বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

দেবাশিস্‌ ভট্টাচার্য

প্রেক্ষাপট



একটি অসাধারণ ইংরিজি বাক্য আন্তর্জাল-পরিসরে প্রায়শই ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়, যার বাংলা তর্জমা মোটামুটি এই রকম হতে পারে - ‘ধর্ম হল অজ্ঞ জনসাধারণের কাছে পরমসত্য, জ্ঞানী পণ্ডিতের কাছে মিথ্যা কুসংস্কার, আর শাসকের কাছে শাসনের জবরদস্ত হাতিয়ার’। আজকের দিনের ভারতের রাষ্ট্র ও রাজনীতির রকমসকম যিনি লক্ষ করেছেন, তাঁকে নিশ্চয়ই কথাটার অর্থ আর বলে বোঝাতে হবে না। গুজব আছে, কথাটা নাকি বলেছিলেন প্রাচীন রোমান আইনজ্ঞ সেনেকা, কিম্বা হয়ত কবি-দার্শনিক লুক্রেশিয়াস, যদিও তাঁরা যে ওটা কোথায় বলেছিলেন সে আর কেউ বলতে পারে না। কেউ কেউ খোঁজখবর করে দেখেছেন, ও রকম একটা বাক্য আসলে আছে অষ্টাদশ শতকের ব্রিটিশ ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড গিবন-এর ‘দ্য হিস্ট্রি অফ দ্য ডিক্লাইন অ্যান্ড ফল অফ দ্য রোমান এম্পায়ার’ নামক পৃথুল গ্রন্থে, যদিও সেটা রোমান সমাজের ধর্ম প্রসঙ্গেই বলা। তো, কথাটা যেখান থেকেই আসুক না কেন, ধর্ম বিষয়ে ওর চেয়ে সত্যি কথা বোধহয় খুব কমই আছে। মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসিদ্ধির ব্যাপারে ধর্মের কার্যকারিতার কথা প্রাক-খ্রিস্টীয় ভারতের ‘কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র’ থেকে শুরু করে পঞ্চদশ শতকীয় ইউরোপের রাজনীতিতাত্ত্বিক মাখিয়াভেল্লির ‘দ্য প্রিন্স’ পর্যন্ত অনেক গ্রন্থেই উচ্চারিত হয়েছে। প্রতারণা, হিংস্রতা, ঘৃণা আর গুরুগম্ভীর মিথ্যাকে সম্বল করে মানুষকে বশ্যতা স্বীকার করানোর জন্য ধর্মের চেয়ে ভাল হাতিয়ার পাওয়া মুশকিল। যদিও উন্নত দেশগুলোতে ধর্ম আজ নিশ্চিতভাবেই পিছু হঠছে, কিন্তু গরিব দেশগুলোতে ধর্ম আজও জড়িয়ে রয়েছে সমাজ-রাজনীতি-প্রশাসন-সংস্কৃতির অলিতে গলিতে। আমাদের দেশের রাষ্ট্র ও সমাজের জাতীয় স্তরে যখন চলছে আশারাম-রামদেব-রামরহিমের মত ধর্মীয় রাঘব-বোয়ালদের খেলা, তখন শহরে ও গ্রামে বাবাজি-মাতাজি-তান্ত্রিক-ওঝা-গুণিন-জ্যোতিষীদের হাতে প্রতিদিনই লুণ্ঠিত হচ্ছে অসহায় বিশ্বাসী মানুষের সম্পদ, সম্মান ও নিরাপত্তা। খুব বড়সড় অপরাধ না হলে বিশ্বাসী ভক্তরা এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে চান না, জানালেও পুলিশ-প্রশাসন এদের প্রশ্রয় দেয়, বা যে সমস্ত বিরল ক্ষেত্রে তারা ব্যবস্থা নিতে চায় সে সব ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় প্রচলিত আইন-ব্যবস্থার অপ্রতুলতা। ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে নতুন আইন তৈরির দাবি ওঠে সেই প্রেক্ষিতেই। এ ধরনের আইন প্রণয়নের জন্য ১৯৯৫ সাল থেকে চেষ্টা করতে করতে ধর্মীয় বুজরুকদের হাতে শেষ পর্যন্ত নিহত হয়ে গেলেন মহারাষ্ট্রের যুক্তিবাদী আন্দোলনের অগ্রণী সংগঠক নরে৩ন্দ্র দাভোলকর। তবে, ২০১৩ সালে নিহত হবার কয়েক মাসের মধ্যেই জনমতের চাপে আইনটিকে অর্ডিন্যান্স হিসেবে পাশ করতে বাধ্য হয় মহারাষ্ট্রের সরকার, পরে ওই রাজ্যের বিধানসভাও তা অনুমোদন করে।

নিষ্ক্রিয়তার কয়েকটি অজুহাত



এই ব্যাপারে নতুন আইন তৈরির দাবিকে প্রায়শই নিরুৎসাহিত করা হয় কয়েকটি প্রশ্ন তুলে। এবং, আশ্চর্যের বিষয়, প্রায়শই এই প্রশ্নগুলো তোলেন এমন মানুষেরা, যাঁরা এ দাবির পেছনের বাস্তব সমস্যাটিকে স্বীকার করেন, বা অন্তত স্বীকার করার ভান করেন। এখানে এ রকম প্রশ্নের সবচেয়ে পরিচিত তিনটি নমুনা তুলে ধরে সেগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা যাক। প্রথম প্রশ্ন - ‘নতুন আর একটা আইন করে কীই বা ছাই হবে? বে-আইনি কাজকর্ম তো কতই হচ্ছে, দোষীরা ধরা পড়ছে কোথায়? ধর্মীয় রাঘব-বোয়ালরা সব প্রভাবশালী লোক, আইন হলেও কি আদৌ তাদের শাস্তি হবে?’ হ্যাঁ, সন্দেহ নেই, আইন হলেই যে দোষীরা সব আপনা থেকে জেলে ঢুকে গিয়ে ধর্মীয় প্রতারণা ও নিপীড়ন সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে, এমন কোনও সম্ভাবনাই নেই। কিন্তু, সেভাবে ভাবলে তো খুন-ধর্ষণ-ডাকাতি-জালিয়াতি কোনও কিছুর বিরুদ্ধেই আইনের দরকার নেই, যেহেতু এই প্রত্যেকটা অপরাধই অহরহ ঘটে চলেছে, এবং অপরাধীরা মোটেই সব সময় ধরা পড়ছে না। আসলে, আইনের প্রয়োগ হোক বা না-ই হোক, আইনটি চালু হওয়ার অর্থ হল, রাষ্ট্র অন্তত নীতিগতভাবে স্বীকার করছে যে এ ধরনের কাজগুলো অন্যায়। সেটাই তো সাফল্যের প্রথম ধাপ! দ্বিতীয় প্রশ্ন - ‘একটা আইন তৈরির চেয়ে মাঠে নেমে জোরদার আন্দোলন কি অনেক বেশি কাজের নয়? আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হলে, এবং সাধারণ মানুষ সচেতন হলে, তবেই তো এ সব কুকর্ম বন্ধ হওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি হবে!’ হ্যাঁ, আন্দোলন না হলে নিছক একটা আইন সৃষ্টি করে বিশেষ লাভ হবে না, এটা অতি সত্যি কথা। কিন্তু, এই সত্যি কথাটাকে এ ভাবে হাজির করার মধ্যে রয়েছে একটি লুকোনো কুযুক্তি। সেটা হচ্ছে, আইন ও আন্দোলনকে মনে মনে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী বিকল্প ধরে নিয়ে তাদের কার্যকারিতার তুলনা করতে যাওয়া, যেন দুটো একসাথে হতে কোনও ভয়ঙ্কর নিষেধ আছে। আসলে, এরা মোটেই বিকল্প নয়, বরঞ্চ পরিপূরক। ঠিকঠাক আইন হলে আন্দোলনের দাবিগুলো সুনির্দিষ্ট অর্থ ও আকার পাবে, সরকারের ওপর বাড়বে চাপ। আর, উল্টোদিকে, জোরাল আন্দোলন থাকলে আইনটা বইয়ের পাতায় বন্দী হয়ে থাকবে না, তার বাস্তব প্রয়োগ হবে। যুক্তিবাদী আন্দোলনের কর্মীরা কাজ করতে গিয়ে প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করেছেন এ সমস্যার দুটো দিকই। তাঁরা যেমন ইচ্ছুক ও সচেতন পুলিশ অফিসারকে দেখেছেন ধর্মীয় বুজরুকির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রশ্নে জোরাল আইনের অভাব নিয়ে খেদ প্রকাশ করতে, তেমনি দেখেছেন ‘ড্রাগ্‌স্‌ অ্যান্ড ম্যাজিক রিমেডিজ অ্যাক্ট ১৯৫৪’ জাতীয় আইনকে ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে বিস্মৃতির অতল থেকে আবার বাস্তব প্রয়োগের জগতে ভেসে উঠতে।

তবে, এর চেয়ে আরেকটু বিবেচনাসাপেক্ষ তৃতীয় ও শেষ প্রশ্নটি। সেটা অনেকটা এই রকম - ‘নতুন আইন আদৌ লাগবে কেন, যখন এই সমস্ত অপরাধীদের প্রচলিত আইনেই শাস্তি দেওয়া সম্ভব?’ বলা দরকার, এ প্রশ্নে কিঞ্চিত গোলমাল আছে। এখানে কুসংস্কার-বিরোধী আইনকে পশ্চিমবঙ্গে (বা কেন্দ্রীয়ভাবে) প্রচলিত কোন নির্দিষ্ট আইনটি বা আইনগুলোর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে? এরকম তুলনা করার মত আইন আদৌ ছিল নাকি, থাকলে আর নতুন আইনের কথা উঠবে কেন? আর, যদি কেউ এ কথা বলতে চেয়ে থাকেন যে, বর্তমান ভারতীয় দণ্ডবিধি ও অন্যান্য নানা চালু আইন দিয়েই (যেমন ম্যাজিক রেমেডিজ অ্যাক্ট) কাজ চলবে, তাহলে তাঁকে আগে প্রচলিত আইনগুলোর বিষয়ে একটু ভাল করে জেনে নিতে অনুরোধ করব । এ নিয়ে আমি পত্রপত্রিকায় লিখেছি, সভা-সমিতিতে বলেছি, তাছাড়া, ২০১৬ সালে একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-গবেষকদের সভাতেও এক সংক্ষিপ্ত লিখিত প্রস্তাব দিয়ে এসেছি। এই সব লেখা ও প্রস্তাব কেউ চাইলেই পেতে পারেন । এখানে আমার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করব। তবে, এই প্রশ্নটির জবাব অল্প দু-কথায় হবে না, একটু বিস্তারে যেতে হবে। আর তারও আগে জানতে হবে, ওই ধরনের কী কী আইনের অস্তিত্ব ইতিমধ্যেই আছে।

চালু আইনে সমস্যাটা কোথায়



প্রচলিত আইনে ধর্মীয় বা কুসংস্কারভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে হাতিয়ার একেবারেই নেই এমন নয়, যদিও তা হাতেগোনা, এবং যেটুকু আছে তার সীমাবদ্ধতাও খুবই প্রকট। মুশকিল হচ্ছে, এই আইনগুলো বানানো হয়েছে সাধারণ অপরাধের কথা মাথায় রেখেই, ফলে কোনও বিশেষ ধর্মীয় বা কুসংস্কারভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে সেগুলোকে প্রয়োগ করতে গেলে সেই বিশেষ অপরাধের ক্ষেত্রে এই সাধারণ আইনগুলো ভাঙা হয়েছে কিনা সেটা দেখতে হয়। যেমন, খুন, ধর্ষণ ও আর্থিক-প্রতারণা হল প্রচলিত আইনের (এ ক্ষেত্রে ভারতীয় দণ্ডবিধি বা ‘আই পি সি’) যথাক্রমে ৩০২, ৩৭৬ ও ৪২০ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এখন, কোনও একটি বিশেষ ঘটনার ক্ষেত্রে অপরাধী যদি এগুলো করে থাকে, তো তাকে এইসব ধারায় অভিযুক্ত করা যাবে। কিন্তু, সব সময় ব্যাপারটা অত সহজ হয় না। চালু আইনে ধর্ম বা কুসংস্কার সংক্রান্ত অত্যাচার বা প্রতারণা এসব নিয়ে কোনও কথাই নেই, সাধারণভাবে অত্যাচার বা প্রতারণা সংক্রান্ত ধারা আছে। একে তো এইসব ক্ষেত্রে পুলিশ কিছু করতেই চায় না, আর তার ওপর যদি বা কোনও সচেতন পুলিশ অফিসার ব্যবস্থা নিতে আগ্রহীও হন, তো তাঁকে ওইসব ধারায় কীভাবে কেসটাকে ফেলতে হবে সে নিয়ে অনেক ফিকির বার করতে হয়। যেমন, ওঝা যদি ভূত ঝাড়ায়, তো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে পুলিশকে দেখতে হবে যে সে টাকা নিয়েছিল কিনা (সে ক্ষেত্রে ৪২০ ধারা চলবে) বা মারধোর করেছে কিনা (সেক্ষেত্রে হয়ত ৩২৩ ধারা দেওয়া যাবে)। কারণ, 'ভূত ছাড়ানো' ব্যাপারটাতে তো আর এমনিতে কোনও আইনি বাধা নেই! ফলে, টাকা নেওয়া বা মারধোর সেভাবে প্রমাণ না করা গেলে সেই ওঝা আইনের হাতের বাইরেই থেকে যাবে। প্রচলিত আইনের এই সীমাবদ্ধতার কারণে, এমন আইন চাই যাতে কুসংস্কারমূলক কাজগুলোকেই বিশেষভাবে বে-আইনি হিসেবে সংজ্ঞা দেওয়া হবে, শুধুমাত্র কুসংস্কারের মধ্যে দিয়ে ঘটা সাধারণ অপরাধগুলোকে নয় । মহারাষ্ট্রের যুক্তিবাদী আন্দোলনের নেতা নরেন্দ্র দাভোলকর তাঁর নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে যে আইনটি তৈরি করতে সরকারকে বাধ্য করে গেলেন ২০১৩ সালে, সেই আইনটি ঠিক এই কাজটাই করেছে।

কিন্তু শুধু এটুকুই যথেষ্ট নয়। আসলে, মহারাষ্ট্রে যেমন একটিমাত্র কুসংস্কার-বিরোধী আইন পাশ হল (কর্ণাটকেও বোধহয় তোড়জোড় চলছে), সে রকম বিশেষ বিশেষ আইন চাই তো বটেই, সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য আইনেও যুগোপযোগী সংস্কার চাই, না হলে ভাল কাজ হবে না । প্রতারণা ও ধর্ষণের সংজ্ঞাকে ধর্ম ও কুসংস্কারের ক্ষেত্রে প্রসারিত করা প্রয়োজন, যা করতে গেলে মৌলিক সংস্কার সাধন করতে হবে ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড’ (সংক্ষেপে আই পি সি) বা ভারতীয় দণ্ডবিধিতে। তাছাড়া, সংশোধন করা দরকার ধর্মীয় ভাবাবেগ আঘাত সংক্রান্ত আইনগুলোও। আর সংস্কার প্রয়োজন মেডিক্যাল আইনে, অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবার জন্য। এ নিয়ে পরে আরেকটু বলা যাবে।

এ ধরনের কিছু নতুন আইন



ওপরে বলেছি, মহারাষ্ট্রে ২০১৩ সালে এ রকম একটি আইন হয়েছে, কাছাকাছি আইন বানাবার তোড়জোড় চলছে কর্নাটকেও। এই বাংলাতেও কুসংস্কারবিরোধী আন্দোলনের কিছু অগ্রণী কর্মী এ ধরনের একটি আইনের খসড়া পেশ করেছেন এ রাজ্যের আইন কমিশনের কাছে, যদিও তার পরিণতি এখনও আমরা জানি না। এই ধরনের আইনগুলোতে তন্ত্রমন্ত্র তুকতাক ইত্যাদির সাহায্যে কারুকে কিছু সুবিধে করে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা ক্ষতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন সংসর্গ, জড়িবুটি চিকিৎসা এইসব কীর্তিকলাপকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এবং এইসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে জেল ও জরিমানার ব্যবস্থা থাকছে। তা ছাড়া, এই আইনকে প্রয়োগ করার পরিকাঠামোটি ঠিক কেমন হবে, সে ব্যাপারেও সরকারকে নির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়া থাকে ওই আইনের ভেতরেই।

এ ছাড়া এ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আছে ডাইনি-শিকারের বিরোধী আইন, অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তিবিশেষকে এলাকার মাতব্বররা ‘ডাইনি’ বলে ঘোষণা করে তার ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন ও একঘরে করছেন - এ ধরনের ক্রিয়াকলাপের বিরুদ্ধে আইন। এ আইনকেও কুসংস্কারবিরোধী আইন বলা যেতে পারে। এ ধরনের আইন ওড়িশা, বিহার, ছত্তিশগড় ও আসামে আছে। আইন-গবেষকরা নাকি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছেও এ ধরনের একটি আইনের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বলে শুনেছি।

চালু আইনের আরও কয়েকটি দিক



বর্তমানে যে আইন-ব্যবস্থা চালু আছে, তাতে আই পি সি বা ভারতীয় দণ্ডবিধি ছাড়াও কিছু আইন আছে যারা এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হতে পারে। ওপরে বলেছিলাম, সে সব আইন নিয়েও একটু বলব, এইবারে সে নিয়ে কথা বলা যাক। প্রথমে ধরা যাক ‘মেডিক্যাল’ বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত আইনের কথা। ‘ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, আইনিভাবে নথিভুক্ত একজন চিকিৎসাবিজ্ঞান-স্নাতক ছাড়া আর কেউই কোনও রুগির চিকিৎসা করতে পারেন না। ‘ড্রাগ্‌স্‌ অ্যান্ড কসমেটিক্স অ্যাক্ট, ১৯৪৫’ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কতকগুলো গ্রন্থ বা নথিপত্রে উল্লিখিত কিছু ওষুধপত্র ছাড়া আর কোনও কিছুকেই ‘ওষুধ’ বলে বিক্রি বা প্রয়োগ করা যায় না, এবং হাঁপানি, টাক, যৌন-অক্ষমতা ইত্যাদি রোগ সারিয়ে দেবার দাবিও করা যায় না। আর, ‘ড্রাগ্‌স্‌ অ্যান্ড ম্যাজিক রেমেডিজ (অবজেকশনেব্‌ল্‌ অ্যাডভার্টাইজমেন্ট) অ্যাক্ট, ১৯৫৪’ অনুযায়ী, তন্ত্রমন্ত্র জড়িবুটি এইসব দিয়ে রোগ সারাবার দাবি করে প্রকাশ্য বিজ্ঞাপন করা যায় না। কাজেই, বোঝা যাচ্ছে যে, এই সব আইনগুলো দিয়ে তন্ত্রমন্ত্র তুকতাক সহযোগে ভুয়ো চিকিৎসা খানিকটা আটকানো সম্ভব। কিন্তু, কুসংস্কার-নির্ভর প্রতারণা রোধে এই সব আইনের সীমাবদ্ধতাও ততোধিক। প্রথমত, এ দিয়ে শুধু চিকিৎসা-সংক্রান্ত বুজরুকিই আটকানো যাবে, অন্য বুজরুকি নয়। কেউ তুকতাক করে মামলা জিতিয়ে দেবে এমন আশ্বাস দিলে এ সব আইন আর প্রাসঙ্গিক থাকবে না। তার ওপর, বুজরুকটি যদি আদালতে এসে বলে, সে মোটেই চিকিৎসা করছিল না, সে শুধু অলৌকিক কোনও শক্তির কাছে রোগির ভালর জন্য প্রার্থনা করছিল, তাতেও সে সহজেই আইনের হাত এড়িয়ে পালাতে পারবে। আর সর্বোপরি, আমাদের আইন আধুনিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা-ব্যবস্থাকেও অনুমোদন দেয় (আয়ুর্বেদ হোমিওপ্যাথি হেকিমি সিদ্ধা ইত্যাদি), কাজেই বিজ্ঞান-অবিজ্ঞানের সীমারেখা সেখানে যারপরনাই পাতলা।

যুক্তিবাদী মানসিকতা প্রসারের পথে আরেকটি বাধা হল ‘ধর্মীয় ভাবাবেগ’ রক্ষাকারী দুই আইন - ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৮ ও ২৯৫এ ধারা। প্রথমটি ব্যক্তি ও দ্বিতীয়টি গোষ্ঠীর ‘ধর্মীয় ভাবাবেগ’ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়। এ ধরনের আইনের একেবারেই দরকার নেই, এমন নয়। ধর্মীয় বিদ্বেষ-ঘৃণা-হিংস্রতার অবাধ প্রচার আটকানোর জন্য এ ধরনের আইনের অবশ্যই দরকার আছে। কিন্তু এই আইনগুলোকে প্রায়শই ব্যবহার করা হচ্ছে মৌলবাদী দেশগুলোতে চালু ‘ব্ল্যাসফেমি’ আইনের কায়দায়, ধর্মের সমালোচনাকে আটকাতে। এই ধরনের অপব্যবহার আটকাবার জন্য এই আইনের ভেতরেই ধর্মের শৈল্পিক, যুক্তিবাদী ও মানবতাবাদী সমালোচনার সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা প্রয়োজন, যে ধরনের সুরক্ষার বন্দোবস্ত রয়েছে অশ্লীলতা-বিরোধী ২৯২ ধারার মধ্যে।

এই আইনগুলোকে সমর্থন জোগানোর জন্য কিছু পরিবর্তন হয়ত প্রয়োজন ভারতীয় দণ্ডবিধিতেও। যেমন, ধর্মীয় ভয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে কোনও মহিলাকে যৌন-সংসর্গে লিপ্ত করানোকে ‘ক্রিমিন্যাল ফোর্স’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা প্রয়োজন, যাতে এই ধরনের যৌন-সংসর্গ আদালতের কাছে ধর্ষণ বলে সাব্যস্ত হতে পারে।

আর, সেই সঙ্গে আনা উচিত আরও দুয়েকটি বিশেষ আইন, যাতে সুরক্ষিত করা হবে সংবিধান-উল্লিখিত ধর্মনিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক মূল্যবোধকে, সুরক্ষা ও সমর্থন জোগানো হবে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকারদের, বিশেষত মহিলা শিশু ও নিম্নবর্গের মানুষদের।

পরিবর্তন প্রয়োজন শিক্ষাক্ষেত্রেও। আইন হওয়া উচিত, যাতে প্রথম থেকেই শিশুরা দীক্ষিত হতে পারে বিজ্ঞান ও মানবতার শিক্ষায়, তফাত করতে শেখে সত্য আর মিথ্যের, ইতিহাস ও পুরাণের।

উপসংহার



দাবি আমাদের অনেক, প্রত্যাশা আর স্বপ্নও তো অনেকই। আর, ঠিক ততটাই কঠোর হচ্ছে আমাদের দেশের বাস্তবতা। এ সব দাবি পূরণের থেকে আমরা এখনও বহু দূরে। তবু, দাবিটা তো উঠুক কম সে কম। মানুষ তো অন্তত জানুন, এগুলোও চাইবার ছিল। এটা তো ঠিকই যে, পরাক্রান্ত সব মিথ্যেই একদিন ইতিহাসের কাছে তামাদি হয়ে যায়, “শিশুপাঠ্য কাহিনিতে থাকে মুখ ঢাকি”। পড়ে থাকে, বেঁচে থাকে শুধু সত্যের একান্ত নির্যাসটুকু। এক্ষেত্রেও যে একদিন তাইই হবে তাতে সন্দেহ নেই। এ তো শুধু কিছু ধর্মীয় অপরাধীকে জেলে পোরার ব্যাপার নয়, কিছু নিপীড়িতকে নিছক স্বস্তি ও সুবিচার দেওয়ার প্রশ্নও নয়। এ লড়াই আসলে উৎসারিত হচ্ছে সত্য ও ন্যায়ের জন্য মানুষের চিরকালীন আকাঙ্ক্ষা থেকে, আমাদের অস্তিত্ব ও ইতিহাসের সেরা অর্জনগুলোর থেকে, আমাদের সংবিধানের সারবস্তুর সেরা অংশটি থেকে।

সঠিক দাবিগুলো কে করছে তাতে কিচ্ছুই যায় আসে না। তার কিছু নিজস্ব নৈর্ব্যক্তিক শক্তি থাকে, জানেন তো?



2310 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা  উৎসব ইস্পেশাল ২০১৮ 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 1 -- 20
Avatar: সমুদ্র সেনগুপ্ত

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

দাবিটা আরো ব্যাপক আকারে তোলা দরকার
Avatar: ধীরাজ দণ্ডপাট

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

আকাঙ্খিত আইন রূপায়ণ সম্বন্ধে অসাধারণ তথ্য সহ আলোচনা। আমাদের সবার ভাবনা মোটামুটি এমনই। তবুও কিছু সমমনস্ক মানুষ বিরোধিতাসহ প্রশ্ন তুলেছেন। সমুচিত জবাব পেয়েও চুপচাপ গোপন অভিসন্ধী সহ নজর রাখছেন। আমরাও একত্রিত হয়ে সামনে এগোতে ইচ্ছুক। আইনটাও চাই সাথে মানুষের সচেতনতার জন্য আলোচনা, পথসভা, আন্দোলনও চলুক। https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2083224088407034&id=10
0001583883217

Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

ভরসা দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ, সমুদ্র সেনগুপ্ত ও ধীরাজ দণ্ডপাট ।

সমুদ্র সেনগুপ্ত, কুসংস্কার-বিরোধী আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মেডিক্যাল আইনও । সে নিয়ে আপনাদের মত সচেতন চিকিৎসকেরা যদি সুচিন্তিত মতামত দেন, এবং একটু উচ্চকণ্ঠে কথা বলেন, খুব উপকার হয় ।

ধীরাজ দণ্ডপাট, এ প্রসঙ্গে সুরেশদার সাথে আপনাদের কাজের কথা এই সতি সংক্ষিপ্ত লেখাটিতে এক লাইনে হলেও বলতে পেরেছি । আপনাদের সাথেই আছি, আপনারা জানেন ।
Avatar: একক

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

ধর্মকে না নিষিদ্ধ করে কুসংস্কার দূর করার চেষ্টা হলো বাড়ির চারপাশে জমা জল রেখে ,ম্যালেরিয়া দূরীকরণের বক্তৃতা দেওয়ার মত । বিশেষত প্রাকৃতিক ধর্ম , পলিথেইস্ট ধর্ম যেমন হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রে এ সম্পূর্ণ সত্য । হিন্দু ধর্ম , সে আপনি বেদের যাগযজ্ঞ বলুন বা দুর্গামূর্তির সামনে রূপং দেহী -যশম দেহী বলে পুরোহিতের ম্যাতকার ...........বাই কনস্ট্রাকট এগুলো হলো অপার্থিবের সঙ্গে ডীল করে পার্থিব সুবিধে পাওয়ার রিচুয়াল । কাজেই একদম ক্লাসিকাল সংজ্ঞাতেই এগুলো সব ব্যাটা প্রিজুডিস । যদি বলি আপনি মৃত্যুর পর অমুক তমুক পাবেন বা বৌদ্ধদের মত লোভ দেখানো হয় মাল্টিপল জন্মের চক্কর থেকে বেরোনোর , এই সমস্ত ক্ষেত্রে কিন্তু অপার্থিবের পরিবর্তে অপার্থিব পাওয়া যাচ্ছে .........পিওরলি আউট অফ দ্য স্কোপ অফ হিউম্যান ল্য এন্ড অর্ডার , কারন আদৌ যে চীটিং হয়েছে এটা প্রমান করতে গেলেই মডেল এর বাইরে গিয়ে দাঁড়িয়ে অবসরভ করতে হবে ।

কিন্তু এই পলিথেইস্ট ধর্মগুলো , যেমন কিনা হিন্দু এদের গোটা ধর্মটাই লীজ্ঞালি কুসংস্কার । প্রত্যেকটা মন্ত্র ই ঘুরেফিরে অপার্থিবের সাহায্যে পার্থিব মোক্ষ প্রাপ্তি । কাজেই কুসংস্কার দূর করতে হলে ,একেই প্রথম কোপে বিড়াল মারা সবচে জরুরি । হিন্দু সমাজ সংস্কারকরা এই কাজটা কোনকালে সাহস করে করতে পারেন নি । ফলত ব্যাপারটা হয়ে গেছে এমন যে উপেনবাবুর বাড়িতে বেদপাঠ হলো স্পিরিচুয়ালিজম আর পচাই ডোম ভাঙ্গা হাড়ে গাছের লতা জড়িয়ে রাখলে কুসংস্কার ।

অথচ , নৃতত্বের চোখ দিয়ে দেখলে , পচাই ডোম যেটা করছে ওটা প্রটো-সায়েন্স । ওর বেশি এগিয়ে মডার্ন সায়েন্সে আসতে পারেনি সেটা পচাই এর ল্যাক অফ অপরচুনীটি । কিন্তু উপেন হতভাগা সমস্ত সায়েন্স শিক্ষা করে যে মন্ত্র গুলো পড়ছে ,তার ছত্রে ছত্রে অতিপ্রাকৃত শক্তির কাছে উত্তম ধন - যশ -উত্তম স্ত্রী - পুত্র চাওয়া হয়েছে ।

হিন্দুয়ানি সমাজ সংস্কারের ধারা , পচাই বিরোধিতাতেই আবদ্ধ থাকবে না ,উপেনবাবুর ও দাড়ি ওপড়াবে তা ঠিক করার সময় এসেছে । আর সেইজন্যে ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো দরকার কোনরকম মিনমিন না করে । মানে , আদৌ যদি কুসংস্কার নিয়ে মাথাব্যথা থাকে ।
Avatar: দ

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

লেখাটির সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।
এককের সঙ্গেও, যদিও জানি এই ঘন্টাটা কেউই বাঁধবে না।
Avatar: dc

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

"ধর্মকে না নিষিদ্ধ করে কুসংস্কার দূর করার চেষ্টা হলো বাড়ির চারপাশে জমা জল রেখে ,ম্যালেরিয়া দূরীকরণের বক্তৃতা দেওয়ার মত"

ওফ, এক্কেবারে পেরেকের মাথার ওপর হাতুড়ির ঘা মেরেছে ঃ)
Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

একক, মন্তব্য করার আগে আমার তুচ্ছ লেখাটা পুরো পড়ে ওঠার সময় বার করতে পেরেছিলেন কি ?

এ সমস্ত সমস্যার মূল যে ধর্মেই, সে কথা দিয়েই কিন্তু আমার লেখা শুরু হয়েছে । গোটা 'প্রেক্ষাপট' অংশটা খরচা হয়েছে এই কথাটা বলতেই । শুধু হিন্দু বা 'পলিথেইস্ট' কেন, সব ধর্মই কুসংস্কার ('লীজ্ঞালী' কুসংস্কার কিনা, সেটা বুঝতে পারতাম, যদি 'লীজ্ঞালী'-র মানেটা জানা থাকত) ।

ধর্মকে নিষিদ্ধ করার যে দাবি তুলেছেন, সেটি শুধু অবাস্তব ও হাস্যকর নয়, অত্যন্ত অন্যায় বলে মনে করি । কারুর কোনও বিশ্বাসকে যদি ভুল বলে মনে করি, তো তার বিরুদ্ধে গলার শির ফুলিয়ে তর্ক জুড়তে পারি, বিশ্বাসটাকে ভুল প্রমাণ করার জন্য তথ্য-যুক্তি সংগ্রহ করে জোরদার প্রচারের আয়োজন করতে পারি, তাকে জোর গলায় বলতে পারি যে তার বিশ্বাসটা মিথ্যে, ক্ষতিকর, অমানবিক । কিন্তু নিষিদ্ধ করার দাবি তুলব কেন ? যদি তুলি, তো ধার্মিক যখন আমার অবিশ্বাসটা নিষিদ্ধ করবে, তখন তার বিরোধিতা করব কোন নৈতিকতা দিয়ে ?

ভুতে ধরা তাড়াতে ঝাঁটাপেটা, গাঁয়ের মড়ক আটকাতে ডাইনি ধরা, মামলা জেতাবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রহরত্ন গছানো --- এসব যদি 'প্রোটো সায়েন্স' বলে মনে হয়, যদি মনে হয় যে এসব শুধু পচাই ডোমেরা করে আর উপেন পুরুত খালি বাড়ি বসে বসে বেদ পাঠ করে, আর আধুনিক যুক্তিবাদী আন্দোলনকে যদি "হিন্দুয়ানি সমাজ সংস্কারের ধারা" বলে মনে হয়, তখন বোঝা যায় যে পরিস্থিতি বাস্তবিকই সঙ্গীণ ।

যুক্তিবাদী আন্দোলনের চিন্তা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আরেকটু খবর রাখার কষ্ট স্বীকার করুন । এ অনুরোধটুকু রাখা ছাড়া আর কী বলতে পারি ?




Avatar: রুদ্র প্রসাদ বালা

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

দেবাশিস দার লেখাটা পড়ে ভালো লাগলো এবং অন্যদের মতামতের জবাব টিও.
Avatar: sm

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

জনতার কিছু সহজ জিনিস বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে দেখে অবাক হচ্ছি।
ধর্ম হলো সমাজের কিছু অনুশাসন মাত্র। ঈশ্বর হলো বিশ্বাস।
এই ঈশ্বরের সার্বজনীন উপস্থিতি ও কল্পিত ক্ষমতার কথা ভেবে কিছু অনুশাসন সমাজে তৈয়ারী হয়েছে।
যেমন সত্য কথা বলবে, সৎ আচরণ করবে, জীবে দয়া করবে, ইত্যাদি।ধর্মের প্রকার ভেদে এই অনুশাসন কিছুটা ভিন্ন হলেও মূল কাঠামো টা একই।
যদি ধর্ম থেকে ঈশ্বর বাদ দি, তাহলে পড়ে থাকে এই সব অনুশাসন গুলি।
এগুলোই আবার কিছু লোক বিকৃত ব্যাখ্যা করে। তারাই অন্য ধর্মের ওপর অসহিষ্ণুতা দেখায়।
যেমন হিন্দু ধর্মের একটি দিক হলো, নানা ধর্মে সহিষ্ণুতা।
অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন মত ও পথ হলেও সব ধর্মেরই মূল লক্ষ্য হলো ঈশ্বর এর দিকে যাওয়া।
এবার কেউ কেউ যদি অসহিষ্ণুতা দেখায় বা নিজ ধর্মের ওপর বেশি জমিদারী দেখায় সেটা তাদের দোষ।
এবার দেখা যাক ধর্ম ও ঈশ্বর দুইই বাদ দিলে কি হয়?
তাহলে কি পড়ে থাকলো? পড়ে থাকলো;আইনের শাসন।
অর্থাৎ আল্টিমেটলি,আইন হলো গিয়ে মানবিক ধর্মের কতকগুলি অনুশাসন মাত্ৰ!
সব দেশ এর আইনেই বলা আছে, মিথ্যাচার করবে না, অসৎ উপায় নেবে না, ইত্যাদি। কিন্তু কেন করবে না, সেটা কিন্তু বলা নেই।
অনেকটা ঈশ্বর বিশ্বাসী ধর্মের অনুশাসন গুলির মতোই গোঁড়া ও কড়া।
এই আইন কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই মানবিক নয়;মানে আইন ও মরালিটি অনেক সময় ই গা ঘেঁষা ঘেঁষি করে চলে না।
আমি ইনকাম ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অন্যের মেয়ের বিয়ের টাকা জোগাতে পারি বা চিকিৎসার খরচ যোগাতে পারি, কিন্তু আইনের চোখে আমি অপরাধী।
সেদিক থেকে সনাতন ধর্মে মরালিটির স্থান বেশি।
এখানেই সংস্কারক দের ভূমিকা। যুগযুগ ধরে এরাই ধর্মের বিকৃত রূপ বা রূপকার দের বিরুদ্ধে মতা মত দিয়েছেন।
অনেক ক্ষেত্রে সফল ও হয়েছেন।
এটায় কোন কুইকফিক্স সল্যুশন নেই।সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।
সমাজ ও ধর্মের পালনকারী শুভবুদ্ধি সম্পন্ন লোকজনের মধ্য থেকেই এই চেতনা গড়ে ওঠে। এরাই সংস্কারক এর ভূমিকা পালন করে।
Avatar: সিকি

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

যথারীতি ...
Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

যথারীতি পাতে দেবার মতন হয়নি, তাইতো ?
Avatar: আর,এইচ,মিলন

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

এখানে একটা কথা খুব ভাল লেগেছে, সাথে আমু একমত।
জোড়ালো আন্দল ও জনমত গড়ে তুলতে সক্ষম হলে আইন আর বয়ের পাতার মধ্যে সীমা বদ্ধ থাকে না। অবশ্যই তার বাস্তব রূপ দেয়া সম্ভব।
Avatar: aranya

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

দেবাশিসের লেখা ভাল লাগল।

ধর্ম-কে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা তো সোভিয়েত রাশিয়ায় হয়েছে এককালে, চীনে এখনও চলছে, লাভ হয় নি কিছু। ধর্মের বিরুদ্ধে জনমত তৈরী করা যেতে পারে, আইন করার মানে দেখি না।

শক্তিশালী কুসংস্কার বিরোধী আইন (কুসংস্কারের সঙ্জ্ঞা = অবৈজ্ঞানিক + মানুষের জন্য ক্ষতিকারক) দরকার। কিছু গ্রে এরিয়া এই ডেফিনিশনে থাকবে, থাকুক।

ধর্ম ব্যাপারটাই অবৈজ্ঞানিক ও মানুষের জন্য ক্ষতিকারক - এটা আমারও মনে হয়, কিন্তু ধর্ম নিষিদ্ধ করে আইন পাশ করা কোন প্র্যাকটিকাল সলিউশন নয়। কুসংস্কার বিরোধী আইন পাশ করা সম্ভব এবং কার্যকরও হবে।
Avatar: Debabrata

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

When ignorance reigns in society and disorder in the minds of men, laws are multiplied, legislation is expected to do everything, and each fresh law being a fresh miscalculation, men are continually led to demand from it what can proceed only from themselves, from their own education and their own morality.”ইহা কোন সমাজসংস্কার, বা বিপ্লবী বলেননি। বরং ফরাসী আইন প্রনেতা “Repertoire de la Legislation.” পুস্তকের লেখক জুরিস্ট Dalloy লিখে গেছেন। জুরিস্ট Dalloy যদিও নিজেই আইন প্রনেতা এবং আইনভক্ত ছিলেন কিন্তু ওনার এই উক্তি আমাদের অস্বাভাবিক সামাজিক অবস্থা বুঝতে অব্যর্থ। কিসের আইন নেই? আবার আইন?
Avatar: PT

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

Avatar: sm

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

জয় সন্তোষী মা, দেখে প্রচুর বাঙালী শুক্রুবার টক খেতো না।
সন্তোষী মায়ের পুজো করতো।তা, কি করা যাবে?
আইন করে বন্ধ করে দিতে হবে?
বাস্তব সিনেমা দেখে যদি কেউ গ্যাংস্টার হতে চায়, তো সিনেমার প্রদর্শন বন্ধ করে দেব?
নিষিদ্ধ করে কিছু লাভ হয় না। বরঞ্চ কাট ছাঁট করা যেতে পারে।
বেহুলা লখিন্দরের সিরিয়াল চলতেই পারে, কিন্তু কিভাবে সাপে কাটা রোগীর আধুনিক চিকিৎসা করতে হয়, সেই নিয়েও জোর প্রচার চালাতে হবে।জনগণ নিজের ভালোটা ঠিক বুঝে নেবে।
বাকি কুসংস্কার, ম্যাজিক রেমেডির জন্য আইন তো আছেই।
ওঝা যদি পয়সা নিয়ে, রোগী সারাতে না পারে, তো তার আইন মোতাবেক শাস্তি হবে।
তবে টিভিতে জ্যোতিষ,গ্রহ রত্ন, তন্ত্র মন্ত্র এসব চ্যানেল গুলো
প্রচার এর আগে আরো কঠিন শর্তাবলী আরোপ করা যেতে পারে।

Avatar: PT

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

শর্তাবলী? হে.... হে.....
ছটপূজার সময়ে অবাঙালী ভোটের লোভে National Green Tribunal এর সকল নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে রবীন্দ্রসরোবরের পরিবেশের শ্রাদ্ধ করা হয়েছে।
শর্তাবলী ছিল না বলছেন?
Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

Talk with Sayan Bhattacharya @ Guru FB page

[ গুরুচণ্ডাঌ ফেসবুক-গ্রুপে কুসংস্কারবিরোধী আইনের সমর্থনে আমার এই লেখাটির লিঙ্ক দিয়েছিলেন ইপ্সিতা পাল, তার প্রেক্ষিতে ওই থ্রেডে ‘সায়ন ভট্টাচার্য’ নামক এক গ্রুপ-সদস্যের কিছু কথোপকথন হয়, সেটি প্রাসঙ্গিক মনে হওয়ায় এখানে দেওয়া গেল । বলে রাখা দরকার, কথোপকথনে তিনি আমাকে ‘তুমি’ সম্বোধন করেছেন, তার কারণ বুঝতে পারিনি । আমি অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক, এবং তিনি অবশ্যই আমার পূর্বপরিচিত নন । সে যাই হোক, তাতে করে কথোপকথনে কোনও সমস্যা হয়নি । ]

সা-ভ
"ওঝা যদি ভূত ঝাড়ায়, তো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে পুলিশকে দেখতে হবে যে সে টাকা নিয়েছিল কিনা (সে ক্ষেত্রে ৪২০ ধারা চলবে) বা মারধোর করেছে কিনা (সেক্ষেত্রে হয়ত ৩২৩ ধারা দেওয়া যাবে)। কারণ, 'ভূত ছাড়ানো' ব্যাপারটাতে তো আর এমনিতে কোনও আইনি বাধা নেই! ফলে, টাকা নেওয়া বা মারধোর সেভাবে প্রমাণ না করা গেলে সেই ওঝা আইনের হাতের বাইরেই থেকে যাবে।"
বুঝলাম না। টাকার যদি হাতবদল না হয়ে থাকে, এবং মারধর না হয়ে থাকে, তাহলে "অপরাধ"-টা ঠিক কোথায়?

দে-ভ
ভূত যে নেই, সেটা জানেন তো ? যা নেই তাকে একজন এসে 'ঝাড়াচ্ছে', ব্যাপারটা খারাপ হল না ?

সা-ভ
খুব খারাপ, সন্দেহ নেই। কিন্তু "খারাপ জিনিস" মাত্রেই কিন্তু "অপরাধ" ("crime") নয়। "Crime" কথাটা একটা টেকনিক্যাল লিগ্যাল টার্ম — ফৌজদারি আইনের আওতায় ওটা।
কোন "খারাপ জিনিস" যদি ফৌজদারি আইনের কোন ধারার-ই এক্তিয়ারে না পড়ে, তাকে কী ভাবে "অপরাধ" বলা যেতে পারে?

দে-ভ
ঠিক তাই, এখনও পর্যন্ত । কিন্তু, ওইটাকেও অপরাধের আওতায় আনতে হবে, এইটাই দাবি ।

সা-ভ
যদি "ভূত ঝাড়ানো" ব্যাপারটা কনসেন্সুয়াল হয় (মানে "ঝাড়িত" ব্যক্তির সম্মতিক্রমে হচ্ছে), তাহলে তাতে রাষ্ট্র কেন বাধা দেবে? দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মৌখিক সম্মতিক্রমে যা খুশি করতে পারে। (ভেবে দ্যাখো — সেই কারণেই কিন্তু ৩৭৭ ধারা বাতিল করা হয়েছে — দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মৌখিক সম্মতিক্রমে যা করছে তাতে রাষ্ট্রের বলার কিছু নেই বলেই।)

দে-ভ
না, সমকামের স্বাধীনতার যুক্তি এখানে প্রযোজ্য নয় । সমকামীরা মোটেই 'এইটা করলে কালই মেঝে খুঁড়ে তিন ঘড়া মোহর পাব' ভেবে সম্পর্কে জড়ান না, সম্পর্কে জড়াতে চান বলেই জড়ান । এটা তাঁদের 'ফ্রি চয়েস' । কিন্তু যখন বাবাজি-মাতাজি-তান্ত্রিকেরা মামলায় জেতানো বা বশীকরণ করানো বা ভূত ছাড়ানো বা পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়া বা রোগ সারানো এইসব দাবি করে অন্ধবিশ্বাসীর গাঁটের পয়সা হাতান বা ঝাঁটাপেটা করেন বা ধর্ষণ করেন, সেটা এক ধরনের কুসংস্কারভিত্তিক বাধ্যবাধকতা ও সামাজিক চাপ, সেটাকে 'ফ্রি চয়েস' বলে দাবি করা বেশ কঠিন ব্যাপার । তাছাড়া, সমকাম ক্ষতিকর নয়, আর এগুলো সবই ক্ষতিকর, শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই ।

সা-ভ
"এগুলো সবই ক্ষতিকর, শারিরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই"
শারীরিক ক্ষতি কেউ স্বেচ্ছায় বরণ করতে চাইলে, করতে দেওয়া উচিত। আমি "রাইট টু সুইসাইড"-এর ও পক্ষে।
তোমার যুক্তি অনুযায়ী, কেউ কারুকে হোমিওপ্যাথি ওষুধ প্রেস্ক্রাইব করলে সেটাকেও অপরাধ বলে গণ্য করতে হবে।

দে-ভ
আজ্ঞে, ঠিক তাই, গণ্য করাই উচিত --- মেডিক্যাল আইনকে ওইভাবে সংশোধন করার কথাই বলেছি আমার লেখায় । আমার কথা পরিষ্কার করে বোঝাতে পেরেছি, এতে আমি খুশি ।

সা-ভ
সরস্বতী ঠাকুরের পায়ের কাছে কোন মা যদি ছেলেমেয়ের পড়ার বই রাখেন, পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট হবে ব'লে— তাহলে সেই মা-টা-কে অপরাধিনী বলে হাজতে চালান করতে হবে।

দে-ভ
হ্যাঁ, তাও হবে, যদি নিজের ছেলের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে মা-টি সবাইকে ভাল করার দোকান খোলেন ।

সা-ভ
নিজের ছেলের বেলায় কোমরে দড়ি পরানো থেকে মা-টা-কে রেহাই দেওয়া হবে কেন? বুঝলাম না।

দে-ভ
কারণ, এইসব আইনে ব্যক্তি-বিশ্বাসকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না । ব্যক্তিকে বোঝানোর রাস্তা যুক্তিতর্ক । আর, ধর্ম ও কুসংস্কারকে সামনে রেখে ঘৃণাচর্চা হিংস্রতা প্রতারণা ও নিপীড়নকে আটকানোর রাস্তা হচ্ছে আইন-আদালত ।

সা-ভ
ওঝা ব্যক্তি নয়?

দে-ভ
সব ক্রিমিন্যালই ব্যক্তি, শেষপর্যন্ত । ওঝা (বা হোমিওপ্যাথ) যা করছে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়, পেশা । আর, মা যদি সরস্বতীকে বই উৎসর্গ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ছেলের অসুখে কোনও উদ্ভট ক্ষতিকর চিকিৎসা করতে থাকেন, তবে তারও শাস্তি বাঞ্ছনীয় । তবে, আমাদের পিছিয়ে পড়া সমাজে এই আইনগুলো প্রয়োগ করার কিছু মানবিক ও প্রায়োগিক সমস্যা থাকবে, তাই সতর্কতা নিশ্চয়ই জরুরি । কিন্তু তাতে মোদ্দা কথাটার বদল হচ্ছে না ।

সা-ভ
অনেক হোমিওপ্যাথ-ই এমেচার।
পেশাদার নয়।
রবীন্দ্রনাথ প্রজাদের হোমিওপ্যাথি ওষুধ দিতেন। যখন শিলাইদহে জমিদারি তদারকি করতে যেতেন।
"এক সময়ে আমি বহুল পরিমাণেই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার চর্চা করেছিলুম। দৈবাৎ আমার চিকিৎসায় যারা ফল পেয়েছিলেন তঁরা ব্যবসায়ী চিকিৎসককে ছেড়ে আমার কাছেই আসতেন। তার থেকে আমার পক্ষপাতীর দল যদি বিচার করতেন। আমি সত্যিই বড়ো ডাক্তার, তবে তঁদের সেই বিশ্বাসের জোরে আমার ডাক্তারি বিদ্যার প্রমাণ হত না। অন্যান্য শিক্ষা বা কাজকর্মের ফঁাকে ফঁাকে যাঁরা কোনো-একটি বিদ্যার চর্চা করেন, সাধারণত তাদের সঙ্গে তুলনা করা চলে না। এমন দলের যাঁরা একান্তভাবেই সেই বিদ্যার চৰ্চা করেছেন। অব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিভা-সম্পন্ন লোক থাকতে পারেন..."

দে-ভ
তা হোক, তার সার্ভিস-টি গণচরিত্রের । মানুষকে স্বেচ্ছায় চিকিৎসা-পরিসেবা যদি কেউ দিতে চান, খুবই ভাল কথা । কিন্তু তাতে আদৌ সেবা হচ্ছে না ক্ষতি হচ্ছে সেটা দেখতে হবে । চিকিৎসার মত ব্যাপার কখনই অযোগ্য প্রতারকের হাতে ছাড়া উচিত নয় ।

সা-ভ
হোমিওপ্যাথ রবি-ঠগের কোমরে দড়ি !

দে-ভ
আমাকে বায়োকেমিক খাওয়াতে এলে তো সোজা এফ আই আর করতাম, কবি নোবেল এ সব কিচ্চু মান্তাম নাকো ।

Avatar: sm

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

জোর করে কোন এডাল্ট লোককে কেউ কিছু খাওয়াতে পারে নাকি?
হোমিওপ্যাথি সরকার নিষিদ্ধ করে নি।সুতরাং হোমিওপ্যাথি প্র্যাকটিস পুরোপুরি গ্রাহ্য।
যদি দুই ব্যক্তি পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তি তে ম্যাজিক রেমেডি নিতে চায়, তাতেও আপত্তির কিছু নেই।
আপনি পাল্টা প্রচার করতে পারেন মাত্র।
আর মানুষের ক্ষতি?সেতো বিজ্ঞান যা করেছে, অতো ক্ষতি করার ক্ষমতা আর কারো নেই।
চিকিৎসা বিজ্ঞান হলো স্ট্যাটিসটিক্স এর ওপর বেস করে গড়ে ওঠা বিদ্যা।
ফুলপ্রুফ কিছু নয়। যেমন প্রচুর হৃদরোগীকে স্টেন্ট বসিয়ে দেখা গেছে কাজের কাজ কিছু হয় নি, উপরন্তু ক্ষতি হয়েছে।
যে সময় এগুলি বসানো হতো এবং যে যে ইন্ডিকেশনের জন্য,এখনকার সময়ে তার প্রচুর রদবদল হয়েছে।অর্থাৎ একসময়ে গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতি কয়েক বছর পর অচল হয়ে যেতে পারে।
যদি দেখাযায় চাইনিজ ঔষধে বেশি রোগ সারছে, তো তাকেই মান্যতা দিতে হবে।সে যে কারণেই হোক না কেন।
এখানে,স্ট্যাটিস্টিকস ই শেষ কথা।
হোমিওপ্যাথি কেও চ্যালেঞ্জ জানানো যায় এভাবেই।অর্থাৎ স্ট্যাটিস্টিকালি সিগ্নিফিকেন্ট কিনা প্রমান করার আহ্বান জানিয়ে।জ্যোতিষী কেও।

Avatar: সিকি

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

ইয়ে দেবাশিস, 'যথাতীতি'টা আপনাকে বলি নি :/

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 1 -- 20


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন