Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • কিউয়ি আর বাঙালী
    পৃথিবীতে ছোট বড় মিলিয়ে ২০০র' কাছাকাছি দেশ, তার প্রায় প্রতিটিতেই বাঙালীর পদধূলি পড়েছে। তবে নিউজিল্যাণ্ড নামে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে একটি দ্বীপমালা আছে, সে দেশের সঙ্গে ভারতীয়দের তথা বাঙালীদের আশ্চর্য ও বিশেষ সব সম্পর্ক, অনেকে জানেন নিশ্চয়ই।সে সব সম্পর্কের ...
  • মহামহিম মোদী
    মহামহিম মোদী নিঃসন্দেহে ইতিহাসে নাম তুলে ফেলেছেন। আজ থেকে পাঁচশো বছর পরে, ইশকুল-বইয়ে নিশ্চয়ই লেখা হবে, ভারতবর্ষে এমন একজন মহাসম্রাট এসেছিলেন, যিনি কাশ্মীরে টিভি সম্প্রচার বন্ধ করে কাশ্মীরিদের উদ্দেশে টিভিতে ভাষণ দিতেন। যিনি উত্তর-পূর্ব ভারতে ইন্টারনেট ...
  • পার্টিশানের অজানা গল্প ১
    এই ঘোর অন্ধকার সময়ে আরেকবার ফিরে দেখি ১৯৪৭ এর রক্তমাখা দিনগুলোকে। সেই দিনগুলো পার করে যাঁরা বেঁচে আছেন এখনও তাঁদেরই একজনের গল্প রইল আজকে। পড়ুন, জানুন, নিজের দিকে তাকান...============...
  • কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর
    কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর - সৌভিক ঘোষালভারতভুক্তির আগে কাশ্মীর১ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যাবে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়ালো আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশ ভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, ...
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দেশত্যাগ...

Muhammad Sadequzzaman Sharif

আমার এক বন্ধু ওর একটা ভিজিটিং কার্ড আমাকে দিয়েছিল। আমি হাতে নেওয়ার সময় কার্ডটা দেখে বুঝতে পারলাম কার্ডটা গতানুগতিক কোন কার্ড না, বেশ দামি বলা চলে। আমি বাহ! বলে কাজ শেষ করে দিলাম। আমি আমার বন্ধুকে চিনি, ওর কার্ডের প্রতি এরচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখালে ও আমার মাথা নষ্ট করে দিবে এই কার্ডের আলাপ করেই। যা একশ তা হয়ত দু হাজার বলে বসে থাকবে। কিছু না বললেও হয়ত এই প্যাঁচাল আমাকে শুনতে হতে পারে, তাই আমি চুপ। কিন্তু আমি চুপ করলেও আমার পাশের জনের আর তর সইল না, জিজ্ঞাস করে বসল, দারুণ তো কার্ডটা, কত করে হাজার এই কার্ড!! আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। এবং যা আশঙ্কা করে ছিলাম তাই হল, বন্ধু আমার কথা চিবাতে চিবাতে বলল, … ব্যাটা, এগুলা কার্ড হাজার দরে হয় না… তারপর এই সেই… চলল কতক্ষণ।

আমি আসলে বহু আগেই এই শিক্ষা পেয়েছিলাম। কোথায় কতটুকু আগ্রহ দেখাতে হয় তা আমার জানা ছিল। প্রথম শিক্ষা কোথায় পেয়েছিলাম তা লিখার জন্যই মূলত বসছি আজকে। মূলত সেই প্রসঙ্গেই আলাপ করব। বহুদিন আগে আমার এক বন্ধুর ভারত ফেরত জামাইবাবুকে জিজ্ঞাস করেছিলাম, জামাইবাবু, কলকাতা শহর কত বড়? ঢাকার চেয়ে বড়? আমি সেদিন ভুলটা করেছিলাম। যাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম তিনি বা তার পরিবার অনেক আগেই ভারতে চলে গিয়েছিল। না, কোন অত্যাচার বা জোর জুলুম না, তারা অনেকটা কোন কারন ছাড়াই চলে গিয়েছিল। আবার বেড়াতেও আসেন মাঝে মাঝে। কারন উনাদের প্রচুর আত্মীয় স্বজন এখনো দেশেই আছে। উনারা গিয়েছিলেন এর বড় কারন ভারত প্রেম হতে পারে। ভারত প্রেম বললাম কারন তিনি যা উত্তরটা দিয়েছিল তা প্রবল ভারত প্রেম ছাড়া দেওয়া হয়ত সম্ভব না। তিনি বিছানায় আরাম করে জাম্বু হয়ে বসে ছিলেন, আমার দিকে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, ঢাকার থেকে বড়? তাই না? বলে চুপ, আমি এবং আমরা তাকিয়ে আছি উনার দিকে। তিনি কি বলে শোনার জন্য অধির হয়ে আছি। তিনি উনার নাটকীয় নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে হুঙ্কার দিলেন একটা, …. ব্যাটা, তোদের বাংলাদেশের চেয়ে বড়, ঢাকা নিয়া আইছে…

আমার এক বন্ধু কিছুদিন শিলিগুড়িতে ছিল কিছুদিন। প্রায় তিন বছর ছিল ও। এখন দেশে এসে বিয়ে শাদি করে বাচ্চার বাপ হয়ে সুখে সংসার করছে। ওর কাছেই ঠিক এমন উত্তর পেয়েছিলাম। জিজ্ঞাস করেছিলাম, শিলিগুড়ি কত বড় শহর? অবিকল একই উত্তর, ঢাকার চেয়ে বড়! এই ক্ষেত্রে যেহেতু বন্ধু তাই ধাবকি দিয়েছিলাম, বলেছিলাম আজাইরা কতা কইস না, ঢাকা একটা রাজধানী শহর, আর শিলিগুড়ি তো ভারতের কিছুই না একটা শহর। কে শোনে কার কথা। ও আমার অজ্ঞানতাকে মেনে নিয়ে শুধু বলেছিল, তুই দেখছস শিলিগুড়ি শহর? আমি দেখছি, না দেইখা প্যাঁচাল পারিস না! কবি নীরব হয়ে গেল। তখন হুট করে মোবাইল বের করে দেখানোর জমানা ছিল না যে কোন শহর কত বড়। তখন চাপার জোরে যে জিততে পারত সেইই জয়ী।

এই অদ্ভুত ভারত প্রেমের কথা কোথাও লিখা আছে কিনা জানি না। কিন্তু দেশ ত্যাগের জন্য এটা কিন্তু একটা বেশ ভাল কারন। আমি দাবী করব না যে আমরা সবাই সাধু পুরুষ। দেশে কোথাও কোন অত্যাচার অবিচার হয়নি এমন বলা আমার অভিপ্রায় না। কিন্তু এটাও যে একটা কারন আমি তাই বলতে চাচ্ছি শুধু। আমাদের যে ভিটে তা আমার দাদা ১৯৫৫ সালের দিকে বিজয় দে নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমিটা কেনে। তারাও চলে গিয়েছিল সব কিছু বিক্রি করে দিয়ে। আমার বুঝ হওয়ার পর আমি যত ভাবে পারি জানার চেষ্টা করেছি যে আমাদের জমিটা কেনার সময় আমার দাদা কোন অবিচার করে ছিল কিনা। দামে কম দেওয়া বা জোরে করে কিছু করার মত কোন ঘটনা ঘটেছিল কিনা তা খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশেপাশের হিন্দু বাড়ি যাদের আছে তাদেরকেও জিজ্ঞাস করেছি তারা কতখানি জানে। যতটুকু জানতে পারছি তাতে আমার পূর্বপুরুষ কেউ জোর করে বা অন্যায় ভাবে এই জমি কিনেনি। এই খবর আমার জন্য প্রশান্তির। আমি আমার বাবা কে বারবার জিজ্ঞাস করেছি ওরা গেল কেন? কেউ জোর করেছিল? ভয় পেয়ে গেছিল? না, তারা আপোষেই গিয়েছিল। তখনকার হিসেব ছিল অন্য। অনেকেই ভারতে চলে গেছিল। কিন্তু আমি আমার বুঝ হওয়ার পড়েও তো দেখেছি কোন কারন ছাড়াই চলে যেতে। নানী ডাকতাম এক বৃদ্ধাকে। প্রতিদিন আমাদের পুকুরে গোসল করতে আসত। উনার ছেলে মেয়ে নায় নাতি সবাই এখনো আমাদের প্রতিবেশী। কিন্তু তিনি আর তার স্বামী চলে গেলেন ভারত। যাওয়ার পড়ে শুনলাম যে তিনি চলে গেছেন। ওই বৃদ্ধ বয়সে ভারত গমনের হেতু কী? আমরা ধরে মারলে তো উনার সন্তানরাও চলে যেত কিন্তু তা তো ঘটেনি। কয়দিন আগেই উনার নাতির ঘরের মেয়েটার বিয়ে হল ধুমধাম করে, মেয়েটাকে জন্মের পর থেকে চোখের সামনে বড় হতে দেখেছি, প্রাণ খুলে আশীর্বাদ করেছিলাম ওকে। আমাদের জমির সীমানায় ছিল জামেনি ভাটের জমি। তিনি একদিন দেখলাম লাঠি হাতে আস্তে আস্তে হেঁটে হেঁটে আমাদের উঠানে এসে বসল। বসেই আব্বাকে বলল, রেজ্জাক, ভারত যাইতেছিগা, একবারেই যামু। তুমি জমিটুকু রাইখা দাও। আমার ছোট জীবনে এ এক অবিশ্বাস ঘটনা ছিল তখন। কিংবা হয়ত খুব বড় ঘটনা ছিল না। আমরা তো জানতামই হিন্দুরা ভারতে যাওয়ার জন্য সব সময় তৈরি! তখন বুঝতাম না বা বোঝার মত বয়সও হয়ত হয়নি যে তাঁরা কেন যায়? কিন্তু জামেনি ভাট উনার বিশাল সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়ে চলে গেল একদিন। আব্বা ওই জমি কিনে নেয়নি, কিনে নিলো কামরুজ্জামান। তখন কামরুজ্জামানদের দিন ছিল, কিনে নিয়েছিল। তখন কে জানত এই কামরুজ্জামান তার পুরনো পরিচয়ের খেসারত দিয়ে রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে ফাঁসির মঞ্চে উঠবে? যাক সে গল্প, তা ভিন্ন প্রসঙ্গ।

বরং আরেকজনের গল্প বলি। কেদার বাবু। আমাদের এই ছোট শহরে তিনি বিশিষ্ট ধনী। নানান ব্যবসা তার। ব্যাংক তাকে লোণ দিয়ে রেখেছে কোটি কোটি টাকা। তার মনের মধ্যেও হয়ত একদিন জেগে উঠল ভারত প্রেম। কিংবা ব্যবসায়িক ফন্দি ফিকির কিনা কে জানে। রাতের আঁধারে কেদার বাবু সপরিবারে ভারত চলে গেল। কেউ কিচ্ছু বুঝতে পারল না তাঁরা হাওয়া হয়ে গেল। কত বছর দেখেছি উনার চাউলের মিলের গেটে ব্যাংকের নোটিশ ঝুলানো, এই সম্পত্তি ঋণের কারনে ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ।

যারা অত্যাচারিত হয়ে, মনের মাঝে একরাশ ক্ষোভ নিয়ে তীব্র কষ্ট নিয়ে দেশত্যাগ করেছিল তাদের জন্য আজীবন সমান ভাবে কষ্ট পেয়ে যাব। তাদের কষ্টের ভাগি না হতে পেরে কষ্ট পাব। কিন্তু কেদার বাবুদের জন্যও আমাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে? কেদার বাবুকেও গালি দিতে পারব না?
তাদের জন্য ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই নাই। দেশত্যাগ মানেই আমরা মেরে পিটে তাড়িয়ে দিয়েছি এমন না। এতক্ষণ এই কথাই বলতে চেষ্টা করে গেলাম। বুঝাইতে পারলাম কি না কে জানে!!





510 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 5 -- 24
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: দেশত্যাগ...

আমি আমার লেখায় কোনমতেই তাদের দোষী বলার চেষ্টা করিনি। যদি লেখায় তেমন মনে হয়ে থাকে কারো তাহলে আমি দুঃখিত। আমি দেশে যে পরিমাণ অত্যাচার হয় তা পুরো জেনেই বলছি। সেই লজ্জা মাথা পেতে নেওয়া ছাড়া আর কিছু করার নাই। কিন্তু আমি যা দেখছি তা তো অস্বীকার করতে পারি না। ভারত কে পুণ্য ভূমি বলেও যে অনেকে চলে যায় এই কথা আপনি বা আপনারা কি করে অস্বীকার করবেন? আমি যাকে নানী ডাকতাম তিনি কমছে কম আশি বছরের ওপরে বয়সে দেশ ত্যাগ করেছে। উনার ছেলে মেয়ে সবাই এখনো খুব ভাল ভাবে এদেশে আছে। উনার দেশ ত্যাগের কারন কী?

যে কারনেই হোক, যারাই গিয়েছে, আমি তাদের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করিনি। তা আমি পারি না। আমি জানি যে সংখ্যাগুরু অবস্থা থেকে সংখ্যালঘুদের চিন্তা ভাবনা বোঝা কষ্টকর কাজ। আমি তাদের চাপা ভয় হয়ত কোন দিনই বুঝতে পারব না। কিন্তু তাই বলে কী কেদার বাবুর মত লোকদের প্রতিও আমার সম্মান দেখাতে হবে? প্রশ্নই উঠে না। কেদার বাবুরা কোথাও কোনদিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন না, ভুগে না। তারা সীমান্তের এপারেও ভাল থাকে অপারেও ভাল থাকে।

আমি কোন শহর কত বড় তা দিয়ে দেশ প্রেম মাপতে বলিনি। আমি উদাহরণ দিয়েছি যে অনেকে এমন মনে করে। যিনি কলকাতা বাংলাদেশের চেয়ে বড় বলেছিল তিনি তা আমাকে আমার ছোট বেলায় বলেছিল। তিনি এখনো বহাল তবীয়তেই আছেন, এখনো নিয়মিত বাংলাদেশে আসেন। এবং গুচ্ছের বদনাম করে যান। সেগুলা এখন বুঝি বলেই উল্লেখ্য করিনি। উনার অন্ধ প্রেমটাই বুঝাতে চেয়েছি।

সবাইকে এক পাল্লায় মাপলে বিপদ। লেখাটা আমি আমার ফেসবুক ওয়ালেও দিয়েছি। আমার হিন্দু বন্ধুরা কেমন ভাবে তা নিয়ে একটু হলেও চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু আমি তাদের প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট। ওরা জানে যে আমি কিছু মাত্র ভুল বলি নাই। ওরা ব্যক্তিগত ভাবে আমাকে চেনে বলেই হয়ত ওদের বুঝতে সুবিধা হয়েছে বুঝতে লেখাটা। তাই আবারও বলছি আমার অভিপ্রায় কোনমতেই যারা দেশ ত্যাগ করে গেছে তাদের সিদ্ধান্ত কে প্রশ্নবিদ্ধ করা না। তেমন মনে হলে আমি দুঃখিত।
Avatar: S

Re: দেশত্যাগ...

দুঃখিত হওয়ার কিছু নেই। হয়তো আমারও বুঝতে ভুল হয়েছে।

"আমি জানি যে সংখ্যাগুরু অবস্থা থেকে সংখ্যালঘুদের চিন্তা ভাবনা বোঝা কষ্টকর কাজ। আমি তাদের চাপা ভয় হয়ত কোন দিনই বুঝতে পারব না।"
বিশ্বাস করুন এইটা হলো সবথেকে গুরুত্বপুর্ণ ব্যাপার। ভারতে থাকা মাইনরিটিদের এই চাপা ভয় আমিও বুঝতে পারতাম না। তারপরে একদিন ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি হলো। কেন জানি না ভোটের রেজাল্ট বের হওয়ার পর উইদিন সেকেন্ডস সমস্ত ভয় চেপে বসলো। এখনো অবধি কোনোদিনও আমি কোনোরকমের অপ্রিয় ঘটনার সন্মুখিন হইনি, কিন্তু তারপরেও আশংকিত হয়ে থাকি। অনেক ভেবেচিন্তে বাড়ির বাইরে যাই, লোকের সাথে কথা বলি। সবসময়ই চিন্তা ভাবনা করতে হয় যে কোনোদিন চলে যেতে হলে কোথায় যাবো, কি করবো।
Avatar: তা

Re: দেশত্যাগ...

মানুষ নানাকারণে মাইগ্রেট করে। ভারত পুণ্যভুমি বলে যায় সৌদি আরব পুণ্যভুমি বলে যায়। বিলেতে সিলেটি ডায়াস্পোরা অটগাছের মত ঝুড়ি নামিয়ে বসে। ভাইজানের সমস্যা শুধু ভারতে যাওয়ায়?
Avatar: একক

Re: দেশত্যাগ...

মাইগ্রেশনের অনেক কারণ । কেও যদি একটু দুধেভাতে থাকবে বলে একটা অন্য দেশে যায় তাতে দোষের কী ?

আর হ্যাঁ , অন্য কেও বিশ্বাস না করলেও এই "কেদারবাবু " কয়েকজনকে আমি চিনি , আমার ই বন্ধু আছে যার কথা অন্য টই তে লিখেছি , ঢাকাতেও সম্পন্ন ব্যবসায়ী , অর্ধেক পরিবার সেখানে , এদিকেও বড় ব্যবসা ফেঁদেছে । একচুয়ালি এই অবধি আমি কোনো দোষ দেখিনা । ভারত থেকে যদি মিত্তাল পরিবারের অর্ধেক চলে গিয়ে ব্রিটেনে রাজ্যপাট বসাতে পারে তাহলে কেদারবাবুতে সমস্যা থাকার কোনো কারণ নেই । সমস্যা অবশ্য আছে একটা জায়গায় , যে এরা পাঁড় বিজেপি সাপোর্টার শুধু নয় প্রচারেও টাকা ঢালছে । তবে এরা সংখ্যায় খুবই নগন্য , উপেক্ষার বেশি কিছু প্রাপ্য নয় ।
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: দেশত্যাগ...

না, সৌদি বা অন্য কোথাও গেলেও আমার কোন সমস্যা নাই। কিন্তু যায় যে আমি সেটাই বলছি। আর কেদার বাবু ব্যবসা দুই দেশে করলে তো কোন সমস্যা ছিল না, আমি তার নামই উল্লেখ্য করতাম না এখানে। তিনি এখান থেকে টাকা হাপিস করে দিয়ে চলে গেছে, আমার সমস্যা সেটা। ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ মেরে দিয়ে চলে গেছে।এদের মত ব্যক্তিদের জন্যও তো যারা আসলেই ভুক্তভোগী তারাও দোষের তলে পড়ে। আমি তাই বলছি এখানে।
Avatar: একক

Re: দেশত্যাগ...

একদেশের ব্যাংকের টাকা মেরে অন্যদেশে গিয়ে থাকে ব্যাপারটা এতো সহজ নয় । খোঁজ নিয়ে দেখুন ওদিকের কিছু প্রভাবশালী লোক টাকা পয়সা ভাগ পেয়েছে । এগুলো কোনো লোকাল চক্র চালাচ্ছে ।
Avatar: aranya

Re: দেশত্যাগ...

বাংলাদেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। ধর্মীয় সংখ্যালঘু-র ওপর অত্যাচার কিছু তো হয়, ব্ল্যাসফেমি আইনে মানুষজনকে আটক করা হয়, ব্লগার হত্যা হয়।
৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তো অনেকাংশেই লুপ্ত। একটা সেকুলার দেশে রাষ্ট্রধর্ম হিসাবে কি করে একটা ধর্ম-কে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে?

অমুসলিম মানুষেরা পারলে বাংলাদেশ ছেড়ে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। মুজিবের আমলের বাংলাদেশ আর নেই।

শুধু বাংলাদেশ কেন, যে কোন দেশেই যদি একটা ধর্ম-কে অযথা গুরুত্ব দেওয়া হয়, মাইনরটি-র ওপর চাপ থাকে, আরা সেই মাইনরিটির কাছে অপশন থাকে সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে যাওয়ার, যে দেশে ধর্মের কারণে তাদের আক্রান্ত হতে হবে না এবং আর্থিক অবস্থারও তেমন কোন হেরফের হবে না বা হয়ত আরো ভাল হবে -সে ক্ষেত্রে মাইগ্রেশন হবেই।

তাদের গালি দেওয়ার কোন কারণ দেখি না। ভারত যদি কখনও হিন্দুরাষ্ট্র হয়, ভারত থেকেও অহিন্দুরা অন্য দেশে যেতে পারে, যদি তাদের কাছে তেমন কোন অপশন থাকে।
Avatar: aranya

Re: দেশত্যাগ...

কেদার বাবু-র মত মানুষ, যারা ব্যাংকের টাকা চুরি করে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছেন, যেমন আরও বড় স্কেলে বিজয় মাল্য বা নীরব মোদি - এদের ঘৃণা করতেই পারেন।

কিন্তু বাংলাদেশের অধিবাসী হয়ে ভারত প্রেম, বা ভারতের বাসিন্দা হয়ে পাকিস্তান প্রেম - এগুলো তো কোন অপরাধ নয়।
Avatar: aranya

Re: দেশত্যাগ...

দ-এর কমেন্ট-টা খারাপ লাগল। লেখার সমালোচনার বদলে লেখক-কে আক্রমণের কোন অর্থ নেই।

সাদেক, দু-একটা কথা ভেবে দেখুন। 'হিন্দুরা ভারতে যাওয়ার জন্য সব সময় তৈরি' - কেন এটা হয়ে চলেছে? নিজের দেশ, ভিটেমাটি ছেড়ে সহজে কেউ উদ্বাস্তু হয়ে অন্য দেশে যেতে চায়?

তসলিমা -র 'লজ্জা', হুমায়ুন আজাদ-এর 'পাক সার জমিন সাদ বাদ', শামসুর রহমান-এর সেই বিখ্যাত কবিতা - বন্ধুকে দেশ ছাড়তে নিষেধ করা - এগুলো তো নিছক কল্পনা প্রসূত নয়। এবং এটাও মনে রাখবেন শামসুর, হুমায়ুন-এর ওপর চাপাতির কোপ পড়েছে, তসলিমা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, ফিজিক্স প্রফেসর অজয় রায় বাংলাদেশকে ভালবাসেন, দেশ ছাড়েন নি, তাকে এখন পুত্রশোক সহ্য করতে হচ্ছে , 'বাংলা হবে বাংলাস্তান' স্লোগান এখনও ওঠে - দেশটা ভিন্ন ধর্মের মানুষ বা নাস্তিক-দের জন্য খুবই নিরাপদ, এমন কি বলা যায়?
Avatar: S

Re: দেশত্যাগ...

বাংলাদেশ ৫ বছর সেকুলার ছিলো। তারপরেই জিয়াউর সেটা পরিবর্তন করে দেয়। পরে এরশাদও বাংলাদেশকে মুসলিম রাষ্ট্র ঘোষণা করে। এমনকি কয়েক বছর আগে সুপ্রীম কোর্টও বোধয় সেটিকে সমর্থন জানিয়েছে (এটি কেউ কনফার্ম করলে ভালো হয়)।

অথচ যে ভিত্তিতে বাংলাদেশ গঠন করা হয়েছিলো, তাতে দেশটি হওয়া উচিত ছিলো কোহিনুর অব সাউথ এশিয়া। কিন্তু তা না করে প্রথমেই বঙ্গবন্ধুকে সড়িয়ে মার্শাল ল আনা হলো। তারপরে ঠিক সময় মতন ইসলামিক রাষ্ট্র গঠন করে দেশটার সর্বনাশ করে দেওয়া হলো। ভাবা হয়েছিলো একটা সেকুলার সোশালিস্ট ঘেঁষা দেশ হবে সব বাঙালীদের জন্য। সেসব আশা মাটি হলো। নইলে আজ হয়তো এপার থেকে অনেক বাঙালীরা ওপারে চলে যেত।
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: দেশত্যাগ...

aranya দাদা, আমি বলি নাই দেশ খুব নিরাপদ সংখ্যালঘুদের জন্য। বলার সুযোগই নাই বলব কী করে? এই যে সামনে দুর্গা পূজা আসছে, কখন কোথায় কী হয়ে যায় এই আতঙ্কে থাকব সারাক্ষণ। শেষ হলে মনে হবে যাক, সব ভাল মতই শেষ হল তাহলে। অভিজিৎ রায় বলেন, হুমায়ুন আজাদ বলেন তাদের কথা ভুলার সুযোগ কই? অভিজিৎ রায়ের হত্যার দিন তো আমি একটু আগেই বই মেলা থেকে ওই জায়গা দিয়ে হেঁটে বাসায় ফিরেছি। এটা ভুলি কী করে? ভাল মানুষ জাফর ইকবালের মত লোকও কোপ খেয়ে গেল কিছুদিন আগে, এগুলা ভুলে যাওয়া সম্ভব? আমি এই সব মাথায় নিয়েই বলছি যে এর বাইরেও মানুষ শুধু মাত্র পুণ্যভূমি মনে করেও ভারত চলে যায়, যাতে আমি কোন দোষও দেখি না। মুসলিমরা বৃদ্ধ বয়সে হজে যায়, সৌদিতে মরতে পারলেই সরাসরি বেহেশত, এমন মনে করে অনেকে। তাদের দোষ দিব? সৌদি সরকার ভারত সরকারের মত না, কাওকে জায়গা দেয় না। মরলেও ঠেলে দেশে পাঠায় দেয়। যাক, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে এই কারনেও অনেকে দেশ ত্যাগ করে। বৃদ্ধ বয়সে ছেলেমেয়েদের রেখে ভারত চলে যাওয়ার কারনই এটাই। আর অন্য দেশের প্রতি প্রেম থাকাটা অপরাধ না, থাকতেই পারে, লিথুনিয়ার প্রতিও কারো প্রেম থাকতে পারে কিন্তু তা যদি নিজের দেশপ্রেম কে অতিক্রম করে যায় তাহলে মনে হয় একটু সমস্যা থেকেই যায়। ওই জামাইবাবু প্রায় নিয়ম করেই প্রতি বছর দেশে আসেন, আত্মীয় সজনদের সাথে দেখা করে, কয়দিন ফুর্তি করে চলে যান, কোন সমস্যা হয় না তার। কিন্তু গুচ্ছের বিষদগার করে যান দেশ নিয়ে। যদিও এখন আর রাগ লাগে না, এখন হাসি পায়! আরেকটা বিষয়, আপনারা ভারতে থেকে পাকিস্তান প্রেমের কথা বলতে পারছেন আমরা কিন্তু পারি না। পাকিস্তান একটা রাষ্ট্র যার সাথে আমাদের চির দিনের আড়ি। ম্যালা রক্তের দামের হিসাব নিকাশ আছে। পাকিস্তান প্রেম বাংলাদেশে থেকে সম্ভব না।

হ্যাঁ, ঘটনা সত্য, সুপ্রিম কোর্ট কয়েক বছর আগে স্বীকৃতি দিয়েছে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বলে। এই দুঃখ নিয়াই মরতে হবে মনে হয় আমাদের। এই সরকার যদি না পারে তাহলে আর কোন সরকার এই জিনিস ঘাড় থেকে নামাবে আমদের আল্লাই জানে। আশা দেখি না।
ধন্যবাদ সকলকে।
Avatar: একক

Re: দেশত্যাগ...

না, নিজের দেশপ্রেমকে অতিক্রম করে গেলেও সন্দেহ করার কিছু নেই । দেশ মানে কিছু একই স্বপ্ন দেখা মানুষ , একটু ভরসারজায়গা । ফিক্সড কিস্যু নয় , কোয়ান্টাম ফিল্ডের মতো একটা ফিলিং । নাথিং মোর দ্যান আ ক্লাব মেম্বারশিপ । জাতীয়তাবাদীদের সাফল্য এইখানেই যে সমস্ত মানুষের মনে তারা এই ফলস গিলটি ফিলিংটা গেঁথে দিতে পেরেছে , যে ভৌগোলিক "দেশ " ব্যাপারটাকে পুজো না করলেই তুমি মহাপাতক । আমরা সেটাকেই ঘিরে নিজেদের অবস্থান কে জাস্টিফাই করারচেষ্টা করে যাচ্ছি ।
Avatar: aranya

Re: দেশত্যাগ...

সাদেক, একটা কথা মন থেকে বলি। আপনি যে লিখছেন এখানে, সেটাই অনেক বড় পাওয়া। আপনি, বিপ্লব রহমান, সচলায়তনের ছেলেমেয়েরা, এদের জন্যই এখ্নও আশা থাকে, বিশ্বকবির সোনার বাংলা, নজরুলের বাংলা দেশ বাংলাস্তান হবে না।
বড়েস, আমি যদ্দুর জানি, এই মুহুর্তে বাংলাদেশ একটি 'সেকুলার' দেশ, 'মুসলিম রাষ্ট্র' নয়। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, অথচ সংবিধান অনুযায়ী দেশ সেকুলার - এ কিছুটা সোনার পাথরবাটির মত, কিন্তু 'মুসলিম রাষ্ট্র' হওয়ার চেয়ে ভাল।
ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র মানবজাতির লজ্জা , ৫০-এর কাছাকাছি মুসলিম রাষ্ট্র আছে, ইজরায়েল রয়েছে - ইহুদী রাষ্ট্র। অমিত শাহ স্যার, প্রধান সেবক ইঃরা ২০৫০ অব্দি থাকলে ভারতও হয়ত হিন্দু রাষ্ট্র হবে, আরএসএস-এর স্বপ্ন পূরণ হবে, আমাদের লজ্জার তালিকায় আর একটি দেশ যুক্ত হবে
Avatar: aranya

Re: দেশত্যাগ...

পাকিস্তান-এর সরকার বা সেনাবাহিনীর প্রতি, আমার-ও কোন প্রেম নেই। ৭১-এর ইতিহাস জানি। কিন্তু যে কোন মানুষেরই তো অধিকার আছে যে কোন দেশকে ভালবাসার। সে ভৌগোলিক ভাবে কোথায় আছে, তার সাথে এই ভালবাসার কোন সম্পর্ক থাকতেই হবে, এমনটা নয়।
ছোটবেলায় মনে হত , ভারতে থেকে পাকিস্তানের পতাকা কেউ কেন ওড়াবে, ঐ দেশটার সাথে আমাদের ৩-টে যুদ্ধ হয়েছে। কিন্তু এখন মনে হয়, এটা তার ব্যক্তিস্বাধীনতা
Avatar: S

Re: দেশত্যাগ...

হ্যাঁ, এখনও পাসপোর্টের উপরে লিখে রেখেছে পিপল্স রিপাব্লিক অব বাংলাদেশ। পাকিস্তানে সেসব বালাই নেই। পরেরবার পাসপোর্ট রিনিউ করার সময় আমিও বা কি লেখা পাসপোর্ট পাই, সেই নিয়ে চিন্তায় আছি।

ইংল্যন্ডে যখন খেলা হয় তখন কিন্তু সেখানকার ভারতীয়রা ইন্ডিয়ার ফ্ল্যাগই ব্যবহার করে।
Avatar: Amit

Re: দেশত্যাগ...

ইংল্যান্ড, US বা অস্ট্রেলিয়া এসব দেশে ইন্ডিয়া বা পাকিস্তানী ডিয়াস্পোরা র সাথে ইন্ডিয়া পাকিস্তান কনফ্লিক্ট এর তফাৎ আছে। বেশির ভাগ ইন্ডিয়ান বা পাকিস্তানী নিজের দেশ এসব দেশে ছেড়ে এসেছেন ভালো লাইফ এর আশায়, সেটা অনেক ক্ষেত্রেই নিজের চয়েস, জোর করে বাস্তুহারা হতে হয়নি। এদের সাথে কোনো যুদ্ধের ইতিহাস ও নেই। তাই খেলার সময় নিজের দেশের ফ্ল্যাগ দেখালে কেও কিছু অতটা মনে করে না, করলেও হয়তো সেটা ওভারহইপেড হয়না যে মিডিয়াতে খবর হয়না।

কিন্তু ইন্ডিয়া , পাকিস্তান বা বাংলাদেশ এর যে দেশভাগের তিক্ত ইতিহাস, বা তার পরের ৪-৫ টা যুদ্ধ বা সারাক্ষন যুদ্ধের দামামা, সেখানে অতটা সহনশীলতা আশা করা মুশকিল। আমি নিশ্চিত ১৯৮০ তে ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড যুদ্ধের পরে ১৯৮২ র ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবল ম্যাচ (যেখানে মারাদোনা ভগবানের হাত গিয়ে গোল করেন), সেখানে ম্যাচে র সময় ইংল্যান্ড এর কোনো পাব বা রাস্তায় ওখানের কোনো আর্জেন্টিনিয়ান প্রবাসী নিজের দেশের ফ্ল্যাগ নিয়ে আনন্দ করলে তাদের পিঠেও দু এক ঘা পড়তো। আজকে সিরিয়া বা লেবানন বা ইজিপ্ট এ বসে ফুটবলল স্টেডিয়াম এ কেও ইসরায়েল র ফ্ল্যাগ দেখাক একবার, দেখেন তার কি হাল হয়।

তখন কার (১৯৮২) নিউসপেপার রিপোর্টিং গুলো নেট এ খুলে দেখেন, ব্রিটিশ মিডিয়া সেই ম্যাচ টাকে নিয়ে পুরো যুদ্ধের হাইপে তৈরী করেছিল।
Avatar: Amit

Re: দেশত্যাগ...

যখনি একটা ধর্ম ভিত্তিক দেশ তৈরী হয়, সেটা সুস্থ দুনিয়ার পক্ষে একটা চরম লজ্জা। সেখানে সংখ্যালঘু দের ওপর ডাইরেক্ট অত্যাচার হোক বা না হোক, ধর্মের ভিত্তিতে ডিসক্রিমিনেট করা মানেই অন্য ধর্মের লোকেদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক বানিয়ে রাখা। সেটা অপছন্দ করার পুরো অধিকার আছে যে কারোর। মালয়েশিয়া ইসলামিক দেশ এবং বাকি অনেক মুসলিম দেশের তুলনায় সেটা অনেক বেশি সংহনশীল আর শান্ত। কিন্তু তবুও আমার দেখা যে সেখান থেকে একটা বিশাল সংখ্যায় Chinese বা ইন্ডিয়ান পপুলেশন অন্য দেশে মাইগ্রেট করে গ্যাছেন কারণ তারা ওই ডিস্ক্রিমিনাটোরি সিস্টেম এর মধ্যে জাস্ট থাকতে চান নি। এমন নয় যে তাদের প্রতিজনের ওপর অত্যাচার হয়েছে।

বাংলাদেশ র দুর্ভাগ্য যে এই বিষচক্র থেকে তারা বেরোতে পারেনি অনেক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও। সেই এক ইসলামিক গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়েছে, কারণ যাই হোক গিয়ে কিচ্ছু এসে যায়না। বিষগাছ পুতলে ফলেও বিষ ই থাকবে, অন্য কিছু নয়।

ভারত যদি একই গড্ডালিকায় গা ভাসায়, তাহলে আরো বেশি দুর্ভাগ্য হবে, আর কি বলার আছে।
Avatar: b

Re: দেশত্যাগ...

য়্যাঃ। ৮২ নয়, ৮৬।
Avatar: Amit

Re: দেশত্যাগ...

হ্যা , সরি। ৮২ র যুদ্ধ আর ৮৬ র খেলা । গুলিয়ে ফেলেছি।
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: দেশত্যাগ...

Aranya দা, লেননের ইম্যাজিনের স্বপ্ন আমিও দেখি। বেঁচে থাকতে হলে সেই স্বপ্ন দেখা ছাড়া বিকল্প কোন রাস্তা খুঁজে পাই না। যদি জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে উঠতে পারে কেউ তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু যতক্ষণ না পারছি ততক্ষণ এই সত্যকে অস্বীকার করি কি করে? পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণা আমার থাকবে কেন? মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার কী হইছে যে আমি ঘৃণা করব? আমার জন্মের কত আগে ঘটনা, আমি চিন্তা না করলেই তো হয়। তবুও কেন করি? সবার প্রতি ভালবাসা বলার পড়েও কেন পাকিস্তানকে এই জায়গায় আনতে পারি না কেন? পারি না কারন আমার পারার সাথে তা সম্পর্ক যুক্ত না। আমি মেনে গেলাম, প্রচুর প্রেম বিলালাম, পাকিস্তানীদের ভাই বলে বুকে নিলাম। কিন্তু আমার দুই বাড়ি পড়ে যে শহীদ জননী থাকে তাকে কে বলবে যে পাকিস্তানের প্রতি প্রেম বিলাও? আমার পাশের উপজেলায় একটা গ্রাম আছে, বিধবা গ্রাম, ৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই গ্রামের পুরুষদের ধরে ধরে মেরে ফেলেছে, মহিলা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাদেরকে বলা সম্ভব পাকিস্তানিরাও ভাল? কীভাবে সম্ভব আমার বুদ্ধিতে কুলায় না। আর আমি যদি তার কষ্টের ভাগীদার না হতে পারি তাহলে আমি কে? আমার পরিচয় কী? নিজেকে মানুষ বলতে পারব তারপরেও? জানি না। পাকিস্তানীরা এই অভিশাপ আমাদের ওপরে রেখে গেছে। ঘৃণা নিয়ে বাঁচতে চাই না কিন্তু কোন উপায়ও পাই না। যদি কোনদিন তাঁরা মাফ করে দিতে পারে, যদি পাকিস্তান কোনদিন নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করে তাহলে হয়ত এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে পারি, তার আগে না।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 5 -- 24


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন