ন্যাড়া RSS feed
বাচালের স্বগতোক্তি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি

ন্যাড়া

স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। অতএব স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে গভীর বাণী দেবার সবরকমের হক ও জ্ঞানভান্ডার আমার আছে।
প্রথম যে স্টার্ট-আপে ঢুকেছিলাম সে একেবারে ওয়ান-পাইস ফাদার-মাদার। একতলার করিডোরের দুপাশে তিনটে মাঝারি সাইজের ঘরে গাদাগাদি করে জনা-পঁচিশ লোক। তারপরে লোক বাড়লে আরেকটা ঘর নেওয়া হল। তারপরে আরও একটা, সেটা আবার দোতলায়। জনা ছয়েক আঁটে এরকম কনফারেন্স রুম ছিল দুটো। তার একটা কিছুদিন পরে বেহাত হয়ে গেল। একবার মনে আছে চটজলদি অলহ্যান্ডস মিটিং-এর জায়গা পাওয়া গেল না। বাড়িটার ওপরতলায় কন্সট্রাকশন হচ্ছিল। সেখানে সবাই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে মিটিং হল। সেই মিটিং-এই কথা উঠল নতুন অফিস আর না হলেই নয়।
ঘরে একেবারে গাদাগাদি করে বসা হত। আমি প্রথমে যে ঘরে বসতাম, সেখানে তিনটে কিউবিকল ছিল। ঠেসাঠেসি করে হয়তো আরও দুটো ধরত। সেই পাঁচজন-আঁটে-ঘরে শেষ পর্যন্ত ন'জন বসে কাজ করতাম। দুটো কিউবে দু'জন করে। এখন হলে কিউব-টিউব উড়িয়ে "ওপেন স্পেস"-এর ধ্বজা তুলে আরও জনা দুয়েক ঢুকে পড়ত। বেশ কিছু রিসার্চে দেখা গেছে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ঘেরা জায়গায় - সে ঘরই হোক কি কিউবিকল - না বসে খোলা জায়গায় বসলে প্রোডাক্টিভিটি ঝুলে লাট হয়ে যায়। তবু সিলিকন ভ্যালিতে ওপেন স্পেসের রমরমা। প্রথমতঃ কিউব-টিউব না থাকলে একই পরিমাণ জায়গায় বেশি লোক ধরানো যায়। দু নম্বর, টিম বিল্ডিং-কোলাবরেশন নামক ঢপ বিনাপ্রশ্নে লোকে খায় ভাল। ফাউন্ডারদের ধারণা খোলা জায়গা হলে লোকের পারস্পরিক আদান-প্রদান বাড়বে কচুরিপানার মতন। কাজেই লাগাও "ওপেন স্পেস"। বেলঘরিয়াগামী এ পানসিতে ছোট-বড় সব কোম্পানিই যে যেমন পারছে উঠে পড়ছে।
স্টার্ট-আপে এখন খাওয়া-দাওয়ার খুব সুবিধে। মূলতঃ গুগুলের পর থেকেই পয়সাওলা স্টার্ট-আপগুলো বিনিপয়সায় লাঞ্চ দিতে শুরু করল। তারপরে ব্রেকফাস্টও। অনেক দেরি অব্দি কাজ করলে ডিনারের চল অবশ্য অনেকদিন থেকেই ছিল। আমার সেই ঘাড়াঘাড়ি-বসা কোম্পানিতেও ছিল। কিন্তু লাঞ্চ-টাঞ্চ সুদূর নীহারিকা।
গেল আঠার বছরে সে সবই পাল্টাল। আমি মাঝে দেড়খানা বড় কোম্পানি ছাড়া স্টার্ট-আপের ঘাটে ঘাটেই সফর করেছি। সেদিক দিয়ে বলতে হয়, চোখের সামনে সব পাল্টাল। এখনকার স্টার্ট-আপগুলোয় খাবার-দাবার ফ্রি। মানে অধিকাংশগুলোতে। সে আবার যে-সে লাঞ্চ নয়, ভাল রেস্টোর্যান্টের কেটার্ড লাঞ্চ। সঙ্গে ফুললি স্টকড কিচেন। স্ন্যাকস, ড্রিংকস। দিতেই হবে। ইন্ডাস্ট্রির ভাষায় "টেবিল স্টেক"। যার কম দিলে লোকেরা চাকরি নেবেনা। আর সেই খাবার-দাবারের ধাক্কায় সম্মিলিতভাবে ওজন ঊর্ধগামী। কাজেই সঙ্গে থাকতে হবে জিমের ফেসিলিটি বা মেম্বারশিপ। ব্যায়াম-ট্যায়াম করলে বাবু-বিবিদের মনমেজা্জ ভাল থাকবে। কাজ হবে দুদ্দুড়িয়ে।
শরীরগতিকের কথাই যখন উঠল, তখন ডাক্তার-বদ্যির হিসেবটাও থাক। প্রথমদিকে স্টার্ট-আপগুলোয় শুধু মেডিকেল, ভিশন আর ডেন্টাল বেনিফিট থাকত। প্রিমিয়ামের পুরোটা কোম্পানি দিত কিনা মনে নেই। বোধহয় দিত। এখন কি-ছোট, কি-বড় - প্রায় সব কোম্পানিতেই কিছুটা অন্ততঃ প্রিমিয়াম নিজেকে দিতে হয়। অন্যদিকে, কোম্পানি কন্ট্রিবিউশন তো দূরের কথা, ৪০১-কে ধরণের রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটও অনেক সময়ই থাকত না। এখন ওটা প্রায় সেই টেবিল স্টেকই হয়ে গেছে। যদিও প্রফিটেবল না হলে এখনও কোম্পানি কন্ট্রিবিউশন থাকে না, কিন্তু ৪০১-কে প্রায় সব স্টার্ট-আপই দেয় একটা সময়ের পরে। আজকাল ফাউন্ডাররা অফিসের সৌন্দর্য ওরফে চকশা নিয়েও অনেক বেশি মাথা ঘামায়। ফার্নিচার-টার্নিচার দেখতে ভাল। অফিস-টফিসেরও বেশ একটা চরিত্র আছে।
এখন ডেস্কে ডেস্কে ফোনের গল্প উঠে গেছে। ফোন লাগেই না। লাগলে সফট-ফোন ব্যবহার কর। অবশ্য বড় কোম্পানিরাও আস্তে আস্তে সেই পন্থাই নিচ্ছে। ব্রডব্যান্ড হইহই করে আসার আগে বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ ছিল কম। তবে তাও কোম্পানি অনেকসময়েই ইঞ্জিনিয়ারদের বাড়ির ইন্টারনেটের বিলটা চুকিয়ে দিত। এখন ঘরে ঘরে ব্রডব্যান্ড নিত্যব্যবহার্য হয়ে যাওয়ায় কোম্পানিরাও হাত ঝেড়ে ফেলেছে।


মোদ্দা কথা স্টার্ট-আপরা এখন বড় হয়েছে, ভারিক্কি হয়েছে। লোকেরা মান্যিগন্যি করে। কিন্তু কৈশোরের সেই বেপাড়ায় গিয়ে "ঘরে নেই নুন, ছেলে আমার মিঠুন" ধরণের রোয়াব নেবার স্পিরিটটায় ঘুণ ধরেছে। স্টার্ট-আপ আর স্টার্ট-আপ নেই।

*******

প্রথম ব্যাচের স্টার্ট-আপেরা - মানে ২০০০-২০০১ সালে ডট-কম বুদবুদ ফেটে যাবার আগে যাদের জন্ম - তারা অনেকটাই বড়লোকের বখা ছেলের মতন। শোনা যায় স্রেফ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন সম্বল করে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টদের গালগল্প শুনিয়ে কয়েক মিলিয়ন ডলার ফান্ডিং বাগিয়ে সে টাকা উড়িয়ে-পুড়িয়ে নয়ছয় করেছিল অনেক উদ্যোগপতি। স্টার্ট-আপের ব্যাপারটা এরকম। ধরুন আমার চ-ম-ৎ-কা-র একটা আইডিয়া আছে, যা ঠিকমতন নাবাতে পারলে দুনিয়া পালটে দেবে। আমি সেই আইডিয়ার জন্যে এমনই পাগল যে আমার নাওয়া-খাওয়া প্রায় শিকেয় উঠেছে। আমি আর থাকতে না পেরে একজন ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ওরফে ভিসির কাছে গেলাম। ভিসি লোকগুলো কারা? এরা মূলতঃ দালাল। পয়সাওলা দালাল। এরা অন্য পয়সাওলা লোকের কাছে গিয়ে বলে "তোমার এত টাকা আছে, তার থেকে কয়েক মিলিয়ন আমায় দাও। আমি অ্যা্যসা দূরদৃষ্ট ইনভেস্টার যে এমন সব টেকনলজিতে তোমার টাকা খাটাব যে তিন বছরের মধ্যে তোমার টাকা চার-পাঁচগুণ তো কোন ছার দশ-বারোগুণ হয়ে ফেরৎ আসবে। সেরকম সেরকম লেগে গেলে কুড়ি-পঁচিশগুণ হওয়াও বিচিত্র নয়। সোবই হানুমানজীকা হিঞ্ছা।" এইসব বলে, এমত টুপিটাপা পরিয়ে ভিসিরা বড়লোকদের থেকে চাঁদা-টাঁদা তুলে একটা ফান্ড বানায়। সেটা দু-দশ মিলিয়নের ডলারের হতে পারে আবার কয়েকশো বিলিয়ন ডলারেরও হতে পারে। ভিসিরা নিজেরাও অনেক সময়ই নিজেদের পয়সা দিয়েই ফান্ড শুরু করে।


তো আমি আমার সেই যুগান্তকারী আইডিয়া নিয়ে ভিসির কাছে গিয়ে বললাম, "ভিসিদাদা, ভিসিদাদা পয়সা দাও। জিনিস বানাই।" ভিসি বলল, "এস ভাই, বস ভাই। খাট পেতে দিই, ভাত বেড়ে দিই। তোমার জিনিস দেখাও!" আমি বলব, "জিনিস? জিনিস তো এখনও নেই। জিনিস বানাব বলেই তো তোমার কাছে পয়সা চাইতে এসেছি। এই দেখ আমার প্ল্যান।" এই বলে আমি পাওয়ার পয়েন্টে খুলে প্ল্যান-ট্যান দেখিয়ে বুঝিয়ে দিলাম অমুক থেকে অমুক হয়ে তুশুক করে দেড় বছরের মধ্যে আমার কোম্পানি ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করবে। ব্যস, ভিসির টাকা ৫০ গুণ হয়ে হেঁটেহেঁটে ফেরৎ চলে আসবে। ১৯৯৭ সালে হলে ভিসিদাদা চার মিলিয়ন টাকা আমার হাতে গুঁজে দিয়ে বলত, "আপাততঃ এই রাখ। চিন্তা মৎ করো। কাজ যেমন যেমন এগোবে পয়সাও তেমন তেমন পেয়ে যাবে।" সবাই নয়, অনেকেই এইভাবে পয়সা তুলেছে। তারপরে আইডিয়া আর প্রডাক্ট নিয়ে ল্যাজেগোবরে হয়ে ক্ষান্ত দিয়েছে। আর এখন ওই নিয়ে গেলে ভিসি দুদ্দুর করে তাড়িয়ে দেবে। বলবে, "ইল্লি! তুমি কোন হরিদাস পাল হে? আগে নিজের পয়সায় কিছু একটা বানিয়ে তো আন যাতে বুঝতে পারি যে তুমি মাল বানাতে পার, সেই মাল দেখে কিছু খদ্দের ধরতে পার আর সেই মালের ওপর তোমার এমন ভরসা আছে যে তুমি নিজের গ্যাঁটের সময় ও কড়ি খরচা করেছ। ্তোমার নিজেরই যদি নিজের আইডিয়ার ওপর ভরসা না থাকে তালে আমি ভরসা করে পয়সা দিই কোত্থেকে? মাল বানিয়ে দু-চারটে খদ্দের-টদ্দের ধরে এস, তখন নাহয় টাকাকড়ির কথা বলা যাবে।"


ফলে এখন স্টার্টাপের কর্মপদ্ধতিতে অনেক বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা এসেছে। কটা জিনিস লক্ষ্য করি -


১। এখন স্টার্টাপের মূল প্রতিষ্ঠাতা অনেক আঁটঘাট বেঁধে নাবেন। ব্যবসার যে দিকটায় তাঁর খামতি, সে কাজে দড় এমন সহ-প্রতিষ্ঠাতা জুটিয়ে নেন যাতে ভিসিদাদার থেকে পয়সা তুলতে সুবিধে হয়।


২। আগে প্রতিষ্ঠাতারা স্টক অপশনে দিয়ে-থুয়ে খেতেন। এখন প্রতিষ্ঠাতা ভাইয়েরা আর তাদের ভিসিদাদারা স্টকের অধিকাংশই নিজেদের কুক্ষিগত করে রাখেন। ফলে স্টার্টাপ যদি পরে ভাল দামে বিকিয়েও যায়, কর্মীদের ভাগ্যে লবডঙ্গার থেকে খুব বেশি কিছু জোটেনা, বিশেষত যদি না সেই কর্মী দশ-কুড়িজন কর্মীর একজন না হন। সময় ও উৎসাহ পেলে স্টার্টাপের পয়সা কিভাবে ওঠে আর স্টক কিভাবে বিতরিত হয়, সে সম্বন্ধে লেখা যাবে।


৩। অনেক স্টার্টাপ এখন শুরুর আগে ভেবে নেয় বছর দুই-থেকে-পাঁচ পরে কোন কোম্পানি তাদের কিনে নিতে পারে। সেইমতন তারা তাদের ভিসি ও তৎসহ স্ট্র্যাটেজি স্থির করে।


৪। আগে স্টার্টাপের যেমন অনেকটা "এলোমেলো করে দে মা, লুটেপুটে খাই" ধরণের কর্মপদ্ধতি ছিল, এখন "লীন স্টার্টাপ" ধরণের কিছু অ্যাকাডেমিক আর থিওরেটিক্যাল মেথডোলজি এসেছে স্টার্টাপ চালানোর চিন্তায়।


৫। ৯০% কি তারও বেশি স্টার্টাপ বলে, "আমরা অ্যাজাইল শপ"। মানে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট "অ্যাজাইল" নামের পদ্ধতি অনুসরণ করে। যদিও কাজে সত্যিকারের অ্যাজাইল যে কজন করে উঠতে পারে, তা সন্দেহ।


৬। যত স্টার্টাপ তৈরি হয় তার মধ্যে কমবেশি ৪% মাত্র স্টার্টাপ কোনরকম সাফল্যের মুখ দেখে। এই ৪% শতাংশের গল্পই ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বলে স্টার্টাপ যুগের পত্তন করা হয়েছে। বাকি ৯৬% শুধু যে কাব্যে উপেক্ষিতা তাইই নয়, তারাই আসল গল্প।

219 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি

আমি আগাগোড়া সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিতে। তাও দুই এক কথা বলব কাল সময় করে।
Avatar: ন্যাড়া

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি

লিখুন।

কিন্তু আমার প্যারাগ্রাফ ডিভিশনগুলো কোথায় চলে গেল! এই টানা আখাম্বা প্যারাগ্রাফবিহীন লেখা তো পড়ার দুর্জয় সাহস থাকলেও কেউ পড়তে পারবে না।
Avatar: র২হ

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি

প্যারাগ্রাফ দেখতে পাচ্ছি তো
Avatar: ন্যাড়া

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি

পরের আধে আছে। প্রথম আধখানা শহিদ মিনারের মতন আখাম্বা। অন্ততঃ মোবাইলে।
Avatar: S

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি

স্টার্টাপে স্টেক আর দেয় না, তার বদলে টেবল স্টেক দেয়। কি আর করা যাবে। তাতে তো লোক কমেনি। স্টার্টাপে কাজ করার এক্সপি এখন সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিতে মারাত্মক ভ্যালুয়েবল; কেউ কেউ ঝট করে লীডারশীপ রোলও পেয়ে যায়।

তবে ন্যাড়াদা, বড়লোকদের টুপি পড়িয়ে কয়েক মিলিয়ন তোলা ব্যাপারটা এতো সোজা নয় মনে হয়। বড়লোকরা টুপি আদৌ পরেনা। ওদের অতো বেচারা মনে করার কোনও কারণ নেই। এন্ডাওমেন্ট ফান্ডগুলোকে তাও কিছুটা বুঝিয়ে সুঝিয়ে কিছু ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আপনি যে সময়ের কথা বলছেন, তখন পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দারুন ব্যাপার স্যাপার ছিলো। কতরকমের রঙিন স্লাইড হতো, আর কতরকমের অ্যানিমেশন। বহুলোক কম্পিউটার বলতে এসবই বুঝতো। এখনও বোঝে।

সবশেষে ৪% স্ট্রাইক রেট কিন্তু খুবই ভালো। ইনভেস্টরের পক্ষে এবং বহু এমপ্লয়িদের পক্ষেও। এই সাকসেসফুল স্টার্টাপ দিয়েই অনেকসময় অনেক ফেইল্ড স্টার্টাপ কিনিয়ে নেওয়া হয় এবং লোকজনও অ্যাবজর্ভ করা হয়।
Avatar: 🤔

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি

“চকশা” মানে কি? কনটেক্স্ট থেকে গেস করতে পারছি কিন্তু এমন বিশেষণ আগে শুনি নাই।
Avatar: ন্যাড়া

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি

চকশা = চকচকে ভাব।

এটা পারিবারে শুনেছি। বহুল প্রচলিত বলে মনে হয়না।
Avatar: b

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি

ন্যাড়াদার স্টার্ট আপে আমাকে চাকরি দেবেন? বিশেষ কিছু নয়, মাঝে মধ্যে গুরু থেকে নানা রকম জোকস বলে কর্মচারীদের মন প্রফুল্ল রাখবো, প্রডাক্টিভিটি হু হা। বদলে আমাকে ঐ টেবিল স্টেকস এর একটু ভাগ দিতে হবে।
Avatar: র২হ

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি

আরে বি-দা আমার চাকরিতে ভাগ বসাতে চায়।
আমি সব উচ্চপদস্থ পরিচিতদের বলি তোমরা সিইও টিইও হও, আর আমাকে একটা বিদূষক টাইপ চাকরি দাও।
Avatar: ন্যাড়া

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি

"টুপি-টাপা পরিয়ে" - একটা কথার কথা।

কিন্তু ভিসি মানি খুবই ঢুকছে শেষ বছর দশেক। স্টক মার্কেটের ঊর্ধ্বগতি, ইকোনমির প্রসারণ - এসবের ফলে বড়লোকদের হাতে ইনভেস্ট করার মতন পয়সা বাড়তেই থেকেছে। কিন্তু স্টক খুবই দামী হয়ে পড়েছে, ফলে সেখানে টাকা ঢালবার আগে অনেক ভাবতে হচ্ছে। (বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে ১২২ বিলিয়ন ডলার ক্যাশ নিয়ে বসে আছে।) ২০০৯-এর ক্রাইসিসের পরে ডেরিভেটিভ মার্কেটে আর অত আস্থা রাখা যাচ্ছে না। পড়ে রইল হেজ ফান্ড আর ভিসি ফান্ড। এই দুই জায়গাতেই প্রচুর পয়সা ঢুকছে। তার সঙ্গে মিডিয়া ইউনিকর্ন, উবার, এয়ারবিঅ্যান্ডবি, উইওয়ার্ক, জুম, পিন্টারেস্ট প্রভৃতি নাম বলে বাজার গরম করেও রাখছে।

৪% খুব কম না হলেও বেশিও নয়। আমার মতন ছাপোষা ইঞ্জিনিয়ার পঁচিশটা র‍্যান্ডম স্টার্টাপে কাজ করে একটায় টাকার মুখ দেখার আশা করতে পারে। স্ট্যাটিস্টিকালি স্পিকিং। ক্লিফ পিরিয়ড একবছর হলে পঁচিশ বছর কাজ করে একটায় কিছু পয়সা (অপশানের ১/৪ অংশ) পেতে পারে।

বি-বাবু আর হুতো, অমন চাকরি জুটলে আমায় খবর দিও। মাইনের ১০% রেফারাল ফি দেব তোমাদের।
Avatar: S

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি

হ্যাঁ পোর্টফোলিও ডাইভার্সিফাই করতে সক্কলে এইসব ভিসি ফান্ডগুলোতে ভরসা করছে।

তাছাড়াও যেটা হচ্ছে তা হলো এখন স্টার্টাপগুলো অনেক বেশি আট্ঘাঁট বেঁধে নামছে। প্রথম থেকেই বিজনেস কনসাল্টেন্ট রেখে নিজেদেরকে অনেক বেশি অর্গানাইজ্ড এবং প্রেজেন্টেবল করে তুলছে। যেটা আপনিও বলেছেন। ফলে চটপট ফান্ডিংও পেয়ে যাচ্ছে। তাতে ইনোভেশন কমছে কিনা সেটা আপনিই বলতে পারবেন। আর ফান্ড ম্যানেজাররা দেখছে যে স্টার্টাপে ইনভেস্ট করে পুরো কন্ট্রোল নিজের হাতে রাখা যায়, রিস্ক কমে যাচ্ছে। ভিসি, অ্যান্জেলরাও অনেক বেশি ম্যাচুওর্ড হয়েছে।
Avatar: S

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি

আর ৪% সাকসেস রেট কিন্তু যথেষ্ট। আপনার হিসাবটাই করে দেখি। আপনি ২৫ বছর কাজ করলে প্রথম বছরেও সাকসেসফুল ভেন্চারে ঢুকতে পারেন আবার ২৫তম বছরেও ঢুকতে পারেন। প্রথম বছর ঢুকলে ২৫ বছরই সাকসেসফুল স্টার্টাপে কাজ করবেন, শেষ বছরে ঢুকলে ১ বছর কাজ করবেন। সেক্ষেত্রে অ্যাভারেজ ধরুন ১২-১৩ বছর।
Avatar: অর্জুন

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি


প্রযুক্তির ওপর লেখা সবচেয়ে কঠিন কাজ। আপাত ভাবে রসকষহীন একটা বিষয়কে পাঠযোগ্য করে তোলা একেবারেই সহজ নয়। স্টার্ট-আপ বিষয়টা অজ্ঞাত ছিল কারণ আমি এই ইন্ডাস্ট্রির লোক নই।

এই লেখাটা পড়ে আমি ন্যাড়া বাবুর ফ্যান হয়ে গেলাম।

সত্যিই কি বিচ্ছিরি ঝগড়া করেছি এই কিছুদিন আগে। আপনার সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। 'নিক' গুলো থেকে কি বা জানা সম্ভব ! সম্ভব হলে ঝগড়ার কথা গুলো ভুলে যাবেন। আপনার আরো লেখার পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।


Avatar: cd

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি

জানতেন কি যে ন্যাড়া অসম্ভব ভালো ভারতনাট্যম নাচেন? বারো বছর নাচ শিখেছেন। শিব্পুরে একবার তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদারের বাজনার সাথে উনি পারফর্ম করেছিলেন। সিলিকন ভ্যালিতে ওনার নাচের স্কুলের খুব নাম।
Avatar: দ

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি

আমার ছোট্টই একটু বলার ছিল যে অনেকে স্টার্টাপ খোলেই এই লক্খ নিয়ে যে কিছু বছর পরে কোন তিমিঙ্গিল গিলে নেবে। এটা সম্ভবত হতমেল এর থেকে শুরু হয়েছে। ধরুন ফ্লিপকার্ট হাতে গরম। বা রেডহ্যাটস তাই, আইবিএম নিল। এবার রেডহ্যাতসের অ্যানসিবল ইত্যাদি আলাদা করেই মার্কেটে চলছে। খুব সম্ভবত অ্যানসিবল ছাড়া নেতওয়ার্ক অটোমেশানের আর কোন প্রোডাক্ট এই মুহূর্তে অ্যাভেইলেবলও নয়। তো রেডহ্যাতসের এইগুলো চলছে। আবার কিছু প্রোডাক্ট তো আইবিএমেরও আছে অন্য নামে। সেক্ষেত্রে আইবিএম কোনটাকে প্রেফারেন্স দেবে? বা দেওয়া উচিৎ?

আরেকটা যেটা দেখছি আমাদের কোম্পানির মত অনেকেই স্টার্টাপ কিনছে পোর্টফোলিও ডাইভার্সিফাই করে বিজনেস ধরার জন্য। তো সেটাও একেবারে খারাপ কিছু না, যদি স্ট্র্যাতেজিকালি টার্গেট বিজনেস ধরে এগোয়।

ইফটে কাজ করা নিয়ে মনে পড়লো ১৯৯৯-২০০০ এ আর এস সফটওয়্যারে আমরা ৩ শিফটে কাজ করতাম। সকালের শিফট শুরু হত সকাল ৭টায়। তো তখন আর এসের নিজস্ব বিল্ডিঙ মাত্র একটা ছিল, বসার জায়গা প্রায় নেই, অতএব একই পিসিতে ৩ শিফটে কাজ হচ্ছে। মাঝেমাঝেই এসে দেখতাম আগেরদিনের ঠিক করে যাওয়া কোড আবার ভুল হয়ে গেছে। ;-D আর সে সেই ৮৪০০০ লাইনের কোবল কোড।
উফ্ফ ভাবলেও আতঙ্ক হয় এখন।

Avatar: অর্জুন

Re: স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি


@cd জানতাম না। লেখা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নাচ দেখারও ইচ্ছে রইল।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন