বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আসুন পারলে, এখানে একটা কান্ড ঘটছে - প্রথম কিস্তি

শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ

 

৮ মার্চ, ১৯৬৭: ক্রিস মার্কে SLON (Service de lancement des oeuvres nouvelles)-এর প্রথম প্রজেক্ট Loin du Vietnam (1967)-এর সম্পাদনা করছেন। Godard, Ivens, William Klein, Claude Lelouch, Alain Resnais এবং Agnès Varda এঁদের সকলের নিজস্ব নির্মাণ দিয়ে ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রতিবাদ রয়েছে এতে। মার্কেরা একে বলছেন cinéma ouvrier। কোনোরকম ব্যক্তিগত নেতৃত্ব ও অথরশিপকে বাদ দিয়েই হবে নতুন সিনেমার নির্মাণ। এমন সময়ে Rhodiaceta থেকে চিঠি হাজির René Berchoud-এর। রেনে-রা তিন হাজার শ্রমিক ওখানে Rhône-Poulenc-এর মালিকানায় থাকা কারখানাটিতে ধর্মঘট করেছেন এবং দখল করে নিয়েছেন সেটা। একমাসের দীর্ঘ্য ধর্মঘট হয়েছে ২৫ শে ফেব্রুয়ারী থেকে। ১৯৩৬ সালের পরে সেই প্রথম কোনো কারখানা মজুররা দখল করে রাখলো। মালিক কোম্পানিটি সে আমলের ফ্রান্সের অন্যতম বড় কোম্পানি। ধর্মঘটের আঁচ তার সমস্ত শাখায় ছড়িয়ে পড়েছে। ধর্মঘটীদের দাবীগুলোর মধ্যে মজুরী বাড়ানো, কাজের পরিবেশ ইত্যাদি চেনা দাবীর মধ্যে একদম অচেনা একটা দাবী উঠে এসেছে, যার উত্তর দুনিয়ার কোনো মালিকপক্ষের কাছে থাকে না। মজুররা বলেছে সংস্কৃতির অধিকার চাই, সংস্কৃতিতে পৌঁছবার উপায় চাই।
সংস্কৃতির অধিকার বস্তুটা তাদের কাছে কোনো ইউটোপিয়ান শ্লোগান না, অতি প্রয়োজনীয় বস্তুগত দাবী। সে সারাদিন কাজ করে যে কারখানায় সেই কারখানায় সেও মেশিনের মত হয়ে যায়। একই কাজ দিনে শত-সহস্রবার একই দক্ষতায় সম্পন্ন করে সে। তার চারপাশে এক ধাতব-যান্ত্রিক পরিবেশ, এক ভয়াবহ শব্দখেলা যেখানে সে বন্দী। গদার তাঁর নিজস্ব ভঙ্গীমায় তাঁর গ্রুপ ভের্তভের (পরে আসবো এ প্রসঙ্গে) নির্মিত মিলিট্যান্ট সিনেমা ‘ব্রিটেন সাউন্ড’-এ এ নিয়ে একটি মন্তব্য করেন। তাঁরা দেখাচ্ছেন যে একটি অটোমোবাইল কারখানায় মজুররা কাজ করছে এবং সেখানে ভয়াবহ শব্দ। শটটি চলে টানা দশ মিনিট। মধ্যিখানে নেপথ্যকন্ঠ পড়তে থাকে মার্ক্সের অ্যালিয়েনেশন অব লেবার। গদার বলছেন,
“The workers have to listen to that sound all day, every day, for weeks, months, and years, but bourgeois
audiences can’t stand to listen to it for more than a few seconds.”
এমন একটা পরিবেশে কাজ করে যারা তারা নিজেদের মানুষ হিসেবে দাবী করছে এবং তাদের সেই মনুষ্যত্বের একটা বড় অংশ সংস্কৃতি বলে তার অধিকার দাবী করছে। এবং দাবীটা আকাশ থেকে পড়েনি।
মার্কে নিজে থিয়েটার ওয়ার্কশপ থেকে ক্রমশ এসেছেন সিনেমা নির্মাণে। আদ্রেঁ বাঁজার সঙ্গে কাজ করেছেন Travail et Culture-এ। সেখানে কাজটা ছিল মানুষের কাছে সংস্কৃতি এবং সংস্কৃতির কাছে মানুষকে নিয়ে যাওয়া। সেই কাজের থেকেই উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৫৯-এর ৯ই সেপ্টেম্বর Besançon, যেখানে মজুররা প্রথম কারখানা দখল করে এই দাবী তুললো সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল CCPPO (Centre culturel populairede Palente-les-Orchamps)। মজুর নেতা Pol Cèbe, René আর Micheline Berchoud একটি উচ্চাকাঙ্খী কাজ শুরু করেন সেখানে। তাঁরা মজুরদের ব্রেখটের নাটক, পিকাসোর ছবি, আইজেনস্টাইনের সিনেমা অথবা মার্ক্সিয় সাহিত্যের সঙ্গে নানা সাহিত্য-শিল্পের মহত্তম সৃষ্টিগুলোর সঙ্গে পরিচয় করালেন। সেই থেকে বেড়েছে মজুরদের খিদে। দুদিন সকালে, তারপরেই দুদিন বিকেলে আর সবশেষে তিনদিন রাত্রে কাজ করার পরে দু দিন ছুটি জোটে। তাদের জীবনে তখন আর কোনো আনন্দ, আহ্লাদ অবশিষ্ট থাকে না। সেই অবশেষটুকু না থাকলে মানুষ মানুষ হয় না। তাই এই দাবী। এবং সেই দাবীটার সঙ্গে যখন মার্কের পরিচয় আছেই তখন মার্কেকেই ডাকা হল। এর আগে অব্দি মার্ক চীন, কিউবা, সাইবেরিয়া, ইস্রায়েল এই সব দেশ ঘুরে বানাচ্ছিলেন ফিল্ম-প্রবন্ধ। চিঠিতে লেখা হল,

“If you aren’t in China or elsewhere, come to Rhodia—important things are happening.”
মার্কে সম্পাদনার টেবিল ছেড়ে বেরিয়ে পড়লেন তাঁর সঙ্গী টেকনিশিয়ানদের নিয়ে। সিনেমা বানালেন। মাথায় ছিল ব্রেখটের কথাগুলো।
one need not be afraid to produce daring, unusual things for the proletariat so long as they deal with its real situation. There will always be people of culture, connoisseurs of art, who will interject: “Ordinary people do not understand that.” But the people will push these persons impatiently aside and come to a direct understanding with artists.
তথ্যচিত্র যখন তৈরী হল তখন ওখানেই দেখানোর আয়োজন হল। সেখানে মার্কে জানলেন শুধু তথ্যচিত্র বানালেই হবে না, তাঁর কাজটা হওয়া চাই ভিন্ন। তাঁকে শেখালেন মজুররা। ট্রেভর স্টার্ক-এর ‘সিনেমা ইন দ্য হ্যান্ডস অব পিপল’ থেকে একটু দীর্ঘ্য উদ্ধৃতি দিতেই হচ্ছে এখানে।
“One worker states, “I think that the director is incompetent. . . . And I also think, and I say it bluntly, that the workers of Rhodia have simply been exploited.” Another criticizes Marker for the fact that women in the film appear exclusively as wives rather than as workers and militants in their own right. In one of the most incisive comments, Georges Lièvremont, a worker interviewed in À bientôt j’espère, proclaims, “I believe that, frankly, Chris is a romantic. He has seen the workers and the union romantically.” For Lièvremont, if Marker contrasted the debilitating working conditions at Rhodiaceta with the liberating experience of the strike, he conjured away the pragmatic and unromantic daily labor of organization.”

ঠাঁইটি বড্ড কঠিন ছিল। মজুররা, যারা নিজেদের সংস্কৃতির অধিকারের জন্য লড়ছে তারা ছেড়ে কথা বলবে না। বলার কথাও না। মার্কে বললেন,
“We have also carried out a parallel activity, putting cameras and tape recorders into the hands of young militants, led by a hypothesis that is still evident to me: that we will always be at best well-intentioned explorers, more or less friendly, but from the outside; and that, as with its liberation, the cinematic representation and expression of the working class will be its own work. With audiovisual equipment in hand, workers themselves will show us films about the working class, about what it is to go on strike, about the inside of a factory. We could be ten thousand times more crafty, and less romantic, and still be limited by the cinematographic reality that one experiences all the time, whether among penguins or workers, that, of course, one can only ever really express what one lives.”

এল সেই সময় যখন লেনিন আর রোজা লুক্সেমবুর্গের লাইনের মধ্যে একটাকে বাছতে হবে মার্কেকে। বাকীদেরও। নীচের থেকে সংস্কৃতি উপরে উঠবে, নাকি কেন্দ্রিক-গণতন্ত্রী সর্বহারার একনায়কতান্ত্রিক শাসনে উপর থেকে নীচে নামবে ভ্যানগার্ড পার্টির নির্দেশানুযায়ী! মার্কে নিলেন মেডেভেডকিনের লাইন।

              

                 সিনে-ট্রেনটা বিপ্লবের এবং সমাজপরিবর্তনের প্রত্যক্ষ অংশীদার

রাশিয়ান সোভিয়েত আমলের নির্মাতা মেডভেডকিন। মার্কের দীর্ঘ্যদিন ধরেই এঁর সম্পর্কে কৌতূহল ছিল। কিন্তু রাশিয়ার বাইরে খুব কম জানা যেত এঁর সম্পর্কে। ঘটনাচক্রে এক সিনে-উৎসবে দেখা হয়ে গেল ওনার সঙ্গে। ওনার অভিজ্ঞতাই মার্কে কাজে লাগাবেন এবারে।
বলশেভিক রাশিয়া বড় হচ্ছে : মেডভেডকিন একটা ট্রেন নিয়েছেন। সেই ট্রেনে একসঙ্গে সিনেমার ছবি তোলা, তার সম্পাদনা, ডেভেলপমেন্ট থেকে শুরু করে যাঁরা কাজ করছেন প্রকৌশলী হিসেবে তাঁদের থাকার জায়গা সব আছে। এই ট্রেনটা রাশিয়ার বিপুল ভূখন্ডে পাড়ি দিচ্ছে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে। জায়গায় জায়গায় থামছে, সিনেমা তৈরী হচ্ছে স্থানীয় সমস্যা নিয়ে। না, শুধু সমস্যা না, সমস্যার সমাধান বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গী কি হবে থেকে সেই দৃষ্টিভঙ্গীর আশু প্রয়োগ সব সেই সিনেমার বিষয়। গন্ডায় গন্ডায় সিনেমা তৈরী হচ্ছে। সেই সিনেমা লাগবে রাশিয়া গড়ার কাজে। সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ায় শিল্পীর কাজ বুর্জোয়া সমাজের মত না। শিল্পী এখানে সমস্যার কথা তুলেই দায় খালাস করেন না, তাঁকেও হাত লাগাতে হয় সমাধানে। তিনিও দায়বদ্ধ এ কাজে। ত্রেতিয়াকভ এবং ঝিগা ভের্তভও এ রকম কাজই করছেন রাশিয়ার অন্যান্য অংশে। ভের্তভ পালটে দিয়েছেন খবরের সংজ্ঞা। ত্রেতিয়াকভ এবং মেডভেডকিনের ফারাক হল প্রথমজন অতীব গম্ভীর, দ্বিতীয়জন অত্যন্ত স্যাটায়ারিক্যাল। সিনেমার মাঝেমধ্যেই ফুটে ওঠে ব্যঙ্গ। ফসল ফলাতে গা এলাচ্ছেন কৃষক কমরেড, কুলাকদের প্ররোচনা আছে এ কাজে, মেডভেডকিনের সিনেমা গর্জন করে ওঠে সেই কৃষক ও কুলাকের সামনে, ‘কমরেড, কাজটা কি ঠিক হচ্ছে?’ মার্কে লিখছেন,
“The train was not bringing art to the people; its function was to incite the people to intervene in matters with which they were concerned. . . . The experience remains unique. The Medvedkin team is alone to have achieved this type of instantaneous invention of a film, with people associated with its creation and interested in its immediate utilization because it was dealing with problems that had to be solved immediately.”
এই একই জায়গা থেকে সেই সময়ে বলশেভিক বিপ্লব সমাপ্ত হবার পরে ঝিগা ভের্তভ বললেন, ‘সিনেমাটোগ্রাফির মৃত্যু হয়েছে’। মানে বানানো দৃশ্যের বানানো সচেতনতার দিন শেষ। এখন ক্যামেরার চোখেই থাকবে সচেতনতা। সে না বানিয়েই এক দুনিয়া দেখাবে যা জন্মাচ্ছে বিশ্বকে আমূল বদলে দিতে। বুর্জোয়া ভাব বিলাসের সিনেমাটোগ্রাফির প্যানপ্যানানি আর না। মার্কে বেসানকনে মজুর অবরোধের মধ্যে বসে মিলিট্যান্ট মজুরদের নিয়ে বানালেন যেমন গ্রুপ মেডভেডকিন, তেমনই গদার বানালেন ভের্তভকে সামনে রেখে মিলিট্যান্ট ছাত্রদের নিয়ে কিছুকাল পরেই গ্রুপ ভের্তভ। সিনে-ট্রেন চললো দুটি ধারায়, যার দ্বন্দ্ব আর সংঘাতে আর উৎপাদনে থাকবে শতাব্দীর ইডিওলজিক্যাল ধাঁধার সমাধান প্রচেষ্টা। থাকবে এক স্বল্প-খ্যাত ইতিহাসের কথা যা আজ সিনেমা বা টেলিভিশনের সর্বত্র বহুল ব্যবহৃত, বুর্জোয়া, আধা বুর্জোয়া দেশগুলোতেও যার সমাজজীবনে গভীর ছাপ- অথচ অতি কম আলোচিত এক সিনে বিপ্লবের কহানি।

      
               ক্যামেরাটা যাদের দিকে তাক করেছে এতদিন তাদের হাতেই তুলে দাও তাকে

মার্কেরা মজুরদের শেখালেন ক্যামেরা চালানো থেকে সম্পাদনার নানা খুঁটিনাটি। মেডভেডকিন গ্রুপ তৈরী করতে লাগলো ‘ফ্যাক্টোগ্রাফি’। হ্যাঁ, ডকুমেন্টারি না। তথ্যচিত্রের কাজ ছিল তথ্যকে তুলে ধরা। যেমন দার্শনিকের কাজ ছিল মার্ক্সের আগে অব্দি শুধু দুনিয়া বিশ্লেষণ করা। ফ্যাক্টোগ্রাফির কাজ হল দুনিয়া বদলানোর কাজে হাত লাগিয়ে তার তথ্যকে হাজির করা। দুনিয়াকে বিশ্লেষণই শুধু না, তাকে বদলানোর কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা। ত্রেতিয়াকভের ‘ফ্যাক্টোগ্রাফি’ মেডভেডকিনের সিনে-ট্রেন ধারা চেপে হাজির হল ফ্রান্সে।
মজুর কি দেখছে? মজুর যা দেখছে তা বৈপ্লবিক শুধু না, তা দর্শনগত জায়গা থেকেও চেনা তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। মজুর দেখছে দুনিয়াটা শুধু কাজের খতিয়ানে চলছে। প্লেটোর ইউটোপিয়ার মতই কাজের সম্পর্কে ব্যক্তি মানুষ সমাজে স্বীকৃত। সে কাজের এই জালকে ছিঁড়ে ফেলতে চাইলো। ওয়ার্ক না আন-ওয়ার্ককে সমাজ গঠনের মূল করতে চাইলো। অর্থাৎ বেসাঙ্কন-এর মজুর বললো এ ডাক্তার, ও মুচি, এই সব পরিচয়কে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেওয়া হোক। এগুলো কোনো পরিচয় না। কথা হচ্ছে তাহলে পরিচয় কি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত না? এটা কি ঠিক বোঝা হচ্ছে? পরিচয় তৈরী হয় ভাষায়। ভাষায় এমনকি বিশেষ্যও বেশী সময়েই অবলম্বন করে ক্রিয়াকে। তাহলে কাজের কি হবে? মুক্তিটা কাজের থেকে না হলে আবার মানুষের কী হবে? পেটের দাসত্ব শুধু? সংস্কৃতি কি শুধুই ক্ষুধার নির্মাণ যে পরিচয় ক্ষুধার নির্মাণ হবে শুধু? সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠ অংশ কি কৃষিসভ্যতার সঞ্চয়ের অবসরে রচিত না?
এমন বিবিধ তর্কে আকাশ-বাতাস ভরে যায়। পালটা তর্কে গেলেন গদাররা। বানালেন ভের্তভ গ্রুপ। মজুরের সচেতনতা কত? গদার বলে ওঠেন মজুররা ব্ল্যাক প্যান্থার না কথা বলে ফোর্ডের মতন করে। আরো আধুনিক কাল হলে হয়তো সঙ্গ নিত স্বার্থপর জিনের আখ্যান। হ্যাঁ, দারিদ্র্য কাউকে মহান করে না। হ্যাঁ, মাননীয় মার্ক্স বলছেন প্রকারান্তরে সর্বহারার চেতনা বলতে চারপাশের মজুর ইত্যাদির চেতনার গড় করলে ঠকতে হবে। হ্যাঁ, মজুরকে সিনেমা দেখাতে গেলে সে অমিতাভ বচ্চন বেশী পছন্দ করবে ঋত্ত্বিক ঘটকের তুলনায়। তাহলে? মজুরের যে চেতনায় পৌঁছনো উচিত সেই চেতনা নিয়ে কাজ করতে হগবে। সত্যিই তো, মজুর মদ খেয়ে এসে বৌ পেটানোকে নিত্যকর্ম মনে করে। সত্যিই তো পারলে বসে যায় জুয়া খেলতে। মাস-মাইনের টাকা হারিয়ে ফেলে এই সবে। সুতরাং মজুরদের সচেতনতার উপরে কতটা নির্ভর করা যায়?
গদারদের ভের্তভ গ্রুপ মিলিট্যান্ট ছাত্রদের নিয়ে কিছু সিনেমা বানানোর পরে সামগ্রিকভাবেই ভেঙে গেল। যাওয়ার কারণ কী বলার আগে কয়েকটা কথা বলা দরকার। মজুরজীবন কি চাষীজীবন কি এস্কিমোর জীবন দূর থেকে দেখা যেতেই পারে, কাছে গিয়ে সহানুভূতিশীল হওয়া যেতেই পারে, কিন্তু যাপন না করলে তার সম্পূর্ণ চেহারাটা বোঝা সম্ভব না। যে জীবনকে কালকে দিয়ে ভাবতেই পারে না তার জীবনকে আজকে-কে ছাড়িয়ে দেখা মানুষরা শুধু তত্ত্বগতভাবে বুঝবেন। ডিক্লাসড হওয়ার ডাক শুনে বাড়ি-ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলেই শ্রেণীচ্যুত হওয়া সম্ভব না। যাঁরা দীর্ঘ্যদিন এই দুটি ফ্রন্টে কাজ করেছেন তাঁরা জানেন এ কথা। শ্রেণীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মজ্জায় মজ্জায় সংস্কারকে সরাবে কে? সেই সাংস্কৃতিক বিপ্লবটির রাস্তা কী?

 

(পরবর্তী কিস্তিতে সমাপ্য)



179 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ উৎসব ইস্পেশাল ২০১২  আলোচনা 
শেয়ার করুন


Avatar: brcslg

Re: আসুন পারলে, এখানে একটা কান্ড ঘটছে - প্রথম কিস্তি

আমার মত আম-জনতার কাছে লেখাটি প্রাঞ্জল।
পরবর্তী কিস্তির জন্য অপেক্ষা করছি।

একটি অনুরোধ ঃ
যদি সম্ভব হয় তবে, Dziga Vertov group এবং Letter To Jane (1972) সম্পর্কেও দু'চার কথা ।
ভাল থাকবেন।


Avatar: Anamitra

Re: আসুন পারলে, এখানে একটা কান্ড ঘটছে - প্রথম কিস্তি

লেখাটা ভালো এগোচ্ছে। তথ্যসমৃদ্ধ, বিশ্লেষণাত্মক। তবে কি, এইসব তর্ক এবং তত্ত্ব শেষ পর্য্যন্ত আজকের সিনেমায় কতটা contribute করছে তা জানি না। এসব নিয়ে কেউ ভাবে বলেও তো মনে হয় না। পরের কিস্তি তে কি সেই রাস্তার খোঁজ থাকবে?
অপেক্ষায় রইলাম......
Avatar: শুদ্ধ

Re: আসুন পারলে, এখানে একটা কান্ড ঘটছে - প্রথম কিস্তি

brcskg,

অল্প কিছু লেখা আছে পরের কিস্তিতে। হয়তো আপনার ইচ্ছে পূরণ হবে না, তবে লেখার আয়তন আর বিষয়ের জন্য থামতে বাধ্য হয়েছি। পড়ছেন জেনে আনন্দ পেলাম।

অনামিত্র, আজকের সিনেমা বলতে কি বাংলায় যে সব শ্রাবণ-ভাদ্র হচ্ছে তার কথা বলছিস? সে সিনেমায় এর কন্ট্রিবিউট করার সাধ্য কোথায়? ও সব সিনেমা গদার-ভের্তভ-মার্কে ছাড়িয়ে অনেক গভীর ব্যাপার। হা হা হা হা হা হা...

বাকী কিছু কাজ এককালে হয়েছিল। মুক্তি চাই থেকে গৌতমদার শুরুর দিকের হাংরি অটাম। সিনে সমবায় এখানের থেকেও কেরালায়, মাদ্রাজে বেশ বড়সড় আন্দোলন হয়েছিল। আদুর-রা এখনো সমবায়ের কাজ করেন। পুণেতে, মুম্বাইতে হয়েছে। 'দৃশ্য' বা 'ডকুমেন্টারিওয়ালা' বহুকাল ধরেই ভারতে কাজ করে চলেছে এসব ভাবনার কিছু কিছু জায়গা থেকে। আনন্দ-রাও করেছেন দল বেঁধে কাজ। এমন আছে অনেক কিছুই।

এখন এখানেও কিছু ভাবনা-চিন্তা হচ্ছে। কেউ কেউ সংবাদকে চ্যানেলের বাইরে নিয়ে আসছেন এমন সমবায় করেই। তবে ক্যামেরাটা তুলে দেবার কাজটা কম হচ্ছে এখনো। বরং বাইরে থেকে কিছু চলচ্চিত্রকার এখানে এই ভাবে কিছু কাজ করার চেষ্টা করছেন। সোনাগাছি নিয়ে যে ডকুটা অস্কার পেয়েছিল সেটার মূলেও এমন কিছু ভাবনা ছিল। তবে সেটা স্টীল ক্যামেরার কাজে চলে যায় শেষমেশ। ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে অনেক প্রভাব আছে অনেকের কাজে। হ্যান্ডহেল্ড শট ভ্যারাইটি থেকে ট্র্যানজিশন নানা বিষয়ে আছে। এখন টেলিভিশন-টিশনে অনেক কিছুই দেখা যায় যার সবটাই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে হয়নি। হা হা হা হা হা...। তবে সে সব এটুকু লেখায় সম্ভব হয়নি। একটা সীমা অব্দিই এখানে লেখা।

আরেকটা কথা হল অন্যদের কথা জানি না তবে আমার সিনেমা সম্পর্কে জানার এবং শিক্ষার জন্য আমি এঁদের কাছে কৃতজ্ঞ। :)


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন