এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  গুরুচন্ডা৯

  • হরিদাসের বুলবুলভাজা

    Guruchandali
    গুরুচন্ডা৯ | ২৮ এপ্রিল ২০০৬ | ১২৫৫১৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Samik | ২৮ এপ্রিল ২০০৬ ১৮:১১560960
  • কি খতরনাক! আমি খোদ দিল্লিতে বসে প্রকাশ্যে ভাটিয়া৯তে কতজনকে কত হাজার হাজার ফেলে চুমু দিলাম, এ বার তো আমায় ফাইন মেটাতে পার্সোনাল লোন নিতে হবে!
  • chummaa chummaa de de | ২৯ এপ্রিল ২০০৬ ০৯:৫৫561798
  • আচ্ছা ফোন/চ্যাট সেক্সে চুম্মা দিলে ভার্চুয়াল ফাইন হবে কি? :-)
  • kali | ২৯ এপ্রিল ২০০৬ ২৩:২১561909
  • বিক্রম,
    লেখাটা খুব ভালো লাগলো।কালই পড়েচিহ,কিন্তু সময়াভবে বলা হয়নি। কিন্তু রিডিফানুবাদ পড়ার পর যে ভয়ানক গা জ্বললো তা এখনও ধোঁয়াচ্ছে।
  • ar | ০৪ মে ২০০৬ ১৮:৪৫562020
  • আমাদের পাড়ার মোড়ে যে হরিদাস রোজ চানাচুর বেচতো তার পদবী পাল ছিলো কিনা জানিনা। আর আমাদের গলির পালেদের বাড়ির ছোটছেলে হরিদাসকে কখনো বুলবুলভাজা বেচতে দেখিনি। কিন্তু বিশ্বাস বাড়ির বুলবুলির সাথে যে তার প্রেম তথা বিয়ে হয়েছিলো, সে ব্যাপারে অমি নির্ভয়ে সাক্ষী দিতে পারি। বুলবুলির জীবনটা সুখের হয়েছিলো, অন্তত: ভাজাভাজা হয়েছিলো বলেও কখনও শুনিনি।

    কিন্তু আমার কথা হরিদাসকে নিয়ে।

    যে কথা বলছিলাম। পালদের মতন অভিজাত বাড়ির ছেলে হরিদাসের বুলবুলভাজা বেচার গল্প। বিশ্বাস হয় না, কিন্তু করতেই হয়। শুনে মনে হয়েছিলো যে তা হতেই পারেনা, নিদেনপক্ষে ঝাড়তে পারে। আমি যেমন বাংলা আর ইংরাজী কাগজ ঝেড়ে শুকতারা/আনন্দমেলা কিনতাম। সেই রকম একটা কিছু হবে। (বাজারি কাগজ আর রাজ্যের মানুষের অনেক উপকারিতার মধ্যে এও একটা।) হরিদাস কে সেই ছেলেবেলা থেকে চিনতাম।। সে হরিদাসের সাথে বুলবুলির সম্পর্ক থাকলেও বুলবুলভাজার কোন সম্পর্ক ছিলো না। মাইরী বলছি, তখন বুঝতে পারিনি ও বড় হয়ে এতো ভালো বুলবুলভাজাওয়ালা হয়ে উঠবে। এ হরিদাস নেহাতই রাস্তায় যেতে আসতে চোখে পড়া অন্য চারটি হরিদাসদের মতনই ছিলো। মানে যাদের সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে," কী এমন হরিদাস এলেন।" সেই রকম একটা কিছু। বন্ধুরা বলত, "এল হরিদাস", আর পাড়ার হিন্দুস্থানী ছোক্‌রাগুলো বলতো, "ইয়ে লো হরিদাস (আ গ্যায়া!)"!

    রঙ্গে ভরা এ বঙ্গের ভাগ্যাকাশে তখনো উন্নয়ন নামক পূর্ণিমার চাঁদ দেখা দেয়নি। বেশ ঘোর অমাবস্যাই ছিলো। ইশ্‌কুলে ইশ্‌কুলে, বিশেষ করে সেন্ট্‌ হাবিজাবীগুলিতে (পবিত্র কাঁচির শপথ!!!) তখনও "Nike'-প্রথা" চালু হয় নি। ভর্‌চাজ্জি বাড়ির ছেলেটা বেশ সংস্কৃতি আর রাতুল-নাটিকা নিয়ে থাকতেন। বাংলার নয়নের মণি হয়ে ওঠেননি। ও পাড়ার মেজ কাকাবাবু আর এই পাড়ার শঙ্করদার মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিলো। এক গেলাশের ইয়ার হয়ে ওঠা আরো পরের কথা। আমাদের সাঁতরাগাছির গণাদা সন্ধে ছটার আগেই বাড়ি ফিরে আসতেন। দুর্জনেরা কইত, "মালের দোকান বন্দ হয়ে যাবে তো, তাই"। ডানলপের পটোয়ান সিং বন্ধুদের কাছে পটোয়াই ছিলো, প্যাট হয়ে ওঠেনি। নারকেলডাঙ্গার মিষ্টু মুখার্জ্জীকে বাড়ির লোকেরা মিষ্টি ডাকতো, মিশ্‌ মাইকেলের তখনও জন্ম হয়ানি। এই পরিবেশের মধ্যে বড় হয়ে ওঠা হরির পুরো নাম যে হরিদাস পাল হবে, সে তো জানা কথা।

    দিন পালটালো, আকাশে উন্নয়নের ঈদের চাঁদ দেখা দিল। হাতুড়ি ভেঙে গেছে, কাস্তেটা বহুকাল হল মাচায় তোলা; চাপের বাজারে কদাচিৎ ডাব কাটতে দরকার হয়। শুধু তারাটা কিভাবে যেন রয়ে গেছে আর দিনকেদিন রঙ বদলাচ্ছে। আমরা সবাই হাঁ করে পুন্নিমার কথা ভেবে চলেছি!। বাবুদা নাটক ছেড়ে বাইক ধরলেন। পটোয়া আর মিষ্টি যথাক্রমে প্যাট আর মিশ্‌ হল। গণাদার এখন বাড়ি ফেরার কোন তাড়া নেই। মেজ্‌কা আর শংকরদার ভারি দোস্তি। দা কুমড়ো থেকে এক্কেরে গলায় গলায়। এমত অবস্থায় হরি ও আর হরি নেই। প্রথমে testing phase কিছুদিন elo harry নামটা মেপে দেখেছিলো। আরেকটু ঝিন্‌চ্যাক্‌ কিছু করার বাসনায় সে অধুনা নাম নিয়েছে ইয়োলো হ্যারি। তার পোচচুর চেলাপোনা। হরি বল্লে খচে খ হয়ে যায়। চেলারা একটু বেশীই হয়। তাই নিয়ম। ওর চ্যালারা তো আমাকে একদিন চম্‌কেই দিয়েছিলো। ভুল করে হরি বলে ডাকাতে কয় যে, "এই লাশ ওয়ান্নিং, এরপর ইয়োলো হ্যারি না বললে পুরো তেরো শিকে পুরে দেবে"। সেই থেকে আমিও সমঝে চলি। মিছে শত্রু বাড়িয়ে লাভ নেই।

    এই চুমু-পর্বের কেসটা প্রথম থেকেই আমার বেশ জটিল লেগেছে। আইন আমি একদম বুঝি না, বিশেষ করে সেটা যতক্ষন না বে-আইন হচ্ছে, ততক্ষন একদমই নয়। এতে আমার কোন দোষ নেই, যত দোষ সুকুমার বাবুর! তো, ৫০০ টাকা জরিমানার ব্যাপারটা আরোই মাথায় ঢোকেনি। কিন্তু মনে হয়েছিলো,এর কিছু ব্যাপার কিলিয়ার করা দরকার। অনেকগুলো কোশনো ছিলো। প্রথমত:, দারোগা এসে কার কাছ থেকে টাকা নেবে? ছেলেটার না মেয়েটার? ছেলেটার কছে থেকে নিলে পুরো ব্যাপারটার মধ্যে একটা ভালো দিক দেখা যাচ্ছে; পোড়া রাজধানীতে মেয়েরা এখনো নিখরচায় চুমু খেতে পারে। আর যদি মেয়েটার কছে থেকে নেয়, তাহলে এই পিতৃ/পুরুষ-তন্ত্রের অন্ত্রে বেশ বড়সড় ক্ষত দেখতে পাচ্ছি। মেয়ে পাবলিক প্লেসে এসে ছেলেকে চুমু খেয়ে পুলিশকে ৫০০ টাকা দিয়ে চলে গেল! না:, আর ভাবা যাচ্ছে না। নাকি দুজনের কাছ থেকে? তাহলে তো চুমু প্রতি হাজার টাকা ফাইন হয়ে গেলে! ৫০০ টাকায় কোন নিউমারিকাল লিমিটেশন আছে কিনা সেটাও কিলিয়ার নয়।

    এই সব প্রশ্ন নিয়ে গিয়েছিলাম হরিদাসের কছে। থুড়ি, থুড়ি-থুক্কুড়ি! ইয়েলো হ্যারীর কাছে। হরি আইনের মধ্যে গেলই না। বেশ তুরীয়ভাব এনে বল্লে যে, পাবলিক প্লেসে চুমু হলো, জাতীয়তা-বিরোধী কাজ, মানে অ্যান্টি-ন্যাশ্যানাল আর কী!! তাই ফাইন! অনেকটা ছাতার মতন,পার্কে বসে বিনা বৃষ্টিতে মাথায় দিয়েছো কি মরেছো। অ্যান্টি-ন্যাশানাল বলে লাল পেয়াদা ধরে নিয়ে যাবে। হরির কথা অনুযায়ী, পব্লিক প্লেসে চুমু খাওয়া, পার্কে ছাতা মাথায় দেওয়া সবই জাতীয়-স্বার্থ হানিকারক। অনেকটা নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের মতন। কিংবা সত্যেন দুঁবের ক্ষ্যাপামীর মতন। পাবলিক প্লেসে পাবলিক চুমু খেতে পারে না, সে চুমু খাবে নন-পাবলিক প্লেসে। নাহলে ছেলেপুলেরা বিপথ যাবে। তাতে করে জাতীয় চরিত্রের ধ্বজভঙ্গ হতে বাধ্য। এক উন্নত রাষ্ট্র আর জাতি তৈরী হবে না। পাবলিক প্লেসে চুমু খেয়ো না, পার্কে মাথায় ছাতা মেল না। তাহলেই, জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন পাকাপাকি ভাবে পাওয়া যাবে। তার আগে নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসনটা পেতে হবে। এই দুটো আসন আমাদের চাই-ই চাই!

    আমিও মানে মানে কেটে পড়লাম। যা দিনকাল পড়েছে, প্রতিবাদ করতে গেলে যদি গায়ে ছাপ লাগিয়ে দেয়! তখন বাঁধ ভেঙে দাও ভুলে গিয়ে, সকাল সন্ধে গঙ্গার ধারে দাঁড়িয়ে বাঁধ তুলে দাও, বাঁধ তুলে দাও গাইতে হবে!
  • tan | ০৪ মে ২০০৬ ২১:০৮562131
  • যেখানে সেখানে চন্দ্রবিন্দু দ্যান ক্যানো আর,মানে ar?
  • ar | ০৬ মে ২০০৬ ২৩:৫০562242
  • বিলেতে বোশেখ নিয়ে কিছু কথা।

    খবরে প্রকাশ, সময় খারাপ যাচ্ছে বলে টোনি ব্লেয়ার স্বামীনারায়ণের কাছে মানত করেছেন। কিছুদিন আগে একদিন সময় করে মন্দিরে গিয়ে বাবার মাথায় দুধজলও ধেলে এসেছেন। আর চিন্তা নেই কো!

    http://www.swaminarayan.org/news/uk/2006/04/pm_visit/photo.htm
  • Ishan | ০৭ মে ২০০৬ ০১:০০562353
  • ar,

    এইটা নিয়ে একটু জমিয়ে লিখে ফেলুন না। বুলবুলভাজায় তুলে দেওয়া যাক।
  • Arjit | ০৮ মে ২০০৬ ১৪:৩৯562464
  • ব্লেয়ারের কবজিতে একটা লাল সুতো আছে - ছবিতে পষ্ট দেখা যায় - ওই অনেকটা কালিঘাটের সুতোর মতন। মেট্রোতে লেখেছে "হিন্দু ট্র্যাডিশন" বলে। শেরী ব্লেয়ার নাকি মানত-টানতও করেছে - মানে ওই জাতীয় কিছু আরকি:-)
  • ar | ১১ মে ২০০৬ ০৯:২৬562575
  • Ishan,
    জবাব দিতে দেরী হয়ে গেল।
    বিলেত আর বিলিতি ব্যাপার সম্মন্ধে আমার বিশেষ ধারণা নেই। লিখতে চেষ্টা করব।

    এই সুযোগে গুরু-র জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাখি।
  • Paramita | ১৯ মে ২০০৬ ১৩:১৩560961
  • ইন্দ্রাণী, কি সাংঘাতিক! ও বই না পড়লে কি হবে? নম্বর কম দেবে ইশকুলে? বয়ে গেল কেউ বলছে না?
  • indrani | ১৯ মে ২০০৬ ১৩:৫৭561072
  • না পড়লে কিছুই হবে না।
    নম্বর টম্বরের বালাই তো নেই-ই।

    এসব বই কি করে বাচ্চাদের জন্যে লেখা হয় আর কি করেই বা তা রিডিং চ্যালেঞ্জের বইগুলোর তালিকায় আসে সেটাই আশ্চর্যের!
  • vikram | ০১ জুন ২০০৬ ১৪:২৬561183
  • হেবি মস্তি পেয়েছি এবারের বুলবুলভাজা পড়ে।

    বিক্রম
  • R | ০৪ জুন ২০০৬ ২০:২৬561294
  • আমোদ বোষ্টুমীর ল্যাখা পড়ে হেব্বি ফুত্তি পেলুম
  • Samik | ২৬ জুন ২০০৬ ১১:৪২561405
  • অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছিল বলে অনেকদিন হল, উত্তর দেওয়া হয় নি। দময়ন্তী আমাকে খুব বকে দিয়েছিল পুলিশকে বেশ্যাসন্তান বলে উল্লেখ করেছিলাম বলে। আজ সেটা মাথা পেতে নিয়ে দু পয়সা দিই।

    খুব ঘৃণা কীভাবে প্রকাশ করব? পুলিশকে দুষ্টু, শয়তান ইত্যাদি বলে? পুলিশকে শুওরের বাচ্চা বললেও তো সেই একই ইস্যু এসে যায়! শুওর বা শুওরের ছানা খুবই নিরীহ প্রাণী, মানুষের কোনও ক্ষতি করে না। তা হলে কাউকে গালাগালি দিতে শুওরের বাচ্চাই বা কেন বলব?

    বেশ্যাসন্তান বা তার র ভার্সনটা খুব বাজে গালাগালি হিসেবেই মার্কেটে প্রচলিত। সেই হিসেবেই গালাগালিটা দেওয়া, বেশ্যা বা তার সন্তানদের সামাজিক অবস্থানের কথা মাথায় রেখে নয়।
  • vikram | ২৬ জুন ২০০৬ ১৪:৫৩561516
  • শমীক,
    খানকির ছেলে বলে দেখতে পারো। প্যাথোসটা জমবে।

    বিক্রম
  • b | ২৬ জুন ২০০৬ ১৫:২৯561627
  • ভিকি,

    অথবা খানকির সম্ভাব্য খদ্দেরশ্রী। বেশ প্রকৃত নব্বই দশকীয় বাংলা হল।

    তোকে একদিন এমন পেটাবো না! খালি বদমায়েসি।

    দমু, samik তোমাদের তর্কটা খুব valid। গালাগাল যত আছে, তার বেশির ভাগের indictment বেশ্যা শুধু নয়, সাধারণ ভাবে মেয়েদের বিরুদ্ধে। এ সম্পর্কে বেশ কিছুদিন আগে মিঠুর সেই হালকা চালে লেখা কিন্তু poignant প্যারা টি স্মরণ করতে বলি। সম্ভবত আমি অন্তত ছেলে বলেই পুরোটা বুঝবো না।

    কিন্তু খিস্তি করতে ইচ্চে করলে কি কর্বো?

    এই মহা তর্কের সহজ জেন্ডার রিজোলুশান নাই। পুরন্দরের পন্থাটি একটি সৎ ও ক্যাওড়া প্রচেষ্টা মাত্র।
  • vikram | ২৬ জুন ২০০৬ ১৫:৫৩561738
  • পুলিশের মালটা নেমেছে দেখে আমোদ পেইচি। পুলিশ কে আমি খুব সন্দেহের চোখে দেখি। একবার চানাচুর খেতেও দেখিচি।

    বিক্রম
  • tan | ২৬ জুন ২০০৬ ১৯:৫৩561776
  • ও চানাচুরে নাকি হাড্ডিচুর মেশানো থাকে!
  • tan | ২৬ জুন ২০০৬ ১৯:৫৭561787
  • ভিকিদা, একটা পোশ্নো ছিলো।জিম করবেটের বই হাতের কাছে আছে কি? ওখানে ছোটোবেলা কি যেন একটা খেলায় টোয়াইন সুতো দিয়ে সেলাইয়ের কথা ছিলো? ওটা কি ছিলো? ছদ্মবেশ তৈরী?
    আর চুড়েল মানে কি চুরাইল?
  • vikram | ২৬ জুন ২০০৬ ২০:৩২561799
  • তনু,
    জিম করবেট আমি বেশি পড়িনি। পড়তে ভালো লাগতো না, কিরম একটা বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া টাইপ লাগতো। ও পোশ্নের উত্তর জানি না।

    বিক্রম
  • tan | ২৬ জুন ২০০৬ ২০:৫৭561810
  • কিন্তু চানাচুর? খাও না? :-)))
  • J | ২৭ জুন ২০০৬ ১১:৩৩561821
  • সাধারনভাবে দুনিয়ায় যে কোনো ভাষায় খিস্তি দিতে গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেয়েদের কটাক্ষ করেই খিস্তিগুলো দেওয়া হয়। নিরীহ "শালা" নামক খিস্তিটাও এর ব্যতিক্রম নয়।
    "শালা" কেন খিস্তি, এর অর্থ খুঁজতে গিয়ে আমি যা বুঝি, তা হলো যাকে শালা বলা হচ্ছে, তার বোন কে লয় করে বলা হচ্ছে। তুই শালা, মানে তোর বোনের সোয়ামী আমি, বা তোর বোনের সঙ্গে আমার যৌন সম্পর্ক। তোর বোন লুজার, আমি উইনার। তোর বোন লুজার, মানে তুইও লুজার। ছেলে ও মেয়ের যৌন সম্পর্ক তাহলে উইন-উইন সিচুয়েশন নয়। এই মজ্জাগত ধারণা যদ্দিন আছে, থাকবে, তদ্দিন গালিগালাজের ভাষায় মেয়েদের কটাক্ষ করে শব্দ তৈরী হবে।
    এবিষয়ে গোপাল ভাঁড়ের একটা গল্প মনে পড়ল।
    গোপালকে একজন লোক বলেছিলো, "গোপাল, তোমাকে দেখতে হুবহু আমার মেজশালার মতো। তা তোমার মা কি কখনো আমার শ্বশুরবাড়ী যাতায়াত করতেন?"
    উত্তরে গোপাল স্মার্টলি উত্তর দিলো, " না আপনার ধারণা ভুল। মা কখনই ও বাড়ী যান নি, তবে বাবা প্রায়ই ওবাড়ী যেতেন বলে শুনেছি।"
    হো হো। গোপাল উত্তর দিয়ে জিতে গেল। কারণ এক্ষেত্রে গোপালের মা লুজার নন, লুজার ঐ লোকটির শাশুড়ী, সেই সুবাদে শ্বশুর, মেজশালা এবং আল্টিমেটলি যে লোকটা গোপালকে খোঁচাতে এসেছিলো, সে নিজেও।
    বাপ অন্য মহিলার সঙ্গে যৌনসংসর্গ করে এলে সেটা বীরত্বের, অ্যাটলিস্ট লজ্জার কিছু নয়; কিন্তু মা সেসব করে এলে ফ্যামিলিশুদ্ধ সবার কাছে তা গ্লানিকর।

    আরেকটা উদাহরণ।
    রাস্তা দিয়ে একটা মেয়ে যাচ্ছে দেখে একদল চ্যাংড়া ছোকরা আওয়াজ দিলো, " ঐ দ্যাখ, মাল যাচ্ছে"।
    মেয়েটি প্রতিবাদ করে বলল, "ল কেটে বল"।
    (অর্থাৎ, মাল থেকে ল মাইনাস, মা)
    ছেলেগুলোও কম যায় না, তাদের একজন উত্তর দিলো, " আমি ছাড়লেও, আমার বাপ তোকে ছাড়বে না"।
    খুব স্মার্ট উত্তর।
    যাবতীয় খিস্তির স্মার্টনেস, মেয়েদের হীন করতে পারার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ।
    খিস্তির জগতে রেনেসাঁস আনবে কে?
  • J | ২৭ জুন ২০০৬ ১১:৩৫561832
  • বানানে ছড়িয়েছি, লয়, নয় লক্ষ্য করে।
  • vikram | ২৭ জুন ২০০৬ ১৪:২৬561843
  • বাবার গাঁড়ে গীটার বাজাও বললে মেয়েদের অবমাননা হয় না। আনলাম রেনেশাঁস।

    বিক্রম
  • r | ২৭ জুন ২০০৬ ১৫:১৮561854
  • বোকাচো.. কি নারীবিদ্বেষী খিস্তি?
  • vikram | ২৭ জুন ২০০৬ ১৫:৫৯561865
  • মতান্তরে বোকা র মধ্যে বৌ বা বহু শব্দবন্ধটি থাকায় ভুল হবর সম্ভাবনা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়।

    কিন্তু কাউকে ল্যাওড়া বললে সেই ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে না।

    বিক্রম
  • s | ২৭ জুন ২০০৬ ১৬:১২561876
  • বুলবুলভাজায় এসব কেন। আলাদা থ্রেড খুলে খিস্তির ইতিহাস ভূগোল অ্যানাটমি নিয়ে যত ইচ্ছা ডিসেকশন করুন না মহায়রা।
  • tan | ০৩ জুলাই ২০০৬ ০৩:২৫561887
  • এবারের বুলবুলভাজা খুবই ভালো।অনেক চিন্তাভাবনার।
  • Parolin | ০৪ জুলাই ২০০৬ ২০:২২561898
  • সৈকত, অনেক ধন্যবাদ এই বিষয়টি নিয়ে লেখার জন্যে।
    মৃত্যুদন্ডের স্বপক্ষে এবং বিপক্ষে বহু যুক্তি-তক্ক-গপ্প হতে পারে। আমি সেইখানে যাচ্ছি না। আমার ভাবনার বিষয় হল কি করে একটা গোটা জাস্টিস সিস্টেম ভুল করে একজন কে কিম্বা বহুজন কে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে? তারপর কি হয় ? শুধুই প্রেসের সামনে 'আমরা দু:খিত' বললে ল্যাটা চুকে যায়?
    যাদের এই বিষয়টি সম্বন্ধে আগ্রহ আছে এই সাইট টা দেখতে পারো।
    http://www.soci.niu.edu/~critcrim/dp/dp.html এতে কিছু ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্‌ট্‌স পাবে।

    আর একটা সিনেমাও আছে। 'লাইফ অফ ডেভিড গেল'। কেভিন স্পেইসি আর কেট উইন্সলেট। যদিও সিনেমা হিসেবে খুব উঁচুদরের নয়, তবু খানিকটা হলেও ভাবায়।
  • J | ০৫ জুলাই ২০০৬ ০০:১৭561910
  • উ: এইটা বেড়ে হয়েছে তো!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন