জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য RSS feed

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্যের খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...
  • দ্বিষো জহি
    বোধন হয়ে গেছে গতকাল। আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সন্ধ্যাবেলায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তবে আমবাঙালির মতো, আমারও এসব স্পেশিয়ালাইজড শিডিউল নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই তেমন - ছেলেবেলা থেকে আমি বুঝি দুগ্গা এসে গেছে, খুব আনন্দ হবে - এটুকুই।তা এখানে সেই আকাশ আজ। গভীর নীল - ...
  • গান্ধিজির স্বরাজ
    আমার চোখে আধুনিক ভারতের যত সমস্যা তার সবকটির মূলেই দায়ী আছে ব্রিটিশ শাসন। উদাহরণ, হাতে গরম এন আর সি নিন, প্রাক ব্রিটিশ ভারতে এরকম কোনও ইস্যুই ভাবা যেতো না। কিম্বা হিন্দু-মুসলমান, জাতিভেদ, আর্থিক বৈষম্য, জনস্ফীতি, গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব, শিক্ষার অভাব ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পাপ

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

ছোটবেলা থেকেই আমি ছেলেদের সাথে মিশতে খুব ভয় পাই। যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি একটা বখাটে ছেলে আমাকে লাভ লেটার পাঠিয়েছিলো। দুর্ভাগ্যবশত সেটা আমার হাতে না পড়ে আব্বুর হাতে পড়েছিল। সেই চিঠিতে কি লেখা ছিলো আমি আজো জানি না। তবে তার কারণে আমাকে প্রচুর মার খেতে হয়েছিলো। সেই মার আমি আজো ভুলিনি।

এরপর ক্রমে ক্রমে আমি বড় হলাম। ক্লাস টেনে উঠতেই আরেকটা ছেলে আমার হাতে তার ফোন নাম্বার ধরিয়ে দিয়ে গেল। আম্মুর মোবাইল চুরি করে সেই নাম্বারে ফোন দিয়ে কয়েকদিন গল্প করতে না করতেই আপুর কাছে ধরা পড়ে গেলাম। আপু গিয়ে আব্বুকে নালিশ করে দিলো। আব্বু দ্বিতীয় দফায় আবার পেটালো।

তৃতীয়বার কলেজে উঠে একটা হ্যান্ডসাম ছেলে দেখে আমিই প্রপোজ করে বসলাম। আফসোস! সেই ছেলে যখন আমাকে ফোন দিয়ে, "I love you too" জবাব দিলো তখন ফোনটা রিসিভ করলো আব্বু। এরপর.........

তারপর থেকে আমি আশা ছেড়ে দিলাম। প্রেম ভালোবাসা জিনিসটা আমার জন্য না। কলেজে যখনি কোন ছেলে আমাকে প্রপোজ করে আমি কোনো জবাব না দিয়ে পালিয়ে চলে আসি। কেউ ফোন দিলে রিসিভ করি না। কোনো ছেলের সাথে কথা বলি না। আমার মাথায় একটা জিনিস গেঁথে গেছে যে ছেলেদের সাথে কথা বললে মার খেতে হয়।

তার‌ওপর আমার দাদী।সে আমার ঘরেই থাকে। যখনি কোনো ছেলে আমাকে ফোন দেয় বা জানালার নিচে দাঁড়িয়ে শিষ দেয় দাদী সুর করে বলেন,

"তোর বাপ জানলে জানিস‌ই কি হবে!"

কখনো ফেসবুকে কোন ছেলের ছবি জুম করে দেখতে গেলে দাদী কানের কাছে গুনগুন করে বলেন,

তোর বাপ জানলে জানিস‌ই কি হবে!

আমি সাথে সাথে ফোন রেখে দিই।

আমার ফ্রেন্ডলিস্টে কোনো ছেলে নেই। আমার লাইফেও কোন ছেলে নেই। আমি ছেলে ভয় পাই। ছেলেদের সাথে মিশলে যে মার খেতে হয়!

কয়েক বছর কেটে গেল। দাদীর শরীর খুব খারাপ করলো। প্রায় মৃত্যশয্যায়। সেই সময়ে তাকে দেখতে অনেক আত্নীয় স্বজন এলো। তাদের মধ্যে আমার বড়কাকার ছেলের সাথে দাদীকে দেখতে এলো তার বন্ধু অয়ন।

আমি দাদীর হাত ধরে বসে আছি হঠাৎ দেখি জানালার ধারে বসে অয়ন আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। আমাকে তাকাতে দেখে সে হালকা হাসলো।

এই অবস্থায়‌ও পুরো দৃশ্যটা দাদীর চোখ এড়ালো না।

"তোর বাপ জানলে জানিস‌ই কি হবে" আমার হাত চেপে ধরে এই বাক্যটা বলেই দাদী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।

আমার মনের মধ্যে অপরাধবোধে ছেয়ে গেল। আমি মহাপাপ করেছি। অয়নের দিকে না তাকালে দাদী মারা যেতো না। আমাদের চোখাচোখি দেখে দাদী শক পেয়ে মারা গেছেন। ছেলেদের সাথে মিশলে এই হয়। পাপ! মহাপাপ!!

পাপের ভয়ে আমি আরো সাবধান হয়ে গেলাম। ফেসবুকে মাঝেমধ্যে অনেক ছেলে আমাকে মেসেজ বা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। তাদের প্রোফাইল পিকটা ওপেন করে দেখতে গেলেই আমার মনে হয় কানের পাশ থেকে দাদীর আত্না ফিসফিস করে বলে,

তোর বাপ জানলে জানিস‌ই কি হবে!

আমি আঁতকে উঠে লগ‌আউট করে দিই। না না! কোনো ছেলের সাথে মেশা যাবে না। এসব পাপ!

আমার পাপের ঘড়া পূর্ণ করতে আমার জীবনে এলো মাহাদী। পেশায় সে আমাদের কলেজের‌‌ই একজন প্রফেসর। তবে আমার সাবজেক্ট ইকোনমিক্স আর তার সাবজেক্ট কেমিস্ট্রি।

ভার্সিটির কেমিস্ট্রি ছেড়ে সে আমার সাথে কেমিস্ট্রি তৈরি করতে এগিয়ে এল। প্রথম কয়েকদিন আমার সাথে সে অনেকবার করে কথা বলার চেষ্টা করলো। তাকে দেখলেই আমি পালিয়ে যাই। বিপদ বুঝে ভার্সিটিতে যাওয়াই বন্ধ করে দিলাম।

তবুও নিস্তার পেলাম না। মাহাদী বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে সোজা আমার আব্বুর কাছে চলে এলো।

"আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই!"

বাক্যটা সে উচ্চারণ করতেই আমি দৌড়ে ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে খাটের নিচে ঢুকে পড়লাম। আব্বু মারবে! প্রচুর মারবে! মেরেই ফেলবে।

ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। আমার বাড়ির লোকজন দরজা ভেঙে আমাকে উদ্ধার করলো।

অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আব্বু মারধোর করাতো দূর বরং সবার মধ্যে একটা খুশী খুশী ভাব। মাহাদীর সাথেই নাকি আমার বিয়ে। এখন থেকে আমি বাপের বাড়ি ছেড়ে ওর সাথে গিয়ে থাকবো!

আমি অবাক হয়ে গেলাম! পাপ হবে তো! একদিন একটা ছেলের দিকে তাকাতেই দাদী মারা গেল আর একটা ছেলের সাথে সারাজীবন থাকলে তো ঘোর পাপ হয়ে যাবে!

আর আব্বুর কি মাথা খারাপ হয়ে গেল! কিছুই বলছে না! ছেলেটা নিশ্চয়ই আব্বুকে জাদু করেছে!

পাপের ভয়ে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে বিয়ে করে আমি মাহাদীর সাথে তার বাড়িতে এসে উঠলাম। বিদায়বেলায় কান্নাকাটি তো দূর আমি শুধু অবাক হয়ে বারবার আব্বুর দিকে তাকাচ্ছিলাম। আব্বু কিছুই বলছে না! কি অদ্ভুত!!

মাহাদীর সাথে আমার এর আগে কখনো সেভাবে কথা হয়নি।বিয়ের আগে সে আমাকে অনেক ফোন দিয়েছে,বাসায় এসেছে কিন্তু আমি তার সাথে একবার‌ও কথা বলিনি।

বিয়ের রাতে মাহাদী আমার হাত ধরতে গেলেই আমি হাত সরিয়ে নিয়ে বললাম, আব্বু বকা দেবে।

সে অবাক হয়ে বললো, কেন বকা দেবে?

আমি জবাব দিলাম না।

মাহাদী বললো, তোমার কি অন্য কাউকে পছন্দ আছে? বিয়ে ঠিক হয়ে পর্যন্ত দেখছি আমাকে এভোয়েড করো।

আমি জবাব দেয়ার আগেই সে আবার নিজে থেকেই বললো, না! তা কি করে হয়! আমি তোমার সম্পর্কে অনেক খোঁজখবর নিয়েছি। তুমি নাকি কোন ছেলের সাথেই কথা বলো না! অনেক ভালো মেয়ে।

এখন একটু আমার দিকে তাকাও!

আমি জবাব দিলাম না। ওর দিকে তাকালাম‌ও না।তাকালেই পাপ হবে।

সকালে আব্বু ফোন দিয়েছেন। গম্ভীর গলায় বলছেন, কেমন আছিস?

আমি কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম, আব্বু বিশ্বাস করো, আমার কোনো দোষ নাই।

আব্বু অবাক হয়ে বললেন, কিসের দোষ নাই?

-এই যে বিয়ে করেছি! আমাকে মাফ করে দাও আব্বু!

আব্বু কিছুই বুঝলেন না। ধমক দিয়ে বললেন, পাগলের মতো হাবিজাবি কি বলিস!? যাইহোক! জামাইরে নিয়ে বেড়িয়ে যাস!

-ওরে নিয়ে আসবো আব্বু! রাগ করবা না তো?

:আরে রাগ করবো কেন? জামাইরে নিয়ে আসবি না তো কি পরপুরুষ নিয়ে আসবি? আচ্ছা রাখলাম। জামাইরে বলিস ওরেও আলাদা করে ফোন দিবো।

আমি ফোন রাখলাম। এতক্ষণে আমার কাছে একটা জিনিস পরিস্কার হয়ে গেছে। এই ছেলে আব্বুকে জাদু করেছে। এরসাথে কথা বললে, হাতটাত ধরলেও আব্বু রাগ করবে না। এমনকি আব্বুর সামনেও ওর সাথে কথা বলতে পারবো। অবশ্য আব্বুর সামনে হাত ধরাধরি না করাই বাঞ্ছনীয়। আসার দিন দেখে এসেছি গাছের ডাল ভেঙে ভেঙে চুলা জ্বালানোর খড়ি বানিয়েছে। না না! রিস্ক নিয়ে লাভ কি? আব্বুর সামনে এই ছেলের বেশী কাছে বসাও ঠিক হবে না!

এভাবেই চলতে লাগলো। আব্বুর আড়ালে আমাদের মোটামুটি ভালোই ভাব ভালোবাসা। কিন্তু পাপের ভয় আমার পিছু ছাড়ে না। জোসনারাতে যখন আমি আমার বরের হাত ধরে আকাশের চাঁদ দেখি তখন বারবার নিচে তাকাই আর দেখি গেট দিয়ে বেত হাতে আব্বু ছাদের দিকে তেড়ে আসছেন না তো!

বিয়ের ছয়মাস কাটতেই আমি মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম। ডাক্তারের কাছে যেতেই তিনি অনেক টেস্টফেস্ট করে মাহাদীকে আড়ালে ডেকে কিছু বললেন। মাহাদী এসে আমার হাত ধরে বললো, চলো!

আমি চিন্তিত গলায় বললাম, আমার কোনো সমস্যা? কোনো রোগ? আমি জানতাম! জানতাম এই পাপের শাস্তি আমাকে পেতেই হবে। নিশ্চয়ই আমার কোনো বড় রোগ হয়েছে। ডাক্তার জবাব দিয়ে দিয়েছে। তাইনা?

মাহাদী অবাক গলায় বললো, এসব কি বলো? কিসের পাপ? আরে বোকা! তুমি মা হতে চলেছো।

আমি দ্বিতীয়বার মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম। এইবার আমার ক্ষমা নাই!

অজ্ঞান হবার আগমুহূর্তে মনে হলো আমার দাদী এসেছেন। কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলছেন, "তোর বাপ জানলে জানিস‌ই কি হবে!!!!"

লেখা- জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

100 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন