এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • ধর্ষণের শাস্তি কি মৃত্যুদন্ড?

    s
    অন্যান্য | ১৮ ডিসেম্বর ২০১২ | ৬৯৭৩১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ranjan roy | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ০১:৪২581570
  • একমত শুদ্ধ।
    কয়েকপাতা আগে কেউ সনাতন ধর্মে মুক্তি খুঁজছিলেন। সেখানে নাকি ধর্ষণ নেই! বহুবছর আগে স্বামী গম্ভীরানন্দের অনুবাদে শ্বেতাশ্বতর এবং বৃহদারণ্যক উপনিষদ পড়েছিলাম। কোন একটার পঞ্চম বা ষষ্ঠ অধ্যায়ে দেখেছিলাম-- নারীকে নিজের বশীভূত করতে প্রিয়বাক্য ও আভুষণ দিয়ে পটাবে। নইলে জোর করবে, লাঠি দিয়ে ঠেঙিয়ে বিছানায় নেবে-এমনি কিছু। সচরাচর ধর্ষকেরা এই তো করে!
    মুক্তি নারীকে স্বতন্ত্র ও সমান ভাবায়, দীর্ঘ প্রক্রিয়া, হতাশা স্বাভাবিক। ক্রোধ স্বাভাবিক। যে হতাশ ক্রোধে মুনি-ঋষিরা দোষীদের অভিশাপ দিতেন, এই মৃত্যুদন্ডের আকাঙ্ক্ষা তারই পর্যায়বাচী।
  • ম্যাক্সিমিন | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ০১:৪৮581571
  • খবর আপডেট।
    1. Home Secretary RK Singh says 'any case cracked in one or two days is brilliant work. Outstanding work. (Note that the first indication the police had was when a passer-by phoned in to say that a couple was lying bleeding near a flyover in South Delhi.)

    2. The Delhi High Court had asked the city police to send the names of policemen on duty on the route and barricade. Report was sent. High Court says report is 'evasive'.

    3. Forensic laboratories are deficient. Prosecution may suffer.
  • ম্যাক্সিমিন | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ০১:৫৩581572
  • কী কান্ড! আমি তো পড়েছি সেদিন তিনি ড্রাইভারের সীটে ছিলেন না!
  • না | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ০১:৫৮581573
  • সনাতন ধর্মে কেউ মুক্তি খোঁজে নি। এটা একটা জেনেরালাইজড স্টেটমেন্ট।
    যেটা বলার ছিলঃ সনাতন ধর্মের শাশ্বত বাণী "মা ভৈঃ" যে ভয় থেকেই এই হানাহানির সূচনা সেই ভয়কেই বিনাশের কথা বলেছে উপনিষদ।
    আর "এমনি কিছু" বলে কিছু হয় না। মজায়, মস্তিতে যাঁর জন্মের দেড়শো বছর ফুর্তির পূর্তি হবে, তিনি কি বলেছেন একটু ফিরে দেখুন না। সায়েবদের দৃষ্টিতে দেখা দাসেদের ইতিহাস পড়ার চেয়ে একটু বেশিই লাভ হবে। নিশ্চিত।
  • আর | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ০২:০৬581574
  • সর্বক্ষণ এক্স্ট্রা পোলেশন করবেন না তো। "সচরাচর ধর্ষকরা এমন করে"। মূল লেখায় ধর্ষক শব্দটা নেইই হয়ত। এই রকম স্কেপটিক ভাবে পাদপূরণ করে দিলেন!
    কি আর বলব!
    শ্বেতাশ্বতর বলতে "ত্বমেব বিদিত্বাতি মৃত্যুমেতি" মনে এল না? মনে এল হলেও হতে পারে ধর্ষন!!
  • siki | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ০৮:৩১581575
  • রাম সিং সেদিন গাড়ি চালাচ্ছিল না। চালাচ্ছিল তার ভাই মুকেশ। পরে রাম সিং স্টিয়ারিংয়ে বসে এবং মুকেশ ধর্ষণ শুরু করে।
  • Ishan | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ০৮:৫২581576
  • একটা কথা বললে সবাই খুব রেগে যাবে। তবু বলি। পড়লাম, কোনো একজন অভিযুক্তকে বিচারাধীন অবস্থায় জেল হাজতে নিয়ে যাবার পর জেলের বাকি কয়েদীরা লোকটিকে মেরে ফাটিয়ে দিয়েছে। তাকে সারারাত্তির ধরে মারধোর দেবার পর হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে।

    কোনো সন্দেহ নেই, লোকটি যে কাজ করেছে, সেটা যদি আমার মা, স্ত্রী, কন্যা বা বান্ধবীর সঙ্গে হত, আমি তাকে প্রাথমিকভাবে মেরে ফাটিয়েই দিতে চাইতাম। বলা যায়না, মেরে ফেলতেও চাইতে পারতাম। এক্ষেত্রে একেবারেই তা নয়, তবুও একেবারেই মারধোর দিতে ইচ্ছে করছেনা বাজি রেখে বলতে পারিনা। কিন্তু তার পরেও ওই জেল হাজতের মারধোরের ঘটনায় উদ্বিগ্ন বোধ করছি। এই মারধোর হতে পারে দুটো কারণে।
    ১। গণহারে সবাই নিজেকে বিচারক ভেবে শস্তি দিতে শুরু করছে। যে যেখানে যেমন পারে। সেটা ক্যাঙারু কোর্টের চেয়ে ভালো কিছু নয়।
    ২। বিচার ব্যবস্থায় কিস্যু হয়না, অতএব নিজেদের হিসেব নিজেদেরই মিটিয়ে নিতে হবে, এই বোধ থেকে মারধোর আসে। সেটা বিচার ব্যবস্থার পক্ষে কলঙ্কজনক।

    এই দুটোর কোনোটা বা মিশ্রণে মাঝামাঝি কিছু হলে, সেটায় উদ্বিগ্ন হবার মতই ঘটনা মনে হচ্ছে, তাই লিখে ফেললাম।
  • Ekak | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ১০:৪৭581577
  • বেদ-উপনিষদ নিয়ে বাঙালির প্রিয় তর্কযুদ্ধ শুরু হবার আগে বলি :
    ধর্ম তো প্রজাকে ধারণ করে থাকে তাই সেই সংক্রান্ত ডকুমেন্ট এ স্বাভাবিক ভাবেই সেই সময়ের জীবন ও মানসিকতা উঠে আসে। ইটা স্বাভাবিক। এবার টেক্সট রীডিং কিভাবে করবেন তার তার দুটো পথ। কেও যদি মনে করেন ধর্ম পুস্তকেব্র মল-মুত্র বাদ দিয়ে শুধু ঐশী চিন্তা টুকু বোঝার চেষ্টা করব আত্মন্নতির জন্যে সে এক পথ। আরেক পথ হলো টেক্সট গুলোকে সামাজিক ডকুমেন্ট হিসেবে নিয়ে সেই সময় তাকে বোঝার ও বিশ্লেষণের জন্যে ব্যবহার করা।
    আত্মজ্ঞান আর ইতিহাস খোঁড়া এক কাজ নয়। পথ আলাদা। খানিকটা উদ্দেস্ব উ।
    কোনো একটা পথ ঠিক মানে আরেকটা ভুল নয়। দুই ক্ষেত্রেই।

    বেকার ঝ্য়াম শুরু হবার আগে আধপোড়া নেউল একটু ভাটিয়ে গ্যালো :)
  • dd | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ১১:২৩581578
  • আচ্ছা আমি তাহলে ফয়সালা করে দিচ্ছি।

    এরকম অপরাধের ক্ষেত্রে তিন/চার রকমের শাস্তি দেওয়া হবে। অপশন ঠিক করবে অপরাধী নিজে।

    ১. স্রেফ ফাঁসী। নো ওয়েটিং পিরিয়ড।
    ২. যাবজ্জীবন জেল। সশ্রম। নো অপশন অব পেরোল।
    ৩. কাস্ট্রেট করে সেন্নাই পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেখানে গায়ে মাথায় "আমি রেফ করেছি" উল্কি থাকবে। মন্দিরে গিয়ে সারা লাইব ভিক্ষে করে খেতে হবে। চাকরি বা বেওসা অ্যালাউড না।
    ৪. ইঃ

    একবার অপ্ট করলে সেই অপশন ফ্রোজেন থাকবে মিনিমাম পাঁচ বছর,তারপর সে অন্য অপশনে সুইচ করতে পারে। তবে ফাঁসী অপ্ট করলে আর অপশন থাকবে না।

    সত্যি, আমার বিচক্ষনতা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে যাই।
  • Ekak | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ১১:৩১581580
  • ৩ ন পয়েন প্রসঙ্গে বলি। কাস্ত্রেত তা বাদ দিলেও সারাজীবন ভিক্ষের সুবন্দোবস্ত করে দেওয়া যায়। ভুটানে এরকম একটা ব্যাপার আছে। ওদের সিটিজেনশিপ কার্ড ইনফরমেশন এ ক্রাইম হিস্ট্রি এড হয়ে যায়। ধর্ষণ তো দূর কি বাত চুরি-ডাকাতি তে জড়ালেও সারা জীবন কোনো চাকরি পাবেনা। ব্যবসা র লাইসেন্স ও পাবেনা। চাষজমি ফমি না থাকলে অবস্থা তাইত। ক্রাইম রেত কম হওয়ার এটাও একটা কারন।
  • kd | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ১৫:৫৩581582
  • উইকি থেকে -

    Physical castration appears to be highly effective as, historically, it results in a 20-year re-offense rate of less than 2.3% vs. 80% in the untreated control group, according to a large 1963 study involving a total of 1036 sex offenders by the German researcher A. Langelüddeke, among others—much lower than what was otherwise expected. Compare to overall sex offender recidivism rates.

    In modern times, the Czech Republic practices surgically castrating convicted sex offenders. According to the reports compiled by Council of Europe, a human-rights forum, the central European country physically castrated at least 94 prisoners in the 10 years up to April 2008. The Czech Republic defends this procedure as voluntary and effective. According to Dr. Martin Hollý, director of the Psychiatric Hospital Bohnice in Prague, none of the nearly 100 sex offenders who had been physically castrated had committed further offenses. One serial offender stated that being castrated was the "best decision" he ever made: "On the one hand you have to protect the potential victims and on the other hand I wanted to be protected from myself, I wanted to live like a normal person." Don Grubin, a professor at Newcastle University's Institute of Neuroscience who also runs a chemical castration program backed by the U.K.'s Ministry of Justice, was initially opposed to physical castration. After visiting the Czech Republic, however, he agreed that some form of castration might be of benefit to some sex offenders.
  • Ekak | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ১৭:১৯581583
  • কাস্ত্রেষণ এবং ফাঁসি দুটোতেই সেম পয়েন্ট সেটা হলো এই প্রসেস দুটো ইরিকভারেব্ল।
    যদি পরে প্রমান হয় যে দোষ ছিলনা তখন কি হবা ?
  • Ekak | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ১৭:২১581584
  • আর এখানে সেকেন্ড প্যারা তে অপরাধী রা যে সম্মতি এবং সাধুবাদ জানিয়েচ্ঘ্হে সেটা ফিসিকালি কাস্ত্রেত না করেও সম্ভব। হরমন থেরাপি দিয়ে।
  • rb | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ১৮:১৩581585
  • test.
  • naaree | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ১৮:৫৩581586
  • এদের জেন্ডার চেঞ্জ করে পতিতা পল্লীতে চালান করা হোক।
    রোজ রাতে ধর্ষিত হোক।
  • sosen | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ২২:০৪581587
  • নারী নাম্নী আই পি কে ঃ এ কি ধরনের কথাবার্তা? এরকম মন্তব্য করার আগে এক্টু ভাবলে হয় না?
  • aka | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ২২:২৭581588
  • পুলিশ একটু কেলিয়েছে বেশ করেছে। রেপ অনেকই হয়, কিন্তু এমন ব্রুটাল, জানোয়ারের মতন কাজকম্মো খুব বেশি দেখা যায় না। ঐটুকু কেলানি প্রাপ্যই বোধহয়। রাগের কথাই বললাম।
  • শ্রী সদা | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ২২:৩৩581589
  • পুলিশ না, সহ-বন্দীরা কেলিয়েছে। অবশ্য সত্যের খাতিরে বলতে হয়, আমার বিশেষ খারাপ লাগেনি শুনে। হারামজাদারা বুঝুক, মায়াদয়াহীন ভাবে পেটালে ঠিক কেমন লাগে।
  • Guest | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ০১:৪৩581591
  • "৩ ন পয়েন প্রসঙ্গে বলি। কাস্ত্রেত তা বাদ দিলেও সারাজীবন ভিক্ষের সুবন্দোবস্ত করে দেওয়া যায়। ভুটানে এরকম একটা ব্যাপার আছে। ওদের সিটিজেনশিপ কার্ড ইনফরমেশন এ ক্রাইম হিস্ট্রি এড হয়ে যায়। ধর্ষণ তো দূর কি বাত চুরি-ডাকাতি তে জড়ালেও সারা জীবন কোনো চাকরি পাবেনা। ব্যবসা র লাইসেন্স ও পাবেনা। চাষজমি ফমি না থাকলে অবস্থা তাইত। ক্রাইম রেত কম হওয়ার এটাও একটা কারন। "

    --Shasti'r bhoy tahole deterrent hisebe kaaj korche....bhalo byapar
  • Ekak | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ০৩:৪১581592
  • একটা ছোট কথা আছে। ইটা গুরুর র বেসিক সমস্যা তাই শুধু আবেদন টুকু করে যাচ্ছি। এই টই তে যার যা মন্তব্য সেটা পরিচিত এলিয়ায়্স থেকে করলেই ভালো হয়। বক্তব্যের ধারা তা বোঝা যায়। আর তাছাড়া কেও কেও পসিষণ মক করে ত্রিভিয়ালিতি র দিকে যেতে চাইছেন। যাতে তর্কতাকে তরল করে দিয়ে মজা নেওয়া যায়। খুলে খেলুন না :) আমরাও মুখ তা দেখি।
  • ranjan roy | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ০৮:১৭581593
  • একক,
    লাইকালাম।
  • কল্লোল | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১০:২৯581594
  • অসাধারণ প্রতিবাদ হচ্ছে দিল্লীতে।
    তাদের মৃত্যুদন্ডের দাবীর সাথে আমি একমত নই। কিন্তু প্রতিবাদকে আভূমি কুর্নিস। সোনিয়াকে মধ্যরাতে রাস্তায় নামিয়ে ছেড়েছে। প্রনব মুখার্জির মেয়ে (যিনি রাষ্ট্রপরিএ অফিশিয়াল হোস্টও বটে) টিভিত সাক্ষাতকারে, প্রতিবাদকারীদের সাথে গলা মিলিয়েছেন। উনি ওনার ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী নিতে অস্বীকার করেছেন।
  • Guest | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১০:৩৮581596
  • Manu babu'r ki protikriya?
  • হ্যাঁ | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১০:৩৮581595
  • একক, Date:22 Dec 2012 -- 10:47 AM অনেকটা ঠিক্ঠাক বলেছেন। মল-মূত্র বাদ দিয়েই পড়াশোনার কথা আর তার প্রয়োগ নিয়ে ভাবলে কাজের কাজ হবে। নইলে, চির-তরলই থেকে যাবে টই (অবিশ্যি, দই-এর মত জমেছেই বা কবে?)
  • siki | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১০:৪৮581597
  • না। প্রতিবাদকারীদের মধ্যে সকলেই মৃত্যুদণ্ড চাইছে না। অনেকেই কাস্ট্রেশন ইত্যাদির পক্ষে। কেউ চাইছে ইমিডিয়েটলি রেপ সংক্রান্ত ল-এ অ্যামেন্ডমেন্ট।

    কাল সকালে কিছু কাজে যেতে হয়েছিল কস্তুরবা গান্ধী মার্গে। এটা হল ইন্ডিয়া গেটের সাথে যুক্ত অনেকগুলো রাস্তার মধ্যে একটা রাস্তা। তো, যখন যাচ্ছিলাম, তখনই দেখছিলাম অনেক ছোট ছোট ছেলেমেয়ে দল বেঁধে পিঠে ব্যাগ নিয়ে এগোচ্ছে। মুখে শ্লোগান, দিল্লি পুলিশ, হায় হায়, উই ওয়ান্ট জাস্টিস ইত্যাদি।

    যেখানে কাজে গেছিলাম, সেখানে টিভি চলছিল। তখনই দেখলাম হাজারে হাজারে লোক নাকি ইন্ডিয়া গেটে জড়ো হয়েছে। রাজপথ, যেটা ইন্ডিয়া গেটকে কানেক্ট করে রাষ্ট্রপতি ভবন/ বিজয় চকের সঙ্গে, লোকে লোকারণ্য। এমনিতেই এটা দেশের হায়েস্ট সিকিওরিটি জোন, লোক খুব কম থাকে। সেখানে এত লোক জড়ো হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সমস্ত নিউজ চ্যানেল পৌঁছে গেছে সেখানে।

    কেজি মার্গে কাজ শেষ হতে হতে বাজলো প্রায় এগারোটা। ফেরার আগে ভাবলাম, যাই একবার দেখেই আসি টিভিতে যা দেখাচ্ছে তার সাথে বাস্তবের তফাত কতটা।

    পৌঁছে দেখি, সত্যিই লোকে লোকারণ্য। রাজপথে তিনটে ইন্টারসেকশন আচে। মানসিং রোড, জনপথ আর রফি মার্গ। রফি মার্গের পরের সিগনালটাই হল বিজয় চক, রাষ্ট্রপ[অতি ভবনের এন্ট্রি পয়েন্ট।

    গেলাম যখন, তখন দেখি রফি মার্গের পরে ব্যারিকেড লেগে গেছে, আর তার ওপারে অগুনতি লোক। প্রায় সমস্তই মহিলা, বা কমবয়েসী ছাত্রছাত্রী। কোনও লিডারশিপ ছাড়া এই ধরণের জমায়েত দিল্লিতে এর আগে কোনওদিন হয়েছে বলে শুনি নি। দেখা যাচ্ছিল লোকজন নর্থ ব্লকের পাঁচিলে উঠে পড়েছে, সেখানে উঠে শ্লোগান দিচ্ছে। সাউথ ব্লকের দিকে ওবি ভ্যানে ছয়লাপ। আর রাষ্ট্রপতি ভবনের এন্ট্রি গার্ড করে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি পুলিশ ভ্যান আর একটা ডিটিসি বাস।

    ফিরে এলাম। বাড়ি ঢুকতে ঢুকতে পৌনে বারোটা-বারোটা। এসেই টিভি খুলে দেখি আমি যখন ওখান থেকে ফিরেছি, ঠিক তখনই র‌্যাফ নেমেছে, কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ, জলকামান সবই চলেছে। তাতে ছেলেমেয়ের দল আরও খেপে গিয়ে সমস্ত পুলিশ ভ্যান ভেঙেছে, ডিটিসি বাসটাকে অ্যাটাক করেছে, এবং সমস্ত ব্যারিকেড ভেঙে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে এগোতে শুরু করেছে। পুলিশ তখন নীরব দর্শক।

    এর পর তো খেয়ে দেয়ে আকার সাথে দেখা করার জন্য বেরোতে হল। সন্ধ্যেবেলায় আর টিভি খোলার সময় হয় নি।

    আজ সকালের কাগজে পড়লাম, কাল মাঝরাতের পরেও লোক বসে ছিল বিজয় চকে। কাল লোয়েস্ট টেম্পারেচার গেছে সাত ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। আজ সকাল থেকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা দিল্লি। ভোর চারটে নাগাদ বোধ হয় শেষতম বিক্ষোভকারীকে সরাতে সমর্থ হয়েছে র‌্যাফ। তারপরে নিউ দিল্লি এলাকা জুড়ে ঘোষিত হয়েছে ১৪৪ ধারা। প্যাটেল চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, রেস কোর্স আর জোড় বাগের মেট্রো এক্সিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অনির্ধিষ্টকালের জন্য।

    বুঝতে পারছি, কোথাও একটা ক্যাম্পেনিং চলেছিলই, নইলে এমনি এমনি প্রায় সাত আট হাজার লোক ঐভাবে সকাল সকাল রাজপথে চলে আসতে পারে না। ফেসবুক ইত্যাদিতে কোনও না কোনও ক্যাম্পেন হয়ে-ই-ছে। অদ্ভুত লাগল, আমি এখন নিজেকে ডিসকানেক্টেড ফীল করছি। দিল্লির এতদিনের বাসিন্দা, এত লোকাল লোকজন আমার ফেবু লিস্টে আছে, আমি কিন্তু একেবারেই জানতে পারি নি কালকের এই জমায়েতের ব্যাপারে। মানে, আমার পরিচিত কেউই এই বিষয়ে অবহিত ছিল না। এই ক্যাম্পেন সার্কুলেট করেছে কেবলমাত্র স্কুল কলেজে এবং কিছু এনজিও তে।

    বিক্ষোভের তাপ নিতে কাল এসেছিলেন পুর্ব সেনাধ্যক্ষ ভি কে সিং, পরের দিকে এসেছিলেন মনীষ শিশোদিয়া, আম আদমি পার্টির তরফে।

    রাত বারোটার পরে সোনিয়া জনপথের বাড়ি থেকে বেরোন। জনপথে তখনও যারা পিকেটিং করছিল, তাদের সাথে কথা বলেন এবং পিকেট ওঠান।

    নেতারা সহমর্মিতা দেখাতে এখন খতিয়ান দিচ্ছেন তাঁদের কার কার কন্যাসন্তান আছে, কতগুলি আছে এবং তাদের বয়েস কত। আমরা এখন জানি সুশীলকুমার শিন্ডে, সুষমা স্বরাজ, প্রণব মুখার্জি ইত্যাদিদের কন্যাসন্তানদের ডিটেলস। শুধু এটা কমিউনিকেট করা যাচ্ছে না যে তাঁদের ঘরের মেয়েদের নিরাপত্তা আর আমাদের ঘরের মেয়েদের নিরাপত্তা কখনও কমপেয়ারেবল নয়। এর তুলনা আসতেই পারে না।
  • siki | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১০:৫০581598
  • কিছু পুলিশ কনস্টেবল, যারা সেই রাতে চেকপোস্টের দায়িত্বে ছিল, সাসপেন্ডেড হয়েছে। জানা কথা। পুলিশের মধ্যে এরাই সবথেকে বেশি ভালনারেবল। এদের খুব সহজে সাসপেন্ড করা যায়।
  • | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১১:০৫581602
  • না সবাই ফাঁসির দাবী করছেন। একটা বেশ ভাল অংশ ল্যাস্ট্রেশানের পক্ষে।

    পশ্চিমবিহার, মহাবীর এনক্লেভ এরিয়ায় কালকে বিভিন্ন স্কুলে স্কুলে উঁচু ক্লাসগুলোতে, মানে নাইন থেকে ইলেভেন অবধি এই নিয়ে আলোচনা, রাগ, প্ল্যান ইত্যাদি হয়েছে শুনলাম। লোকে সত্যিই ফুঁসছে।

    তবে যা শুনলাম, পুরোপুরি অরাজনৈতিক নয়, লোকাল বিজেপি নেতা কর্মীরা নাকি মানুষের সাথে বেশ অ্যাকটিভলি প্রতিবাদ, তার ধরণ নিয়ে আলোচনা করছে। লোকাল কংগ্রেস নেতা কর্মীরা হয় চুপচাপ, নয়ত বেশ মিনমিন করে কিছু বলছে।

    এই পুরোটাই আমার শোনা কথা।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন