এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • স্বামী বিবেকানন্দ ই: নির্মোহ (তিন)

    Samik
    অন্যান্য | ৩১ জানুয়ারি ২০১২ | ৬৪৯৯৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • abc | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১০:১১513341
  • বিদ্যাসাগরের পৈতে নিয়ে জানবেন না ? জানুন। শুধু অবসর নেট কি আর বিদ্যাসাগরএর প্রামান্য আকর ? আর বিদ্যাসাগর হিন্দু দের কুপমন্ডুকতা, কুসংস্কার দূর করার জন্যে হিন্দু দর্শন গ্রন্থ গুলোকেই হাতিয়ার করলেন কেন?নিজের ছেলের বিয়েতেও হিন্দু রীতিনীতি মানলেন কেন? নিজের মায়ের পারলৌকিক কাজ করলেন কেন? নাবালক বাংলা ভাষা কে সংস্কৃত ব্যাকরণ এর নিগড়ে বাধলেন কেন ? ভাবুন। তারপরেও দেখবেন লোক টাকে দশে দশ দেওয়া যায়।
  • bip | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১০:৩৬513342
  • (১) হিন্দু দর্শন খারাপ এটাই বা কে বললো? দর্শনের খারাপ ভাল প্রয়োগ নির্ভর। ইসলাম ও ভাল বা খারাপ ব্যবহারের ওপর।

    (২) নুন্যতম রীতিনীতি না মানলে তার গ্রহণযোগ্যতা থাকত না -এটা সবাইকে করতেই হয়। সিভি রামন ও নিষ্ঠাবাণ ব্রাহ্মন/হিঁদু ছিলেন। এটা গ্রহণযোগ্যতা।

    (৩) বাংলা ব্যাকারন সংস্কৃত ব্যাকারন থেকে এসেছে জানা ছিল না-শুধু শব্দগুলো এসেছে বলেই জানতাম, বরং বাংলা গ্রামারের সাথে পালির মিল বেশি। আর বাংলার সংস্কৃত্যায়ন করয়েছে বৈষ্ণব কবিরা। সেটা ১৫০০-১৭০০ তেই হয়ে গিয়েছিল।
  • Sibu | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১০:৫৬513343
  • বিদ্যাসাগর কি হিন্দু দর্শন নিয়ে খুব মাথা ঘামিয়েছিলেন? যদ্দুর জানি সতীদাহ নিয়ে বিতর্কে উনি স্মৃতি, মানে আইন নিয়েই বেশী কথা বলেছিলেন।

    কেউ কি ব্যাপারটা কানেন?
  • কৃশানু | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১০:৫৯513344
  • আমি আমি কানি কানি।
  • Sibu | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১১:০১513345
  • কানলে কলে দাও।
  • - | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১১:০২513346
  • বিদ্যাসাগরের সতীদাহ নিয়ে বিতর্ক? তবে রামমোহন-বাবু...
  • Sibu | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১১:০৫513347
  • অ্যাপলজি। বিধবাবিবাহ।
  • Lama | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১১:০৯513348
  • আঃ! ব্যাকারন্না। ব্যাকরণ, ব্যাকরণ
  • ... | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১১:৩২513349
  • না, না, শিবু, অ্যাপলজির কি আছে? যিনি বিদ্যাসাগর, তিনিই রামমোহন, যাহাই বিধবা বিবাহ, তাহাই সতীদাহ, যেই তকাই, সেই বিস্কুট বা আলুনার্কোল...
    বিবেকানন্দর "উল্ট-পাল্টা কথা" সম্পর্কে বোঝাতে/বুঝতে গেলে এমন জ্ঞানেরই তো দরকার!!
  • dukhe | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১১:৫৫513351
  • সত্যিই? যা বুঝছি, তা-ই? তবে কি - তবে কি - বিপের কলমে বিদ্যাসাগরের নির্মোহ ব বেরোবে না?
  • abc | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১২:০০513352
  • বিপ, একটু সংস্কৃত ব্যাকরণ কৌমদী আর বাংলা ব্যাকরণ উপক্রমণিকা একটু ঘেঁটে দেখুন। কনসেপ্ট গুলো দেখুন - পুরুষ,কারক,অব্যয়, প্রত্যয়, উপসর্গ,সন্ধি সমাস,বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ইত্যাদি প্রভৃতি।
    একমত যেকোনো ধর্ম দর্শন ভালো - খারাপ ব্যবহারের ওপর। ঠিক যেমন বিজ্ঞান
  • siki | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১২:৩২513353
  • হুনীলের সেই সময় বইটি হাতের কাছে নেই, সেখানে একটা অংশ মনে পড়ছে, হুবহু কোটেশন হয় তো হবে না।

    তখন ডিরোজিওর নেতৃত্বে ইয়ং বেঙ্গল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, আর বিধবাবিবাহও প্রচলন হয়ে গেছে আইন করে, সুবিধেবাদী হুজুগে বাঙালি যে যেমন করে পারে সেইসব জিনিসের ফায়দা ওঠাচ্ছে। একদল ছোকরার কাছে ইয়ং বেঙ্গলের যুক্তিবাদের সারবত্তা দাঁড়াল এই, যে, যেনতেনপ্রকারেণ হিঁদুয়ানির পিণ্ডি চটকানো গেলেই সেটা ইয়ং বেঙ্গলের মুখোজ্জ্বল করবে। তো, সেই ভাবাবেগে একজন ব্রাহ্মণ ছোকরা নিজের উপবীতের নির্মোহ ব করলেন। একটি কাঠির ডগায় পৈতেটাকে ঝুলিয়ে সারা কলকাতা সেই পৈতেসমেত কাঠি নিয়ে সদর্পে ঘুরে বেড়িয়ে অবশেষে গঙ্গায় গিয়ে কাঠিসমেত পৈতে বিসর্জন দিয়ে ব্রাহ্মণত্ব ত্যাগ করলেন।

    কলকাতাময় এ ঘটনায় শোর পড়ে গেল। ইয়ং বেঙ্গল ও অন্যান্য নব্য নাস্তিকরা খুব বাহবা দিল, আর ভেটেরান বামুনের দল "হিন্দুধর্ম ব্রাহ্মণত্ব রসাতলে গেল" বলে বিস্তর হাহাকার করলেন।

    কেবল সব শুনে বিদ্যাসাগর মুচকি হেসে সেই ছোকরাটিকে কইলেন, তা হলে বাপু তুমি এটা স্বীকার করে নিলে যে পৈতে জিনিসটা যেখানে সেখানে ছুঁড়ে ফেলা যায় না, ওটাকে গঙ্গাতে গিয়েই বিসর্জন দিয়ে আসতে হয়?

    এমনিই, জাস্ট মনে পড়ে গেল।
  • উমেশ | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১৩:১২513354
  • সময়-কাল টা মাথায় রেখে বিদ্যাসাগরের সমালোচনা করা মনে হয় ভালো।

    বিদ্যাসাগর কে একা যে বিশাল জনগণের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছিল সেটা মনে হয় কোনো বাঙালী কে করতে হয়নি।

    ঐ সময়ে দাড়িয়ে ওর থেকে বেশী নাস্তিক হওয়া টা সম্ভব ছিল কি?
  • siki | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১৩:৩২513355
  • না।
  • dukhe | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১৩:৪৫513356
  • বিদ্যাসাগরের সমালোচনা কে করেছে? বিপ পর্যন্ত করেননি।
  • দীপ | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১৩:৫১513358
  • পড়েন পড়েন, শঙ্করীবাবুর বই পড়েন। তার সাথে নিবুদির চিঠিপত্তরগুলিও পড়েন। নিবুদির দাড়িবাবার কাছে যাওয়া আসা নিয়ে দু-চার কথা ওতেও আছে।

    স্বামীজির বিরুদ্ধে তাঁর গুরুভাইদের অসহযোগিতা অসন্তোষের খবর পাবেন গম্ভীরানন্দের 'যুগনায়ক বিবেকানন্দ'তে। শঙ্করীবাবুর বইয়ের ২য় খন্ড ৯৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে ব্রিটিশ অনুরাগিণী হেনরিয়েটা ম্যুলারের সম্পর্কত্যাগের উল্লেখ। মেরি লুই বার্কের 'সেকন্ড ভিসিট' পড়েন - ওতে পাবেন আরও অনেক বিদেশী অনুরাগী-অনুরাগিণীর সাথে মনোমালিন্যের কথা। "সামগ্রিক"ভাবে জানতে গেলে এগুলোও পড়তে হবে বৈকি। শুধু সন্দেশ-মন্ডা খাব আর টক দৈ ছোঁবনা বললে কি করে হবে? প্রসঙ্গত, গম্ভীরানন্দ ছিলেন বেলুড় মঠ ও মিশনের সভাপতি, আর বার্ক বিবেকানন্দ পুরস্কারপ্রাপ্ত।
  • abc | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১৩:৫১513357
  • সিকি, বিদ্যাসাগর কে এক কথায় নাস্তিক বলা যায় না। উনি প্রথাগত সংস্কার দীর্ণ হিন্দু পৌত্তলিক ছিলেন না এটা বলা যায়।
    Vidyasagar: the Traditional Moderniser - By অমলেশ ত্রিপাঠি লাস্ট চ্যাপ্টার পড়তে পারেন। বিদ্যাসাগরের ব্যক্তিগত চিঠি গুলোর মাথায় কি লেখা থাকত একটু খোঁজ নিন।
  • দীপ | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১৪:০২513359
  • নাস্তিক বলতে যদি Atheist বোঝেন - না বিদ্যাসাগর এথিস্ট ছিলেন না। কাজকারবার থেকে ধার্মিক ছিলেন বলেই মনে হয়। তবে হিন্দু দর্শনের মধ্যে যেসব মেটাফিসিকাল ব্যাখ্যা ট্যাখ্যা থাকে, উনি সেগুলির বিরোধ করেছেন। আর হিঁদুরা এসব করলে পরে রেগে গিয়ে 'নাস্তিক' বলেই ডাকে।
  • dukhe | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১৫:১৭513360
  • যাক, দীপ তো সবই পড়েছেন। তাহলে আর কোশ্নো কিসের? মুলারের সম্পর্কত্যাগ ও তার ব্যাকগ্রাউন্ড পুরোটাই আছে। যুগনায়কে বিবুদা কী ক'রে গুরুভাইদের জয় ক'রে নিয়েছিলেন সে খবরও আছে। বিদেশীদের মনোমালিন্যের কিছু হিন্ট পত্রাবলীতেও পাবেন। বিবুদাই লিখে গেছেন "প্রভু আমাকে ঠিক ঠিক লোকের হাত থেকে রক্ষা করুন।" কী প্রচণ্ড বিরোধিতা ফেস ক'রে একটা লোককে এগোতে হয়েছিল, সে খবর বার্ক গম্ভীরানন্দ শঙ্করীবাবু নিবেদিতা ভূপেন দত্ত মহেন দত্ত ক্রিস্টিন সবার লেখা পড়লেই মালুম দেবে। মানে সন্দেশ দৈ মণ্ডা যাই পড়ুন।
  • abc | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১৫:২৩513362
  • দীপ, আরো একটু ধরতাই দি।কালী দা মানে স্বামী অভেদানন্দ চেয়েছিলেন ভক্তিযোগ নিয়ে থাকতে, তার বিরোধ হয়েছিল বিবুদার কর্মযোগের পথ নিয়ে। মিশন ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। নিবু দি রবি দা বিবুদার চা চক্রের গল্প ও তো শোনা যায়। বিবুদা মরে যাবার পর ও নিবু দি কিন্তু থেকে গেলেন বিবুদার পথ ধরেই, নারীশিক্ষা আর বিপ্লবের কাজকর্মে জড়িয়ে পড়লেন ; মিশন ছাড়লেন কিন্তু সারদা মা কে ছাড়লেন না ।
  • abc | ১৮ জুলাই ২০১৩ ১৫:৩১513363
  • "হিন্দু দর্শনের মধ্যে যেসব মেটাফিসিকাল ব্যাখ্যা ট্যাখ্যা থাকে, উনি সেগুলির বিরোধ করেছেন" - বিদ্যা দা বলেছেন দার্শনিক রা ঠিকঠাক ব্যাখ্যা করতেই পারেন নি। কিন্তু সেটার মানে ওনাকে নাস্তিক বলা চলে না। উনি ওনার কাজের জন্যই ১০/১০ পাবেন। নাস্তিক হবার জন্যে কেউ ব্রাউনি পয়েন্ট পায় না
  • bip | ১৮ জুলাই ২০১৩ ২০:০৬513364
  • নাস্তিকতা অধিকাংশ হিঁদু দর্শনের সর্বোচ্চ ধাপ।

    অদৈত্ববাদ ও নাস্তিকতা -এখানে আমি ই ঈশ্বর ...

    ঈশ্বর হিন্দু দর্শনে "মায়া" -জন্মদাতা বা ক্রিয়েটর নন ( এটা সত্যদা মানে স্বামী সূপর্ণাণন্দের ফান্ডা -এখনো মনে আচে)

    সাংখ্য এবং ন্যায় দর্শন ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানে না ্‌,

    বিবেকান্দ ও অদ্বৈতবাদি-তাই সেই অর্থে তিনিও নাস্তিক। কারন অদ্বৈতবাদে কোন ক্রিয়েটর নাই। তবে কিনা মিশন কুমারী পুজা, কালিপুজা ইত্যাদি করে সব ঘেঁটে রেখে দিয়েছি। হিন্দুয়ানি না দেখালে মিশনে মারোয়াড়িরা টাকা দেবেই বা কেন?
  • ন্যাড়া | ১৮ জুলাই ২০১৩ ২০:১৫513365
  • আচ্ছা, আমি যে দুটো মারাত্মক কোট দিলাম (16 Jul 2013 -- 10:19 PM), কেউ তো কোন উচ্চবাচ্য করল না। আরও উদ্ধৃতি চাই?
  • dd | ১৮ জুলাই ২০১৩ ২০:২৩513366
  • আরে ন্যাড়া,তোমার কোট নিয়েই তো অ্যাতো হুলোহুলি। কোনটি সন্দেস কোনটি মন্ডা কোনটি টক দৈ এসবের সুক্ষাতিসুকনো তর্কই তো চলছে। সবাই রেগে আগুন কিন্তু জিভে জল চলে আসছে।

    এবার একটা হাতে গরোম কোট দ্যাও তো শ্রদ্ধা আর ভক্তি নিয়ে, দেখি। সবার মুখটা দিস কাইন্ড অব ইসে করে দিতে হবে কিন্তু।
  • dukhe | ১৮ জুলাই ২০১৩ ২০:৩১513367
  • ঃ)
  • দীপ | ১৮ জুলাই ২০১৩ ২০:৩৫513368
  • এবিসি 18 Jul 2013 -- 03:23 PM - এরকম তো আমিও ক'পাতা আগে লিখলাম। বিবুদা যে সব কর্মকান্ডের কথা বলে গেলেন, বেদান্ত আর রামকৃষ্ণের গল্পের আড়ালে দর্শন আর বিজ্ঞান-টিজ্ঞান শেখানোর কথা - সে আর হল কই? মঠ-মিশনের লোকেরা সেবাধর্মে মন দিলেন, শূদ্রজাগরণ আর হল কই? যেই বললাম, মিশন শুধু চ্যারিটি করে গেল - সবাই রে রে করে উঠলেন - চ্যারিটি? বটে? মশায় মুরোদ থাকে তো আপনেও করে দেখান না দু-চারটে চ্যারিটি!

    কর্মযোগ চালিয়ে যেতে গেলে দুটো মূল উপাদান দরকার - লোকবল আর অর্থ। লোকবলের জন্য আশ্রয় নিলেন ধর্মের, কারণ ধর্ম মানুষকে চুম্বকের মত আকর্ষণ করে। "সন্ন্যাসিগণ কিসের জন্য এ-জাতীয় ত্যাগব্রত গ্রহণ করিবে এবং কেনই বা এ প্রকারের কাজ করিতে অগ্রসর হইবে? ধর্মের প্রেরণায়!" সব রকম প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দর্শনের জ্ঞানে পন্ডিত, কিন্তু বেছে নিলেন বেদান্তকে। কেন নিলেন, সে তো গভীর গবেষণার বিষয় - সে প্রসঙ্গে যাব না। হয়তো পশ্চিমি দর্শনের এবং পশ্চিমি-ভারতীয় হাইব্রিড দর্শনের ভারতবাসীর কাছে পৌঁছনর আড়ষ্টতা (রামমোহন এবং বাংলার রেনেসাঁর সমসাময়িক অভিজ্ঞতা) দেখে অন্য পথে এগোনর কথা ভেবেছিলেন - "একটি কাষ্ঠখণ্ডকে উহার আঁশের অনুকূলেই যেমন সহজে চিরিয়া ফেলা যায়, তেমনি হিন্দুধর্মের দ্বারাই প্রাচীন হিন্দুধর্মের সংস্কার করিতে হইবে, নব্য সংস্কার-আন্দোলন দ্বারা নহে।" তবে রামকৃষ্ণের ইমেজ সামনে রাখলেও নিজে অন্তর থেকে কতটা রামকৃষ্ণের বৈদান্তিক ভক্তিমূলক ভাববাদে বিশ্বাসী ছিলেন, সে বিষয়ে আমার নিজের সংশয় আছে, কারণ এখানে-ওখানে অন্যরকম কথাবার্তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আর অর্থের জন্য শরণাপন্ন হলেন দেশীয় রাজন্যবর্গের (তৎকালীন ভারতবর্ষে অর্থের মালিকরা অবশ্যই জমিদার-রাজা শ্রেণীর মানুষ), এবং পরে শিকাগোর ধর্মসভায় জনপ্রিয়তার সুবাদে বিদেশী ধনী মানুষদের। মনে মানুষের উন্নতির কথা ভাবলেও রাজাদের চটাতে অপারগ, কারন তাতে স্পনসরশিপ কমে যাবে। তাই শিষ্যদের বলেছেন বিতর্ক থেকে দূরে থাকতে, রাজনীতিতে না জড়াতে এবং ধর্মের আড়ালে কাজ করতে - "পূজার ঘটা একটু কমাইয়া সে সময়টা পাঠাদি ও লেক‍্‍চার প্রভৃতি কিছু কিছু যেন হয়। কান ফুঁকতে যত পারো, ততই মঙ্গল জানিবে।" "আমাদের কার্যের এই মূল কথাটা সর্বদা মনে রাখিবে—'ধর্মে একবিন্দুও আঘাত না করিয়া জনসাধারণের উন্নতিবিধান'।" অর্থাৎ মধ্যপন্থা, কাউকে না চটিয়ে চুপচাপ ফুলে ছাপ। আর এই মধ্যপন্থা অবলম্বনের জন্যেই স্বামীজির কথাবার্তায়-চিঠিপত্রে কিছু কিছু পরস্পরবিরোধী মতামত ফুটে বেরিয়েছে - যেগুলি নিয়ে "স্ববিরোধী" আন্দোলন। একেবারে অন্ধ ভক্ত ও খাকিপ্যান্ট বাহিনী ছাড়া সবাই স্বীকার করবেন যে, স্থানকালপত্রভেদে জপানোর জন্য এই রকম "স্ববিরোধী" মন্তব্য অবশ্যই আছে।

    তো, এইসব বলার অর্থ এই নয় যে প্রমাণ করার চেষ্টা করা লোকটা সকাল-সন্ধ্যে ঢপ মারতো আর তার চরিত্র-টরিত্র বলে কিছু ছিল না। 'নির্মোহ', 'মুক্তমনা', 'স্ববিরোধী' শুনলেই গুরুর কিছু পাঠক দাঁতে ধার দিয়ে নিচ্ছেন। যদিও নির্মোহ কথাটা বেশ ভাল এবং বিপ'র লেখাটাও। দুটোর'ই কপিরাইট হওয়া উচিত। মাঝে কে একজন বললেন 'সামগ্রিক' - কথাটা আমার বেশ মনে লেগেছে - সামগ্রিক ভাবে দেখা। আর এই সামগ্রিকভাবে দেখলে তার তো আর একটাই কনক্লুশন হতে পারেনা! বিবুদা তো আর ফুটবল নন যে যেদিক থেকেই দেখুন গোল দেখাবে! তা বিবুদা যা করেছেন বেশ করেছেন। উনি পেরেছেন তাই করেছেন। ওনার ইচ্ছে হয়েছিল তাই করেছেন। যা করেছেন জেনে বুঝে করেছেন।

    এখন বিবেচ্য বিষয় হল এই ২০১৩ সনে দাঁড়িয়ে আমি কি ইচ্ছা করব - ওনার বক্তৃত (মাইন্ড ইট, প্রদর্শিত বললাম না) পথে চলা নাকি কি অন্য কোনও পন্থার অবলম্বন/অনুসন্ধান করা? ব্যক্তিগতভাবে আমার সিদ্ধান্ত হল -
    ১) আমি এথিস্ট মানুষ, ধর্ম নিয়ে লেপালেপি আমার কোনওকালেই পছন্দ নয়। তাই বেদান্তের প্রচার আমার মানসিকতা-বিরোধী। গণতান্ত্রিক স্বাধীন রাষ্ট্রে মাথা মোড়ানো ধর্মীয় সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা নেই। ধর্ম মানুষকে অবতার বানিয়ে ফেলে। যেমন বানিয়েছে বুদ্ধকে, চৈতন্যকে, রামকৃষ্ণকে, সারদাকে, বিবেকানন্দকে। কল্পতরু উৎসবে দক্ষিণেশ্বরে যে পরিমাণ ভীড় হয়, সেটা যদি বরানগর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্রদের আয়োজিত বিজ্ঞানমেলায় হত, বোঝা যেত জাতি অনেক দূর এগিয়ে গ্যাছে। 'ধর্মে একবিন্দুও আঘাত না করিয়া জনসাধারণের উন্নতিবিধান' করার চেষ্টা আজকাল সব 'সেকুলার' পার্টির ফ্যাশন হয়েছে। তাতে কতটা লাভ আর কতটা ক্ষতি হচ্ছে, সে সবাই দেখছেন। ওতে আমি আস্থা রাখি না।
    ২) বিবুদা উন্নতিকল্পে যে মধ্যপন্থার প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন সেটা খুবই স্ট্র্যাটেজিক/প্র্যাক্টিকাল একটা পন্থা হলেও তাতে হিপোক্রেসির অবলম্বন আছে। ১৮৯০ দশকে মধ্যপন্থা দিয়ে যেটুকু হয়েছে, ২০১৩ তে সেটা সম্ভব নয়। আজকের মানুষ অনেক বেশি সজাগ ও সচেতন। টের পেলে উত্তম-মধ্যম জুটবে।
    ৩) বিবুদার 'ওঠ জাগো' বক্তৃতায় জাতি জাগেনি। ওনার নিজের সৈন্যবাহিনীই মানুষকে শিক্ষিত করার পথ থেকে সরে গিয়ে শুধু সেবাব্রতে মন দিয়েছে। ১৫০ বছরে যখন জাগেনি, ওই মন্ত্রে আর জাগবে বলে মনে হয় না। মানুষকে যে শিক্ষা দিলে সে নিজের ভাল মন্দ নিজেই বুঝে নেবে, সে শিক্ষা কেউ দিলেন কই?
    ৪) বিদ্যাসাগর সম্বন্ধে জানি কম। তবে বিবুদাকে জানতে গিয়ে যেটুকু জেনেছি তাতে আমি বিদ্যাসাগরকে অনেক আগে রাখবো। বিদ্যাসাগর সম্পূর্ণ একক উদ্যোগে যেটুকু প্রভাব রেখে গ্যাছেন, বিবুদার মতো ধর্মীয় সংগঠনের সমর্থন থাকলে হয়ত আরও কিছু করতে পারতেন। কিন্তু যা হয়নি তা হয়নি। স্পেকুলেট করে লাভ নেই। তবে থিওরিতে দুজনেই প্রায় সমান সমান হলেও প্র্যাক্টিকাল ক্লাসে বিদ্যাসাগরের মার্ক্স বেশী - বাণী কম, কাজ বেশী।

    আমার হয়ত এখনও বকাবাজির বয়স যায়নি, তাই এত কিছু বকলাম। তবে এ সবই আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধির কথা। আমার পড়াশোনা কম। যেটুকু পড়েছি তাতে এই রকম একটা ধারণায় এসে দাঁড়িয়েছি। আপনারাও পড়েছেন, নিজের নিজের মতো ধারণা করেছেন। আমার বিবেকানন্দকে মানুষ হিসাবে ভাল লাগে, কর্মকান্ডের জন্য নয়। কারও দু'টোই ভাল লাগতে পারে, আবার কারও কোনওটাই নয়। এই ব্যাপারে আশা করি কারও কোনও বিরোধ নেই। বিরোধ তখনই যখন ভালবাসা বা ঘৃণা অন্ধ হয়ে দাঁড়ায়। দেখবেন, যেন পেহ্লাদের দলে ভীড়ে যাবেন না। "শুনিসনি? ক-অক্ষর দেখেই প্রহ্লাদের চোখে জল এসেছিল—তা আর পড়াশুনো কি করে হবে? অবশ্য প্রহ্লাদের চোখে প্রেমে জল এসেছিল, আর মূর্খদের চোখে ভয়ে জল এসে থাকে। ভক্তদের ভেতরেও অনেক ঐ রকমের আছে।" - স্বামী বিবেকানন্দ, ১৮৯৭।
  • দীপ | ১৮ জুলাই ২০১৩ ২১:৩৫513369
  • "নিবু দি রবি দা বিবুদার চা চক্রের গল্প ও তো শোনা যায়" - সে আর বলতে। চায়ে এরটিক ভেনম মেশানোর গল্প বলতেই দুখেবাবু ইতি-উতি চাইলেন। "বিবুদা মরে যাবার পর ও নিবু দি কিন্তু থেকে গেলেন বিবুদার পথ ধরেই" - নারীশিক্ষার পথ - ইয়েস, কিন্তু পুরোটা বিবুদার পথ বললে আমার আপত্তি আছে। বিবুদা বেঁচে থাকলে ১৯০৪ সালে নিবুদি, দাড়িবাবা আর জগদীশ বোসের অ্যালায়েন্সটা হয়ত হত না। চা চক্র নিবুদিরই পরিকল্পনা। কিন্তু রামকৃষ্ণের কালীপুজো আর অদ্বৈত বেদান্তের নিরাকার ব্রহ্মকে কিছুতেই মেলান গেল না। ১১ মার্চ ১৮৯৯ বিবুদা নিবুদিকে ওয়ার্নিং দিলেন, 'As long as you go on mixing with that family Margaret, I must go on sounding this gong. Remember, that family has poured a flood of erotic venom over Bengal'। শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিয়ে নিবুদি জোসেফিন ম্যাক্লিয়ডকে লিখলেন, 'So we are to give up …. After all, who are these Tagores?' - ৪ মে, ১৮৯৯। আর তাছাড়া নিবেদিতার পলিটিকাল ইডিওলজি ছিল আলাদা। নিবেদিতা মনে করতেন সশস্ত্র বিপ্লবই মুক্তির পথ, আর তাই সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
  • /\ | ১৯ জুলাই ২০১৩ ০৭:০২513370
  • বিপ ছড়াবেই। কখনো ছেঁড়া জাঙিয়ায় কাঁঠালপাতা কখনো হিন্দুধর্মে নাস্তিকতা। সত্যদার কসমোলজির ফান্ডা ছিল; "ঈশ্বর = মায়া উপহিত চৈতন্য", ঈশ্বর = "মায়া" নয়। নাস্তিক শব্দটা আগে নিজের মত ডিফাইন করে নিলেই ল্যাটা চুকে যেত। মিশন ঘেঁটেছে র পরের স্টেপ কি এই যে, - দ্বৈত, অদ্বৈত, বিশিষ্টাদ্বৈত এই সব মিলিয়ে হিন্দুধর্ম জিনিসটাই প্রচুর ঘাঁটা ও স্ববিরোধী? রামকৃষ্ণের 'যত মত ..." ও নিশ্চয়ই যথেচ্ছ ঘাঁটারই উদাহরণ? সবার পদ্ধতিকে সঠিক না বললে যথেচ্ছ ভক্তই বা হবে কেমনে? তাই না?
    শুধু নামহীন মেদহীনদের Name ফিল্ডে ওমনাথ / প্রেমনাথ / হরিনাথ বা বিপ না লেখা থাকলে তাদের বক্তব্য বা প্রশ্নগুলো নাল ও ভয়েড হয়ে যায় কিনা জানার ছিল। মুক্তমনারা যদিও অ্যানোনিমিটি বরদাস্ত করে না, সেতো জানাই রয়েছে।
  • dukhe | ১৯ জুলাই ২০১৩ ০৯:১৭513371
  • দীপের ব্যক্তিগত উপলব্ধি নিয়ে বলার কিছু নেই। নিজের মত ক'রে যা বুঝেছেন, বলেছেন। ফাইন। আশা করি ওঁর বক্তব্যের উল্টো যুক্তিগুলোও উনি জানেন এবং জেনেবুঝেই রিজেক্ট করছেন। না হ'লে জেনে নিতে অনুরোধ করতে পারি। এবং উনিও সে অনুরোধ রিজেক্ট ক'রে নিজের বিশ্বাসে অটল থাকতেই পারেন। তাতেও কিছু বলার নেই। পড়াশোনা কম থাকতেই পারে এবং আয়ু যেহেতু সীমিত, কোন বিষয়ে পড়াশোনাই মন দেবেন - সেটা অবশ্যই নিজের চয়েস।

    তবে সবাই বনাম দিয়ে ভাবে না। বিবুদা বনাম বিদ্যাসাগর, বিবুদা বনাম ব্রহ্মানন্দ, বিদ্যাসাগর বনাম দাড়িদাদু - এসব শুনলে ওনারাই হয়তো হাসাহাসি করতেন ব'লে আমার ধারণা। "ঈশ্বর নিরাকার চৈতন্যস্বরূপ" -এটা কেন মাথা মুড়োনোর চেষ্টা নয় - তার জবাব দীপের কাছে নাই থাকতে পারে। "Hero of the drawing room" রবিবাবুর 'চুম্বন' 'আলিঙ্গন' গোছের কবিতা পছন্দ না করলেও রবিবাবুর কিছু গান অথবা পরবর্তীকালের রচনা বিবুদার পছন্দ হওয়া সম্ভব - সেটা ইতিউতি না তাকালেও বোঝা যায়। নইলে আর ক্ষিতিমোহন সেন রবিবাবুর গান প্রথম বিবুদার মুখেই শুনবেন কেন? "বিবুদার মত ধর্মীয় সংগঠনের সমর্থন"-এর কথা তুললে সে সংগঠনটা যে বিবুদাকেই কিছু অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের সঙ্গে অকল্পনীয় প্রতিকূলতা পেরিয়ে গড়ে তুলতে হয়েছিল - সেটা ভুলে যাওয়া কঠিন। বিবুদা আর জগদীশ বোসের সম্পর্কের কথাও কি ভোলার? বা নিবেদিতার রাজনীতিতে যেতে চাওয়া সম্পর্কে বিবুদার এই মন্তব্য - "নিবেদিতা ভারতের রাজনীতির কী জানে? আমি ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদের জন্য দেশীয় রাজাদের নিয়ে শক্তিজোট গড়ার জন্য সারা দেশ ঘুরেছিলাম, কিন্তু কোন সাড়া পাইনি। দেশটা মৃত।"

    জাতি কতটা জেগেছে না জেগেছে, রামকিষণজি আর বিবুদার নামে কত লোক ঘর ছেড়েছেন, স্বাধীনতা আসার পেছনে ওনার অবদান কতটা, ওনার নিজের সৈন্যবাহিনী শুধু চ্যারিটি ক'রে চলেছেন কিনা, কতজন আজও ছোটবড় নানা সংগঠনের মাধ্যমে কী কাজ করছেন - এ নিয়ে নিদান দেওয়ার আগে আশা করব সে সবের খবরাখবরও লেখক রাখেন। মানে তথ্য তো পাল্টায় না, সিদ্ধান্ত যার যার। আর যিনি ব'লে গেছেন - "আমার ছবি টাঙিয়ে পিদ্দিম ঘুরাবি তো ভূত হয়ে এসে ঘাড় মটকাব", তাঁর খাকিপ্যান্ট ভক্ত হওয়া কি সোজা রে দাদা?
  • abc | ১৯ জুলাই ২০১৩ ১০:২১513374
  • আচ্ছা ধরে নিন abc -র নাম অর্ধেন্দু বিকাশ চন্দ্র। "মুক্তমনা" রা খুশি তো? :-)
    "অর্থের জন্য শরণাপন্ন হলেন দেশীয় রাজন্যবর্গের" - সে তো অর্থের জন্যে বিদেশী (পড়ুন ইংরেজ ) রাজন্যবর্গের সাথে হৃদ্যতা রক্ষা করতেন বিদ্যা দা - যাতে নারী শিক্ষা প্রসারে বিদেশী রা পয়সা খরচ করে। ওই "রাজাদের চটাতে অপারগ" কথাটা বিদ্যাদার ক্ষেত্রেও খাটে - ততদিনে কিন্তু সিপাহী বিদ্রোহ হয়ে গেছে, ওনার কোনো রা শোনা যায় নি।
    ১। " 'ধর্মে একবিন্দুও আঘাত না করিয়া জনসাধারণের উন্নতিবিধান' করার চেষ্টা আজকাল সব 'সেকুলার' পার্টির ফ্যাশন হয়েছে" - ফাইন । গণতন্ত্রে পসন্দ আপনা আপনা। তবে এদেশের কমুনিস্ট পার্টির নেতারাও পাগড়ি পরে,হজ করে,তারাপিথে যায়। "আমি এথিস্ট মানুষ, ধর্ম নিয়ে লেপালেপি আমার কোনওকালেই পছন্দ নয়" - এই আমার ইচ্ছে সমগ্রের ওপর চাপাবেন না।
    ২।"১৮৯০ দশকে মধ্যপন্থা দিয়ে যেটুকু হয়েছে, ২০১৩ তে সেটা সম্ভব নয়। আজকের মানুষ অনেক বেশি সজাগ ও সচেতন। টের পেলে উত্তম-মধ্যম জুটবে।" - চরম পন্থা টা কি রকম? সেখানে কি খুনোখুনি হবে না গোলাপ ফুল জুটবে ?
    ৩। "জাতি জাগে নি " সুভাষ বসু লোক টা কিন্তু বিবেকানন্দ পড়েই জেগেছিল। নিন এবার সুভাষের নির্মোহ ব লিখুন। " মানুষকে যে শিক্ষা দিলে সে নিজের ভাল মন্দ নিজেই বুঝে নেবে, সে শিক্ষা কেউ দিলেন কই?" - আপনার মনে হয়েছে সেই শিক্ষা কেউ দেয় নি। আমার মনে হয়েছে দিয়েছে। তাতে কি প্রমান হলো? রা কৃ মি তে পরেও প্রচুর লোকে মানুষ হয়েছে, অনেকে আবার হয় নি।মিশন বাদে অন্য স্কুলে পরেও মানুষ হয়েছে। বরং চ্যারিটির মাধ্যমে হলেও বছর বছর এত গরিব অনাথ ছেলে কে পড়ানো, গ্রামের মহিলা দের স্বাবলম্বী কুটির শিল্প চালানো এগুলো কে মানুষ বানানোর ধাপ হিসেবে দেখা যেতেই পারে। আপনি হয়ত নরেন্দ্রপুর যান নি, ওখানে কিন্তু সব ধর্মের ছেলেরাই পরে, সেখানে ঈদ ও পালিত হয়, খ্রিস্টমাস ও হয়। নরেন্দ্রপুর থেকে মা উমা স্ট্যান্ড করা মুসলিম ছেলের নাম এই ফোরামেই জেনে নিতে পারেন।
    ৪। "তবে বিবুদাকে জানতে গিয়ে যেটুকু জেনেছি তাতে আমি বিদ্যাসাগরকে অনেক আগে রাখবো" - রাখতেই পারেন,সেটা পসন্দ আপনা আপনা । যুগের সপেক্ষে বহু এগিয়ে থাকা এই দুই মহাপুরুষের তুল্যমূল্য বিচার, পরীক্ষায় ১০ এ নাম্বার দেয়া এগুলোর যোগ্যতা হয়ত মুক্তমনা দের আছে। আমরা ছাপোষা লোক আমাদের নেই।
    ৫।" বিবুদা বেঁচে থাকলে ১৯০৪ সালে নিবুদি, দাড়িবাবা আর জগদীশ বোসের অ্যালায়েন্সটা হয়ত হত না। " জগদীশ বোসের সঙ্গে বিবুদার এলায়েন্স ছিল না বলছেন ? তাহলে জগদীশ বাবু ওনার (তথা ভারতের) প্রথম US পেটেন্ট টি ফাইল করার জন্যে বিবুদার কোথায় রাজি হয়ে manuscript পাঠিয়েছিলেন কেন ? বিবু দাই বা লোড নিয়ে ওনার মার্কিন ভক্ত ম্যাসাচুসেট্স এর সারা চ্যাপম্যান বুল কে JC Bose -র নাম এ পেটেণ্ট apply করলেন কেন ১৯০১ সালে যেটা ১৯০৪ সালে গ্রান্ট হয় (US Patent number ৭৫৫৮৪০)
    " নিবেদিতা মনে করতেন সশস্ত্র বিপ্লবই মুক্তির পথ" - নিবুদির সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বিবু দার থেকে উদ্বুদ্ধ নয় ভাবছেন ?
    যাইহোক বিবু দা কে দিয়েই নরেন মোদির মুতোড় জবাব দিতে পারেন ।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন