এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা।পড়তে থাকুন রোজরোজ। প্রবেশ করে দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।

হরিদাস পালেরা

souvik ghoshal

ডি মানিটাইজেশন এর এক দিক - খুচরো ব্যবসায়ে সংগঠিত একচেটিয়া দেশি বিদেশি পুঁজির আরো অনুপ্রবেশ

ডি মানিটাইজেশন এর অন্যান্য দিকগুলোর পাশাপাশি খুচরো ব্যবসার বাজারে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (ফরেন ডিরেক্ট ইনভেশমেন্ট বা এফ ডি আই) এলে কার কতটা লাভ, কার কতটা ক্ষতি তাই নিয়ে এখন প্রবল আলোচনা ও বিতর্ক চলছে সমাজ অর্থনীতি রাজনীতির দুনিয়ায়। কারণটা স্পষ্ট। প্রত্যক্ষ অপ্রত্যক্ষ মিলিয়ে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষকে প্রভাবিত করতে সক্ষম এই প্রস্তাবিত নীতি পরিবর্তন। খুচরো ব্যবসা সংক্রান্ত বিতর্কে ঢোকার আগে এই ব্যবসা ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ের দিকে প্রথমে একবার নজর ফেলা যাক।
খুচরো ব্যবসার বর্তমান ...
     ... পড়ুন souvik ghoshalএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

অনিকেত পথিক

ফুলবিলাসীর সংশয় এবং...

দেখতে দেখতে ডিসেম্বর এসে গেল। শীতকাল আসুক না আসুক, নতুন ৫০০ নোট বাজারে মিলুক না মিলুক, এ টি এম-এ টাকা থাকুক না থাকুক, মরসুমী ফুলের চারা বসানোর সময় এসে গেছে। আর ওইখানে দেরী নট অ্যালাওড ! কুচি কুচি টবে কিম্বা কাগজ মুড়ে ছোট ছোট বান্ডিলে চারা নিয়ে রাস্তার ধারে, দোকানের রোয়াকে যেখানে সেখানে চাটাই পেতে বসে পড়তে দেখা যাচ্ছে চারা ব্যাপারীদের। ফুলবিলাসীর এখন টেনশনের শেষ নেই। এই যে বর্ষা পেরিয়ে পুজোটাও যেতে না যেতেই চন্দ্রমল্লিকায় কুঁড়ি এসে যায় হৈ হৈ করে, এ ভারী জ্বালাতন। একবার কুঁড়ি এসে গেলে গাছগুলোর আর ...
     ... পড়ুন অনিকেত পথিকএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

একক

ঘোলের শরবত


সকাল ছটা থেকে আটটা এই সময়টুকু অবিনাশ ফোন ধরেন না । নেবুতলা মাঠে পাঁচ চক্কর , হালকা ব্যয়াম তারপর বাচ্চাদের ফুটবল পেটানো দেখা । ফেরার পথে গাড়ি দাঁড় করিয়ে কাঁচা বাজার । বাজারটুকু রোজ না করলেও হয় তবে পুরোনো অভ্যেস । চারপাশ এতো দ্রুত বদলায় যে বোঝা যায় আজকাল । আগে যেতোনা , লোটাকম্বল নিয়ে গ্রাম থেকে এসে যে মেসবাড়িতে উঠেছিলেন সেটা বছরের পর বছর কীভাবে ভূতের বাড়ি হয়ে উঠলো , শরিকি মামলা সবই দেখেছেন একটু একটু করে অনেক বছর ধরে । চাকরি পেয়ে পাশের পাড়াতেই সংসার পাতলে যা হয় । সে ছিল ঢিমে তাল । গত তিন বছরে ...
     ... পড়ুন এককএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ভারতের নোট এবং ভেতরের গোপন কাহিনী

দেব আচার্য ( মুল রচনাঃ অনিরুধ শেঠি)

 ৫০০-১০০০ এর নোট বাতিল কেন ? মোদীর এবং সরকারী যুক্তি - ফেক ভারতীয় কারেন্সির  মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী,ড্রাগ এবং আর্মস স্মাগলারদের মত সরকারবিরোধী কার্যকলাপের অর্থের স্রোত বন্ধ করে দেওয়া । ৭০ বছর ধরে চলে আসা কালো অর্থ ব্যবস্থার মাজা ভেঙ্গে দেওয়া ইত্যাদি । কিন্তু যদি ধরুন আমাদের নূতন নোট ছাপবার দ্বায়িত্ব সরকার এমন এক কোম্পানির ওপর ন্যস্ত করে যাঁদের ভারত সরকার ইতিমধ্যে পাকিস্তানে নকল  ভারতীয় টাকা  ছাপানোর কাজে সহায়তা করবার অপরাধে ব্ল্যাক লিস্টেড করে রেখেছে ? চমকে উঠবেন না ! পড়তে থাকুন, আপনার -আমার বিপদের কথা । 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ডিমনিটাইজেশনঃ সরকারের ধান্দাটা কী?

সোমেন বসু

 কালো টাকা উদ্ধার করা হবে কোথা থেকে? মানে কালো টাকাদের সাকিন কোথায়?

মূলত তিন জায়গায়। এক, বিদেশে। সুইস ব্যাঙ্ক জাতীয় জায়গায়। ডলার বা ইউরোরূপেণ সংস্থিতা।

দুই, এক্ষেত্রে সোনা, ফ্ল্যাট, জমি ইত্যাদি বহুরূপেণ সংস্থিতা। মানে বেহিসেবি টাকাগুলো এইসবে কনভার্ট করে নেওয়া হয় বা হয়েছে।

তিন, বাড়িতে, বা লোকে যেমন বলছে কমোডে, বালিশের ওয়াড়ে নোট হিসেবেই। আরও সুবিধার জন্য ধরে নিই পাঁচশো-হাজারের নোটরূপে বিরাজিত।

বোঝাই যাচ্ছে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য কেবলমাত্র তিন নম্বরটা। নিন্দুকেরা বলছে, শতাংশের বিচারে এই তিন নম্বরটা নেহাতই নগণ্য। কত? মাত্র ৬ শতাংশ!! আচ্ছা, ছেড়ে দিন। আমি নিন্দুকের কথা বাদই দিই। কালো টাকার এক্স্যাক্ট স্ট্যাটিস্টিক্সটা যেহেতু ধোঁয়াশাপূর্ণ। তাই বেকার কুযুক্তির অবতারণা হতে পারে।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

ফরিদা

হেমন্তের অরণ্যে, তুমি

কিছুটা আচমকাই দেখা হল আজ – কয়েকটা কাঠচাঁপা, একটি আমগাছ ঘেরা একচিলতে ঘাসজমি শহরের ব্যস্ত রাস্তার ধারে। কিছু বদন্যতা দেখিয়েছে পাশের কালো কাচে ঘেরা অফিস বাড়িটি। এমনকি দৈনিক বরাদ্দ জল নিয়মিত পায় বলে ঘাসেরা সবুজ থাকে। পাতাদের গায়ে ধুলো কিছু কম রাস্তার বাকি অংশের তুলনায়। তবু নিজস্ব ঋতুটিতে সে রীতি মেনে ঝরিয়েছে একরাশ পাতা। আকাশ পরিষ্কার ছিল আজ। তাই হাওয়া ছিল বেশি হয়ত। তাই খরাপাতার ফসল আজ কিছু বেশি –

“হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান ঘুরতে দেখেছি অনেক

তাদের হলুদ ঝুলি ভরে গিয়েছিল ঘাসে আব ...
     ... পড়ুন ফরিদা এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Ashoke Mukhopadhyay

নোট নাটকের নেপথ্যে

হ্যাঁ, এখন চারদিকে একটা খবর, একটাই কথা। টাকার কথা। কী হল, কেন হল, এবার কী হবে, ইত্যাদি। এই যে আচমকা ৯ নভেম্বর ২০১৬-এর শুরুতেই, রাত বারোটা থেকে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল বলে ঘোষণা করা হল, এর উদ্দেশ্যই বা কী, এতে কার কতটা লাভ বা ক্ষতি হবে। লোকজন সকাল থেকে ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, এটিএম-এর বুথের সামনে ধর্না দিচ্ছেন, টাকা মিলছে না। অথবা যেটুকু মিলছে তা দিয়ে প্রতিদিনের কাজ মিটছে না! বাজারে দোকানে একটা হাহাকার। টাকা নেই, খুচরো নেই। একশ টাকার নোটের দুর্ভিক্ষ! নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে ...
     ... পড়ুন Ashoke Mukhopadhyayএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

অভিষেক ভট্টাচার্য্য

সিঁড়ির নিচে মিটারঘরে মা কালী

২০১২ সালের ২১শে ডিসেম্বরের ঠিক আগে আগে যখন আর কয়েকদিনের মধ্যেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে বলে চারদিকে তোলপাড় উঠেছিল, তখনও ঠিক এরকম করেই রোদের দিকে পিঠ করে শাল জড়িয়ে রাস্তার ধারে কাঠের বেঞ্চির ওপরে একটা ঠ্যাং মুড়ে বসে চুমুকে চুমুকে লাল চা খেত বাবুসোনা।
বাবুসোনার হেলদোল নেই। কানাঘুষোয় কথাটা তার কানে এসেছিল যদিও। কী সব সাল-তারিখের ব্যাপারস্যাপার - পৃথিবী নাকি গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ধুলোয় মিশে যাবে ওই দিন - বাবুসোনা গা করেনি - আজকাল প্রায় কোনও ব্যাপারেই করে না আর - চা'টা শেষ করে সেদিনও হাতুড়িটা কাঁধে তুলে ন ...
     ... পড়ুন অভিষেক ভট্টাচার্য্যএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Sarit Chatterjee

ঠাণ্ডা গোস্ত্

ঠান্ডা গোস্ত*
(সাদাত হাসান মান্টো)
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুঅনুবাদ

কলবন্ত্ কৌরকে একঝলক দেখলেই আগে শরীরটা নজরে পড়ে। গুরুনিতম্বিনী। পীনোন্নত পয়োধর। ওপরের ঠোঁটে হালকা লোমশ রেখা। আগুনে চোখদুটোয় দৃঢ়তার ছাপ।

ঈশ্বর সিংএর দীঘল শরীরটা ঘরে ঢুকতেই কলবন্ত্ দরজার আগলটা তুলে দেয়। স্বামীর চোখে চোখ রেখে সে গরজে ওঠে, ঈশ্বর সাঁই? কোথায় ছিলে এই আট দিন? আবার শহরে গেছিলে, না?

- না!, থমথমে মুখে কৃপণটা খুলে রাখতে রাখতে জানায় ঈশ্বর।

- লুঠের মাল আমায় দেখাতে চাও না, না ...
     ... পড়ুন Sarit Chatterjeeএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Roshni Ghosh

#সফরনামা -৬


পড়ন্ত জানুয়ারির বিকেল। খাটের ওপরে লেপ মুড়ি দিয়ে "সুহানের স্বপ্ন" পড়ছি হঠাৎ করে ফোন টা ঝনঝন করে বেজে উঠলো। তাকিয়ে দেখি, ঐশ্যারিয়া (অ্যাশ) ফোন করেছে। অ্যাশ আমার সাথে সেইন্ট জন্স ইউনিভার্সিটিতে পড়তো, আজকাল বোস্টনে একটা স্টার্ট-আপে চাকরি করে। ভাবলাম, নিশ্চই নিউ-ইয়র্ক আসছে সেটা জানবার জন্য ফোন করেছে। কিন্তু তা নয়, ফোন তুলতে অ্যাশের প্রশ্ন,
"বেড়াতে যাবি?"
"কোথায় রে? কবে?"
"এক্ষুনি ক্রেটার লেকের ছবি দেখছিলাম। সিম্পলি অসাধারণ। আমার এপ্রিলে একটা লং উইকেন্ড আছে, তার সাথে এক-দুদিন জুড়ে ঘুর ...
     ... পড়ুন Roshni Ghoshএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

বাজে খবর

ডিমানিটাইজেশনঃ ধারাবিবরণী

প্রতিভা সরকার – ফেসবুক থেকে

মা - কেন্দ্রিক গালাগালগুলি সব সময় যৌনগন্ধী হয়।ভারতব্যাপী সব ভাষাতেই। ফলে মাতা এবং মাতৃসমাদের প্রতি আমরা কত শ্রদ্ধালু সেটা সম্যক জানি বলেই হিরা বেন, মোদির মাকে লাইনে দাঁড়াতে দেখে ভালোই লাগলো। ছেলের কাজে সাহায্য করতে গিয়ে এত লোকের বাহবা পাচ্ছেন সেও বেশ ভালো কথা। ভক্তরা মোদী কত ন্যায় পরায়ণ সেটা বোঝানোর জন্য ঘন ঘন হীরা বেনের ছবি ব্যবহার করছেন। ভালো তো।

কিন্তু তাতে তো আর lesser mortal দের হয়রানি মিথ্যে হয় না।

এবারের লোক আদালতে এক বাবাকে দেখলাম য ...
     ... পড়ুন বাজে খবরএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

কালো টাকার ওপর সার্জিকাল স্ট্রাইক ও তারপর

দেবর্ষি দাস

 কারা নগদে কেনাবেচা করেন? একটা অংশ অবশ্যই অসাধু ব্যবসায়ীরা, কেননা বৈদ্যুতিন কেনাবেচাতে রেকর্ড থেকে যায়। তবে অনুমান করা শক্ত নয় দুর্বল আর্থিক সামর্থের ক্রেতা বিক্রেতাদের “ক্যাশলেস ইকনমিতে” উত্তরণ হয় নি। তাঁরা ওই ৮৬%-এ আছেন। কেন এতো লোক নগদে কেনাবেচা করেন? কারণ খুব কম লোক ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৪%-এর ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্ট আছে। আবার মোট এ্যাকাউন্টের ৪৩ % সুপ্ত (ডরম্যান্ট) অবস্থায় পড়ে আছে। অর্থাৎ, মাত্র ৩০% লোক ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। এদের মধ্যে একটা ছোট ভগ্নাংশের কাছে আছে প্লাস্টিক টাকা কিম্বা নেট ব্যাঙ্কিং। অর্থাৎ এক বিশাল সংখ্যাগুরু জনতা নগদ দিয়ে কাজকারবার চালাচ্ছে। যাদের কার্ড আছে তারাও অনেক কেনাবেচা নগদে করতে বাধ্য থাকেন। ক্রেডিট কার্ড থাকলেও খুব কম লোকই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পাড়ার বাজার থেকে তিন মুঠো পালং শাক কেনেন, বা রিক্সাওয়ালার ভাড়া চোকান।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

কালো টাকা, জাল টাকা

পুরন্দর ভাট

 প্রথমে কালো টাকা বা কালো ধন কাকে বলে তা পরিষ্কার হওয়া দরকার। কালো টাকা বা কালো ধন বলতে কিন্তু আমরা অজান্তেই দুটো পৃথক জিনিসের কথা বলি। একটা হলো কালো আয় অন্যটা কালো সম্পদ। কালো আয় হলো সেই  আয় যা  আয়করের আওতায় পড়া সত্ত্বেও তার ওপর কোনো কর দেওয়া হয়নি অথবা অবৈধ কারবার থেকে করা আয়। কালো সম্পদ হলো কালো আয় জমে জমে যে ধনসম্পদ হয়েছে সেটা। একজন মানুষ কার্যক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তে আয় করছে আর সেই আয়ের একটা অংশ জমে জমে হচ্ছে সম্পদ। যেমন কল থেকে যদি টিপ্ টিপ্ করে জল পড়ে সেই পড়ন্ত জল হলো আয় আর সেই কলের  নিচে যে বালতিটা রয়েছে আর তাতে যে জল জমা হচ্ছে সেটি হলো সম্পদ।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ডিমনেটাইজেশন ব্লুজ

স্বাতী মৈত্র

 দেশপ্রেমীঃ সীমান্তে সেনারা মারা যাচ্ছে আর তুমি দেশের জন্য একটু লাইনে দাঁড়াতে পারবেনা? নির্লজ্জ! জেএনইউ! দেশদ্রোহী!

জেএনইউ ছাপ ২ঃ ভাই, দশ টাকা ধার হবে? চা খাবো।

যাদবপুর ছাপঃ ভাই, দশ টাকা ধার হবে? চা খাবো। পোতিবাদ করে গলা শুকিয়ে গেছে।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

রৌহিন

ডন কুইকহোটের যুদ্ধ

কালো টাকার বিরুদ্ধে “জাতীয় জেহাদ” চতুর্থ দিনে পা দিল। প্যান্ডেমোনিয়ম অব্যাহত। মানুষ রেগে যাচ্ছেন, আবার অনেকে এটা সাময়িক অসুবিধা যাকে বৃহত্তর স্বার্থে মেনে নেওয়া যায় বলে নিজেদের সংযত রাখছেন। মোদীভক্তেরা ধন্য ধন্য করছেন একটা সাহসী পদক্ষেপের জন্য – আর মোদী এপোলজিস্টরা ঘন্টায় ঘন্টায় নতুন নতুন কারণ খুঁজে বার করছেন কেন এ কাজ সেরা তা প্রতিষ্ঠা করতে। এই সব নিয়ে চতুর্দিকে আলোচনা হচ্ছে – এখানে আরো একটা সরেস আলোচনা হতেই পারতো – কিন্তু আপাততঃ আমরা কিছু মুখরোচক অংশ বাদ দেব।
ঘটনা হচ্ছে মানুষ বেশ ভালোমত অস ...
     ... পড়ুন রৌহিনএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ডেসমন হাঁসদা ও তার সুসমাচার

শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য্য

বারে বারে সে নিজের মাউথ অর্গান তুলে নিয়েছে ঠোঁটে। যা যা সুর শুনছে, সেগুলোকে নকল করবার চেষ্টা চালিয়ে গেছে। সবসময় পারেনি। কিন্তু কোনও কোনও মুহূর্তে তার সুর হুবহু টিলার মাথার সুরের সংগে মিলে গেছে। রোমাঞ্চিত হয়ে উঠেছে তার সারা শরীর। আর যখনই এটা হয়েছে, ডেসমন দেখেছে টিলার মাথায় লোকগুলো গান বাজনা থামিয়ে দিয়েছে। থামিয়ে দিয়ে তার দিকে যেন তাকিয়ে থেকেছে। ডেসমনের গায়ে কাঁটা দিয়েছে। আপনা হতেই চুপ হয়ে গেছে তার মাউথ অর্গানও। তারপর সে দেখেছে, লোকগুলো সকলে যেন কোমরের ওপর থেকে শরীর একটু ঝুঁকিয়েছে তার দিকে। তারপর আবার শুরু করেছে গান। লোকগুলো কি তাকে অভিবাদন জানাল? ডেসমন ঠিক বোঝে না, তবে এরকম ভংগী সিনেমাতে দেখেছে। দেখেছে মাথায় টুপি কালো কোট আর মাছি গোঁফওয়ালা একটা লোকের সিনেমাতেও। কাউকে সম্মান জানাতে হলে মানুষ এমন ভাবে নুয়ে পড়ে। ডেসমনও মাথা ঝোঁকায়। প্রণাম করে মনে মনে। তারপর আবার মাউথ অর্গান তুলে নেয়।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গৃহপালিত প্রেম

আবু মুস্তাফিজ

 স্বপ্নে বন্ধু রাসেলের লগে দেখা। কী যানি কইতেছিলাম। উ কইল, কথা সংক্ষেপ কর। মেয়েরে আনতে স্কুলে যাইতে হইব। 

আমি কইলাম, চল..আমিও যামু…আমারও যাইতে হইব। 

আমরা একটা মাঠের মধ্যে দিয়া হাঁটতে ছিলাম। মাঠে পানি জমছে। বৃষ্টির পানি। আমরা একটা সরু আলপথ দিয়া হাঁটতে ছিলাম। বৃষ্টির পানিতে মাছেরা সাঁতার কাটতেছে। মাছগুলারে চিনতে পারতে ছিলাম। খইলস্যা মাছ। 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

কলকাতার ক্যাচড়া

দীপাংশু আচার্য

 মহানগরের পর্দা সরালেই মহারগড়ের প্রসেনিয়াম! কখনও আপনি দর্শক, কখনও আপনিই নটরাজ। হয় ফ্যালফ্যাল, নতুবা, স্বপ্নের বডি কাঁধে নিয়ে তপ্ত-মটকা ধেই ধেই। কোনও নাট্যকার নেই। যখন ইচ্ছে যেখানে ইচ্ছে যা ইচ্ছে। সিগনাল-তোড়ু বাইক থেকে ভিড়মি-জাগানো মাইক, কোলকাতা পুলিশের কেচ্ছা হইতে পাবলিক প্লেসের পেচ্ছাপ, দাদার হালুম টু চাঁদার জুলুম – মোদ্দা প্লট, কল্লোলিনীর কল খারাপ, আর মিস্তিরিরও ফোন অফ। ছিল তিলোত্তমা, হলো তিলোঃট্রমা! অতেব, টানার যেমন হ্যাঁচড়া, খিচুরির যেমন ছ্যাঁচড়া, কলকাতার তেমন ক্যাচড়া। জড়িয়ে পড়লেন  দীপাংশু আচার্য 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

দেশভাগের অভিজ্ঞতাঃ জম্মু ১৯৪৭

বেদ ভাসিন - অনুবাদ শমীক মুখার্জি

 দেশভাগের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক দাঙ্গা, অনেক রক্তপাত, অনেক হানাহানির স্মৃতি। তার কিছু নথিভূক্ত, বেশির ভাগই নয়। যে হত্যালীলা ঘটে গেছে ১৯৪৭ সালে এই উপমহাদেশে, তার তুলনা বিশ্বের ইতিহাসে খুব কমই আছে। আর পুরোটাই ঘটেছে ধর্মের নামে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই, নবগঠিত সরকারের অক্ষমতার ফল হিসেবে, কিংবা তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়।

দেশভাগের রক্তপাত বলতে আমরা মূলত পড়েছি এবং শুনেছি পঞ্জাব আর বাংলার কথা। এর বাইরেও, জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যে নীরবে ঘটে গিয়েছিল ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক হানাহানি, যে ইতিহাস প্রায় কোথাওই নিরপেক্ষভাবে নথিবদ্ধ করে রাখা হয় নি।

বেদ ভাসিন নামটা আমাদের অনেকের কাছেই হয় তো সে রকম পরিচিত নয়। ইনি একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কাশ্মীরি জার্নালিস্ট। শুধু জার্নালিস্ট পরিচয় দিলে এঁর জীবনের ব্যাপ্তির সম্বন্ধে সম্যক ধারণা করা যাবে না, সারা জীবন ধরে তিনি কাশ্মীর আর কাশ্মীরিদের জন্য প্রচুর কাজ করে গেছেন, ইন্টারনেটে একটু সার্চ করলে অনেক লেখাপত্র পাবেন। ভারত এবং পাকিস্তান, উপমহাদেশের দুটি টুকরোতেই তিনি বিশেষভাবে সমাদৃত ছিলেন।

ভারত যখন স্বাধীন হয়, তখন তিনি হাইস্কুলের ছাত্র, সতেরো বছরের কিশোর এবং কাশ্মীরের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। সারা জম্মু কাশ্মীর যখন সাম্প্রদায়িক হিংসার আগুনে জ্বলছে, তখন গুটিকয় শুভবুদ্ধিসম্পন্ন শান্তিকামী ছাত্র তাঁর নেতৃত্বে লড়ে চলেছিল শান্তির পক্ষে।

নামকরা কাশ্মীরি দৈনিক কাশ্মীর টাইমসের তিনি সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘ ছত্রিশ বছর – ১৯৬৪ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত। গত বছর, সাতই নভেম্বর ২০১৫, ছিয়াশি বছর বয়েসে তাঁর দেহাবসান হয়।

এই লেখাটি শ্রী ভাসিনের একটি পেপারের বঙ্গানুবাদ, যা তিনি পড়েন ২০০৩ সালে জম্মু ইউনিভার্সিটিতে, Experience of Partition: Jammu 1947 শিরোনামে। কাশ্মীর টাইমসের বর্তমান সম্পাদক, বেদ ভাসিনের কন্যা অনুরাধা ভাসিনের কাছ থেকে এই পেপারটির মূল লিখিত রূপ পাওয়া গেছে সম্প্রতি। মূল ইংরেজি পেপারটি এখনও পর্যন্ত অনলাইনে কোথাও পাওয়া যায় না। 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বস্তার দুঃশাসনীয় (সপ্তম পর্ব)

অতীন্দ্রিয় চক্রবর্তী

গত কয়েক দশক ধরে বস্তারে যখন হু হু করে ঢুকে পড়তে লাগল গেরুয়া-ঝাণ্ডা হাতে শঙ্করাচার্য্যের চেলারা, লাল ঝাণ্ডা হাতে মাওয়ের চেলারা, এবং তার পর পর ভয়াল অত্যাধুনিক অস্ত্র হাতে ভারতরাষ্ট্রের সউর্দি চেলারা, তখন সেই প্রহার আর সইতে পারল না এই কৌম-কমনীয় যৌব-যাপন। চিরতরে বন্ধ হয়ে গেলো শান্ত অরণ্যের বিটপীছায়ায় লালিত যৌবনের পাঠশালাগুলো। আর্য্য-হিন্দু সিদ্ধান্ত অথবা কালচারাল-রেভলিউশান-মণ্ডিত সিদ্ধান্ত – কোনোটাতেই যে এর স্থান নেই! গ্রামের গাইতা-প্যাটেলেরাও যে তাদের হাজার হাজার বছরের টোটেম হারিয়েছে পঞ্চায়েতের সরপঞ্চ-সচিবদের অশোকস্তম্ভিত শিলমোহরের সামনে। তাই এখন গ্রামকে গ্রাম অতীতসমৃদ্ধ যাপন-স্মৃতির হারিয়ে যাওয়াদের ব্যথা বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শূন্য ঘোটুল-প্রাঙ্গণ।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বস্টনে বঙ্গেঃ পর্ব বারো

বর্ন ফ্রি

 এইসবের মাঝখানে পড়ে আমার ভাবনাচিন্তারা সব কেমন গুলিয়ে যেতে থাকল। মনের মধ্যে প্রশ্ন ওঠা শুরু হল, সত্যিই কি এই বিভিন্ন ধরনের অসাম্যের বিরূদ্ধে আন্দোলন হাত ধরাধরি করে চলতে পারে? কি ভাবে ক্যুইর আন্দোলনে একজন বামপন্থী (মতান্তরে ভাম্প্যান্টি) ও একজন দক্ষিনপন্থীর (মতান্তরে ভক্ত চাড্ডীর) সহাবস্থান হতে পারে? যখন সমকামী আন্দোলনের জন্য কথা বলছি তখন কি আমার অন্য রাজনৈতিক/সামাজিক পরিচয়টাকে সরিয়ে রাখতে হবে? তখন আমার শুধু একমাত্রিক পরিচয়, আমি একজন সমকামি? কিন্ত তাহলে, যে ঘেটোর বিরুদ্ধে এই আন্দোলন, সে গন্ডীই কি নিজের চারিদিকে টেনে নিচ্ছি না আমি? আবার  লিঙ্গ-আন্দোলনকে যদি ডান-বামে ভাগ করি, তাহলে কি শক্তিক্ষয় করছি না নিজেদের? "মিনিস্কিয়ুল মাইনরিটি" কি আরো ছোট হয়ে যাচ্ছে না? যদি দেখি ক্যুইর ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শোভা পাচ্ছে স্পন্সর অনুপম খেরের কাট আউট, যিনি আমার মতে  জে এন ইউ ইস্যুতে বাকস্বাধীনতার কন্ঠরোধ করতে চেয়েছিলেন, তখন কি করব? যেহেতু ক্যুইর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল তাই তার সঙ্গে থাকব, না কি সরে আসব, আর না কি অপছন্দটাকে যথাস্থানেভ্য জানিয়ে রেখে চুপচাপ বসে যাব? আর না কি সন্ত টেরেসার মত বলব, টাকায় কোনও দাগ নেই? টাকা কোথা থেকে এল গুরুত্বপূর্ণ নয়, কি কাজে খরচ হল সেটাই আসল?

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গীতা অথবা নিছক রহস্য গল্প

সুষুপ্ত পাঠক

 শাড়ির খসখসানি শুনে মেয়েমানুষ সেটা ওমর আলী আগেই বুঝেছিলো। তা মেয়েমানুষ হলেই তাকে হুট করে ঘরে বসতে দিতে হবে নাকি! ওমর আলী হানিফকে বকাঝকা করতে লাগল। দিনকাল বড় খারাপ। ৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। কাল সন্ধ্যাবেলাও মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা গুলি ফুটিয়ে জয় বাংলা বলে শ্লোগান দিয়েছে স্কুল ঘরের মাঠে। পুরো গ্রাম ভেঙ্গে পড়েছে তাদের দেখার জন্য। ঐ দলের পালের গোদা সেন্টু আজকাল কি রকম ঠেস মেরে মেরে কথা বলে। ছোকরার মাথায় কেউ ঢুকায় দিছে মেলিটারি আইসা ওমর আলীর বাড়িতেই বসছিল। খানাপিনা করছে। ওমর আলী ভাল উর্দু জানে। বাতচিৎ তার মাধ্যমেই হয়েছে। সেন্টু যে মুক্তিবাহিনীতে গেছে এইটা যদি মেজর সাবরে বলে ওদের বাড়িঘর সে জ্বালাই দিতে বলত, কি পারত না তখন ওমর আলী? গ্রামের মাইনষের উপকার করছে ওমর আলী। বাড়ি-ঘর জ্বালাইতে দেয় নাই। হিন্দু জেনানাদের নিজের ঘরে আশ্রয় দিছে। রাতের আন্দারে তাগো বর্ডার পার হইতে সাহায্য করছে। অহন যদি সেদিনকার চেংরা পুলাপান কান্দে মেশিনগান নিয়া চোখ গরম দেখায় কেমুন লাগে? 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা