এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • S | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১০:২৪701092
  • ধুর উনি একজ্যাক্টলি ঐ কথা বলেননি। ওরকম বোঝাতে চেয়েছেন।
  • kc | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১০:২৪701091
  • দুএকটা দুর্নীতি থাকতেই পারে। তাতে সমবায় ব্যবস্থাটা মিথ্যে হয়ে যায়না।
  • করঞ্জাক্ষ | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১০:২৫701093
  • ঠিক বলেছেন। ডিমেরিট কদিন আগেই বলেছি, আমার মনেহয় সমবায় দুএকজনের ব্যক্তিগত সততার ওপর বড্ড বেশি নির্ভর করে। রোবাস্ট নয়। সেই আশঙ্কার সত্যতা দেখাতেই ওই পোস্ট।
  • Debabrata Chakrabarty | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৩৬701094
  • S ILO লিঙ্ক অনুসার আপনার উল্লেখিত টেবিল এর নিচে গ্রাফ টা দেখেছেন ? ১৯৮৩-২০১১ কোন ক্ষেত্রে কত শ্রমিক নিয়োজিত হয়েছে - আর অর্গানআইজড সেক্টরে বছর বছর গ্রোথ % V/S শ্রমিক নিয়োজন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির হার - পট্ট নায়েক তো ঠিকই বলছেন। অর্থাৎ বৃহৎ শিল্পে যে ধরনের বিনিয়োগ, গ্রোথ, উৎপাদন সেই তুলনায় শ্রমিক নিয়োজন নগণ্য - তা সেই ধরনের মডেল দিয়ে বিপুল বেকারত্ব নিবারণ কি ভাবে হবে ?

    মুল প্রশ্নটা তা নয় - প্রশ্ন ডেভেলপমেন্ট মডেল আর সেই মডেল হিসাবে বামেরা ( পশ্চিম বঙ্গের ) যা বলছেন সেই মডেল বস্তুত শিল্পায়নের প্রশ্নে, কৃষি জমি দখলের প্রশ্নে বিজেপি কংগ্রেস সিপিয়াম এ তেমন কোন বিরোধ নেই, বিরোধের যথার্থ কোন কারনই নেই। উদারনৈতিক অর্থনৈতিক বিকাশের রাস্তা সব গাধা গরু কে একসাথে জল খাওয়াচ্ছে।

    " এনভায়রনমেন্টাল ক্লিয়ারেন্স তো লাগে। এইটা তো হক্কলে যানে।" সেটা কি ভাবে বাইপাস হয় তার একটি উদাহরণ অর্থাৎ বোতল বন্দী জলের কোম্পানির লাইসেন্স দেওয়া উদাহরণ দিয়েছি একটি তদন্ত মূলক লেখার লিঙ্ক সমেত। পশ্চিম বঙ্গে - স্পঞ্জ আয়রন কারখানা গুলির ঢালাও লাইসেন্স, দিঘায় এবং অন্যত্র ঢালাও হোটেল খোলার অনুমতি আমরা বিস্মৃত হইনি নিশ্চয়ই ?
  • S | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৩৭701095
  • এইটা কি হচ্ছে আজকে? বাপরে। ভোট দিতে লোকে সত্যিই ভয় পাবে। দরকার নেই বাবা পরিবত্তনের। দিদিই থাকুক। লোকে নাহয় একটু বেঁচে থাকুক।
  • S | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৪৪701096
  • ১৯৯৯ থেকে ২০১২ এর হিসেব - অর্গানাঅইজ্ড সেক্টরে এম্প্লয়েমেন্ট বেশি বেড়েছে। আর অন্য যায়্গায় তো আনোরগানাইজ্ড সেক্টরের প্রশংসা কে করেছিলেন (আমি নই)।

    গ্রোথ দুটো কারণে আসবেঃ ১) বেশি লোক কাজ করবে, ২) প্রত্যেকে বেশি আউটপুট দেবে (অটোমেশন, বেটার মেশিন ইত্যাদির কারণে)।

    আপনার বাকী কথাটা বুঝলাম না।

    কয়েকদিন আগে দেখলেন না কেমন নদী বুজিয়ে নাচন কোদন হলো।
  • cb | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৪৫701097
  • বলি কি আর বি আই, একোনমিক্সের লিং গুলি আজ বরং থাকুক। আশেপাশে যা ঘটছে মনে হয় সেইগুলি নিয়ে আলোচনাটাই করা যাক না।

    কেন বলছি, নীতি আর ভোটের যে কোন ডায়রেক্ট কোরিলেশন নেই সেটা তো এইসবের মধ্যে দিয়েই প্রমাণিত হচ্ছে। মমতার কর আদায় বাড়িয়ে কি লাভ হল যদি লোকের কান কেটে নিতে হয়, ডোমকলে এইরকম অত্যাচার করে খুন করতে হয় ভোটের জন্য
  • S | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৪৬701098
  • হুম। খুব ভালো ডিস্ট্র্যাকশন। এদিকে তিনো বললে রেগে যায়।
  • করঞ্জাক্ষ | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৪৭701099
  • cb র সাথে ভীষণ ভাবে একমত।
  • dd | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৪৮701101
  • কীসের ভয়? মৃত্যুর? ও তো পায়ের ভিত্তো।

    আজ তো চিত্তো ভাবনাহীন।লড়াকু মানুষ আজ পথে।ব্যালট বক্সে ২.৫৪ সেন্টিমিটারে মেপে নেবে অত্যাচারীর কুশাসনকে। হঠিয়ে দেবে প্রলোভনের বিরিয়ানী। পশ্চিম বংগের স্বাধীন মানুষ আঙুলে কালি মেখে ভেঙে দেবে স্বৈরতন্ত্রের নবান্ন প্রাসাদ যেরকম একদা চুর্ণ করেছিলো অনুজ পান্ডের বাড়ী (সরি,সরি। সরি চাইছি। এই এগজাম্পোলটা ঠিক হয় নি)।

    মোট কথা আজ পরীক্ষা - ছাগোলত্ব থেকে মনুষত্য উত্তরণের নির্ভুল কিন্তু বিপদ সংকূল পথ। চলো চলো। চাকুরী প্রত্যাশী যুব শক্তি। ঝাঁপিয়ে পড়ো বুথে বুথে। দিন বদলের ডাক এসেছে ঐ।

    আমাদের সাথে রয়েছে নির্ভীক আবাপ,পাশেই টাটাবাবু, একটু দূরে দাঁড়িয়ে সুস্মিত লরেন বাবু।

    কে আমাদের রুখবে?
  • PM | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৫৩701102
  • "ব্যাঙ্গালোরে যে শিল্পায়ন হয়েছে সেটা তো কলকাতার পাওনা ছিলো। জ্যোতিবাবুর কম্পিউটার বিরোধীতার কল্যানে ব্যাঙ্গালোর, হায়্দ্রাবাদে গেছে।" --- এটা কি কল্লোলদার স্মৃতিভ্রংস না সজ্ঞানে অসত্য ভাষণ???

    ইলেকট্রনিক্স শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে কলকাতা আর ব্যাঙ্গালোর দুটো শহরের নামই ছিলো---এটুকু সত্যি। কিন্তু কলকাতার নাম কাটা যায় "সীমান্তবর্ত্তী শহর " এই অযুহাতে ...

    একটু বেশী বয়স হলেই কি "নিজের চোখে দেখেছি/কানে শুনেছি " বলে ইতিহাস বিকৃত করার অধীকার জন্মে যায়? কি ভাগ্যিস এই সিদ্ধান্ত আমার চোখের সামনে হয়েছিলো--তাই রক্ষে ঃ) ষাট সত্তর দশক নিয়ে যে কত ফ্রী জল মেশানো হয় কে জানে ??? ঃ)
  • S | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৫৪701103
  • দিদির ভাইয়েরা ও তাদের বোমারা।
  • PM | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৫৬701105
  • ডিডিদা, আপনি খোলা তলোয়ার, সিন্ডিকেট শিল্পপতি, সারদা শিল্পপতি, তেলে ভাজা শিল্প পতিদের নিয়ে ফাইট দিন---- বিনা যুদ্ধে ২০১১ র অধীকৃত জমি ছেড়ে ডেবেন না ঃ)
  • PT | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৫৬701104
  • প্রাক্তন IPS নজরুল ইসলাম জানালেন যে এই সব মারামারি বোনটিকে রক্ষা করার জন্য লরেনদার স্নেহচ্ছায়াতেই হচ্ছে। তাই "ইচ্ছে করেই" কমিশন কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। সেই অনুসারে dd-র শেষ বাক্য থেকে লরেনবাবু মাইনাস।
  • কল্লোল | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১১:২৫701106
  • পিএম। ৮০র দশকে কোলকাতাকে সীমান্তবর্তী শহর বলার কোন মানে নেই। বাংলাদেশ কোন বিপদ নয়। তুমি যেটা বলছো সেই অজুহাত দেওয়া হতো ৫০-৬০এর দশকে।
    ৮০র দশকে উইপ্রো, ইনফোসিস সহ অনেক আইটি কোং কলকাতাতেই আসতে চেয়েছিলো। ইনফোসিস ভুবনেশ্বরে যায়, অন্যরা ব্যাঙ্গালোরে।

    বামফ্রন্ট তখন কম্পিউটার বিরোধী অবস্থানে থাকায় এটা হয়।
  • S | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১১:৩৮701107
  • তা ইনফোসিস যে একরের পর একর জমি নেয় ঘাস, ফুল, বেলপাতা, ঝরনা, নালা, পুকুর, বাগান, গম্বুজ, পিরামিড বানাবে সেইটা ঠিক আছে তাহলে। আমি আগেই বলে দিই, কেউ নিজে জমি কিনে সেই জমিতে চুড়ো বানাবে নাকি গর্ত করে মাছ পুষবে সেটা তাদের ব্যাপার।
  • de | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১১:৪৫701108
  • নিউজপেপার দেখে ভয় করছে - সত্তরোর্দ্ধ বাবা-মায়ের জন্য। বাবার আর্জেন্ট প্রস্টেট অপারেশন জেদাজেদি করে ঠেকিয়ে রেখেছে শুধু এই ভোটের জন্য। এদের দুজনের কারোকেই ভোট দেওয়া বন্ধ করতে বলা যাবে না!
  • potke | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১১:৫৫701109
  • আশির দশকে ইনফোসিস?
  • S | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১২:০৮701110
  • ইনফি ভুবনেশ্বরে এসেছে ১৯৯৬ তে। কেন কোলকাতায় আসেনি এই নিয়ে একটা গল্প চালু আছে। কতটা সত্যি আর কতটা মিথ্যা তা জানিনা।

    তবে মুর্তি বাবু দক্ষীন ভারতে এতোগুলো ক্যাম্পাস তৈরী করলেন, অথচ উত্তর ভারতে (উড়িষ্যা যতটা না উত্তর ভারত তার থেকে বেশি দক্ষীনি, আর পুনের অন্য কেস আছে) উনার একটা ক্যম্পাস টিম টিম করে জ্বলছে কেন সেই কোস্নো কেউ করেনা।
  • PM | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১২:১৪701112
  • কল্লোলদা---বাজে কথা বলছেন। কলকাতায় ইলেকত্রনিক্স সিটি না হয়ে ব্যাঙ্গালোর এ হওয়ার পেছনে ঐ অযুহাত-ই ("সীমান্তবর্ত্তী শহর ") দেওয়া হয়েছিলোন আশীর দশকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। তখন আপনি যা বলছেন মনে "৮০র দশকে কোলকাতাকে সীমান্তবর্তী শহর বলার কোন মানে নেই। বাংলাদেশ কোন বিপদ নয়। " এই লাইনেই বিরিধীতা করা হয়েছিলো। কোনো লাভ হয় নি।

    যা জানেন না তা নিয়েও তর্ক করার প্রবনতা ভালো নয়--- আপনার প্যাথোলোজিক্যাল বাম বিরোধীতাকে শ্রদ্ধা রেখেই বল্লাম ঃ)
  • ranjan roy | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১২:১৬701113
  • এত ভয় পাবেন না।
    এবার পঞ্চায়েত বা সংসদ নির্বাচনের মত একতরফা হচ্ছে না। আগের গুলোতে মার খেয়ে বাম প্রার্থী ও সমর্থকেরা ঘরে ফিরে গেছল, বড়জোর বিমান বসু প্রেস কনফারেন্স করেছিলেন। এবার সকাল সাতটা থেকে বুথ দখল, এজেন্টকে মেরে বের করে দেওয়া ইত্যাদি ব্লিৎসক্রিগ কৌশল পুরো ডিভিডেন্ড তুলতে পারেনি।
    এবার বাম প্রার্থীরা নিজে গিয়ে এজেন্টকে আবার বসিয়ে দিয়ে আসছেন। লোক বাড়ি না গিয়ে ভোট দিচ্ছে। পুলিশ একঘন্টার জায়গায় দশ মিনিটের মধ্যে এসে যাচ্ছে। জোড়াসাঁকোর দুই সেনাপতি ঘরে। ফোনে যাই করুন, সামনে থেকে লিড না করলে দলীয় মনোবল ভেঙে যায়। বহিরাগতরা মার খাচ্ছে, গ্রেফতার হচ্ছে। শাসকদল মরিয়া।
    কল্যাণীতে ভোট দিতে না পরে বিশাল জনতা বাড়ি না ফিরে পথ অবরোধে বসে পড়েছে। এটাই গণপ্রতিরোধ, এক গুন্ডার পাল্টা আরেক গুন্ডার হাত ধরা নয়।
    আমার মত বুড়ো হাবড়ার কথায় বিশ্বাস না করে অজ্জিত বা অন্যদের থেকে মিলিয়ে নিন।
  • করঞ্জাক্ষ | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১২:১৭701115
  • কল্লোলদাকে আপনারা এসব রাজনৈতিক টই এ বিব্রত করেন কেন? ওনাকে অকারণে বিরক্ত না করলেই হয়।
  • cb | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১২:১৭701114
  • কল্যাণীতে কি হয়েছে রঞ্জনদা?
  • PM | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১২:২৫701117
  • আরে বলেন কি? কল্লোলদা এসব টই য়ের মধ্যমনি ছিলেন ২০১১ র আগে।। যাকে বলে সেনাপতি ঃ)। সে ফর্ম কি দেখেছিলেন আপনি।

    নারদা সারদার যুগে নোটার চাদরে মুখ ঢেকে একটু শীত ঘুমে গেছেন মাত্র ঃ)
  • potke | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১২:২৫701116
  • সেই, তারপর কোন দিন বলে বসবেন ৭৮ সালে মাঃ সঃ কলকাতায় দোকান খুলতে চেয়েছিল, কিন্তু ব্ন্যা এবং বামেরা বাদ সাধে।
  • de | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১২:৩০701119
  • রঞ্জনদা - ভরসা পেলাম খুব। বাবাও তাই বললেন যে এবার পরিস্থিতি অন্যরকম।

    দেখা যাক, ভোটবাক্সে কি হয়!

    এই দেখুন আরেক দিদির্ভাই কি বলছেন - চামচাগিরির সব লিমিট ছাড়িয়ে যায় এরা। ভাগ্যিস বামেরা ক্ষমতায় নেই - তাই তো এসব সুখের পায়রাদের আসল রূপ চেনা গেলো!

    http://www.anandabazar.com/elections/west-bengal/state-election-news/cultivation-revived-at-singur-after-nano-left-dgtl-1.364994#

    এটা নির্মল আনন্দে যাবার মোতো! ঃ)
  • S | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১২:৩০701118
  • হ্যাঁ ঐ টইগুলোর একটু লিন্ক দিন তো। আমি কিছু মহামুল্যবান কোট করি। মনে আছে তখন লোকে পারপিচুয়াল রুটি বদলানোর তত্ত্ব দিচ্ছে। আর নিরপেক্ষ থাকার সে কি সব প্রমিস। এখন তাদেরকে আর এইমুখো হতেই দেখিনা। সব ঘাপটি মেরে থাকে।
  • S | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১২:৩৪701120
  • সুবোধ সরকারের লেখাটা কি নিজের মন থেকেই লিখেছেন। ভিডিওতে চায়ের দোকানের লোকটি তো অন্য কথা বললেন। ইনি নাকি কবি? কবিরা এখন কবিতা ছেড়ে দেখি দিদির হয়ে গুল্প লেখে।
  • Subodh | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১২:৪৫701121
  • কৃষিসভ্যতার আত্মাকে খুন করতে এসেছিল ন্যানো
    সিঙ্গুর থেকে ফিরে সুবোধ সরকার

    ২১ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০৫:১১

    আমি সোমালিয়াতে গেলেও এত সাবধানে হাঁটতাম না।
    সাধারণ এক ভাগচাষি, গায়ে জামা নেই, মাথায় একটা গামছা, ওই গামছাটাই আগুন-রোদ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। আমি দাঁড়িয়ে আছি বেড়াবেড়ির একটি উঠোনে, আমার পিছনে সিঙ্গুরের পাঁজর, পরিত্যক্ত ন্যানো কারখানা। ওই ভাগচাষি আমাকে একটা নতুন সত্য জানাল, ‘আপনি যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন, আপনার পিছনে একটা নয়, দুটো শ্মশান।’ আমি বিস্মিত হয়ে পিছনে তাকালাম। পাঁচিল চলে গিয়েছে বরাবর, ছ’শো প্লাস চারশো একর, অর্থাৎ, এক হাজার একর জুড়ে পাঁচিল। তার ভিতরে দাঁড়িয়ে আছে ভুবনবিখ্যাত সেই শ্মশান। আমি বললাম, ‘দু’টো কেন? শ্মশান তো একটাই।’ ভাগচাষিটি কান এঁটো করা একটা হাসি দিয়ে বলল, ‘ওই যে আর একটা শ্মশান, ওটা পাশেই, কলাঝোপের পেছনে, ওই যে, ওটার নাম তালতলা শ্মশান, যুগ যুগ ধরে আছে।’
    আমি যেখানে দাঁড়িয়ে, তার দশ পা দূরে দাঁড়িয়ে ইতিহাস। এই সেই কারখানা যা ৩৪ বছরের বাম জমানার শেষ ওয়াটারলু। ওয়াটারলু তখন ছিল নেদারল্যান্ডসে, এখন সেটা বেলজিয়ামে। সিঙ্গুর তখন ছিল আলিমুদ্দিনে, এখন কালীঘাটে।
    ভাগচাষির নাম নারান, মানুষটাকে খুব মন দিয়ে লক্ষ করছিলাম। রোগা চেহারা, মুখে না কামানো দাড়ি। কেমন যেন মায়া হয়। আমি বললাম, তুমি এখনও চাষ কর? সে এক গাল হাসি দিয়ে বলল, ‘চাষ না করলে খাব কী?’ ‘তোমার বাড়িতে কে কে আছে?’ ‘আমর দুই জন ছেলে, ছেলের বউ।’ আমি মনে মনে বললাম, একেবারে আদর্শ সংসার। ‘ছেলে কি তোমার সঙ্গেই থাকে না আলাদা?’ সে আবার এক গাল হাসি দিয়ে বলল, ‘আলাদা থাকবে? ঠ্যাং খোঁড়া করে দেব না?’ আমি বললাম, ‘কেন এ ভাবে বলছ? আলাদা থাকলে তোমারও তো উপকার হতে পারে, ছেলেরও স্বাধীনতা থাকে।’ নারান আমাকে খুব একটা পাত্তা দিল না। বলল, ‘ও সব এখানে হবে না।’
    আমি চারপাশে তাকালাম। সুফসলী মাঠ। বছরে তিন বার ফসল ওঠে। যখন যে রকম। দেখলাম চারপাশে বেগুন, পটল একেবারে দুই সহোদরার মতো এ ওকে জড়িয়ে ধরে আছে সারা মাঠ জুড়ে। এ যেন মাঠ নয়, জীবনানন্দ দাশের কবিতা। যেন এখানেও একদিন ধানসিড়ি নদী ছিল। সেই নদী মারা গিয়েছে। কিন্তু এত ফসল চারপাশে, এত সবুজ, এত প্রাণ, সত্যি যেন মাঠ নয়, কৃষিসভ্যতার আত্মা। সেই আত্মাকে খুন করতে এসেছিল এক গাড়ি, যার নাম ন্যানো। খুন করতে পারেনি।
    নারান বলল, একটা সাড়ে চার বছরের মেয়েকে ওরা সইতে পারছে না, এত হিংসে। আমি কিছুটা আনমনা ছিলাম, বুঝতে পারিনি কথাটা। আমি বললাম, ‘নারান, কী বললে সাড়ে চার বছরের মেয়েটা, মানে?’ ‘এত সোজা কথা বুঝতে পারেন না, এই হল শহুরে বাবুদের দোষ। সোজা কথা বোঝেন না, কঠিন কথা বোঝেন। সাড়ে চার বছরের মেয়েটা মানে মমতা। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। কৃষাণ মাণ্ডি হয়েছে গো। ওটা বিরাট ভরসা। যখন ফসলের দাম পাব না, বড় রাস্তা পেরিয়ে মাণ্ডিতে যাব। ন্যানো হলে কী হত জানি না বাপু, কিন্তু কৃষাণ মাণ্ডি হয়ে আমাদের সংসারটা বেঁচে গিয়েছে।’
    সারা সকাল, সারা মধ্যাহ্ন জুড়ে ঘুরে বেড়ালাম চায়ের দোকানে, পুকুরপারে, গাছতলায়, ক্ষেতে-খামারে। অনেকের সঙ্গে দেখা হল, যাঁরা অনিচ্ছুক নামে এখন বিখ্যাত। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও দেখা পেলাম না ইচ্ছুক চাষিদের। নারান বলল, ‘দিদি আমাদের জমি ফেরত দেবেন।’ আমি বললাম, ‘জমি তো এখন আদালতে ঢুকে পড়েছে। তা কি আর কারও হাতে আছে?’ নারান জানে সে কথা। কিন্তু সে জানাল, সে ভালবাসে দিদিকে আর দিদিও ভালবাসে তাঁকে। আমি অবাক হয়ে তাকালাম মানুষটার মুখের দিকে। কী ছেলেমানুষ, কী জেদি, কী বিশ্বাসী এক জন চাষি! সে তাকিয়ে আছে, ওয়াটারলুর দিকে। কিন্তু সে আসলে চাতকের মতো তৃষ্ণার্ত, সে ফিরে পাবে তার জমি।
    প্রথম চায়ের দোকানে আমি পেলাম কয়েক জন যুবককে। তাঁরা বললেন, তাঁদের কাজ চাই। একশো দিনের কাজ সব সময় হাতে আসে না। দ্বিতীয় চায়ের দোকানে সবাই মুড়ি-ঘুঘনি খাচ্ছিল, খুব ভাল খাবার, মুখে জল এনে দেয়। আমিও খেলাম। আমরা খেলাম। আমি দোকানিকে বললাম, ‘তুমি কি আগের থেকে ভাল আছো? দোকানি বলল, ‘আমি আগে এই দোকান থেকে যা পেতাম, এখনও তাই-ই পাই। কিন্তু আমার মেয়ে কন্যাশ্রী পেয়েছে, সে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিল। আবার স্কুলে যাচ্ছে। সে বলেছে সে বড় হয়ে বিয়ে করবে।’
    এই বার আমি তাঁকে এক জন বাবা হিসাবে বললাম, ‘শোনো কলকাতার কাগজে পড়লাম, তোমরা নাকি কন্যাশ্রীর টাকাটা পণ হিসাবে কাজে লাগাচ্ছ?’ বলল, ‘দেখুন এটা তো অসুখ, এ কি আর এক দিনে যাবে? আমিও তো বাবা। আমি চাইব আমার মেয়েটা পড়ুক। পড়ে একটা কাজ পাক।’
    সারা সিঙ্গুর জুড়ে কিন্তু জোটের দেয়াল লিখন প্রায় চোখেই পড়ল না। কে বলবে এখানেও জোট হয়েছে? হয়েছে তো বটেই, কিন্তু কোথায় তার পোস্টার? কোথায় তার দেওয়াল লিখন? চোখেই পড়ল না। বেড়াবেড়ির গৃহবধূকে যখন রাস্তায় রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ন্যানো হলে আপনার কি হত?’ একেবারে দার্শনিকের মতো তাঁর উত্তর-‘আমার বাড়িটা ওরা কেড়ে নিত, কেড়ে নিয়ে গুদাম বানাত। আমি সেই গুদামের বাইরে তুলসী গাছের মাথায় জল ঢালতাম।’

    কলকাতায় ফিরে আসার মুখে গিয়ে দাঁড়ালাম একেবারে সেই গেটের সামনে যার ভিতরে দুটো শ্মশান। গেটের কাছে দাঁড়িয়ে মনে হল, এত জায়গা থাকতে, বাংলায় এত জমি থাকতে কেন সে দিন এই সুফসলী ওয়াটারলুকে ওঁরা বেছে নিয়েছিলেন? জং ধরা গেটটার সামনে দাঁড়িয়ে আমি গেটটাকেই বললাম, ‘হেথায় তোরে মানাইছে না গো।’
    ফেরার পথে আমার শুধু নারানের কথাটাই কানে বাজতে থাকে, ‘তালতলার শ্মশানে মা আছে।’ আমি বলেছিলাম, ‘তাতে কী হয়েছে?’
    নারান বলেছিল, ‘ওই মা আমাদের বাঁচিয়েছে।’
  • Arpan | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১২:৪৭701125
  • ইনফি কলকাতায় আসতে চেয়েছিল ৯৫ সালে। সইত্যের খাতিরে প্রাক্তন ইনফি কর্মী হিসেবে লিখে গেলাম।

    আর কলকাতা ইলেকট্রনিক্ষ শিল্পের কেন্দ্রের তকমা পেলেও কিস্যু হত না। মূর্তি বা পাটনি কলকাতা থেকে বেরোত না। ব্যবসা করা বাঙালির রক্তে নেই।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন