এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • প্রিয় কবিতা

    Riju
    অন্যান্য | ১৮ জুলাই ২০০৬ | ৫৯২৪৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Arjit | ১৮ জুলাই ২০০৬ ২০:৫৩633128
  • একবার মাটির দিকে তাকাও,
    একবার মানুষের দিকে।
    যে মানুষ গান গাইতে জানে না,
    যখন প্রলয় আসে সে বোবা ও অন্ধ হয়ে যায়।
    তুমি মাটির দিকে তাকাও,
    সে প্রতীক্ষা করছে,
    তুমি মানুষের হাত ধরো,
    সে কিছু বলতে চায়।

    পুরোটা মনে নেই, "এ দেশ তোমার আমার" ক্যাসেটে যেটুকু ছিলো সেটুকু মুখস্থ আছে। এরকম আরো অনেক আছে, লিস্টি শেষ হবার নয়...তবে এটা মনে হয় একদম ওপরের দিকে থাকবে।
  • Arjit | ১৮ জুলাই ২০০৬ ২০:৫৭633350
  • একবার মাটির দিকে তাকাও,
    একবার মানুষের দিকে।
    যদি তুমি ফসল ফলাতে না জানো,
    যদি তুমি বৃষ্টি আনার মন্ত্র ভুলে যাও,
    তোমার স্বদেশ তাহলে মরুভুমি।

    যে মানুষ গান গাইতে জানে না,
    যখন প্রলয় আসে,
    সে বোবা ও অন্ধ হয়ে যায়।

    তুমি মাটির দিকে তাকাও,
    সে প্রতীক্ষা করছে,
    তুমি মানুষের হাত ধরো,
    সে কিছু বলতে চায়।
  • dd | ১৮ জুলাই ২০০৬ ২০:৫৭633239
  • " একটু সুখে থাকার জন্য কি অবিরাম ভয়"

    ব্যাস। বাকীটা পড়বার দরকার হয় না। যেমন " প্রভু,নষ্ট হয়ে যাই" বাকী লাইনগুলি অবান্তর
  • Riju | ১৮ জুলাই ২০০৬ ২১:০৯633461
  • জনতা প্রিয় কবতে পোস্ট কর না এখানে।

    মেঘ বলতে আপত্তি কি ? - জয়
    (স্মৃতি থেকে লিখলুম - আমার আবার স্মৃতি বেশ কাঁচা :-) ভুল হলে শুধরে দিয়ো)

    মেঘ বলতে আপত্তি কি ?
    বেশ, বলতে পরি
    ছাদের ওপোর মেঘ দাঁড়াতো
    ফুলপিসিমার বাড়ি
    গ্রীষ্ম ছুটি চলছে তখন
    তখন মানে ? কবে ?
    আমার যদি চোদ্দো, মেঘের ষোলো-সতেরো হবে
    ছাদের থেকে হাতছানি দিতো
    ক্যারাম খেলবি ? ... আয় ...
    সারা দুপুর কাহাঁতক আর ক্যারম খেলা যায়
    সেই জন্যেই জোচ্চুরি হয়
    হ্যাঁ, জোচ্চুরি হতো
    আমার যদি চোদ্দো, মেঘের পনেরো-ষোলো মত

    ঘুরিয়ে দিতে জানতো খেলা শক্ত ঘুঁটি পেলে
    জায়গা মত সরিয়ে নিতো আঙ্গুল দিয়ে ঠেলে
    শুধু আঙ্গুল ? ... বোর্ডের উপর লম্বা ফ্রকের ঝুল
    ঝপাং ফেলে ঘটিয়ে দিতো ঘুঁটির দিক ভুল
    এই এখানে ... না ওখানে ..
    এই এইটা না ঐটা
    ঝাঁপিয়ে পরে ছিনিয়ে নিলো ঘুঁটির বাক্সটা
    ঘুঁটির ও সেই প্রথম মরন
    প্রথম মরা মানে ?
    বুঝবে শুধু তারাই ... যারা ক্যারাম খেলা জানে

    চলেও গেলো কদিন পরে .. মেঘ যেমন যায়
    কাঠফাটা রোদ দাঁড়িয়ে পড়ল মেঘের জায়গায়
    খেলা শেখাও, খেলা শেখাও, হাপিত্যেস কাক
    কলসিতে ঠোঁট ডুবিয়ে ছিলো, জল তো পুরে খাক
    খাক হোয়া সেই কলশি আবার পরের বছর জলে ...
    ভরল কেমন তোমায় ? ...
    ধ্যাৎ, সেসব কি কেউ বলে ? ...

    আত্মীয় হয় .. আত্মীয় হয় ? আত্মীয় না ছাই
    সত্যি করে বল এবার, সব জানতে চাই
    দু এক ক্লাস এর বয়স বেশি, গ্রীষ্ম ছুটি হলে
    ঘুরেও গেছে কয়েক বছর, এই জানে সক্কলে
    আজকে দগ্‌ধ গ্রীষ্ম আমার তোমায় বলতে পারি
    মেঘ দেখতাম, ছাদের ঘরে, ফুলপিসিমার বাড়ি
  • Somnath | ১৮ জুলাই ২০০৬ ২১:২২633572
  • দাবিটা এক্টু কঠিন। এটাকে এক্টা ভালো কবিতা আর্কাইভ বানানো যয়, কিন্তু তার জন্যে এখানে মন থেকে ছড়িয়ে ছিতিয়ে লিখে্‌ল হবে না। সংরক্ষণযোগ্য একটা ভালো কবিতা আর্কাইভ বানাতে হলে বই খুলে বসো, যতিচিহ্ন ও বানানের প্রতি বিষেষ নজর দিয়ে কবিতাগুলো টোকো। একটা অনন্য সাধারণ স্মরণীয় কালেকশন তৈরি হতে পারে।

    কিন্তু মুশকিল আছে, বাঁদিকে স্পেস দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ সাজানো গোছানো কবিতার সব মজা ঘেঁতে যাবে।
    মানে কিছুই হবে না,
    তাই আপাতত: বাওয়ালি ই করো, যদ্দিন না কোনো সল্যুশন বেরোয়।

    এমনকি ব্লগস্পট এ ও একই সমস্যা। আমি তো ফেড আপ হয়ে গেছি। সেই আনএডিটেবল পি ডি এফ বা জেপিগি করে তুলতে হবে।
  • Parolin | ১৮ জুলাই ২০০৬ ২১:৩৮633683
  • ভবছি ঘুরে দাঁড়ানো ই ভালো
    এতো কালো মেখেছি দুই হাতে
    এত কাল ধরে
    কখোনো তোমর করে, তোমারে ভাবি নি
    এখন খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড়ালে
    খাদ ডাকে আয় আয়
    এখন গঙ্গার তীরে -- দাঁড়ালে
    চিতা কাঠ ডাকে আয় আয়
    যেতে পারি
    ডে কোনো দিকেই আমি চলে যেতে পারি
    কিন্তু, কেন যাবো ?
    সন্তানের মুখ ধরে একটি চুমো খাবো
    যাবো
    কিন্তু এখনি যাবো ন
    তোমাদের ও সাথে নিয়ে যাবো
    একাকী যাবো না অসময়ে।
  • s | ১৮ জুলাই ২০০৬ ২১:৪৩633754
  • অজস্র প্রিয় কবিতা আছে। এভাবে একটা একটা করে লেখা যায় নাকি????
  • tan | ১৮ জুলাই ২০০৬ ২২:০০633765
  • নাও, তোমাদের ছেলেদের জন্য পক্ষপাতহীন হিন্টস দিলুম,

    কবিতারে প্রিয়া করি
    প্রিয়ারে কবিতা

    :-))))
  • Tina | ১৯ জুলাই ২০০৬ ১১:২৪633776
  • জ্যোৎস্নারাতে/নীরেন্দ্রনাথ

    আমি বললুম, সুন্দর।
    এই আশ্বিন মাসে
    রহস্য তার লেগেছে অপার
    বিমুক্ত নীলাকাশে।

    আমি বললুম, এসো।
    সে তবু আসে না কাছে।
    মায়া দিয়ে গড়া
    জ্যোৎস্না অধরা
    দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে।

    আমি ভাবি, এ কি বিভ্রম?
    দাঁতে ঠোঁট চেপে হেসে
    তখুনি সে ঘরে
    ধুলোর উপরে
    ঝাঁপিয়ে পড়ল এসে।
  • J | ১৯ জুলাই ২০০৬ ১৫:৫৭633129
  • প্রিয় কবিতার বই এর নাম দিলে কেমন হয়? বা প্রিয় কবি?
  • sup | ১৯ জুলাই ২০০৬ ১৮:৪৫633140
  • মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
    *************
    শঙ্খ ঘোষ

    একলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি
    .... তোমার জন্যে গলির কোণে
    ভাবি আমার মুখ দেখাব
    মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।

    একটা দুটো সহজ কথা
    ....বলব ভাবি চোখের আড়ে
    জৌলুশে তা ঝলসে ওঠে
    বিজ্ঞাপনে,রংবাহারে।

    কে কাকে ঠিক কেমন দেখে
    ....বুঝতে পারা শক্ত খুবই
    হা রে আমার বাড়িয়ে বলা
    হা রে আমার জন্ম ভূমি।

    বিকিয়ে গেছে চোখের চাওয়া
    ....তোমার সাথে ওতপ্রত
    নিয়ন আলোয় পণ্য হলো
    যা কিছু আজ ব্যাক্তিগত।

    মুখের কথা একলা হয়ে
    ....রইলো পড়ে গলির কোণে
    ক্লান্ত আমার মুখোশ শুধু
    ঝুলতে থাকে বিজ্ঞাপনে।
  • Su | ২৮ জুলাই ২০০৬ ০৯:৫৭633151
  • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়:

    চিড়িয়া মোড়ে নেমে পড়ল দূরদেশিনী
    বুক দেখেছি, ঘাড় দেখেছি, মুখ দেখিনি।

    বিফল ঝাড়ির এরকম হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কবিতা বাংলা ভাষায় আর পড়িনি।

    সু
  • Juju | ১৬ আগস্ট ২০০৬ ০৯:০২633162
  • ভালোবাসলে নারীরা হয়ে যায় নরম নদী,
    পুরুষেরা জ্বলন্ত কাঠ।
  • Juju | ১৮ আগস্ট ২০০৬ ০৯:১০633173
  • সকাল বেলায় উঠে দেখি
    জানলায় একটা কাক -
    ও: Fuck!
    আমি তো অবাক!
  • tan | ১৮ আগস্ট ২০০৬ ১৯:৩৮633184
  • ব্যাটা শুকনো কাঠ কাঠ
    অসভ্য ভীতু আর আকাট
  • sinfaut | ২২ মার্চ ২০০৮ ১১:২৮633195
  • যতদিন পৃথিবীতে
    -----------------------
    জীবননান্দ দাশ

    যতদিন পৃথিবীতে জীবন রয়েছে - দুই চোখ মেলে রেখে স্থির,
    মৃত্যু আর বঞ্চনার কুয়াশার ওপারে
    সত্য সেবা শান্তি যুক্তির নির্দেশের পথ ধরে চলে,
    হয়ত বা ক্রমে আলো পাওয়া যাবে বাহিরে হৃদয়ে।

    মানব ক্ষয়িত হয়না, জাতি, ব্যক্তির ক্ষয়ে,
    ইতিহাস ঢেরদিন প্রমাণ করেছে মানুষের নিরন্তন প্রয়াণের মানে
    হয়ত বা
    অন্ধকার সময়ের থেকে বিশৃঙ্খল সমাজের পানে চলে যাওয়া
    গোলোকধাঁধার ভুলের ভিতর থেকে আরো বেশি ভুলে;
    জীবনের কালো রঙা মানে কি ফুরোবে শুধু এই
    সময়ের সাগর সাগর ফুরোলে?
    জেগে ওঠে তবুও মানুষ, রাত্রি দিনের উদয়ে।
    চারিদিকে কলরোল করে পরিভাষা, দেশের
    জাতির দর্ভ পৃথিবীর তীরে, ফেনিল অস্ত্র পাবে আশা;
    যেতেছে নি:শেষ হয়ে সব, কি তবে থাকবে,
    আঁধার মনননের আজকের নিষ্ফল রীতি
    মুছে ফেলে আবার সচেষ্ট হয়ে উঠবে প্রকৃতি,
    ব্যর্থ উত্তরাধিকারে মাঝে মাঝে তবু কোথাকার স্পষ্ট
    সূর্যবিন্দু এসে পড়ে

    কিছু নেই উত্তেজিত হলে, কিছু নেই স্বার্থের ভিতরে
    ধনের অদেয় কিছু নেই সেইসবই জানে এই খন্ডিত
    রক্তবণিক পৃথিবী।

    অন্ধকারে সবচেয়ে সে স্মরণ ভালো
    যে প্রেম জ্ঞানের থেকে পেয়েছে
    গভীরভাবে আলো।
  • sinfaut | ২২ মার্চ ২০০৮ ১১:৩৭633206
  • আমার প্রহর
    ----------------
    পল এল্যুয়ার

    আমি ছিলাম মানুষ আমি ছিলাম পাথর
    আমি ছিলাম মানুষের ভিতরে পাথর পাথরের ভিতরের মানুষ
    আমি ছিলাম আকাশে পাখি, পাখিতে শূন্য
    আমি ছিলাম শীতে ফুল সূর্যে নদী
    শিশিরের ভিতরে চুনি
    ভ্রাতৃত্বে একক ভ্রাতৃত্বে মুক্ত।

    ***

    সমস্ত শাখাপ্রশাখা জুড়ে
    আমার পাতারা আবার জন্মায়
    আমার পথ শোভিত হল
    সূর্যস্নাত মঙ্গলে।

    ***

    আমি যেন এমন বাঁচি যাতে গাছ
    তার পাতা খোয়াবে না
    যাতে জলের হৃদয় স্পন্দিত হবে
    যাতে দিনমান ফিরে আসবে।

    ***

    তিক্ততা মৃত ফেনা
    পৃথিবী-খোঁড়া বরফ শীতল গহ্বর
    ছাপিয়ে যায় ছায়ায়
    আমি যতটুকু অর্জন করেছি তা রক্ষা করি।
  • sinfaut | ২২ মার্চ ২০০৮ ১১:৪৪633217
  • সরোজিনী বুঝেছিলো
    ---------------------
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়

    দুপুরে আধার ঘর - মেঘে ঢাকা বিস্তৃত আকাশ
    সরোজিনী চুরি করে নিয়ে যায় শাদা রাজহাঁস
    হয়তো বা বৃষ্টি হবে, হয়তো বহিবে হাওয়া বেগে
    মুখের অগ্নি কি তবে সরোজিনী ঢেকে ছিলো মেঘে?
    মাঠের উপরে শাদা হাঁসগুলি চরেছিলো একা
    সরোজ ঘরেই ছিলো - শুধু তার চোখমেলে দেখা
    এইসব হাঁসেদের-বৃষ্টির সূচনা দেখে নেমে
    জড়িয়ে গিয়েছে মেয়ে হাঁসে-ফাঁসে - কাপড়ের প্রেমে
    শুধু চোখ মেলে দেখা, এই হাঁস স্পর্শ করা নয়
    সরোজিনী বুঝেছিলো, শুধু তার বোঝেনি হৃদয়।
  • sinfaut | ২২ মার্চ ২০০৮ ১১:৪৭633228
  • The Other
    -------------------------
    Octavio Paz

    He invented a face for himself
    Behind it,
    he lived, died, and was resurrected
    many times
    His face now
    has the wrinkles from that face
    His wrinkles have no face.
  • sinfaut | ২২ মার্চ ২০০৮ ১১:৫২633240
  • (নাম মনে নেই)
    -----------
    ভাস্কো পোপা

    এ তো তোমারই ঠোঁট
    যা আমি ফিরিয়ে দিই
    তোমার গ্রীবায়

    এ তো আমারই জ্যোৎস্না
    যা আমি নামিয়ে নিই
    তোমার কাঁধ থেকে

    পরস্পরকে আমরা হারিয়েছি
    আমাদের দেখা-হওয়ার
    অভেদ্য বনানীতে

    আমার হাতের মধ্যে
    অস্ত যায় উদয় হয়
    তোমার কন্ঠা

    তোমার গলার মধ্যে
    জ্বলে ওঠে মিলিয়ে যায়
    আমার উদীপ্ত তারারা

    পরস্পরকে আমরা পেয়েছি
    সোনালি অধিত্যকার ওপর
    অনেক দূরে আমাদের ভিতরে।
  • kallol | ২২ মার্চ ২০০৮ ১২:১৬633251
  • আল মাহমুদ - কবিতার নাম মনে নেই।

    সোনার দিনার নেই / দেনমোহর চেয়োনা হরিণী/ যদি নাও দিতে পারি কাবিন বিহীন হাত দুটি/ আত্মবিক্রয়ের স্বর্ণ কোনকালে সঞ্চয় করিনি/ আহত বিক্ষত করে/ চারিদিকে চতুর ভ্রুকুটি/ ভালোবাসা দাও যদি/ তোমায় চুম্বন দেবো আমি/ ছালনা জানিনা বলে/ অন্য কোন ব্যবসা শিখিনি/ দেহ দিলে দেহ পাবে / দেহের অধিক মূলধন / আমার তো নাই সখী/ যেই পণ্যে অলংকার কিনি/ বিবসন হও যদি/ দেখতে পাবে আমাকে সরল/ পৌরুষ আবৃত করে/ জলপাইয়ের পাতাও থাকবে না/ তুমি যদি খাও/ তবে আমাকেও দিও সেই ফল/ জ্ঞানে অজ্ঞানে দোঁহে/ পরস্পর রব চিরচেনা/ পরাজিত নই নারী/ পরাজিত হয় না কবিরা/ দারুন আহত বটে/ আর্ত আজ শিরা উপশিরা
  • Arpan | ২২ মার্চ ২০০৮ ১৩:৩০633262
  • আমরা হেঁটেছি যারা নির্জন খড়ের মাঠে পউষ সন্ধ্যায়,
    দেখেছি মাঠের পারে নরম নদীর নারী ছড়াতেছে ফুল
    কুয়াশার; কবেকার পাড়াগাঁর মেয়েদের মতো যেন হায়
    তারা সব; আমরা দেখেছি যারা অন্ধকারে আকন্দ ধুন্দুল
    জোনাকিতে ভ'রে গেছে; যে-মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
    চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ - কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

    আমরা বেসেছি যারা অন্ধকারে দীর্ঘ শীত-রাত্রিটিরে ভালো,
    খড়ের চালের 'পরে শুনিয়াছি মুগ্‌ধরাতে ডানার সঞ্চার;
    পুরোনো পেঁচার ঘ্রাণ; - অন্ধকারে আবার সে কোথায় হারালো?
    বুঝেছি শীতের রাত অপরূপ - মাঠে-মাঠে ডানা ভাসাবার
    গভীর আহ্লাদে ভরা; অশথের ডালে-ডালে ডাকিয়াছে বক;
    আমরা বুঝেছি যারা জীবনের এইসব নিভৃত কুহক;

    আমরা দেখেছি যারা বুনোহাঁস শিকারীর গুলির আঘাত
    এড়ায়ে উড়িয়া যায় দিগন্তের নম্র নীল জ্যোৎস্নার ভিতরে
    আমরা রেখেছি যারা ভালোবেসে ধানের গুচ্ছের 'পরে হাত,
    সন্ধ্যার কাকের মতো আকাঙ্ক্ষায় আমরা ফিরেছি যারা ঘরে;
    শিশুর মুখের গন্ধ, ঘাস, রোদ, মাছরাঙা, নক্ষত্র, আকাশ
    আমরা পেয়েছি যারা ঘুরে-ফিরে ইহাদের চিহ্ন বারোমাস;

    দেখেছি সবুজ পাতা অঘ্রাণের অন্ধকারে হয়েছে হলুদ,
    হিজলের জানালায় আলো আর বুলবুলি করিয়াছে খেলা,
    ইঁদুর শীতের রাতে রেশমের মতো রোমে মাখিয়াছে খুদ,
    চালের ধূসর গন্ধে তরঙ্গেরা রূপ হয়ে ঝরেছে দু-বেলা
    নির্জন মাছের চোখে; - পুকুরের পাড়ে হাঁস সন্ধ্যার আঁধারে
    পেয়েছে ঘুমের ঘ্রাণ - মেয়েলি হাতের স্পর্শ ল'য়ে গেছে তারে;

    মিনারের মত মেঘ সোনালি চিলেরে তার জানালায় ডাকে,
    বেতের লতার নিচে চড়ুয়ের ডিম যেন শক্ত হ'য়ে আছে,
    নরম জলের গন্ধ দিয়ে নদী বার-বার তীরটিরে মাখে,
    খড়ের চালের ছায়া গাঢ় রাতে জ্যোৎস্নার উঠানে পড়িয়াছে;
    বাতাসে ঝিঁঝির গন্ধ - বৈশাখের প্রান্তরের সবুজ বাতাসে;
    নীলাভ নোনার বুকে ঘন রস গাঢ় আকাঙ্ক্ষায় নেমে আসে;

    আমরা দেখেছি যারা নিবিড় বটের নিচে লাল-লাল ফল
    প'ড়ে আছে; নির্জন মাঠের ভিড় মুখ দেখে নদীর ভিতরে;
    যত নীল আকাশেরা র'য়ে গেছে খুঁজে ফেরে আরো নীল আকাশের তল;
    পথে-পথে দেখিয়াছি মৃদু ছায়া ফেলে পৃথিবীর প'রে;
    আমরা দেখেছি যারা শুপুরির সারি বেয়ে সন্ধ্যা আসে রোজ,
    প্রতিদিন ভোরে আসে ধানের গুচ্ছের মত সবুজ সহজ;

    আমরা বুঝেছি যারা বহুদিন মাস ঋতু শেষ হ'লে পর
    পৃথিবীর সেই কন্যা কাছে এসে অন্ধকারে নদীদের কথা
    ক'য়ে গেছে; - আমরা বুঝেছি যারা পথ ঘাট মাঠের ভিতর
    আরো-এক আলো আছে : দেহে তার বিকালবেলার ধূসরতা;
    চোখের দেখার হাত ছেড়ে দিয়ে সেই আলো হয়ে আছে স্থির :
    পৃথিবীর কঙ্কাবতী ভেসে গিয়ে সেইখানে পায় ম্লান ধূপের শরীর;
    আমরা মৃত্যুর আগে কি বুঝিতে চাই আর? জানি না কি আহা,
    সব রাঙা কামনার শিয়রে যে দেয়ালের মতো এসে জাগে
    ধূসর মৃত্যুর মুখ; - একদিন পৃথিবীতে স্বপ্ন ছিলো - সোনা ছিলো যাহা
    নিরুত্তর শান্তি পায়; - যেন কোন্‌ মায়াবীর প্রয়োজনে লাগে।
    কি বুঝিতে চাই আর? ... রৌদ্র নিভে গেলে পাখ-পাখালীর ডাক
    শুনিনি কি? প্রান্তরের কুয়াশায় দেখিনি কি উড়ে গেছে কাক!

    (মৃত্যুর আগে : জীবনানন্দ দাশ)
  • b | ২২ মার্চ ২০০৮ ১৭:২৩633273
  • গোকুলকে সবাই চেনে, চিনে রাখলো ডি আই বি-র লোক,
    স্টেট্‌সম্যান পড়ার ফাঁকে আড়চোখে।
    অন্ধকার ঘন হবার আগেই গোকুলের মা
    বলেছিলো, আর নয়, এবারে ফিরে যা।
    ফেরার আগেই খাকি রংএর বিদ্যুত দরজায়
    রিভলবার গর্জে ওঠে, গর্জায় গোকুল
    রাষ্ট্রীয় ডালকুত্তা ঝুঁকে পড়ে ছিঁড়ে নিলো এক খাবলা চুল।
    রাতকানা মায়ের চোখে কুরুক্ষেত্রে বেল্টের পিতল, বুট
    জলস্রোতে নামে অন্ধকার।

    শবচক্র মহাবেলা প্রশস্ত প্রাঙ্গণ
    পাথরে পাথরে গর্জে কলোনির সুভদ্রার শোক।

    অধ্যাপক বলেছিলো, "দ্যাট্‌স রং, আইন কেন তুলে নেবে হাতে?'
    মাস্টারের কাশি ওঠে, "কোথায় বিপ্লব, শুধু মরে গেল অসংখ্য হাভাতে।'
    উকিল সতর্ক হয়, "বিস্কুট নিইনি, শুধু চায়ের দামটা রাখো লিখে',
    চটকলের ছকুমিঞা, " এবারে প্যাঁদাবো শালা হারামি ও সি কে'।

    উনুন জ্বলেনি আর, বেড়ার ধারেই সেই ডানপিটের তেজি রক্তধারা,
    গোধূলি গগনে মেঘে ঢেকেছিল তারা।।
    ----------------------
    মনিভূষন, "গান্ধীনগরে রাত্রি'
  • a | ২৩ মার্চ ২০০৮ ০১:০৭633284
  • "সে ছিলো এক দিন আমাদের যৌবনে কলকাতা,,, বেচে ছিলাম বলে সবাই কিনেছিলাম মাথা"

    কেউ গোটাটা দেবে?
  • b | ২৩ ডিসেম্বর ২০০৮ ১৬:২৮633295
  • নেট ঘাঁটতে ঘাঁটতে পেলাম। যাঁদের পড়া আছে ক্ষমাঘেন্না করে দেবেন:

    পোলিশ কবি Wislawa Szymborska-র লেখা।

    Tortures

    Nothing has changed.
    The body is susceptible to pain,
    it must eat and breathe air and sleep,
    it has thin skin and blood right underneath,
    an adequate stock of teeth and nails,
    its bones are breakable, its joints are stretchable.
    In tortures all this is taken into account.

    Nothing has changed.
    The body shudders as it shuddered
    before the founding of Rome and after,
    in the twentieth century before and after Christ.
    Tortures are as they were, it's just the earth that's grown smaller,
    and whatever happens seems right on the other side of the wall.

    Nothing has changed. It's just that there are more people,
    besides the old offenses new ones have appeared,
    real, imaginary, temporary, and none,
    but the howl with which the body responds to them,
    was, is and ever will be a howl of innocence
    according to the time-honored scale and tonality.

    Nothing has changed. Maybe just the manners, ceremonies, dances.
    Yet the movement of the hands in protecting the head is the same.
    The body writhes, jerks and tries to pull away,
    its legs give out, it falls, the knees fly up,
    it turns blue, swells, salivates and bleeds.

    Nothing has changed. Except for the course of boundaries,
    the line of forests, coasts, deserts and glaciers.
    Amid these landscapes traipses the soul,
    disappears, comes back, draws nearer, moves away,
    alien to itself, elusive, at times certain, at others uncertain of its own existence,
    while the body is and is and is
    and has no place of its own.
  • ranjan roy | ২৪ ডিসেম্বর ২০০৮ ০০:৪৭633306
  • না, পড়া নেই এই অসাধারণ কবিতাটি।
    বি, আগেও এমন কয়েকটি পোস্ট করেছেন। ছুঁয়েগেছে। আরো চাই, অপেক্ষায় রইলাম।
  • ranjan roy | ২৪ ডিসেম্বর ২০০৮ ০০:৫৪633317
  • তুমি যে বলেছিলে সময় হলে,
    সহজ হবে তুমি আমারই মত,
    নৌকো হবে সব পথের কাঁটা,
    কীর্ত্তিনাশা পথে নমিতা নদী,
    --সময় হল।
    তুমি যে বলেছিলে রাত্রি হলে
    মুখর হবে সব বিভোর বিভা,
    অহংকার ভুলে অরুন্ধতী
    বশিষ্ঠের কোলে মুর্ছা যাবে,
    ---রাত্রি হল।।
    ( অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত)
  • sayan | ২৪ ডিসেম্বর ২০০৮ ০১:২৬633328
  • ""তারা ফাটায় ব্রহ্মতালু
    জ্ঞান হারানো রাস্তা ঢালু
    অতল থেকে ধোঁয়া পাকায়
    জ্ঞান হারানো গতি চাকায়
    খাদের নীচে নদীর তলায়
    আরও কি খাদ সোনা গলায়
    কোথায় এলি পারের ওপার
    কি অন্ধকার কে অন্ধকার
    ফিরে আসছে হারানো শ্বাস
    দৃষ্টি এলো কি দেখতে পাস
    ঝাপসা কুঁয়ো দুপাশে ঘাস
    শোয়ানো ঘাস দাঁড়ানো ঘাস
    শোয়ানো ঘাস দাঁড়ানো ঘাস''

    -- জয়দা
  • sayan | ২৪ ডিসেম্বর ২০০৮ ০১:২৮633339
  • ছয় নম্বর লাইনের পর দু'লাইন যোগ -

    ""জ্ঞানহারা সেই আগুন স্রোতে
    পার হতে পার হতে হতে''
  • sahana | ২৪ ডিসেম্বর ২০০৮ ১০:৩০633351
  • ক্ষোভ

    হয়নি সময়মত বলা
    আমাদের ছিল যত ক্ষোভ

    আজ আর ভেবেও লাভ নেই
    ফুরিয়েছে উৎসব, পরব।

    শুধু একটা মরুভুমি জুডে
    সারি সারি নিভে যাওয়া স্টোভ,,,,

    শ্রীজাত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে প্রতিক্রিয়া দিন