বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

জয়ন্তী অধিকারী

প্রায় দুই দশক আগেকার এক  মিঠিরোদ,তুলোমেঘ  পুজোআসছে শরতের সকাল। তখন  আকাশের নীলিমা গভীরতর ছিল,শিউলিরা  দ্রুত ও প্রচুরতর ছিল,আসন্ন পুজোর গন্ধ  পরম আনন্দময়   ছিল, পুজোর ধুমধাম  প্রবল ও দীর্ঘস্থায়ী  ছিল, পুজোবার্ষিকীগুলো  মনোরম  ছিল, দিল্লীর বাঙালী ক্লাবসমূহে প্রচুর মেম্বার ছিল,পুজোর সময় “নাটকটাটকে” আবালবৃদ্ধবনিতার প্রবল আগ্রহ ছিল, সর্বোপরি সকলের ওজন ও রক্তচিনি দুইই  কম ছিল।

আমাদের ক্লাবের পুজোয় সেবার ঠিক হল,ছোটদের ডাকঘর,কিশোরী\যুবতীদের চিত্রাঙ্গদা, আর বড়দের?? 

যথারীতি প্রচুর গবেষণা,ঝগড়া,তিনটি রেজিগনেশন পেশকরন ও যথোচিত  সাধাসাধির পর প্রত্যাহার করন ইত্যাদির পর "গান্ধারীর আবেদন" বিপুল ভোটে জয়ী হল। 

ধৃতরাষ্ট্র,দুর্যোধন ইত্যাদি কাষ্টিং হয়ে গেছে, ভানুমতীও রেডী, কেবল গান্ধারী ফাইনাল হয়নি।

রোববারের সকালে রিহার্সাল শুরু হবে, ঠিক এগারোটায়। আমি ও অর্পিতা ( দুই সম্ভাব্য গান্ধারী) ছেলেমেয়েদের ক্যারাটে ক্লাশে পৌঁছে দিয়ে একটু বাজার করতে গেলাম।এখানে বলা দরকার,অর্পিতা ও আমি ইস্কুলবেলার বন্ধু(আহা, সেই ভেসে যাওয়া আলুকাবলিফিজিক্সকেমিস্ট্রিউত্তমসৌমিত্র সময়!!)অনেকদিন যোগাযোগ ছিল না,হঠাৎ পশ্চিম দিল্লীতে একই পাড়ায় ও ক্লাবে একে অপরকে আবিষ্কার করে যারপরনাই উলুতপুলুত হয়ে পড়ি।

দুজনেই গান্ধারী সাজার প্রস্তাব পেয়েছি(আহা,বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে ডিসাইড করে নিন্না,আমাদের যে কোন একজন হলেই চলবে),আর দুজনেই মনে মনে ছক কষচি কিভাবে অন্যজনের ঘাড়ে কৌরবসম্রাজ্ঞীর গৌরবময় ভূমিকাটি চালান করে দেয়া যায়।

নানারকম আশকথাপাশকথা (ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, কর্ত্তাদের অপদার্থতা, কলকাতার তুলনায় দিল্লীতে শাড়ীর ভ্যারাইটি ও কোয়ালিটির অসম্ভব নিম্নমান ইত্যাদি ইত্যাদি) বলতে বলতে আমরা অন্য সব বাজার সেরে ফলের দোকানের সামনে দাঁড়ালাম। আর সময় নেই, রিহার্সালে যাওয়ার আগেই একটি ফয়সালা হওয়া দরকার। অতএব, আপেল বাছতে বাছতে আমাদের মধ্যে এমত বাক্যালাপ হল -

"দেখ জয়ন্তী,তোর মত এমন লম্বা চুল(এত বাড়িয়ে বলতে পারে) আর কারো আছে যে সে গান্ধারী সাজবে? আমার এই ছোট চুলে গান্ধারী মানায় কখনো? "

- "চুল দেখে গান্ধারীর পার্ট দিতে হলে দাড়ি দেখে ধৃতরাষ্ট্রর পার্ট দিতে হয়, ব্যানার্জিদা যুধিষ্ঠির সাজছে কেন তবে?"

- "আরে, ব্যানার্জিদা ঐটুকু পার্টই মনে রাখতে পারবে না। ছড়িয়ে একসা করবে। ভেবে দ্যাখ, তুই মহারাণীর সাজে আপাদমস্তক হীরেপান্না মণিমুক্তো ইত্যাদি ঝলমলিয়ে ধৃতরাষ্ট্রকে বলছিস "নিবেদন আছে শ্রীচরণে, অনুনয় রক্ষা করো তাত"-

 "তাত? সে আবার কী? নাথ তো। আমার চেয়ে ছইঞ্চি বেঁটে ঐ কোহিনূর সান্যালকে আমি নাথ ফাথ বলতে পারব না। তোর তো হাইট নামে জিনিস নেই, তোর সঙ্গেই ওকে বেশ মানাবে।"

- 'আরে আমি নিয়মিত রিহার্সালে আসতেই পারব না, সংসারের ঊনকোটি চৌষট্টি সামলে, তার ওপর মেয়ের পরীক্ষা।"

- "আমিও পারব না, আমারো ছেলের পরীক্ষা"

কী এক কায়দার চুন্নী পরেছিল, এমন সিরিয়াস আলোচনার মধ্যে কেবলি উড়ে উড়ে যাচ্ছিল।

হাতে সময় নেই মোটে, ছেলেকে ক্যারাটে ক্লাশ থেকে তুলতে হবে, ইদিকে অর্পিতার গোঁয়ার্ত্তুমির  কারণে সামান্য একটা জিনিসের সমাধান তো হচ্চেই না, বরম আলোচনা কেমন একটা সহিংস রূপ নিচ্চে।

দুজনেরি আপেল কেনা কখন হয়ে গেছে, তাই ফলওলার সামনে থেকে একটু ডানদিকে সরে এসে হাত মুখ নেড়ে আমরা তক্কো করছিলাম। এবং এটাও ডকুমেন্টেড থাকা উচিত যে অত উত্তেজনার মধ্যেও আমি তিনবার অর্পিতাকে বলেছিলাম ঐ হতচ্ছাড়া চুন্নী কোমরে বা মাথায় বেঁধে নিতে,যাতে বারে বারে উড়ে আমার গায়ে না পড়ে।

নিয়তির অমোঘ ও কুটিল চক্রান্তে  পাশেই এক ভালোমানুষের-দিন-নেই চেহারার পেশীবহুল গরু মন দিয়ে মসালা দোসা খাচ্ছিল, নিজেদের সমস্যায় অতিরিক্ত ভারাক্রান্ত থাকায় আমরা তার ফোঁস ফোঁস দীর্ঘশ্বাস, হিংস্র চাউনি, কঠিন ভ্রুকুঞ্চন কিছুই খেয়াল করিনি।

- "অত লম্বা লম্বা ডায়্লগ মুখস্ত করব বসে বসে? আমাকে পেয়েছিস কী?"

- "এইসান দেব একটা কানের গোড়ায়, টেপ বাজবে তো, মুখস্ত করতে লাগে?"

সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে যা ঘটল বর্ণনার অতীত। অর্পিতা বোধহয় ভাবল আমি সত্যি মারব, রিফ্লেক্সে হাত ছুঁড়ল, কী করে কে জানে চুন্নী উড়ে গিয়ে গরুর মাথায় পড়ল, শুধু শুনলাম ভয়ংকর হাড়হিম করা এক গর্জন আর ফলওলার আর্ত্তনাদ

- ভাগো,ভাগো জলদি ভাগো ও ও -

অত জোরে জীবনে কোন দিন ছুটিনি, সেও শাড়ি পরে। প্রাণ হাতে করে দৌড় কাকে বলে সেদিন বুঝলাম। মরুবিজয়ের কেতনের মত চুমকি বসানো নীল চুন্নী   শিঙে উড়ছে,-গরুর এবম্বিধ চেহারা যতবার মনে আসছে তত স্পীড বেড়ে যাচ্ছে, এদিকে দুহাত ভর্ত্তি বাজার। রাস্তার লোকেরা হৈহৈ করে উঠেছে, কিন্তু কোনদিকে তাকাতে বা থামতে পারছিনা, এদিকে দম ফুরিয়ে আসছে।

পাড়ায় এক বিপুলবপু কমলাচুলের ডাক্তার ছিলেন, তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট রেখেছিলেন এক ইঞ্জেকশনপটু তরুণীকে। ফলে অসুখ যত সামান্যই হোক ,ওনার কাছে গেলেই অন্তত ৫ টি ছুঁচ অবধারিত। মহল্লার সকলেই এটি জেনে যাওয়াতে রুগীপত্র বিশেষ হত না, যদিও চেম্বার রোব্বারেও খোলা থাকত। ডাক্তার আর সুঁইকুমারী রাস্তায় দাঁড়িয়ে লোকজন দেখে সময় কাটাতেন।

সেদিনো দুজনে হাসি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে রাস্তা দেখছিলেন - চোখে পড়তেই কেউ কিছু বোঝার আগে অর্পিতা একহাতে আমাকে টেনে নিয়ে ফুটবল খেলার কায়দায় দুজনের মাঝখান দিয়ে গলে গিয়ে চেম্বারে ঢুকে ধড়াম করে দরজা বন্ধ করে দিল। ডাক্তার আর সুঁইকুমারী বাইরে রয়ে গেলেন।

সংসার করিয়ে গিন্নীরা যেখানে যে অবস্থায় যত সুকঠিন প্যাঁচের মধ্যেই থাকুক, তাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে  সাংসারিক (অ)কর্ত্তব্যের ছবিটি (ঠাকুরও মনে হয় এইধরনের কিছু বলেছিলেন)।

বাইরে ডাক্তার ও সুঁইকুমারীর সমবেত গগনভেদী আর্ত্তনাদ, লোকজনের হৈচৈ,পাড়াতুতো কুকুরবাহিনীর উচ্চস্বরে প্রতিবাদ -এতসবের মধ্যেও চেম্বারে ঢুকে প্রথমেই নজরে পড়ল ডাক্তারবাবুর ফোনটি( ততক্ষণে আমরা নিজেদের মধ্যে ফিরে এসেচি, এ দরজা ভেঙে ঢোকার ক্ষমতা গরুর হবে না)। অকম্পিত হাতে ফোন তুলে দৃঢ়স্বরে বাড়ীতে বলে দিলাম  বাচ্চাদের ক্যারাটে ক্লাশ থেকে নিয়ে আসতে। কর্ত্তা যথারীতি সামান্য প্রতিবাদ করছিলেন, তোমরা কোথায় আছ? আমি তো ঠিক চিনি না ক্যারাটে ম্যাডামের বাড়ী ( পড়ুন - টিভিতে ম্যাচ চলছে) এইসব। তার উত্তরে আরও দৃঢ়স্বরে জানিয়ে দিলাম যে আমাদের গরু তাড়া করেছে, এ জীবনে বাড়ী ফেরা হবে কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই। ফিরতে না পারলে সবুজ ব্যাগে ব্যাংকের পাশবই ও টাকা রাখা আছে(সেই সেলফোন, এটিএম কার্ডবিহীন সময়ে ব্যাংকের বইয়ের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল)।

 এদিকে ডাক্তার ও সুঁইকুমারীর হাহাকার ক্রমেই ভয়ানক ও মর্মবিদারী রূপ  নিচ্ছিল, যেন আমরা ওনার সব ওষুধ ইত্যাদি খেয়ে নেব,  শরণাগতদীনার্তকে আশ্রয় দেবার কনসেপ্টই আর নাই!! কিন্তু আমরা দুজনে  বেরোবার সাহসও ঠিক পাচ্ছিলাম না। হেনকালে কাকে দেখে যেন ডাক্তার প্রায় কেঁদে ফেল্লেন, "দেখিয়ে না,দো বংগালী ছোকরী (?) মেরা চেম্বারকা সত্যনাশ কর দিয়া, হাউমাউ হাউমাউ, পেশেন্ট ওয়াপসি চলা গিয়া (১০০% মিথ্যে কথা)।"

- "বংগালী ছোকরী?" ক্লাবের প্রেসিডেন্ট বর্মন জেঠুর হতভম্ব প্রশ্ন শোনা গেল।

জেঠুর আওয়াজ পেয়ে গুটি গুটি দুজনে বেরোলাম,কিন্তু আমাদের দেখেই তিনি মহারাগে ফেটে পড়লেন।

- "দেখা আপলোগোনে? আজকালকা ইয়ে - কোই দায়িত্বজ্ঞান নেহী। এগারো বজে রিহার্সাল আর ইয়ে দোনো ইধার ঘাপটি মারকে বৈঠা হ্যায় !!!!"

  এত্ত লোকজন, অপমানের একশেষ।

  তবে মিচকি হেসে শেষ কথা বলল ফলওয়ালা - "গায় তো উহাঁপরই ব্যয়ঠা থা। আপলোগ বেকারমে ভাগী"।

------------------------------------------------------

জেঠুর সঙ্গে পায়ে পায়ে হেঁটে দুজনে ক্লাব ঘরের দিকে রওনা দিলুম। একটু গিয়েই সেই ভয়ংকরী ,ডাইনোসরের খুড়তুতো বোনকে দেখা গেল , চোখ বন্ধ করে  নিশ্বাস ফেলছে, পিঠে নীল ওড়নার চুমকিতে রোদ পড়ে ঝিলমিল করছে।

ক্লাবে পৌঁছে অবশ্য আবার আমাদের হাড্ডাহাড্ডি ঝগড়া শুরু হয়ে গেল - একটা রক্তারক্তি হয় দেখে জেঠু থামিয়ে দিয়ে বল্লেন যে টসে যে জিতবে তাকেই গান্ধারী সাজতে হবে।

উপস্থিত জনতাও ততক্ষণে দুদলে ভাগ হয়ে গেছে। তবে ব্যাপারটা একটু গোলমেলে। যারা অর্পিতাকে গান্ধারী সাজাতে চায় আমি তাদের নেত্রী। এবং ভাইসি ভার্সা।

টানটান শ্বাসরোধকারী উত্তেজনার মধ্যে জেঠু টস করলেন-

ঢিংকাচিকা ঢিংকাচিকা ঢিংকাচিকা---

অর্পিতা জিতেছে, মানে ওকেই গান্ধারী করতে হবে- এ- এ -এ।

কিন্তু বিধি বাম। জেঠু ফতোয়া দিলেন আমাকেও নাকি রোজ রিহার্সালে যেতে হবে।

পরের রোব্বার সকাল দশটা থেকে রিহার্সাল।

----------------------------------------------------------

দেখতে দেখতে পরের রোব্বার এসে পড়ল। গান্ধারীর আবেদনের শেষ দৃশ্যে যুধিষ্ঠির চার ভাই ও দ্রৌপদীকে নিয়ে বিরস বদনে এসে দাঁড়াবেন। যুধিষ্ঠিরের "আশীর্বাদ মাগিবারে এসেছি, জননী, বিদায়ের কালে" ছাড়া পাঁচ জনের মুখে কথাটি নেই,হেঁটমুন্ডে দাঁইড়ে থাকা ছাড়া কোন কাজও নেই, স্বভাবতই ঐ সব ভূমিকায় অভিনয় করার জন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। জেঠু তাই প্রচুর ভেবেচিন্তে চিত্রাঙ্গদার অর্জুনকেই বলেছিলেন একটু গোঁপটোপ লাগিয়ে যুধিষ্ঠিরের অনুগামী হতে , অর্জুন তো অর্জুনই থাকচে। ঐদিকের মদনকেও বোধহয় নকুল বা সহদেব সাজানোর ইচ্ছে ছিল, তার আগেই এই পরিকল্পনা জানতে পেরে অর্জুনের মা (বিশ্বভারতী) জেঠুকে ফোন করে  নাটকের শুদ্ধতা,পবিত্রতা আরও কী কী সব  দুরূহ বিষয়ে দেড় ঘন্টা ধরে ভয়ংকর এক বক্তৃতা দেন যা শোনার পর জেঠুর শরীর ও ব্যক্তিত্বের ওজন যথাক্রমে ১০ ও  ৩০ শতাংশ কমে যায়।

ভীম, অর্জুন(গা আ), নকুল ও সহদেব পাওয়া যায় নি। প্রতিহারীও না।

ক্লাবের এই সংকটে অবশ্য আমি দ্রৌপদী করতে চেয়েছিলাম, হাজার হোক  কর্ত্তব্য বলে একটা কথা আছে। কিন্তু একে তো যুধিষ্ঠির আমার চেয়ে বেঁটে হয়ে যাচ্ছে তাছাড়া গান্ধারী বল্ল আমাকে দেখলে তার বিছুটি দিতে তীব্র ইচ্ছে হচ্ছে।"ভূলুন্ঠিতা স্বর্ণলতা হে বৎসে আমার,হে আমার রাহুগ্রস্ত শশি, একবার তোলো মুখ,বাক্য মোর করো অবধান"- এত ভাল ভাল কথা বলা জাস্ট সম্ভব না।

জেঠু নিজেই প্রতিহারী সাজবেন বলছেন - এই শুনে ধৃতরাষ্ট্র অবশ্য প্রবল উৎসাহে লাফিয়ে এসেছিল "জেঠু আপনি বরম ধৃতরাষ্ট্র করুন ,আমি প্রতিহারীটা দেখি"।

- "অ,আমি চক্ষু বুজে বসে থাকলে তোমাদের সামলাবে কে?"

- "না,আপনি সিনিয়র মানুষ ,ঐটুকু পার্ট করবেন,কেমন একটা লাগে"

- "যে পারে সে একলাইনেই পারে,বুঝলে হে ছোকরা"---

------------------------------------------------------

"প্রতিহারী -মহারাজ , মহিষী গান্ধারী দর্শনপ্রার্থিনী পদে।"

ধৃতরাষ্ট্র -রহিনু তাঁহারি প্রতীক্ষায়।"

“ইকি, তুমি অমন হাসি হাসি মুখ করে বসলে ক্যানো? দুর্যোধন এতক্ষণ ধরে এত ভালোমন্দ শুনিয়েছে, এখন আবার মহারাণী এসে কী বলেন তার ঠিক নাই, এই কি তোমার অমন প্রসন্নবদন হওয়ার সময়?”

আবার হোক।

"মহারাজ, মহিষী গান্ধারী দর্শনপ্রার্থিনী" ইত্যাদি।

“ওঃহো ,তাই বলে অমন মুখ পেঁচকে গালে হাত দিয়ে বসতে হবে? গান্ধারী তোমায় মারতে তো আসছে না-“

প্রচুর তোড়জোড় করে প্রথম দিনের রিহার্সাল শুরু হয়েছে। জ্যেঠুর পড়ার ও জেঠিমার গোঁসাঘর পুজোর আগে হয়ে গেছে ক্লাবের রিহার্সালরুম। আর জেঠুর রোদে বসে দাড়িকামানোর তিনঠেঙ্গে টুলটিতে আপাতত ধৃতরাষ্ট্র যথাসম্ভব রাজকীয় মর্যাদায় সাবধানে ভারসাম্য রেখে বসে আছেন। দুর্যোধন ও যুধিষ্ঠিরকে জেঠু কোন কাজে পাঠিয়েছেন, অগত্যা মাঝখান থেকে রিহার্সাল শুরু হচ্ছে। কিন্তু বারবার এমন বাগড়া পড়াতে মহারাজের ধৈর্য্য থাকে না।

"কেমন করে বসব দেখিয়ে দিন তবে, নয়তো অন্য কাউকে দেখুন,আমার দ্বারা হবে না-"

"হ্যাঁ,এই তোমাদের এক হয়েছে,কথায় কথায় রাগ, অভিমান। কোন কুক্ষণে যে আমি নাটকে হাত দিয়েছিলাম। পান থেকে চুনটি খসেচে কি খসেনি অমনি হুমকি দিচ্চেন বাবুরা-"

জেঠুর কথা শেষ হওয়ার আগেই হাঁপাতে হাঁপাতে যুধিষ্ঠির এসে স্টেজে মানে সতরঞ্চির এরিয়ায় ঢুকে পড়ে, কিন্তু, তার পেছনে দুর্যোধনকে দেখা যায় না।

"একি, তুমি আবার এখন ঢুকচ কেন? তোমার এন্ট্রি তো সেই শেষকালে, কোন কুক্ষণে যে আমি--"

"পাড়ার সব দোকানে ছোলেপুরী শেষ" কাঁদোকাঁদো মুখে ধর্মরাজ জানান।

জেঠিমা আঁতকে ওঠেন,"সে কী কথা রে। এতগুলো মানুষ এখন খাবে কী? জয়ন্তী বরং ময়দা মেখে দিক, আমি আলুচ্চ্চড়ি বসিয়ে দিই।"

"ও ময়দা মাখলে আমি লুচি খাব না বলে দিচ্ছি" অর্পিতার ঘোষণা শোনা যায়।

"ধুত্তেরি দুলাইন রিহার্সাল এগোলো না ,আলুচচ্চড়ির ব্যবস্থা হচ্চে-" জেঠু এবার সিরিয়াসলি রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন, আর সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিতে রঙ্গমঞ্চে প্রবেশ করেন পারঙ্গমা সেন, অর্থাৎ চিত্রাঙ্গদার পরিচালিকা।

"কী,কেমন এগোচ্ছে আপনাদের মহড়া? আমার মেয়েরা তো অর্ধেকের বেশী নাচ তুলে ফেলেছে। সুরূপার এক্সপ্রেশন দেখলে অবাক হয়ে যাবেন। দর্শক এই মেয়েকে ভুলতে পারবেনা, জানেন, আমিই অবাক হয়ে যাচ্ছি, কেমন করে ঐটুকু মেয়ে ভূমিকাটি এত আত্মস্থ করে ফেল্ল, আশ্চর্য!কী অনায়াসে ও ফুটিয়ে তুলছে মর্মতলে ঢেউ জাগার ছবিটি আর শুধু একবরষের জন্য পুষ্পলাবণ্যের আকুতি,কী--”

মিসেস সেনের অসাধারণ ভাব এসে গেছিল আরও অনেকক্ষণ বলে যেতে পারতেন,কিন্তু জেঠুর স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা দেখে একটু থতমত হয়ে যান ,আর তাঁকে কনুইএর গুঁতোয় প্রায় ঠেলে ফেলে দিয়ে ছোলে পুরীর গন্ধে দিগ্বিদিক আমোদিত করে এবার ঢুকে আসে হাক্লান্ত দুর্যোধন।

"ওঃ, সে-এ-ই রাজৌরী গার্ডেন থেকে ছোলে নিয়ে এলাম জেঠু। আর পাড়ায় ঢুকেচি কি ঢুকিনি, আমার বাইকটি দেহ রাখল। একহাতে বাইক ঠেলচি অন্যহাতে এই রাবণের গুষ্টির খাবার, ভাবা যায়? ওরে বাবারে, একটু না শুতে পেলে এক্ষুনি মরে যাবো রে!!সরুন, সরুন দেখি সব, দাঁড়ান প্যান্টটা খুলি-"

“একি একি প্যান্ট খোলে কেন, ও জেঠু রোদ লেগে গেছে বোধহয়, এই মল্লিকা একটা ঠান্ডা জলের বোতল আন না, একি প্যান্ট খুলচ কেন, মেয়েরা রয়েচে, কোন কুক্ষণে যে আমি, আরে, কথা শোনে না দেখো, এই মেয়েরা চোখ বোজো সব, চোখ বোজো বলচি”-

সকলের চক্ষু মুদ্রিত করন ও পরবর্ত্তী ৩০ সেকেন্ড সূচীভেদ্য ,অসহনীয় নীরবতার পর সহসা    বারান্দা থেকে জেঠিমার বিস্মিত প্রশ্ন শোনা যায়, "এ কি, তোমরা সব চোখ বুজে রয়েচ কেন? আর এই অভিষেক, পাজামা পরে শুয়ে আছ কেন?"

পাজামা? সকলের ধড়ে প্রাণ ফিরে আসে।

"একটা কাজ কর্তে গিয়ে গলদঘর্ম, আবার ভিরকুটি করে প্যান্টের নীচে পাজামা পরে আসা হয়েচে!! কোন কুক্ষণে যে আমি---"

---------------------------------------------------------------------------

 সেই ঝালমুড়িবেলার বন্ধুর পেটে এত প্রতিহিংসে জমেছিল?

বহুবিধ মান-অভিমান,ঘটনা-দুর্ঘটনা, ঝগড়াঝগড়ি,আয়লাসুনামী,সাধাসাধি,হাতাহাতি(প্রায়) ইত্যাদি্ পার হয়ে এসে গেল মহানবমী, নাটকের সন্ধ্যা।বহুকষ্টে প্রায় হাতেপায়ে ধরে স্কুলপড়ুয়া তিনটি ছেলে (অর্জুন,নকুল,সহদেব) ও দুর্যোধনের ড্রাইভারকে(ভীম) স্টেজে দশ মিনিট ধুতি পরে দাঁড়াতে রাজি করানো গেছে,যুধিষ্ঠিরের মৃদু আপত্তি(এরা তো আমার আদ্দেক বয়েসী আর ঐ ল্যাগবেগে চেহারার ভীম?))জেঠু একবার চশমাটি ভাল করে নাকে বসিয়ে  গম্ভীর হয়ে তাকাতেই উড়ে গেছে। ক্লাবের মহিলারা দ্রৌপদীর সংলাপহীন পাঁচ/দশ মিনিটের ভূমিকাটি বিলোডিগনিটি জ্ঞান করায় পরিস্থিতি আয়ত্বের বাইরে চলে যাচ্ছিল। মরিয়া জেঠু শেষপর্যন্ত পঞ্চাশোত্তীর্ণা জেঠিমাকে অনুরোধ করে বসেন,পরবর্ত্তী দুদিন কী হইল তা কোন শ্যামলালই জানে না,ফোন ও অন্য সব যোগাযোগ বন্ধ থাকায়। শেষে অবশ্য জেঠিমাই পাড়ার  সুন্দরী অষ্টাদশী ইস্তিরিমেয় ঊর্মিলাকে কোন অলৌকিক উপায়ে দ্রৌপদী সাজতে রাজী করিয়ে ফেলেন। 

নবমীর সন্ধ্যা। অর্পিতা ওর দিদিমার দেওয়া অলওভার সোনার কাজ করা ঘননীল বেনারসী,৫ কেজি মত হীরেমুক্তোসোনা ইত্যাদি একটি একটি করে পরার পর মেকাপদিদি ভারী যত্ন করে ভুরু আঁকতে লেগেচেন,আমি আনন্দিতমুখে দেখচি,হেনকালে মহারাণীর খেয়াল হল-"আরে ,ভুরুফুরু এঁকে কী হবে?চোখ তো বাঁধা থাকবে।কী দিয়ে বাঁধব,অ জেঠিমা-"

"এই রে,গামছাটা তো আনতে মনে নেই গো,মানে রিহার্সালে যেটা বাঁধতে সেইটে চাইছো তো"-মেকাপরূমের অন্যপ্রান্ত থেকে ভীমের ধুতিবাঁধনরত জেঠিমার করুণকন্ঠ শোনা যায়।

"আহা, সে তো রিহার্সালের সময়,এখন স্টেজে বেনারসীর সাথে মানানসই আর ম্যাচিং  নেত্রবন্ধনী চাই তো।”

“ওহ, এই তো পেয়েচি-ই, "

প্রতিবাদের ন্যুনতম সময়টুকু না দিয়ে হতবাক আমার কোমরে বাঁধা পুজোর নতুন নীল ওড়না খুলে পড়পড় করে আধখানা  ছিঁড়ে একটু নাক মুছে নিয়ে কৌরবসম্রাজ্ঞী   সেটি চোখে বেঁধে ফেলেন।

বাকী আধখানা দিয়ে চোখের জল মুছতে যাচ্চি ,এমনসময় মহিষী দ্বিতীয় চালটি চালেন-

"অঁ জেঠিমাঁ ,কিঁচ্ছু দেখতে পাচ্চি নাঁ-"

প্রবল সাধ্যসাধনা,ভরসাদান(স্টেজে একবারটি উটলে দেকবে সব জলের মত পরিষ্কার দেকচো)অপশন প্রদান (তবে কি দৌড়ে গিয়ে গামছটাই নিয়ে আসা হবে?খবদ্দার না ,সে তোমরা খুঁজে পাবে না,মধ্যে থেকে সমস্ত তোলমাটি ঘোল।চুলমোছার গামছা কি লকারে তুলে রেখেচো?)ইত্যাদি  হেলাভরে তাচ্ছিল্য করে রাজ্ঞী ঘোষণা করেন "জয়ন্তী আমার কিংকরী হোক।স্টেজে হাত ধরে ধরে নিয়ে যাবে-"

হাতে সময়ও নেই,যা বলল তাইতেই রাজী হতে হল,শয়তানীটি ভাবুন একবার।

নাটক কেমন হল?আমায় জিগাবেন না।যাকে ঠেলে কুমড়োগড়ান গড়িয়ে দেওয়ার  বাসনা বুকের মধ্যে হাঁকপাক কচ্ছে তাকেই হাত ধরে  সযত্নে নিয়ে যেতে হচ্ছে, সময় বুঝে আগুপিছু করিয়ে দিতে হচ্ছে,আর বেশীর ভাগ সময় কিংকরীজনোচিত বিনয়ে হেঁটমুন্ডে দাঁড়িয়ে --হেন সংকট কালে আর অন্যদিকে মন দেওয়া সম্ভব না।

শুনেছিলাম দিব্য হয়েছিল-ধৃতরাষ্ট্রের  লেংচে চলা(আগের দিন একটু  বেড়াল কামড়েছিল ),ভানুমতীর তুলনায় গান্ধারীর গয়্নাধিক্য, যুধিষ্ঠিরের ফিঁচফিঁচ হাঁচি, অর্জুনের হাতে ও দ্রৌপদীর পায়ে যথাক্রমে ঘড়ি ও চটি, নকুলের শেষমুহূর্ত্তে ডায়রিয়া ও সহদেবের মা সিঁড়ি নামার চেষ্টার ( সিঁড়ি ছিল না)  কারণে  মাত্র  তিনজন পাণ্ডবের বনগমন, সর্বোপরি ক্ষণে ক্ষণে গান্ধারীর  অকারণ ও অসময়োচিত   ফিচেলহাসিমুখ  বাদ দিলে।

শেষটাও লিখি-

 নাটকটাটক শেষ,ঝগড়া ভুলে পোঁটলাপুঁটলি নিয়ে হাসিমুখে আমি ও অর্পিতা বাড়ীর পথে,এমন সময়  এক   স্কার্টকিশোরী আমার কনুই ধরে টানে-"ঐ  দ্যাখ"।

দেখি একটু দূরে দুর্যোধন ও চিত্রাঙ্গদার দুটি ছায়া পাশাপাশি চলেছে ,ধীরগতি,বিভোর- শুক্লরাতে নবমীর চাঁদ সস্নেহে তাদের এগিয়ে দিচ্ছে।

মধুর, মধুর ধ্বনি বাজে--

"সে কিরে,এতদিন বুঝতে পারিনি তো"

"হাঁদিই রয়ে গেলি চিরটাকাল"-অর্পিতা  মমতায় হাসে।

 



664 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ গপ্পো 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 17 -- 36
Avatar: কল্লোল

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

রঞ্জনটার কোন ইয়ে নেই। তোকে এখানে এসব ফাঁস কত্তে বল্লে কে? অ্যাঁ!

তবে আমাদের কুমুর লেখা নিয়ে কোন কথা হব্বে না। লীলা মজুমদার আর নবনীতার ফিউশন।

কি রে আবার কবে লুরু আসবি?

Avatar: t

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

কিন্তু গরুটা তো আগের গল্পে ছোলে-বাটুরে খাচ্ছিল :(
Avatar: সে

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

আরিব্বাস! বানানো গল্পো? ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারিনি।
Avatar: ধুরন্ধর

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

তুখোড় ! ডি লা গ্রান্ডি।।মেফিসতফিলিস ইয়াক ইয়াক
Avatar: achintyarup

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

কুমুদির লেখা আমার সব সময় ভাল্লাগে
Avatar: ranjan roy

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

দ্যাখ কল্লোল! আমি কাঠ বাঙাল। আর চারমূর্তির হাবুল সেন টেনিদার মামাকে কালীসিঙির মহাভারতের ঘা দিয়ে বাঘের-- জিগ্যেস করে টেনিদার রামচিমটি খায় নি?
তবে কুমুর লেখা নিয়ে কোন কথা হবে না।

আমার প্রস্তাব এ নিয়ে অমর চিত্রকথা সিরিজ গুরু আগামী বইমেলায় বের করুন। সুপার-ডুপার হিট!
অবিশ্যি তাতে মর্মপীড়ের কার্টুন থাকা চাই। সেই নীল ওড়না শিংয়ে জড়িয়ে গরু জাবর কাটছে, চোখটা রাগী রাগী গাঁজাখোর টাইপ। ফলওয়ালা দাঁত বের করেছে।
আর গান্ধারী ও দ্রৌপদী প্রাণভয়ে দৌড়ুচ্ছে।


Avatar: a x

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

দারুন ভালো! ফুরফুরে ঠান্ডা হাওয়ার মত ভালো!
Avatar: Abhyu

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

ডিডিদা, পুরাণে ফিচেল মহিলা ক্যারেকটার কে কে আছে?
Avatar: Bhagidaar

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

সুর্পনখা
Avatar: Bhagidaar

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

দারুন হয়েছে লেখাটা।
Avatar: swati ray

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

সাধু , সাধু! লেখা টা পড়ে দশ মিনিট ঠা ঠা করে হাসলাম ! আপনার কলম সোনার হোক।
Avatar: sosen

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

নোতুন গল্পো চাই!
Avatar: sosen

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

দুর্যোধন আর চিত্রাঙ্গদার গল্পো
Avatar: kumu

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
Avatar: Nina

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

আহা কুমু গো সোনার কলম -- থামলে চলবেনি কুমুদিনী আহা আমার দেয় নামে ফেমাস হইওঃ-)
Avatar: Atoz

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

কুমুদি, আরেকটা লেখো প্লীজ।
Avatar: শিবাংশু

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

লেখাটা কিছু হয়েছে... :-)
Avatar: de

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

আমার আর অনসূয়া - দুজনের তরফে ভালো লাগা জানিয়ে গেলাম -

কুমুদি - আরো আরো লেখো!
Avatar: সন্দীপন

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

খুব ভাল লাগল আপনার লেখা পড়ে। একখানি নিটোল গল্প। আরও এরম পাওয়ার আবদার রেখে গেলুম
Avatar: sch

Re: নীল ওড়না,গান্ধারী ও শুক্লরাতের চাঁদ

এত্ত ভালো লাগে আপনার লেখা কুমুদি - কেন যে বেশী করে লেখেন না

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 17 -- 36


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন