এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা।পড়তে থাকুন রোজরোজ। প্রবেশ করে দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।

হরিদাস পালেরা

একক

স্বাদ



সামাজিকতা মেটার পরে, যে ঘরটায় কোনোদিন থাকতে চাইনি সেখানেই জায়গা হলো । একটামাত্র খুপরি জানলা । দেয়ালের দিকে মুখ করে ছবির দিকে তাকিয়ে বাবা দাঁড়িয়ে । এই জামাটাই । ছবিতেও । সেই ধর্মতলার দোকান থেকে এনেছিলুম , ঠিকঠাক ফিটিং হতো তখন , কিন্তু দিনদিন শুকিয়ে কেমন হাড়সর্বস্ব হয়ে গেলেন মানুষটা । এখনো দেখছি সেইরকম । জেগে আছে পিঠের ডানা দুটো । পাশে গিয়ে দাঁড়াতে একবার দেখে বললেন : খাওয়া শেষ করতে পেরেছিলে ?

বললুম : না । গলায় আটকে গেলো তো ।
হাসলেন : আমার ও তো তাই , জলের গেলাস অবধি হাত ...
     ... পড়ুন এককএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Sarit Chatterjee

ঢেঁকি

ঢেঁকি
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প

সামনের বাড়িটার জানলা দিয়ে টিভিটা দেখা যাওয়ায় ওর খুব সুবিধা হয়েছে। সাড়ে সাতটা বাজলেই 'গোয়েন্দা গিন্নি'র জন্য ছটফট করে ওঠে ওর মনটা। আহা! রবার্ট ব্লেক বা ফেলু মিত্তির কোথায় লাগে এই পরমা মিত্তিরের কাছে!

আজও সবে ও বেশ আয়েশ করে জাঁতি আর সুপুরিক'টা নিয়ে বসেছিল; হঠাৎ নাকে অগুরু সেন্ট-এর গন্ধটা ধক করে এসে লাগল। ভুরুজোড়া অনিচ্ছা সত্তেও কুঁচকে উঠল ওর।
যা সন্দেহ করেছিল ঠিক তাই! গায়ে আদ্দিরের গিলে করা ফিনফিনে পাঞ্জাবি, কোঁচানো ধুতির কোঁচার ফুল হ ...
     ... পড়ুন Sarit Chatterjeeএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Sushovan Patra

হু ওয়াজ নজরুল ?

- হু ওয়াজ নজরুল মামমাম?
- সাচ অ্যা শেম তাতাই! ইউ ডোন্ট ইভেন নো নজরুল তাতাই? হি ওয়াজে গ্রেট বেঙ্গলি পোয়েট, রাইটার অ্যান্ড মিউজিসিয়ান। উই অল রেড হিস পোয়েম ইন আওয়ার চাইল্ডহুড।
দিল্লী মেট্রো তে আড়ি পেতে শোনা এই কথোপকথনের মত, গত পাঁচ বছরে আরও গণ্ডা খানেক উদাহরণে ঋদ্ধ হয়ে নিশ্চিত হয়েছি যে, দিল্লীর কনটেম্পোরারি বাঙালি বাপ-মা’রা কদাচিৎ ব্যতিক্রম ছাড়া আর ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলেন না। আজকাল তো শুনছি কলকাতাতেও বলেন না। গ্লোবালাইজেশনের দুনিয়ায় ক্লাস টু’র বাচ্চা'দের ইংরেজিতে ঢেকুর তোলাটাও ন ...
     ... পড়ুন Sushovan Patraএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

শিবাংশু

কবিরা খড়া বজার মেঁ

কবিরা খড়া বজার মেঁ, মাঁগে সবকা খ্যয়ের ।
না কাহুসে দোস্তি, না কাহুসে ব্যয়ের ।।

('বজার' মানে মানে এই সমাজবিশ্ব। কবির সেখানে দাঁড়িয়ে সবার মঙ্গল কামনা করছে। তার সঙ্গে কারও বন্ধুতা নেই, শত্রুতাও নেই কারও সঙ্গে।)
ছোটবেলায় পড়া কবিরের অনেক দোহার থেকে এই দোহাটি আলাদা করে মনে থেকে গিয়েছিলো। নির্গুণ ভূমাদর্শনের সব কথা এই কটা শব্দের মধ্যে ধরে ফেলা কবিরের পক্ষেই সম্ভব। বয়সের বিভিন্ন স্তরে এই শব্দনির্মাণটি বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
---------------------------------
প্রাতিষ ...
     ... পড়ুন শিবাংশু এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Debabrata Chakrabarty

নীলকরের দালালী


আনন্দবাজারের খবর অনুযায়ী ,শ্যামের নাম ‘ কানাই ‘ রেখে রেজ্জাক মোল্লার নেতৃত্বে রাজ্যে চুক্তি চাষ শুরু হতে চলেছে । চুক্তি চাষ কথাটি যেহেতু সিঙ্গুর ,নন্দীগ্রাম পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে বিপদজনক সেহেতু এই প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে পার্টিসিপেটারি ফার্মিং - অংশগ্রহণ মূলক চাষ । আনন্দবাজারের এই খবর যদি সত্য হয় তাহলে শাসকের পালটি খাওয়া শুরু ,তাও এমন এক ভদ্রলোকের হাত ধরে যিনি বিগত সরকারের সময়ে সমস্ত কৃষক বিরোধী কাজকর্মের পাণ্ডা ছিলেন । আদিবাসি জমি ,খাস জমির চরিত্র বদল করে হাজার হাজার একর জমি উনি উত্তর ...
     ... পড়ুন Debabrata Chakrabartyএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Prativa Sarker

ভোঁ কাট্টা

আজ অটোর জানালা দিয়ে রাজাবাজারের মোড়ে দেখি আকাশের অনেক উঁচুতে চৌকো গোল নানা রঙিন ছোপ।

ঘুড়ি !

নাকি হৃদয়ের কথা যা কোনদিন কেউ শুধোল না!

সে যাই হোক, ছোটবেলাটা ছুট্টে এলো কোথা থেকে এই ঘিঞ্জি ভিড় ঠেলেও! তার মাথায় এখনো রিবন বাঁধা, হাঁটু ঝুল ফ্রক। মনে করিয়ে দিল ডানপিটে মেয়েটাকে যে একগাদা ছেলের সঙ্গে পাশাপাশি দুটো বড় গাছে ঘুড়ির সুতো পেঁচাচ্ছে। ঘুরিয়েই যাচ্ছে।
তেতলার হাতে এরারুট বা গদের আঠা। ওই আঠা ন্যাকরায় নিয়ে পেঁচানো সুতোয় লাগাতে হবে। আর সাগরের হাতে হামানদিস্তায় পেষা ফটো ...
     ... পড়ুন Prativa Sarkerএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Somnath Roy

সিঙ্গুর -- একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া

সিঙ্গুরের ঘটনাপুঞ্জ তার বৃত্ত সম্পূর্ণ করলো এই সপ্তাহে। এইখানে বৃত্ত লিখতে তবুও একটু বাঁধছে, কারণ, গত দশ বছর আগে কোনও ভাবেই ভাবতে পারিনি যে শেষটা এইখানে হবে। প্রথমে তো বেশ ভালোই লাগছিল, অফিসে কম্পিউটার আর প্রাথমিকে ইংরেজি বর্জনকারী সিপিএম অবশেষে রাজ্যে ইন্ডাস্ট্রি আনা নিয়ে সিরিয়াসলি কিছুটা এগোচ্ছে দেখে। চাকরি বাকরি বাড়বে, ক্যাশ ফ্লো বাড়বে, অর্গানাইজড লেবার ক্লাস তৈরি হবে--- ইত্যাদি মিলিয়ে সে বেশ ভালো ব্যাপার মনে হচ্ছিল। তারপর সেই ফোর্থ ইয়ার থেকে জেনেছি কোর জব করতে হলে বাড়ি ছাড়তে হবে, এই শিল্পা ...
     ... পড়ুন Somnath Royএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

souvik ghoshal

উগ্র প্রাদেশিকতা কর্ণাটক তামিলনাড়ু জুড়ে

উগ্র জাতিয়তাবাদের বিপদ ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে। দুটো বিশ্বযুদ্ধ, ফ্যাসিবাদ নাৎসীবাদের উত্থানের মধ্যে এই উগ্রতার সমস্যা আমরা দেখেছি। উগ্র প্রাদেশিকতাবাদও যে কতটা সমস্যাজনক হতে পারে কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর পরিস্থিতি তা আমাদের দেখাচ্ছে। এর আগে মহারাষ্ট্রে আমরা শিবসেনা বা মহারাষ্ট্রের নবনির্মাণ সেনার দ্বারা এরকম ঘটনা দেখেছি। সেখানে বিহার থেকে চাকরীর পরীক্ষা দিতে যাওয়া যুবকদের মারাত্মক হেনস্থার কথা অনেকেই মনে করতে পারবেন। রাজনৈতিকভাবে উগ্র প্রাদেশিকতাকে ব্যবহার করার একটা প্রবণতা, সহজে গরম বক্তৃতা দিয়ে রা ...
     ... পড়ুন souvik ghoshalএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Sumeru Mukhopadhyay

ঈশ্বর, মৃত্যু ও অপেক্ষা

বেশ। মৃত্যু এখন তাড়া করেছে। তার খেয়ে দেয়ে কাজ নেই। তাই আমার পিছনে, আর সে কেবল দৌড়ে বেড়ায়। হোঁচট খায়, আমি ঘাড় না ঘুরিয়ে টের পাই। ইচ্ছে হলে আমানবিক হাসি। মৃত্যুর ব্যপারে আমি নিষ্ঠুর, হয়ত আরও নিষ্ঠুর হতে চাই। আমি আবার পালিয়ে বাঁচি। ধর্মের জল গাইয়ে না লাগিয়ে আমি হাঁটি মত্যুর পেতে রাখা ইঁটের ওপর, টালমাটাল সীমান্ত গান্ধী, যেমন সন্ধ্যার সহজাত আখ্যান। এখনও সময় পেলে ভাবি, মৃত্যু কেন দৌড়ায়, এই যে অকিঞ্চিৎকর, এই অনবরত দীর্ঘশ্বাস ক্লান্তিকর মনে হয়। বাতি লাল হলে জেব্রা বরাবর মৃত্যুকে রাস্তা পেরতে দেখি। আমি দ ...
     ... পড়ুন Sumeru Mukhopadhyayএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Ashoke Mukhopadhyay

বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

[গ] বিজ্ঞানমনস্কতা বলতে কী বোঝায়

এপর্যন্ত পড়ে কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, বিজ্ঞান-মনস্কতার কথা বলতে বসে আমি স্রেফ ভূগোল আর ইতিহাস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম কেন? বিজ্ঞান নিয়ে এখন অবধি একটাও কথা তো পাড়িনি। বিজ্ঞান বাদ দিয়ে বিজ্ঞান-বোধ হয় নাকি? বিজ্ঞান মানে বিশেষ জ্ঞান যা পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের উপর প্রতিষ্ঠিত—এই সব কথা তো বলছি না। বিজ্ঞান মানে সব কিছুকে যুক্তি তর্ক করে বিচার বিশ্লেষণ করে তবে গ্রহণ করতে হবে—সেই সব পুরনো কাসুন্দির কথা তুলছি না তো? ধান ভানতে বসে শিবের গীত গাইছি কেন?
...
     ... পড়ুন Ashoke Mukhopadhyayএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

আমার নবারুণ সহজিয়া

সোনালী সেনগুপ্ত

 এমনভাবে দুহাতের অঞ্জলি ভরে দেবার ক্ষমতা যাঁর করায়ত্ত তিনি কেন মুঠি কৃপণ করে রাখলেন? আর এও মনে হয়, যে জন্য রাখলেন, তা কি সফল হয়েছে কোথাও? তিনি যাঁদের হয়ে সওয়াল করে গেলেন, অ্যাকাডেমিক আলোচনার বাইরে তাঁদের কোনো কাজে কি আসবে নবারুণের লেখা?  কোনো কবি বা কোনো কবিতা তো শেষ কথা বলে না! কোনো প্রতিক্রিয়াও কি আনে? শেষ অব্দি আকাশের বোমারু বিমানকে পরম বিশ্বাসে পাখির ঝাঁক ভেবে নেওয়া মানুষরাই তো আমরা।


...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

‘প্রেম ও পাগল’ : অ্যাভয়েডেড এরিয়া

মৌপিয়া মুখোপাধ্যায়

 নবারুণ ভট্টাচার্যের লেখার সঙ্গে সহবাস আমার কাছে সাধারণত খুব স্বস্তিদায়ক হয় না। ঠিক যেরকম চ্যাপলিনের ছবি দেখাটা – মানে ঐ মজা, হাসি, ব্যঙ্গ, কৌতুক, খিস্তি খাস্তার আড়ালে থাকা যে বাস্তবের চাবুকটা আছড়ান এঁরা, সেটার শব্দ যাঁরা শুনতে পান… তাদের পক্ষে এই পাঠগুলো খুব সহজ হয় কিনা জানিনা… কিন্তু আমার অস্বস্তি হয়। তারপরে অনেকক্ষণ বা অনেকদিন নানা ভাবে এই আখ্যানগুলোর চরিত্ররা তাদের নানা ঘটনা নিয়ে ঘুরে ফিরে যাতায়াত করে মগজে, মনে… অস্বস্তি হয়।


...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

কবি নবারুণ থেকে পুরন্দর ভাট – একটি যাত্রা, ভিন্ন মাত্রা

জয়তী বড়াল

 বিস্ফোরণ ঘটছিল, আর তা নবারুণের মধ্যেই। বদলাচ্ছিলেন কবি। কবি নবারুণ ভটাচার্যের পরিচয় বদলে যাচ্ছিল কবি পুরন্দর ভাটের মধ্যে। যেমন সাহিত্যসম্রাট ঔপন্যাসিক বঙ্কিম মন খুলতেন আফিংখোর কমলাকান্তের মুখোশের আড়ালে – হয়তো তেমনিভাবেই পুরন্দর ভাট ছদ্মনামটাই আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল সময়দীর্ণ নবারুণের। কবি নবারুণ সিরিয়াস – তার থেকে শতযোজন দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ছ্যাবলামোভরা গদ্যকার নবারুণ। কিন্তু ধীরে ধীরে দুইধারা মিলেমিশে গেছে। তাই ২০১২ সালে ‘ভাষাবন্ধন প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত ‘পুরন্দর ভাটের কবিতা’-তে কোথাও নেই নবারুণ ভট্টাচার্য! সেখানে ফিক্‌ফিক্‌ হেসে কপিরাইটের দাবি করেন ফ্যাতাড়ু ও চোক্তারেরা! সেখানে উৎসর্গ পত্রে লেখা থাকে – ‘সব খচ্চর ও হারামিদের’!


...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

আমার নবারুণপাঠ, ব্যক্তিগত

প্রজ্ঞাদীপা হালদার

বহুদিন আগে বইমেলায় নবারুণের প্রেম ও পাগল নামের একটি বই কিনেছিলাম। সেখানে সম্ভবতঃ ‘জনৈক নৈরাজ্যবাদীর সংবাদ’ (বইটি কোনো বন্ধুজনে চক্ষুদান করেছেন, তাই একটু সন্দেহ রয়েই গেলো) নামের একটি আখ্যান ছিলো। একটি নৈরাজ্যবাদী পিওন গোপনে তার নাশকতা ছড়াচ্ছে বিড়ির টুকরো (কারণ বিড়ির কোনো স্টাম্প বা বাট হয় না।) পোস্টবক্সের মধ্যে ফেলে। পরেরদিন চিঠির গায়ে ছোট্ট ছোট্ট পোড়া দাগ। এবং আমার ধারণা হয় যদি আমরা একাধিকজনে বিড়ির টুকরোগুলো পোস্টবক্সে ফেলি, হয়তো একদিন তা সর্বগ্রাসী অগ্নিকান্ড হবে। পুড়ে যাবে গোপন সংকেতবার্তা। পুড়ে যাবে সামরিক তথ্য। কে জানে এই সব ছোট ছোট বিড়ির আগুনের মতো ব্যক্তিগত বিপ্লব একদিন সমষ্টিগত রূপ নেবে।


...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

অথ নবারুণ-কথা

সঞ্চারী গোস্বামী

 থাপ্পড় মেরেছেন নবারুণ। হ্যাঁ, একদম কষে সপাটে থাপ্পড় মেরেছেন। বাঙ্গালির চিরকালের শুয়ে বসে আরাম করে প্রেম-থ্রিল-কমেডির কাহিনি ও কবিতা পড়ার অভ্যাসের মূলে আঘাত করেছেন তিনি। এবং একদম ঠিক করেছেন।

প্রথমেই একটা স্বীকারোক্তি আছে। আমি জানিনা মহিলা পাঠক বলে কোনো আলাদা বিভাগ আছে কিনা, তাই স্বভাবতই মহিলা পাঠকের বিচারে নবারুণের লেখার বিশ্লেষণ করতে আমি অক্ষম। আমি বরং একজন সাধারণ পাঠক হিসাবে নবারুণকে দেখব। মানে তার এই থাপ্পড় আমার কেমন লেগেছে আর কি!

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

নবারুণ ভট্টাচার্যের কবিতা

শাশ্বতী মিত্র

 অথচ সেই মুহূর্তে বাস্তব তার ‘ইন্টারোগেশন’ নিয়ে তাঁর সমস্ত ইচ্ছেকে ধূসরিত করছে, না মানলেও রাষ্ট্রদ্রোহিতার কলঙ্ক লাগানো শহীদদের প্রতি বর্বরোচিত আক্রমণের নগ্নতায় বিপন্নতা দেখা দিচ্ছে। কবিতাকে সশস্ত্র করছেন আদিবাসীর বল্লম, চর দখলের সড়কি, বর্শা, তীক্ষ শর, বন্দুক ও কুরকি দিয়ে। আবার কয়লাখনির মিথেন অন্ধকারে হিরের মতো জুলন্ত চোখের শাসানির যে ভয় শাসককে দেখালেন তা দেশকালের সীমানার বাইরে চির প্রতিস্পর্ধী এক কবির। নবারুণ স্থির থাকবেন কী করে, তিনি যে দেখেছেন তরাই থেকে সুন্দরবনের সীমা সারা রাত্রি কান্নার পর শুষ্ক দাহ্য হয়ে আছে। (এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না)


...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

সিঙ্গুর মামলা ও আমাদের প্রাপ্তি

সরসিজ দাশগুপ্ত

 কিন্তু, অধিগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটাই যে বেআইনি ছিল, এই ব্যাপারে উনি কোনো সন্দেহ রাখেননি। ওনার মতে, যেহেতু আগেই জমি চিহ্নিত হয়েছিল, ও ক্যাবিনেট মিটিঙে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছিল, সেহেতু চাষিদের অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে থাকা অসন্তোষ, অভিযোগের বা আপত্তির, তৎকালীন ল্যান্ড-কালেক্টর কোনো বিচার করেননি, আর, মেকানিকালি উপেক্ষা করেছেন, বা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আগে থেকেই নিয়ে ফেলা সিদ্ধান্তের ওপর সিলমোহর ফেলতে একটা আই-ওয়াশ বা ছলনার মাধ্যমে চাষিদের ও জমির মালিকদের অভিযোগের বিবেচনা করা হয়েছিল, যার অন্তিম পরিণতি, সেই অভিযোগগুলির উচিত বিবেচনা না হওয়া। কমপেনসেশন বা ক্ষতিপূরণের পরিমাণ যেভাবে ঠিক হয়েছে সে নিয়েও উনি প্রশ্ন তুলেছেন। অতএব, ওনার মতে, জমি অধিগ্রহণ জনস্বার্থে হয়ে থাকলেও, অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি।

 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হেমন্ত, হায়দার, হ্যামলেট

অনিন্দ্য সেনগুপ্ত

 'হায়দার'-এর রিস্কগুলি আখেরে ছবিটিকে উতরেছিল না ডুবিয়েছিল তা নিয়ে তর্ক থাকবে। কিন্তু বিশালের ওই মারাত্মক ডিপার্চারটি অঞ্জনের ভালো লাগেনি – হায়দার খুররমকে হত্যা করতে পারে না। আমি তো আগেই বলেছি 'হায়দার'-এর প্রোজেক্টই ছিল মূল প্লটের নিষ্পত্তিকে বিপর্যস্ত করা, মায়ের ইন্টারভেনশনে। আর একটা পয়েন্ট ভাবুন - সেই ছেলেবেলায় জেনেছি হ্যামলেট procrastinator, সে ভাবে খালি, অ্যাক্ট করতে পারেনা। বিশাল কি করলেন? হ্যামলেটকে সেই সংজ্ঞাতেই ফ্রিজ করে দিলেন। তার অ্যাক্টের আর কোনো মূল্যই থাকলো না। বরং কাকা-ভাইপো একটা ভূতগ্রস্থ পরিবারের অবশিষ্ট হয়ে ঘুরে বেড়াবে উপত্যকাময় যাদের আত্মীয়তার সূত্র হল একজন নারীর প্রতি তাদের প্রেম, যে নারী আর দেশ এখন একাকার হয়ে গেছে রক্তে-মাংসে-বরফে। এই রিস্কগুলো, এই ডিপার্চারগুলো নতুন ইন্টারপ্রিটেশন হয়ে অবলম্বনে মূল্য বাড়ায়। আর অতিরিক্ত আবেগ তৈরি করে। 'হেমন্ত'-এ সেই আবেগ নেই; 'হেমন্ত' বড্ড sane ও যৌক্তিক।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

কানন দেবী

কল্লোল লাহিড়ি

 ভয় পেয়ে গিয়েছিল ছোট্ট মেয়েটা। অনেক লোকের মাঝে তাকে সকাল থেকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এই পাড়াতে, এইরকম বাড়িতে আগে কোনোদিন আসেনি সে। তার বাড়ির লোকেরাও কোনোদিন আসেনি। তাকে আসতে দিতেও মন চায়নি তাদের। প্রায় জোর করেই চলে এসেছে ছোট্ট মেয়েটি। কারণ সে জানে তার ওপর এবার সংসারের অনেকটা দায়িত্ত্ব। কিছুদিন আগেই বাবা মারা গেছেন। মাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে উঠে আসতে হয়েছে দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাড়িতে। সেখানে সারাদিন, সারা রাত অমানুষিক পরিশ্রম করেও বাড়ির লোকের মন পায়নি তারা। চলে আসতে হয়েছে সেই অপমানকর আশ্রয় থেকেও। মায়ের সেই দুঃখ ছোট্ট মেয়েটি ভুলতে পারেনি কোনোদিন। ভুলতে পারেনি পড়শিদের সেই কানা-ঘুষো। আসলেই যাকে বাবা বলে ডাকতো, আদতে সেই কি ছিল তার বাবা? নাকি মায়ের অন্য কেউ...? লজ্জায় রাঙা হয়ে যেত ছোট্ট সেই মেয়েটার মুখ। দারিদ্র্য ছিল। কিন্তু দারিদ্র্যের সাথে সম্মানবোধ ছিল খুব তীব্র। ছোট্ট মেয়েটা মনে মনে পণ করেছিল আর যাইহোক দিদি, মা, এই সংসারটাকে সে কোনোদিন ভেসে যেতে দেবে না। সবাই যাতে দুবেলা খাবার পায়, পড়ার কাপড় পায়, মাথা গোঁজার জায়গা পায়, সন্মানের সাথে জীবন নির্বাহ করতে পারে তার জন্য ছোট্ট মেয়েটা নিজের সমস্ত শখ, আহ্লাদ, নিজের ছোটবেলাটা বিসর্জন দিয়ে একলা একলা প্রতীক্ষা করছে। অনেক আলো, অনেক যন্ত্রপাতি আর বেশ কিছু রঙ-চঙে মানুষের মাঝে। মনে হচ্ছে আজ তার অগ্নি পরীক্ষা। হ্যাঁ, এই ছোট্ট বয়সেই।


...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

কৌশিক গাঙ্গুলির ‘সিনেমাওয়ালা’: একটি ব্যতিক্রমী ছবি

শৌভ চট্টোপাধ্যায়

 বিগত এক দশকের বাংলা ছবি (মানে, কাগজের ভাষায়, তথাকথিত "মননশীল" বাংলা ছবি) দেখলে একটা কথা খুব পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে, বাংলা সিনেমার সাথে আন্তর্জাতিক সিনেমার সম্পর্ক, যা সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক একদা স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছিলেন, এখন প্রায় পূর্ণতঃ ছিন্ন হয়েছে। বাংলা সিনেমা, অধুনা, তার নির্মাণে ও মেজাজে, পরিপূর্ণ মধ্যবিত্ততার একটি পঙ্কিল আবর্তে পাক খেতে খেতে, একমনে, নিজেই নিজেকে ক্রমাগত ধ্বংস করে চলেছে। বিশ্বসিনেমার ভাষা যতই বদলে যাক না কেন, যতই জটিল হয়ে উঠুক না কেন তার অন্তর্গত আখ্যানের বুনন, বা সেই আখ্যানের সঙ্গে বহির্বাস্তবের লেনদেন ও টানাপোড়েন, বাংলা ছবি, তবুও, দৃশ্যের মাধ্যমে একটি নিটোল, নাটকীয় অথচ অন্তঃসারশূন্য গপ্প বলাকেই তার পবিত্র কর্তব্য ঠাউরে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে ব্যস্ত থাকবে। এমনকী, ছবির ভাষা নিয়ে মাথা ঘামানো ছেড়ে, শুধু যদি এটুকুই প্রত্যাশা করি যে সেই গল্প, আদতে, মধ্যবিত্তের কোন গূঢ় আস্তিত্বিক সংকট বা জটিল স্ববিরোধকে দর্শকের সামনে উপস্থাপিত করবে, তাহলেও আশাভঙ্গের শিকার হতে হয়। কেননা, মধ্যবিত্তের হাঁচি-কাশি-টিকটিকি-প্রেম-অপ্রেম-আমাশার গল্পকে, ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে, সভ্যতার সংকট হিসেবে উপস্থাপিত করাই, এখন তার নতুন দস্তুর। এবং এই অন্তঃসারশূন্যতাকে আড়াল করার জন্যে রয়েছে আরোপিত কেতা, যা, বস্তুতপক্ষে, ষাট-সত্তরের দশকের আভাঁ-গার্দ ছবির থেকে ধার করা, পরবর্তীতে মিউজিক ভিডিওর জমানায় ব্যবহৃত হতে-হতে বাসি মাংসে পরিণত হওয়া, ক্যামেরা বা সম্পাদনার কৌশলমাত্র। বিশ্বসিনেমার কথা বাদ দিলেও, কেবল যদি হিন্দি বা মারাঠী সমান্তরাল ছবির কথাই ধরি, তাহলেও বোঝা যায়, বাংলা সিনেমা ঠিক কোন গর্তে গিয়ে মুখ লুকিয়েছে।


...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

আমি শুধু চেয়েছি তোমায় – (স্পয়লার অ্যালার্ট)

তিতাস বেরা

 এইখানে কিছু জিনিস ক্লীয়ার করে নিতে হবে। হীরো কিন্তু মূলত ভূমি উদ্ধারের জন্য এসেছে। তাকে উদ্ধার করে সেই তৃতীয় পার্সনের হাতে তুলে দিতে হবে। মানে হাবাপনার চোদ্দগুষ্টি আর কী! সেটে ব্যাপারটা অনেকবার অনেকে আপত্তি করেছে, কিন্তু পেলেদা শুনতে চাননি। ওঁর একটাই দাবী। সেটা হ’ল, যত বেশী গোঁৎ, তত বেশী ফোঁৎ। সুতরাং দর্শকের নিডপূরণ ও ন্যাপকিনের কথা মাথায় রেখেই হীরোর এই উদারীকরণ। তার বেশী কিছু না। অতএব প্ল্যান অনুযায়ী হীরো বিয়ে ভন্ডুল করবে। তারপর নায়িকাকে নিয়ে পালাবে। তিস্তার দিক দিয়ে পালানোটা বেটার। সাদা সুমো করে। ব্রিজের ওপারে তৃতীয় পান্ডব লাল সুমো নিয়ে অপেক্ষা করবেন। একটা ট্রেন থাকবে। সেটা চললেও কোনো অসুবিধে নেই। কোনটা ভারত বাংলাদেশ বর্ডার সেটা নিয়ে দর্শককে মাথা ঘামাতে দিলে চলবে না। দৈবাৎ কেউ যদি ঘামিয়েও ফেলে তবে তার জন্যে রয়েছে নির্ভেজাল মুগ্ধবোধ। 

 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

শেষের কথা

 আশা ছিল সকলেই নিজেদের জানা নবারুণ-পাঠিকাদের লিখতে উৎসাহী করবেন, এবং জরুরি, যারা চেষ্টা করেও নবারুণ-পাঠিকা হয়ে উঠতে পারেননি, তাদেরও। কেন একজনের লেখা একেবারেই আকর্ষণ করছে না - এটাও ত লেখার। এই জায়গাটা দেখেছি একেবারেই ধরা পড়ে না কোথাও। অথচ বর্তমান বাংলা ভাষার একজন মেজর লেখক হিসেবে তিনি চিহ্নিত হচ্ছেন। বিরূপ পাঠপ্রতিক্রিয়া ও তো লিখে ফেলা যায়। কেন এগনো যাচ্ছে না লেখার মধ্যে, কোথায় কীভাবে আটকাচ্ছে। ইন্টারভিউও তো ভালো অপশন। ইন্টারভিউ নিয়ে কেউ কোথাও কিছু লিখেছে বলে জানিনা। যে, ইন্টারভিউর মধ্যে দিয়ে মানুষটা কীভাবে বেড়িয়ে আসছেন, কিভাবে তাঁকে নিজের মতো একরকম বুঝে নেওয়া যাচ্ছে। চেয়েছিলাম নিজের কথাও লিখবেন কেউ কেউ, ওঁর লেখা পড়তে পড়তে কীভাবে রিয়্যাক্ট করছেন, রিলেট করছেন বা করছেন না, থট প্রসেস পাল্টে যাচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গী পালটে যাচ্ছে বা যাচ্ছে না। কতটা পারা গেল, এই সংকলনটিই তার সাক্ষ্য দেবে।

 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা