এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • কিভাবে ব্যবসা শুরু করবেন?

    S
    অন্যান্য | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৩৮১৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৫:১১371572
  • এখানে অনেককেই ব্যবসা মার্কেট ইত্যাদি ব্যাপারে অনেক কথা বলতে শুনি। অনেক সময়েই যথেষ্ট ভুল/আধা ধারণা থাকে এবং সেগুলোর বহিঃপ্রকাশ ঘটে। কিন্তু আপনার বন্ধু মহলে মনে করুন আপনাকে সক্কলে মার্কেট বিশারদ হিসাবে জানে বা এন্টারপ্রেনিউর বলে ডাকে, সেখানে আমি এসে যদি বলি আপনি ভুল বলছেন তাতে অসুবিধে হবেই মেনে নিতে। এবং তখন ধরেই নেবেন যে অন্যজনও কিছুই জানেনা। সেইজন্য এখানে আমার গ্যানগম্যি আর এক্সপেরিয়েন্স থেকেই লিখছি। ভারতে অনেকদিন আগে কাজ করেছি, ফলে এখন হয়তো কিছু কিছু চেন্জ হয়েছে। এইটা লেখার উদ্দেশ্য এই নয় যে কেউ এটা পড়েই ব্যবসা শুরু করে দেবে। কিন্তু অন্য ব্যাপারে অনেক প্রশ্নের হয়তো উত্তর পাওয়া যাবে।

    এখানে আরেকটা কথাও লিখে দিই। অনেকেরই পছন্দ হবেনা। এখানে বেশিরভাগ জনগন আইটিতে কাজ করেন। আমিও এক সময় করেছি। আইটি কোম্পানির এমপ্লয়িদের মধ্যে ব্যবসা সংক্রান্ত ধারণা খুব খুব কম থাকে। প্রথমতঃ ভারতীয় আইটি কোম্পানির বিজনেস মডেল অন্যরকম - অন্য সব ব্যবসার থেকে আলাদা। সাপ্লায়ার নেই, ইনভেন্টরি নেই, কাস্টোমার বিদেশি, এইসব কোম্পানিদের লোন থাকেইনা প্রায়। সেকেন্ডলি, এইসব কোম্পানিতে যেসব এম্বিএরা কাজ করে তাঁরা সাধারণতঃ তেমন কাজের হয়না - স্কীলেরও ক্রমশঃ ঘাটতি ঘটতে থাকে। আইটিতে প্রজেক্ট ম্যানেজেমেন্টের জন্য কোনও স্কুলে না গেলেও চলে। ফাইনালি, ভারতে বেশিরভাগ (বিশেষতঃ প্রথ্মদিককার) এম্বিএ ইস্কুল গুলো নিয়ে এখানে বেশি কিছু লিখবো না। থাক।
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৫:২১371583
  • এখানে একটা ম্যানুফ্যাকচারিঙ্গ কোম্পানির কথাই লিখবো।

    প্রথম যেটা লাগবে সেটা হলো একটা বিজনেস প্ল্যান। এগুলোর ফর্ম্যাট অনলাইনে পাওয়া যায়। অনেক কন্সাল্টেন্সি কোম্পানি আছে আপনাকে করে দেবে। এছাড়া ফান্ডিঙ্গ ইন্স্টিটিউশনের কাছেও পেতে পারেন।

    কিন্তু প্ল্যানের সবথেকে ইম্পর্ট্যান্ট পার্ট হলো প্ল্যানটা। মানে কি বানাবেন? মানে প্রোডাক্টটা কি তৈরী করবেন? আপনি কেন বানাবেন? অলরেডি তো অনেক লোক আছে। তারা কেন নয়? এইসব ক্ষেত্রে আপনাকে দেখাতে হয় যে অমুক কোম্পানির থেকে অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। চিঠি বা ফোন কল খুব কাজে দেয়। এখানে নেটওয়ার্কিঙ্গ খুব কাজে দেয়। মামা কাকা সেই কোম্পানিতে চাকরী করলে খুব সুবিধা। পাথ ব্রেকিঙ্গ ব্যাপার স্যাপারের কথা আর নাই বা লিখছি।

    এইবারে মনে করুন আপনি দেখলেন যে মোট তিন কোটি টাকার দরকার। এক কোটি ফ্যাক্টরি শেড বানাতে। দেড় কোটি মেশিন কিনতে। আর ৫০ লাখ আপনার ওয়ার্কিঙ্গ ক্যাপিটাল মানে প্রথম ছমাস ধরে ইনভেন্টরি কিনতে, কর্মচারীদের মাইনে দিতে, কাস্টোমারকে ক্রেডিট দিতে হবে ফলে প্রথমেই টাকা পাবেন না এইসব আর অন্যান্য খরচ খরচার জন্য।
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৫:৩৩371594
  • তিন কোটি তো নেই? তাহলে সর্ব সাকুল্যে ৫০ লাখ জোগাড় হবে। তাও ফ্রেন্ড ফ্যামিলি মিলিয়ে। ব্যান্ক বলেছে যে আপনি ১ টাকা দিলে তারা ২ টাকা দেবে। তাহলে?

    এইসময়ে সাধারনতঃ কোনো মানি শার্কদের ধরতে হয়। আজকাল এদের অনেক ইন্স্টিটিউশনাল ভার্সান এসেছে। বা আপনার সেই বড়লোক পিসের কাছে যান। এইসব মানি শার্করা সাধারনতঃ ৫-১০% (মাসে) চার্জ করবে। প্রথমে আপনি এই টাকাটা নিয়ে নেবেন নিজের অ্যাকাউন্টে এবং কিছুদিন রাখতে হবে (ইন্টারেস্টও পাইলড আপ হচ্ছে)। এই ধারগুলো (ফ্রেন্ড, ফ্যামিলি, মানি শার্ক) আপনি ইকুইটি হিসাবেও দেখাতে পারেন বা আনসিকিওর্ড লোন হিসাবে। ব্যান্কারের সাথে আর আপনার সিএর সাথে কথা বলুন (ব্যান্কারকে বেশি বলবেন না)। এসব ক্ষেত্রে অনেক আনফিসিয়াল ট্রান্জাক্শন আসে। ব্যান্কার জিগালে বলে দেওয়া হয় গয়না বেচে, ইনহেরিটেন্স, প্রপার্টি বেচে, সেভিঙ্গ করে করে এই টাকাটা করেছি।

    কত ধার নেবেন?

    হিসাব অনুযায়ী আপনার দরকার তিন কোটি। ব্যান্ক দেবে দুকোটি যদি আপনি এককোটি জোগাড় করতে পারেন। আপ্নার কাছে ৫০ লাখ রয়েছে। অতেব হিসাব বলছে আরো ৫০ লাখ দরকার। কিন্তু আপনি নেবেন এক কোটি। অতেব আপনার কাছে এখন কছে হবে দেড় কোটি। ব্যান্ক দেবে তিন কোটি। অতেব প্ল্যানটা চেন্জ করুন। দেখান যে কেন বেশি লাগবে। সেই প্ল্যান চালান করে ব্যান্কারের কাছ থেকে তিন কোটি স্যান্কশন করিয়ে দিন। ব্যান্কারের কাটটা ভুলবেন না।

    সাড়ে চার মতন পেলেন। প্রথমের যে এক কোটি ধার নিয়েছিলেন মানি শার্কের কাছ থেকে, সুদ সমেত সেটাকা ফেরত দিন। আপনার কাছে থাকলো তিন কোটি যেটা আপনার আসল প্রয়োজন। ব্যবসা শুরু করুন।
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৫:৫০371605
  • ব্যান্কের লোন কেউ শোধ করেনা। কেন? কারণ পুরোনো লোন শোধ করার সময়ে নতুন লোন দিয়ে রিফাইনান্স করা হয়। সুদটা দিয়ে যেতে হয়। আগের উদাহরণটাই দেখি।

    আপনি ব্যান্ক থেকে লোন নিয়েছিলেন মোট তিন কোটি। ধরুন তার মধ্যে আপনার প্ল্যান অনুযায়ি দুকোটি হলো মেশিনের জন্য। একে বলে টার্ম লোন। সেটা শোধ দিতে হবে ৫ বছর পরে। আর বাকিটা ওয়ার্কিঙ্গ ক্যাপিটাল লোনস (ব্যান্কের অনেক শর্ট টার্ম ফেসিলিটিজ থাকে)। এই শর্ট টার্মটা নিয়েই ঝামেলা হয় (আগের পোস্টে উল্লেখিত গুপির কারণে)।

    এখন আপনি যে মেশিনটা কিনেছিলেন, ৫ বছর পরে তার স্যলভেজ/রিসেল ভ্যালু হয়েছে মনে করুন ২৫ লাখ। আর নতুন মেশিনের দাম হয়েছে দু কোটি। আপনাকে শোধ দিতে হবে দুকোটি (ওয়ার্কিঙ্গ ক্যাপিটাল ফেসিলিটিজগুলোর শোধ হয়না - ওগুলো বেশিরভাগই কারেন্ট অ্যাকাউন্ট বা তার মতন - শুধু সুদ দিতে হয় যত ড্র করছেন তার উপরে)।

    আপনি দেখালেন যে নতুন মেশিনের জন্য আপনার লাগবে সাড়ে তিন কোটি। আর ওয়ার্কিঙ্গ ক্যাপিটাল বাড়িয়ে নিলেন আরো ২৫ লাখ। তার মানে আপনি টোটাল নতুন লোন অ্যাভেইল করতে পারবে তিন কোটি ৭৫ লাখ। আর পুরোনো মেশিন বেচে পেলেন ২৫ লাখ। হাতে মোট ৪ কোটি। তার মধ্যে আগের লোনের ২ কোটি সোধ করলেন আর নতুন মেশিন কিনলেন আরো ২ কোটি দিয়ে।

    এখানে প্রশ্ন আসবে যে ২ কোটির মেশিনে কিকরে এতো দেখাবো। মেশিনের ম্যানুফ্যাকচারারকে বলুন যে অন্তত তিন কোটি দাম দেখাতে প্রথমেই। সেই দেখিয়ে লোন স্যান্কশান হবে। পরে দাম কমিয়ে আড়াই কোটি হবে। আর মেশিন কেনার পরে আপনাকে ৫০ লাখের ডিসকাউন্ট পাঠাবে। মনে রাখবেন ব্যান্কারকে কোনও ভাবেই চটাবেন না।
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৫:৫৫371616
  • এইবারে বলুন যে উপরের পোস্টের হিসাবে কোথায় গন্ডগোল আছে?
  • amit | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৬:০৩371627
  • টোয়ি এর হেডিং " কিভাবে ব্যবসা শুরু করবেন" পাল্টে "ঠগবাজির সহজ পাঠ" করে দিলে ভালো হয় না ? বুঝতে সুবিধা হবে।
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৬:৩৬371638
  • ওটা আইটি কোম্পানির লোকেরা লিখুক। ওরা ঠগবাজিটা একদম কাছ থেকে দেখে কিনা।
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৬:৩৯371649
  • আগের পোস্টের সমস্যাটা হলো আমি ধরেই নিয়েছি যে ৫ বছরে আপনার ব্যবসা বেড়েছে এবং আপনার ওয়ার্কিঙ্গ ক্যাপিটালের প্রয়োজন বাড়ার ফলে ব্যান্কার নিজেই আপনার শর্ট টার্ম ফেসিলিটিজ বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা আসল লাইফেও হয়। আপনি কয়েকবার ওভারড্র করলেই আপনার ব্যান্কার লিমিট বাড়িয়ে দেবে। এতে উনারও উপকার (বেশি স্যান্কশান মানেই বেশি বোনাস)।
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৬:৪৬371660
  • আজকে ভারতে যা অবস্থা (হয়তো এখন একটু খারাপই অবস্থা) আপনি অনায়াসে অপারেটিঙ্গ লেভেলে ৩০% লাভ রাখতে পারবেন। মানে তিন কোটির ক্যাপিটালে প্রায় এক কোটি (প্রথম বছরেই হবেনা কিন্তু লেগে থাকুন)। সেই ব্যবস্থা করা রয়েছে পলিসিগুলোর মাধ্যমে। আমি এক কোটি ধরেই হিসাব করছি। এর থেকে ডেপ্রিশিয়েশন হিসাবে বাদ যাবে ৫০ লাখ। তারপরে লোনের ইন্টারেস্ট বাবদ (ইন্টারেস্ট রেট ১০%এর আশে পাশে হবে) আরো ৪০ লাখ মতন। লাভ হলো মোটে ১০ লাখ। অতেব ট্যাক্স দেবেন ৩ লাখ? আপনার ট্যাক্সের পরে লাভ থাকলো ৭ লাখ। কিন্তু ঐযে ডেপ্রিশিয়েশন বাবদ ৫০ লাখ - ওটি আপনার পকেটেই থেকে যাচ্ছে। ফলে আপনার পকেটে ঢুকছে প্রায় ৬০ লাখের কাছাকাছি। এছাড়াও আপনার গাড়ি, ড্রাইভারের, এবং অন্য অনেক হিসাব আপনি কোম্পানির খরচের মধ্যে ধরে নিয়েছেন।
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৬:৪৮371573
  • এইবারে একটু ভ্যালুয়েশনে যাইঃ

    যদি ধরি যে আপনি কয়েক বছর ব্যবসা করার পরে ঠিক করলেন যে বিক্কিরি করে দেবেন। আপনার ব্যবসা বেড়েছে, আরো বাড়ছে। সেই বছরে আপনার পকেটে ঢুকেছে ২ কোটি। আর ব্যবসা বছর বছর বাড়ছে ১০-১২% করে, তাহলে আপনি আপনার ব্যবসা বাবদ প্রায় ৪০ কোটি টাকা অবধি দাম পেতে পারেন।
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৬:৫৪371574
  • এইবারে এইসব পড়ে আপনাদের কি মনে হলোঃ
    ১) মজা পেলেন। হেঁ হেঁ কিসব লাখ কোটির হিসাব করছে?
    ২) "ঠগবাজির সহজ পাঠ"।
    ৩) এতো সোজা এসব করা?

    আমার উত্তরঃ
    ১) মারোয়ারি গুজ্জুরাও আমাদের দিকে তাকিয়ে ঠিক এরকমই মজা পায়। ভাবে এই জাতটা এতো সব বোঝে। গোদার্দের সিনেমা থেকে ফ্রয়েডের থিয়োরি। প্লেটোর হোয়াট ইজ জাস্টিসের উত্তর খোঁজার চেস্টা করে এক সন্ধেয় চা আর চপ মুড়ি খেতে খেতে। কথায় কথায় চমস্কি আওড়ায়। অথচ পয়সা করতে পারেনা।

    ২) যেসকল কোম্পানিগুলো "ঠগবাজির সহজ পাঠ" পড়েই বড় হলো সেইসব কোম্পানিতে কাজ করার জন্য আমাদের সেকি ব্যাকুলতা।

    ৩) কেউ বলেনি এ সহজ কাজ। কিন্তু আইনস্টাইনের থিয়োরি ক্র্যাক করার থেকে বোধয় সহজই কাজটা।
  • dc | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৮:২৩371575
  • ওপরের তিনটের একটাও মনে হলোনা, তবে একটু নাইভ মনে হলো ঃ)

    ব্যাবসা সাধারন্ত হঠাত করে কেউ শুরু করেনা, কিছুটা ব্যাকগ্রাউন্ড থাকে। আর ম্যানুফ্যাকচারিঙ্গ এর ব্যাবসা যারা করে তাদের তো মিনিমাম বছর পাঁচেকের এক্সপি আর নেটওয়ার্ক থাকতেই হয়। এবার ধরুন ব্যাংক লোন। স্মল আর মিডিয়াম স্কেলের ম্যানুফ্যাকচারিঙ্গ এর জন্য ব্যাংকগুলোর নানান স্কিম আছে, তার নানান রিকোয়ারমেন্টও আছে। এই লোনগুলো পাওয়ার জন্য ব্যবসায়ীরা এজেন্টদের ধরে, যারা ব্যাংকের অফিসারদের ঘুষ খাইয়ে লোন পেতে সাহায্য করে। তার মানে এই না যে ঘুষ দিলেই যাকে তাকে লোন দিয়ে দেবে। ব্যাংক যাচাই করে নেবে, কিন্তু তার সাথে অফিসাররা ঘুষও খাবে, এটা একটা কমপ্লিকেটেড প্রসেস।

    এরপর আছে সরকারের নানান রেগুলেশানস। আর তার জন্যও অবশ্যই যথাযথ ঘুষের ব্যাবস্থা আছে, যা কিনা ব্যাবসায়ীদের এক্সপি আর নেটওয়ার্কিং এর ফসল। একটা ম্যানুফ্যাকচারিঙ্গ ফেসিলিটি খোলার জন্য হাজার রকমের ঘুষ দিতে হয়, হাজারটা সরকারি দ্প্তরের নানান লেভেলের লোকের সাথে চেনা থাকতে হয়। সবার সাথেই যে মালিক এর সরাসরি চেনা থাকে তা নয়, কেউ কেউ মালিকের গদিতে সরাসরি যায়, কেউ কেউ মালিকের অধস্তন কর্মচারীদের সাথে যোগাযোগ রাখে। যেমন লেবার কমিশনারকে মালিক নিজে হ্যান্ডল করে, কিন্তু লেবার ইনস্পেক্টরকে তার বিশ্বস্ত কোন কর্মচারী।

    এরপর আছে সাপ্লায়ার আর রিটেল নেটওয়ার্ক। সাপ্লায়ারের সাথে দরাদরি, ষাট দিনের ক্রেডিট বলে সেটা অন্তত নব্বুই দিন টানা, আর রিটেলারদের সাথে দরাদরি, তাদের নব্বুই দিনের ক্রেডিটে মাল দিয়ে অন্তত ১২০ দিনের মধ্যে টাকা তোলার চেষ্টা।

    এরপর আছে কাঁচা বিল আর পাকা বিলের হিসেব, যা কিনা আলাদা এক শিল্প। এর জন্য মালিককে কোন ভালো, জানাশোনা চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টকে ধরতে হয়, যে কাঁচা হিসেব আর পাকা হিসেব আলাদাভাবে সামলাবে, ইনকাম ট্যাক্সামকে হাতে রাখবে আর ব্যাংক লোনও সামলাবে - অবশ্যই যথাযথ ঘুষের বিনিময়ে। বিক্কিরি বাড়লেই যে ভ্যালুয়েশান বাড়বে তার কোন মানে নেই, বিক্কিরি প্রচুর বাড়লেও লস দেখানো হতে পারে, অথচ তার পরেও ব্যাংক লোন ফেসিলিটি বাড়ানো যেতে পারে। এসব হিসেব করা মালিকের ঘনিষ্ঠ সিএর কাজ।

    ম্যানুফ্যাকচারিঙ্গ ব্যাবসা করার জন্য বিজনেস এক্সপি আর নেটওয়ার্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি, আর নানান লেভেলে কোথায় কাকে কখন ঘুষ দিতে হবে, কিভাবে নেগোশিয়েট করতে হবে, এটা জানা মাস্ট। বিজনেস মডেল ফডেল আপনা থেকেই আসে।
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৮:৩৮371576
  • নেটওয়ার্ক নিয়ে আমি লিখেই দিয়েছি। সাপ্লায়ার, কাস্টোমার, ব্যান্কে যত ভালো নেটওয়ার্ক ততই ভালো।

    একই ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে ব্যান্কের লোন পেতে সুবিধে হয় কারণ প্রোমোটারের প্রোফাইলের উপরে ব্যান্ক একটা স্কোর দেয়। ওদের ক্রেডিট মডেলে সেইটা পুরো পাওয়া যায়। তবে অনেকেই তার বাইরেও ব্যবসা শুরু করে।

    আর কাঁচা হিসাবের জন্য কোলকাতা কুখ্যাত। যত কোম্পানি দেখেছি সবথেকে বেশি কারচুপি কোলকাতার কোম্পানিগুলোতে। মালিকানা মারোয়ারির আর সিএ বাঙালী। ৫০ কোটির ব্যবসায় লাভ দেখানো হয় ৩ লাখ। মুম্বাইতে হলে সেটা ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি দেখায়। অনেকের ব্যব্সায় পুরোটাই সাদা আছে সেরকম লোকও (মারোয়ারি) দেখেছি। তবে সেটা আমার লেখার উদ্দেশ্য নয়।

    কোথায় কোথায় নাইভ লাগলো জানালে ভালো হয়।
  • dc | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৮:৪৬371577
  • লিখলাম তো কোথায় নাইভ লাগলোঃ "ম্যানুফ্যাকচারিঙ্গ ব্যাবসা করার জন্য বিজনেস এক্সপি আর নেটওয়ার্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি, আর নানান লেভেলে কোথায় কাকে কখন ঘুষ দিতে হবে, কিভাবে নেগোশিয়েট করতে হবে, এটা জানা মাস্ট"।

    ম্যানুফ্যাকচারিঙ্গ ব্যাবসা করতে হলে যেটা সবথেকে বেশী দরকার সেটা হলো নানান লেভেলে নানানরকম নিয়ম কিভাবে বাইপাস করতে হয়।

    পুরো সাদা ব্যাবসা, এরকম লোক আমি আজ অবধি দেখিনি, তবে তার মানে অবশ্যই না যে এরকম কেউ নেই। তবে পুরো সাদা ব্যাবসা সফলভাবে কিভাবে করা যায় জানিনা।
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৮:৪৮371578
  • আমি ফান্ডিঙ্গের ব্যাপার নিয়ে লিখেছি। শুরু হওয়ার পরে ব্যবসা কি করে চালাবে সেটা লেখার উদ্দেশ্য নয়। যেটুকু জানি সেটুকুই লিখি।
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৮:৫০371580
  • নেগোসিয়েশন নিয়ে একমত। তবে সেটা যেকোনও ব্যবসার অঙ্গ। ট্রেডিঙ্গ বিজনেসেও রয়েছে। যারা আইটিতে সেলসে কাজ করেছেন, তারাও নিস্চই দেখেছেন কি ভয়ানক নেগোসিয়েশন চলে ডীল ফাইনালাইজ করার আগে।
  • dc | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৮:৫০371579
  • ঠিক আছে, আপনি ফান্ডিং নিয়ে লিখলেন আর আমি চালানো। পুরোটা হয়ে গেল ঃ)
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৮:৫১371581
  • হ্যাঁ লিখুন। আমি ম্যানুফ্যাকচারিঙ্গ কোম্পানি চালানোর দৈনন্দিন ব্যাপারে জানিনা।
  • dc | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৯:০৮371582
  • "আর কাঁচা হিসাবের জন্য কোলকাতা কুখ্যাত"

    শুধু কলকাতা না, সারা ভারতের সমস্ত ছোটবড়ো শহরে সমস্ত ব্যাবসাই কাঁচা আর পাকা দুরকম হিসেবে চলে। জিএসটির পর ব্যাবসায়ীরা যে এতো খচে গেছে, আর তার পর যে বিজেপিকেও পিছু হটতে হয়েছে, সেটা কিন্তু এমনি এমনি না। জিএসটির রিকন্সিলিয়েশান ক্লজটা ঠিকমতো চালু করতে পারলে ভারতের পুরো বিজনেস সেক্টর বসে যাবে।
  • sm | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১০:৪১371584
  • S,এর লেখা খুব ভাল হচ্ছে। জার্গণ কম ও সহজ পাচ্য।
    দুটো প্রশ্ন পাচ্ছে।
    প্রথম,
    ডিসির লেখা পড়ে মনে হচ্ছে ব্যাংক অফিসার দের ঘুষ দিয়ে লোন পাওয়া, সহজ উপায়। কয়েকদিন আগে একটা টই তে আলোচনায়, শিবাংশু বলছিলেন ব্যাংক কর্মীরা রাজনৈতিক চাপে হাজার হাজার কোটি টাকার লোন স্যানকশন করে। আদতে তারা খুব ই সৎ। কিভাবে মেলাবো?
    দুই, S, এর কথামত শিল্পপতিরা ও তাঁদের সিএ রা মিলে প্রচুর গুপি করে, ব্যাংক থেকে নিত্য নতুন লোন আদায় করে থাকে। নতুন লোন নিয়ে পুরনো লোন শোধ করে ও লাভের কড়ি পকেটে ঢোকায়।
    কিন্তু বিদেশে, মানে আম্রিকা ও ইউরোপ এই রূপ জোচ্চুরি তারা করতে পারে?
    তাদের ই বা এত বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি চলে কিভাবে?
    ধরুন মিত্তাল। সেও তো একজন ভারতীয়। কিভাবে তার বিজনেস মডেল সাজাচ্ছে?
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১১:১২371585
  • ব্যান্কাররা ঘুষ নেয়। আমারও ডিসির মতনই মনে হয়েছে। সব্বাই নেয় কিনা জানিনা। কিন্তু চলন আছে। এছাড়া লোকাল রাজনৈতীক নেতার চাপও থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই চাপে পড়ে ঘুষ খেলাম টাইপের কেস। মুম্বাইএর আশে পাশে অগুনতি ছোটো মাঝারি ব্যবসায়ী আছে যেগুলো ওখানকার কয়েকজন নেতাদের টাকা খাটানোর জায়্গা। সেখানে নিস্চই চাপ থাকবেই। আর বড় বড় লোন (আম্বানী আদানী মাল্য) গুলো অনেক উপরে ডিসাইড হয়েই আসে। সেগুলো মনে হয়্না কোনও বিশেষ ব্রান্চ থেকে দেওয়া হয়, অত টাকা তো কোনও ব্রান্চে থাকেনা। ওগুলো বোধয় ইন্স্টিটিউশন লেভেলে দেওয়া হয়, বা এসবিআই ক্যাপ্স দেয়।

    যেটুকু জানি সেইটুকুই লিখছি। পুরোনো লোন নিয়ে নতুন লোন শোধ তো আম্রিগার সরকার (সব সরকারই) নিজেই করে। ওতে কোনও বেআইনি নেই। কিন্তু আয় লুকিয়ে ট্যাক্স কম দেওয়ার চলটা সাধারণত প্রাইভেট কোম্পানি গুলোর মধ্যেই আছে। বড় বড় পাবলিক কোম্পানি গুলো (মানে মোটামুটি যাদের শেয়ার পাবলিকের মধ্যে বিক্কিরি হয়, এর আরো অনেক বড় ডেফিনিশন আছে) সাধারণতঃ শেয়ার প্রাইস বাড়ানোর জন্য লাভ বাড়িয়ে দেখায়। আম্বানীরা দুটই করতো। ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের জন্য ডেপ্রিশিয়েশন বাড়িয়ে লাভ কম দেখিয়ে ট্যাক্স কম দিতো। যা রোধ করার জন্য আজকের ম্যাটের জন্ম। আর শেয়ারহোল্ডারদের জন্য অনেক বেশি প্রফিট দেখাতো।

    আম্রিগায় এখনো মাল্টিপল বুক্স (মানে ফাইনান্সিয়াল স্টেটমেন্টস) রাখা যায়। ভাবুন! আর এখানেও অনেক ফ্রড হয়। হয়তো এতো র‌্যাম্পান্ট নয়। বা করলেও কেউ বুক বাজিয়ে বলে বেড়ায় না। আর লোন নিয়ে শোধ না দেওয়ার জন্য তো একজন বিখ্যাত আছেনই। অন্তত আমাদের দেশে মাল্যসাহেব দেশের প্রধান মন্ত্রী হবেন না।

    ইয়োরোপ নিয়ে কোনও আইডিয়াই নেই।
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১১:১৫371586
  • এখানেও বলে রাখি কেন ব্যান্কার আপনাকে লোনটা দেবে? কারণ লোনটি দেওয়ার আগে আপনার কাছ থেকে কিছু কোল্যাটেরাল নিয়ে রাখবে (পড়ুন প্রপার্টি)। সেগুলোর দাম সাধারনতঃ বাড়ে। অতেব আপনি ডিফল্ট করলে আপনিই ঝামেলায় পড়বেন। ব্যান্কের লোক পান চিবোতে চিবোতে এসে কোল্যাটেরাল বেচে (সারফেসি আইনে) তাদের প্রাপ্যটা (সুদ, সুদের সুদ, ফাইন, গুচ্ছের চার্জ) নিয়ে চলে যাবে।
  • sm | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১১:৩২371587
  • এখানেই তো বড় প্রশ্ন। ধরুন ভূষণ স্টিল, মালিয়া, সুজলন এদের কি কোল্যাটারালস ছিল যে, তাদের কাউকে দশ কাউকে পঞ্চাশ হাজার কোটি অবধি লোন দেওয়া
    হয়েছে?
    আর যতক্ষণ একটি কোম্পানির পারফরমেন্স ভালো, ততক্ষণ নতুন প্রজেক্টের লোন দেওয়ার কথা ভাবাই যায়। কিন্তু যখন তা নয়, তখন কি করে এসব লোন স্যানকশন করা হয়?
    আপনি টাটা কোম্পানির জাগুয়ার কারখানার জন্য লোনের কথা ভাবতে পারেন কিন্তু কোরাস এর জন্য?
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১১:৪৮371588
  • দেখুন এইসব বড় কোম্পানিদের থেকে চুনোপুটিদের কেস আলাদা।

    এইসব ছোটো কোম্পানিগুলো সাধারণত প্রোপ্রাইটারশিপ, মানে কোম্পানি লস করে লোন ফেরত না দিতে পারলে কোম্পানির মালিককে নিজের পকেট থেকে দিতে হবে। চুনোপুটি হলে লোকাল ব্রান্চ ম্যানেজার ঘুষ খেলেও গুছিয়ে কোল্যাটেরাল ইত্যাদি নিয়ে রাখবে। আর প্রচুর রোয়াব নেবে। কারণ আগামী লোন স্যান্কশনটাও তার মর্জির উপরে নির্ভর করবে।

    বড় কোম্পানিতে সেসব নেই। প্রথমত এগুলো লিমিটেড লায়াবিলিটি। ফলে মালিকের পকেটে ব্যান্ক হাত দিতে পারবেনা। যা নেওয়ার কোম্পানির লাভ (বর্তমান এবং আগের) থেকেই নিতে হবে। তাছাড়া অনেক অনেক উপরে কানেকশন তৈরী করে রাখে। আম্বানী-টাটাদের লোন দিয়ে ব্যান্কগুলো বর্তে যায়। এরকম একটা হাব্ভাব দেখায়। শুনেছি ইন্টারেস্ট রেট অবিশ্বাস্য রকমের কম থাকে। কোল্যাটারাল কতটা নিয়ে রাখে সেই নিয়ে সন্দেহ আছে। বিজয় মালিয়া সাহেব পার্সোনাল গ্যারান্টি দিয়েছিলেন বলেই "বোধয়" তাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। এইটুকুই জানি। অন্য কারনও থাকতে পারে। আর কোরাসকে যখন লোন দেওয়া হচ্ছে তখন এটা ভেবে নিয়েই দেওয়া হচ্ছে যে এটা একটা প্রফিট মেকিঙ্গ ভেন্চার হবে, বেনিফিট অব ডাউট দিচ্ছি।

    তবে অদ্ভুত ভাবে ভারতের প্রাইভেট ব্যান্কগুলো এইসব লোন থেকে অনেক অনেক দুরে থাকে। এখানেই সন্দেহ হয়।
  • S | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১১:৪৯371589
  • বিদেশে এসব ঝামেলা কম। কারণ সবাই বেসরকারি।
  • S | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৫:০৫371590
  • ফিরে যাই আসল টপিকে। নিচে যা লিখছি সেটা একেবারেই আমার ব্যক্তিগত ওবজার্ভেশনের উপরে ভিত্তি করে তৈরে হওয়া ভিউ। অন্যরকমও হতেই পারে।

    দুটো অ্যাজাম্পশানস আছে আমার উপরের লেখায়। এক, আপনার ব্যব্সা ক্রমাগত বাড়ছে। দুই, প্রপার্টি প্রাইসও বাড়ছে যে কারণে আপনার ব্যান্কার সহজেই আপনাকে লোন দিয়ে দিচ্ছে।

    আমার ধারণা ১৯৯১ এর বাজার খোলার আগে ভারতের ব্যবসায়ীদের বেশ খারাপ অবস্থা ছিলো। কারণ লাইসেন্স রাজ আর এতো রেস্ট্রিকশনের ফলে ব্যবসা করা মুশকিল ছিলো। টাটা-বিড়লাদের ব্যবসার অবস্থা ভালো ছিলো কারণ ঐ লাইসেন্স রাজ তৈরীই করা হয়েছিলো ওদের স্বার্থে (টাটা বিড়লা ইকনমিক প্ল্যান)।

    ১৯৯১ এর পরে বাজার যত খুলতে লাগলো দুটো ঘটনা ঘ্টলো।

    এক, ছোটো আর মাঝারি ব্যবসায়ীদের অনেক বেশি সুযোগ আর সুবিধে হলো। নিয়ম কানুন হালকা হলো। বাজার বড় হলো। এসব নতুন কিছু কথা না। এক্সপোর্ট করার সুযোগ এলো (টাকার ডিভ্যালুয়েশন)। বাজার খুললেও তখনই বিদেশি কোম্পানিরা ভীড় জমায়নি ভারতে ব্যবসা করতে। ইন ফ্যাক্ট এখনো তেমন খুব বেশি প্রেজেন্স নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিয়মের কারণে বা রিস্ক অ্যাভয়েড করতে জেভি বা ইকুইটি পার্টনার (অনেক ক্ষেত্রেই সাইলেন্ট পার্টনার) হয়ে থেকেছে। এর বাইরেও প্রচুর ইনভেস্টমেন্ট হয়েছে এফ আই আই (স্টক মার্কেট) রুটে। ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ক্যানেবলাইজ্ড হয়ে যায়নি। ব্যতিক্রম আছে, কোকা কোলা এসে সবাইকে কিনে নিলো (মার্কেট শেয়ার বাদ দিলেও এরও ফাইনান্সিয়াল রিজনস আছে, সেকথা আর বলছি না)। যাইহোক, মোট কথায় জিডিপি বড় হতে লাগলো। গ্রোথ রেট ৮০র দশকেও খুব খারাপ ছিলোনা। কিন্তু বেস খুব কম ছিলো। ফলে ১৯৯১ থেকে বিগত প্রায় ২৫ বছরে জিডিপি ২৬৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ২২৬০ বিলিয়ন ডলার। মোদ্দা কথায় এই বাজার খোলার ফলে ব্যবসায়ীরা খুব উপকৃত হলেন।

    দুই, বিদেশি ফান্ড আসার ফলে (ইকুইটি হিসাবে এবং ধার হিসাবেও), ইন্টারেস্ট রেট কমতে থাকলো। কারণ এইসব ফান্ডের মালিকরা যেহেতু তাদের নিজেদের দেশে অনেক কম সুদে/দামে টাকাটা ওঠায়, তারা ভারতে অনেক কম দামে সেই টাকা ইনভেস্ট/ধার দিতে পারে। এছাড়াও, ভারত সরকারও আর বি আইয়ের মাধ্যমে ইন্টারেস্ট রেট কম রাখলো। এতেও ব্যব্সায়ীদের সুবিধা হলো। আগে আপনি লোন নিলে যদি ২০% সুদ দিতে হতো আর এখন ১০%, নিস্চিত ভাবেই এখন ব্যবসা করা সুবিধে এবং অনেক নিস্চিন্তের। এই সুদের হারের কম থাকার ফলে শেয়ার মার্কেট বাড়লো, প্রপার্টি প্রাইসও বাড়লো। এই সব কিছুর ফলে লোন নেওয়া সুবিধা হলো এবং লোন নেওয়ার পরিমাণও বাড়লো।
  • S | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৫:২৩371591
  • এক নম্বরের উদাহরণ হিসাবে বলি মহান কোম্পানি ইনফোসিসের কথা। ১৯৯৭-৯৮ সালে রেভিনিউ ছিলো ২৬০ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ তে ৬৮,৪৮৪ কোটি টাকা। রেভিনিউ এই ২০ বছরে বেড়েছে ২৬০ গুন। ডলার ফিগারে বেড়েছে ১৪৫ গুন। গ্রোথের নমুনা দেখুন।

    দুই নাম্বার পয়েন্টটা নিয়ে দশ পাতা লেখা যায়। তাই আর কিছু লিখছি না। মোট কথায় এই ইন্টারেস্ট কমার ফলে শেয়ার মার্কেট বেড়েছে, প্রপার্টি প্রাইস বেড়েছে, ব্যব্সার জন্য লোন নেওয়া সুবিধা হয়েছে, ব্যব্সার লোনের ইন্টারেস্টও কমেছে।

    ফলে ভারতের ব্যবসায়িক সমাজ আর প্রপার্টি ঔনাররা খুব লাভবান হয়েছে। বাঙালীরা যেহেতু ব্যবসায়িক সমাজ নয় সেইজন্য তেমন প্রসপারিটি পায়নি। হয়তো টিসিএসের চাকরিটা পেয়েছে। কিন্তু ঐটুকুই। এখন প্রপার্টি প্রাইস বাড়ায় অনেকে লাভবান হচ্ছেন বটে। মুম্বাই-কর্ণাটক-গুজরাতে যে প্রসপারিটি দেখেন সেটা হওয়ারই ছিলো। বাজার খোলার ফলে যদি ক্ষতি হতো তাহলে এই জায়্গা গুলৈ সবথেকে বেশি সাফার করতো। মুম্বাইয়ের কেসটা একটু আলাদা (বলিউড, ওপারে আরব, পস্চীমের পোর্ট, শেয়ার মার্কেট ইত্যাদি সুবিধা চিরকালই ছিলো)।
  • S | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৫:৩৩371592
  • এখন যে অসুবিধের মধ্যে ব্যবসায়িদের পড়তে দেখছেন তার কতগুলো কারণ আছে বলে আমার মনে হয়েছে।

    এক, ইকনমি আর বাড়ছে না। সরকার যে নাম্বার দেয়, তার থেকে ২ পার্সেন্ট পয়েন্ট কমিয়ে আসল সংখ্যাটা পাওয়া যাবে। যেটুকু বাড়ছে তার মধ্যে আমার ধারণা সরকারি বিনিয়োগ অনেকটা দায়ী। ফলে প্রাইভেট সেক্টরে গ্রোথ কম।

    দুই, প্রপার্টি প্রাইস আর বাড়ছে না। না বাড়ারই কথা। অনেক বেড়েছে। এনারাইরা আর কত কিনবে?

    তিন, ইন্টারেস্ট রেট এই মুহুর্তে যথেষ্ট কম। ২০১৪ থেকে ৭ বার কমানো হয়েছে। ৮% থেকে এখন ৬%। আর কত কমাবে? ইনফ্লেশন (তেলের দাম) কম আছে বলে তেমন কিছু বোঝা যাচ্ছে না। অতেব এর পরে ইন্টারেস্ট রেট শুধু বাড়তেই পারে, কমবে না মনে হয় (প্রোবাবিলিটি কম, গিভেন ওয়েল প্রাইস বাড়ার প্রোবাবিলিটি যথেস্ট)।
  • bip | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৯:২৩371593
  • চমৎকার ব্লগ।
    (১) আমি দুবছর আগে একটা ব্লগ লিখেছিলাম, কি ভাবে বাঙালী শিক্ষিত মধ্যবিত্তের ব্যবসা শুরু করা উচিত-এটা ধরে নিয়েই যে বাঙালির ক্যাপিটাল নেই
    https://biplabbangla.blogspot.com/2015/10/blog-post_17.html

    বাঙালী ব্যবসায় যারা উৎসাহী তাদের জন্য একটা ফেসবুক গ্রুপ আছে,
    https://www.facebook.com/groups/123863081609385/

    (২) ধার করে ব্যবসা শুরু করার কোন দরকার নেই। সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি হলে ধার নেওয়ার দরকারই ঞেই। বুদ্ধিই সব। ম্যানুফ্যাকচারিং হলেও না। ম্যানুফ্যাকচারিং হলে আগে ডিস্ট্রিবিউটঢ় হিসাবে শুরু করে মার্কেট ধরুন। তারপরে বুঝ সুঝে সেই মার্কেটের জন্য প্রোডাক্ট ছারুন। এটাই সব থেকে সফল মডেল।

    (৩) ভারতে ম্যানুফ্যাকচারিং মার্কেট ভালই। এখানে ধারে কাউকে মাল দেওয়া যাবে না। আমরা ১০০% নিয়েই প্রোডাক্ট দিই। এডভান্স পিওসি এসব ভারতে চলে না। ঠিকে শিখেছি। অনেক ঠকার পরে, এখন ভারতে বেচতে ভালোই লাগছে। এখানে রুল অব দ্যা গেম আমেরিকার মতন না। সব চ্যানেলে চলে, চ্যানেলে ফেলতে হবে।

    (৪) ভারতের প্রপার্টী প্রাইস ৪ গুন ইনফ্ল্যাটেড। পপার্টি ভ্যালুর ইন্টারেস্ট রেটের ২৫% হচ্ছে রেন্টাল ভ্যালু। সুতরাং আগামী ১০ বছরে ভারতে পপার্টি প্রাইস বাড়ার চান্স নেই। কোলকাতার পপার্টি ভ্যালু ২০১৪ থেকে ৪০% ডাউন এভারেজে। সুতরাং ব্যঙ্কলোনে পপার্টি কিনে তাতে লাভ, সেগুড়ে বালি। সেটা নেই।

    (৫) বাঙালীর ব্যবসা বিমুখতার কারন পারিবারিক ব্যবসা নেই বলে। ব্যবসা ছোট বেলা থেকে শেখার জিনিস। আমার বাবা মা দুজনেই শিক্ষক। ফলে আমাকে বহু লস, বহু কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে গিয়ে শিখতে হয়েছে পরবর্তী জীবনে। কিন্ত একবার শিখলে, পেটে বিদ্যে থাকলে ব্যবসায়ী জীবন পিস।

    (৬) ভারতে ব্যবসার জন্য লোন নিলে ইন্টারেস্ট রেট ১১-১২%, ৬% না। ওটা হচ্ছে ব্যাঙ্ক যা দিচ্ছে, যা নিচ্ছে না। নিচ্ছে ১১-১২%। খোদ আমেরিকাতেই ৬% রেটে ব্যবসার লোন পাওয়া যায় না সহযে। আমেরিকাতে ৭-৯% স্টান্ডার্ড, ভারতে ১১-১২%। কিন্ত ওসবের মধ্যে যাওয়ার একদম দরকার নেই। আস্তে আস্তে নিজের বুদ্ধি দিয়েই করুন। তাতে সময় লাগবে, কিন্ত হবে। কারন তারাহুরো করতে গেলে অন্য বিপদ আছে। আজকে আমার ইউনিট থেকে মাসে কয়েক হাজার পিসিবি/ সেন্সর তৈরীর ক্ষমতা রাখি। ব্যাঙ্ক লোন নিয়ে করলে, হয়ত এদ্দিন লাগত না। কিন্ত মার্কেট অত তাড়াতারি তৈরী হয় না। মার্কেট পেতে অনেক সময় লাগে। এখন আমি লোন নিয়ে অনেক কিছু করতে পারি যেহেতু মার্কেট আস্তে আস্তে তৈরী হয়েছে। সেই জন্যে মার্কেট তৈরী না হওয়া পর্যন্ত একদম লোন নেওয়া উচিত না। মার্কেট তৈরী হতে ২-৪ বছর লেগে যেতে পারে।
  • S | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৯:৫৭371595
  • ভারতে বেশিরভাগ ছোট ম্যানুফ্যাকচারিঙ্গ ইউনিটের ডেট-ইকুইটি রেশিও ২ এর উপরে। ফাইনান্সিয়াল স্টেটমেন্টস না দেখে কথা বললে ওরকম মনে হয়।

    প্রাপার্টি প্রাইসের ৩% রেন্টাল হয়। বাকি রিটার্ণ আসবে কোথা থেকে? ক্যাপিটাল গেইন থেকে। মানে দাম বেড়ে। এইটাই হিসাব। ধরুন আপনি ১ কোটি দিয়ে একটা প্রপার্টি প্রাইস কিনছেন। এটা তো একটা ইনভেস্টমেন্ট। আপনি ধরছেন যে আপনি বছরে ১২% রিটার্ণ পাবেন। তার মধ্যে তো ৩% আসছে রেন্টাল থেকে। বাকি ৯% আসবে কোথা থেকে? আপনি এক্স্পেক্ট করছেন বছরে ৯-১০% দাম বাড়বে। সেই এক্সপেক্টেশন এখন কম বলেই লোকে ইনভেস্ট করছে না। ইনভেন্টরি পড়ে আছে, প্রাইসের উপরে প্রেশার রয়েছে।

    কেউ লেখেনি যে ভারতে বিজনেস লোনের ইন্টারেস্ট ৬%। আরেকটু ভালো করে পড়ে মন্তব্য করুন। ওটা বেন্চমার্ক ইন্টারেস্ট রেট। ধরুন, যে রেটে আরবিআই অন্য বড় ব্যান্ককে লোন দেয়। ওটা কমলে সব ইন্টারেস্ট রেট কমে, বাড়লে সব ইন্টারেস্ট রেট বাড়ে।

    আর লোন নেওয়ার অনেক সুবিধা আছে। লোনের ইন্টারেস্ট ট্যাক্স ডিডাক্টেবল। আর সব বিজনেস লোন পায়্না। বিশেষ করে টেকনলজি বিজনেস।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন