এই আমাদের ফেলে চুমু, লম্ফঝম্প, চরম এতক আর দোকানদারি। পড়ুনঃ বিষয় : শিশু টক(৩)


  
এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা।পড়তে থাকুন রোজরোজ। প্রবেশ করে দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।

হরিদাস পালেরা

Tim

অনন্ত কুয়ার জলে...

কাচের জানলা সারসার। আলো কোথাও জ্বলে, কোথাও ঢিমে আঁচে নিভন্ত। জানলার মুখোশের আড়ালে জীবন। ফুটন্ত চায়ের মত, শুকিয়ে আসা আধাসবুজ ডালের মত। দেওয়ালির আলো মেখে সারারাত ভিজে পুড়ে ওঠা নক্ষত্রের মত। সেই জানলায় ছায়া পড়ে, অনন্তের। "অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে।"

যে সমুদ্র শ্বাস নেয় তার কাছে সবাই ফকির। প্রচন্ড এক মাথাপাগল লোকের মত, সে শাসায়। মেঘ করে এলে সে লাফিয়ে নাচে, মেঘ সরে গেলে ভিজে ভিজে সে মাতাল ঝিমোয়। পাড়ার কাঁচাপাকা চুল, নোংরা জামার সংকর প্রজাতির মানুষটার মত। সে মাতাল না, মদ কেনবার পয়সা ও ধ্বক ...
     ... পড়ুন Timএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Rana Alam

চার অধ্যায়

প্রথম অধ্যায়

কোরপান শা এবং একটি মশার গপ্পো।

ধরা যাক,আপনি আপনার দিকে ধাবমান একটি মশাকে এক থাপ্পড়ে মারলেন।পেনাল কোড যাইই বলুক না ক্যানো,আপনি জানেন যে আপনার কিস্যু হবেনা কারণ আপনি প্রমাণ করে দেবেন যে মশাটি আপনার দোতলায় বিনা অনুমতিতে ইভনিং ওয়াক কি বাণিজ্যিক চুক্তিতে সাইন করতে নয় বুক পকেটে আণবিক অস্ত্র নিয়ে আপনাকে মারতে আসছিল আর ওই মশাটি পেনাল কোডের খরচা বহন করতে পারবেনা,বিচার তো অনেক পরের কথা।

অতএব সার,ওই মশাটার যে মরাটাই ভবিতব্য ছিল তা আমি আপনি ভালোই জানি আর রোজ কত এরকম ...
     ... পড়ুন Rana Alamএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

মোহর

জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি


বলতে গেলে সে অনেক কথা। আর আমাকে যারা জানে তারা সবাই বলবে, একে দিয়ে কিসসু হবার নয়, বেহদ্দ আলসে। তবু দু-চার কথা পষ্টাপষ্টি বলে রাখাই ভালো, যা দিনকাল পড়েছে! চুপ করে থাকলে লোকে পরে পড়া ধরতে চায়! সেদিন আবার কে একজন বললেন, বেড়াল-গিরি করে করে কি আর ওর সময় আছে? সে কথাটাও নেহাত ফ্যালনা নয়।

হ্যাঁ, কথা গুলোর দু-একটা হিন্দু-মুসলমান নিয়ে তো বটেই, জাত-পাত, ছেলে-মেয়ে, শ্রোডিঙ্গার ইকোয়েসন, এল্লাহাবাদ এক্সিবিসন -- সেসব ও আসতে পারে। অবিশ্যি সে আমার কলি-বেলা র কথা, তখন তো কেউ বোঝেনি এ বেটি পদ্ম নয়, ঘ ...
     ... পড়ুন মোহর এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

সুকান্ত ঘোষ

এ্যালিস! এ্যালিস! তুমি বিম্বিত হয়ো জোছনাতে - ১৩

আমার যাদুর ঝাঁপি, আমার জমানো পুঁজিপাটা
তাতে আর কিছু নেই, আছে শুধু মায়াবীমুকুর
আমার সে আর্শিটা চিরতরে তোমাকে দিলাম
এ্যালিস! এ্যালিস! তুমি বিম্বিত হয়ো জোছনাতে...

আমাদের যাদুর ঝাঁপিতে এ্যালিস ছিল না –তখনো আমরা ঠাকুমাদের কাছ থেকে ব্রহ্মদত্যি শুনছি, কন্ধকাটা ভূত দেখতে পাচ্ছি রাতের বেলায় কলতলার কাছে সজনে গাছটায়, ব্যাঙ্গমা-ব্যঙ্গমি নিয়ে সন্দহের দোলচালে ভুগছি। আমাদের এ্যালিস ছিল না – আমাদের চারপাশে ছিল মলি, মিঠু, শম্পা, কেয়া সহ ফ্রক পড়ে বড় হতে থাকা আরো অনেকে। সব সমতল ছিল তখনো, প্রায় ...
     ... পড়ুন সুকান্ত ঘোষ এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Sumeru Mukhopadhyay

আজি গুরুগৃহবাস সমাপ্ত আমার

ছেড়ে চলে যেতে হবে, কিমাকার এই মাংসল পৃথিবী, আজি গুরুগৃহবাস সমাপ্ত আমার। পৃথিবীর পরিখা বরাবর হাঁটছে দুই আচ্ছন্ন পাফরমার, যেন ঘড়ির দুটি কাঁটার ইশারা, তারা এদিক ওদিক ছুটে যায়, উদবাস্তু জ্যামিতি যেমন হয়, আর দিঘীভরা জল করে টলমল। জলঘড়ি। উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগের শুরু যেখানে, কেন মুখপানে চেয়ে আছ গো মা, নীলগাইটি এসে দাড়ায়, যে কদাচ নীল ছিল না। আকাশ ছিল, জল ছিল, অবকাশও ছিল বিস্তর হাঁটাহাঁটির মাঝে, সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় আমাদের ঘড়ির কাঁটারা নিজে নিজে ঘুরত, নন্দন দুই নিচে জলতল ক্রমশ উঠত, মোবাইল বাজত, চাই মিং-ল ...
     ... পড়ুন Sumeru Mukhopadhyayএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

I

কী দেখতে যাও দিল্লি-লাহোর...

NH 31 C থেকে রাস্তাটা ডানদিকে বেঁকে যায়। সরু, ছোট্ট রাস্তা। ধুলো-ওড়ানো । শুকনো হলং নদীর ওপরে একটা কাঠের ব্রীজ আছে। সেই ব্রীজ পেরিয়ে মাদারিহাট ট্যুরিস্ট বাংলো। কাঠের ব্রীজ চোখে এলেই-আর ঐ লাল-নীল পতাকাগুলো,- ঘরে ফেরার শান্তি হয়। অথচ এর আগে একবারই তো এসেছি। মাত্রই একবার। আসলে জঙ্গল। ডুয়ার্স। তবে বাংলোটাকেও বড় ভালো লেগে গেছিল।
এবার এসেছি কড়া দুপুরের মধ্যে। প্রথমবার, মনে পড়ে, সকাল তখনও নরম ছিল। এবার পাহাড় থেকে নেমে আসা। কোলাখাম থেকে লাভা এসে একপ্রস্থ দাঁড়িয়ে থাকা। পাহাড়ী ড্রাইভাররা কেউই সমতলে ...
     ... পড়ুন Iএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Biplob Rahman

পাজল

"এতটা বয়স পেরিয়ে এলাম, তবু কি জানলাম, চড়ুইয়ের ঠোঁটে কেনো এতো তৃষ্ণা, কীট বুকে নিয়ে গোলাপ, কতোটা গোলাপ?"...

খুব ছোট বেলায় একবার দাদুবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি। তখন আমার বয়স কত আর হবে, ধরা যাক, ছয় কি সাত। দাদু বাড়ি হচ্ছে সিরাজগজ্ঞের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। তিনি ছিলেন ব্রিটিশের এক জাঁদরেল দারোগা। তার বাড়িটা খুব সুন্দর, একবারে ব্রিটিশ আমলের লাল ইটের খিলান করা একতলা পাকাবাড়ি। বাড়ির সামনে দিগন্তজোড়া সর্ষে ফুলের ক্ষেত।

এক অলস দুপুরে সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলাম সেই সর্ষেফুলে ...
     ... পড়ুন Biplob Rahmanএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

কবীর সুমনের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি

পরিচয় পাত্র

 আলীয়া মাদ্রাসা আর খারিজি বা কওমী মাদ্রাসার পার্থক্য মানুষকে বোঝাতে হবে। কিন্তু খারিজি বা কওমী মাদ্রাসার সমস্যাগুলি তো তাতে চাপা পড়ে যাবে না। এক বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আমরা আধুনিক যুগে জীবিকানির্বাহের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত করে ছেড়ে দিচ্ছি, যাদের একমাত্র রোজগারের রাস্তা, সাঈদী সাহেবের ভাষা্‌য়, কারো বাপের জানাজা পড়িয়ে ১০ টাকা আয় করা। ধর্মের শিক্ষা সেকুলার প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ এবং স্কলারলি ভাবে ক্লাসিকাল ভাষা আর দর্শন চর্চার মাধ্যমেই হওয়া উচিত, এই ধরনের ধর্ম শিক্ষা পরধর্মবিদ্বেষী মধ্যযুগীয় মানসিকতার পরগাছা শ্রেণীর মানুষ তৈরি করে, তৈরি করে হুজুরদের ক্যাননফডার। আল্লামা শফি, জুনায়েদ বাবুনগরী এই গরিবের ছেলেদের নাস্তিকদের ফাঁসির দাবীতে পথে নামান, পুলিশের গুলির মুখে ঠেলে দেন। বিনিময়ে নিজেরা রোজগার করেন প্রভূত অর্থ। আওয়ামী-বামপন্থী জোট সরকারের বামপন্থী শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এই মাদ্রাসাগুলিকে চেয়েছিলেন সরকারের আওতায় আনতে, শফি হুজুররা হুমকি  দিয়েছিলেন যে তাহলে দেশে রক্তগঙ্গা বইবে। মাদ্রাসা ছাত্রদের ইংরেজি শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগে জল ঢেলে দেন মুফতি ফজলুল হক আমিনী। এদের দিয়ে মাদ্রাসায় গ্রেনেড তৈরি করাতে গিয়ে দুটি ছেলেকে বিস্ফোরণে মেরে ফেলেন হেফাজতের নায়েবে আমীর মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরী। তবু চেষ্টা করেছিলেন নাহিদ। বাংলাদেশ পারে, আমরা পারিনা কেন? 

আপনি গেয়েছেন  “শোন তালিবান তালিবান/আমি তোমাদের সাথে নেই/ আমি ধর্মে মুসলমান/ আছি লালনের সঙ্গেই”। লালনের হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের বাইরের মূর্তি কিন্তু কওমী মাদ্রাসা ছাত্ররা গিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছিল সুমন। আর তালিবানরা সকলেই মাদ্রাসা ছাত্র, তালেবা শব্দের মানেই ছাত্র, তাই থেকেই তালিবান। তাদের চেয়ে বেশি আরবী আপনি নিশ্চয় জানেন না। 
বরং এই বিষয়টা নিয়ে কথা হয়না কেন যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন গ্রামের গরিব সংখ্যালঘু মানুষকে অবৈতনিক সরকারি শিক্ষা আর মিড ডে মিলের নিশ্চয়তা দিতে পারেনি, কেন তাকে মাদ্রাসায় যেতে হয়? সবাই ছেলেমেয়েকে কোরআনে হাফেজ করতে চান এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। শিক্ষার অধিকারের দাবী পিছিয়ে পড়ল, উঠে এল মাদ্রাসা শিক্ষার অধিকারের দাবী? 
 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

জনাব কবীর সুমন কে খোলা চিঠি

সোমনাথ রায়

 কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছিলাম, শতাব্দী ধরে উন্নয়নের উল্টোপিঠে দুর্ভিক্ষ অশিক্ষা আর অস্থিরতায় ফেলে রাখা 'কোনো এক গাঁয়ের বধূর' নাতনিরাই যে রাজিয়া আমিনা হয়ে বন্দুক তুলে দাঁড়াচ্ছে। দুর্ভাগ্যের বিষয়,সন্ত্রাসবাদ যে আর্থসামাজিক বৈষম্যেরই ফল সেইটা বলার লোক দেখলাম কমে আসছে। দশবছর আগেও অনেকে এগুলো বলতেন। এখন পৃথিবী ক্রমেই একমেরুর দিকে এগিয়ে চলেছে, হয় তুমি আমাদের নাহলে শত্রুপক্ষ-  মাদ্রাসা কী ও কেন সেই প্রশ্নে না গিয়েই চলল মাদ্রাসাবিরোধী প্রচার। ডাক্তার-স্বাস্থ্যকেন্দ্র না বানাতে পারলে কোয়াকদের তুলে দেওয়া যায় না। গ্রামে স্কুল না বসিয়ে মাদ্রাসা তোলা যায় না। বসিয়েও যায় কিনা প্রশ্ন। কিন্তু যে রাষ্ট্র নাগরিকদের শিক্ষার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করতে পারেনা, সে কী করে বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তোলার কথা বলে সেই প্রশ্ন করার লোকও কমে যাচ্ছে দেখলাম। 'স্লোগান পালটে হয়ে যায় ফিসফাস'।

 
ভারত ক্রমশঃ তার ব্রাহ্মণ্যবাদী চরিত্রটা মেলে ধরছে। অর্থনীতির পাশাপাশি সামাজিক আচারগুলোতেও সংখ্যালঘু-দলিতদের সরিয়ে দেওয়ার পর্যায়টা চলছে। বছরখানেক আগে,হায়দারাবাদ গেছিলাম। জামা মসজিদ ঘোরার সময়ে আমি ও আমার বন্ধু একটি করে ফেজ টুপি কিনে মাথায় পরি। তারপর এদিক ওদিক ঘুরে হুসেন সাগরে নৌকোয় উঠলাম, যাওয়ার সময়ে টুপিটা খোলা ছিল, পাশে কিছু সহযাত্রী বসেছিলেন, আইটিতে চাকরি করেন বা ওরকম। নৌকোয় ফেরার সময়ে টুপিটা মাথায় দিতে দেখি পাশে আর কেউ এসে বসছেন না। পরিতাপের বিষয়,আমাদের দেশে এটাই রিয়েলিটি- মার্জিনের ওপারে এক বিশেষ পরিচিতির বাইরের লোককে ঠেলে দেওয়া। 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

Ramkrishna Bhattacharya

টুকরো- টাকরা

উহ্যনাম পণ্ডিত

====================

আজকাল, ভোরের দিকে শরীরটা শিন শিন করে অল্প ঠাণ্ডায় । কুয়াশা না পড়লেও, বেশ একটা মায়াবী পরিবেশ ।

গলির ঢোকার মুখটাতে, কালভার্ট নতুন করে তৈরি হয়েছে- হরির দোকান ঘেঁসে । একটা ক্রংকিটের স্ল্যাব জোগাড় করে, তার নীচে ইট দিয়ে, দোকানের সামনে বসার জায়গা তৈরি করেছে হরি ।

ষ্টোভে সাঁ সাঁ করে জল ফুটছে । এখনও সে রকম চাতাল রা আসে নি ।

নাগের বাজারের দিক থেকে রিক্সা করে এসে, একজন নামলেন, দোকানের সামনে ।

সায়েবী পোষাক পরণে, তবে ...
     ... পড়ুন Ramkrishna Bhattacharyaএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Kulada Roy

মেঘনাদ বধ

কুলদা রায়

ক্লাস সিক্সে আমাদের যিনি বাংলা পড়াতে এলেন তাঁর পরণে সিল্কের পাঞ্জাবী। গলার দুধারে থেকে কারুকাজ। তবে এতো পুরনো যে সেটা আলাদা করে চেনা যায় না। আর সাদা চোস পাজামা ভাজে ভাজে নেমে গেছে। মাথার পিছনে ঢেউ করা চুল। বাম হাতে কালো একটা ছড়ি। ছড়িটা এমনভাবে ঘুরাতে ঘুরাতে তিনি এলেন যে দেখে কম্প লাগে।
ডান হাত দিয়ে একটা বই বুকের সঙ্গে ধরে রেখেছেন। বইটি অতি যত্নের সঙ্গে টেবিলের উপর রাখলেন। প্রচ্ছদে বড় বড় করে লেখা—মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রণীত মেঘনাদ বধ।

তিনি আমাদের দিকে তাকালেন কি তাক ...
     ... পড়ুন Kulada Royএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Punyabrata Goon

ছত্তিশগড়ের নারী আন্দোলন

১৯৭৭-এর ২-৩জুনের ১১জন শহীদের মধ্যে একজন ছিলেন নারী—অনুসুইয়া বাই। লাল-সবুজ পতাকার প্রথম ইউনিয়ন ছত্তিশগড় মাইন্স শ্রমিক সংঘ শ্রমিক-জীবনের সমগ্রকে নিজের কর্মসূচীতে নিয়ে আসার জন্য যে ১৭টা বিভাগ গড়ে তোলে তার একটা ছিল মহিলা বিভাগ—পরে যা রূপ নেয় ‘মহিলা মুক্তি মোর্চা’-র। যাঁর মৃত্যুতে শ্রমিকরা শপথ নিয়েছিলেন নিজেদের হাসপাতাল গড়ে তোলার, তিনিও এক মহিলা—ইউনিয়নের উপাধ্যক্ষা কুসুম বাই।

দল্লী-রাজহরার শ্রমিকদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে সিএমএসএস-এ প্রথমে যোগ দেন বিএসপি (ভিলাই স্টীল প্ল্যান্ট)-র ক্যাপটিভ খ ...
     ... পড়ুন Punyabrata Goonএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

মোচ্ছবের মুখবন্ধ

 সিনেমা আর মোচ্ছব, সবই প্লাস্টিক আর্ট। টাইম-স্পেস টোটাল নড়বড়ে।  কখন কী ঘটে যাবে কিচ্ছু বলা যাচ্ছেনা। সবই মাতালের কম্মো। পুজোর সিজনেই নাকি বসন্ত এসে গেছে, আর এই জমানায় ব্রিজ টপকালে তো সারা বছরই নবান্ন। ওদিকে নাকি মদ বন্ধ করার চক্রান্ত চলছে বাংলাদেশে, আর এদিকে গাঁজামদ বন্ধ হওয়ায় এমন কলরব, যে, সরকার নড়ে বসছে। দেয়ালে দেয়ালে প্রজাপতিরা ছবি আঁকছে, ভরদুপুরে ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে গিটার।  একে নাকি বলে মাল-টি পারপাস।  ওদিকে মাল-আলা একটু তাড়াতাড়িই নোবেল প্রাইজ পেলে কী হবে, আমরা যথারীতি ঢিমে তালে। উৎসব টুৎসব মিটতে চলল, এতদিনে উৎসব স্পেশাল। অবশ্য টাইম-স্পেস দিয়ে হবে টা কী, সবই তো নড়বড়ে, কখন কী ঘটে যাবে কিচ্ছু বোঝাই যাচ্ছেনা, বলা তো দূরস্থান।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

যুদ্ধে যা ঘটেছিল

অমর মিত্র

       মহাশয়, আমাদিগের কপালে পাকিস্তান হইয়াছিল কেন তাহা লইয়া কত কথাই না শুনা যায়। শুনা যায় মোগলদিগের সহিত কোচবিহারের মহামান্য নৃপতির যুদ্ধ হইয়াছিল। মোগলের প্রতিনিধি রংপুর ঘোড়াঘাটের নবাব সৌলৎ জং এসে আমাদিগের মহারাজা উপেন্দ্রনারায়নকে ঝাড় সিংহেশ্বরের প্রান্তরে লড়াই করে হারিয়ে দিল এক কালে। সেই যুদ্ধে আমাদিগের মহারাজার অন্দরমহলের বিভীষণ এক জ্ঞাতি ভাই দীনেন্দ্রনারায়ণ সিংহাসনের লোভে মোগলদিগের সহিত গোপনে যোগাযোগ করেন। এবং  আমাদিগের মহারাজা উপেন্দ্রনারায়ণ পরাস্ত হন ঝাড় সিংহেশ্বরের যুদ্ধে। সেই লোভী জ্ঞাতিভাই দীনেন্দ্রনারায়ণকে সিংহাসনে বসায় মোগল সম্রাটের তরফে ঘোড়াঘাট-রংপুরের নবাব সৌলৎ জং। কিন্তু পরের বছরই   আমাদিগের পরাজিত মহারাজা আবার যুদ্ধ করেন ভূটান রাজার সাহায্য লইয়া। এবং তাঁহার জয় হয়। জয় হয় বটে কিন্তু কিছু মৌজার প্রজা নাকি সাবেক শাসক মোগলদের প্রতি তাঁহাদের আনুগত্য বজায় রাখেন। কেন, না তাঁহারা নাকি মোগল সৈন্য ছিলেন। প্রথম যুদ্ধের পর মোগলের হাতে কোচবিহার গেলে এই সমস্ত অঞ্চলে বসবাস করিতে থাকে মোগল সৈন্যদের কিছু অংশ। মোগল প্রতিনিধি রংপুরের নবাবের নিকট  তাঁহারা খাজনা দিতে থাকেন। কোচবিহারের মহারাজা তাঁহার উদারতায় এই বিষয়ে আর দৃকপাত করেন নাই।  সামান্য কয়েকটি গ্রাম যদি খাজনা না দেয়, কী যায় আসে। আমাদিগের পূবর্পুরুষ মোগল সৈন্য ছিল কি না জানা নাই, কিন্তু কৃষিই ছিল তাঁহাদের মূল জীবিকা তা আমাদিগের অবগত। স্বাধীনতার পর রংপুরের নবাব যেহেতু পাকিস্তানে মত দান করেন, সেই কারণে ভারতে থাকিয়াও আমরা পাকিস্তানি হইয়া গেলাম। ইহাতে আমাদিগের দোষ কী?  আমাদিগের কাহারো কাহারো নিকট রংপুরের নবাবের প্রজা হিসাবে খাজনার রসিদ রইয়াছে সত্য, কিন্তু তাহা স্বাধীনতার আগের কথা। স্বাধীনতার পর আমরা  আর খাজনা দিই নাই রংপুরে গিয়া। আমরা কোচবিহার রাজাকেও খাজনা দিতে পারি নাই, কেন না  রাজার প্রজার তালিকা হইতে আমরা বাদ ছিলাম সত্য।

 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

মানসের গল্প

মিঠুন ভৌমিক

 সেদিন সকাল থেকেই মনটা কু গাইছিলো। কারখানা বন্ধ থাকায় কাজে যেতে হয়নি। আগের দিন মালফাল খেয়ে রাত করে বাড়ি ফিরলাম। মা ফালতু বাওয়াল দিলো, যদিও ঘুমচোখে বেশিক্ষণ টের পাইনি। সকাল থেকেই মাথাটা টলছিলো। বমি। বিকেলে ওরা ডাকতে এলো, ভাসানের প্রসেশন। একটু গুমোটের মত ছিলো দিনটা, আকাশটা ঝুলে নেমে এলে যেমন হয়, মেঘলা দলা দলা চিটচিটে আকাশ। আমার জানার কথা না, জানিওনা, যে এইরকম লিকুইড বোতলে ভরে বোমা বানানো হয়। কিন্তু আমি না জানলেও ঐ লোকটা জানতো। ফিনিশ-সোভিয়েত যুদ্ধের কথা, অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গান্স কম পড়ার কথা, সে সালা ঊনিশশো ঊনচল্লিশ-চল্লিশের ঘটনা। লোকটা অত জানে, তবু পুজোকালের দিকে টেলিফোন বুথে দাঁড়িয়ে টাইমপাস করছিলো। কপাল মাইরি! অথচ আমার দেখা অল্পস্বল্প পাসফাস করা লোকজন দিব্যি বউবাচ্চা নিয়ে ভাসান দেখে চাউমিন খেয়ে নালেঝোলের জীবন কাটিয়ে গেল। যাই হোক, ফিনিশ শুনে আমার হেভি হাসি পেয়েছিলো। মজার নাম, না? ফিনিশ! সেদিন আরেকটু হলেই আমিও ফিনিশ হয়ে যাচ্ছিলাম। মুখে পেট্রলটা নিয়ে সবে ছুঁড়তে যাবো, আড়চোখে দেখি বেগুনি সালোয়ার পরে একটা মেয়ে, সাধনদার শালীফালি হবে মনে হয়, হাসছে। ব্যস, পেটে চলে গেল একঢোঁক। তখনই বসের সাথে আলাপ। হেঁচড়ে টেনে নিয়ে গিয়ে বাঁচিয়েছিলো।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

অতলস্পর্শ

তিতাস বেরা

 হিন্দুরা বলেন লঙ্কা দ্বীপে রাবণের তোরণদ্বার খোলার সময় ঐ শব্দ হয়। মুসলমানেরা বলেন ইমাম মেহেদীর আগমন জনিত কারণেই ঐ শব্দ। হিস্ট্রী অব বাকেরগঞ্জের লেখক বেভারীজ সাহেব সিদ্ধান্তে এসেছেন যে জৈষ্ঠ্য আষাঢ় মাসে ঝড়ের সময় এই শব্দ চারবার শোনা যায়। উনি স্থির করেছেন এর পেছনে বায়ুমন্ডলের কোনো বৈদ্যুতিক ঘটনার যোগ রয়েছে। তবে প্রবল তরঙ্গাভিঘাতের জন্যও এই শব্দ হতে পারে। এ বিষয়ে আরো বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন।

ক্রমশঃ আরো রাত ঘনায়। মোকাম আবাদী জুড়ে চলাফেরা বাড়ে। রুপোলী আঁশ মাখা জাল নিয়ে জেগে ওঠে চরমমতাজ। হোগলা কুটীর ছাওয়া ঘর দোর উঠোন আদুল গায়ে মাখে রাত। হাজার হাজার অশরীরী ছুটে চলে জলাভূমি, নদীঘাট, বর্ষা বাদল পেরিয়ে ভাটার সাগর। তারপর এ দ্বীপ ও দ্বীপ সে দ্বীপ…

 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গল্প মানেই মিথ্যে

রূপঙ্কর সরকার

 ন’টা বেজে গেছে, পাশে কিউবিক্‌ল থেকে মন্দিরাদি বেরিয়ে গেল। সিং আর অরূপ বেরোচ্ছে এবার। আনোয়ারা আর নতুন সাউথ ইন্ডিয়ান মেয়েটা কি একটা ইয়ার্কি মারতে মারতে খিলখিল করে যাচ্ছে গেটের দিকে। রায়বাবু আবার মুখ ভ্যাটকালেন, এটা অফিস না ফাজলামো মারানোর জায়গা – ইশ, ব্যাটার মুখ ভীষণ বাজে, মারানো ফারানো ভদ্রলোকের কথা? কস্তুরী বলল, স্যার, আমি যাই? রায়বাবু বললেন, যাবে? পাগলা নাকি? কাজ শেষ করেছ? তোমার এন্ট্রিগুলো কি আমার পিসি এসে করে দেবে? হাত চালাও হাত চালাও – কস্তুরী বলল, স্যার, এরপর বাস পাব না। রায়বাবু বললেন, পাবে পাবে, অনেক রাত অবধি বাস চলে। নাও, হাত চালাও ঝটপট। তোমার চাকরি থাকল কিনা তাই নিয়ে আমার বিশেষ চিন্তা নেই। তবে তোমার জন্য দেখছি এবার আমারটা যাবে।

হাত চালাও বললেই তো আর চলেনা, কস্তুরী কী বোর্ডে আঙুল চালাতে চালেতে ভাবতে লাগল, দামানিয়া অ্যান্ড কোম্পানীর কাজটা ছাড়লাম কেন? মাইনে অনেক বেশি ছিল। হপ্তায় অন্ততঃ দুদিন মাছ খাওয়া যেত। কামাল বলে লোকটা পেছনে এসে দাঁড়াত প্রথম প্রথম। ক’দিন পর ঝুঁকে কাঁধে হাত দিয়ে এন্ট্রি বুঝিয়ে দিত। তারপর যেদিন কাঁধ থেকে হাত আস্তে আস্তে নীচে নামতে লাগল, কস্তুরী চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়িয়ে গায়ের জোরে এক ধাক্কা দিয়ে একদলা থুথু মুখ থেকে থু – করে ছুঁড়ে দিয়েছিল তার মুখে। তারপর হনহনিয়ে বেরিয়ে এসেছিল অফিস থেকে। ইশ, পঁচিশ দিন মত কাজ হয়েছিল, মাইনেটাও পাওয়া যায়নি। সেদিন মেট্রোয় দামানিয়ার সঙ্গে দেখা। বলল, আরে লক্‌শমী, তুমি কাম ছোড়ে দিলে কেনো, একবার তো বোলবে কী পরেশানি? কস্তুরী বলল, আমি লক্ষ্মী নই। দামানিয়া কক্ষনো মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলেনা, তাকাবার আরো কত জায়গা আছে, বলল, হাঁ হাঁ, তুমি বন্দনা, ইয়াদ হোলো। কোথাও জয়েন না কোরলে এসো একদিন –

 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ঝিনুকের খোল

যশোধরা রায়চৌধুরী

 পালানোর আরো জায়গা আছে। রিমঝিম নিজেদের ভাড়াফ্ল্যাটের বারান্দায় পালায় । বারান্দার গ্রিলের ফুটোগুলো বড় বড়।  বাইরে গাছ, টুকরো আকাশ। তারে তারে মেলা কত না রঙের কাপড়, ওবাড়ির, সেবাড়ির। গাছে গাছে কতরকমের শেডের সবুজ পাতা, এলোমেলো, লাট খায়। তেমনি সব বারান্দাগুলো থেকে নিচে ঝুলিয়ে রাখা তারে শার্ট, প্যান্ট, ম্যাক্সি, এমনকি শীতের দিনে শাল কম্বলও, রঙ্গিন। 

ওখানে একবার গিয়ে পড়লে  পালানো সোজা। কেউ বুঝতে পারবে না। দেখবে রিমঝিম  বাড়িতেই আছে, বারান্দায় কাপড় মেলছে। অনেকক্ষণ ধরে কাপড় মেলছে তো মেলছেই । কেউ কিচ্ছু বুঝবে না। দেখবে রিমঝিম টুকরো, ফ্যাকাশে আকাশটার দিকে তাকিয়ে, নিভু নিভু শীর্ণ ডালটায় কচি সবুজ পাতাগুলোর দিকে তাকিয়ে চুল মুছছে, চুল ঝাড়ছে, ঝাড়ছে তো ঝাড়ছেই। আসলে তো তখন রিমঝিম পালাচ্ছে। 

বাথরুমে স্নানে ঢুকে রিমঝিম বড় করে কল খুলে দিয়ে পালায়। শাওয়ার ছেড়ে দিয়ে পালায়। ঝর ঝর করে গায়ের উপরে ঝরতে থাকে জল, আর রিমঝিম তখন কোথায় হারিয়েছে। বড় বড় পাহাড় আর ঝরনার সামনে , সেই এক সবুজ, নরম পৃথিবীতে পালিয়ে গেছে। ছোট্টবেলায় দেখা লিরিল সাবানের বিজ্ঞাপনের মেয়েটার মত হয়ে। 

 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বিহ্বলা গণিতের কোরাস

শামসেত তাবরেজী

 মুগ্ধ করছে, ডর নাই জানে! কথাটা ভিন্নতর ভোল

ডলফিনের কানে কানে একদিন দুঃস্বপ্নে বলেছি
হাত-জোড় করে! জানিয়েছে, মহারথী মহা এক শোল
ফুরিয়ে আসছে তারও সময়দীপন। তার জন্য কেঁদেছি,

তাতে কিবা লাভ! সমস্ত লোকসান মানেই তিজারা,
তাতেই লাইসেন্স মেলে গম্যতার গম ও লূতার।
কীচকের সূরে খসে পরিশ্রান্ত যত-তত আধোলীন তারা
র‍্যাদা ঘষে ঘষে ঘাম ফ্যালে বিহ্বল সিনিক ছুতার।

কি দেখব এসব! বিপণিরচিতা, সংঘ-মেদ, পাষণ্ড নুনু
নিম্নগ মাটির টানে, চায় কি ও ঢুকে যেতে, মরে যেতে সেথা?
কর্ণবিলাস, তার কাজ হল শুনে যাওয়া রুচিরাক্ত নীপার ঘুঙুর
সেত্তেনত্রিয়ন আর জ্বলবে না, তাই বুকে ব্যথা?

 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাঙালির মদ

সংহিতা মুখোপাধ্যায়

 সেই যে দেড়েল মাতালের কথা দিয়ে বাঙালির মাতলামি বা মাতলামির মূলে থাকা মদ খাওয়ার কথা শুরু হয়েছিল, তাঁর পেশা ছিল রিক্সাটানা। তিন চাকার সাইকেল রিক্সাটানা। যাঁরা অমন পরিশ্রমের কাজ করেন তাঁদের নাকি না খেলে চলে না। খেলে অধিকাংশ সময়েই বেসামাল হয়ে পড়েন। তখন ব্যাথার গোড়া উগরে ঢেলে দেন সাহসে কুলোলে জ্যোতিবাবুর ঘাড়ে। আর মিনমিনে মেনিমুখোরা জ্বালা মেটাতে পেটান বউকে, মেয়েকে, ছেলেকে। এই কর্মটি যে নেহাৎ খেটে খাওয়া মানুষের শ্রেণীচরিত্র নয়, তাও স্পষ্ট হয়ে যায় যখন দেখি এক কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসার সাহেব তাঁর রাজ্য সরকারি অফিসার স্ত্রীকে পিটিয়ে পরোটা বানাচ্ছেন শুক্র, শনি, রবিবার। তাঁরা এক নতুন পাড়ায় বাসা নেওয়ার পর বছর চারেক ধরে কর্তাটির শুক্রবার মধ্যরাত্র থেকে শুরু হওয়া পাড়া কাঁপানো খেউড় আর তাঁর প্রহারে আহত, আক্রান্ত কর্ত্রীর আর্তনাদে পাড়া কাঁপলে পরে পাড়ার লোকের মাতাল পেটানোর নেশা হয়। এক শুক্রবার তাঁরা বাড়ির দরজা ভেঙে মাতালকে বার করে নিয়ে বেধে রাখে পাড়ার সব থেকে ক্ষয়াটে ল্যাম্পপোস্টের গায়ে। উন্মত্ত কিছু চড়-চাপড় আর জোর করে তেঁতুল জল দিয়ে নেশা ভাঙানোর প্রয়াস চলে। কেউ পুলিস ডাকে নি।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

Freedom is the drug...

ঋতম সেন

 সহৃদয় পাঠক, যিনি আমার এই ব্যক্তিগত গদ্যটি এখন এই মুহূর্তে পড়তে বসলেন, আপনি কি নেশা ভাং করেন? আমার ধারণা অতি অবশ্যই করেন। নেশা এমনই এক টান যার পাল্লায় না পড়ে উপায় নেই। গানের নেশা, গল্পের নেশা, নাচের  নেশা, সুরের নেশা, তালের নেশা, ছবির নেশা, কবিতার নেশা, সিনেমার নেশা, নাটকের নেশা আপনার কি নেই? আকাশ, বাতাস, সমুদ্র, নক্ষত্র, পাহাড়, সমতল, দিগন্ত এদের পাল্লায় পড়ে আপনি কি ঘন্টার পর ঘন্টা কিচ্ছুটি না করে নিজের ভেতর ঢুকে পড়ে, বুঁদ হয়ে সময় কাটান নি? সূর্যোদয়ের মদ, সূর্যাস্তের গাঁজা আপনি কখনো স্পর্শ করেননি বললে আপনি মিথ্যে কথা বলছেন। অনন্ত রাত্রির কোকেন কখনো কি শোঁকেন নি? এখন মোদ্দা কথাটা হল গিয়ে আপনার সময় নেই। আপনার মাথার ওপর বাঘের মত বস রয়েছে, আপনার বেডরুমে কুমিরের মত হাঁ করে বসে আছে সংসারের হাজার দায়িত্ব।এমনই এক ড্রাগনের সময়ে আমরা বসবাস করতে বাধ্য হয়েছি, যেখানে আমাদের নেশাগুলিকে অর্থাৎ আমাদের গোটা পৃথিবীটাকেই আমাদের কাছ থেকে জোর করে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এমনই ফাঁদে আমরা পড়েছি যে আমাদের হাত পা তো বটেই এমন কি বুদ্ধিবৃত্তি থেকে আরম্ভ করে অনুভূতিগুলিকে পর্যন্ত শিকল টিকল জড়িয়ে বেঁধে মোটা জংধরা তালা লাগিয়ে চাবি দিয়ে সে চাবি আমরা নিজেরাই গিলে নিয়েছি, এবং ভুলে গেছি। ভাবুন মশাই সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত এমনই আপনার জীবন যে আপনার নিজের ইচ্ছে মত কিস্যু করার উপায় নেই। আপনার সময় আপনি বিক্রি করে দিয়েছেন। নিজেই করেছেন, এবং এত কম মূল্যে করেছেন (আমি শুধু আর্থিক মূল্যের কথা বলছিনা) যে সর্বক্ষণ আপনার নিজেকে দেখে নিজেরই লজ্জা লাগে। এই রকম একটা সময়ে আপনি কি করবেন? আপনি কিনবেন। কী কিনবেন? নেশা কিনবেন। আর সেই সব নেশা হবে নকল নেশা। পৃথিবীর নেশার মত, মানুষের নেশার মত তারা আপনার আত্মার উন্নতি ঘটাবে না। বরং প্রভাবিত করবে আপনার শরীরকে, আপনার মাথায়, রক্তে, স্নায়ুতন্ত্রে কিছুক্ষণের জন্য এমন রমরমা ছড়াবে যে আপনার মনে হবে আপনি মুক্ত। আপনি যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন। কিছুক্ষণের জন্যেই আপনার এই যে সর্বক্ষণের দাসত্ব সেটা আপনি ভুলে থাকবেন।একসময়ে আপনার শরীর বিদ্রোহ করবে। আর আপনিও আপনার নেশা থেকে সটান আপনার যন্ত্রণার মধ্যে আছড়ে পড়বেন।আছড়ে পড়বেন সেই জন্য যন্ত্রণা আরো বাড়বে। কিন্তু আপনার মনে আছে সেই ইউফোরিক অবস্থাটা, ফলে আপনি আবার নেশা করতে বাধ্য হবেন, এবং আবার আছাড় খাবেন। এই যে ভয়ংকর লুপ সেটা চলতে থাকবে। আপনার শরীর মন উভয়েই দুর্বল হয়ে পড়বে। আপনি নিজেও সেটা বুঝতে পারবেন। তখন এসে হাজির হবে অপরাধবোধ।আর যেহেতু আপনি সবচেয়ে দুর্বল আপনার নিজের কাছে, সেই জন্য, শুধুমাত্র সেই জন্যেই, আপনি আপনার এই অপরাধবোধের ভারটা চাপাবেন তাদের ওপর যারা বয়সে, পদমর্যাদায়, অথবা শুধুমাত্র আপনার ভাবনায়, আপনার থেকে ছোটো। তাদের ওপর যাদের আপনি ছোটো মনে করেন। আপনি জোর গলায় ফতোয়া জারি করবেন, মেয়েরা মদ গাঁজা সিগারেট খাবে না। আপনি ছাত্রছাত্রীদের একসঙ্গে আনন্দ করতে দেখলে পুলিশে খবর দেবেন। আপনি স্লোগান দেবেন “মদ গাঁজা চরস বন্ধ, তাই কি প্রতিবাদের গন্ধ?” কবিদের মদ খেয়ে চিৎকার করে কবিতা আবৃত্তি করতে দেখলে, শিল্পীদের গাঁজায় ধুর হয়ে রঙ নিয়ে রাস্তা রঙ করতে দেখলে, আপনার গালিব, শক্তি, র‍্যাঁবো, পাবলো পিকাসো কাউকেই মনে পড়বে না, মনে হবে এদের হোক ক্যালানো। ইতিমধ্যে আপনার বয়স বেড়েছে, এবং যে ভয়ংকর লুপে আপনি পড়েছেন, তার ফলে আপনার বয়স বাদে অন্য কিছুই বিশেষ বাড়েনি। আপনার শরীর আর দেয় না, ফলে আপনি কৃত্রিম নেশাটাও ধরুন আর করতে পারেন না। ফলে আপনি আরো চেঁচাবেন বব ডিলনকে বলবেন বদ গাঁজাখোর,জন লেননকে বলবেন মাতাল, কবির সুমনকে বলবেন মাওবাদী, লিওনার্দ কোহেনকে বলবেন মাগীবাজ। নোংরামিটাও একটা নেশা। এটা আপনি বুঝবেন না, কিন্তু এই সর্বগ্রাসী নেশাটি আপনাকে টুঁটি চেপে পাকড়াও করবে। দল বেঁধে ঘেউ ঘেউ করতে যে কি মজা, তা তো আপনার পাড়ার কুকুরগুলি আপনাকে প্রত্যেক রাতে দেখিয়েই দিয়েছে। খিস্তি করার আনন্দে আত্মহারা হয়ে নেশামুক্ত পৃথিবীর দিকে আরো দশ পা এগিয়ে যাবেন। এর ফলে সবথেকে বেশি সুবিধা হবে তাদের যাদের কাছে আপনি নিজেকে বিক্রি করেছেন। বুঝতে পারছেন? সুবিধা হবে ধনতন্ত্রের। এই মাও মাকুদের সঙ্গে যোগাযোগের ফলে, অথবা  এদের সঙ্গে নেশা করে ফেলে যদি আপনি একদিন হঠাৎ বুঝতে পেরে যান কে বা কারা আপনাকে বেঁধে রেখেছে, পঙ্গু করে রেখেছে আপনার চেতনাকে, আপনার গোটা জীবনটাকেই, তবে তো তাদের সর্বনাশ। আপনি যদি একদিন আপনি সত্যি কি চান বুঝে ফেলে সমস্ত বাঁধন দুঃস্বপ্নের মত ঝেড়ে ফেলে অনুভব করেন মাথার চারিদিকে হরিণের দৌড়ে আসার মত বৃষ্টির শব্দ, যদি মেতে ওঠেন স্বাধীনতার নেশায়? যদি বলেন না। যদি বলেন আপনি আর নিজেকে, নিজের সময়কে বিক্রি করবেন না, কারোর কাছে? তাহলে স্যার, ম্যাডাম আপনাকে বলছি শুনুন। আপনারা প্রত্যেকে যদি এটা করেন, তাহলে গোটা মেশিনারিটাই বিকল হয়ে যাবে। সেই যন্তরমন্তর থেকে তখন বেরোবে অন্যরকম মন্ত্র। যেমন ধরুন- “দড়ি ধরে মারো টান রাজা হবে খান খান”। এবারএকটা গল্প শুনুন। কিছুদিন আগেই এক নেশার আড্ডায় এক শিল্পী আমায় এই গল্পটা বলে। বৌদ্ধ গল্প। বুদ্ধের কাছে এক শিষ্য এসেছে একটা প্রশ্ন নিয়ে। প্রশ্ন খুবই গম্ভীর। 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

মদচর্চায় বাঙালি ও অন্যরকম

রঙ্গীত মিত্র

 আমার এক কাকু মারা গেলেন। খারাপ লাগা কালকে অটো না পাওয়ার মতো ফেলে দেওয়া মদের বোতলের মতো...ফাঁকা রাস্তায় কলেজ থেকে ফেরা তিনটি মেয়ের ধরিয়ে নেওয়া সিগারেট...তারপর বোসপুকুর ছাড়িয়ে কসবা থানার আগে একটা ওয়াইন শপে একটি মেয়ের কিনে নেওয়া হাফ লিটার...বয় ফ্রেন্ডের সাথে ঝগড়া করার রোপোয়ে...কিন্তু চারদিকের আলো হাতের মেহেন্দির মতো...পায়ের হিলের ছুঁচলো যৌনতায় শহর স্লিপ খায়...যেভাবে অভাবের গায়ে গায়ে উঠে এসেছে আরেকটা দিন...যেখানে অনেকদিনের কাজ করা প্রতিবাদ নিশান বদলে পাঁচিলে উঠে দেখছে...আমার রুচি মিলছে না...আমি এখানে আমি বাফার হয়ে গেছি...আমি বিষাদের বাগানে বেঁজির মতো বিষাক্ত সাপ...যার চোখের মধ্যবিত্ত লেন্স নেই...খুলে গেছে কবে...তবে এই ঘষা-খাওয়া কালচারে আমি নেই...রেপ্লিকা...ম্যানুয়াল লেবার হয়ে গোপনীয়তা বলছে...বাহ কি বানিয়েছে গুরু...কিন্তু প্রথম দিন থেকেই আমি প্রথমের দলে নেই...আমার তো আর সবার মতো ছকে চলে না...সিস্টেমকে অলটার করতে এসে দেখি ওই তো পায়রার বাসা...ওই তো বেলে-ঘাটা,প্রিটোরিয়া স্ট্রিট...কিন্তু জীবন বি-এস-এন-এল...সারা জীবনে বাজে লোকদের সাথেই লড়ে গেলাম।ভালোমানুষ গোটা কতক...যদিও আমার ভিতর ভাল্লুক ও বেড়াল দুজনেই আছে।আমারও সব কিছু করতে ইচ্ছে করলেও সমাজ জানলা টেনে ধরে...কিন্তু আমি যে তাইওয়ানের মতো বেঁচে থাকতে চাই...আমি শেষ সর্ট-এ জেতে ম্যাচ...তবু গিটার বাজাবো ভেবেছিলাম...ভেবেছিলাম নতুন কিছু করবো...সেই আলাদা হতে গিয়ে বিপদে পড়েছি...কারণ সোসাইটি একটা ক্লাবের মতো...এইবার প্ল্যাস্টিক ছেড়ে বেড়িয়ে আসা দালাল স্ট্রিট ...এইবার সব গলি উন্নয়নের মেকি স্বপ্নিং কম্প-প্লেক্স...আমি সাউথ-সিটি কোয়েস্টমল যেতে চাইনা...বাইরের বিশ্বায়ন আমার নয়...আমার কাছে ভিতরটাই দামি...ভিতরে তবু সবাই পিছিয়ে পড়ে আছে/বাইরে আগামি... আবার ভিড়ে ক্লান্ত শহরের গুটিপোকা সুন্দরী...প্রেম-ভাঙা প্রেম-জাগা প্রেমময়...এশিয়ান গেমস...কি হচ্ছে কি হচ্ছে না জানি না...করাপশন...মিডিয়াহাইপ...পেজ থ্রি...জানি না...তাও কবিতা জেগে থাকে...মামমামময়...আমার সততা...উড়ে যাওয়া রেবেল...আমি জানাই...আমি যতই মাথা নিচু করে থাকি,সময় হলেই চে হয়ে যেতে পারি...আমি আপাতত কিছুই জানি না...নকল...ভণ্ডামি আর মধ্য-মেধার বিছুটিতে আমি নেই...আমার খারাপ লাগে।খারাপ লাগে বলেই লিখতে বসে...লেখার উদারতা আমাকে অনেক শিখিয়েছে...তাই এতো কিছুর পরেও জীবনে প্রথম আজ রাত ৭টা থেকে সারা কলকাতা ঘুরবো...কোথাও তোমাদের সাথে দেখা হয়ে যাবে...সিনেমার পর্দায় এখন হাত ডুবিয়েছে মহাকাশ...আপাতত সব সৃষ্টিরা মিশে যাক...যাক মিশে। 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা