Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর
    কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর - সৌভিক ঘোষালভারতভুক্তির আগে কাশ্মীর১ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যাবে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়ালো আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশ ভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, ...
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের শাড়ি রচনা প্রসঙ্গে

Muhammad Sadequzzaman Sharif

এর আগে তেঁতুল মার্কা হুজুরেরা তেঁতুল তত্ত্ব দিয়েছে। সমাজের নানা উঠতি মাঝারি, নিম্ন - নিম্ন মধ্যবিত্ত, দীর্ঘ, ক্ষুদ্র, নানা আকারের তাত্ত্বিকগণ নারী নিয়ে তত্ত্ব দিয়ে গেছে। নারী যেন পুরুষের তত্ত্বের জন্যই বেঁচে থাকে। যার যেমন দৃষ্টিভঙ্গি সে তেমন তেমন তত্ত্ব দিয়ে গেছে। নারীর কী করা যাবে আর কী করা যাবে না তা ঠিক করে দিবে পুরুষ। ঠিকাদারি দায়িত্ব নিয়ে এসেছে পুরুষ, এই দায়িত্ব বিল্ট ইন দেওয়া হয়েছে জন্মের সময় থেকেই। এই তত্ত্ব তত্ত্ব খেলা এতদিন নানাজনে দিয়ে গেলেও এর বিপরীতে দাঁড়ানোর মত মানুষ ছিল এখনো আছে। কিন্তু নারীর পোশাক নিয়ে এবার নতুন তত্ত্ব নিয়ে সবাই কে চমকে দিয়ে হাজির হয়েছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। গত শুক্রবার প্রথম আলোতে বেশ রসাত্মক লেখা লিখেছেন তিনি। কিন্তু জিনিস ঘুরে ফিরে একই, শুধু এবার অনাকাঙ্ক্ষিত মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে। কিন্তু আসলে সব শিয়ালের এক রা।

সবচেয়ে সহজ কাজ হচ্ছে নারীকে একটা কিছু বলে আবদ্ধ করে দেওয়া। বলে দিলেন একটা কিছু। পুরুষ শাসিত সমাজ আপনার পাশে থাকবে। থাকবে না শুধু দায়িত্ব নিয়ে থাকবে। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ নারী শাড়ি পরা নিয়ে বেশ কিছু জ্ঞান ঝেড়েছেন। নারী বিশেষ করে বাঙ্গালী নারী বা ভারতীয় উপমহাদেশের নারী শাড়ি পরলে তা কত চমৎকার দেখা যায় তা তিনি বলেছেন। নারী শাড়ি পরলে ভাল দেখায় এই পর্যন্ত বলে থামার লোক তিনি নন, তিনি এরপর বর্ণনা করেছেন শাড়ি পরলে কীভাবে সৌন্দর্য ফুটে উঠে, কোন কোন ভাঁজ নারীর সৌন্দর্যের জন্য জরুরি, কোথায় কোথায় বাঁক থাকলে নারীকে সুন্দর দেখায় ইত্যাদি ইত্যাদি। তিনি আফসোস করেছেন বাঙ্গালী নারীর উচ্চতা নিয়ে, উচ্চতায় খাটো বলে যতদূর বোঝা গেছে তিনি রীতিমত হতাশ। উচ্চতায় খাটো, দেখতেও অসুন্দর এই সব নারীদের দেখে দেখে তিনি বের করেছেন যে যদি এই অসুন্দর নারীরা শাড়ি পরে তাহলেই আর অত অসুন্দর তাদের লাগবে না। শাড়ি পরে সুন্দর করে মানে পুরুষের চোখে সুন্দর হয়ে থাকাটা খুব জরুরি উনার কাছে। তোমাকে সুন্দরই দেখা গেল না তাইলে তুমি কিসের নারী! যাও, দ্রুত সুন্দর হয়ে আসো! সুন্দরী ছাড়া কেউ থাকবে না এই তল্লাটে…

তিনি লিখেছেন - “আধুনিক শাড়ি পরায় নারীর উঁচু-নিচু ঢেউগুলো এমন অনবদ্য ভাবে ফুটে ওঠে, যা নারীকে করে তোলে একই সঙ্গে রমণীয় ও অপরূপ। শাড়ি তার রূপের শরীরে বইয়ে দেয় এক অলৌকিক বিদ্যুৎ হিল্লোল।” বাহ! দারুণ না কথা গুলা? লেখার শিরোনামে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের নাম লেখা না থাকল বোঝার উপায় আছে এই লেখা তাঁর? যেহেতু শাড়ি পরলে পুরুষের চোখে ঝলকানি লাগে, চোখে শান্তি আসে তাই নারীর কিসছু করার নাই, শাড়ি পরে বসে থাকা ছাড়া। তিনি শাড়ির অর্থই পরিবর্তন করে দিয়েছে। নারী বা বাঙ্গালী নারী শাড়ি পরে কী কারনে তার উত্তর এখন আর কিছু খুঁজে লাভ হবে না, আমার আপনার মা বোনেরা শাড়ি যে কারনেই পরুক উনার দৃষ্টিতে তা হচ্ছে কতখানি সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে পারল তাঁরা, পুরুষ সন্তুষ্ট হল কী না তা কিংবা বলা যায় সায়ীদ স্যার মুগ্ধ হয়েছে কী না তা! খুব পরিচিত পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব, একেবারেই নিচু মানের পুরুষতান্ত্রিকতা।

নারী বা নারীর পোশাক নিয়ে খুব মাথা ব্যথা পুরুষের। কতখানি মাথাব্যথা তা কিছুটা বোঝা যায় নারী ক্রিকেট বা ফুটবল দলের যে কোন খবরের নিচে মন্তব্যের জায়গায়। সমাজে নারীকে কোথায় রেখেছি আমরা তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ওই মন্তব্য গুলো। আমার বোন বাংলাদেশ মহিলা জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলে। আমরা খুশিতে নাচি ওকে নিয়ে। মহিলা দলের খেলা সরাসরি দেখার সুযোগ কম পাই আমরা। মাঝেসাঝে একটু আধটু দেখা যায়। মাঝে মধ্যে ইউটিউবে হয়ত ব্যবস্থা থাকে। ইউটিউবে সরাসরি খেলা চলার সময় পাশে মন্তব্য করার সুযোগ থাকে। আমি সেই মন্তব্য করার ব্যবস্থা বন্ধ করে খেলা দেখি। দেখা যায় না ওই মন্তব্য গুলা, ভাই হিসেবে নিতে পারি না। ভাই হিসেবে তো অবশ্যই পুরুষ হিসেবেও মেনে নেওয়া যায় না। ফেসবুকে নারী দলের কোন খবরের নিচে ভুলেও মন্তব্য পড়তে যাই না। জানি শুধু শুধু মনটা খারাপ হবে, বিতৃষ্ণা এসে যাবে। এত কুৎসিত মানসিকতা নিয়ে বেঁচে থাকে কীভাবে মানুষ? বিকৃত রুচিরও সীমা থাকার কথা, কিন্তু এরা নিজে দেশের মেয়েদের সম্পর্কে যে ধারনা পোষণ করে তাতে ঘৃণা প্রকাশ করার উপায়ও খুঁজে পাওয়া যায় না, হতভম্ব হয়ে যেতে হয় শুধু। ফলাফল এগুলা দেখা থেকেই দূরে থাকা। শুধু যে অনলাইনে এমনও না। আমাদের কত আত্মীয় স্বজন আমার বোনের খেলা শুরুর সময়ে কত মন্তব্য করেছে। জাহান্নামের আগুনের ভয় দেখিয়েছে। মাঠে অনুশীলনের সময় প্রতি নিয়ত শুনতে হয়েছে কত কত বাঁকা তির্যক কথা। এখন জাতীয় দলে খেলে বলে অফলাইনের অত্যাচার তেমন শুনতে হয় না, অন্তত সামনে শুনতে হয় না আর কী! কিন্তু শাড়ির রচনা পড়ে ওই মন্তব্যকারীদেরকে বেশি কিছু বলতে পারছি কই? যারা আলোর মিছিল নিয়ে চলছে, যারা জাতিকে পথ প্রদর্শন করার দায়িত্ব পালন করছে তাঁরা যদি মনে করে নারীর কাজই হচ্ছে পুরুষের জন্য সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, পুরুষের মনোরঞ্জনের দায়িত্ব নিয়ে থাকা তাহলে তাদের আর দোষ কী? পাপী তো সকলেই কিন্তু জ্ঞানপাপী যারা তাদের জন্য কী ব্যবস্থা?

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের কাছে দৈনিক কত কত নারী দেখা করতে যায়। শাড়ি পরা নারী এই লেখার পড় উনার কাছে যেতে বা সামনে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে তো? কিংবা উল্টোটা? জিন্স টি শার্ট পরা কেউ কী স্বস্তি পাবে? এত বছর আলোকিত মানুষ খুঁজে কী তবে বাতির নিচে অন্ধকার রয়ে গেল? আমি নিতান্তই ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র মানুষ, আবু সায়ীদ মহীরুহ হলে আমি তার তুলনায় দূর্বা ঘাস কিংবা শেওলাও না। কিন্তু এই আমারও লেখটা পড়ে মনে হল কোথায় জানি বড্ড ভুল হয়ে গেছে, এতদিন যাকে সূর্য মনে করতাম আজকে মনে হচ্ছে তেল ছাড়া কুপি বাতি। তাঁর কাছে এমন কিছু সত্যই হতাশ করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল হেরে গেলে যেমন লাগে, প্রত্যাশিত বই কুরিয়ারে আসার কথা থাকলেও যথা সময়ে না আসলে যেমন লাগে তেমন লাগছে। স্যারের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

প্রথম আলোর লিংকটাও থাকল -
https://www.prothomalo.com/onnoalo/article/1611837/%E0%A6%B6%E0%A6%BE%
E0%A7%9C%E0%A6%BF



710 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Ela

Re: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের শাড়ি রচনা প্রসঙ্গে

বাবা গো, প্রথম আলোর লেখাটা দু-ত্তিন প্যারার বেশি পড়তে পারলাম না। কাজ না থাকলে এর থেকে খই ভাজাও ভাল।
Avatar: নাহার তৃণা

Re: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের শাড়ি রচনা প্রসঙ্গে

বিখ্যাত লোকজনের নানা ক্ষ্যাপামির কথা আমরা তাদের লেখালেখি কিংবা জীবনী থেকে জানতে পারি। বাঙালি হিসেবে নীরদ চন্দ্র চৌধুরী বোধকরি এ বিষয়ে বেশ এগিয়ে ছিলেন। বিভিন্ন ভাবে তিনি তাঁর আচার-আচরণগত কারণে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। হয়ত তিনি সেসব উপভোগ করতেন- কি জানি! তো প্রচণ্ড রকমের জ্ঞানী, বাগ্মী এই লোকটা যতই সাহেবিয়ানা করেন না কেন, মনে প্রাণে বাঙালিই ছিলেন। একজন বাঙালি হিসেবে তিনি আরেকজন বাঙালিকে বাঙালিয়ানা পোশাকেই তিনি দেখতে চাইতেন। তাঁর দর্শনপ্রার্থী কোনো বাঙালি ভিনদেশি পোশাকে তাঁর কাছে গেলে তিনি তাকে অপমান করতেও দ্বিধা করতেন না।

কেতকী কুশারী ডাইসন, যিনি নিজেও একজন স্বনাম খ্যাত মানুষ এবং ইংল্যান্ড প্রবাসী বাঙালি। এই কেতকী একবার নীরদ চন্দ্র চৌধুরীর বাড়িতে সালোয়ার কামিজ পরে গিয়েছিলেন। আর যায় কোথায়! নীরদ চৌধুরীর যাবতীয় শিক্ষা দীক্ষী জানলা খুলে পালিয়ে বাঁচলো। ফলে যা ঘটবার তাই ঘটলো। কেতকীকে তিনি নিদারুণভাবে অপমান করে বসলেন। কাজটা যে তিনি একদমই ঠিক করেননি এ বিষয়ে পরবর্তীতে নবনীতা দেব সেন বলতে গেলে তাকেও ছেড়ে কথা বলেননি বিরল প্রতিভা আর পাগলামিতে ভরপুর এই নীরদ চন্দ্র চৌধুরী। ওটুকু করেই যদি ক্ষ্যান্ত হতেন তাও হতো... না তিনি কী করলেন? বলে বসলেন চরমতম অপমানজনক বাক্য - " সালোয়ার কামিজ পরার জন্য ফিগার লাগে।" জ্বী ঠিকই পড়ছেন, অক্সফোর্ড দাপিয়ে বেড়ানো, বাঙালি সংস্কৃতি ঐতিহ্য বিষয়ে দশমুখে বাক্যবাণে অভ্যস্ত নীরদ চন্দ্র চৌধুরী বলেছেন এহেন সেক্সিস্ট কথা!!

ছুটির দিন হওয়ায় আজ বেলাবেলি ফেসবুকে পা দিতেই চোখের সামনে চলে এলো শাড়ি পরা এক প্রিয় মানুষের ছবি। পরের পর বেশ কিছু তালিকাবদ্ধ বন্ধুর শাড়ি পরা ছবি এলো গেলো। কাহিনি কী রে বাবা! ঠিকঠাক ঠাওর হয়না। কাউকে জিজ্ঞেস করবো করবো করতে করতে নানার ইতং বিতং কাজে বার কয়েক লগাউট হয়েছি। খুব সম্ভবত বিকেলের দিকে চরম উদাসের পোস্ট পড়ে সব ফকফকা। নীরদ চন্দ্র কেস আর কী।


আমাদের এক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব,আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, আহ্লাদ করে যাকে অনেকেই আলোকিত মানুষ বলে ডাকেন। সেই আলোমাখা(!) মুখে কালিমায়ভরা সব ইতং বিতং বকে গেছেন। তার গোল গোল কথা জুড়ে শুধুই সেক্সিস্ট আর রেসিস্ট বার্তা। এই নাকি আলোকিত মানুষের অমৃত বচন! আমার ফেসবুকীয় তাবত নারী বন্ধুদের সাথে আম্মো একাত্ম হয়ে শুধু এটুকুই বলবো, হ্যাঁ আমিও তার বক্তব্যে দারুণ ক্ষুব্ধ। তবে আমি শাড়ি পরা ফটুক ঝুলিয়ে তার কথারে বেইল দেবার পক্ষপাতী নই। পোশাক নির্বাচনের স্বাধীনতা অন্য কেউ আমার উপর চাপিয়ে দিতে পারেন না। ওতে সম্পূর্ণ অধিকার শুধুমাত্র আমার, আমার এবং আমারই! কারো চোখের শান্তির জন্য আমি পটাং করে শাড়ি পরবো না, পরবো না পরবো...মানাক নাই মানাক পোশাকের স্বাধীনতা শুধুমাত্র আমার-- পিরিওড!

'শাড়ি' লেখাটা বড়ই পরস্পর বিরোধী মনে হয়েছে আমার। উপমহাদেশীয় উত্তরাংশের অপরূপাদের শাড়িতে কল্পনা করতে গিয়ে শটসার্কিট হইছে খুব সম্ভবত।

---------------
আপনার কথার সাথে সহমত জানিয়ে নিজের ওয়ালের কথাটুকুই কপিপেস্ট করলেম ভ্রাত।
Avatar: Ela

Re: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের শাড়ি রচনা প্রসঙ্গে

নীরদ সি কি বাঙালি পুরুষদেরকেও ধুতি না পরে গেলে গালাগালি দিতেন?
Avatar: অর্জুন

Re: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের শাড়ি রচনা প্রসঙ্গে


নীরদচন্দ্রকে একা দোষ দিয়ে লাভ নেই। সত্যজিৎ রায় ভারতীয় নারীদের শাড়ি ছাড়া অন্য পোশাকে মেনে নিতে পারতেন না। বিজয়া রায়ের 'আমাদের কথা'য় বহু জায়গায় আছে। প্রায় বৃদ্ধকালে বিজয়া রায় যখন রাত্রিবাস (নাইটি) পরা শুরু করেন সত্যজিতের সে ব্যাপারে বিশেষ আপত্তি ছিল।

শাবানা আজমী বলেছেন 'শতরঞ্জ কে খিলাড়ি' র শুটিঙের সময় উনি যখন বোম্বাই থেকে প্লেনে শুটিং স্পটে আসেন তখন চলাফেরার সুবিধের জন্যে জিনস আর টপ পরে এসেছিলেন। সত্যজিৎ তাকে দেখে চিনেও না চিনতে পারার ভান করে ছিলেন। মানিকদা'র এই শীতল ব্যবহার, তাও প্রথম কাজ করতে এসে ভাল লাগেনি শাবানাজির। কিন্তু সন্ধ্যেবেলা যখন দেখা হল, তখন তিনি শাড়ি পরে, মানিকদা দিব্যি এগিয়ে এসে কথা বললেন খোশমেজাজে। পরে শাবানা জেনেছিলেন মানিকদা মহিলাদের শাড়ি ভিন্ন অন্য পোশাকে পছন্দ করতেন না।


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের শাড়ি রচনা প্রসঙ্গে

সায়ীদের শাড়ি রচনাটি সুশীলের কামসূত্র ছাড়া কিছু নয়।

"আলোকিত মানুষ চাই" শ্লোগান দিলেই আলোকিত মানুষ হওয়া যায়, সায়ীদের চরমতম সেক্সিষ্ট রচনা আরেকবার মনে করায়।

তাছাড়া এটি ছাপার যোগ্য কোনো লেখা? সাহিত্য? এই লেখা বাংলাদেশের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্রে ছাপা হয় কি করে?
Avatar: নাহার তৃণা

Re: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের শাড়ি রচনা প্রসঙ্গে

Ela, সে সম্পর্কে বাঙালি বাবুগণ কোথাও তেমন কিছু উল্লেখ করেছেন কিনা জানা নেই ইলা।

অর্জুন, শুধুমাত্র নীরদ চন্দ্র কে দোষ দেয়া হলে শুরুর 'বিখ্যাত লোকজনের...' না লিখে অন্যভাবে লিখতাম ভাই!
Avatar: Ela

Re: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের শাড়ি রচনা প্রসঙ্গে

@তৃণা, সেইটাই। অধম নারীজাতির উন্নতিকল্পেই যত আলাপ-আলোচনা। এ শুধু হোয়াইট ম্যানস বার্ডেন না, জাতিধর্ম নির্বিশেষে অল ম্যানস বার্ডেন।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন