বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

তিনটি কবিতা

মণিশঙ্কর বিশ্বাস

ফরেনসিক
~~~~

তোমাকে রক্তের দাগ মনে হয়—
কোথায় পৌঁছাতে হবে, ভেবে দেখি, বিশাল আকাশ
মৃত্যুর সবুজ ধানক্ষেত—
ইহজীবনের প্রতিবিম্বগুলি খসে পড়ে
পাখিদের বেশে ওড়াউড়ি করে—
এটুকু লেখার পরই, কবিতায় আবার গল্প লেখার কথা ভাবি

তোমাকে, সাবান জলে ধুয়ে ফেলা, রক্তদাগ মনে হয়।

 

ধূপকাঠি
~~~~

ধূপকাঠি যতক্ষণ
দাউদাউ করে জ্বলে
সুগন্ধও পুড়ে যায়—
সে তখন চিতাকাঠ
মানুষটির কামনা নাশকতা স্নেহ যৌনতার
প্রকৃত তৃষ্ণার থেকে দূরে
আমগাছের ছায়ায়
আম্র মুকুলের গন্ধের মতন
মানুষটি তখন ওড়াউড়ি করে।

জীবিত কামনা দাউদাউ নিভে এলে
ধূপকাঠি যখন পদ্মাভ, শরণাগত
তোমার পায়ের মতো রাঙা—
তখনই তার প্রকৃত সুবাস
টের পাই, অমিতাভ।

 

স্তন
~~~~
 

স্তনসমগ্র আমি প্রায় তৎসম শব্দবহুল প্রবন্ধ-জ্ঞানে পাতা উল্টাই
তার ডৌলে প্রজাপতি ওড়ে তবু খুব দূরে যাবে না আমার মাথার ভিতর
বনগাঁ লোকাল অথবা অন্য নানাবিধ শকট চাক্কাবন্ধ আচমকা রেলরোকো
সভ্যতার চাকা এবং সভ্যতার কথায় উৎপল বসুর
ঢিলে পাজামার অধিক উৎপল যেন হুবহু টোকা
মানবচৈতন্য উন্মেষের দিনটি ছিল বিদ্যুল্লতাবাহী ঝড়জলের রাত
ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ রাতের গভীরে এক গুহা
যেই তার বিশুষ্ক গুল্মের শয্যায় মা অভুক্ত সন্তানের মুখে
গুঁজে দিলেন স্তন অমনি ফিতে কাটা হল ব্রিজের এপারে
হাসিমুখে লোকাল কমিটির মাতব্বর আর তার  শ্যালিকা
সেলফিকুমারি দাড়িগোঁফহীন কিছুটা ক্লীব মন্ত্রী অনেকে ফটো তুলছে
ব্রিজের এপারে ঢালু জমির পাশে কচুবন কচাগাছের বেড়া
ইটভাটাশ্রমিকমা শিশুকে কোলে করে ঘুমিয়ে পড়ছেন টালির বারান্দায়
দেড়লাখ বছর আগেকার ঘুম বহু পথ অতিক্রম করে
পূর্ব আফ্রিকা থেকে এসে আবার ঘুমিয়ে পড়ছে
পটাশপুর স্টেশানব্রিজের অবৈধ রেলকলোনিতে এসে।।



259 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ কাব্যি  বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


Avatar: Prativa Sarker

Re: তিনটি কবিতা

এই কবির আশ্চর্য কবিতাসকল বার বার গুরুচণ্ডালীতে উঠে আসুক।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন