এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • ধর্ষণের শাস্তি কি মৃত্যুদন্ড?

    s
    অন্যান্য | ১৮ ডিসেম্বর ২০১২ | ৬৯৭৩০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কৃশানু | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৬:০৭581535
  • যাহ বাবা - তাহলে তো যে কেউ যখন তখন প্যারেডে দাড়াতে অস্বীকার করে পার পেয়ে যেতে পারে। ঠিক বুঝলাম না।
  • pi | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৬:১৩581537
  • প্রত্যেকেরই নিজস্ব মতামত থাকবে। আমার কাছে সর্বসমক্ষে ফাঁসি, কি পোড়ানো, কি পাথর ছুঁড়ে মারা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে নেওয়ার দাবি তোলা, সেগুলো সম্প্রচার করা, সেগুলো দিয়ে ভিজ্যুআল ক্যু তৈরি করা, তালিবানী পদ্ধতিকে কার্যকর বলে মান্যতা দেওয়া বেশ আপত্তিজনক মনে হয়েছে, আপত্তি জানিয়েছি। এখানে অনেকে হয়ত সেটার কার্যকরিতার কথা ভেবেই বলছেন, কিন্তু আমার মতে তার সাথে একটা হিংস্রতা, প্রতিহিংসার এলিমেন্ট ও থেকে যায়ই, না চাইলেও। এরকম কোন ঘটনার অভিঘাতে প্রচণ্ড রাগ থেকে ( যেটা হওয়া কিছু অস্বাভাবিক নয়) এরকম মনে হতে পারে, কিন্তু কল্লোলদাও যেটা বলেছে, পরে সেটা পুনর্বিবেচনা করা হবে, এটা আশা করি।
    এটা হতে দিলে সেটা আল্টিমেটলি মব ভায়োলেন্সে পরিণত হয়ে যাবে, জনরোষকেই ক্যাটার করবে এই আশংকাও করি।

    এমনি (মানে সর্বসমক্ষে নয়)ফাঁসির বিরোধিতা কেন করি সেও বলেছি। শাস্তির ভয়াবহতার মাত্রা নয়, শাস্তি হবে এটা নিশ্চিত করাটা অনেক বেশি কার্যকরী ও প্রয়োজনীয় হবে বলে মনে করি। এনিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে, সেজন্যই তো বিতর্ক। সেটা চলতে তো অসুবিধা দেখিনা।
    এই আলোচনায় কিছু উঠে আসছে না, এমনও মনে করিনা। কীকরলে কিছু এফেক্টিভ আলোচনা হত সেটাও বুঝলাম না। সবাই মিলে ডেথ পেনাল্টির পিটিশনে সাইন করার জন্য একমত হলে ?

    যাই হোক, মামু সকালে আইনের ফাঁক নিয়ে একটা পোস্ট করেছিল। ধর্ষণের সংজ্ঞা আরো ফ্লেক্সিবল করা নিয়ে।
    ফেবু গ্রুপে পিনাক লিখেছেন ঃ
    'এই ব্যপার টা নিয়ে একজন জেলা জজ সাহেবের সাথে আমার তর্ক হয়েছিলো। তার বক্তব্য যে শুধুমাত্র ধর্ষন তখনি হবে যখন পুরুষাংগ ব্যবহার হবে! উনি আইনি পরিভাষায় ঠিক ই বলেছিলেন, কিন্তু ধর্ষনের চাইতেও ভয়াবহ হয় যখন লোহার রড, স্ক্রু ড্রাইভার ইত্যাকার বস্তু ব্যবহার হয়। এটা কিন্তু আর রেপ থাকেনা! আদ্ভুত ! আমি নিজে একটা ট্রায়াল এ উপস্থিত ছিলাম যেখানে ৭ বছরের বাচ্চার কাকা ব্যবহার করেছিল আঙ্গুল! এটাও ধর্ষন হয়নি!!! যদিও এটা নিয়ে অনেকবার ভাবা হয়েছে, আমাদের আইন প্রনেতারা নতুন কিছু করতে পারেননি'

    ডিডিদার দেওয়া লিংক থেকে এটা পড়লাম। এই 'broadening ' reper Dephineshan, eTaa niye daabi tolaa uchit mane kari, Of course, the definition of rape differs from country to country and that, coupled with how well the crime is reported and recorded, determines what the numbers are finally going to look like.

    This difference in definition would explain why countries like India figure as nations with very low incidence of rape compared to places like Sweden or even Norway and France. For, the case of rape against Julian Assange in Sweden would not even be counted as rape in India.

    ... In most countries, the increase in the number of rape cases is often the result of a broadening of the definition of rape, which could explain why some countries like Sweden and Norway show a spike in the crime.

    ও, আরেকটা কথা। নারী বা আরো নানা নামে যাঁরা 'মানবরাবাদী' বলে টন্ট করে গেছেন আর নিরাপদ দূরত্বে থাকার অভিযোগ জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে প্রশ্ন ছিল কে কতটা নিরাপদ দূরত্বে সেটা মাপা গেল কীকরে ? সবাই এখানে এক ই দূরত্বে বসে কথা বলছি, সেটা একই রকম নিরাপদ বা এক ই বিপদসীমানার ভিতরে।
  • pi | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৬:১৪581538
  • ধুর, মাঝখানে বাংলা উড়ে গেল !

    *broadening of rape এর ডেফিনেশন
  • | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৬:১৫581539
  • অনেক হল। এবার একটা স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাক। কারন গুরু কি ডিসিশন নেবে সেটার দিকে ই দিল্লী চেয়ে আছে..
  • ম্যাক্সিমিন | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৬:২২581540
  • টিআই প্যারেডের জন্য অভিযুক্তের সম্মতি লাগে। পাই এটা নিয়ে কিছু বলবে?
  • pi | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৬:২৩581541
  • Holding that death penalty to rapists was not the "final solution", former Chief Justice of Bombay High Court Chandrashekhar Dharmadhikari today said sensitising people about sexual abuse and violence was essential to curb such heinous crimes rather than making "strong" demands.

    "Normally this (demand for death penalty to rape accused) is in anguish. Anger of the people makes them speak of death penalty. It is an immediate reaction and such reactions are very strong," the (Retd) Justice told PTI.

    "Death penalty is not the final solution. The solution is to spread more awareness among people about the whole problem. What happened in Delhi is also happening in Mumbai," he felt.

    Dharmadhikari said that in the rule of law, respect for law is more important than fear of punishment.
  • pi | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৬:২৪581542
  • টি আই প্যারেড নিয়ে আমি বিশেষ কিছু জানিনা। জানতে চাই।
  • pi | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৬:৩৪581543
  • টইটা যখন রেপের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে, এই পয়েন্টগুলো থাক এখানে। প্রায় সব কটা পয়েন্ট এই টইতে আলাদা আলাদাভাবে উঠে এসেছে। এখানে এক জায়গায় থাক। এই পয়েন্টগুলো নিয়ে লোকজন কী ভাবছেন, জানতে চাইবো।

    লক্ষণীয়, এখানে লেখক বলছেন, রাম সিং বেঁচে থাকা ডিসার্ভ করে না। তার পরেও কেন রেপের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হলে তা ঠিক হবেনা, তা বোঝাতে গিয়ে এই পয়েন্টগুলো তুলেছেন।

    ......
    Ram Singh, affectionately called “Mental” by friends who joined him in the brutal gang-rape of a 23-year-old girl in Delhi on Sunday, deserves to die. I say this not just out of the sense of outrage and revenge that’s triggering the “death for rape” petitions, but out of my considered
    view that this particular crime falls into the rarest of rare cases that deserve the death penalty.

    But this is not a legally-tenable view. For IPC sections 376 (rape) and 307 (attempt to murder) do not allow for capital punishment. Ram Singh will almost certainly get life in prison, with his friends getting 10 years to life.

    If the severely-brutalized victim does not survive, the charge moves on to IPC 302 (murder), and a death sentence for Ram Singh becomes almost certain.

    This ghastly crime has triggered off a perhaps-unprecedented wave of outrage, with petitions demanding the death penalty for rape.

    Here’s why I am not signing them, despite my firm believe that Ram Kumar should not be allowed to live.

    1. “Death for rape” seriously endangers the life of victims. By removing the difference in punishment between rape and murder to zero, it encourages the rapist to kill – and thereby also eliminate evidence.

    2. “Death for rape” does not reduce the incidence of rape – as empirical evidence shows, for instance from the US states that allowed “death for rape” till the late twentieth century. And it’s because of the above point that death for rape was revoked from all those US states, even as capital punishment continues for murder.

    3. The death sentence is allowed in India for murder (IPC 302) – and it makes little difference. Murders and killings happen every day in India. The reason, of course, is the firm believe that “I won’t get caught”.

    4. The central issue – which encourages rapists to rape with impunity – is not the quantum of punishment. It’s the low conviction rate – as low as 10% if you count rapes that are not reported. It’s Ram Singh’s firm knowledge: “I won’t get caught”. He was – in a minority situation – wrong.

    5. There is adequate punishment in the IPC. Rape is punishable with 7 years jail, or 10 years to life for gang-rape. But enforcement sucks. Think: if Ram Singh (even with his psychotic beliefs) knew that he would probably get arrested and jailed for 7 or 10 years, would he have done what he did?

    The key here that law and punishment should not be based on a foundation of revenge, but primarily based on ensuring the safety of the victim and of society....

    http://www.hindustantimes.com/News-Feed/ColumnsOthers/Five-Reasons-Why-Death-for-Rape-Won-t-Work/Article1-977257.aspx
  • ম্যাক্সিমিন | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৬:৩৮581544
  • আমি যেটুকু জানি সেটা আগে লিখেছি। বাকিটা অনুমান করতে পারি, মানে আন্দাজে বলতে পারি। সিকি লিখেছে কনভিক্টের সম্মতি লাগে, কথাটা 'কনভিক্ট' হবে না, কথাটা হবে 'অভিযুক্ত'। অভিযুক্ত লোকটির সম্মতি লাগে কেন? কারণ প্যারেডে যদি দেখা যায় অন্য সকলে নিজে নিজে হেঁটে যাচ্ছে শুধু একজন লোককে জোর করে ধরে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাহলে আই উইটনেস সেটা দিয়েই চিনে যাবে। আই উইটনেস সনাক্ত করেছে, এই সাক্ষ্যের মূল্য থাকবে না।
  • নেতাই | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৬:৪৩581546
  • আমি যেটুকু অনুমান করছি সেটুকু লিখছি।

    টি আই প্যারেড তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। টি আই প্যারেডের থেকে অন্যান্য এভিডেন্সের গুরুত্ব অনেক বেশী। এইভাবে টি আই প্যারেড অ্যাভয়েড করে কেউ পার পেতে পারেনা।
  • pi | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৬:৪৮581547
  • ঐ লেখাটা থেকে বকি অংশটাও তুলছি।

    .'..Bringing in “death for rape” makes no difference to the propensity of people to rape – as long as the reporting, arrest and conviction remains abysmally low. Instead, it encourages the rapist to kill. The quantum of punishment remains irrelevant.

    Outrage is a good thing, but let’s not forget the many rapes that go by virtually unreported. Or, worse, those gang-rapes that are reported, yet don’t trigger any outrage in our deeply racist society.

    Anyone remember the gang-rape of a 24-year-old Rwandan near Delhi University earlier this month? She went to the police station, and was told: we are busy, come back two days later.

    The real need, then, is to focus on increasing the conviction rate under 20 percent to 80-odd percent. Speed up justice in rape cases, with fast-track courts. Train the police to handle rape cases with speed and sensitivity. Tell the rapist: Make no mistake: you will be caught, arrested, and jailed.

    This is a big task, but not impossible, with police training and fast-track courts. A great place to start is in the gang-rape capital of India, New Delhi..

    ক। এবং এটার সাথে আরো গোড়া ধরে টান মারা। মানসিকতা নিয়ে।
  • ম্যক্সিমিন | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৬:৫৬581548
  • নেতাই ঠিক বলছ বলে মনে হয় না। যাই হোক।
  • নেতাই | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৬:৫৯581549
  • উহা নিতান্তই আমার অনুমান
  • ম্যাক্সিমিন | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৭:১৮581550
  • একটা কথা বলতে চাই। মেয়েটি বলেছে ওদের ফাঁসি হোক, ফাঁসি দেওয়ার পক্ষে এটা কোনও যুক্তি হল না। মেয়েটি বাঁচুক, আপাতত তাকে বলা হোক নিশ্চয় হবে, মনোবল বাড়ানোর জন্যে বলা হোক, সে আস্তে আস্তে সেরে উঠুক, পরে তাকে বোঝাতে হবে ইয়োরোপে মৃত্যুদন্ড উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমাদের দেশেও চেষ্টা করা হচ্ছে। সে নিশ্চয়ই বুঝবে।
  • nari | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৭:২৪581551
  • একজন নারী হিসেবে নিজেকে নারী লেখা যাবে না ?!! মানবতাবাদের পিঠ চুলকানি তে সামিল না হলে মব মেন্টালিটি বলা হবে। কেউ হলেও হতে পারত ঘটনা বলে আমিও ভুক্তভোগী জাতীয় হাস্যকর দাবি করবেন - মশাই, যার যায় শুধু সেই জানে । এরপর কয়েকজন বিদেশ বাসী প্রশ্ন তুলবেন কে কতটা নিরাপদ দুরত্বে আছে কি ভাবে মাপা হয় ইত্যাদি প্রভৃতি। তারপর হয়ত সম্পাদকীয় আচড়ে অপছন্দের পোস্ট মুছেও দেওয়া হবে।
  • ম্যাক্সিমিন | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৭:২৬581552
  • রঞ্জনকে, কাল টিভিতে রাম জেঠমালানী যা বলেছেন তার অংশ মাত্র কোট করলে। রাম জেঠমালানী একটা যুক্তি দিয়েছিলেন, ফাঁসি হবে জানলে রেপ করার পর প্রত্যেক অপরাধী মেয়েটিকে মেরে ফেলবে, উইটনেস রাখবে না। এই যুক্তি অকাট্য নয়। যাবজ্জীবন হবে জানলেও মেরে ফেলতে পারে।
  • pi | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৭:২৮581553
  • কে বিদেশ বাসী ?
    আর সম্পাদকীয় আঁচড়ে পোস্ট ওড়ার কথাই বা এল কেন? কীসের ভিত্তিতে ?
  • শুদ্ধ | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৭:৩৩581554
  • কাল রাতে ফেবু-তে একটা পোস্ট করেছিলাম অসম্ভব রাগ আর শ্লেষ থেকে। আজ তার কিছুমাত্র অবশিষ্ট নেই। আজ যা রয়েছে তা হল অগাধ ক্লান্তি। কেন না আমি আমার সীমাবদ্ধতা জানি। এখানে ওখানে সেখানে লিখে বা বলে আমি খুব সামান্য আঁচড় কাটতে পারি। আমরা খুব সামান্য আঁচড় কাটতে পারি। সে কাজটা করা যাক অন্তত। অনেক আলোচনা, যুক্তি-পাল্টা যুক্তি দেখেছি-পড়েছিও। ভাবছিও। দু একটা কথা মনে আসছে।

    ধনঞ্জয়ের ফাঁসীর সময়ে চারপাশে ধ্বনিত হয়েছিল যে এমন হলে ধর্ষকরা সকলে ভয় পাবে। পায়নি। পেলে পশ্চিমবঙ্গের হাল এমন হত না। উল্টোদিকে রয়েছে অপরাধীর চিত্ত পরিবর্তন ইত্যাদি। কত শতাংশের হয় তা কেউ জানি না। এখান থেকে আমার বলার কথায় আসি। সমাজ থেকে রাষ্ট্রের চেহারার মধ্যে ভয়ের বাঁধনটা জোরদার হয়েছে বলেই মনে হয়। সমাজে শাস্তির কিছু রেওয়াজ বহুযুগ ধরে আছে। ধোপা-নাপিত বন্ধ করে দেওয়া ইত্যাদি নানা সাতকাহন। সেই সব শাস্তি সাঙ্ঘাতিক হতে পারে দেশে-কালে। হয়েওছে। কিন্তু সমাজ তো শেষ কথা না। আধুনিক ব্যবস্থার মধ্যে রাষ্ট্র বলে একটি ব্যবস্থা আছে। সেখানে যদি আমার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক জোর থাকে তাহলে সমাজ শাস্তি দিতেই ভয় পাবে, যেমন নাকি আমাদের চেনাজানা নানা ঘুষখোর থেকে লম্পটদের আমরা দেখা হলে বাজারে-রাস্তার মোড়ে দাঁত কেলাই, কেন না তিনি উচ্চ কানেকটেড! আর ছোটোখাটো চোর-পাতাখোর-পকেটমার পেলে হাতের সুখ মনের সুখ করে নিই।

    আধুনিক রাষ্ট্র বলেছিল যে এমনটা হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়, কেন না আইনের চোখে সকলি সমান ইত্যাদি এবং আমার আর সমাজের মধ্যে সে এসে দাঁড়িয়েছিল রাজার বা বাদশার আমলের মতন বিচার-টিচার নিয়ে। কিন্তু সেখানে একটি বড় বিভেদ ছিল যে আইনের চোখে সকলি সমান তার ঘোষিত উদ্দেশ্য এবং কেউই আইনের উর্ধে না। আমরা জেনেছিলাম তাহলে দিন বদলালো। কিন্তু কালে কালে দেখেছি রাষ্ট্র অলঙ্ঘ না। হওয়ার কথাও ছিল না। সেও একটা সিস্টেম যা মানুষে মানুষে নানা সম্পর্ক দ্বারা নির্ধারিত। নানা করিডোরে, নানা মাঠে নানা খেলার মাধ্যমে তাকেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

    ধর্ষণ দিয়ে তার একটা ধারালো রিফ্লেকশন আমি অন্তত পাচ্ছি। সোনি সোরি হলে জেলে থাকবে বিনা বিচারে, অপরাধী রাষ্ট্রসেবকদের শাস্তি হওয়া দুষ্কর। অর্চনা গুহের ক্ষেত্রে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সামান্য কিছু হয়েছিল, এবং রুণুর ওই বিচার যে পাব্লিক সার্ভেন্ট কাউকেই তেমন ভয় পাওয়াতে পারেনি তার জ্বলজ্যান্ত সাক্ষী বোধহয় সোনি সোরির মামলা। এ নিয়ে কথা বেশীরভাগ বলেন না। মাওবাদী নিয়ে কথা বললে কেস খেতে হবে, আমার মত সাধারণে ভাবেন। বা মাওবাদী মানেই ঘৃণ্য (যদিও সোনি মাওবাদী না বলেই এখনো বেশী প্রমাণ) সিপিএম/তৃণ-দের কাছে বলে হয়তো বা। এটা রাজনৈতিক ধর্ষণের মামলা। আবার সিপিএম/তৃণ হলে মাওবাদী সমর্থকরাও চুপ থাকেন এও দেখেছি। এ নিয়ে 'এবার বলুন', 'এবার বলুন' জাতীয় আবহে মঞ্চ গরমও হয় তাও দেখেছি। কংগ্রেসি আমলে নকশাল-সিপিএম বাড়ির মেয়েদের হাল থেকে ধানতলা-বানতলা-নর্মদা শিট-পার্কস্ট্রীট কান্ড চলছেই এখানেও। দল মত নির্বিশেষে দেখছি যেই ক্ষমতায় থাকুক একে থামাতে পারছে না, কখনো কখনো মনে হচ্ছে চাইছেও না। কেন না ধর্ষণ একটা বড় অস্ত্র দমন করার। আবার ধর্ষণ একটা বড় অস্ত্র রাজনৈতিক মাইলেজ নেবার। যত রকম ভাবে ধর্ষণকে ব্যবহার করা যায় তা করা হয়েছে ও হচ্ছে যাতে নানা ডায়ামেনশন খুলে যাচ্ছে। কিন্তু আমি যা দেখছি তা হল রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার চরিত্র। শাসক হলে ধর্ষণ করবে বা তাকে ঢাকবে বা কিছুই হয়নি বলে ওড়াবে, বিরোধী হলে সর্বনাশ হয়ে গেল বলে কান্না জুড়বে, চিৎকার করবে। রোল বদলে গেলে সংলাপ বদলে যাবে।

    আমি কি একাই দেখতে পাচ্ছি? আমি এত বুদ্ধিমান কোনোদিন ছিলাম না। আমি দেখতে পাচ্ছি মানে বাকীরাও দেখতে পাচ্ছেন। হয়তো বা আমার থেকে বেশীই দেখছেন। মনোরমার ধর্ষণ মণিপুরে হলে, মায়েরা নগ্ন হয়ে প্রতিবাদে পথে নামলেও আমরা জেনে যাচ্ছি সামরিক বাহিনীর বিশেষ অধিকার আইন বাতিল হবে না। শর্মিলা যতই অনশন করুন হবে না। তারমানে প্রতিবাদ হলেই হচ্ছে না কাজ। আবার ওই মণিপুরেই এক জঙ্গী মণিপুরেরই এক নায়িকার শ্লীলতাহানি করবে বন্দুকের ডগায়। তাহলে আমি বুঝছি হাতের জোর কত এটা দিয়ে ধর্ষণ বা শ্লীলতাহানির ক্ষেত্র প্রসারিত হয় রাষ্ট্র থেকে বিরোধীতেও। মাওবাদীদের বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ আছে। তাহলে?

    রাষ্ট্র সমাজের থেকে শক্তিশালী। ভয় দেখানোর অস্ত্র তার হাতে আছে। কিন্তু সে অস্ত্র কি আল্টিমেট? না। তার পাল্টা অস্ত্রও আছে। সিস্টেমের বাইরে বন্দুক, সিস্টেমের ভেতরে চাঁদির জুতো ও ক্ষমতা। নকশাল আমলে শুনতাম আদিবাসী মহিলাদের রাষ্ট্রীয় গৌরবজনক বাহিনীর লোকেরা ধর্ষণ করে রড ঢুকিয়ে দিত যৌনাঙ্গে। পেটের ভিতর অব্দি ঠেলে পাকিয়ে দিত সব। যাতে মানুষটি মরে যায়। এই দিল্লীতেও তাই হয়েছে। কে শেখালো এদের? আমি যদ্দূর বুঝেছি তাতে ধর্ষণ নিয়ে গত কয়েকদশক জুড়ে ভারতে যত যত কান্ড হয়েছে তা পাব্লিক ডোমেনে এসে জ্ঞান বাড়াচ্ছে। যে ক্যাডার ধর্ষণ করে এসে মুখ মুছছেন তিনি তাঁর গৌরবগাথা অভাজনদের সঙ্গে ভাগ করেছেন, এমন অভিজ্ঞতা আমার আছে পঃবঃ-এর রাজনৈতিক ব্যবস্থার কল্যাণে। ওখানে কে জানে দলিত ধর্ষণ পরিষদ থেকে নানা মাপের খাপের বিশেষজ্ঞরা এ জ্ঞান বাড়িয়েছেন হয়তো বা! কন্যা ভ্রুণ হত্যা থেকে নিয়মিত ধর্ষণ সবেতেই যে চমৎকার সংখ্যাবৃদ্ধি হচ্ছে তাতে এমনটা না ভাবার কারণ দেখছি না।

    কিন্তু অন্য অনেক জ্ঞানও তো নিশ্চই বেড়েছে, যেমন দেশভক্তি, মানুষের অধিকার, মানুষের সম্মান- বাড়েনি? এত এত বিজ্ঞাপন ও ঢক্কানিনাদ ও পনেরোই অগাস্টের ভাষণ, নানা তারিখের নানা ইন্ডিয়া উচ্চকিত কারবারে বাড়েনি? না বাড়েনি। দিল্লীতে বাড়ে না। সেখানে রাস্তায় যে গাড়ি চলে সে গাড়ির চালক এবং যাত্রী কোন মন্ত্রী, কোন এম এল এ, কোন এম পি কেউ জানে না। ওখানে সকলেই ভারতের নানা প্রান্তের ক্ষমতাবৃত্তের প্রতিনিধি। ভারতের ক্ষমতাবৃত্তের নানা অসুখ ও ঘৃণ্য উপচার নিয়ে জড়ো হয়েছেন। পুলিশ কি করবে? পুলিশ কোথায় কবে কি করেছে রাজনৈতিক সিস্টেমের উর্দ্ধে উঠে? পুলিশ কি চাকর না সিস্টেমের?

    আমি যতটা দেখেছি তার থেকে অনেক বেশী দেখেছে পাব্লিক। ১৯৪৭-এর পরে লব্জ বানিয়েছে 'বার খেয়ে ক্ষুদিরাম' হওয়ার কোনো মানে নেই। স্বাধীনতার যে ডিম ফুটেছে তাতে সে বুঝে নিয়েছে সে ক্ষুদিরাম হলে বাকীরা কি করবে। তেমনই দিল্লীর ক্ষেত্রে আমার একটি পুরোনো কথা মনে আসছে। কথাটা আমি ভুলবো না জীবনে। ধনঞ্জয়ের ফাঁসীর পরে এস এম এস, মেল ও রাস্তার মোড়ে লব্জ ছিল

    ধরা পড়লে ধনঞ্জয়
    না পড়লে Enjoy।।

    আমি চিরনির্বোধ। ধর্ষণ ও নানা কলঙ্কিত কারবারের পরে জনতার বিষোদ্গার ও নীরবতার মধ্যে দিয়ে বুঝেছি ধর্ষণ ইত্যাদির নানা জাতিভেদ আছে। বছরের পর বছর এ নিয়ে লিখে যাচ্ছি, কালে কালে ঘন্টায় ঘন্টায় লিখতে হবে হয়তো- কিন্তু আমি এর কন্ট্রাডিকশনগুলো বুঝবো না। আমার বোধে কুলোবে না। কিন্তু পাব্লিক হেব্বি বুঝেছিল। সে আমার চেয়েও বেশী দেখে, বেশী বোঝে। ধরা না পড়ার সম্ভাবনা যে যত মজুত করে বাঁধতে পারে তার তত সম্ভাবনা enjoy করার, তাই না? ধর্ষণ সেই সিস্টেমের বহু কালো অনুষঙ্গের একটিমাত্র। গোটা সিস্টেমের অসুখের একমাত্র চিহ্ন না। এবং সিস্টেম বদলাবার আলোচনা মানেই সশস্ত্র না নিরস্ত্র এই সব নানা টানেলে জল চলে যাবে। সিস্টেম আদিদেবের মতন যেমন ছিলেন, তেমনই থাকবেন। পাব্লিক একথা জেনে গ্যাছে, তাই ওই দু লব্জে বেঁধে নিয়েছে তার শিক্ষার সারাৎসার। পাব্লিক এ শিখলো কি থেকে? বলবেন এ ভয়ঙ্কর শিক্ষা পেল কোত্থেকে? আজ্ঞে, উত্তর হল, দেশের রাজনৈতিক সিস্টেম থেকে। বছরের পর বছর দেখছে (দিল্লীতে আরো কাছ থেকে) কেমন করে দেশ ধর্ষণ করে ধরা পড়ে ধনঞ্জয় না হয়ে ENJOY করা যায়।

    শাস্ত্রেই আছে না,

    'মহাজন যেন গতঃ স পন্থা' ????
  • T | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৭:৩৫581555
  • "...সে আস্তে আস্তে সেরে উঠুক, পরে তাকে বোঝাতে হবে ইয়োরোপে মৃত্যুদন্ড উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমাদের দেশেও চেষ্টা করা হচ্ছে। সে নিশ্চয়ই বুঝবে।..."
    কেন? মেয়েটির নিজস্ব চিন্তাভাবনা অনুযায়ী সে তার মতো করে দাবী জানাবে। তাকে নিজেদের মতটা 'বোঝাতে' হবে কেন? আশ্চর্য!
  • ম্যাক্সিমিন | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৭:৫৭581557
  • T মেয়েটি অজ্ঞান ছিল, আসুরিক চিকীতসার পর জ্ঞান ফিরেছে, বেঁচে ওঠার জন্যে এই মুহূর্তে তার খুব বেশি করে দরকার মনোবল। এখন তাকে সারা পৃথিবীর কাহিনী শুনিয়ে কাজ নেই, সে সময় এখনও আসে নি। এটাই বলতে চেয়েছিলাম।
  • sosen | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৮:০৪581558
  • শুদ্ধ কে একটা বড় ক দিয়ে গেলাম।
  • ম্যাক্সিমিন | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৮:৩৯581559
  • Infection is setting in. These are early signs of sepsis.
  • kumu | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৯:১৯581560
  • গঙ্গারাম হাসপাতাল অফার দিয়েছে free intestinal transplant করার জন্য-
  • pi | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৯:৩১581561
  • সেটাই শুদ্ধদা, ধনঞ্জয়ের ফাঁসি হয়ে ধর্ষণ কোথায় কি কমেছে সেটাই তো বুঝ্লাম না। আর ধর্ষণের জাতিভেদ আছে, একথাটাও বলতে চাইছিলাম।

    কেস ই ফাইল করা যায়না, গেলেও ধরা পড়েনা, পড়লেও আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়, শুধু তাই নয়, সেইসব 'অপরাধী'রাই সব ক্ষমতায় বসে থাকে।
    এই যে, আমাদের রাজনৈতিক সিস্টেম ঃ
  • MMB | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ২০:১৩581562
  • ধনঞ্জয়ের ফাঁসিতে ধর্ষণ কমবে কেমন করে? হেতাল পারেখের ঘটনায় মূল দোষী বা এন্‌জয় করলো কে বা কে কে আর কে ধনঞ্জয় বা নন্‌-এন্‌জয় হয়েছিলো, বা কাকে করা হয়েছিলো, তা নিয়ে অনেক কানাকানি হয়েছিলো। ওই ঘটনার পর বড় বড় গুজরাতী প্রতিষ্ঠানে উঁচু উঁচু পদে কে বা কারা অধিষ্ঠিত হয়েছিলো, সে নিয়েও নানা কথা হয়েছিলো। সবই শোনা কথা, তবে এগুলো ছাপে নি, ছাপায়ও না। যা কিছু ছেপে বেরোবে সেটাই ধ্রুব, মেনে নিয়ে এগিয়ে চলাই নিরাপদ। এবারের ঘটনা যারা ঘটালো, তারা কারা? কাদের লোক? কি শাস্তি হবে? এইসব ভেবে লাভ আছে কি? ওদিকে এর পাশাপাশি ব্যাঙ্ক বেসরকারীকরণ বিল পাস হয়ে কত শত দেশের ব্যাঙ্ক আসবে, ইন্ডিয়া টি টোয়েণ্টি জেতায় ধোনির বিজ্ঞাপন কত কমবে বা বাড়বে, ইন্ডিয়ার মেয়ে আবার বিশ্বসুন্দরী হবে কিনা, সেসব আলোচনা করলে ভালো হতো।
  • ম্যাক্সিমিন | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ২০:৩০581563
  • পুলিশের চাকরিতেও সবাই প্রথমেই বড় অফিসার হয়ে যোগ দেন না। সে চাকরিরও ওপরতলা নীচুতলা আছে, প্রোমোশন আছে, লীভ রুল আছে। আদিবাসীপ্রধান-অঞ্চলে-পোস্টিং গ্রামে-পোস্টিং শহরে-পোস্টিং আছে। শহরে রেপ কেস ফাইল করতে রাজি না হলে সহজেই ধরা যায়, একদিন বিনা বেতন -- রাজি? আদিবাসী-অঞ্চলে পোস্টিং হলে মাইনে বেশি দেওয়া হোক, কিন্তু সেখানে গিয়ে ঘুষ খেলে চাকরি খতম -- রাজি?
  • ম্যাক্সিমিন | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ২০:৩৩581564
  • তার চেয়ে, সিস্টেমের মধ্যে থেকেই, 'এনজয়'।
  • a x | ২১ ডিসেম্বর ২০১২ ২১:৩৯581565
  • আমার খুব সহজ তিনটি প্রশ্ন আছে -

    ১) কে সেফ, কে নিরাপদ দূরত্বে এটা কীভাবে আইপি দেখে বোঝা যাচ্ছে? এখানে কাউকে রেপ/মলেস্টেশনের শিকার হতে হয়নি এটাও কি আইপিতেই আছে?

    ২) শাস্তির বেলা চাইব মিডিয়াভাল, ফিউডাল পদ্ধতি আর অন্যদিকে চাইব নারীমুক্তি, এই পরষ্পর বিরোধী জিনিসটে কীভাবে সম্ভব যদি কেউ বোঝান। যারা তালিবান, শারিয়া ল'র উদাহরণ দেন, তারা কী মনে করেন সেখানে অন্যদিকে খুব প্রগ্রেসিভ কিছু নীরবে ঘটে যাচ্ছে?

    ৩) যারা মনে করছেন বাকিরা নিরাপদ দূরত্বে ইত্যাদি প্রিভিলেজড পজিশন থেকে কথা বলছেন, তারা নিজেদের তারমানে সেটা মনে করছেন না অনুমান করি। তাদের এই বোধ থেকে গুরুতে লেখা ছাড়া আর কিছু, যেমন লোকাল কোনো নারী সংগঠন ইত্যাদির সাথে যুক্ত থেকে কিছু করা এরকম করেছেন বা করার কথা ভাবছেন কি? (এটা তির্যক বা রেটোরিকাল প্রশ্ন না, সত্যিই জানতে চাই)।
  • ranjan roy | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ০০:৩৪581566
  • আমি শেষবারের মত আমার কথাটা বলে সরে যাচ্ছি।
    এক, হাজারবার বলা হচ্ছে যে যারা ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ডের বিরোধিতা করছেন তাঁরা কেউ মানবতাবাদের দৃষ্টিকোণ থেকে করছেন না, শুধু রেপ আটকাতে ডিটারেন্ট হিসেবে মৃত্যুদন্ড আদৌ কতটা কার্যকরী হবে এই ভাবনা থেকে করছেন। তবু বারবার 'মানবতাবাদীদের পারস্পরিক পিঠ চুলকোনোর ' অভিযোগ কেন উঠছে? এখানে কল্লোল ছাড়া কেউ কোন মানবাধিকার -সংগঠনের সংগে যুক্ত নয়। তবু?
    দুই,
    প্রাক্তন চিফ জাস্টিস ধর্মাধিকারী এবং বিশিষ্ট আইনবিদ রাম জেঠমালানী প্রায় একই যুক্তিতে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে ফাঁসির বিরোধিতা করেছেন। তাঁরাও কি পারস্পরিক পিঠ চুলকানো মানবতাবাদী?
    তিন,
    পাল্টা বক্তব্য হওয়া উচিত ছিল, তথ্য দিয়ে, যে ধর্ষণের শাস্তিতে মৃত্যুদন্ডের আইন হওয়ায় রেপ কমেছে। কিন্তু আমেরিকার উদাহরণে দেখছি কিছু রাজ্য একই আশায় এই আইন করেছিল( যেমনটি দেশ জুড়ে এবং এখানে বেশ কয়েকজন চাইছেন)। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় তারা সেই আইন বাতিল করেছেন।

    আইডেন্টিফিকেশন প্যারেড ইত্যাদিঃ
    -----------------------------------
    দুটো বক্তব্যেই সত্যতা আছে।
    এক,
    প্যারেডের গুরুত্ব আছে। যেহেতু, onus of proof প্রসিকিউশনের বা অভিযোগকারিণীর, সেখানে কাছাকাছি চেহারার দেখতে কয়েকজনের ভীড়ে অভিযুক্তকে যদি চিনে ফেলেন তবে প্রসিকিউশনের হাত শক্ত হয়। কিন্তু এটা পর্য্যাপ্ত নয়। অন্য সব প্রমাণ এবং সারকামস্ট্যান্শিয়াল এভিডেন্স দিয়ে অভিযুক্ত'র বিরুদ্ধে অভিযোগটি beyond all doubt প্রমাণ করতে হবে, নইলে কিছু হবে না।
    ধরুন, অভিযোগকারিণী প্যারেডে অভিযুক্তকে চিনতে পারলেন, কিন্তু পরে স্বতন্ত্র প্রমাণে দেখা গেল যে ওইদিন ওইখানে অভিযুক্ত থাকতেই পারেন না। অন্য শহরে ছিলেন বা হাসপাতালে আইসি ইউ তে ছিলেন বা বিখ্যাত কোন ব্যক্তির সঙ্গে ডিনারে ছিলেন-- তাহলে সে চাড়া পেয়ে যাবে।
    দুই,
    স্বেচ্ছায় কেউ প্যারেডে দাঁড়াল কিন্তু অভিযোগকারিণী তাকে চিনতে পারলেন না। তাহলে এটি অভিযুক্তের ডিফেন্সের পক্ষে যাবে।
    তিন,
    এতদসত্ত্বেও যেহেতু শেষমেষ অন্য স্বতন্ত্র সাক্ষ্যপ্রমাণ দিয়ে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে তাই সেগুলো মজবুত থাকলে কেউ প্যারেডে দাঁড়াতে অস্বীকার করেও পার পাবে না। এত সোজা নয়। দিল্লির কেসটিতে প্রত্যক্ষদর্শী ছেলেটির সাক্ষ্য, অন্য অপরাধীদের কোর্টে বয়ান, লোকগুলোর সেই সময় বাসে উপস্থিতি সব মিলিয়ে প্রমাণ হয়ে যাবে। তবে ড্রাইভার রাম সিং গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে ছিল। ওর ডিফেন্সে ওকে এই যুক্তিতে ধর্ষণের চার্জ থেকে বাঁচানোর চেষ্টা হবে। কিন্তু অ্যাবেটমেন্ট ও ব্রুটালি মারার চার্জ, অ্যাটেম্প্ট টু মার্ডার থেকে ওর রেহাই পাওয়া কঠিন।
    চার,
    লাই-ডিটেক্টর-টেস্ট ও সহমতি ছাড়া হয় না।
  • শুদ্ধ | ২২ ডিসেম্বর ২০১২ ০১:০৬581569
  • pi, কমার কোনো কারণ নেই। অনেক বছর এসব গোটা দুনিয়াতেই হয়ে এসেছে। এতে করে কমে যায়নি কখনো। কমাতে বা থামাতে গেলে নানান সংস্কার ও সভ্যতার বিস্তারের প্রয়োজন আছে। দীর্ঘ প্রক্রিয়া সেটা। সেটা ক্ষুদ্র স্বার্থের রাজনীতির পাঁকের মধ্যে কখনো হবে না। আবার কোনো শাস্তি না থাকলেও বাড় বাড়ন্ত হবে। আমরা স্বশাসনের যোগ্য হতে পারছি না বলেই না রাষ্ট্রকে লাগছে আমাদের মধ্যের চুক্তিগুলোকে বন্দুক হাতে পাহারা দেওয়ার জন্য!!

    আরেকটা কথা প্রসঙ্গের বাইরে সামান্য যাবার জায়গা থাকা সত্ত্বেও বলি, ফিউডাল বা মেডিয়াভ্যাল জাজমেন্ট ও ডেলিভারিতে আমি কিন্তু সত্যিই অবাক হচ্ছি না। আমাদের মধ্যে এই অবশেষগুলো আছে তো। নানা দাগানো তন্ত্র, দাসযুগ থেকে সামন্ত ইত্যাকার তার নানা চিহ্ন নিয়েই আধুনিক রাষ্ট্র ও সমাজে অবস্থান করছে। জল পড়া থেকে মাদুলি সবেতেই লক্ষণ আছে। কাজেই এটা থাকবেই। আমারও কখনো মনে হয়েছে তো যে দাঁতের বদলে দাঁত আর চোখের বদলে চোখ দরকার। যখন আমি অসহায়, যখন আমি আর সইতে পারছি না এবং কোনো রাস্তাও দেখতে পাচ্ছি না এর বাইরে তখন তো মনে হবেই যে একটা চরম ধাক্কা দিই। কষ্টের থেকে মনে হয়। বিবেচনা করে যখন পরে দেখেছি তখন বুঝেছি যে আমি যাকে চরম ধাক্কা ভাবছি সে শুধু আমার অবস্থান থেকে চরম মাত্র, বস্তু বিশ্বের চরম না। তা দিয়ে সমাধান হবে না। বা কয়েকটা ক্ষেত্রে কিছু হবে, কিন্তু সার্বজনীন হবে না তা। ধর্ষণ নিজেই তো অত্যন্ত আদিম ব্যাপার একটা, সেখানে কোথাও না কোথাও আদিম ক্রোধও আসে তার মোকাবিলায়। কিন্তু তাতে লাভ হয় না।

    কদিন আগের একটা ঘটনা আবার বলি। একটি ছেলে তার বোনকে অবৈধ সম্পর্কের জন্য প্রকাশ্য বাসস্ট্যান্ডে হত্যা করে তার মুন্ডু কেটে নিয়ে থানায় এসে ধরা দেয়। ভাবুন, সে জানে তাকে বন্দী করার জন্য খোঁজা হবে, সে জানে সে যা করেছে তা সাধারণ আইনে অপরাধ, তাই সে নিজেই থানায় এসেছে। কিন্তু সে মনে করছে সাধারণ আইন তার অসাধারণ অবস্থান বুঝবে না। তাই সে ওই আইনের কাছে কিন্তু বোনের বিচারের জন্য যায়নি। তার কোন অবস্থানটা অসাধারণ তার লেগেছে? না, সে এটা তার পরিবারের সম্মানের জন্য করেছে। তার মানে তার ইন্টারপ্রিটেশনে এটাতে তার পরিবারের সম্মান রক্ষা হল। এবারে তাকে ফাঁসী দিলে সে শহীদ বলে নিজেকে ভাববে। তাকে শহীদ হতে দিলে লাভ? শাস্তি তো তার কাছে শাস্তি না তাহলে। তাকে শাস্তি দিলেও অন্য কেউ ভাববে যে এমন শহীদ হওয়াই ভাল। অর্থাৎ যে মগজ ও যে শিক্ষা এই রকম কুৎসিত সে শিক্ষাই জিতে যায়।

    তেমনই ধর্ষক তো মনেই করছে বা শিক্ষিতই হচ্ছে নারীরা ভোগ্য ও বলপূর্বক অধিকারের বস্তু বলে। সিনেমায় নায়ক নায়িকাকে ঠেসে ধরে জোর করে চুমু খেয়ে দিল আর অম্নি প্রেম হয়ে গেল তাদের। সে দেখেনি? নারী অপহরণ করে নিয়ে এসে বিয়ে কর বা শয্যায় নিয়ে যাও, এ আমাদের প্রথা ছিল না? বীর্যলব্ধা? বীরভোগ্যা না বসুন্ধরা? এই সব কনসেপ্টগুলো কি হারিয়ে গ্যাছে নাকি? বাতিল হয়ে গ্যাছে সোসাইটি থেকে? এমন হাজারো বিষয় সে শিখছে ও জানছে যা তাকে কিছুতেই নারীকে সম্মান করতে, সমান ভাবতে শেখায় না। সেই দৈন্য কি দিয়ে ঢাকবো? ফাঁসী দিলে শুধু যে ভয় পাবে তা দিয়ে ঠেকানো যাবে না এই কুশিক্ষা আর অন্ধকারের আখ্যান যা আমাদের আধুনিক জীবনেও ছায়া ফেলে রেখেছে। একে না দূর করতে পারলে এর সমাধান একদিনে হবে কি করে?

    আর শেষ কথা বলি। যা বুঝেছি তার অনুষঙ্গেই বলি। আমি অনেক বাচ্চাকে দেখেছি পোকামাকড় মেরে থেঁতলে দিতে। পায়ে দলে দিতে। শুধু মেরেই তার ক্ষান্তি নেই। থেঁতলে দিয়ে শান্তি। যতটুকু জানি, এ তার ভয়ের বহিঃপ্রকাশ। তার চেয়ে আলাদা অস্তিত্বকে সে কোনো কারণে ভয় পাচ্ছে। তাকে হত্যা করলেই হবে না, তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেই সে শান্তি পায়। এখন আমরা যারা ভয় পাচ্ছি, তারা অসহায়তা থেকে এমন নৃশংসতা চাইছি। অবদমন একরকম আমাদের ট্রিগার করছে। ওই শাস্তি দিয়ে কাজ হবে না বলার সঙ্গে সঙ্গেই আমি বলবো যে ভয়টাও তো আছে। এর থেকে মুক্তির রাস্তা কবে আসবে? মানুষকে এত ভয়ও বা পেতে হবে কেন?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন