এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  বইপত্তর

  • কাগুজে গুরুর বইমেলা অভিযান - ৩

    Samik
    বইপত্তর | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ | ১২৫৮৮০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • siki | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ২২:৩৬530974
  • কর্তৃপক্ষ।

    কাব্লিদা, দিল্লিতে যে তিনচারটি ক্যালেন্ডার এসেছে, তাদের পাতার কোয়ালিটি কলকাতায় যে ক্যালেন্ডার দেখেছি তার থেকে অনেক হাই কোয়ালিটির। মোটা মোটা কাগজ।

    স্বপ্নের ঘোর চলছে। দিল্লি বইমেলাও যে এমন জমজমাট হতে পারে ... হাজার হাজার টাকার বিক্কিরি হচ্ছে।

    লা জবাব দিল্লি, শেষ।
    হাম্বা রিপ্রিন্ট, শেষ।
    কারাগার বধ্যভূমি, প্রায় শেষ।
    ল্যাল্যা গুরু, শেষ।
    হুজুগে গুরু, প্রায় শেষ।
    আলোচাল, আর পাঁচ ছ কপি।
    বই চই গুরু, আর তিন কপি।

    কাল শেষ পর্যন্ত টানতে পারব কিনা, জানি না। তুলকালাম জিনিস হচ্ছে, জাস্ট তুলকালাম। কত ধরণের লোক যে আসছেন দিল্লি বইমেলায়।

    কাব্লিদার ভবানীপুরের প্রতিবেশি এক ভদ্রলোক এলেন। নাম ভুলে গেছি।

    একজন এসে বললেন, গুরুচন্ডা৯ এখানেও? আপনাদেরই ফ্লেক্স রয়েছে না, কফিহাউসে?

    বাংলা ভাষা থেকে লুপ্ত হয়ে যাওয়া ৯ অক্ষরকে যে আমরা আবার রিভাইভ করেছি, তাতেই খুশি হয়ে বই কিনে নিয়ে গেলেন একজন।

    জনতার দাবি অনুযায়ী, পরের বইমেলার আগে দুটি বই লিখে ফেলতে হবে। এক, গানের বই। শিবাংশুদা, কল্লোলদা, ন্যাড়াদা, আপনাদের হায়দ্রাবাদ ভাটকে এই বই লেখার সূত্রপাত করে ফেলুন। লিখতে হবে আপনাদেরই। .... আর দুই, কম্পিউটারে কী করে বাংলা লেখা যায়, এটা মেজরিটি জনতার কোচ্চেন। এই নিয়ে একটা চটি নামাতেই হবে পরের বারে।

    দিল্লি বলে কথা, অনেকেই এসে জানতে চাইলেন আমাদের ভিজিটিং কার্ড আছে কিনা। সবিনয়ে বললাম, আমাদের ভিজিটিং আপিসই নেই। :)

    হংসরাজ কলেজের প্রফেসর এসে শোনালেন, প্রতি মাসের সেকেন্ড শনিবার তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে "হবন'-এ বসতে হয়।

    রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত এক ভদ্রলোক এলেন, কুবেরবাবু, সল্টলেকে থাকেন। কাঠের টাই বানান, এমনিতে দেড় আড়াই তিন হাজার টাকা দাম, সেগুলোই নাকি দিল্লির কটেজ ইন্ডাস্ট্রি এম্পোরিয়ামে বিক্রি করা হয় সতেরো থেকে কুড়ি হাজার টাকায়। সাদা কাগজে নখের আঁচড় কেটে এমবস করে ফুটিয়ে তোলেন রবীন্দ্রনাথের মুখ, অনায়াসে, তিন মিনিটে। নাম ফোন নং তুলে নিলাম, অচিন্ত্য, প্লিজ এঁকে নিয়ে একটা কিছু আর্টিকল লিখো। সল্লেকেই থাকেন।

    ফাটাফাটি ...

    কাল দোহারের গান।
  • Sumeru | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ২২:৪৫530985
  • কালিকাকে বলো, গুরুচন্ডা৯'র জন্যে আব্দুল করিমের যে গানটা সেটা গাইতে। তাতে বাকি বই বিক্রি হয়ে যাবে।
  • Netai | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৩:০৫530996
  • হেই দ্যাখো।
    এইসব হচ্ছে এইখানে, অচথ আমি দিল্লী নাই। হিল্লি দিল্লী করে বেড়াচ্ছি।
    কমনওয়েলথের সময়েও এরকম হয়েছিল। দিল্লীতে যখন কমনওয়েলথ হচ্ছিল আমি তখন ডিগবয়তে গিয়ে আছাড় খাচ্ছিলাম।
  • shrabani | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১০:২০531007
  • সকালে উঠে তড়িঘড়ি কাজকর্ম সারছি, এগারোটায় বেরোবো...ব্রেকফাস্ট, রান্নাবান্না হল, ফাঁকে ফাঁকে কুমুর কথামত কয়েন গুছিয়ে রাখলাম, সব সেরে চান করতে ঢুকেছি, ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সময় প্রায় নেই একেবারে! বেরিয়ে তাড়াতাড়ি তৈরী হচ্ছি দেখে প্রশ্ন, "এত তাড়াতাড়ি রেডি হচ্ছ কেন?" তাড়াতাড়ি, বলে এগারোটা বাজতে আর পাঁচ মিনিট বাকি, জানে এগারোটায় বেরোবো, সঙ্গীনি অপেক্ষায় থাকবে! বলতে মিটিমিটি হাসি, এগারোটা কোথায়, দশটা বাজতে পাঁচ তো!

    তারপর সেই একঘন্টা ধরে আওয়াজ খেতে থাকলাম, আমি কোনোকালে কোনো ব্যাপারেই শেষ মুহূর্ত ছাড়া রেডি হই না, এব্যাপারে একেবারে রেকর্ড আছে, সেই আমি!:(

    যাইহোক বারোটার অল্প পরেই পৌঁছে গেলাম কালীবাড়ি, দিল্লী বই মেলায়। ঢুকেই বিস্ময়, সবচেয়ে বড় জ্বলজ্বলে বোর্ডটাই আমার দোকানের, "আওয়ার স্পনসর"। সঙ্গীনি আমার ছবি তুলে নিল বোর্ডের নীচে, প্রমাণস্বরূপ...ছুটির দিনেও অফিসের কাজে, দায়িত্বপরায়ণতা, ভাবা যায়!

    এ বড় ঘরোয়া, বড় সাধারণ, তাই আপনকরা। সঙ্গীনিকে ঘুরতে ছেড়ে দিয়ে গেলাম স্টলে, ঐটুকু জায়গায়, খুঁজতেও হয় না। স্টল গুছিয়ে বসতে বসতে খুব আফশোস হচ্ছিল, আর একটু জিনিসপত্র মানে ঐ টেবিলের ঢাকা ইত্যাদি এনে সাজানো যেত, এত বড় স্টল, বড় ফাঁকা লাগে।
    লোক বেশী নেই তখনও, শুরুর বেলা। স্টলে স্টলে লোকে নিজেদের মধ্যেই গল্পগাল করছে। একটি অবাঙালী ছেলে, কাজকর্ম করে বোধহয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে, এসে ঘুরে গেল একগাল হেসে যেন কতদিনের চেনা, "ম্যাডাম আ গয়িঁ আপ, কোই প্রবলেম তো নহী?" আর একজন এসে একটি ফ্রুটি ধরিয়ে দিল হাতে।
    চারদিকে স্কুলের ছেলেমেয়েরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের এক নিরীহ স্যরের সাথে, মেলা দাপিয়ে...মেয়েদের নজর পাশের স্টলের সানন্দার দিকে!
    একটি কুচো আমার কাচে এল একটি কাগজ নিয়ে, তাতে ছাপা দুটি প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারলে প্রাইজ আছে.."বলে দিলে প্রাইজের অর্ধেক আপনাকে দেব..চোখ গোল গোল করে ধমকের মত দিলেও ভেতরে কুলুকুলু হাসি...আজকের বাচ্চা!

    এদিকে আমার খাতা খুলে গেছে, টুকটাক আনাগোণা অচেনা মুখের আগ্রহ...লী নিয়ে প্রশ্ন, এমন নাম কেন, আপনাদের লেখার ভাষা কি গুরুচন্ডালী! সঙ্গীনি ঘুরে এসে জানালো, আমাদের এখেনেই নাকি এরকম ধারাবাহিক বিক্রি হচ্ছে, কলার ছিল, নিজে নিজেই তুলে ধরলাম!

    ...(আবার পরে)
  • byaang | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১০:৩০531018
  • শ্রাবণী, সুপ্পারলাইকিয়ে গেলাম।
  • raatri | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:১১531029
  • আম্মো,সক্কলের লেখায় আর ছবিতে যেন দেখতে পাচ্ছি সবকিছু।
  • kd | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:৫৭531040
  • ইস্‌স্‌! আমিও বড্ডো মিস করছি। কেন যে বইএর বান্ডিল নিয়ে আমিই চলে গেলুম না? আমি তো যেকোন ট্রেনের টিকিট পেয়ে যাই প্লাস ৪০% বুড়ো ডিসকাউন্ট।

    ও হ্যাঁ, পেটটাকে কলকাতায় রেখে যেতে হ'তো। :(
  • siki | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ২৩:৪২531062
  • স্বপ্নের মত কেটে গেল শেষ দিনটা।

    আজ দিন শুরু হয়েছিল অর্ধেক খালি টেবিল নিয়ে। লা জবাব দিল্লি নেই। হাম্বা নেই। অতএব আমরা জোর দিলাম অন্যান্য বইপত্রের ওপর। টুকটাক বিক্রিবাটা শুরু হতেই এসে গেলেন পটাশম্যাম আর শ্যামলদা, মানে, মিস্টার অধিকারী। দেখে কে বলবে, ইনি এর আগে গুরুচন্ডা৯র সঙ্গে যুক্তই ছিলেন না? হইহই করে সিকির সঙ্গে লেগে গেলেন ক্রেতাদের বই দেখানোয়, বিক্রি করানোয়। সুন্দর রসিক মানুষ। আগেও লিখেছি। কলকাতা বইমেলায় যখন দেখা হয়েছিল, তখন তো বেশি কথা বলার সময় পাই নি।

    পটাশম্যামের ছোট ছেলের আজ জন্মদিন ছিল, সেই উপলক্ষ্যে আমরা মিষ্টি খেলাম সবাই।

    সর্বাণী এল সতীশজিকে নিয়ে, এবং, কাল লিখতে ভুলে গেছি, সঙ্গে এসেছিলেন ওর বন্ধু, দেবযানী। শুরুর দিকে খুব কিন্তু কিন্তু মুখ করে বসে ছিলেন, কিন্তু জড়তা ভাঙতে সময় লাগে নি বেশিক্ষণ। আজও এসেছিলেন দেবযানী। জড়িয়ে পড়েছেন গুরুর সঙ্গে, মাত্র একদিনেই।

    ফরিদা রেশমী চলে এল পট্টকে নিয়ে। পট্ট করিৎকর্মা ছেলে। এসেই ড্রয়িং খাতা আর রং পেন্সিল বের করে ফটাফট এঁকে ফেলল গুরুচন্ডালীর প্যাঁচা। অপূর্ব, এমনকি আমাদের হুতোর আঁকার থেকেও ভালো হয়েছে পট্টর প্যাঁচাটা। আমরা হইহই করে সেটাকে লাগিয়ে ফেললাম দেওয়ালে।

    এলেন পিবি, স্বপন সাহু এবং শ্রীমতি সাহু। গুরুর স্টলে তখন চাঁদের হাট। তাই দেখে সিকি গেল বাড় খেয়ে। মাটিতে থেবড়ে বসে হাততালি দিয়ে শুরু করে দিল গান। জোগ দিল ফরিদা, আর তারপরে বাকি সবাই।

    ইতিমধ্যে হু-হা শেষ হচ্ছে বই। চোখের সামনে উড়ে গেল কল্লোলদা কারাগার বধ্যভূমির শেষ কপি, হুজুগে গুরুর শেষ কপি, আলোচালের শেষ কপি, রিসেশন গুরুর শেষ কপি, ঘেন্নাপিত্তির শেষ কপি, এবং পিপিপি-র শেষ কপি। সন্ধ্যের ঝোঁকে যখন বিক্রিবাটা তুঙ্গে, তখন বেঙ্গলি অ্যাসোশিয়েশনের বিমলেশ্বরবাবু এলেন হন্তদন্ত হয়ে, "এই যে ভাই, কে গান গাইছিলে এখানে? কে? হ্যাঁ, গীটার আছে? স্টেজে গাইতে পারবে?'

    সিকি বিনীতভাবে জানাল, গীটার নেই, থাকলেও বাজাতে পারত না, খালি গলাতেই গাইতে পারবে।

    "ও, তা হলে হবে না' বলে আবার হুড়মুড়িয়ে চলে গেলেন বিমলেশ্বরবাবু। :)

    তার খানিক পরেই, দলবল নিয়ে হাজির পুরো বং অ্যাস-এর টিম। হাতে মিষ্টির প্যাকেট এবং একটি সুদৃশ্য ট্রফি। সমস্ত স্টলকেই দেওয়া হচ্ছে, পার্টিসিপেশনের জন্য মেমেন্টো ট্রফি। সেই ট্রফি নিয়ে আমরা জয় গুরু এনজয় গুরু করতে করতে ছবি তুললাম। সামনের স্টেজে তখন গান ধরেছে দোহার। টাকডুম টাকডুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল। সোহাগ চাঁদ বদনী ধনী নাচো তো দেখি।

    স্থির থাকা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। আমরা একই সঙ্গে ধুমকিতে নাচছি, গাইছি এবং সাথে সাথে কাস্টমার সামলাচ্ছি, গুরু বেচছি। কিন্তু বেচব কী? টেবিলে আর বইই নেই। কেবল উচ্ছেদ রয়ে গেছে, বন্দরের সান্ধ্যভাষা রয়ে গেছে কিছু, আর উন্মন বাদ্যকর রয়ে গেছে কিছু। ব্যস! অত:পর?

    গান শুনে, নেচে, টেবিল সাফ করে যে যার বাড়ি ফেরার পথ ধরলাম। সিনিয়রমোস্ট গুরু হিসেবে ট্রফি আপাতত রইল পটাশম্যামের জিম্মায়, পরের কোনও দিল্লি ভাটে সে ট্রফি আর কারোর হাতে হস্তান্তরিত হবে।

    ট্রফি সংক্রান্ত বিস্তারিত ছবি আছে ফরিদার ক্যামেরায়।

    ও হ্যাঁ, বলতে ভুলে গেছিলাম, গুরুর নীপা, স্বাগতা আজ এসেছিলেন বইমেলায়। তিনি দিল্লি আইএসাইতে পড়ান। গুরুতে কিনা আইএসাইয়ের অনেক প্রাক্তনীতে ভর্তি, তাই লজ্জায় উনি কিছু লেখেন না। তবে পড়েন সমস্ত।

    এইভাবে শেষ হয়ে গেল স্বপ্নের বইমেলা।

    কাল শিবরাত্তিরের ছুটি। পরশু থেকে আপিস।
  • siki | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১০:১৬531085
  • লেখা কখন হবে?
  • kumu | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১১:০২531096
  • দুনিয়াসুদ্ধ লোকের আজ ছুটি,অতোচো আমি আপিস কচ্চি :-((
    ১।ট্রফি নিয়ে ছবি তোলার সময় আমি অনির্বাণকে খুব মিস করেচি,প্রথম দিন সিকি,ফরিদা ও অনির্বাণই স্টল খুলেছিল।অনির্বাণ পেরায় একঘন্টা একটি টলটলায়মান চেয়ারে চড়ে গুরুচন্ডালী লেখাটিতে রং করে ও আরো নানাবিধ সার্ভিস দিয়ে,তবেই বিয়েবাড়ি যায়।

    ২।পরের বইমেলার আগে ছোটদের উপযোগী চটি বের করতে পারলে ভাল হয়।অনেকে বাচ্চাদের বই কিনতেই আসেন।

    ৩।মেলাশেষে ফরিদা আমায় লজেন্সের খালি বোতলটি উপহার দেয়ার চেষ্টা করেছিল,তাতে ভরা ছিল মহাকবির ভালোবাসা,তা সেটি আমি নিলুম।

    ৪।সিকি কি চন্ডালিকা নৃত্যনাট্যের কথা লিখেছে?আমার মনে হল,মাত্র দশ /বারো বছরের বাচ্চাদের পক্ষে চন্ডালিকা ভারী হয়ে যায়।"ক্ষুধার্ত্ত প্রেম,তার নাই দয়া,নাই লজ্জা"-এর মর্ম বোঝার জন্য এরা বড় ছোট।
  • shrabani | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১১:২৩531107
  • .......
    অমার সঙ্গিনী দেবযানীদি আমার বহুকালের চেনা, কিছুদিন হল আমার শহরের বাসিন্দা হয়েছে, স্বামী দুর মণিপুরে, মেয়ে ব্যাঙ্গালোরে, একা একা সারাদিনের সঙ্গী ওর বই। তাই ডেকেছিলাম বইমেলায় যেতে, তবে আগেই বলে দিয়েছিলাম যে আমার সঙ্গে মেলা ঘোরা হবেনা, নিজে ঘুরতে হবে, আর থাকতেও হবে প্রায় দিনভর। তাতেই রাজী হয়ে বেরিয়ে পড়েছিল, তবে কিন্তু টা আমারই ছিল, বেচারা, সারাদিন না জানি কত বোর হবে। বলেছিলাম ঘোরা শেষ হলে চেয়ার দিয়ে দেব, স্টলে বসে বই পড়তে পারে!

    ঘুরে ফিরে বার বার এসে আমার সঙ্গে হাত লাগানো, কখনো চা নিয়ে এসে খাওয়াচ্ছে, কখনও আবার ক্লান্তি দেখে মুখে পাফ বুলিয়ে দিচ্ছে......ক্রেতাদের সঙ্গে গল্প জুড়ে দিচ্ছে.....এমন সাপোর্ট সিস্টেম থাকলে কাজ হতেই হয় হইহই করে!

    শুধু কী বই আর চই, গল্প গুলো...বিজ্ঞানীর স্ত্রী শিখা, ছেলেকে নিয়ে এসেছে অনেক সেধে, এদিকে ক্লাস এইটে পড়া ছেলের উপযুক্ত বই কোথাও পাচ্ছেনা। আমাদের সম্বন্ধে কিছু জানেনা শুধু পড়ার টানে "প্রত্যেকটা একটা করে দিন"...ছেলেটির বেজার মুখে হাসি ফোটে যখন তার প্রিয় বিষয় ফিজিক্স নিয়ে ফিজিক্সের প্রাক্তন গল্প জোড়ে... ফিজিক্স যে কোথায় কত কাজে লাগে, এখনও.....

    শমীক তো আসবে জানা ছিলই, রাজদীপ কে আশা করিনি, তাই ইনারশিয়ায় "আসুন না, বই হাতে নিয়ে দেখুন, নাহলে কী করে বুঝবেন..." এর জবাবে ক্রেতার এমন সহাস্য হাসিমুখ দেখে ধাক্কা...তারপরে খুশী, খুশী।

    এদিকে খিদেয় পেট চোঁ চাঁ, যখনই খোঁজ করি শুনি পাঁচ মিনিটে আসছে খাবার, কিন্তু কত পাঁচ মিনিট চলে গিয়ে দুপুর গড়িয়ে বিকেল। বইয়ের মাঝে খাবার স্টল না লাগানোর জন্যে সকালবেলাই কর্মকর্তাদের তারিফ করছিলাম মনে মনে, সে ভাব বেলাশেষে প্রায় যায় যায়.....
    ঘুগনির ডেকচির কোণার দর্শন হতেই দৌড়োই সেদিকে, ঐটুকুতেই লাইন লেগে গেছে, আসলে কালীবাড়ির আশেপাশে আর কিছুই নেই,অনেকেই সকালে খেয়েদেয়ে বেরিয়েছে। দুজনে দু প্লেট ঘুগনি নিয়ে সিঁড়িতে বসলাম, ঝালে হু হা, চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসছে, কিন্তু এত স্বাদু ঘুগনি কবে শেষ খেয়েছি মনে পড়েনা!
    স্টল ঘুরে আবার আমাদের জায়গায় ফিরে যাই....সকাল থেকে অন্য কোথাও যাইনি, তাই লোকে আসছে, কথা বলছে, নানা কথা জানতে চাইছে, বই কিনছে, কেউ কেউ কিনছে না তবে আসছে সবাই....এটা খুব স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল, এরমটাই যেন হয়, হয়ে থাকে, সব জায়গায়ই হচ্ছে।
    কিন্তু দেখলাম তা নয়, এটা শুধু এখানেই, আমাদের গুরুতেই হচ্ছে, অন্য জায়গায় হচ্ছে কেনাবেচা। আমাদের হচ্ছে চেনাজানা, বেচাকেনা, আলাপ আলোচনা.....
    দিল্লী যে এভাবে আমাদের দুহাত বাড়িয়ে বরণ করার জন্যে বসে আছে, তা এখানে না এলে অজানাই থেকে যেত...তা যে কতবড় অপ্রাপ্তি হত...
    পুজো কমিটির লোক, বিভিন্ন লাইব্রেরীর লোক, "আলাপ করে, আপনাদের জেনে ভালো লাগছে..আশাকরি যোগাযোগ থাকবে, যোগাযোগ হবে"...প্রবাসের কথা, অভিজ্ঞতা দুদণ্ড দাঁড়িয়ে বলে যাওয়া, শুনে যাওয়া...একে কীকরে শুধু বই বেচার হিসেবে ধরি!

    লাজবাব দিল্লী, লিখেছে দিল্লীর লোক, দিল্লী নিয়ে, কিছু বলার আগেই লোকে হাতে তুলে নিচ্ছে। শুধু এক মহিলা পাতা খুলেই "দিল্লী অতি খাজা জায়গা" পড়ে ইষৎ অসন্তোষ, এরা বাংলা ভালোবাসে কিন্তু দিল্লীকে বুকে রেখে। তাড়াতাড়ি বোঝাই, কেমন করে পুরোটা পড়লে বোঝা যাবে লেখকের পরিবর্তনের কথা, দিল্লীপ্রেমী হয়ে ওঠার কথা। হাসি ফোটে, দুই বান্ধবী হাতে তুলে নেন দুই কপি!
  • lcm | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:০২531118
  • দিল্লী বইমেলাতেও মনে হচ্ছে গুরু হিট।
    ছাপানো ম্যাগাজিন ছেড়ে পুরোদমে বই প্রকাশনার কথাই ভাবতে পারে গুরু। ম্যাগাজিনে অনেক হাঙ্গামা।
  • kumu | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:০৫531129
  • শ্রাবণী ঠিক্কয়েচে,অন্য স্টলে শুধুই বেচাকেনা,আমাদের স্টলে বন্ধুত্বের উত্তাপ,আমাদের স্টলে হাসি,গান,নাচ,আমাদের স্টলে প্রতিটি ক্রেতার(কখনো অক্রেতারও) ছবি তোলা ও তাকে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি

    পট্ট এঁকে আনে অপূর্ব গুরুর প্যাঁচা,একচোখ বুজে সেই প্যাঁচা দেখে যায় একদল পাগলের আশ্চর্য খেলা।

    রেশমী এসে বসে পড়ে ল্যাপটপ নিয়ে, নাকি আপিসের কাজ,তা আমরা তাকে জল,কোলা ইত্যাদি সাজিয়ে দিই,মানুষের আপিসের কাজ বলে কতা!

    সিকি ও ফরিদা চেয়ারাভাবে মাটিতে বসে গান ধরে,ঘুরে ঘুরে দেখে যায় লোকে।

    কারাগার,বাদ্যকর,ল্যালা,হুজুগ সব বিক্কীরি হতে থাকে,ক্লান্তিহীন ভাবে বইদের বিষয়ে বলে যায় শ্রাবণী ও ফরিদা,শুধু এদের কথা শোনাই এক বিরল অভিজ্ঞতা।

    কত লোকের সংগেই না দেখা হয়,সায়েন্স কালেজের পুরোনো ছাত্র,আমাদের ডি:এর প্রাক্তন,প্রগতি বিহারের বাসিন্দা যিনি চেনেন আমাদের এক দাদাকে।

    শ্রাবণী আসে সতীশজীকে নিয়ে।অদ্যোপান্ত নিঁখুত ভদ্রলোক,সদাহাস্যময় সতীশকে আমার বড় ভাল লাগে।চন্ডালিকা,দোহারের গান সব তিনি হাসিমুখে বসে শোনেন।কিন্তু এ আমি বলবই,শ্রাবণীর তার দিকে কোন খ্যাল ছিল না,সে বই বেচেই কুল পায় না।তা কুমু তার যথাসাধ্য,যৎসামান্য যত্ন করেচে,জামাই বলে কতা।
    সর্বশেষ আগন্তুক নেতাই-রুবি,বিড়লা মন্দির থেকে এইটুকু আসতে তাদের প্রায় আধঘন্টা লাগে।এসেই নেতাই রুবিকে উপহার দ্যায় এক উন্মন বাদ্যকর,আমরা সস্নেহে দেখি (কটা বছর যেতে দাও,হাড়ে দুব্বো ই:)।

    ছাতার আপিস!দাঁড়ান,বাকী কতাগুলো এট্টু পরে কইচি।
  • Netai | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:০৭531140
  • শুধু হিট নয় দাদা, সুপারহিট।

    আর এ বছরের শ্রেষ্ঠ সেলসম্যান ফরিদাদা। ক্ষী স্কিল!!!
  • kumu | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:০৮531151
  • আদ্যোপান্ত-এই সামান্য বানাম কি আর জানি না!
  • shrabani | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:২৬531162
  • আমি একটি ছেলেকে (ছেলেই বলব, হাঁটুরও নীচে বয়স), গ্যারান্টি দিয়ে বাদ্যকর কিনিয়েছি....শেষ বেলায় গলা দিয়ে আর আওয়াজ বেরোচ্ছিল না এদিকে সে উন্মুখ দৃষ্টিতে তাকিয়ে, কত কিই না বলব, শুনবে.....শেষে বলি "আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, এ বই পড়লে বুঝবেন না কিনলে ভুল হত, আর কিছুই বলার নেই।" সে কেমন ভেবলে গিয়ে "এটা দিন" বলে তাড়াতাড়ি বই নিয়ে চলে গেল।:)

    আর জামাইবাবুর (অন্যদের শ্যামলদা) গুরুজন নয় একথা কে বলে? উচ্ছেদের প্রতিটি কপি শুধু জামাইবাবুর জন্যে, অমন লম্বা গমগমে মানুষ হাসিমুখে রাস্তাজুড়ে আদর করে ডাকলে মানুষ তাকে এড়িয়ে, গুরুতে না ঢুকে থাকতে পারে! ডেকে নিয়ে এসে "এবার তোমরা বল" বলে আমাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন!

    রেশমী আর জামাইবাবু তো গুরুর দলে, শমীকের যে অবদান, যার জন্যে এতকিছু, বইমেলায় গুরু হিট তার আড়ালে স্বর্ণালীকে ভুলে গেলে চলবেনা। সতীশের শরীর ভালো ছিলনা, রবিবার প্রথমে গাড়ি বার করেছিল আমাকে মেট্রো স্টেশনে ছাড়তে, তারপরে কী মনে করে পুরো রাস্তাটাই চলে এল.....আর আমি তো জানতাম কুমু আছে দেখভাল করার জন্যে, তাই নিশ্চিন্তে বই বেচায় ব্যস্ত ছিলাম!
  • ranjan roy | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১৩:১২531173
  • কুমু ফাটাফাটি! ""জামাই বলে কতা'':)))))
    আর দিল্লিভাটে অমিতের সম্বন্ধে--নীনা, তোমার কর্তাটিকে আমার বেশ পচন্দো হয়েচে:))))
  • kumu | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১৫:০০531185
  • শ্যামলবাবু সকলকে ভালবাসা জানিয়েচেন।

    আর খেদ প্রকাশ করে বলেচেন,বইগুলো/লেখকদের নাম পজ্জন্তো জানা না থাকলে বেচতে একটু অসুবিধে হয়। পরের বার বইগুলোর /লেখকদের নাম, বিষয়বস্তু ওনাকে য্যানো এট্টু বিরিফ করে দিই।
  • ppn | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১৯:১১531196
  • যা:! পোতিদিন নিয়ে সিকি ক্ষীসব অপোপ্পোসার করল। এই দেখ ক্ষী লিখেছে:

    http://epratidin.in/Details.aspx?id=6951&boxid=2044218

    ;-)
  • siki | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ২০:৪৩531207
  • তা প্রতিদিন কি লিখবে আমাদের স্টলে আমরা মাছি তাড়িয়েছি আর ঘুগনি খেইচি বসে বসে?

    সংবাদ প্রতিদিন ছিল দিল্লি বইমেলায় সহযোগী স্পনসর। তাদের স্পেশাল ট্রফি দেবে না তো কি গুচ-কে দেবে?
  • siki | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১০:৩৩531218
  • বইমেলার টুকরো টাকরা ১:

    আমাদের জে এনইউয়ের অনির্বাণ যখন রাজি হয়ে গেল শুক্রবার দুপুরে স্টল খুলতে, ফরিদা আর থাকতে পারল না, আমায় ফোন করে বলল সকাল সকাল, আমিও চলে যাবো, দুটো নাগাদ। আমি তখন সুদূর গুরগাঁওতে বসে পেনসিল চিবোচ্ছি। ব্যাগ ভর্তি জিনিসপত্তর, তাড়াতাড়ি বেরোব, সোওজা বইমেলা যাবো বিকেলের দিকে। ততক্ষণ তোমরা সামলে নাও। কী কী লাগবে? সেলোটেপ, ব্ল্যাকটেপ, কাঁচি, স্টেপলার, সমস্ত আমি এনেছি, কিন্তু আগে ওরা পৌঁছবে, ওদের লাগবে।

    কী করা যায় ভাবতে ভাবতে সুমনকে বললাম, তুমি যাবার সময়ে বিলবই, কার্বন পেপার, এইসব কিনে নিয়ে যেও। সুমন তার সঙ্গে বুদ্ধি করে আরেকটা জিনিস কিনে নিয়ে গেছিল, যেটা হয়ে গেছিল আমাদের সত্যিকারের ক্রাউডপুলার।

    সেটা হল, এককৌটো টফি। পরে তিনদিন ধরে বাচ্চাসমেত কেউ এলেই তাদের দিকে বাড়িয়ে ধরেছি একটা করে টফি, বাচ্চার টানে এসে গেছে বাবা মা, আর তারপরে চক্ষুলজ্জার খাতিরে একটা দুটো বই।

    ফরিদা হাতে গরম কিছু ছড়া লিখে আমায় মেলে পাঠিয়ে দিয়েছিল, আমি পৌঁছলাম সেগুলোর প্রিন্টআউট নিয়ে।

    গিয়ে দেখি, স্টল ততক্ষণে সেজে গেছে। দিল্লি কালীবাড়ির ত্রিসীমানায় কোনও দোকানপাট নেই, তা সত্বেও অনির্বাণ কোথা থেকে কে জানে, কাগজ, স্কেচপেন আর আঠা কিনে এনে রংবাহারী গুরুচণ্ডা৯ লিখে সেঁটে দিয়েছে ওপরে, যেখানে জ্বলজ্বল করছিল সাহিত্য আকাদেমির নাম। আমি পৌঁছবার পরে পোস্টার ফ্লেক্স সব টাঙানো হল। তবে না টাঙালেও ক্ষতি ছিল না। লোকে এমনিই এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছিল।

    পরের বইমেলায় টফির কৌটোর ব্যাপারটা খেয়াল রাখবেন, কমরেড।

    বইমেলার টুকরো টাকরা ২:

    পশ্চিম বিহার, নিবেদিতা এনক্লেভে একটা বাংলা লাইব্রেরি আছে (আমি জানতাম না)। সেখানকার লাইব্রেরিয়ান এসেছেন বই কিনবেন বলে। লা জবাব দিল্লি আর হাম্বা উল্টেপাল্টে দেখলেন, মুখটাকে বেঁকিয়ে চুরিয়ে চলে যাচ্ছেন, বললাম, কী হল দাদা, পছন্দ হল না?
    --না:, এ সব বই পড়ার লোক নেই।
    -- সেকী? এসব বই তো সবার চেয়ে আগে বিক্কিরি হচ্ছে! সব্বাই কিনে নিয়ে যাচ্ছে! আপনি একটা প্যারাগ্রাফ এখানে পড়ে দেখুন!
    --ও -- দেখে নিইচি। পড়বার যুগ্যি নয়। কাদের জন্য লিখেছেন এইসব বই?
    --কাদের জন্য মানে? বাঙালি পাঠকদের জন্য।
    --সে তো ঠিক আছে, কোন এজ গ্রুপের জন্য?
    -- সে দেখুন দাদা, এ তো হরলিক্স বা ডিলাক্স নিরোধ নয়, যে পার্টিকুলার টার্গেট সেগমেন্ট থাকবে, তবে আমি বলতে পারি, কুড়ি থেকে চল্লিশ, সবার ভালো লাগবে এই দিল্লি আর হাম্বা। একবার নিয়েই দেখুন না!
    সাঁইসাঁই করে হাত নাড়ালেন ভদ্রলোক, না না, আমাদের ওখানে এই এজ গ্রুপের কেউ বাংলা পড়তে পারে না। সাতানব্বইটা বাঙালি ফ্যামিলি আছে, জানেন? কারুর বাড়িতে ছেলেপুলেরা বাংলা পড়তে শেখে নি।

    -- তা হলে আপনাদের লাইব্রেরিতে কারা যায়?
    --ঐ যারা আগের জেনারেশন, তারা যায়। তা তারাও আজকাল আর বাংলা পড়তে পারে না।

    আমার চোয়াল ঝুলে গেল বিস্ময়ে। এমনও হয়?
    -- তা আপনি কি সেই আগের জেনারেশনের জন্যেই বই খুঁজতে এসেছেন? নাকি ঐ কুড়ি থেকে চল্লিশ জেনারেশনের জন্য খুঁজতে এসেছেন?
    -- না, মেনলি কমবয়েসীদের জন্য বই খুঁজছি।
    -- তা এই তো বললেন, তারা কেউই বাংলা পড়তে পারে না। তা হলে আপনি বাংলা বইমেলায় এসেছেন কেন? প্রগতি ময়দানে চলে যান না কদিন বাদে!

    এইবার ভদ্রলোক পড়লেন নিজেরই কথার ফাঁদে। তো-তো করে শেষে কিছু চটি কিনে নিয়ে গেলেন। হ্যাঁ, অবশ্যই দিল্লি আর হাম্বা নিয়ে গেলেন। আমরা গ্যারান্টি দিলাম, দিল্লিতে যাঁরা দীর্ঘদিন আছেন, তাঁদের অবশ্যই ভালো লাগবে এই বই, বয়েস নির্বিশেষে।
  • shrabani | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:১৩531229
  • গল্প তো চলছে চলবেই.....এই প্রথম দিল্লী বইমেলায় গুরু নিয়ে যাওয়া আমাদের সবার কাছেই একটা লাইফ টাইম অভিজ্ঞতা হয়ে রয়ে যাবে, ভুলিব না, ভুলিব না.... কিন্তু তার মাঝে কাজের কথা
    ----প্রায় ৯৩% এর ওপর বই বিক্রি হয়েছে, মাত্র আড়াই দিনে.....পুরো ছয় দিন বসলে বিক্রি করার মত বই ছিলনা, পরেরবারের জন্যে প্ল্যানিং টা একটু আগেভাগে ভালো করে করতে হবে।

    ----দিল্লীর জনতার মতামত, তাদের কাছে আমরা গুরুকে যেভাবে এঁকেছি তাতে তাদের এক্সপেকটেশন কীরকম হতে পারে পরবর্তীতে এগুলোর ফিডব্যাক কেউ নিয়ে, চিন্তাভাবনা করলে ভালো হয়...সাইট নিয়ে, গুরুর বই লেখা ইত্যাদি নিয়ে অনেকের অনেক প্রশ্ন যার উত্তর অনেক ক্ষেত্রে সঠিক আমাদেরও জানা ছিলনা, নিজেদের মত করে বলেছি.....বেস বাড়ার সঙ্গে এই প্রশ্নগুলো সম্বন্ধে পরিস্কার নিজেদেরই হতে হবে!

    ----লোকে এও জিজ্ঞেস করেছে আমরা এরপর কোথায় যাব, "ওয়ার্ল্ড বুক ফেয়ারে আসছেন তো?"....মানে শুধু বই কেনায় শেষ নয়, আরো দেখতে চায়, আরো জানতে চায় আমাদের...আরো পড়তে চাইলে কীভাবে কোথায় যোগাযোগ করবে....এসব নিয়েও আলোচনা হোক...সার্ভারের যা অবস্থা, সাইটে যাবেন, লিখবেন, ইত্যাদি খুব ভয়ে ভয়ে বলেছি..:))

    আর একটা কথা না বলে পারছিনা, এই বইমেলার এবারে তেমন প্রচার ছিলনা, কোনো বড় কাগজে ছাপেনি, দিল্লী ও এন সি আরের এক বড় বাঙালী পপুলেশন এ সম্বন্ধে সময়ে জানতেও পারেনি, তার ওপরে সময়টা এখানকার স্কুলের পরীক্ষার সময়..... আমাদের ক্রেতাদের মধ্যে বোধহয় হাতে গোনা দু তিনটি আমাদের পরিচিত বন্ধুবান্ধব, বাকী সবাই অচেনা, গুরুর নাম জীবনে প্রথম শুনলেন...পরে জানতে পেরে অনেক বন্ধুবান্ধব, চেনা জানা বলছে, তাদের বলিনি কেন, বা আগে জানলে একদিন অন্তত যেত...বই দেখত...এদের বই দিতাম কোত্থেকে!
    পরের বার যদি সব ঠিকঠাক হয়, দিল্লী বইমেলা নিয়ে অনেক ভাবতে হবে, আগে থেকে....

    বই প্রকাশে গুরুর কী স্ট্যান্ড আমি জানিনা, তবে এখানের পাঠকদের ট্রেন্ড দেখে কুমুর/শমীকের ভাবনা (ছোটদের/গানের বই ইত্যাদি)গুলো সঠিক...
  • siki | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:২৫531240
  • টিম গুরু দিল্লি চ্যাপ্টারকে আমি আলাদা করে মেল করব এসব ব্যাপারে। অনেক কাজ করার আছে আমাদের। সারা বছর ধরে একটু একটু করে এগিয়ে গেলে পরের বছর আরও বড় স্কেলে সেলিব্রেট করতে পারব।

    কথা দিচ্ছি, পরের বারের দিল্লি বইমেলা কলকাতা বইমেলার থেকে কোনও অংশে কম হবে না।
  • siki | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:২৭531251
  • ও হ্যাঁ, প্রগতি ময়দানের ওয়ার্ল্ড বুক ফেয়ারে স্টলের দাম পঁচিশ হাজার টাকা। সুতরাং ...

    তা ছাড়াও, ওখানে বাঙালি ক্রেতা বিশেষ যায় না, খুবই কম যায়। ওখানে মূলত ডমিনেট করে গুগল, পেঙ্গুইন, এনবিটি, এরাই।
  • kd | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:২৮531262
  • এই রে! আমি দিব্যচোক্কে দেখতে পাচ্ছি পাইদিদির ব্রেন বাঁইবাঁই করে ঘুরছে, চোখ এদিক-সেদিক। তারপর ল্যাপটপ টেনে ইমেল - তোমরা একটু খুঁজে দেখবে কোনো ক্যান্ডি কোম্পানি গুরুচন্ডালি র‌্যাপার দিয়ে টফি বানিয়ে দেবে কিনা। কেউ জবাব দেওয়ার আগেই নিজে নিজেই খবর জোগাড় করে আর একটা ইমেল - পেয়ে গেছি, পরের বইমেলার জন্যে কতগুলো লাগবে মনে হয় বলো তো। :))))
  • shrabani | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:৩০531284
  • আরে মেল তো আছেই...কিন্তু আগে লাইভ আলোচনা, সুমন প্ল্যান করছে আসন্ন ভাটের....:))))
  • siki | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:৩০531273
  • তুমি ক্যান্ডি র‌্যাপার ভাবছো? আমি আগেই বলেছিলাম গুরুর জন্য প্যাঁচা আঁকা টিশার্ট। কেউ কান দিল না এ বছরে। অন্তত একটা করে ক্যাপ ভাবা যেতে পারে।
  • byaang | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:৩১531296
  • ছোটদের বইয়ের ব্যাপারটা শুধু দিল্লিবইমেলা কেন! কোলকাতাবইমেলা, কোন্নগরবইমেলার সব বইমেলার জন্যই সত্যি। মশামাসি, একটু দেখবেন স্যার?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন