বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

না-তারকার পুজো -- লোকনবমী

প্রতিভা সরকার

পুরুলিয়ার তেলকুপি এক ঘুমন্ত গ্রাম। পুজো নেই, ঢাকের বাদ্যি নেই, তবে মেলা কাশফুল। এখানে গাড়ি থামিয়ে জানালা দিয়ে গ্রামবাসী নিজে থেকেই বলতে থাকেন, এই হলো গে প্রাচীন তৈলকম্প গ্রাম, হাজার বছর আগে শিখর রাজবংশের রাজধানী। ঐ যে দেখছেন নদীগর্ভে অর্ধপ্রোথিত দেবালয় ওই হ'লো মা মহামায়ার মন্দির। ওই যে বেনাঘাসের বনে মাথা উঁচু ক'রে আরেকটি, ওটি ভৈরবের থান।

আমি জিতেন মাঝিকে বলি, কতো নেবে দাদা নৌকো ক'রে মহামায়ার মন্দিরে যেতে ? একথা জেনেই বলি যে আসলে এইগুলি সবই জৈন দেউল। কালের প্রকোপে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের বলশালী দেবতার চাপে কখন হিন্দুমন্দিরে পরিণত হয়েছে কেউ জানে না। নৌকা যখন চড়ায় ঠেকে, মন্দিরের ভেতর ঢুকে দেখি কোন দেবতা নেই, কিন্তু স্থানীয় অর্চনার ছাপ আছে তেল সিঁদূরে। জিতেন বলে এইরকম অনেক মন্দিরে পশুবলিও দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন...

না-তারকার পুজো -- সোনা-অষ্টমী

প্রতিভা সরকার

এটার নাম সোনা-অষ্টমী। মানে সোনাগাছির অষ্টমী। এমনিতেই সারা বছর দ্যাখনদারি রোশনাইতে ভরে থাকে হিজবিজবিজ গলিগুলো। অষ্টমীর দিন তার যৌবন যেন ফেটে পড়ে, কী উদ্দাম, আর কী নিষিদ্ধের প্রতি আকর্ষণ ! এতো সুন্দর মুখ, ঝলমলে সাজ আর পালিশ করা কথা ! স্বপ্নাকে আধো অন্ধকারে মনে হচ্ছে যেন কোনো রাণী। এই গলি যেখানে বড় রাস্তায় মিশেছে সেখান থেকেই শুরু ছোট ছোট টুনি বালবের  চাঁদোয়া।  তার আভা এসে ওর গালে পড়েছে। তালাবন্ধ আপনে আপের সেন্টারের দেওয়ালে হেলান দেওয়া মেয়ে অষ্টমী পুজো উদযাপন করবে ব'লে খদ্দেরের জন্য দাঁড়িয়ে আছে।

আরও পড়ুন...

না-তারকার পুজো -- সপ্তমী ও ফুলকুমারি

প্রতিভা সরকার

এই পুজোতে একজনের কষ্টের কথা শুনে যেন চোখের কাজলের মতো আরো ঘোরা কৃষ্ণবর্ণা হয়ে গেলেন দেবী। তার সঙ্গে আমার আলাপ তো বেশি দিনের নয়। তার গায়ের রঙ কুমারী গাছের ছায়ার মতো, বসন্তের শুরুতে যার ঝাঁকড়া মাথা জুড়ে নতুন পাতার রঙ হয় টকটকে লাল। সে মেয়ের চোখেমুখে কষ্টের কালি। স্বামী সন্তান ঘর, সব সে খেইয়ে লিয়েছে গ্য। সে এক আস্ত ডাইন। পিনাকী মিত্র বললো অন্য মানুষের পুজোর গল্প চাই, তাইতে আমার মনে পড়ল ফুলকুমারি মেঝেনের কথা। পুরুলিয়ার ফুলকুমারি। তার হাত ধরে গল্প করার সময় একবারও তো মনে হয়নি সে নাকি এক সব-খাওয়া ডাইন, যার নামে তার গ্রাম তো গ্রাম, আশেপাশের গ্রামগুলিও ভয়ে কাঁপে।

আরও পড়ুন...

এমপ্যাথি, র‍্যাশনাল কমপ্যাশন, কাঁটাতার, ছিন্নমূল, আজকের ছবিটবি

বিষাণ বসু

না, শিল্পী কখনই সাংবাদিক নন - নিত্যকার ঘটনার জার্নাল মেইনটেইন করা তাঁর অবশ্যপালনীয় দায় নয়। তাঁর মনের মধ্যে আসা দৃশ্যকল্পকে তিনি রঙতুলি দিয়ে ধরেন কাগজে, ক্যানভাসে। কিন্তু, সেই মনের মধ্যে আসা দৃশ্যকল্পে সমকাল, পারিপার্শ্বিক হানাহানি, মানুষের অসহায়তা, সমাজের গরিষ্ঠ অংশের অনিশ্চয়তা ঠাঁই পাবে না এতটুকু? ছবিতে শুধুই ফুটে উঠতে থাকবে শিল্পীর সমকালবিমুক্ত অন্তর্দর্শন (শিল্পীর অন্তর্জগত যদি সমকালীন সঙ্কটে আলোড়িত না হয়, তাহলে সেই অন্তর্দর্শন তো নিছক আত্মকেন্দ্রিকতা), কিম্বা স্বপ্নের নারী, অথবা দৃষ্টিনন্দন প্রকৃতিদৃশ্য? এ কী তাঁদের অন্তর্জগতের যথার্থ প্রতিফলন? নাকি, তাঁরা সর্বার্থেই এমন অন্তঃসারশূন্য হয়েছেন, যে ক্লিশে বিষয় বাদ দিয়ে কিছুই আনতে পারেন না ক্যানভাসে?

আরও পড়ুন...

কাশ্মীর কি কলি

প্রতিভা সরকার

কী ঘটেছিলো সেই রাতে কুপওয়ারা জেলার এই জনবিরল গ্রামদুটিতে ? অভিযোগ করা হয়েছে,  কাছাকাছি কোথাও সন্ত্রাসীরা গুলি চালালে রাতের বেলা রাজপুতানা রেজিমেন্টের সামরিক উর্দিধারীরা তল্লাসির নামে ঘিরে ফেলে গোটা গ্রাম। সাধারণ আবালবৃদ্ধবনিতাকে ঘেরাও করে রেখে চালানো হয় নির্বিচার ধর্ষণ। বৃদ্ধা থেকে বালিকা প্রায় একশ কাশ্মিরী নারী এই লালসার শিকার হয়। পরবর্তীতে মেয়েরা স্বাভাবিক ট্যাবু ঝেড়ে বার বার অভিযোগ করা সত্ত্বেও সৈন্যবাহিনীর অস্বীকার করাকেই চূড়ান্ত বলে মেনে নেওয়া হয় এবং এই অভিযোগকে পাকিস্তানি ষড়যন্ত্র তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন...

গ্রেটা এবং আমি

অপরাজিতা সেনগুপ্ত

মিছিল শেষে বাড়ি এলাম এই। পা দুটো ব্যথা করছে, গলা চিরে গেছে, হাততালি দিয়ে দিয়ে হাত দুটো লাল। মা দরজা খুলে দিয়ে একটু কটমট করে তাকাল, কিন্তু আমি হাত পা ধুয়েই রান্নাঘরে ঢুকে চায়ের জল চাপিয়ে দেওয়ায় আর বেশি রাগ দেখাল না। টেবিলের একপাশে বসে মা খাতা দেখছে, আমি মাকে চা দিয়ে নিজের কাপটা নিয়ে অন্যদিকে বসলাম। সারাদিন ফোনটার দিকে তাকাই নি আজ, দুটো একটা ছবি তোলা ছাড়া। ছবিগুলো দেখলাম ভালোই হয়েছে, যদিও তোলার সময় থরথর করে কাঁপছিলাম রাগে। শেয়ার টেয়ার সেরে   গ্রেটা থানবার্গের নতুন স্পিচটা দেখব বলে হেডফোন গুঁজছি কানে, মা একবার মুখ তুলে তাকাল। এটার মানে সবই তো হল, পড়তে কখন বসবে? আমিও চোখ নামিয়ে প্লে করলাম, মাত্র কয়েক মিনিটের স্পিচ, মা মুখ খোলার আগেই হয়ে যাবে। রাগে মুখ চোখ লাল হয়ে গেছে গ্রেটার, এতটাও আগে দেখিনি কখনো।

আরও পড়ুন...

সারল্যের রঙ এবং একটি পাঁচালীর সহজ পাঠ অভিজ্ঞতা

রাজদীপ্ত রায়

ছবিটি প্রথম দর্শনে যতটা সরলরৈখিক দেখায় ততটা একতলবিশিষ্ট আদপে নয়, এবং ঠিক সে কারণেই পরিসর বা বিনির্মিত বিষয় বৈচিত্রে গাঢ় মনোযোগ ও বিশ্লেষণ দাবী করে। ছবি দেখে ফেলার পর যে চিন্তা ভাবনার অবশ্যম্ভাবী বুদবুদ ধীরে ধীরে আচ্ছন্ন করে দর্শকের মন এবং মগজকে। তার এক সুদূরপ্রসারী আমেজ আর কথাজাল তৈরি হয়। অনেকটা সময় ধরে সে আমেজের বিস্তার, অনেকগুলি কথামুখের ধাপে তার অবধারিত আলোকপাত। মানসমুকুলের গপ্প তৈরি করার উপাদান অথবা গপ্পের বুননের ধরন, তার বাধাহীন এগিয়ে চলা, বাঁক নেওয়া বা ন্যারেটিভের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে উপনীত হওয়া, সমস্তটাই মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় গল্পের মেজাজ, অনুভূতির ভিত্তি এবং বিষয়ের সংগে। বলার ধরন এবং কি বলা হচ্ছে সেই বিষয়ের সনির্বন্ধ সমণ্বয়ে যে অভূতপূর্ব নির্মাণ প্রকল্পের ছায়াপ্রতিমা ক্রমপ্রতীয়মান হতে থাকে এই আপাত সহজ অথচ গভীর চলচ্ছবি-আখ্যানের সরল দ্রুতির চালে ছন্দে, বিষাদে, হরষে – সেই একান্ত শিল্পরূপটিই সহজ পাঠের গপ্প-কে চলচ্চিত্র হিসেবে একুশ শতকের বাংলা সংস্কৃতির চালচিত্রে অসাধারন করে তুলেছে।

আরও পড়ুন...

কর্পোরেট হরির লুট ও উড়িষ্যার আদিবাসী জনজাতি (শেষাংশ )

প্রতিভা সরকার

সুজিত মিনজকে মারলো কে সে এক বিশাল ধাঁধাঁ। যে ঘরে তার আধপোড়া শরীর পাওয়া গেল সেটা বেদান্তের ক্যাম্পাসের একেবারে ভেতরে সিসিটিভি রুম হিসেবে ব্যবহার হয়। মৃতদেহের হাত পা লোহার তার দিয়ে বাঁধা ছিল। দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা হলে এরকমটি হবার কথা নয়। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য আন্দোলনকারীরাই তাকে মেরেছে। কিন্তু সুজিত মিনজ ডোঙারিয়াদের ঘরের লোক। স্বজাত। পেটের দায়ে বেদান্তে চুক্তিভিত্তিক চাকরি করতো। তাকে মেরে আন্দোলনকারীদের কী লাভ।

আরও পড়ুন...

যৌনতায় সংস্থিতা

স্বাতী রায়

উর্মিমালা বসুকে 'কামপন্থীদের নতুন যৌনদাসী' অভিধায় অভিহিত করা হয়েছে। এত শুদ্ধ একটা বাংলা বানান-টানান ঠিক রেখে লেখার জন্য লেখককে অভিনন্দন। তবে কিনা লোকের কালো মনে সাদা নেই – লেখককে বা লেখকের অভাবে তাঁর পোষিত রাজনৈতিক দলকে ফুলের তোড়া পাঠানোর বদলে আমরা রেগে উঠলাম। এত অপমান! মেয়ে বলেই এসব শুনতে হবে!

আরও পড়ুন...

নতুন ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন বিল - এত প্রতিবাদ, এত বিক্ষোভ - আপনি ভাববেন না?

বিষাণ বসু

সাবেক এমসিআই নিয়ে হাজার অভিযোগের মধ্যেও একটা স্বস্তি ছিল - সেফটি ভালভ-ও বলতে পারেন - যে, তার প্রতিনিধিরা নির্বাচিত, চিকিৎসকদের ভোটে নির্বাচিত। ঠিক যেমন, দেশের হাল নিয়ে যত আক্ষেপই করি না কেন, গণতন্ত্রের শক্তির উপর আমাদের আস্থা সদা অটুট। আমরা আশা রাখি, বেশী বাড়াবাড়ি করলে সেই নেতাকে আমরা ভোটে হারিয়ে ক্ষমতাহীন করে ফেলতে পারব - না, শেষমেশ পেরে উঠি না হয়ত - কিন্তু, এই আশাটা একটা বড় জোরের জায়গা, এবং নেতারাও কোনো এক জায়গায় সচেতন থাকেন, যে, পরের দফায় তো ভোটে জিতে আসতে হবে। এনএমসি বিল সেই আস্থার জায়গাটাই ভেঙে দিয়েছে। প্রস্তাবিত কমিশনের বেশীর ভাগ সদস্যই হবেন কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক মনোনীত। দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সত্ত্বেও সেই কমিশনে নিয়মিত ভিত্তিতে অধিকাংশ রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব থাকার অবকাশ নেই। রাজ্যের প্রতিনিধিরা যেখানে থাকবেন, তাঁদের ভূমিকা মূলত পরামর্শদাতা বা উপদেষ্টার - সেই পরামর্শ অনুসারে চলতেই হবে, কমিশনের এমন বাধ্যবাধকতা নেই।

আরও পড়ুন...

চিকিৎসক রোগী সংঘর্ষের উৎস সন্ধানে - পর্ব ২

ডা. সিদ্ধার্থ গুপ্ত

চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন (যার অনেকগুলোই গড়ে উঠেছে লাগাতার চিকিৎসক নিগ্রহের প্রতিক্রিয়ায়) পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়েছেন যে বিগত দেড় বছরে নানা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, নার্সিংহোম বা ব্যক্তিগত চেম্বারে ভাঙচুর লাঞ্ছনা এবং নিগ্রহের ঘটনা একশো ছাড়িয়েছে। মহিলা চিকিৎসকরাও বাদ যাননি এর হাত থেকে। মেদিনীপুরের ডেবরায় এক চিকিৎসকের মুখে মানুষের বিষ্ঠা মাখিয়ে দেওয়া হয়েছে। একজন প্রবীণ চিকিৎসক অপমানের ভয়ে ও পেশার চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। বহু সরকারি চিকিৎসক চাকরি ছাড়তে উন্মুখ, এবং অনেকে পদত্যাগপত্র দাখিল করে কাজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বলে চিকিৎসকদের সংগঠনের বিবৃতিতে জানা গেছে। কিন্তু সরকার তাদের পদত্যাগ করার বা স্বেচ্ছাবসরের গণতান্ত্রিক অধিকারকে অগ্রাহ্য করেছেন। চিকিৎসকদের আরও অভিযোগ যে সরকারি ডাক্তারদের নিরাপত্তা দেয়া দূরে থাক, বিভিন্ন ক্ষেত্রে শাসক দলের স্থানীয় নেতানেত্রীরা এই গণপিটুনির প্রধান পরামর্শদাতা ও চালিকা শক্তি।

আরও পড়ুন...

১৯৭৮ থেকে ২০১৯র - আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যনীতির রূপান্তর, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং আমাদের ভারতবর্ষ - দ্বিতীয় পর্ব

জয়ন্ত ভট্টাচার্য

ডেভিড ওয়ার্নার যখন ১৯৬০-৭০-এর পশ্চিম মেক্সিকোতে হতদরিদ্র জনজাতির মাঝে একেবারেই স্থানীয় সম্পদ ও জনতাকে ব্যবহার করে স্বাস্থ্যের বোধ ও এর জন্য আন্দোলন গড়ে তুলছেন তখন তাঁকে সম্মিলিত ল্যান্ড ব্যাংক-ও গড়ে তুলতে হচ্ছে দারিদ্র্যের মাত্রা হ্রাস করার জন্য। সেসময়ে তাঁর স্বাস্থ্য আন্দোলনের বৃহৎ প্রতিবন্ধক হয়ে উঠছে নাফটা বা North American Free Trade Agreement। নাফটা মেক্সিকো সরকারকে চাপ দিচ্ছে যাতে এদের বীজ ও প্রযুক্তি অবাধে ব্যবহার করা যায়। এবং এ ঘটনা ঘটাতে পারলে জমি ব্যাংক উঠে যাবে, কৃষক আবার ঋণের জালে জড়াবে, প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অস্তিত্বও থাকবে না। এরকম সহজবোধ্য কারণে জীবনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনুষঙ্গের মাঝে বিভাজন রেখা টানা নয়া অর্থনীতির প্রবক্তাদের জন্য খুব জরুরী হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ের একটি প্রবন্ধে মন্তব্য করা হয়েছে যে আমেরিকা ইরাকে যুদ্ধের জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে প্রস্তুত, কিন্তু এইডস, যক্ষা এবং ম্যালেরিয়ার মোকাবিলার জন্য তৈরী Global Fund-এ মাত্র ১০০ মিলিয়ন ডলার দেয়।

আরও পড়ুন...

আপনার কিন্তু কিছুই হয় নি ডাক্তারবাবু! 

কৌশিক লাহিড়ী 

নতুন একটি অগণতান্ত্রিক, অবৈজ্ঞ নিক, দমনমূলক, জনবিরোধী বিল আনতে চলেছেন দেশের সরকার বাহাদুর।
অনেক দোষ-ত্রুটি সত্বেও মেডিক্যাল কাউন্সিল কিন্তু একটি নির্বাচিত স্বশাসিত সংস্থা। নতুন ব্যবস্থায় নির্বাচিত কাউন্সিলের বদলে আসবেন সরকার মনোনীত আমলারা। দেশের স্বাস্থ্যনীতির নির্ধারক হবেন প্রধানত সরকারি আমলারা এমনকি এই কমিশনের সর্বোচ্চ পদেও থাকবেন একজন অচিকিৎসক। মডার্ন মেডিসিনের চিকিৎসাপদ্ধতির সঙ্গে হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ, ইউনানী, ম্যাগনেটোথেরাপি মিশিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে এক হাঁসজারু ভয়ংকর চিকিৎসাব্যবস্থা।
তিনসপ্তাহের ব্রিজ কোর্সের মাধ্যমে একজন আয়ুষ চিকিৎসক পেয়ে যাবেন মডার্ন মেডিসিনের ওষুধের প্রয়োগাধিকার ! এটা তাঁর নিজের অধীত শাস্ত্রের প্রতি চরম অনাস্থা ও অপমান তো বটেই, মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দ্বার প্রশস্ত করা। মেধাভিত্তিক ভর্তির প্রথাকে পেছনে ঠেলে খুলে দেয়া হবে বেসরকারি, ক্যাপিটেশন ফি ভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজের দরজা।

আরও পড়ুন...

১৯৭৮ থেকে ২০১৯র - আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যনীতির রূপান্তর, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং আমাদের ভারতবর্ষ - প্রথম পর্ব

জয়ন্ত ভট্টাচার্য

১৯৫০-৭০-র দশক জুড়ে বিশ্বরাজনীতিতে দ্বিমেরু বিশ্বের জীবন্ত উপস্থিতি ছিল। প্রবল পরাক্রান্ত, আগ্রাসী ও মুক্ত পুঁজি এবং সাম্রাজ্যবাদের মুখোমুখি দাঁড়ানোর মতো ভিন্ন একটি আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার অস্তিত্ব – সমাজতান্ত্রিক বলে যার উপস্থিতি ছিল জনমানসে। দ্বিমেরু বিশ্বের উপস্থিতির জন্য রাজনৈতিক এবং সামাজিক একটি পরিসর তৈরি হয়েছিল যাকে বলতে পারি “তৃতীয় পরিসর”। বিশ্বের মানুষের স্বাভাবিক আশা-আকাঞ্খা এবং দাবী নিয়ে দর কষাকষির ক্ষমতা বেশি ছিল। পরবর্তীতে একমেরু বিশ্বের উদ্ভব এসবকিছুকে পরিপূর্ণভাবে বিনষ্ট করে দেয় – আজকের ভারত এর একটি প্রোজ্জ্বলন্ত উদাহরণ। এ সময়েই পৃথিবী জুড়ে শ্লোগান উঠেছিল – স্বাস্থ্য আমার অধিকার। আবার অন্যদিকে তাকালে প্রান্তিক অশিক্ষিত বুভুক্ষু মানুষের কাছে শিক্ষা এবং বই পৌঁছে দেবার আন্দোলন, শিক্ষার অধিকারের আন্দোলন জনচেতনায় চেহারা নিচ্ছিল। এর উদাহরণ লাতিন আমেরিকায় পাউলো ফ্রেইরে-র আন্দোলন। ব্রেখটের সেই বিখ্যাত ুক্তি যেন নতুনভাবে জন্ম নিল – “ভুখা মানুষ বই ধরো, ওটা তোমার হাতিয়ার”।

আরও পড়ুন...

জনজীবন ‘নর্মাল’ – স্বাস্থ্যব্যবস্থা?

স্বাতী রায়

সরকারী মতে জনজীবন “স্বাভাবিক”। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ ও জীবনদায়ী ওষুধ পর্যাপ্ত। বেবিফুডেরও স্টক যথেষ্ট। সরকারী সুত্রে এও জানানো হয় যে প্রায় ২৪ কোটি টাকার ওষুধ আগস্ট ৫- ২৫ তারিখের মধ্যে দোকানগুলোতে পৌঁছেছে। বেসরকারী খবর অতটা আশাপ্রদ নয়। ওষুধের দোকান, স্টকিস্ট আর ডিপোর মধ্যে যোগাযোগ নেই কোন। ওষুধের অর্ডার দিতে পারছেন না দোকান-মালিকেরা। অর্ডার যেখানে দিতে পারছেন, সেখানেও মিলছে চাহিদার থেকে অনেক কম। যেসব জীবন-দায়ী ওষুধকে তাপমান-নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে হয়, সেগুলো ঠিকমত কোঅর্ডিনেশনের অভাবে ওয়্যারহাউসে বিনা-রেফ্রিজারেসনে পড়ে থেকে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গেছে – মানুষের কাজে লাগে নি। শ্রীনগরের অবস্থা যদিবা মন্দের ভালো হয়, বাইরের দিকে যে কি অবস্থা তা কল্পনাতীত। আগস্টের ৫ তারিখের পর থেকে সেখানে কোন ওষুধ যেতে পারে নি। ইনহেলার, ইনসুলিনের মত ওষুধও সেখানে অমিল – পাওয়া যাচ্ছে শুধুই অ্যান্টিবায়োটিক । সঠিক তথ্য পাওয়া এখন অসম্ভব।

আরও পড়ুন...

ফাদার অফ পাবলিক হেলথ - ৬

ঐন্দ্রিল ভৌমিক

নর্মান নীরবতা ভঙ্গ করলেন। ‘ফ্রান্সেস ছিল নম্র, লাজুক, চাপা স্বভাবের। আমি ছিলাম কটুভাষী, অস্থির-উদ্দাম। যা করতাম তা প্রবলভাবে করতাম। ডেট্রয়েটে ডাঃ মার্টিনের সাথে যখন কাজ করতাম, জলস্রোতের মতো পয়সা আসছিল। কিন্তু আমি হতাশায় ভুগছিলাম। রোগীরা সবাই বিত্তবান। সামান্য অসুখেই ডাক্তারের কাছে আসে, হিসাব না করেই ফি দেয়। কিছুদিনের মধ্যেই ধিক্কার জন্মালো নিজের প্রতি। আর যে পথে টাকা রোজগার করছি সেই পথের প্রতি। আমি আবার ফিরে গেলাম ডেট্রয়েটের বস্তি অঞ্চলে। দিন রাত এক করে তাঁদের মধ্যে কাজ শুরু করলাম। সেই সময় শত অভাবেও ফ্রান্সেস আমার স্বাধীনতা হরণ করেনি। একবারও প্রশ্ন তোলেনি কেন আমি রাত্রে ঘরে না ফিরে কোনও বেশ্যা-পল্লীতে কারও সন্তান প্রসব করাচ্ছি। আজ কি করে তাঁর স্বাধীনতা হরণ করব আমি?’

আরও পড়ুন...

হাইওয়ে ব্লুজ - ৬

বেবী সাউ

আলো, আনন্দ, প্রেম কই সেভাবে তো ছুঁয়ে গেল না করতল! সেভাবে একটা কোনও সীমারেখা হয়ে উঠল না আমার দেশ। কোথাও ইচ্ছেমতো বাঁচতে চাওয়া হলো না। তবে এত না এর মধ্যে একটা সমাজ কাকে চাইবে! কাকে দেবে তার আয়ের শতাংশ! চারপাশে ছড়িয়ে আছে অধিকার। অধিকার আর অধিকার। যে তোমাকে কেড়ে নিতে শেখাবে, যে শেখাবে হত্যা, রক্ত আর বিরাট একটা অধঃপতন। মানসিক এবং মানবিক কোনও ভাবালুতা তার কাছে বোকামি মাত্র। এইযে দেশ ছেড়ে যারা বসবাস গড়ে তুলেছিল অন্য একটা সীমারেখায়।

আরও পড়ুন...

এনার্সি আর ক্যাব, দুটিই দানবিক প্রক্রিয়া

পার্থপ্রতিম মৈত্র

প্রথম থেকে এই তালিকা বিয়োজনের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। বর্তমানে এনার্সি শুধু আসাম নয়, ভারত নয়, এমনকি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রক্ষাপটেও একটি উল্লেখযোগ্য আলোচ্য বিষয়। প্রতিটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী, তাদের গণসংগঠন, প্রতিটি ভাষিক গোষ্ঠী, তাদের প্রতিনিধিত্বকারী দল উপদল, প্রতিটি ধর্মীয় গোষ্ঠী যাদের কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ভূগোল-ইতিহাস, তারা নিজের সুবিধামতো, নিজের রাজনৈতিক লাভ, সামাজিক লাভ ক্ষতি বিবেচনায়, একটি করে আনুমানিক সংখ্যা ঠিক করেছেন, এবং প্রত্যাশা করেছেন সেই সংখ্যাই প্রতিফলিত হবে এনার্সির চূড়ান্ত তালিকায়। অসমীয়া চেয়েছেন বাঙালির নামকর্তন হোক প্রভূত পরিমাণে, বাঙালিরা উল্টোটা চেয়েছেন। হিন্দুরা চেয়েছেন মুসলমান বিতাড়িত হোক এই ভূখণ্ড থেকে, মুসলমানরা চেয়েছেন মুসলমানের সংখ্যা কম হোক, হিন্দুরা চিহ্নিত হোক বেশি পরিমাণে। এবং এই ভাবেই সম্পূর্ণ নেগেটিভ দৃষ্টিভঙ্গিতে নাম বিয়োজনের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে এনার্সির চূড়ান্ত তালিকা।

আরও পড়ুন...

নাগরিকপঞ্জি -- শেষ প্রহর

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

এই যে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ নামক জুজুটি দেখিয়ে গোটা বাঙালি জাতিকেই অভাবনীয় এক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, সেই জুজুটি কতটা ঠিক? হিটলারের জার্মানির সঙ্গে এখানেও মোদীর ভারতের অদ্ভুত মিল। পুরো জুজুটাই তৈরি করা হয়েছে গুলগল্পের ভিত্তিতে। ২০১১ সালের জনগণনার বহুপ্রতীক্ষিত অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য অনেক টালবাহানার পর সদ্য প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ভারতবর্ষ মোটেই বাংলাদেশ থেকে আগত বে-আইনী অনুপ্রবেশকারীতে ছেয়ে যাচ্ছেনা। আইনী-বেআইনী মিলিয়ে ২০১১ সালে ভারতবর্ষে বাংলাদেশ থেকে আগত মানুষের সংখ্যা ছিল ২৩ লক্ষ। মনে রাখতে হবে, এটা শুধু 'বে-আইনী' অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা নয়। বহুসংখ্যক মানুষ আইনী পদ্ধতিতেই ভারতবর্ষে বসবাস করছেন, যাঁদের একটা বড় অংশ আইনসঙ্গত উদ্বাস্তু (সেই সংখ্যাটা বিরাট, যদিও স্বাভাবিক মৃত্যুর কারণেই সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে)। তার মধ্যে একটা বড় অংশেরই বাস পশ্চিমবঙ্গে। ফলে আসামেই ১৯ লক্ষ বে-আইনী বাংলাদেশী অভিবাসী এসে বসে আছেন, এ একেবারেই অবিশ্বাস্য ব্যাপার।

আরও পড়ুন...

রাম কে নাম

শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য

একটা শিল্পবস্তু কি রাজনীতির গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করবার ক্ষমতা আর রাখে? মাকেল মুরের ফারেনহাইট ৯/১১ আমেরিকার ইতিহাসে সর্বাধিক লাভ করা তথ্যচিত্র হয়েও জর্জ বুশের দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়া আটকাতে পারেনি। আনন্দ পটবর্ধন পরের পর দলিত প্রান্তবাসী প্রতিবাদী স্বরদের তাঁর তথ্যচিত্রে আনার পরেও নরেন্দ্র মোদির বিপুল ভোটে পুনর্নির্বাচিত হওয়া রোধ করতে পারেনি। আজকের পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে শিল্প এতটাই সাধারণের জীবনযাত্রা থেকে বিচ্ছিন্ন, এমনকি আভা-গাঁর্দও, যে কিছুতেই কোনও প্রভাবই তা ফেলতে পারছে না। এমনকি 'রাম কে নাম', তার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েও, নিছক শিল্পের হিসেবেই একটি ম্যাড়ম্যারে এবং সরলরৈখিক তথ্যচিত্র মাত্র। এই ধরণের তথ্যচিত্র প্রদর্শনের সমস্যা হল, এদের টার্গেট অডিয়েন্স সম্বন্ধে সঠিক ধারণা না থাকা। এগুলো গ্রামের দিকে, বা বস্তিতে দেখালে মানুষ কতটা গ্রহণ করবেন সন্দেহ আছে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের যে পরিমণ্ডলগুলিতে দেখানো হয়, এবং যাঁরা দেখেন, সেই ছাত্রছাত্রীরা ইতিমধ্যেই অসাম্প্রদায়িক, উদারনৈতিক, বামপন্থী সেকুলার। ফলে পুরো ব্যাপারটাই প্রিচিং টু দ্য কনভার্টেড হয়ে যায়।

আরও পড়ুন...