জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য RSS feed

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্যের খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সেলিব্রিটির প্রতি ভালোবাসা
    নিউজফিড ঘাঁটতে ঘাঁটতে বর্তমানের ফেমাস সিঙ্গার, মেয়েদের ক্রাশ মাঈনুল আহসান নোবেলের একটা ছবি হঠাৎ সামনে চলে এলো। ছবিটা দেখামাত্র আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একটা শিহরণ বয়ে গেল। ইউরেকা! পেয়েছি! আমার জীবনসঙ্গী,আমার বাচ্চার বাপ, আমার নাতি-পুতির দাদা। সেই ...
  • ভ্যান গগ ও একটি কুৎসিত তৈলচিত্র
    রঙ! শব্দটা শুনলে একটা অদ্ভুত অনুভূতি জাগে মনে। হঠাৎ যেন মনে হয় কেউ এক মুঠো লাল - হলুদ আবির ছড়িয়ে দিল হাওয়ায়। রঙ শুনলে আমার কেন জানি মনে হয়, একটা ক্যানভাসে খুব পাৎলা করে কেউ ক্রিমসন রেডের একটা শেডের উপরে ক্রোম ইয়োলোর এক পোঁচ ভেজা রঙ লাগিয়েছে। আপনাদের কি ...
  • সম্রাট ও সারমেয়
    একটি খুব স্নেহের মেয়ে, বিদেশে পড়াশুনো করছে, সূর্যের নীচে সবকিছু ভালোর জন্যই ওর গভীর ভালবাসা। মাঝে মাঝে পাগলামি করে বটে,আবার শুধরে নেওয়ায় কোন অনীহা নেই।আমার খুব পছন্দের মানুষ !সে একদিন লিখলো ইসলামে কুকুর নাপাক জীব। এইটাতে সে ভয়ানক খাপ্পা, কারণ কুকুর তার ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৬
    চিংড়ির হলুদ গালা ঝোলকোলাপোতা গ্রামটার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে কপোতাক্ষ। এছাড়া চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে খাল বিল পুকুর। সবুজ জংলা ঝোপের পাশে সন্ধ্যামণি ফুল। হেলেঞ্চার লতা। উঠোনের কোন ঘেঁষে কাঠ চাঁপা। পঞ্চমুখী জবা। সদরের মুখটায় শিউলি। সাদা আঁচলের মতো পড়ে থাকে ...
  • যৌন শিক্ষা মহাপাপ...
    কিছুদিন ধরে হুট করেই যেন ধর্ষণের খবর খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে। যেন হুট করে কোন বিষাক্ত পোকার কামড়ে পাগলা কুকুরের মত হয়ে গেছে কিছু মানুষ। নিজের খিদে মিটাতে শিশু বৃদ্ধ বাছ বিচার করারও সময় নাই, হামলে পড়ছে শুধু। যদি বিষাক্ত পোকার কামড়ে হত তাহলে এই সমস্যার সমাধান ...
  • ইতিহাসবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্য
    আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সব্যসাচী ভট্টাচার্য এক উল্লেখযোগ্য নাম। গবেষক লেখক শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সবসাচীবাবুর বিদ্যালয় শিক্ষা বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাই স্কুলে। তারপর পড়তে আসেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিহাস বিভাগে। ...
  • পাগল
    বিয়ের আগে শুনেছিলাম আজহারের রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বড় বাড়ি! তার ফুপু বিয়ে ঠিকঠাক ‌হবার পর আমাকে গর্বের সাথে বলেছিলেন, "কয়েক একর জায়গা নিয়ে আমাদের বিশাল বড় জমিদার বাড়ি আছে। অমুক জমিদারের খাস বাড়ি ছিল সেইটা। আজহারের চাচা কিনে নিয়েছিলেন।"সেইসব ...
  • অশোক দাশগুপ্ত
    তোষক আশগুপ্ত নাম দিয়ে গুরুতেই বছর দশেক আগে একটা ব্যঙ্গাত্মক লেখা লিখেছিলাম। এটা তার দোষস্খালন বলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু দোষ কিছু করিনি ধর্মাবতার।ব্যাপারটা এই ২০১৭ সালে বসে বোঝা খুব শক্ত, কিন্ত ১৯৯২ সালে সুমন এসে বাঙলা গানের যে ওলটপালট করেছিলেন, ঠিক সেইরকম ...
  • অধিকার এবং প্রতিহিংসা
    সল্ট লেকে পূর্ত ভবনের পাশের রাস্তাটায় এমনিতেই আলো খুব কম। রাস্তাটাও খুব ছোট। তার মধ্যেই ব্যানার হাতে একটা মিছিল ভরাট আওয়াজে এ মোড় থেকে ও মোড় যাচ্ছে - আমাদের ন্যায্য দাবী মানতে হবে, প্রতিহিংসার ট্রান্সফার মানছি না, মানব না। এই শহরের উপকন্ঠে অভিনীত হয়ে ...
  • লে. জে. হু. মু. এরশাদ
    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হল। এমন একটা চরিত্রও যে দেশের রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল ছিল, এ এক বিরল ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ না করে কোন সামরিক অফিসার বাড়িতে ঘাপটি মেরে বসে ছিলেন ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

স্মৃতিশক্তি

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

ডাক্তার সাহেব গম্ভীর গলায় বললেন, রাহাতের স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে।

আমি একটা চিল্লানি দিয়ে বললাম, না! এ হতে পারে না। ডাক্তার সাহেব! বলে দেন যে এ মিথ্যা।

ডাক্তার সাহেব গম্ভীর গলায় বললেন, মিথ্যা না। মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে আপনার স্বামীর স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। সরি! আমাদের আর কিছু করার নেই।

আমি রাহাতের হাত ধরে বললাম, তুমি আমাকে চিনতে পারছো না! ভালো করে দেখো! মনের চোখ দিয়ে দেখো। আমাদের এতদিনের ভালোবাসা এতদিনের পাশে থাকা মিথ্যা হয়ে যেতে পারে না!

রাহাত আমার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে বললো, ডাক্তার সাহেব! আমি কে? আমি কোথায়? আমার বাড়ির লোক কোথায়?

আমি বললাম, আমিই তো তোমার বাড়ির লোক! আমাকে চিনতে পারছো না? ধীরে ধীরে চিনবে। চলো বাসায় যাই।

ডাক্তার সাহেব আমাকে আলাদা ডেকে বললেন, ওর ওপর প্রেশার দেবেন না। যা মনে পড়ার নিজে থেকেই পড়বে।

বাড়িতে এসেছি। রাহাত এখন কিছুটা স্বাভাবিক। জুস খেয়ে রিল্যাক্স করছে তখন আমি ওর পাশে গিয়ে বসে আস্তে আস্তে বললাম, তোমার কি তোমার ফোনের পাসওয়ার্ডটা মনে আছে?

রাহাত অবাক হয়ে তাকিয়ে র‌ইলো। আমি আবার বললাম,দেখো! তুমি আমাকে চিনতে পারছো না সেটা সমস্যা না। আস্তে আস্তে চিনবে। কিন্তু আমাদের জয়েন্ট একাউন্টের OTP পাসওয়ার্ড আসবে তোমার নাম্বারে। ওটা ছাড়া তো আমি অনলাইন শপিং করতে পারবো না।

রাহাত আমার কথার জবাব দিলো না। চোখ বন্ধ করে শুয়ে র‌ইলো। আমি ওর ফোনটা নিয়ে অনেকক্ষণ এটা সেটা পাসওয়ার্ড দিয়ে আনলক করার চেষ্টা করেও পারলাম না। আবার ওকে ডাকলাম,

এই শোনো! তুমি কি স‌ই করতেও ভুলে গেছো? একটা চেকে সাইন করতে পারবা না?

রাহাত না সূচক মাথা নাড়লো।

-বলোতো, ইংরেজিতে অ্যাপেল বানান কি?

: আমার মনে নাই।

-পড়ালেখাও ভুলে গেছো?

: অবশ্যই।

-তুমি তো ইংরেজি সাহিত্যে এম‌‌এ পাশ।

:ও আচ্ছা!

-রাহাত! বলোতো সংসার খরচের নগদ টাকাগুলো কোথায় রেখেছো? মনে আছে তোমার?

:না।

আমি হতাশ হয়ে চলে এলাম। এই ছেলেকে এখন আবার পড়াশোনা শেখাতে হবে নাকি বুঝতে পারছি না। আর আমার এই সন্দেহ‌ও হচ্ছে যে, রাহাত আমাকে হাতখরচ দেয়ার ভয়ে ইচ্ছা করে এগুলো করছে। নাহলে বাংলা সিনেমা ছাড়া রিয়েল লাইফে কখনো‌ শুনিনি কেউ স্মৃতিশক্তি হারায়।

কিন্তু বেশ কয়েকদিন কেটে যাওয়ার পর আমি বুঝতে পারলাম ওর সত্যিই স্মৃতিশক্তি হারিয়েছে।

একদিন সকালে একটা বাজারের লিস্ট তৈরি করে রাহাতের হাতে দিতেই সে হাত বাড়িয়ে আমার কাছে টাকা চাইলো। আমি দুঃখী চোখে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে নিজের জমানো টাকা থেকে কিছুটা বার করে ওর হাতে দিলাম।

এইভাবে চলতে থাকলে আমার জমানো টাকা সব শেষ হয়ে যাবে। কয়দিন পর পথে বসতে হবে।‌ অনলাইনে কত সুন্দর সুন্দর ড্রেস সিলেক্ট করে রেখেছি সব মনে হয় বিক্রি হয়ে গেল!

এইসব ভাবতে ভাবতে আমি হতাশ হয়ে বসে র‌ইলাম। রাহাতের স্মৃতিশক্তি কিভাবে ফেরানো যায়?

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গ্যালারি ওপেন করে আমাদের পুরোনো ছবিগুলো ওকে দেখাতে লাগলাম। রাহাত চোখ বড় বড় করে দেখছে। আমি মনে করিয়ে করিয়ে দিচ্ছি,

এই ছবিটা তোমার আমার প্রথম পরিচয়ের সময়ে তোলা। মনে আছে আমাদের পরিচয় হয়েছিলো পিকনিকে?

এই ছবিটা আমাদের বিয়ের দিনের। এটা রিসিপশনের। এই শাড়িটা বিয়ের পর তোমার দেয়া প্রথম গিফট। তুমি পছন্দ করে কিনেছিলে মনে নাই?

রাহাত না সূচক মাথা নাড়লো। আমি দ্বিধা কাটিয়ে আবার বললাম, শোনো না! ঠিক এরকমই একটার শাড়ি না আমি অনলাইনে পছন্দ করেছি। বেশী না, বারো হাজার টাকা দাম। তোমার আমার জয়েন্ট একাউন্টে এখন দেড় কোটি টাকা আছে। কিন্তু তুমি তো স‌ই করতে ভুলে গেছো।‌ অফিসেও যাচ্ছো না। কিভাবে চলবে বলোতো?

রাহাত বললো, তোমার কাছে তো অনেক টাকা। সেখান থেকে চালাও।

-কে বললো আমার কাছে অনেক টাকা?

: বাজার করার জন্য যে দাও। তলে তলে অনেক গোছাইছো এটা বুঝি।

আমি কথা না বলে শুয়ে পড়লাম, স্মৃতিশক্তি হারালেও আমার পেছনে নজরদারি করতে ভোলেনি ব্যাটা।

আজ রাহাতকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে এসেছি। ডাক্তার সাহেব পরীক্ষাটরীক্ষা করে আমাকে আলাদা করে বললেন, ওর এখন একটা শক প্রয়োজন। একবার ধাক্কা খেয়ে স্মৃতিশক্তি হারিয়েছে। বড় ধরনের শক খেলে আবার হয়তো ফিরে আসবে। আপনি চেষ্টা করে দেখেন।

আমি রাহাতকে শক দেয়ার পরিকল্পনা আঁটতে‌ লাগলাম।

পুরানো ফোন আনলক করতে পারছে না বলে রাহাত একটা নতুন ফোন কিনেছে। আমার জমানো টাকায়‌ই।‌ একসময় তার টাকায় আমি শপিং করতাম এখন আমার টাকায় সে করছে। এর একটা হেস্তনেস্ত হ‌ওয়া দরকার।

নতুন ফোন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছিলো ও। আমি ওর পাশে বসে বললাম, আজ তোমার ফোনে ফ্লাশ মারিয়ে আনবো। ফোন আনলক হবে। ব্যাংক একাউন্টের পাসওয়ার্ড পেয়ে যাবো।

রাহাতের মধ্যে কোনো ভাবান্তর হলো না।

আমি আবার বললাম, ব্যাংকে যে আড়াই কোটি টাকা আছে সবটা আমার আলাদা একাউন্টে ট্রান্সফার করে নেবো। তুমি অসুস্থ বারবার তোমাকে বিরক্ত করবো না।

রাহাত বাঁকা চোখে তাকালো। তারপর বললো, এখন তোমাকে একটু চেনা চেনা লাগছে। মনে হচ্ছে আমার জীবনে একটা মেয়ে ছিল শপিং করে করে আমাকে ফকির বানাইতো।

আমি খুশী হয়ে বললাম, বাহ! এইতো তোমার স্মৃতিশক্তি ফিরছে।

এখন‌ আরেকটা খবর শোনো। যেহেতু তুমি অসুস্থ সুতরাং তোমার প্রপার্টি আর দোকানটোকান যা আছে সব কিছুর পাওয়ার অব এটোর্নি আমি নিজের নামে করে নিচ্ছি। আমি ছাড়া তোমার তো কেউ নাই।

এতক্ষণে রাহাত মাথায় বাড়ি দিয়ে দুইদিকে একটা ঝাঁকি দিয়ে উঠে বললো, খবরদার বলে দিলাম! আমার প্রোপার্টি বেচে আস্ত একটা শপিং মল কেনার শখ তোমার বহুদিন থেকেই আমি জানি! তোমার এ স্বপ্ন আমি বেঁচে থাকতে পূরণ হবে না!

লেখা- জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

194 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন