বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

গানের ঝর্ণাতলায় (দ্বিতীয় পর্ব)

দীপংকর বসু

(৩)

রবীন্দ্রনাথের গান জর্জদার কন্ঠে একটি বিশেষ মাত্রা পেত এবং সংবেদনশীল শ্রোত্রীবৃন্দকে তা স্পর্শ করত অত্যন্ত গভীরভাবে। রবীন্দ্রসঙ্গীতের রূপ ও রস শিল্পীর চেতনায় এমনভবে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল যে জর্জদা যখন গান গাইতেন তখন মনেই হতনা যে তিনি অন্য কারো রচনা করা গান গাইছেন । - মনে হত শিল্পীরই একান্ত আপনর আনন্দ, বেদনা, সৌন্দর্যবোধ যেন বাণী ও সুরের মাধ্যমে মূর্ত হয়ে উঠছে। এখানেই জর্জদা অনন্য।

গানের ভাব ও আবেগের দিকে লক্ষ্য রেখে জর্জদা গানে লয়ের উত্থানপতন ঘটাতেন, কোথাও একটি বিশেষ শব্দকে উচ্চারণ করতে গিয়ে সুরের রেশকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতেন দুরত্বের আভাস আনার জন্য, মনে পড়ে "কে গো অন্তরতর সে' গানটির আভোগে কত দিন আসে কত যুগ যায় পংক্তিতে "দিন' শব্দটিকে লম্বা করে অনেকটা টেনে উচ্চারণ করতেন - তাতে দিন শব্দটির উচ্চারণের জন্য স্বরলিপি নির্দিষ্ট দুই মাত্রার স্থায়িত্ব বজায় থাকতনা বটে কিন্তু "কতদিন' শব্দটি কলের যে একটা বিপুল ব্যপ্তির ঈঙ্গিতবাহী তা ধরা পড়ত শ্রোতাদের অন্তরে। একই ভাবে মায়ারখেলা নৃত্যনাট্যের গান - "কাছে ছিলে দূরে গেলে দূর হতে এসো কাছে' গানটি গাইবর সময়ে দূর শব্দটি ভেঙে দু'অক্ষরটিকে তানের মত করে দ্রুত লয়ে গেয়ে শেষ করতেন র অক্ষরটি বসিয়ে। প্রার্থিত জনের সঙ্গে দূরত্বজনিত আক্ষেপটা তাতে যেন অত্যন্ত মর্মস্পর্শী হয়ে শ্রোতাদের অনুভবে ধরা দিত। আবার সঞ্চারীতে "জটিল হয়েছে জাল, প্রতিকূল হল কাল, উন্মাদ তানে তানে কেটে গেছে তাল' গাইবার সময় আবেগকে ধাপে ধাপে ক্রমশ একটি শীর্ষবিন্দুতে তুলে দিয়ে পরমুহূর্তেই নেমে আসতেন আকস্মিক ভাবে "কে জানে তোমার বীণা সুরে ফিরে যাবে কিনা /নিঠুর বিধির টানে তার ছিঁড়ে যায় পাছে /হায়..." এ ভাবে গানটিতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় নাটকীয়তা সৃষ্টি করতেন। মনে আছে এ গান তাঁর কন্ঠে প্রথমবার শোনার পর বহুদিন যাবৎ তার সুরের রেশ মনের মধ্যে গুঞ্জরিত হত -

কে জানে তোমার বীণা সুরে ফিরে যাবে কিনা
নিঠুর বিধির টানে তার ছিঁড়ে যায়
তার ছিঁড়ে যায় পাছে, হায়
কাছে ছিলে দূরে গেলে, দূর হতে এসো কাছে...


দেবব্রত বিশ্বাসের রবীন্দ্রসংগীত গায়ন রবীন্দ্রসংগীত গায়ক গায়িকাদের একটি প্রভাবশালী মহল এবং বিশ্বভারতী সংগীত সমিতির কর্তাব্যক্তিদের অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারেনি। তাঁদের মতে দেবব্রত বিশ্বাস রবীন্দ্রনাথের গান গাইতে গিয়ে যে ধরণের স্বাধীনতা নেন তাতে রবীন্দ্রসংগীতের সুরের বিকৃতি তো ঘটেই উপরন্তু গানের মেজাজটাই পাল্টে যায় বহুক্ষেত্রে। মূলত এই কারণেই বিশ্বভারতী সংগীত সমিতির তোলা বিবিধ আপত্তি প্রায়শই অন্তরায় হয়ে দাঁড়াত জর্জদার গাওয়া রবীন্দ্রসংগীতের রেকর্ড প্রকাশের পথে। মনে আছে যৌবনের ঔদ্ধত্যে এবং অনেকটাই জর্জদার প্রশ্রয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেছিলাম রবীন্দ্রনাথের গানের সুরের এ জাতীয় পরিবর্তন বা পরিমার্জনা, তা যত অল্পই হোক, গায়কের এক্তিয়ারভুক্ত কিনা। এক নবীন শিক্ষার্থীর প্রশ্নকে অর্বাচীনের ঔদ্ধত্য বলে উড়িয়ে দেননি জর্জদা। আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি দিয়েছিলেন এই মর্মে যে গান গাইবার সময়ে এ ধরণের, expressionএর স্বাধীনতা গায়কের অবশ্যই আছে এবং সেই সঙ্গে সংগীত চিন্তা বইটি থেকে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের বক্তব্য উদ্ধৃত করে দেখিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাতহ বন্ধুপূত্র দিলীপকুমার রায়ের সঙ্গে আলোচনায় বলেছেন - "আমার আপত্তি এখানে মূলনীতি নিয়ে নয়,তার প্রয়োগ নিয়ে। কতখানি ছাড় দেব? আর কাকে? বড়ো প্রতিভা যে বেশি স্বাধীনতা দাবি করতে পারে এ কথা কে অস্বীকার করবে? কিন্তু এ ক্ষেত্রে ছোটোবড়োর তফাত আছেই যে কথা সেদিন বলেছিলাম।'

আর একটা কথা। গানের গতি অনেকখানি তরল, কাজেই তাতে গায়ককে খানিকটা স্বাধীনতা তো দিতেই হবে,না দিয়ে গতি কী? ঠেকাব কী করে? তাই আদর্শের দিক দিয়েও আমি বলিনে যে আমি যা ভেবে অমুক সুর দিয়েছি তোমকে গাইবার সময়ে সেই ভাবেই ভাবিত হতে হবে। তা যে হতেই পারেনা। কারণ গলা তো তোমার এবং তোমার গলায় তুমি তো গোচর হবেই। তাই এই এক্সপ্রেশনের ভেদ থাকবেই - যাকে তুমি বলছ ইন্টারপ্রেটেশনের স্বাধীনতা'। যাই হোক বিষয়টি জর্জদার কাছে কতোটা গভীর মর্মবেদনার কারণ ছিল তা বুঝতে অসুবিধা হত না আমদের। তাঁর ঘরোয়া কথায় বার্তায় সে ব্যাথার সুর প্রায়শই প্রকাশ হয়ে পড়ত। স্বভাবতই জর্জদার আরো বহু অনুরাগী মানুষের মত বাবাও মনে করতেন গুরুবন্দনা গানটি শিল্পী মনের ক্ষোভ যন্ত্রণারই বহিপ্রকাশ। যদিও জর্জদা চিঠিতে স্বয়ং গানটিকে তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা যন্ত্রনার প্রকাশ বলে মানতে চাননি। বলেছেন তাঁর মগজস্থা বদবুদ্ধির পোকাদের নড়ন চড়ন।

বদবুদ্ধির নড়নচড়ন প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয়বার যেবার জর্জদা আমাদের বাড়িতে এসে উঠেছিলেনে সেবারের কথা। সেবার মায়াদি ও ত্রিদিবদাও সঙ্গে ছিলেন। বাড়ির একটি ঘরে তাঁদের তিনজনের শোবার ব্যবস্থা হয়েছিল। পরের দিন খুব ভোরে, পাশের ঘরে শুয়ে শুনতে পাচ্ছিলাম জর্জদা আপন মনে গান গাইছেন খালি গলায়। আর মাঝে মাঝে তন্দ্রাচ্ছন্ন মায়াদিকে জিজ্ঞাসা করছেন "মায়াদি, ডিস্টার্ব করলাম? ঘুম ভাঙায়ে দিলাম'? এটি তবু নিছক এক ছেলেমানুষি খুনসুটি। কিন্তু কখনও কখনও তাঁর বদবুদ্ধির নড়নচড়ন বেশ শাণিত তরোয়ালের মত আঘাত করত লক্ষ্যকে।

জর্জদা আমাদের বাড়িতে এসে উঠেছেন শুনে টাটা স্টীলের এক উচ্চপদস্থ কর্মী ভদ্রলোক সস্ত্রীক এসেছিলেন দেখা করতে। ভদ্রলোকের স্ত্রী ছিলেন আকাশবাণী কলকাতার প্রতিষ্ঠিতা গায়িকা এবং আমার সঙ্গে গান বাজনার সূত্রে তাঁর মোটামুটি ঘনিষ্ঠ পরিচয় ও ছিল। বয়স্কা মহিলা কিছুটা স্নেহের দৃষ্টিতেই দেখতেন আমাকে। ভদ্রলোক TISCO Executiveদের ব্যবহারের জন্য রাখা একটি ছোটো জেট চালাতেন। আলাপের ফাঁকে বোধহয় ভদ্রলোক সেই দিকটিকেই খুব বড় করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন জর্জদাকে Impress করার জন্য। কিছুক্ষণ শোনার পর জর্জদা তাঁর উদ্দেশ্যে সকৌতুক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন "ও আপনি বুঝি অ্যারোপ্লেন চালান? কদ্দুর যান?' জর্জদার কন্ঠে বোধহয় ব্যাঙ্গের সুরটি ধরা পড়েছিল ভদ্রলোকের কানে। তাই তড়িঘড়ি স্ত্রীকে এক রকম জোর করেই সঙ্গে নিয়ে দ্রুত স্থানত্যাগ করেছিলেন। উপস্থিত আমরা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হো হো করে হাসিতে ফেটে পড়ি।

আর দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করার লোভ সম্বরণ করা মুশকিল। যদিও ঘটনাদুটি আমার শোনা ঘটনা মাত্র। একদা জর্জদার গাওয়া দুটি গান নিয়ে বিশ্বভারতী সংগীত সমিতির আপত্তিতে গান দুটির রেকর্ড প্রকাশ আটকে গিয়েছিল। বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জর্জদা জানতে পারেন যে মূলত এক প্রখ্যাতা রবীন্দ্রসংগীতশিল্পীর বিচারে গানগুলি যথাযথভাবে গাওয়া হয়নি (সেই শিল্পীর উপরেই গানদুটির বিচারের ভার ন্যস্ত করেছিল বিশ্বভারতি সংগীত সমিতি)।নড়ে উঠেছিল জর্জদার মাথার পোকাগুলি। একান্তে বসে কাগজ টেনে নিয়ে কলম দিয়ে এঁকেছিলেন একটি ব্যঙ্গচিত্র - চিত্রে আঁকা হয়েছিল একটি ঘরে মাইক্রোফোনের সামনে নতমস্তকে বসে আছেন জর্জদা এবং উল্টো দিকে উল্লিখিত মহিলা শিল্পী তর্জনী তুলে জর্জদাকে দরজা দেখিয়ে দিচ্ছেন!

এই ব্যঙ্গচিত্র আঁকার খবরটি কারো মাধ্যমে যথা সময়ে পৌঁছে গিয়েছিল সেই শিল্পীর কানে। তাঁর সঙ্গে জর্জদার হৃদ্যতা থাকলেও তিনি যথেষ্ট বিচলিত হয়েছিলেন এবং পরে জর্জদা নিজেও খুবই বিব্রত বোধ করেছিলেন সেই শিল্পীর প্রতিক্রিয়া দেখে।

সাল তারিখটা সঠিক মনে নেই, একটি প্রথম সারির বাংলা দৈনিকপত্রে একবার "কার গানে কার সুর' শীর্ষক একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ কয়েক কিস্তিতে প্রকাশিত হয়েছিল পরপর দুই বা তিন সপ্তাহ ধরে। লেখক এক প্রখ্যাত রবীন্দ্রানুরাগী সাংবাদিক তথা পত্রিকা সম্পাদক। নামটি উহ্যই রখলাম কারণ প্রবন্ধকার স্বয়ং নিজেকে স.ক.ঘ. এই আদ্যাক্ষর কটির আড়ালেই নিজেকে গোপন(?) রেখে লেখাটি লিখেছিলেন। লেখক নি:সন্দেহে একজন বিদ্বান রবীন্দ্রানুরাগী মানুষ ছিলেন। তবু আমার মত আরো অনেকেরই মনে হয়েছিল যে, যে তীক্ষ্ণ ভাষায় ও ভঙ্গীতে তিনি জর্জদাকে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরবিকৃতির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিলেন সেরকমটা শিল্পসমালোচনার ক্ষেত্রে সচরাচর ঘটে না।

শুনেছি এই নির্মম আক্রমণের পিছনেও ছিল জর্জদারই নিজের করা কিছু অসতর্ক মন্তব্য। বিশ্বস্ত সূত্রে শোনা কথা হল সম্পাদকমশায় নাকি প্রায়শই মদ্যপ অবস্থায় গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন। তাঁর এই অভ্যাসের জ্বালায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে কোন এক অনুষ্ঠানে দেখা হবার পর ভদ্রলোকের স্ত্রী নিজের মর্ম বেদনা জর্জদার কাছে পারিবারিক হিতাকাঙ্খী হিসেবে ব্যক্ত করেন। ঘটনাটি শুনে জর্জদা নাকি ভদ্রমহিলাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন এই মর্মে যে ঘরে যে বাড়িতে যদি "ঝাড়ু' থাকে তবে তিনি যেন সেটি ব্যবহার করেন নির্দ্বিধায়। ফলও পেয়েছিলেন হাতে নাতে! তবে হাজার প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জর্জদা আপোষ করেননি কোনদিন। রেকর্ড করা বন্ধ করেছিলেন কয়েকবছর আগেই, কিন্তু ঘনিষ্ঠজনেদের কাছে প্রত্যয়ের সঙ্গেই বলতেন এ ভাবে আমার রবীন্দ্রসংগীত রেকর্ড করা হয়ত বন্ধ করা যাবে কিন্তু আমর কণ্ঠরোধ করা যাবে না।

১৯৭৫ সালেই জানুয়ারি মাসের শীতে বাড়ির বাগানে ইজিচেয়ারে বসে হঠাৎ কী খেয়াল চাপল আমার কাছ থেকে আমার গানের খাতাটি চেয়ে নিয়ে তাতে কলম দিয়ে আঁকলেন একটি স্কেচ। আঁকলেন দুটি টিলার মাঝ খান দিয়ে বয়ে চলেছে এক নদী, আর তার কিনারে একটি গাছের ডালপালা আর পাতার সমারোহ রবীন্দ্রনাথের মুখাবয়বের চেহারা নিয়েছে । তার থেকে কিছুটা দুরে একটি মরা গাছের শুকনো ডালে একটি কাক বসে আছে। ছবির তলায় লিখলেন

"তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায় তারি পারে
দেবে কি গো বাসা আমায় একটি ধারে?'


তার নীচে লিখলেন বাবি ও ছটুকে(আমাদের দুই ভাইয়ের ডাকনাম) রাবীন্দ্রিকবৃক্ষ উপহার দিলাম। এবং সব শেষে সই করলেন জর্জদা ১৯৭৫।

খাতাটি আমার হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বললেন ঐ নদীটি হল সুরের নদী সেই সুরনদীর কিনারে রাবীন্দ্রিক বৃক্ষের সামনে বসে আমাকে বহুবছর রাবীন্দ্রিকতা শিখতে হবে। এর পিছনে একটি গল্প অছে। সেটি আমি বলে যাচ্ছি লিখে নাও।

জর্জদা তাঁর অননুকরণীয় ভাষায় ও ভঙ্গীতে গল্পটি বলে গেলেন আমরা দুই ভাই সেই গল্প শ্রুতিলিখনের আকারে লিখে নিলাম।

"আমি খুব হাঁপানি রোগে ভুগছি এই খবর শুনে বাংলাদেশে কুষ্ঠিয়ার একটি কলেজ পড়ুয়া মুসলমান মেয়ে একটি হাঁপানির মাদুলি চিঠির মধ্যে পুরে আমাকে পাঠিয়েছিল এবং নির্দেশ দিয়েছিল খাজাবাবার নাম স্মরণ করে যেন আমি মাদুলিটি ধারণ করি । আমি তার নির্দেশ মত খাজাবাবার নাম স্মরণ করে মাদুলি ধারণ করে তাকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলাম যে খাজাবাবাটি কে এবং কোথায় থাকেন আমি তা জানি না। পরে মেয়েটি চিঠি লিখে আমায় জানিয়েছিল যে খাজাবাবা ইন্ডিয়ার আজমীরে দেহরক্ষা করেছিলেন। সেখানে তাঁর একটা বিরাট মাজার(কবর) আছে। মানুষের মঙ্গলসাধন করবার জন্যে খাজাবাবা বহু তপস্যা করে খোদাতাল্লার কাছ থেকে ক্ষমতা আদায় করেছিলেন। যদি কোন মুসলমানের পক্ষে মক্কায় হজ করতে যাওয়া সম্ভব না হয় তা হলে তিনি আজমীরে হজ করতে পারেন - এতখানি মর্যাদা তিনি খোদাতাল্লার কাছ থেকে আদায় করেছিলেন।

এই চিঠির উত্তরে আমি সেই মেয়েটিকে জানিয়েছিলাম যে খাজাবাবার পরিচয় পেয়ে ভালই লাগল। খাজাবাবার মাদুলি ধারণ করার পর ফলাফল কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। সঙ্গে সঙ্গে আরো জানিয়েছিলাম এই ব্যপারে একটি গোপন খবর আছে। এই খবরটি যেন কাউকে ফাঁস করে না দেওয়া হয়। গোপন খবরটি হল, বেশ কয়েকবৎসর আগে কয়েকজন রবীন্দ্রসংগীত স্পেশালিষ্ট প্ল্যানচেটের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর কাছে নালিশ জানিয়েছিলেন এই মর্মে যে এই পৃথিবীতে রবীন্দ্রসংগীতের দারুণ বিকৃতি ঘটে যাচ্ছে এবং এই বিকৃত রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনকারিদের দলে যারা আছেন তাদের মধ্যে আমিই পয়লা। এই খবরটি পেয়ে রবীন্দ্রনাথের আত্মা নিদারুণ দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর এই অবস্থা লক্ষ্য করে সুরলোকের কর্তারা একটি কন্‌ফারেন্সের ব্যবস্থা করলেন। মধ্য এশিয়া থেকে যীশুখ্রীষ্টবাবুর পরমপিতা, মক্কা থেকে স্বয়ং খোদাতালা এবং ভারত থেকে নারায়ণবাবু, ব্রহ্মাবাবু, মহেশ্বরবাবু, গৌতমবুদ্ধবাবু এবং রবীন্দ্রনাথের জীবনদেবতা পরমব্রহ্মবাবু উপরোক্ত কন্‌ফারেন্সে যোগদান করেছিলেন। পরে তাঁরা সবাই মিলে একটি চুক্তি সম্পাদন করলেন। সেই চুক্তির সারাংশ নিচে দেওয়া হল।

১। জর্জবিশ্বাস ওরফে দেবব্রত বিশ্বাসকে নানা রোগে ভুগিয়ে ভুগিয়ে শেষ করে দেওয়া হোক।
২। পরজন্মে তাকে একটি বায়স অর্থাৎ কাক হয়ে জন্মগ্রহণ করতে হবে।
৩। সেই কাকটিকে সুরলোকে শুকনো মাটি ও পাথরের মধ্যে গজানো একটি রাবীন্দ্রিক বৃক্ষের কাছে আর একটি শুকনো মরা গাছের ডালে বসে অনেক বৎসর রাবীন্দ্রিকতা শিখতে হবে।
৪। তারপর তাকে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে বিশুদ্ধ রবীন্দ্রসংগীত গাইবার জন্যে।

এই রাবীন্দ্রিক বৃক্ষের একটি নমুনাও সেই মেয়েটিকে পাঠান হয়েছিল এবং শ্রীমান দীপঙ্করবসুর এই খাতায় দেওয়া হল।


স্বা:
দেবব্রত বিশ্বাস
সাতাশে জানুয়ারি
উনিশশো পঁচাত্তর।

ক্রমশ

188 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


Avatar: pi

Re: গানের ঝর্ণাতলায় (দ্বিতীয় পর্ব)

এটাও তুললাম।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন