বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বিকেলের গল্প

ইন্দ্রাণী

http://www.guruchandali.com/default/images/000_blog_mri/980.jpg

 


আই প্রোটেকশন কপালের ওপর ঠেলে তোলা, চোখ অ্যান্ড্রয়েডের স্ক্রীনে।  হাই স্টুলে বসে টেক্সট পাঠাচ্ছিল টিনা। বাঁ পা নাচাচ্ছিল । ওর সামনে  রিয়াকটর,  অ্যাসিড ডোসিম্যাট। রিয়াকটারে  মেটাল ওর আর জল।  লিচিং চলছিল। টিনা অপারেটর। আট নম্বর টেক্সটটা পাঠানোর পর কম্পিউটারে চোখ যেতে  খেয়াল হল টার্গেট পিএইচ সেট করা হয় নি । লগ শীট পড়েই দেখে নি । অনেক বেশি অ্যাসিড চলে গেছে রিয়াকটরে।  আনামারিয়া প্রচন্ড ঝাড়বে । এই স্টেজে এত বেশি অ্যাসিড যাওয়া মানে টেস্ট ইজ কিলড। আনামারিয়াকে তো জবাবদিহি করতে হবে  ওর বসের কাছে। বসকে ক্লায়েন্টের কাছে। জি এমএর কাছে।   ডোসিম্যাটের রীডিং মুছে দিয়ে রিসেট করল টিনা, চোখ বুজে মনের মধ্যে একটা সংখ্যা খুঁজল। তারপর সেটাই বসিয়ে দিল লগশীটে।  ধুলো আর জলই তো আফটার অল। তারপর আবার খুটখাট শুরু করল মোবাইলে।
এই সময়ে  হাঁফাতে হাঁফাতে ল্যাবে ঢুকল আনামারিয়া।  গলার সঙ্গে লেগে থাকা ক্রশ। সটান রিয়াকটারের সামনে এসে দাঁড়াল। বাঁদিকে সামান্য হেলে হাঁটে  আনামারিয়া; কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল  ডোসিম্যাটের দিকে। ভুরু কোঁচকালো।  ওর কোঁচকানো ভুরু শুঁয়োপোকার মত দেখায়।  টিনার দিকে ফিরে বলল, এক ঘন্টা হয়ে গেছে রিয়াকশনের আর মাত্র এইটুকু অ্যাসিড গেছে?
-আরে নাঃ  পাওয়ার গিয়েছিল -আসলে প্লাগটা লুজ ছিল। রিসেট করতে হল।
- শিওর কিছু উল্টোপাল্টা করেছ।
-ধুত, আমি কেন কিছু করতে যাবো? আই ডিড নাথিং।
- বাজে বোকো না। টেক  এ স্যাম্পল ।  আমি আই সি পি করে আনছি। কত অ্যাসিড গেছে- তখনই বোঝা যাবে। আনামারিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে ওর ঠোঁটের ওপর হাল্কা একটু গোঁফের আভাস  দেখল টিনা।  চিবুকের কাছে একটা দুটো বড় চুল। আনামারিয়ার বয়স কত ভাবতে ভাবতে ড্রয়ার টেনে সিরিঞ্জ বের করে আনল। সিরিঞ্জে স্যাম্পল টানল, ফিল্টার করে ডাইলিউট করল আই সি পি টিউবে, অস্ফুটে বলল-বুড়ি মাগি ঠিক ধরে ফেলেছে।
আনামারিয়া বিড়বিড় করতে করতে বাঁ দিকে ঝুঁকে  কেলির কাছে গেল। গল্প জুড়ল  । টিনা আড়চোখে দেখে শ্রাগ করল । পকেট থেকে ফোন বের করে টেক্স্ট পাঠাল ।
টিনার ফোনে মেসেজ এলে বেড়াল ডাকে। আনামারিয়া গল্প থামিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়, টিউব হাতে  হন্তদন্ত হয়ে নীচে নামে। অ্যানালিসিস ডিভিশন থেকে আই সি পি রেজাল্ট -প্রায়োরিটি বলে বের করে আনতে হবে।
অ্যানালিসিস ডিভিশন একতলায়। সিঁড়ি দিয়ে নামছিল আনামারিয়া, স্যাম্পল প্রিপারেশন এর পাশ দিয়ে-ক্রিসকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়ল।  ক্রিসের পিঠ ফেরানো ছিল।  দেওয়ালের দিকে মুখ। সকালে স্নান সেরে আসা মাথা। ভিজে চুল, পরিপাটি আঁচড়ানো। আর কাঁধের নিচ থেকে সুস্নাত শব্দটা উধাও হয়েছে । স্লীভ গুটোনো। কনুই অবধি ধুলো, উস্কোখুস্কো রোম। তিরিশ কিলো রড মিল তুলে সিঙ্কে নামাচ্ছিল ক্রিস। পা ফাঁক করে শরীরের ভরকেন্দ্র ঠিক রাখছিল। ন্যাশনাল লেভেলে ওয়েট লিফটিং করত। চোট পেয়ে ছেড়ে দেয়।   ডান চেটো বাঁ চেটোর বুড়ো আঙুল থেকে আড়াআড়ি বুলিয়ে নিলো ক্রিস, তারপর বাঁ চেটো। এভাবেই ও ধুলো ঝাড়ে। হাত মুছে আনামারিয়ার দিকে ঘুরল -'তোমার গ্রাইন্ডটা কাল করলে হবে? আজ আধ ঘন্টা আগে বেরোবো। কাল সকালে করে দেব।' বলে একটু হাসল। চোখ মটকে মজার মুখ করে তাকাল। কানে ইয়ার প্লাগ গুঁজে  ভাইব্রেটর স্ক্রীন অন করল তারপর। সামান্য ধুলো উড়ছিল। হাতির শুঁড়ের মত সাকশান ট্রাঙ্ক  অন করল ক্রিস।  আনামারিয়া নিজের হাতের আই সি পি টিউব দেখল , তারপর ক্রিসকে। ডিভিশনে একজনই আছে-যার হাতে টেস্ট টিউব মানায় না। টেস্ট টিউব কেন ছোটোখাটো  কোনোকিছুই নয়। ভাবতে ভাবতে শরীরের ভার আঙুলের ওপর দিয়ে গোড়ালি উঁচু করল আনামারিয়া । তারপর সিঁড়ি বেয়ে নিচে গেল ।
এক তলায় নাওমি হাঁসফাঁস করে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এসি চলছে। মুখ চোখ তবু লালচে আর ঘেমো। মাফল ফার্নেস খুলে ক্রুসিবল ঢোকাচ্ছিল , বের করছিল। নাওমি এক্স আর এফ অ্যানালিসিসের কাজ করে। আনামারিয়া হাঁউমাউ করে বলল-একি প্যাট কোথায়? প্যাট্রিশিয়া আসে নি? নাওমি  ফারনেসের ডালা দমাস করে বন্ধ করে বলল- না এসে যাবে কোথায়? ঘরে মেশিন অন করেছে। আজ বাইরেটা কি সুন্দর দেখেছ?
আনামারিয়া  শুনতে পেল না-পাশের ঘরে প্যাট্রিশিয়াকে খুঁজছিল। প্যাট  ল্যাবে ছিল। ফিউমহুডে টুকটাক কাজ করছিল। অ্যাসিড ঢালছিল।  কোমর ঈষৎ ভারি। ঘন লম্বা চুল। শান্ত গলায় কথা বলে , প্রতিটি শব্দের মধ্যে গ্যাপ দেয় অনেক। ওর ডেস্কে অজস্র কাগজের ফুল আর পাখি । অবসরে কাগজ কেটে বানায়। সাজিয়ে রাখে। উপহার দেয়।
আনামারিয়াকে দেখে বলল-আর্জেন্ট স্যাম্পল তো?  ক্যালিব্রেশন চলছে। এখনি দিয়ে দাও।হয়ে যাবে। কোন কোন এলিমেন্ট চাইছ?
-জাস্ট একটাই স্যাম্পল। সালফারটা চট করে দেখে দাও।
দশ মিনিট পর দুলে দুলে ল্যাবের দিকে হেঁটে যাচ্ছিল আনামারিয়া। থমথমে মুখ। মুখ নামিয়ে বিড়বিড় করছিল-মিথ্যুক , মিথ্যুক, মিথ্যুক।


চশমা খুলে  স্প্রেডশিট থেকে চোখ সরাতে  পাখিটাকে দেখলাম। পাগল পাখিটা। প্লভার। এই সময় পাগল হয়ে যায়- অফিসে কম্পিউটার অন  করলেই ভেসে ওঠে সেফটি অ্যালার্ট-প্লভার  সূপিং সীজন আগেইন-স্টেয়ারিং অ্যাট প্লভার্স ক্যান প্রোভোক দেম অ্যাজ ওয়েল অ্যাজ ওয়াকিং ক্লোজ টু দেম। সাবধানে চলাফেরা করতে হয়।
 শরীরটা শাদা , কালচে ডানা , লম্বা বাদামী  পা।  হলুদ ঠোঁট, ঝুঁটি। ঝুঁকে ঝুঁকে ঘুরে বেড়ায়-মাথা তোলে, মাথা নামায়। তারপর ট্টিঃ টিটি ট্টিঃ বলে হঠাৎই লাফ দেয়, ডানা ঝাপটে চক্রাকারে পাক খায় শূন্যে-আর, ডাকতেই থাকে-ডাকতেই থাকে -তারপর অসম্ভব দ্রুত নীচে নামে , ঠোকরায়। আকাশে পাক খেতে থাকে আবার ।
আজও পাগলামিতে পেয়েছিল পাখিটাকে। কিউবিকলের জানলা দিয়ে দেখছিলাম। তখনই দেখলাম আনামারিয়া আসছে। হাঁটার জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া পথ দিয়ে নয়, মাঠের ভিতর দিয়ে শর্টকাট করছে আনামারিয়া। ঘাস কাটা হয় নি , বৃষ্টি হয়েছে কয়েকদিন; লম্বা সবুজ ঘাস-জানলা দিয়ে আনামারিয়ার পা দেখা যাচ্ছে না। সবুজ ঘাসের ওপরে ছাই রং স্কার্ট, হলদে ব্লাউজ, তার ওপর কানে আইপডের তার গোঁজা।  আনামারিয়ার রুক্ষ মুখ, চশমা, ক্লিপ লাগানো ছাঁটা চুল। ছোটো বেগুণী ছাতা। দুলে দুলে আসছে। আর পাখিটা ওর মাথার ওপর দু ফুট ব্যাসার্দ্ধের বৃত্ত তৈরি করে পাক খাচ্ছে-তীব্র গতিতে নেমে আসছে, আনামারিয়ার বেগুনী ছাতার খুব কাছে চলে আসছে আবার তীব্র  ট্টিঃ টিটিঃ ট্টিঃ ডাক দিয়ে নিজের তৈরি বৃত্তের স্পর্শক বরাবর  ছিটকে বেরোচ্ছে। অন্য বৃত্ত তৈরি করছে।
আমার কিউবিকল থেকে এই অবধিই দেখা যাচ্ছিল। আনামারিয়া এর পর বাঁদিকের নির্দিষ্ট পথ দিয়ে ওর ডেস্কে যাবে। । ওর মোবাইল বাজবে -অদ্ভূত রিংটোনে।  গল্প করবে বহুক্ষণ মোবাইলে।
অথচ আনামারিয়া  ছাতা রেখে আমার ঘরে এল। দরজা ঠুকে বলল-আসতে পারি? একটু কথা ছিল। জরুরী।
- আধঘন্টায় হয়ে যাবে? একটা মিটিং আছে দুটো নাগাদ।
- আধঘন্টাও লাগবে না। দশ , পনেরো মিনিট বড়জোর।
আনামারিয়া বসল। আমার দিকে তাকিয়ে হাসল হঠাৎ।
বলল-অনেস্টি ব্যাপারটা খুব অদ্ভূত। মানো?
আমি আড়চোখে ঘড়ি দেখলাম - হোয়াট ডু ইউ মিন?
-টিনা পুটস থিংস আনডার কারপেট। ডু ইয়ু নো দিস?
আনামারিয়া উত্তেজনায় নাক টানছিল। ফলে ওর কথার শেষ শব্দগুলো হারিয়ে যাচ্ছিল।  সামান্য হলেও হাসি পাচ্ছিল আমার। আড়চোখে আবারও ঘড়ি দেখলাম।
আনামারিয়া বলল -মানুষ কখন কথা গোপন করে ?
- অনেক কারণ হতে পারে, আরেকদিন না হয় ডিসকাস করব। ওভার এ কাপ্পা।
-টিনা আমাকে ভয় পায়। আমাদের সবাইকে ভয় পায়। সব কথা খুলে বলতে পারে না স্রেফ ভয়ে।
-কিসের ভয়?
-আমরা ওর বস। আমি ওর, তুমি আমার। সহজ হতে পারে না।
-তুমি তো ভয় পাও না আমাকে।
-সবাই তো একরকম নয়। তোমার বেশি সময় নেই আজ।  চট করে বলে নি যেটা বলতে এসেছি। । একটা বুট ক্যাম্প শুরু করব-প্রতি টিউসডে বিকেল সাড়ে  চারটে। শুধু মেয়েদের।  আমাদের তো জিম নেই অফিসে। নিজে গেলে মাসে কত লাগে জানো তো।  অথচ ফিটনেসটা দরকারও। এই আমরা মেয়েরা  - আমি, কেলি, প্যাট, নাওমি-চল্লিশ পেরিয়েছি-ফিটনেস কমছে। টিনা, জারমেইন, অ্যাবি-ওরা অবশ্য  ছোটো অনেক। নিজেদের মধ্যে চেনা জানা হোক অফিসের কাজের বাইরে, আড়ষ্টতা কাটবে।
-সবার সঙ্গে কথা বলেছ? সবাই রাজি?
- রাজি। অফিসের পরে সপ্তাহে একটা দিন।
-কোথায় করবে ক্যাম্প? আর ট্রেইনার?
 -ক্রিসকে অ্যাপরোচ করেছিলাম। এক কথায় রাজি হয়ে গেল। একটা বিকেল এক দেড় ঘন্টা ট্রেনিং করিয়ে দেবে। ফ্রী।
-ফ্রী?
-হি ইজ আ ভেরি নাইস ম্যান। আমরা অবশ্য যে যেমন পারি দিচ্ছি ধরা বাঁধা কিছু নয়।  টাকা নেবে না যখন বলেছে, মাসে মাসে টাকা দেওয়াটা  ভালো দেখায় না। একটু টাকা জমুক-দেখি কেমন ওঠে-তারপর একটা ভালো কিছু ধরো ট্রাকসুট, বা সানগ্লাস এরকম কিছু দেব। ভালো না?
-নিঃসন্দেহে।কোথায় জমা দেব টাকা?
-কেন? তুমি আসবে ?
-অসুবিধে আছে?
-একেবারেই নয়। বরং সবাই মোটিভেটেড হবে। ভয় টয়্গুলো-ও কাটবে। সেটার জন্যই তো-
-আমি ইন্টারেস্টেড, অ্যাকচুয়ালি দেখতে চাই  এভাবে ভয় ভাঙে কি না।
আনামারিয়া হাসল।
-আমার ডেস্কে বয়াম আছে একটা। আগে লজেন্জ থাকত। ওখানে তোমার টাকাটা দিয়ে যেও। আমরা প্রতি টিউস্ডে সাড়ে চারটেতে মিট করব কারপার্কের পাশে ঢালু জমিটায়। আজ সোমবার। কাল থেকেই শুরু করে দেব।
- কাল হয়তো পারব না আমি। কনফারেন্স কল আছে। তোমরা শুরু করে দিও। আমি পরের সপ্তাহ থেকে ঠিক চলে যাব।
উঠে পড়ল আনামারিয়া। বেগুণী ছাতা নিল। দুলে দুলে দরজার দিকে হেঁটে গেল তারপর।
 পরদিন মিটিং সেরে  পার্কিং লটে যাবো-হাঁটছি মাঠ দিয়ে- ডাইনে দেখলাম গাছের তলায় হাঁপাচ্ছে মেয়েগুলো-টিনা, কেলি, জারমেন, আনামারিয়া,  নাওমি, প্যাট্রিশিয়া , আনামারিয়া।  অনেকগুলো হলুদ বল -ছড়িয়ে ছিটিয়ে।  মাঝখানে দাঁড়িয়ে ক্রিস। শর্ট, স্পোর্টস টি শার্ট, কালো চশমা। একেবারে অন্যরকম। হিরোরা যেমন হয়।
আমার জুতোয় মাটি লাগছিল। লালচে মাটি। সামান্য ভেজা। শুকোলে ঝরে যায়। পাখিদুটো পাক খাচ্ছিল।


দরদর করে ঘামছিলাম। স্পোর্টস শার্ট ভিজে সেঁটে যাচ্ছিল পিঠে । হাওয়া থাকলে আরাম হত।  পশ্চিমের রোদ ঘাসজমিতে। হাঁটুর ওপরে আধ হাত জায়্গা কাঁপছিল। হাঁটুর তলায় জোর ছিল না। কেলি হা হা করে হেসে বলছিল-জেলি লেগ, জেলি লেগ।
চার পাক চক্কর দিতে বলেছিল ক্রিস। আমি আড়াই পাকের মাঝে কোমরে হাত দিয়ে হাঁপাতে থাকি। বাকিরা মোটের ওপর চার পাক কমপ্লিট করে না থেমেই। আনামারিয়া শেষ পাকটা স্রেফ হাঁটল। নাওমি অসম্ভব স্লো পেসে দৌড়লো পুরোটা, নাক দিয়ে ফোঁত আওয়াজ করে বলল- এক্সারসাইজ করে কে  কবে স্লিম হয়েছে বলত? পোস্টম্যান তো ইমমরটাল হত তবে। যত্ত সার্কাস।
আমি বললাম-তো, এলে কেন তুমি?
নাওমি হেসে বলল-কত্তদিন বিকেল দেখি নি বলো তো!
তারপর লাস্ট ল্যাপটা কমপ্লিট করল একবারও না থেমেই।
এরপর লাঞ্জ  ওয়াকিং করার পরে পা খুলে আসবে মনে হচ্ছিল। জগিং আর ট্রেডমিল ছাড়া সেভাবে করি নি কিছু।
পাঁচ মিনিট বসতে দিল ক্রিস। গোল হয়ে বসতে, টিনার পাশ থেকে  আমার পাশে এল আনামারিয়া। জল খেল।
ক্রিস গলা তুলে বলল-গার্লস গার্লস লিসন।  একটা হলুদ বল হাতে নিল তারপর। কামানের গোলার মত দেখতে। গ্রিপ করার জন্য একটা হ্যান্ডল। হলুদ রংটা বেমানান লাগছিল।
বাঁ হাতে বল গ্রিপ করে কাঁধ অবধি তুলল ক্রিস।  মাসল ফুলে ফুলে উঠছিল।
-গার্লস, লিসন। লুক অ্যাট দিস।  কেটল বেল । বল বলেও হবে। রাশিয়ান। চাষীরা আগে ব্যবহার করত। ওয়ার্ল্ড ওয়ারের পরে অসম্ভব পপুলার স্পোর্ট্স ওদেশে। ডিড ইউ নো?
ঘামতে ঘামতে আমরা উল্টোবাগে মাথা নাড়ি।
কালো চশমায় হাত দিল ক্রিস। তারপর আট কেজি বলটাকে পায়ের মাঝখানে ঘাসের ওপর রেখে পা ফাঁক করে দাঁড়াতে বলল। হাঁটু ভাঁজ ক'রে দু হাতে বল গ্রিপ করে প্রথমে কোমর তারপর বুক পর্যন্ত তুলতে বলল । নামানো তারপরে। একই ভাবে।উবু হয়ে বসা, উঠে দাঁড়ানো। প্রথমে বার পাঁচেক। তারপরে দশবার। বাঁ হাতে বল গ্রিপ করে কাঁধ অবধি তোলা। তারপর ডান হাত। আগের মতই। পাঁচবার। দশবার।

ভিজে মাটিতে থুপ করে আওয়াজ হ'ল। আনামারিয়ার হাত থেকে বল পড়ে গেছে। আর হু হু করে কেঁদে উঠল আনামারিয়া। নিতান্ত আচমকা।  ফাঁকা ঘাসজমিতে সে কান্না তীব্র হয়ে এল।  টিনাকে দৌড়ে যেতে দেখলাম ।
-হেই, দ্যাট ক্যান হ্যাপেন। হোয়াই আর ইউ সো আপসেট?
নাওমি ধাক্কা দিল টিনাকে-ডোন্ট টাচ হার।  ক্রিস হুইশল বাজালো জোরে। আনামারিয়া ফোঁপাচ্ছিল। আমি বসে পড়লাম। ক্রিসকে আনামারিয়ার কাঁধে হাত রাখতে দেখলাম।
নাওমি এসে বসল পাশে। নাক ঝেড়ে বলল- টিনা ইজ আ লেসবি। জানতে আগে? অস্বস্তি হচ্ছিল। ঘড়ি দেখলাম। তারপর আকাশ। পাখিটা ট্টিঃট্টিঃ আওয়াজ করে চক্কর কাটছিল। নেমে আসছিল। ডানা ভাসিয়ে উঠে যাচ্ছিল।
 ক্রিস আনামারিয়াকে কিছু বলছিল হাত নেড়ে। শোনা যাচ্ছিল না।
তারপর গলা তুলে বলল-আজ এই পর্যন্তই থাক তবে। আধঘন্টা সময় আছে আরও। একসঙ্গে একটু বসি। কথা বলি?
আমি ঘড়ি দেখলাম আবার । উঠে পড়ব ভাবছিলাম। রোদ মরে হলুদে সামান্য সিপিয়া ছোপ ধরছিল। আমাদের ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছিল।কালচে দেখাচ্ছিল ঘাসজমি।
ক্রিস বলল- তোমাদের নিজেদের কথা বল। এই ধরো হবি টবি, কি ভালো লাগে , এই চাকরি এইসব-যা ইচ্ছে। লেটস স্টার্ট উইথ টিনা।
টিনা আঙুল খুঁটছিল, ক্রিসের দিকে তাকাল না।  শ্রাগ করল। খুঁটতেই থাকল  আঙুল। ক্রিস অন্যদিকে ফিরল- ইউ, নাওমি? হোয়াট  অ্যাবাউট ইউ?
নাওমি খিলখিলিয়ে হেসে বলল -ছেড়ে দেব এ চাকরি। যত্ত ফালতু। দোকান দেব পারফিউমের। খুব সকালে দোকান খুলব। বিকেল হতেই বন্ধ। ভালো না ?
খিলখিলিয়ে আবার হাসল । তারপর দুহাত ভাঁজ করে  মাথার পেছনে আনল আলগোছে।  ঘাসের ওপর শুয়ে রইল। আকাশে তাকিয়ে।
ক্রিস বলল-আনামারিয়া, কিছু বলবে?
বাঁশিতে আনতাবড়ি ফুঁ দেওয়ার আওয়াজ হল কোথাও। ঈষৎ ভাঙা সর্দি-বসা গলা।।প্রথমে ককিয়ে কান্না তারপর ফিকে ট্রেমেলোয় পাল্টে যেতে লাগল--আবছা একটা সুর-খুব অস্পষ্ট কিন্তু একটানা, এস্রাজে ছড় ঘষে সুর তোলার মত বিস্তার পাচ্ছিল ক্রমশঃ। যেন মিনতি করছিল , যেন কিছু চাইছিল।... যেন কিছু ঘটতে পারে। অথচ কোত্থাও কিছু ঘটবে না এও যেন বলা ছিল। আবেগ জমাট বাঁধছিল, তারপর ছড়িয়ে যাচ্ছিল। বেগুণী আকাশের তলায় আমাদের ছায়া দীর্ঘতর হচ্ছিল। তারা ফোটার সময় হচ্ছিল।  আমরা আকাশে তাকিয়ে ছিলাম। চাঁদ উঠবে মনে হচ্ছিল।
আনামারিয়া থেমে গেল। টিনা বলল-লাভ সং? তারপর বোকার মত হাসল কেমন।
আনামারিয়া উত্তর দিচ্ছিল না। নাক টানছিল শুধু।
নাওমি কাছ ঘেঁষে ফিসফিসিয়ে বলছিল-ওর কি ডিভোর্স হয়ে গেছে , জানো? বরটা কিস্যু করে না-হুটহাট কোথায় চলে যায় মাঝেমাঝেই... জানো না তুমি?
টিনা বলগুলো কুড়িয়ে আনছিল। মাঠের মাঝখানে রাখছিল।


ফিস অ্যান্ড চিপ্স অর্ডার করে দাঁড়িয়ে ছিলাম। অনেকখানি সময়  লাগছিল লাঞ্চ আওয়ারের ভীড়ে। স্যান্ডুইচ  নিলেই  ভালো হ'ত, সময় বাঁচতো। দাঁতে নখ কাটছিলাম ।ঘড়ি দেখছিলাম ঘন ঘন।  টার্ণ এলো। কাউন্টারে  দাম মেটাচ্ছি, আনামারিয়া পাশে দাঁড়ালো-কি নিলে? ফিস চিপস? বাঃ। আমি কি নেব? স্যান্ডুইচ খেতে ইচ্ছে করছে  না।
কি মনে হল, বললাম-চলো আজ একসঙ্গে খাই। কাউন্টারে আরো একটা ফিস অ্যান্ড চিপস অর্ডার করে দাম মেটালাম। আনামারিয়া হাঁ হাঁ করে উঠলো প্রথমটায় তারপর হাতে মাছভাজার প্লেটটা নিয়ে বললো -কাল খাই নি জানো? রাগ করে খাই নি স্রেফ। তিন মেয়ের জন্য পিজ্জা আনালাম। তিনজনের তিন রকম। ছোটো মেয়ে খেয়ে নিল বড়রটা। সেই নিয়ে সেকি চুলোচুলি সে কি চুলোচুলি। আমারও মাথা গরম হয়ে গেল। মেজটা কাঁদছিল শুধু। টীন এজার তো সব। সামলানো শক্ত। চলো বসি। ঐ কোণের টেবিলটা খালি।
ডানহাতে  ছুরি ধরে খুব যত্ন করে মাছভাজা কাটছিল আনামারিয়া। ওকে ক্ষুধার্ত লাগছিল ।  বাঁ হাতের ফর্কে মাছএর টুকরো বিঁধিয়ে মুখে দেবার আগে  আমার দিকে তাকালো আনামারিয়া।
বলল-এই যে খাচ্ছ, খিদের মুখে, কার কথা মনে হচ্ছে? মনে হচ্ছে কারো কথা?
কাল রাতের কথা মনে হল। চুপ করে রইলাম। মাথা নেড়ে না বললাম।
আনামারিয়া  মুখে মাছের টুকরো পুরতে গিয়েও পুরলো না, নামিয়ে রাখল ফর্ক।  বলল-আমার মনে পড়ে। ভালো কিছু খেতে গেলেই মনে পড়ে। ভালো খাবার, ভালো গান, ভালো মুভি, ভালো যা কিছু।
আমি অবাক হয়ে তাকালাম। কার কথা বলছে আনামারিয়া বুঝতে পারছিলাম না। কৌতূহল চেপে রাখার চেষ্টা করছিলাম। কোকে চুমুক দিচ্ছিলাম ঘন ঘন।
আনামারিয়া বলল-আচ্ছা এটা কি চিটিং? তোমার কি মনে হয়?
-কোনটা চিটিং আনামারিয়া?
আনামারিয়া গলা নামিয়ে বলল- আমি একজনকে ভালোবেসেছি।  অনেক দূরে থাকে । অন্য দেশ।  সে অর্থে অ্যাফেয়ার নয় কিন্তু জান? মাঝে মাঝে ফোনে কথা হয় - খুব রেগুলার নয়-এত একসপেনসিভ। মেইল করি, টেক্স্টও। মুছে দি সব।  লুকিয়ে রাখি । এটা কি চিটিং?
আমার অস্বস্তি হয়।  ঘড়ি দেখি। । গলা খাঁকরে বলি - তা নয়, তবে ...
আমাকে থামিয়ে  দেয় আনামারিয়া। নাক ঝেড়ে বলে-আচ্ছা, তুমি  ভালোবেসেছ  কোনদিন?
আমি আলতো হাসি। মাছ খাই।
মনে মনে বলি -- ভালোবাসা তুমি কাকে বলো আনামারিয়া?
আনামারিয়া আমার দিকে তাকায়। কেমন করে হাসে। কেমন ঘোর পাওয়া গলায় বলে যেতে থাকে -তুমি একটা বাগান করেছ মনে কর। বীজ পুঁতেছ, গাছ হয়েছে, ফুল ধরেছে। সুন্দর ফুল, মিষ্টি গন্ধ। হঠাৎ তুমি চলে গেলে অন্য কোথাও। বেড়াতে গেলে । নতুন দেশ দেখতে। তোমার বাগানের কথা ভাবলে না। তারপর ফিরে এলে একদিন। মরা বাগান দেখার কথা তোমার। অথচ ফুলে ভরে আছে বাগান। অন্য কেউ জল দিয়েছে, সার দিয়েছে, ফুল ফুটিয়েছে। এ বাগান এখন আর তোমার নয়।
কিছু বুঝতে পারছিলাম না।প্লেটে আধ খাওয়া মাছ , আলুভাজা, ফর্কের গায়ে লাগা সস, ঈষৎ আঁশটে গন্ধ মিলিয়ে যাচ্ছিল। অন্য একটা গন্ধ পাচ্ছিলাম । বকুল না কি জ্যাকারান্ডা। কষ্ট হচ্ছিল।


শীতের শুরুতে রেজিগনেশন দিল আনামারিয়া। দেশে ফিরে যাবে। ম্যাসিডোনিয়ায়। টিউসডে। বিকেলে ক্যাম্প ছিল। জোরে বাতাস বইছিল।ইউক্যালিপ্টাসের সূচালো পাতা হাওয়ায় ভেসে নামছিল একটা দুটো। পাতা ঝরে গেলে গাছটাকে অন্যরকম লাগে। চিৎ হয়ে শুলে আকাশ দেখা যায়।  বিকেলের আকাশ। আমাদের ঘামে ভেজা পিঠে  সদ্য মো করা ঘাসজমি। ঈষৎ খোঁচা লাগছিল আমার। দু হাত ভাঁজ করে মাথার নিচে রেখেছিলাম। । পা উঁচু করছিলাম, নামাচ্ছিলাম। কিছু আগে ক্রিসকে ঘিরে গোল হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম, বাঁ হাতে বল তুলছিলাম, কখনও ডান হাতে - সুইং, ক্লীন, স্ন্যাচ, জার্ক, রো, স্কোয়াট,উইন্ডমিল হাই... এই সব।  সিঙ্গল ফ্রন্ট স্কোয়াটে আনামারিয়া আজ অনায়াস ছিল। ক্রিস বলছিল -ওয়েল ডান ওয়েল ডান। টিনা বলছিল- জানতাম। ইউ ক্যান ডু ইট।  আনামারিয়া হাসিমুখে তাকাচ্ছিল সবার দিকে।
এখন হাল্কা কিছু এক্সারসাইজ । শোয়া থেকে উঠে বসছিলাম আমরা । দাঁড়াচ্ছিলাম। একটা ফুলের গন্ধ আসছিল। ফুলের গন্ধ, মাটির গন্ধ, ঘাসের গন্ধ।
নাওমি সামান্য কষ্ট করে পা তুলছিল, মুড়ছিল-বিড়বিড় করে বলছিল -ছেড়ে দেব এ চাকরি। বিকেল দেখা যায় এমন চাকরি নেব। দেখে নিও।
বিকেল শেষ হয়ে আসছিল  । আমরা ফেরার কথা ভাবছিলাম।
এমন সময় আনামারিয়া গলা খাঁকরে বলল-আর দেখা হবে না। বাট কীপ ইট আপ মাই ফ্রেন্ড্স। কীপ ইট আপ।
টিনা শ্রাগ করল। বলল -ধ্যুৎ, ফালতু যত।  ভাল্লাগছে না। আমি আর আসছি না।
নাওমি ফিসফিস করছিল- ওর ডিভোর্স হয়ে গেছে।দেশে গিয়ে আবার বিয়ে করছে। জানো? এই বয়সে নতুন করে  শুরু করবে ! ভাবো একবার। হিংসে হয়।  মাইরি। জিসাসের দিব্যি!
নাওমির গলা কাঁপছিল।


লজেন্সের বয়ামটা এখন নাওমির ঘরে। আজ টাকা দিতে গেছিলাম । বয়ামের গায়ে একটা গোলাপী চিরকুট। হার্ট শেপ। কাগজ কেটে তৈরি।  বেগুণী কালিতে লেখা-  টু ট্রেইনার নাম্বার ওয়ান । নাওমি দমাস করে ফারনেসের ডালা বন্ধ করে চোখ মটকে হাসল- আকাশটা দেখেছ আজ?

বিকেলে  ল্যাবেই ছিল টিনা। লম্বা এক্সপেরিমেন্ট। শেষ হতে রাত হবে। জানলা দিয়ে বাইরের মাঠ দেখছিল ও।  দেখছিল, বিকেল নামছে। দেখছিল, ঘাসজমি  ঘিরে ওরা, মাঝখানে ক্রিস। হলুদ বলগুলো ছড়ানো ছিটানো। মোবাইল বের করে টেক্সট পাঠাল । আবার জানলায় দাঁড়ালো এসে।  তখনই খেয়াল হল আজও অনেক বেশি অ্যাসিড বেশি চলে গেছে রিয়াকটরে।   ডোসিম্যাটের রীডিং মুছে দিয়ে রিসেট করল । চোখ বুজে মনের মধ্যে একটা সংখ্যা খুঁজল আবারও। তারপর সেটাই বসিয়ে দিল লগশীটে।  হাসছিল টিনা। ধুলো আর জলই তো আফটার অল। 
 

চিত্রঃ মৃগাঙ্কশেখর গঙ্গোপাধ্যায়



427 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ উৎসব ইস্পেশাল ২০১২  গপ্পো 
শেয়ার করুন


Avatar: swati

Re: বিকেলের গল্প

রাইট, আফটার অল, ধুলো আর জলই তো.......

চুপচাপ পড়েই চলে যাই রোজ, আজ খুব ইচ্ছে হল ভাল লাগাটুকু জানাতে। আজকের বিকেলটাকে দায়ী করলাম ঃ)
Avatar: indraaNee

Re: বিকেলের গল্প

অনেক ধন্যবাদ স্বাতী। পড়ার জন্য আর জানানোর জন্য।
Avatar: kumu

Re: বিকেলের গল্প

এমন গল্প পড়ে চুপ করে বসে থাকতে হয়,কিছু বলতে হয় না।
তাও বলি,ছোটাইকে,ভারী গভীর লাগলো,অল্প কথায় অনেক কিছু বলা,খুব ভালো লাগলো।
Avatar: শিবাংশু

Re: বিকেলের গল্প

এটা ঠিক 'গল্প' নয়।

অনুভূতির কথামালা বলা যেতে পারে। ন্যারেটিভের অস্থিমজ্জা পেরিয়ে সেখানে পৌঁছোতে চাওয়া, যেখান থেকে অনুভূতির রাজপাট শুরু হয়। এই কাজটিতে ইন্দ্রাণীর কুশলতা প্রমাণিত বহুদিন ধরেই। চুপকথার শব্দ চিৎকারের থেকে অনেক গভীরে যায়। এখানেও তাই গিয়েছে। আসলে মামুলি মানুষের নিত্যদিনের অনুল্লেখ্য জীবনযাপনও কোনও কোনও মূহুর্তে কিছু অসামান্য মাত্রা অর্জন করে। একজন কথাশিল্পী সেই মূহুর্তগুলিকে নির্ভুল তুলির আঁচড়ে পটবন্দি করে ফেলতে পারে।

এই গল্পটির পরিবেশ বিদেশী। পাত্রপাত্রীদের জীবনযাপনের পরিপ্রেক্ষিত আমাদের জানা জগতের পরিধির একটু বাইরে। তাদের সংবেদনের মাত্রাগুলি অনেকসময়ই আমাদের চেনা অনুভূতির সূত্রগুলিকে অনুসরন করেনা। কিন্তু মানুষের সীমাবদ্ধতা, ব্যর্থতার বেদনাগুলির যে সব শাশ্বত সংজ্ঞা রয়েছে, তা দেশভূগোলের সরহদ পেরিয়ে যায় আর তাদের নিয়েই লেখাজোখার জগত। এই কাজটিতে ইন্দ্রাণী যথারীতি এবারেও সফল হয়েছেন।

এবার বলি শব্দের কথা। লেখাটিতে যে দেশের পরিবেশকে ধরতে চাওয়া হয়েছে সেখানে যবন শব্দপ্রয়োগ নিশ্চয় অধিক কার্যকরী মাত্রা নিয়ে আসতে পারে এবং এনেওছে। কিন্তু কখনও মনে হয়েছে প্রয়োগের মাত্রাটি হয়তো একটু নিয়ন্ত্রন করা যেতে পারতো। তবে এটা নিতান্তই পাঠকের ভাবনা, সিদ্ধান্ত নেবার অধিকারী একমাত্র লেখক।

ইন্দ্রাণীর থেকে আরো লেখার অপেক্ষা রইলো।
Avatar: Tripti

Re: বিকেলের গল্প

ভারী সুন্দর ! অনেক চুপকথার অনুভুতি। চেনা লাগে কিছু সময়।
Avatar: i

Re: বিকেলের গল্প

তৃপ্তি, কুমু,
লেখা পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ । কৃতজ্ঞতা।

শিবাংশুদা,
২০০৬ এ লিখেছিলাম খুঁটে খাওয়ার গ্রাফিতি-গুরুতেই। বিকেলের গল্প আসলে খুঁটে খাওয়ার গ্রাফিতি #২ ।
প্রচুর যবন শব্দপ্রয়োগ ছিল #১ এ। সে সময় বিক্রম বলেছিল আপনার মতই-প্রয়োগের মাত্রা বেশি হয়েছে। সে কথা মাথায় ছিল, তবু #১ আর #২ এ সঙ্গতি রাখতে চাইলাম ...
এদিকে মুশকিল হয়েছে বিদেশী পরিবেশে লেখা আটকে পড়ছে। বেরোতে পারছি না। কিছু একটা করতে হবে।দেরি হয়ে যাচ্ছে।
Avatar: ranjan roy

Re: বিকেলের গল্প

বহুদিন পরে সিডনী-ইন্দ্রাণীর গল্প। জাস্ট
বলতে যাচ্ছিলাম "খুঁটে খাওয়ার গ্রাফিতি" গল্পটির কথা।
একদম সেটারই অনুরণন মনে এলো। বড্ড কম লেখো। না, কোন অনুযোগ নেই। বাস্তব জীবন বড় ইয়ে--।
মুগ্ধতা কাটেনি।

Avatar: kk

Re: বিকেলের গল্প

সুন্দর লাগলো বিকেলের গল্প। বিশদে অ্যানালিসিস করে লেখার ইচ্ছে ছিলো কিন্তু সময়ের বড়ই অভাব। তাই এখন শুধু ভালোলাগা জানিয়ে গেলাম। শিবাংশুদা'র শেষ প্যারার সাথে সহমত অবশ্য।
Avatar: de

Re: বিকেলের গল্প

খুব সুন্দর লাগলো -- বড্ড চেনা আর কাছের মনে হলো সব চরিত্র গুলোকে, বড়ো মায়াময়! যদিও আমি এক্সপার্ট নই -- তবুও শব্দ-প্রয়োগ নিয়ে স্বচ্ছন্দই লেগেছে!
Avatar: শুদ্ধ

Re: বিকেলের গল্প

বড় হালকা বাদামী রঙ-এ ভরে আছে ক্যানভাস। মরা আলো আর কেমন একটা কাঁচঘরে বন্ধ জীবন ফুটেছে। বেশ কষ্ট হয়। এটা আপনার স্বার্থকতা।
Avatar: indrani

Re: বিকেলের গল্প

সবাইকে ধন্যবাদ। অশেষ কৃতজ্ঞতা।
Avatar: siki

Re: বিকেলের গল্প

একটু দেরি হল।

অসাধারণ।
Avatar: রূপঙ্কর সরকার

Re: বিকেলের গল্প

প্রচূর অচেনা শব্দ কিন্তু অদ্ভুত সুন্দর লেখার বাঁধুনি। বড় ভাল লাগল।
Avatar: i

Re: বিকেলের গল্প

সিকিবাবু, রূপঙ্করবাবু,
অনেক ধন্যবাদ।
Avatar: kumu

Re: বিকেলের গল্প

কোথায় পাওয়া যাবে "খুঁটে খাওয়ার গ্রাফিতি" ?
Avatar: pi

Re: বিকেলের গল্প

Avatar: i

Re: বিকেলের গল্প

মৃগাঙ্কশেখরকে অলঙ্করণের জন্য অশেষ ধন্যবাদ । আগেই লেখা উচিত ছিল আমার।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন