এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • ভাটিয়ালি

  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান।
    যা খুশি লিখবেন। লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়। এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই। সাজানো বাগান নয়, ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি।
  • এস-আই-আর গুরুভার আমার গুরু গুরুতে নতুন? বন্ধুদের জানান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Amit | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৭:০৬426869
  • হে হে।

    যেসব মোদীভক্ত চাড্ডিগণ পাকিস্তান আক্রমণের কথা বললেই প্রায় সানি দেওল র মতো হ্যান্ডপাম্প ঘাড়ে করে বর্ডার এ যেতে রাজি হয়ে যান (মানে ফেবুতে আস্ফালন করেন আর কি, সত্যি কি আর যেতে হচ্ছে ?), একবার চীন আক্রমণের ধুয়ো তুলে দ্যাখেন ই না তাদের কজনের গলা দিয়ে চি চি মার্কা আওয়াজ বেরোয় কিনা।

    আমার পোষা কুকুরটা যেমন। রাস্তা তে হাঁটলে ওর থেকে ছোট সাইজে র কুকুর দেখলেই তাদের ওপর চেঁচায়, আর বড়ো সাইজে র কুকুর দেখলেই ল্যাজ গুটিয়ে চুপচাপ রাস্তা পার হয়ে যায়। সেটা অন্তত এই চাড্ডি গুলোর থেকে অনেক বেশি সৎ আর সাহসী।
  • দীপাঞ্জন | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৬:৪৫426868
  • "এইভাবে নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি না করে আমরা এইসব দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সমস্ত দেশগুলো জোট বেঁধে চলুন চীনের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ি, ব্যাটারা খুব বদমাশ।
    এই তো কিছুক্ষণ আগেই একটা পোস্টে দেখলাম ভীষণ অত্যাচার করছে ওরা দেশের মধ্যে। "

    ইহাই হইলো মোদ্দা কথা। হোমো সাপিয়েন্স তিন প্রকারের - ১) চ্যাপ্টা (চীন + জাপান + কোরিয়া = অর্থাৎ উত্তর পূর্ব এশিয়া) ২) সাদা ৩) কালো। ৭.৭ বিলিয়নের মধ্যে ১.২ বিলিয়ন সাদা, ১.৮ বিলিয়ন চ্যাপ্টা আর ৪.৭ কালো। কিন্তু ৩৬০ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের ২০০ ট্রিলিয়ন সাদার, ৮০ ট্রিলিয়ন চ্যাপ্টার আর মাত্র ৮০ ট্রিলিয়ন কালোর। জনসংখ্যার সমানুপাতে যা হওয়া উচিত ৬০, ৮০ আর ২২০ যথাক্রমে। গত চল্লিশ বছরে চ্যাপ্টারা প্রাপ্য কেড়ে নিয়েছে সাদাদের থেকে - ৪০ ট্রিলিয়ন ঘাটতি ৪০ বছরে কমেছে। কালোদের ১৪০ ট্রিলিয়ন ঘাটতি কিভাবে কমবে? সাদাদের থেকে নেওয়া মুশকিল। চীন আক্রমণ সহজতর, সহজ নয় যদিও। মোদী - অমিতের মাথায় ইহা ঢুকাইতে হবে।
  • Amit | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৬:২৯426867
  • PM এর - IP Address : 237812.69.563412.99 (*) Date:16 Dec 2019 -- 08:51 PM এর কমেন্ট এ পুরোপুরি সমর্থন। বামেদের সাপোর্ট এ UPA ওয়ান সরকার প্রচুর ভালো কাজ করেছিল। ১০০ দিনের কাজ থেকে শুরু করে নানা ধরণের সোশ্যাল সিকিউরিটি স্কিম, ২০০৮ এর গ্লোবাল ইকোনমিক ক্রাইসিস সামলানো, সব কিছু করেও ওদের আমলে গ্রোথ রেট রীতিমতো ভালো ছিল। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে যে কটা সরকার গঠিত হয়েছে, জাস্ট ইকোনমিক এচিভমেনন্ট এর দিক থেকে দেখলে UPA ওয়ান সরকার তাদের মধ্যে সেরা।

    প্রকাশ কারাতের মতো অপদার্থ একজনের ইগোর জন্যে আজকে পুরো দেশকে অনেক দাম দিতে হচ্ছে। ওই সময় গোড়ামি করে সাপোর্ট তুলে না নিলে UPA -২ সরকার অনেক ভালো পারফর্ম করতো, এতগুলো স্ক্যাম হয়তো হতো না। আর পব তেওঁ হয়তো আজকে পরিবর্তনের কালো ধোঁয়ায় সবার চোখ, নাক জ্বালা করতো না।
  • | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৫:৩১426866
  • সিপিএমের সবচেয়ে বড় তিনটে মিছিল হয়েছে, নিউটাউন আর উলুবেড়িয়া এবং বনগাঁ। একটা এক্স
    পোজ করেছিল শমীক লাহিড়ি, জন সি আর নোটিফিকেশন নিয়ে, গতকাল ই রাজ্য প্রকার সেটাও স্টে করে ছে, গুড। গোটা কাগজ ই আজ প্রতিবাদ ইত্যাদি র ছবির, ভেরি গুড।
    http://bangla.ganashakti.co.in/কোথায় হয়নি, বম্বে, কেরালা, ত
    চেন্নাই, বাঙ্লগালোর, ক্ষনৌ, দিল্লি, হায়দ্রাবাদ, লোক কম তো কি, রাস্তায় নেমেছে, গুড।
  • | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৫:১৭426864
  • Indian express 17122019 In Kerala, LDF-UDF close ranks against citizenship law
    The ruling Left Democratic Front (LDF), opposition United Democratic Front (UDF) and other non-BJP parties in Kerala closed ranks Monday against the amended Citizenship Act by taking part in a ‘satyagraha’ outside the martyr’s column in Thiruvananthapuram.

    Chief Minister Pinarayi Vijayan and Leader of Opposition Ramesh Chennithala led the charge against the Centre over the Citizenship law. “As protests intensify across the country, this gathering sends out a message to the world that Kerala is united against the citizenship law. We, the people of Kerala, have always been the model in such cases. This is a land where people live as siblings without caste or religious discrimination,” he said.
  • Atoz | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৩:৪৮426863
  • কবিতাও আছে। শিশুতীর্থ।

    ১।
    রাত কত হল?
    উত্তর মেলে না।
    কেননা, অন্ধ কাল যুগ-যুগান্তরের গোলকধাঁধায় ঘোরে, পথ অজানা,
    পথের শেষ কোথায় খেয়াল নেই।
    পাহাড়তলিতে অন্ধকার মৃত রাক্ষসের চক্ষুকোটরের মতো;
    স্তূপে স্তূপে মেঘ আকাশের বুক চেপে ধরেছে;
    পুঞ্জ পুঞ্জ কালিমা গুহায় গর্তে সংলগ্ন,
    মনে হয় নিশীথরাত্রের ছিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ;
    দিগন্তে একটা আগ্নেয় উগ্রতা
    ক্ষণে ক্ষণে জ্বলে আর নেভে —
    ও কি কোনো অজানা দুষ্টগ্রহের চোখ-রাঙানি।
    ও কি কোনো অনাদি ক্ষুধার লেলিহ লোল জিহ্বা।
    বিক্ষিপ্ত বস্তুগুলো যেন বিকারের প্রলাপ,
    অসম্পূর্ণ জীবলীলার ধূলিবিলীন উচ্ছিষ্ট;
    তারা অমিতাচারী দৃপ্ত প্রতাপের ভগ্ন তোরণ,
    লুপ্ত নদীর বিস্মৃতিবিলগ্ন জীর্ণ সেতু,
    দেবতাহীন দেউলের সর্পবিবরছিদ্রিত বেদী,
    অসমাপ্ত দীর্ণ সোপানপঙ্‌ক্তি শূন্যতায় অবসিত।
    অকস্মাৎ উচ্চণ্ড কলরব আকাশে আবর্তিত আলোড়িত হতে থাকে —
    ও কি বন্দী বন্যাবারির গুহাবিদারণের রলরোল।
    ও কি ঘূর্ণ্যতাণ্ডবী উন্মাদ সাধকের রুদ্রমন্ত্র-উচ্চারণ।
    ও কি দাবাগ্নিবেষ্টিত মহারণ্যের আত্মঘাতী প্রলয়নিনাদ।

    এই ভীষণ কোলাহলের তলে তলে একটা অস্ফুট ধ্বনিধারা বিসর্পিত —
    যেন অগ্নিগিরিনিঃসৃত গদগদকলমুখর পঙ্কস্রোত;
    তাতে একত্রে মিলেছে পরশ্রীকাতরের কানাকানি, কুৎসিত জনশ্রুতি,
    অবজ্ঞার কর্কশহাস্য।
    সেখানে মানুষগুলো সব ইতিহাসের ছেঁড়া পাতার মতো
    ইতস্তত ঘুরে বেড়াচ্ছে —
    মশালের আলোয় ছায়ায় তাদের মুখে
    বিভীষিকার উল্কি পরানো।
    কোনা-এক সময়ে অকারণ সন্দেহে কোনো-এক পাগল
    তার প্রতিবেশীকে হঠাৎ মারে;
    দেখতে দেখতে নির্বিচার বিবাদ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে দিকে দিকে।
    কোনো নারী আর্তস্বরে বিলাপ করে;
    বলে, হায়, হায়, আমাদের দিশাহারা সন্তান উচ্ছন্ন গেল।
    কোনো কামিনী যৌবনমদবিলসিত নগ্ন দেহে অট্টহাস্য করে;
    বলে, কিছুতে কিছু আসে যায় না।

    ঊর্ধ্বে গিরিচূড়ায় বসে আছে ভক্ত, তুষারশুভ্র নীরবতার মধ্যে;
    আকাশে তার নিদ্রাহীন চক্ষু খোঁজে আলোকের ইঙ্গিত।
    মেঘ যখন ঘনীভূত, নিশাচর পাখি চীৎকারশব্দে যখন উড়ে যায়,
    সে বলে, ভয় নেই ভাই, মানবকে মহান্‌ বলে জেনো।
    ওরা শোনে না, বলে পশুশক্তিই আদ্যাশক্তি, বলে পশুই শাশ্বত;
    বলে সাধুতা তলে তলে আত্মপ্রবঞ্চক।
    যখন ওরা আঘাত পায় বিলাপ ক‘রে বলে, ভাই, তুমি কোথায়।
    উত্তরে শুনতে পায়, আমি তোমার পাশেই।
    অন্ধকারে দেখতে পায় না, তর্ক করে — এ বাণী ভয়ার্তের মায়াসৃষ্টি,
    আত্মসান্ত্বনার বিড়ম্বনা।
    বলে, মানুষ চিরদিন কেবল সংগ্রাম করবে
    মরীচিকার অধিকার নিয়ে
    হিংসাকণ্টকিত অন্তহীন মরুভূমির মধ্যে।

    মেঘ সরে গেল।
    শুকতারা দেখা দিল পূর্বদিগন্তে,
    পৃথিবীর বক্ষ থেকে উঠল আরামের দীর্ঘনিশ্বাস,
    পল্লবমর্মর বনপথে-পথে হিল্লোলিত,
    পাখি ডাক দিল শাখায়-শাখায়।
    ভক্ত বললে, সময় এসেছে।
    কিসের সময়?
    যাত্রার।
    ওরা বসে ভাবলে।
    অর্থ বুঝলে না, আপন আপন মনের মতো অর্থ বানিয়ে নিলে।
    ভোরের স্পর্শ নামল মাটির গভীরে,
    বিশ্বসত্তার শিকড়ে শিকড়ে কেঁপে উঠল প্রাণের চাঞ্চল্য।
    কে জানে কোথা হতে একটি অতি সূক্ষ্মস্বর
    সবার কানে কানে বললে,
    চলো সার্থকতার তীর্থে।
    এই বাণী জনতার কণ্ঠে কণ্ঠে
    একটি মহৎ প্রেরণায় বেগবান হয়ে উঠল।
    পুরুষেরা উপরের দিকে চোখ তুললে,
    জোড় হাত মাথায় ঠেকালে মেয়েরা।
    শিশুরা করতালি দিয়ে হেসে উঠল।
    প্রভাতের প্রথম আলো ভক্তের মাথায় সোনার রঙের চন্দন পরালে;
    সবাই বলে উঠল ভাই আমরা তোমার বন্দনা করি।

    যাত্রীরা চারি দিক থেকে বেরিয়ে পড়ল —
    সমুদ্র পেরিয়ে, পর্বত ডিঙিয়ে পথহীন প্রান্তর উত্তীর্ণ হয়ে —
    এল নীলনদীর দেশ থেকে, গঙ্গার তীর থেকে,
    তিব্বতের হিমমজ্জিত অধিত্যকা থেকে,
    প্রাকাররক্ষিত নগরের সিংহদ্বার দিয়ে,
    লতাজালজটিল অরণ্যে পথ কেটে।
    কেউ আসে পায়ে হেঁটে, কেউ উটে, কেউ ঘোড়ায়, কেউ হাতিতে,
    কেউ রথে চীনাংশুকের পতাকা উড়িয়ে।
    নানা ধর্মের পূজারি চলল ধূপ জ্বালিয়ে, মন্ত্র প‘ড়ে।
    রাজা চলল, অনুচরদের বর্শাফলক রৌদ্রে দীপ্যমান,
    ভেরী বাজে গুরু গুরু মেঘমন্দ্রে।
    ভিক্ষু আসে ছিন্ন কন্থা প‘রে,
    আর রাজ-অমাত্যের দল স্বর্ণলাঞ্ছনখচিত উজ্জ্বল বেশে।
    জ্ঞানগরিমা ও বয়সের ভারে মন্থর অধ্যাপককে ঠেলে দিয়ে চলে
    চটুলগতি বিদ্যার্থী যুবক।
    মেয়েরা চলেছে কলহাস্যে, কত মাতা, কুমারী, কত বধূ;
    থালায় তাদের শ্বেতচন্দন, ঝারিতে গন্ধসলিল।
    বেশ্যাও চলেছে সেই সঙ্গে; তীক্ষ্ম তাদের কণ্ঠস্বর,
    অতিপ্রকট তাদের প্রসাধন।
    চলেছে পঙ্গু, খঞ্জ, অন্ধ, আতুর,
    আর সাধুবেশী ধর্মব্যবসায়ী —
    দেবতাকে হাটে হাটে বিক্রয় করা যাদের জীবিকা।
    সার্থকতা!
    স্পষ্ট ক‘রে কিছু বলে না — কেবল নিজের লোভকে
    মহৎ নাম ও বৃহৎ মূল্য দিয়ে ওই শব্দটার ব্যাখ্যা করে,
    আর শাস্তিশঙ্কাহীন চৌর্যবৃত্তির অনন্ত সুযোগ ও আপন মলিন
    ক্লিন্ন দেহমাংসের অক্লান্ত লোলুপতা দিয়ে কল্পস্বর্গ রচনা করে।


    দয়াহীন দুর্গম পথ উপলখণ্ডে আকীর্ণ।
    ভক্ত চলেছে, তার পশ্চাতে বলিষ্ঠ এবং শীর্ণ,
    তরুণ এবং জরাজর্জর, পৃথিবী শাসন করে যারা
    আর যারা অর্ধাশনের মূল্যে মাটি চাষ করে।
    কেউ বা ক্লান্ত বিক্ষতচরণ, কারো মনে ক্রোধ, কারো মনে সন্দেহ।
    তারা প্রতি পদক্ষেপ গণনা করে আর শুধায়, কত পথ বাকি।
    তার উত্তরে ভক্ত শুধু গান গায়।
    শুনে তাদের ভ্রূ কুটিল হয়, কিন্তু ফিরতে পারে না,
    চলমান জনপিণ্ডের বেগ এবং অনতিব্যক্ত আশার তাড়না
    তাদের ঠেলে নিয়ে যায়।
    ঘুম তাদের কমে এল, বিশ্রাম তারা সংক্ষিপ্ত করলে,
    পরস্পরকে ছাড়িয়ে চলবার প্রতিযোগিতায় তারা ব্যগ্র,
    ভয় — পাছে বিলম্ব ক‘রে বঞ্চিত হয়।
    দিনের পর দিন গেল।
    দিগন্তের পর দিগন্ত আসে,
    অজ্ঞাতের আমন্ত্রণ অদৃশ্য সংকেতে ইঙ্গিত করে।
    ওদের মুখের ভাব ক্রমেই কঠিন
    আর ওদের গঞ্জনা উগ্রতর হতে থাকে।

    রাত হয়েছে।
    পথিকেরা বটতলায় আসন বিছিয়ে বসল।
    একটা দমকা হাওয়ায় প্রদীপ গেল নিবে, অন্ধকার নিবিড় —
    যেন নিদ্রা ঘনিয়ে উঠল মূর্ছায়।
    জনতার মধ্য থেকে কে-একজন হঠাৎ দাঁড়িয়ে উঠে
    অধিনেতার দিকে আঙুল তুলে বললে,
    মিথ্যাবাদী, আমাদের প্রবঞ্চনা করেছ।
    ভর্ৎসনা এক কণ্ঠ থেকে আরেক কণ্ঠে উদগ্র হতে থাকল।
    তীব্র হল মেয়েদের বিদ্বেষ, প্রবল হল পুরুষদের তর্জন।
    অবশেষে একজন সাহসিক উঠে দাঁড়িয়ে হঠাৎ তাকে মারলে প্রচণ্ড বেগে।
    অন্ধকারে তার মুখ দেখা গেল না।
    একজনের পর একজন উঠল, আঘাতের পর আঘাত করলে,
    তার প্রাণহীন দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।
    রাত্রি নিস্তব্ধ।
    ঝর্নার কলশব্দ দূর থেকে ক্ষীণ হয়ে আসছে।
    বাতাসে যূথীর মৃদুগন্ধ।


    যাত্রীদের মন শঙ্কায় অভিভূত।
    মেয়েরা কাঁদছে; পুরুষেরা উত্ত্যক্ত হয়ে ভর্ৎসনা করছে, চুপ করো।
    কুকুর ডেকে ওঠে, চাবুক খেয়ে আর্ত কাকুতিতে তার ডাক থেমে যায়।
    রাত্রি পোহাতে চায় না।
    অপরাধের অভিযোগ নিয়ে মেয়ে পুরুষে তর্ক তীব্র হতে থাকে।
    সবাই চীৎকার করে, গর্জন করে,
    শেষে যখন খাপ থেকে ছুরি বেরোতে চায়এমন সময় অন্ধকার ক্ষীণ হল-
    প্রভাতের আলো গিরিশৃঙ্গ ছাপিয়ে আকাশ ভরে দিলে।
    হঠাৎ সকলে স্তব্ধ;
    সূর্যরশ্মির তর্জনী এসে স্পর্শ করল
    রক্তাক্ত মৃত মানুষের শান্ত ললাট।
    মেয়েরা ডাক ছেড়ে কেঁদে উঠল, পুরুষেরা মুখ ঢাকল দুই হাতে।
    কেউ বা অলক্ষিতে পালিয়ে যেতে চায়, পারে না;
    অপরাধের শৃঙ্খলে আপন বলির কাছে তারা বাঁধা।
    পরস্পরকে তারা শুধায়, কে আমাদের পথ দেখাবে।
    পূর্বদেশের বৃদ্ধ বললে,
    আমরা যাকে মেরেছি সেই দেখাবে।
    সবাই নিরুত্তর ও নতশির।
    বৃদ্ধ আবার বললে, সংশয়ে তাকে আমরা অস্বীকার করেছি,
    ক্রোধে তাকে আমরা হনন করেছি,
    প্রেমে এখন আমরা তাকে গ্রহণ করব,
    কেননা, মৃত্যুর দ্বারা সে আমাদের সকলের জীবনের মধ্যে সঞ্জীবিত
    সেই মহামৃত্যুঞ্জয়।
    সকলে দাঁড়িয়ে উঠল, কণ্ঠ মিলিয়ে গান করলে
    ‘জয় মৃত্যুঞ্জয়ের জয়‘।


    তরুণের দল ডাক দিল, চলো যাত্রা করি প্রেমের তীর্থে, শক্তির তীর্থে।
    হাজার কণ্ঠের ধ্বনিনির্ঝরে ঘোষিত হল —
    আমরা ইহলোক জয় করব এবং লোকান্তর।
    উদ্দেশ্য সকলের কাছে স্পষ্ট নয়, কেবল আগ্রহে সকলে এক;
    মৃত্যুবিপদকে তুচ্ছ করেছে সকলের সম্মিলিত সঞ্চলমান ইচ্ছার বেগ।
    তারা আর পথ শুধায় না, তাদের মনে নেই সংশয়,
    চরণে নেই ক্লান্তি।
    মৃত অধিনেতার আত্মা তাদের অন্তরে বাহিরে —
    সে যে মৃত্যুকে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জীবনের সীমাকে করেছে অতিক্রম।
    তারা সেই ক্ষেত্র দিয়ে চলেছে যেখানে বীজ বোনা হল,
    সেই ভাণ্ডারের পাশ দিয়ে যেখানে শস্য হয়েছে সঞ্চিত,
    সেই অনুর্বর ভূমির উপর দিয়ে
    যেখানে কঙ্কালসার দেহ বসে আছে প্রাণের কাঙাল;
    তারা চলেছে প্রজাবহুল নগরের পথ দিয়ে,
    চলেছে জনশূন্যতার মধ্যে দিয়ে
    যেখানে বোবা অতীত তার ভাঙা কীর্তি কোলে নিয়ে নিস্তব্ধ;
    চলেছে লক্ষ্মীছাড়াদের জীর্ণ বসতি বেয়ে
    আশ্রয় যেখানে আশ্রিতকে বিদ্রূপ করে।
    রৌদ্রদগ্ধ বৈশাখের দীর্ঘ প্রহর কাটল পথে পথে।
    সন্ধ্যাবেলায় আলোক যখন ম্লান তখন তারা কালজ্ঞকে শুধায়,
    ওই কি দেখা যায় আমাদের চরম আশার তোরণচূড়া।
    সে বলে, না, ও যে সন্ধ্যাভ্রশিখরে অস্তগামী সূর্যের বিলীয়মান আভা।
    তরুণ বলে, থেমো না বন্ধু, অন্ধতমিস্র রাত্রির মধ্য দিয়ে
    আমাদের পৌঁছতে হবে মৃত্যুহীন জ্যোতির্লোকে।
    অন্ধকারে তারা চলে।
    পথ যেন নিজের অর্থ নিজে জানে,
    পায়ের তলার ধূলিও যেন নীরব স্পর্শে দিক চিনিয়ে দেয়।
    স্বর্গপথযাত্রী নক্ষত্রের দল মূক সংগীতে বলে, সাথি, অগ্রসর হও।
    অধিনেতার আকাশবাণী কানে আসে — আর বিলম্ব নেই।


    প্রত্যুষের প্রথম আভা
    অরণ্যের শিশিরবর্ষী পল্লবে পল্লবে ঝলমল করে উঠল।
    নক্ষত্রসংকেতবিদ্‌ জ্যোতিষী বললে, বন্ধু, আমরা এসেছি।
    পথের দুই ধারে দিক্‌প্রান্ত অবধি
    পরিণত শস্যশীর্ষ স্নিগ্ধ বায়ুহিল্লোলে দোলায়মান —
    আকাশের স্বর্ণলিপির উত্তরে ধরণীর আনন্দবাণী।
    গিরিপদবর্তী গ্রাম থেকে নদীতলবর্তী গ্রাম পর্যন্ত
    প্রতিদিনের লোকযাত্রা শান্ত গতিতে প্রবহমান —
    কুমোরের চাকা ঘুরছে গুঞ্জনস্বরে,
    কাঠুরিয়া হাটে আনছে কাঠের ভার,
    রাখাল ধেনু নিয়ে চলেছে মাঠে,
    বধূরা নদী থেকে ঘট ভ‘রে যায় ছায়াপথ দিয়ে।
    কিন্তু কোথায় রাজার দুর্গ, সোনার খনি,
    মারণ-উচাটন-মন্ত্রের পুরাতন পুঁথি?
    জ্যোতিষী বললে, নক্ষত্রের ইঙ্গিতে ভুল হতে পারে না,
    তাদের সংকেত এইখানেই এসে থেমেছে।
    এই বলে ভক্তিনম্রশিরে পথপ্রান্তে একটি উৎসের কাছে গিয়ে সে দাঁড়ালো।
    সেই উৎস থেকে জলস্রোত উঠছে যেন তরল আলোক,
    সেই উৎস থেকে জলস্রোত উঠছে যেন তরল আলোক,
    প্রভাত যেন হাসি-অশ্রুর গলিতমিলিত গীতধারায় সমুচ্ছল।
    নিকটে তালীকুঞ্জতলে একটি পর্ণকুটির
    অনির্বচনীয় স্তব্ধতায় পরিবেষ্টিত।
    দ্বারে অপরিচিত সিন্ধুতীরের কবি গান গেয়ে বলছে —
    মাতা, দ্বার খোলো।
    ১০
    প্রভাতের একটি রবিরশ্মি রুদ্ধদ্বারের নিম্নপ্রান্তে তির্যক্‌ হয়ে পড়েছে।
    সম্মিলিত জনসংঘ আপন নাড়ীতে নাড়ীতে যেন শুনতে পেলে
    সৃষ্টির সেই প্রথম পরমবাণী — মাতা, দ্বার খোলো।
    দ্বার খুলে গেল।
    মা বসে আছেন তৃণশয্যায়, কোলে তাঁর শিশু,
    উষার কোলে যেন শুকতারা।
    দ্বারপ্রান্তে প্রতীক্ষাপরায়ণ সূর্যরশ্মি শিশুর মাথায় এসে পড়ল।
    কবি দিলে আপন বীণার তারে ঝংকার, গান উঠল আকাশে —
    জয় হোক মানুষের, ওই নবজাতকের, ওই চিরজীবিতের।
    সকলে জানু পেতে বসল, রাজা এবং ভিক্ষু, সাধু এবং পাপী, জ্ঞানী এবং মূঢ়;
    উচ্চস্বরে ঘোষণা করলে — জয় হোক মানুষের,
    ওই নবজাতকের, ওই চিরজীবিতের।
  • Atoz | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৩:৩৬426862
  • গান আছে। "নতুন নামে ডাকবে মোরে বাঁধবে নতুন বাহুর ডোরে/ আসবো যাবো চিরকালের সেই আমি "
  • daaridaadur kabitaa | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৩:২৩426861
  • আচ্ছা, 'সময়' নিয়ে বা সময়ের প্রকৃতি নিয়ে দাড়িদাদুর কোন নামকরা কবিতা আছে?
    না, 'সময় যদি ফুরোয় ইত্যাদি' পদ্যটার কথা হচ্ছে না!
  • Atoz | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৩:১৩426860
  • এইভাবে নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি না করে আমরা এইসব দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সমস্ত দেশগুলো জোট বেঁধে চলুন চীনের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ি, ব্যাটারা খুব বদমাশ। এই তো কিছুক্ষণ আগেই একটা পোস্টে দেখলাম ভীষণ অত্যাচার করছে ওরা দেশের মধ্যে। আমরা চলুন সব দেশ মিলে ফেডারেশন অব লিবারেশন তৈরী করে ভীষণ যুদ্ধ করে অত্যাচারিত ঐ চীনা মানুষদের মুক্ত করি।
  • অরিন | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০২:৫৪426859
  • @অর্জুন, @রঞ্জনবাবু, @খ,
    এটাও থাক,

    "What is a revolution?
    Constitutional lawyers define it as a change of constitution by means not foreseen therein. By this definition the Nazi revolution of March 1933 was not a revolution. Everything went "strictly by the book," using means that were permitted by the constitution. At first there were "emergency decrees" by the president of the Reich, and later a bill was passed by a two-thirds majority of the Reichstag, giving the government unlimited legislative powers. (১২৪ এর পাতায় )"
    ...
    The whole façade of everyday life remained basically unchanged. The cinemas, cafes and theaters were full; couples danced in the open air and in the dance halls, people strolled down the streets, while others sunbathed on the beaches. The Nazis used this to great effect in their propaganda: "Come and see our peaceful, quiet country. Come and see how well even the Jews are doing. The secret vein of madness, fear and tension, of living by the day and dancing a dance of death: those one could not see. (১৫৪ পাতায় ).
    ...
    https://books.google.co.nz/books?id=BOlEdqAcmZIC&dq=isbn:0312421133&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjNyYmvjbvmAhWb93MBHV9CBGMQ6AEIKTAA
    আজকের ভারতে বইটা সবিশেষ প্রণিধানযোগ্য।
  • i | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০২:৪৪426858
  • গীতা চট্টোপাধ্যায় মারা গেছেন জানতাম না তো। খুব খারাপ খবর।
    সিএস, আদম থেকেই বেরিয়েছিল গীতা চট্টোপাধ্যায়ের গদ্যসংগ্ৰহ।
  • Atoz | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০১:৪৭426857
  • দাড়িদাদুও লিখে গিয়েছেন।
    "হেথায় আর্য হেথা অনার্য হেথায় দ্রাবিড় চীন
    শক হুন দল পাঠান মোগল এক দেহে হল লীন।"
  • অরিন | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০১:৪৫426856
  • "ভারতবর্ষ সূর্যের এক নাম
    আমরা রয়েছি সেই সূর্যের দেশে
    লীলাচঞ্চল সমুদ্রে অবিরাম
    গঙ্গা যমুনা ভাগীরথী যেথা মেশে ..."

    শিবদাস বাবু কতকাল আগেই লিখেছিলেন।
  • Atoz | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০১:২৬426855
  • দু দি,
    মহাভারত এও নাকি ভারত মোটেই রাষ্ট্র বা দেশ নয়, অন্য অর্থ। ভা মানে আলো(বিভা), "রত" হল বিকিরণ। দুইয়ে মিলে ভারত।
  • সিএস | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০১:২১426854
  • গীতা চট্টোপাধ্যায় মারা গেছেন জানতে পারলাম। আমি কবি হিসেবেই জানি, যদিও পড়েছি একটি কবিতার বই আর পঞ্চাশের কবিদের নিয়ে একটি প্রবন্ধের বই। আদম থেকে কবিতাসংগ্রহ বেরিয়েছে গত ব্ছর হবে। ৪১ সালে জন্ম, ষাট, সত্তর থেকে লেখালেখি। হ্যাঁ, কবিতা নিয়ে বলতে গেলে আবারো পড়া উচিত, কিন্তু কোন কবিতাই কোনোদিনই উচ্চকিত নয়, ঠিক সেইভাবেই 'কত কবি মরে যায় চুপি চুপি একা একা', এই প্রায় অন্তহীন নরকের মধ্যে।
  • রঞ্জন | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০১:০৭426853
  • অরিন,
    আপনাকে ধন্যবাদ। বইটার ব্যাপারে জানতাম না। এখন অ্যামাজনে বুক করেছি। এ সপ্তাহে হাতে পাব।
  • অর্জুন | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০৪426852
  • 'ভারত কথাটা পৃথিবীবোঝাতে ব্যবহার হত।' !!!!!!!!
  • Du | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৩:৫৬426851
  • ডিডিদা একবার রেফারেন্স দিয়েছিলেন ভারত কথাটা পৃথিবীবোঝাতে ব্যবহার হত। কেউ কিখুঁজে দিতে পারবে? পাঁচ হাজার বছরের ভারতীয় জাতির গর্বের দাপটে তুচ্ছ ভারত নামের দেশটা তো আর টিকতে পারছে না।
  • Atoz | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৩:৫৩426850
  • সেই ১৯০৫ এর কাহিনি পড়ছিলাম। তখন এপ্রিল মাস, বৈশাখের শুরুর দিক। সেখানে আছে, "কী দাম বেড়েছে জিনিসের! এই তো ভুতো-বোম্বাই আম, তাও এক পয়সায় দুটোর বেশি দিল না!"
  • Du | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৩:১৯426849
  • বিজেপির লোকেরা যে করেই হোক সিগনাল পঠাতেই থাকে। কখনো স্মৃতি ইরানীর আপাত স্টুপিড প্রতিবাদ, কখনো পিএমের ড্রেস ক্লু। তাদের বিশাল সাপোর্টারগোষ্ঠী যাতে কিছুতেই ঠিকঠাক কিছু ভাবতে না পারে তার ব্যবস্থা ওরা যোগাতেই থাকে, যোগাতেই থাকে।
  • PM | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ২০:৫২426848
  • ব্রতীন ২৪ তারীখ দেশে যাবো, ৩ তারীখ ফিরবো। একদিন বসা যেতেই পারে ঃ)
  • PM | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ২০:৫১426847
  • "এক রাজ্যের দল হিসেবে কাজ করে নি, বলেই, নিউক্লিয়ার ডীলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে"-- এই সব জমির সঙ্গে সম্পর্ক হীন তাত্ত্বিক দের হাতে পড়েই দল টার এই হাল।

    নিউক্লিয়ার ডীল আদতেই একটা নন ইস্যু না হলেও কেন্দ্রীয় সরকার ফেলার মত ইস্যু কোনোমতেই নয়। গোপালন ভাবনের গজদন্ত মিনার এ বসেই এসব করা যায়। আজকের বিজেপির উত্থানের অন্যতম কারন ঐ সিদ্ধান্ত।

    বাম সমর্থনে ইউপিয়ে ১ ভারতের অন্যতম সেরা সরকার ছিলো। বাম সমর্থন থাকলে ইউপিয়ে ২ এরকম রেটে ধ্যারাত না যাতে মোদীর একছত্র উত্থান হয়।

    আমার ব্যাক্তিগত ধারনা তিনো সরকার ও আসত না ২০১১ তে যদি কং হাত না মেলাত
  • S | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ২০:১৫426846
  • আমি মোটামুটি ফাঁকাই আছি। কিছু ছোটখাটো কাজ আছে।
  • Apu | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৯:৩৫426845
  • বড় এস একদিন জমিয়ে আড্ডা দেবো। কবে কোথায় বলো? পি এম আসবে নাকি?
  • অর্জুন | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৮:২৮426844
  • মাঝে, মাঝে খুব সামান্য কিছু কাজ করেও বড্ড আনন্দ হয়। এবার কাশ্মীরে দুটি বারো ক্লাসের ছেলের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। দুজনেই বোর্ড এক্সাম দিচ্ছে। তিন মাস যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। এখন নিয়মিত যোগাযোগ হয়। একজনের এনভায়ারনমেন্টাল সায়েন্সে প্রজেক্ট ছিল। ইন্টারনেট বন্ধ। স্কুল বন্ধ। স্থানীয় লাইব্রেরী বন্ধ। কি ভাবে কমপ্লিট করবে প্রজেক্ট! আমাকে জানাল মেটিরিয়াল পাই কোথা থেকে। কি করা যায় !! একটু ভেবে একটা আইডিয়া পাওয়ায় নিজেই নিজেকে তারিফ না করে পারলাম না। ছেলেটির কাকা সরকারী কর্মচারী, কাকার অফিসে ফ্যাক্স আছে। আমি এখান থেকে ফ্যাক্স করে নোটস পাঠালাম।

    আরেকজনের জয়েন্টের ফর্মে আমার নম্বর দেওয়া ছিল। কাশ্মীরে এখনও এস এম এস যায়না। ফর্ম জমা পড়লে ওটিপি আসবে। ওটিপি দিলে তবে ফর্ম অ্যাপ্রুভড হয়। ফোন এল দিয়ে দিলাম ওটিপি।

    Resistance র সঙ্গে কি ভাবে যুজতে হয় সেটা কাশ্মীরীরা জানে।
  • S | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৮:১৩426843
  • জামিয়াতে এগজ্যাক্টলি কি ঘটেছিল?
  • অর্জুন | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৮:০৬426842
  • @অরিন-দা, আপনার কাছ থেকে খুব ভাল সব মুভি ও বইয়ের সন্ধান পাচ্ছি।

    প্রত্যেকদিন এত বিক্ষিপ্ত সব ঘটনা ঘটছে, 'খারাপ' লাগছে বললে বোধহয় কিছুই বলা হয়না। এখন একদম দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ানক হল এই বর্তমান রাজনীতি এক ধরণের বাতাবরণ তৈরি করে দিয়েছে জনতার মধ্যে যেখানে কোনো প্রকার প্রতিবাদ করার স্পেসটাই আর থাকছেনা। কি সাঙ্ঘাতিক মৌলবাদ চারিদিকে।

    আমার এখন মনে হয়, 'গণতন্ত্র'র যত বড়াই করিনা কেন, আসলে আমাদের দেশের অধিকাংশ লোকজন 'গণতন্ত্র' ব্যাপারটার সঙ্গে পরিচিত নয়। সংবিধান বিষয়টাই কারো কাছে পরিষ্কার নয় এবং খুব স্বাভাবিক ভাবেই তার ওপর শ্রদ্ধাও নেই। নইলে সংবিধান বিরোধী সমস্ত আইনগুলো কি ভাবে একটা সংখ্যকের জন সমর্থন পাচ্ছে।

    আজ একটা ঘটনা দেখলাম নিজের চোখে। বিজেপির একটি মিছিল এসে রাস্তা ঘেরাও করে ফেলল। পুলিশ আটকাতে গিয়ে বাধা পেল। রাস্তায় শুয়ে পড়ল বিজেপির লোকজন এবং একজন মাইক নিয়ে ওখানেই পথসভার ভাষণ দিতে শুরু করে দিল। প্রথম কথাই ' সি এ বি এবং এন আর সি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক। মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। যারা এর বিরোধিতা করছে টাটা দেশের আসল শত্রু ইত্যাদি ইত্যাদি'।
    দেখে মনে হল আশে পাশের অনেক লোকের কথাগুলোর প্রতি বেশ সমর্থন রয়েছে।

    আমি গত চার বছর নিয়মিত বিজেপির নানা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে ফেবুতে পোস্ট দিই এবং নিয়মমাফিক ট্রোলড হই। আমাকে অনেকে পোস্ট দিতে বারণ করে কিন্তু আমি দেবই।
  • হা হতোস্মি | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৮:০০426841
  • "মমতা নিজেও বেচে যেতেই পারেন। "

    মহৎ প্রাবন্ধিক আজকাল এইরকম বাংলা লিখছেন, হা হতোস্মি!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত