাডি করলেই পরিষ্কার বোঝা যাবে। ধরা যাক, একজন ইন্ডিভিজুয়াল ও স্বাধীন মহিলা। তিনি নিজের মেধা বেচে অ্যাড এজেন্সিতে কাজ করতেন, এখন নিজেই একটি অ্যাড এজেন্সি বানিয়েছেন। খুবই সম্মানীয় পেশা। খুব সৎ মহিলা, সারাজীবনে কোনো "আনডিউ অ্যাডভান্টেজ" নেননি। কেউ তাঁকে ঘাড় ধরে কিছু করাতেও পারেনি। তিনি ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী নানাপ্রকার অ্যাড বানান ও টিভিতে দেখানোর ব্যবস্থা করেন। নারীকে "মোহময়ী" বানান (মডেলরাও স্ব-ইচ্ছাতেই বনে আর কি), বুড়োদের "কুচুটে " বানান, পুরুষদের পেশীবহুল বানান, ইত্যাদি।

    এবার প্রশ্ন হল, এই মহিলাকে আমি কোন অবস্থানে রাখব? তিনি কি সরাসরি "পণ্যায়ন" ঘটাচ্ছেন বলে দুষ্ট, নাকি "স্বাধীন" বলে সম্মানীয়? তাঁকে "পণ্যায়ন করছেন কেন মশাই?" বলে প্রশ্ন করলে তিনি এক কথায় বলে দেবেন, "আমি ইন্ডিভিজুয়াল আমার মেধা ও পরিশ্রম বেচি। তাতে আপনার সমস্যা কি?" সঙ্গে তিনি ওই স্যানের কথাও যোগ করবেন, "কেউ শরীর বেচে রোজগার করলে আমার সমস্যা নেই। কেউ মেধা বেচে চাকরি পেলে আমার সমস্যা নেই। সমস্যা হবে যদি মেধা লাগে এমন চাকরি পাবার জন্য শরীর দিতে হয়, অর্থাৎ দেওয়াই নর্ম হয়ে যায়।" আমি তো এমন কিছু করছিনা। অতএব আমি দায়মুক্ত।

    এবার এটা শুধু ওই মহিলার অবস্থান নয়। ধরুন, যে সাবান কোম্পানির অ্যাড তিনি করছেন, তার মালিককে যদি প্রশ্ন করেন, তিনিও ওই একই কথা বলবেন। "আমি আমার মেধা ও পরিশ্রম বেচি। আমার এখানে কাউকে জোর করে কিচ্ছু করানো হয়না, এমন কোনো নর্ম নেই"। সমস্যা কি?

    এইভাবে খু`জতে খুঁজতে দেখবেন, আসলে সব্বাই স্বাধীন, সাবান কোম্পানির মালিক, কর্মচারি, অ্যাড এজেন্সির মালকিন, মডেল সব্বাই। কেউ কারো উপর জোর করছেনা। সব্বাই নিজের মেধা, পরিশ্রম, শরীর ইত্যাদি বেচছে। তাহলে জোর করছে কে? কে বানাচ্ছে পণ্যায়নের নর্ম? কোত্থাও কাউক্কে পাওয়া যাবেনা। ফলে পণ্যায়ন জিনিসটাই অবাস্তব হয়ে যাবে। এইটাই স্ববিরোধ।

    এই রাজনৈতিক অবস্থানটি তাই কনজিউমরিজমকে একটি বায়ুভূক এনটিটি বলে দেখায়। অনেকটা "সাম্রাজ্যবাদের কালো হাত"এর মতো। সে হাত যে কোথায় কেউ জানেনা। সব্বাই স্বাধীন, কেউ কনজিউমারিম প্রোমোট করার দোষে দুষ্ট নয়, শুধু দোষ দেবার জন্য ব্যাটা পাজি কে ব্যবহার করা হয়। নিজের সুবিধে অনুযায়ী ব্যবহার করা ছাড়া তার আর কোনো বাস্তবতা নেই।

    আর যদি তা না হয়, যদি কনজিউমারিজম একটা বায়ুভূক জিনিস, "সাম্রাজ্যবাদের কালো হাত"এর মত কেবল একটি রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর না হয়, তাহলে মানতে হবে, যে এটা একটা সিস্টেম। এবং এই সিস্টেমের অংশীদার নাটবল্টু সহ সবাই। কম বা বেশি। যখন আমি নিজের শরীর বেচছি, অপিসেই হোক বা যৌনকর্মে, আমি নিজেকে পণ্য করছি, এবং বাকি পণ্যগুলিকে বৈধতা দিচ্ছি। "আমি তো বাবা নিজের কাজ করি, কারো চয়েস এনক্রোচ করিনা", কথাটার জাস্ট কোনো মানে নেই। কেউই সেটা করেনা। আবার মার্কেট ইকনমির অংশ হিসেবে সবাইই সেটা করে চলে। প্রতিনিয়ত। এই হল কথা।

    পুঃ এখন সার্কাজম পছন্দ করছে কিনা স্যান কিন্তু বললনা।
  • :-) | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০০:২০579975
  • ঈশান ও পড়া করে না। স্বাভাবিক। সময় কম। Date:20 Sep 2013 -- 03:54 PM ৪০ পাতা।
    আপনি যেভাবে পড়তে চাইবেন সবাই ঠিক সেভাবে নাও লিখতে পারে। এটুকু মেনেই নিতে পারেন কমরেড।
  • Ishan | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০০:৪১579976
  • পড়বনা কেন? পড়েই তো প্রশ্ন। মিসোজিনি তাহলে ওমনাথের ঘোষিত অবস্থান ধরে নেব তো?
  • aranya | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০১:১৪579977
  • আর ২৪ ঘন্টার মধ্যে যদি কি করিতে হইবে-র লিস্টি না আসে, তবে স্মাইলির-ই একদিন কি আমার-ই এক দিন! এত পাতা জুড়ে শুধু মিসোজিনি নিয়ে রগড়ান, তাও সবই জানা কথা, এয়ার্কি হচ্চে? :-)
    অফ টপিক, কেউ যদি নিজের নাম স্মাইলি-ই লিখতে চায়, তাকে সোমনাথ/ওমনাথ ডাকা কি ঠিক?
  • Ishan | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০১:১৯579979
  • ওমনাথ টা তো প্লেসহোল্ডার। :)
  • pi | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০১:২৬579981
  • রোবুও পড়া করেনা। ওটা অনেক আগে দিয়েছিলুম ঃ)। অবশ্য এটা যতবার দেওয়া যায়, ভাল ঃ)
  • san | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০৯:৩৫579982
  • বোঝো কান্ড ! ঈশান তাহলে একটু বুঝিয়ে বলুক।

    একটা প্রশ্ন করি। এই যেমন একটি ছেলে নিজের জীবনে যদি বলে আমি ফর্সা মেয়ে ছাড়া বিয়ে করবনা, সেটা নিশ্চয় তার চয়েস, এজন্য তাকে দোষ দেওয়া যায়না ? ( কেনই বা দেবে, তুমি তো চয়েসের পক্ষে ) যদি আলাদা আলাদা করে দেখা যায়, হাজারটা ছেলে একই কথা বললে প্রত্যেকটাই কোনো ব্যক্তির চয়েস, কারোক্কে দোষ দেওয়া যাবেনা। কিন্তু টিভিতে যদি তেরোটা অ্যাডে তেরোটা ছেলেকে দেখা যায় বলতে ফর্সা মেয়ে ছাড়া বিয়ে করবনা, তারপরে একটা করে ফর্সা হওয়ার ক্রিমের বিবরণ। সেই অ্যাড দেখে সমালচনা করবে, না করবে না ? অ্যাড গুলোর অথবা গ্রোয়িং ট্রেন্ড টার ? যেখানে মেয়েরা ফর্সা না হলে বিয়ে হয়না ? ট্রেন্ড যদি সবসময়েই ব্যক্তির চয়েসেরই যোগফল - তাহলে চয়েসের পক্ষে থাকলে বেআইনি কাজ ছাড়া কোনো ট্রেন্ডেরই কখনো সমালোচনা ঠিক না, তাই তো ?
    আর বাই চান্স যদি করো ও, সমালোচনা মানে কি আর সেই অ্যাড এর ক্যামেরাম্যান থেকে অভিনেত্রী এদের ধরে ধরে নিন্দে করবে ?

    অ্যাডের বা ট্রেন্ডের সমালোচনা করবে কি করবে না এবং কেন বুঝলে পরের প্রশ্ন করব।

    *এর সঙ্গে ধর্ষণ পণ্যায়ন কিছুর সম্পর্ক নেই। আমি জাস্ট বুঝতে চাই এইভাবে মার্কেটকে ব্যক্তি দিয়ে ভেঙে ভেঙে বিচার করার পদ্ধতিটা ঠিক কিনা।
  • san | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০৯:৩৬579983
  • পুঃ সার্কাজম নিয়ে পরে কখনো কথা বলব।
  • :-) | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১২:৫০579984
  • আচ্ছা আপনারা অর্থনীতিটা ভালো বোঝেন। উদাহরণ ও খুব পছন্দ করেন। আইন সম্পর্কে শ্রদ্ধার দৃষ্টি রাখেন। আরো দুটো কেস নিন।

    আমি বেজায় বড়লোক। আমার বাড়ির সামনের ফুটপাতের ধারে কিছু একেবারে ছ্যাঁচড়া গরীব প্লাস্টিক ফ্লাস্টিক দিয়ে ঝুপড়ি বানিয়ে থাকে। আধপেটা খায় না কুড়িয়ে বাড়িয়ে খায় না শুধু ফ্যনাভাত খায়, জাস্ট জানিনা। আমার বাড়িতে প্রায়ই পিজ্জা আসে, বিরিয়ানি, কে এফ সি, ম্যাকডোনাল্ড ইত্যাদি খাদ্যমোচ্ছব। ওরা বোধহয় দেখতে পায় খাবার আসতে, ঘরে আনন্দ উচ্ছ্বাসের সাথে খাওয়া দাওয়ার উজ্জাপন, খাবারের প্যাকেট উচ্ছিষ্ট আমাদের বাড়ির সামনেই (অর্থাৎ ওদের চোখের সামনেই) ফেলা হয়। স্তুপ হয় না, ময়লা ফেলার গাড়ি এসে নিয়ে যায় রোজ। তো এই জিনিসটা ঠিক কেমন ঠেকছে অমানবিক, না ঠিক আছে? আমি আমার কষ্টার্জিত টাকায় ভালো মন্দ খাওয়া দাওয়ার সময় সামনের ঝুপড়ির কথা কোনোমতে কখনো ভাববো কি? আমার বাড়িতে দারোয়ান আছে, মাঝে মাঝেই পুলিশ কমিশনার মামা এসে ঘুরে যায়। আমি জানি আমি সেফ। ওদের কখনোই সাহস হবে না আমাদের বাড়িতে কিছু করার, ধরুন ঢিল মারার, ধরুন খাবার কেড়ে নেওয়ার। এবার কিছু ঘটনা। একটা হাফ অন্ধকার নির্জন গলি দিয়ে ৩ প্যাকেট বিরিয়ানি নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় পাশের পাড়ার একটি বাচ্চা ছেলের হাত থেকে প্যাকেট কেড়ে নিয়ে দুটো ছায়ামূর্তি পালিয়ে যায়। আমাদের বাড়িতে একবার একটা ডেলিভারি দেওয়া খাওয়ার পচা হওয়ায় সেটা প্রায় গোটাটাই প্যাকেট শুদ্ধু ফেলে দেওয়াহ হয়েছিল। দুদিন পরে ঐ ঝুপড়ির একটা মেয়ে ফুড পায়েজনিং না কলেরায় মারা যায় শুনি। একদিন ঝুপড়ির লোকটা বৌকে প্রবল পেটাচ্ছিল, নাকি কোথা থেকে চেয়ে চিন্তে সে কিছু কাবাব যোগাড় করে এনেছিল। ইত্যাকার কিছু ঘটনা, যার সঙ্গে আমাদের প্রত্যক্ষ ভাবে কোনো যোগ নেই বা আমরা কোনোভাবেই দায়ি নই।

    আর একটা কেস নিন। এক এলিট বড়িতে তাদের বাড়ির সদ্যযুবতী মেয়েটি কাজ করে, ধরুন ১৮+। গৃহস্বামী প্রায়শই বাড়ি থাকেন না, যখন মহিলার বিভিন্ন পুরুষ বন্ধু আসেন। মহিলা তাদের সাথে বেডরুমে সময় কাটান। দরজার বাইরের থেকে শীৎকার ও রমণশব্দ শোনা আর পরে ব্যবহৃত কন্ডোম ফেলে আসা ছাড়া সেইসময় মেয়েটির বিশেষ কাজ ও থাকে না। পড়াশুনো ও স্বাভাবিক খুবই সামান্য। মেয়েটি কদিন পরে পাড়ার একটি চূড়ান্ত বাজে হুলিগানের সাথে পালিয়ে যায় ও মাসতিনেক চূড়ান্ত ব্যবহৃত হয়ে অন্তস্বত্তা হয়ে ফিরে আসে, বা, কোনো লরিচালক বা অন্যপ্রদেশী র সাথে সম্পর্কের জেরে বাজে যৌনরোগ বাধিয়ে বসে। বা কোনোদিন মালকিনের অনুপস্থিতিতে তার কোনো বন্ধুর হাতে ব্যবহৃত হয়, আপাত স্বেচ্ছ্বায় ইত্যাদি।

    এসব উদাহরণে আপনারা কোনো একপক্ষকে দায়ী করেন কিনা, না পরিশেষে দেশের আইন শৃঙ্খলাকে দায়ি করেন জানার ইচ্ছে রইল।
  • sosen | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১৩:১১579985
  • শেষেরটাতে কি ভাবে কাকে দায়ী করব বুঝলাম না তো।
  • Ishan | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ২৩:৫৬579986
  • ওমনাথ মিসোজিনির প্রতিনিধিত্ব করছে কিনা কই, এখনও বললনা তো।
  • :-) | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০০:২৬579987
  • কারো পার্সোনাল পরিচয় জানার চেষ্টা বা পার্সোনাল মতামত জানার উদ্দেশ্য তাকে পার্সোনালি রিডিকিউল করা ছাড়া আর কিছুই নয় বলেই মনে করি। ঈশান যদি প্রমাণ করতে চায় স্মাইলি লোকটাই মিসোজিনিস্ট। তাই সর্বত্র মিসোজিনির ভুত দেখছে। সেটা বলে ফেললেই হয়। স্মাইলির যা বলার মনে হয় অনেকটাই বলা হয়েছে। আরো অনেক কিছুই বলার থাকতে পারে, কিন্তু ঈশানের বক্তব্য কিভাবে তার উপর নির্ভরশীল সেটা এখনো ক্লিয়ার না। একটু পার্সোনাল ঝগড়ার চেষ্টা বাদ দিয়ে সাবজেক্টে বক্তব্য রাখলেই পারেন কমরেড। আপনার কি মনে হয়, ধর্ষন কেন হয়? সে তো বললেন আপনি জানেন না। মিসোজিনি কি বাড়ছে? ভ্যালুসিস্টেমের ক্ল্যাশ কি আদৌ আমল দেওয়ার মতো একটা বিষয়? এদুটো পয়েন্ট বলে দিলেই হয়। স্মাইলি কে, বা তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস কি এসব খোঁজার চাতুরির কি প্রয়োজন? এই ওমনাথ নামের প্লেসহোল্ডারটির ব্যবহার দেখেছি খুব বেছে বেছেই করা হয়। জিৎ, প্লেসহোল্ডার, মরালিটি, ভ্যালুসিস্টেম এদেরকে তো এ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় না। এটাও স্বীকার করে নিতে পারেন কমরেড, কি বলছেন এর চেয়ে কাকে বলছেনটাই আপনার কাছে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট।।
  • Ishan | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০০:৫৫579988
  • ফেয়ারনেস ক্রিম প্রসঙ্গে।

    একটি ছেলে যদি বলে আমি ফরসা মেয়ে ছাড়া বিয়ে করবনা, তাহলে অবশ্যই এটা তার রাইট। এবং তার চয়েস। সেই অধিকার তার আছে। সে নিয়ে সে খবরের কাগজে বিজ্ঞপন দিতে পরে, ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে অ্যাড দিতে পারে। যা খুশি করতে পারে। কোনো নারী সংগঠনের লোক এসে যদি বলে, তুমি এমনটি করতে পারোনা, তাহলে সেটাকে আমি অনধিকার চর্চা বলব।

    কিন্তু ছেলেটির ধারণা তা বলে একেবারেই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। সে যদি বলে, "এটা শুধুই আমার পার্সোনাল চয়েস", এখানে সমাজ-টমাজের ধারণা, পণ্যায়ন এসব, আবার কি, ওসব কন্ডিশনিং-ফনিং সব গুল, আমি "স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত" নিচ্ছি, তাহলে আমি বলব, একেবারেই সেটা না। সামন্ততন্ত্র হোক বা পণ্যায়ন, তুমি একটি সামাজিক ধারণাকে বহন ও প্রোমোট করছ, "আমার চয়েস" ঈ নীচে যা ক্যামুফ্ল্যাজ করে আছে। সেই সামাজিক ধারণাটি যদি, কোনো কারণে নিন্দনীয় হয়, তাহলে সেটাকে বহন করার জন্য তুমিও নিন্দনীয়। "আমার চয়েস, আমি তো কোনো ট্রানসাকশানে জড়িয়ে নেই, অতএব ওসব পণ্যায়ন ফন্যায়ন নিয়ে আমাকে বলবেন না" -- এটা এখানে একেবারেই গ্ড়ণযোগ্য না।

    অথবা, ছেলেটি অন্যরকম ভাবেও বলতে পারে। "আমার ফর্সা মেয়ের চাহিদায় আমার কোনো হাত নাই, সব দোষ ব্যাটা ওই টিভি কোম্পানির, আমাকে সারাদিন ধরে ফর্সা মেয়েকে সুন্দরী বলে প্রজেক্ট করলে আমি কি করব"। সেটও আমি গা-বাঁচানো বলব। তুমি ভই একজন সচেতন মানুষ, মার্কেট নিশ্চয়ই তোমার উপরে প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু সবেতেই টিভি কোম্পানিকে দায়ী করে তুমি নিজের হাত ধুয়ে ফেলতে পারো নাকি? এ ভাবে চললে তো একদিন বলবে, টিভি কোম্পানি আমাদে যৌন উত্তেজক মেয়েদের দেখায় ইত্যাফি, তাই আমি ধর্ষণ করে ফেলেছি, এতে বাপু আমার কোনো দোষ নেই। সেটা, স্বাভাবিকভাবেই, একটুই গ্রহণযোগ্য না।

    ফলে, পয়েন্টটা খুব পরিষ্কার। আমি তোমার ইন্ডিভিজুয়াল চয়েসের পক্ষে। কিন্তু সেটা, কোনো ক্ষেত্রেই নিরালম্ব বায়ুভূক কিছু জিনিস না। সমালোচনার ঊর্ধ্বেও না। একদিকে সামাজিক ধারণাগুলি তোমাকে প্রভাবিত করে, অন্যদিকে তুমিও সেই ধারণাটিকে গ্রহণ করে প্রোমোট করো। "আমার চয়েস, আমি তো মানিটারি ট্রানসাকশনে অংশগ্রহণ করছিনা" বলে তুমি হাত ধুয়ে ফেলতে পারোনা। সেটা পণ্যায়নই হোক, বা গোঁড়ামির ট্রেন্ড। তুমিও পার্ট অফ দা চেন, এই চেনে তোমারও কিছু অংশ আছে। দায় আছে।

    ফলে, একই যুক্তি অনুযায়ী, যখন একটি মেয়ে ট্যাঙ্কটপ পরিধান করে পার্টি বা জমায়েতে যায়, সেটা একশবার তার পার্সোনাল চয়েস। কোনো শিবসেনা বা মরালিটির মেজদা তাকে সে নিয়ে ফতোয়া দিতে বা অস্বস্তিতে ফেলতে পারেন না। ধর্ষণের তো প্রশ্নই নেই। সেটা রাইটে হস্তক্ষেপ হবে এবং নিন্দনীয়।

    কিন্তু তার মানে এই নয়, যে, "পার্সোনাল চয়েস" দিয়ে সে সমাজের ঊর্ধ্বে উঠে সমালোচার বাইরে বেরিয়ে যাবার মতো কিছু করেছে। "শরীর সুন্দর করো, এবং তাকে দেখাও" -- এই একটি সামাজিক ধারণাকে সে গ্রহণ করেছে, রীতিমতো পয়সা দিয়ে পোশাক কিনে, প্রসাধন করে, সে সেই ধারণাটিকে প্রোমোট করে চলেছে। (বলাবাহুল্য মানিটারি ট্রানসাকশনও এখানে আছে, যদিও সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়)। শরীর দেখানোকে প্রোমোশনের দায় তো তার অবশ্যই আছে।

    এবং একই ভাবে "টিভিতে দেখাচ্ছে, আমি কি করব" এই ভিকটিমপনাও এখানে গ্ড়ণযোগ্য না। তুমি একজন সচেতন মানুষ, টিভি কোম্পানিকে সব দায়ের ভাগী করে হাত ধুয়ে ফেলতে পারোনা। মাংস দেখানোর প্রজেক্ট তুমি নিজে গ্রহণ করেছ, তোমাকে কেউ ঘাড় ধরে করায়নি, ইত্যাদি।

    অতএব, সব মিলিয়ে জিনিসটা খুবই ক্লিয়ার। আমি যদি ট্রেন্ড বা অ্যাডের সমালোচনা করি, সে তো করবই, কিন্তু তার মানে এই নয়, যে, ইন্ডিভিজুয়াল সেখানে ভিকটিম মাত্র। যে মেয়েটি ত্বকের যত্ন নিয়ে, শরীরকে নির্লোম বানিয়ে, ট্যাঙ্ক টপ পরে জমায়েতে যাচ্ছে, সে কিছু অচেতন পণ্যায়নের অসহায় ভিকটিমমাত্র নয়। সে নিজে প্রক্রিয়াটাকে প্রোমোটও করছে। একই ভাবে, আমি, ব্যক্তি আমি, যখন দাড়ি ছেঁটে নির্দিষ্ট ঘরানার পোশাক পরে বইমেলা করতে যাচ্ছি, আমিও খুব কনসাসলি একটা চালু ধারণা বা ট্রেন্ডকে ব্যবহার করছি। আমিও কোনো অচেতন ভিকটিম নই। সংক্ষেপে সামাজিক ট্রেন্ডকে যদি এক কথায় পণ্যয়ন বলি (যেটা আপাততঃ সংক্ষেপে অ্যাপ্রক্সিমেট করেই বলা হল), তো তাহলে আমরা সকলেই পণ্যায়নের শিকার ও শিকারী, নানা ফর্মে। এইটুকুই।
  • Ishan | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০০:৫৭579989
  • না না। পার্সোনাল কেন হবে, ওমনাথ এখানে মিসোজিনির প্রতিনিধিত্ব করছে কিনা জানতে চাইলাম তো। প্রতিনিধিত্ব আর পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন কি এক নাকি? সেটার উত্তর দিতে এত কথার অবতারণা কেন? উত্তর তো এক কথায়ই হয়। :)

    ওমনাথ কি তাহলে ঘেঁটে গেছে? কি বলছে, কোন অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করছে সেই নিয়ে?
  • san | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০৭:২৮579990
  • যে ছেলেটি ফর্সা মেয়ে পছন্দ করে, সে নিশ্চিতভাবে কন্ডিশনিং এর শিকার, এর প্রমাণ কি ? খেয়াল করতে হবে আমি বলছিনা কোথাও ই কন্ডিশনিং বলে কিছু হয়না। কিন্তু আমাদের যেকোন চয়েসেই সামাজিক কন্ডিশনিং এর তত্ত্ব প্রযোজ্য, এর প্রমাণ কি ? ন্যাচারাল চয়েসের আদৌ অস্তিত্ব নেই এর প্রমাণ কি ?
  • san | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০৭:৩৩579992
  • এই ন্যাচারাল চয়েস বলতে, যেটাকে তুমি স্বাধীন সিদ্ধান্ত বলছ।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন